Showing posts with label personal diary. Show all posts
Showing posts with label personal diary. Show all posts

Sunday, April 8, 2012

কষ্টে শুকিয়ে যাওয়া এক সাগর


কষ্টে শুকিয়ে যাওয়া এক সাগর

কত কষ্টে একটি সাগর শুকিয়ে যায় ?
প্রবাদ আছে – “ অভাগা যেদিকে চায়, সাগর শুকিয়ে যায়” ।
বিশ্বজুড়ে স্বার্থপর মানুষদের কল্যানে প্রবাদটি একটু পাল্টে বলতে হচ্ছে – “ অপরিনামদর্শীরা যেদিকে চায়, সাগরও শুকিয়ে যায়” ।
আর আমরা অভাগাকুল তার শাস্তি ভোগ করি প্রতিবাদহীন ।শুধু রুষে ওঠে প্রকৃতি ।

১৯৮৫ সালের উড়াল সাগর, আকাশ থেকে তোলা ।

আকাশ থেকে ১৯৯৭ সালের দৃশ্য
মহাকাশ থেকে তোলা ২০০৯ সালের উড়াল সাগর

কত দুঃখ নিয়ে একটি সাগর শুকিয়ে যায় ?
পৃথিবী নামের এই গ্রহটির পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয়ঙ্কর একটি ট্রাজিক সত্য এটি ।
অরাল নামের সাগর এক । আমরা ডেকেছি “উড়াল সাগর” বলে । এককালের সোভিয়েত ইউনিয়নের কাজাখাস্তান আর উজবেকিস্তানের মাঝখানে টলটলে পানিতে ভরা একটি লেক ।এতো বিশাল যে সাগর নামেই তাকে ডাকার যোগ্য সে । তার “অরাল” নামটির অর্থ “দ্বীপের সাগর” (Sea of Islands) । আসলেই মুক্তোর মালার মতো ১৫৩৪ টি দ্বীপ ছিলো এর বুকে একদিন । আজ জল-স্থল সব একাকার ।


আটষট্টি হাযার বর্গকিলোমিটার (২৬,৩০০ বর্গমাইল) এলাকা নিয়ে একদিন অরাল ছিলো পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম লেক । “আমু-দরিয়া” আর “সির-দরিয়া” নদীর বয়ে আনা পানিতে তৈরী হয়েছিলো তার টলটলে শরীর । বসতি ছিলো তীরে , ছিলো জেলেদের হৈ-হৈ । শিশুদের হুড়োহুড়ি । বাতাসে ছিলো মাছের আঁশটে গন্ধ ।বন্দরে বন্দরে ছিলো মাছ ধরা জাহাজের আনাগোনা ।
আজ নেই – আজ তার বুকে শুধু ধূঁ-ধূঁ বালুচর । রূপোলী জলে আর চিকচিক করে ওঠেনা মাছেদের বুক । ভাসেনা পাল তোলা নাও ।



উড়াল সাগরের বুকে হাহাকার নিয়ে পড়ে থাকা কালের স্বাক্ষী । কাজাখাস্তান ।

আমু-দরিয়া আর সির-দরিয়া’র ভালোবাসা থেকে লোভী মানুষেরা তাকে বঞ্ছিত করে রেখেছে । প্রিয়া অদর্শনের কষ্টে শুকিয়ে গেছে সে । এখোন সেখানে কেবল মৃত্যুই খেলা করে যায় । বাতাস তার ভারী হয়ে আছে দূর্গন্ধে । একদিন তার নরোম বুক চিরে , ঢেউ তুলে যে জলযান সাঁতরে বেড়াতো এ বন্দর থেকে সে বন্দরে আজ তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ধুঁ-ধুঁ বালুর বুকে এক রিক্ত হাহাকার নিয়ে ।কালের স্বাক্ষী, মানুষের অপরিনামর্দীতার স্বাক্ষী হয়ে ।

১৯৬০ সাল থেকে উড়াল সাগরের ধুঁকে ধুঁকে মরার শুরু । মাছেদের আঁশটে গন্ধে আসা ঝকঝকে “রুবল” নয়, সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকারের যে চাই কড়কড়ে “ডলার” । সাদা সোনা চাই তাদের, হোয়াইট গোল্ড । হোয়াইট গোল্ড তুলো চাই তাদের, তুলো । বিশ্বজুড়ে এর চাহিদার শেষ নেই । তাই সোভিয়েত মাটিতে ফলাতে হবে তুলোর গাছ ।লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমি জুড়ে যে তুলোর চাষ শুরু করেছে সরকার সেই ১৯৪০ সাল থেকে তাকে তো টিকিয়ে রাখতে জোগাতে হবে জীবন-ধারিনী পানি । তাই আমু-দরিয়া আর সির-দরিয়া’র পানি বইলো অন্যখাতে ।
[পাঠক, আমাদের সর্বনাশ – ফারাক্কা, টিপাইমুখ ইত্যাদির কথা একবার ভাবুন !]
তাদের স্রোত ধারা ঠেলে দেয়া হলো উজবেকিস্তানের উষর মরুভূমিতে গড়ে তোলা “কটন ফিল্ডে”র জন্যে সেচ প্রকল্পে । সোভিয়েত সরকার বললেন, উজবেকিস্তানের মরুভূমিতে আমরা ফসল ফলাবো – ফলাবো ধান, শষ্য, তরমুজ আর তুলো । যা সোভিয়েত মানুষকে খাদ্য যোগাবে, যোগান দেবে ডলার নামের সোনার হরিন । সোভিয়েত প্রভুরা খুশি । কিন্তু প্রকৃতি হেসেছিলো সেদিন অজান্তে ।
নদীর স্রোত আর গড়ালো না উড়াল সাগরের বুকে । ভালোবাসার উষ্ণ জলের পথ চেয়ে চেয়ে সাগরের বুক গেল শুকিয়ে । পানিতে টান ধরায় লবনের ঘনত্ব গেলো বেড়ে । ২০০৭ সালে এসে উড়াল সাগর শুকিয়ে তার আয়তনের ১০ শতাংশে এসে দাঁড়ালো । একদা সাগরের বুকে গড়ে উঠলো আর এক মরুভূমি । যেটুকু পানি একদা সাগরের পরিচয় ধরে রেখেছিলো তাদের লবনাক্ততা বেড়ে গেলো ভয়ঙ্কর ভাবে। প্রতি লিটারে তার পরিমান গিয়ে দাঁড়ালো ১০০ গ্রামে যেখানে সাধারন সাগরের পানিতে এর পরিমান ৩৫ গ্রামের কম । যেটুকু ছিলো মৎস সম্পদ তা ও শেষ হয়ে গেল । জনস্বাস্থ্যের হুমকি হয়ে দাঁড়ালো আবহাওয়া । গ্রীষ্মকালের গরম উঠলো চরমে, শীত হলো আরো প্রলম্বিত – আরো তীব্র ।মানুষ ভুগতে থাকলো মরুভুমিতে সৃষ্ট বালুঝড়ে । শ্বাসকষ্ট বাড়লো তাদের, বিশেষ ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হলো মানুষ । শিশু মৃত্যুর হার বাড়লো । ফসল গেলো ধংশ হয়ে আবহাওয়া আর জমির অতিরিক্ত লবনক্ততার কারনে । ৪০ হাযারের মতো জেলে বেকার হয়ে গেলো । বন্ধ হয়ে গেলো মাসকারাত ( এক ধরনের উভচর রডেন্ট ) থেকে আহরিত “ফার” শিল্প । সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমান দাঁড়ালো ৮০০ মিলিয়ন পাউন্ডে (তৎকালীন হিসাব)।


হালকা আর গাঢ় রংয়ে ধরা পড়েছে উড়াল সাগরের ২০০০ থেকে ২০১১ সালের পরিবর্তীত জলের স্তর । স্যাটেলাইট ছবি ।

এর মধ্যেই বিশাল লেকটি শুকিয়ে শুকিয়ে মরুভূমি জেগে উঠলো আর ভাগ হয়ে গেল চারটি ছোট্ট ছোট্ট পানির ধারায় – উত্তর উড়াল সাগর , দক্ষিন উড়াল সাগরের পূর্ব এবং পশ্চিম বেসিন এবং এর উত্তর আর দক্ষিনের মাঝখানে আরো ক্ষুদ্র একটি জলাশয় হিসেবে । ২০০৯ সালে দক্ষিন উড়াল সাগরের পূব অংশটি মুছে গেলো পৃথিবীর মানচিত্র থেকে আর পশ্চিম অংশটি সরু একটি নালী হয়ে কোনও মতে টিকিয়ে রাখলো দক্ষিন উড়াল সাগরের নাম । আর বেঁচে থাকা উত্তর উড়াল সাগরের সর্বোচ্চ্ গভীরতা ঠেকলো গিয়ে মাত্র ১৩৮ ফুটে ।
হ্যা, আজ উজবেকিস্তান বিশ্বের প্রথম সারির তুলা রফতানীকারক একটি দেশ ।তুলোর তৈরী সুতোয় হয়তো মানুষের আব্রু ঢেকেছে কিন্তু প্রকৃতি যে উলঙ্গ হয়ে গেলো তার খোঁজ কে রাখে !
তুলা চাষের জন্যে সোভিয়েত সরকারকে সেই ১৯৪০ সাল থেকেই সেচ ব্যবস্থার কথা ভাবতে হয়েছিলো । কিন্তু সেচের খালগুলি ছিলো খুব অপরিপক্ষ ভাবে নির্মিত । এ থেকে পানি শুষে নিত মাটি, রোদের তাপে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যেতো । এই সেচ প্রকল্পের অর্ন্তভূক্ত মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম কারাকোরাম ক্যানালের ৩০ থেকে ৭৫% পানিই এভাবে অপচয় হয়ে যেতো । এইসব কারনেই সোভিয়েত কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হয়েছিলো বিকল্প কিছু । তাই ১৯৬০ সালে গৃহীত হয় নতুন ইরিগেশান প্রোজেক্ট যাতে আমু-দরিয়া আর সির-দরিয়ার পানিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সেচের খালগুলিতে ।
প্রতি বছর ২০ থেকে ৬০ ঘন কিলোমিটার পানি উড়াল সাগরের পরিবর্তে গিয়ে পড়লো সেচের খালগুলিতে । ফলে হতভাগী উড়াল সাগরের পানির উচ্চতা হ্রাসের পরিমান বেড়ে যেতে থাকলো হু হু করে । প্রতি বছর এখোন এই উচ্চতা হ্রাসের হার ৩১ থেকে ৩৫ ইঞ্চি । কেবলমাত্র ১৯৮০ সালের মধ্যেই উড়াল সাগর থেকে যে পানি হারিয়ে গেলো তার পরিমান লেক “ইরি” আর লেক “অন্টারিও” তে যতো পানি আছে তাদের সমান ।
হয়তো প্রয়োজনেই সোভিয়েত কর্তৃপক্ষকে প্রকৃতির বিরূদ্ধে যেতে হয়েছিলো কিন্তু তার জন্যে তাকে খেসারত দিতে হয়নি কম । আবহাওয়া চরমপন্থী হয়ে গেছে সেখানে । উজবেকিস্তানে আজ কেবল ১২% সেচের খাল ঠিকমতো পানি বয়ে নিতে পারে মাত্র ।
আর তাই মানুষ সৃষ্ট পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিবেশ বিপর্যয়ের উদাহরন এটি ।
১৯৬৪ সালে তাই হয়তো সোভিয়েত হাইড্রোপ্রোজেক্ট ইনিস্টিটিউট এর আলেক্সান্দর আসারীন আঙ্গুল তুলে দেখিয়েছেন - "It was part of the five-year plans, approved by the council of ministers and the Politburo. Nobody on a lower level would dare to say a word contradicting those plans, even if it was the fate of the Aral Sea.”
পরিবেশ বিপর্যয়ের এই পরিনতি জানতেন সোভিয়েত কর্তৃপক্ষও । সাফাই গাইতে কিছু কিছু সোভিয়েত বিশেষজ্ঞরা বলে বসলেন “ অরাল সী ইজ আ ন্যাচারাল এরর ।”
কেউ একজন আগ বাড়িয়ে বললেন , “it is obvious to everyone that the evaporation of the Aral Sea is inevitable.”
তার পরেও অবশ্য সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ উড়াল সাগরকে জীবিত রাখতে তাদের পাঁচশালা সেচ পরিকল্পনায় একে “রি-ফিল” করার প্রোজেক্ট হাতে নিয়েছিলেন । কিন্তু রাশান মূল ভুখন্ডের মানুষদের বিরোধীতা আর খরচের কথা বিবেচনা করে এই প্রোজেক্ট ১৯৮৬ সালে বাতিল করে দেয়া হয় ।
পরের ইতিহাস - ১৯৯১ সালে উজবেকিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে । ২০০২ সালে উজবেকিস্তানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ( ইউকে) রাষ্ট্রদুত ক্রেইগ ম্যূরে সমস্ত ব্যাপারটিকে বর্ননা করেছেন এভাবে, উজবেকিস্তানের প্রধান নিয়ন্ত্রক ইসলাম কারিমভ জমিকে শোষন করার সোভিয়েত ষ্টাইলের অর্থনীতি এবং দর্শন থেকে দূরে সরে থাকতে পারতেন স্বাধীনতার সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে কিন্তু তিনি তা না করে সুযোগটাকে কাজে লাগিয়েছেন কেবলমাত্র নিজের ক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করতে ।
উড়াল সাগর শুকিয়ে যাওয়ার জন্যে তিনি দায়ী করেছেন কারিমভের “কটন পলিসি”কে । বলেছেন, সরকার যে সেচের জন্যে এতো বিশাল পরিকল্পনা নিয়েছে তা বিশাল একটি অপচয়, কারন সে জল তুলো চাষের জমিতে পৌঁছানোর আগেই বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে । এখানে কোনও “ক্রপ রোটেশান” এর ব্যবস্থা নেই । এইসব পতিত জমিতে তুলো চাষের জন্যে যে পরিমান রাসায়নিক সার আর কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে তা ধুঁয়ে গিয়ে পড়ছে শুকিয়ে যাওয়া উড়াল সাগরে ।এতে নষ্ট হয়ে গেছে পানি, হচ্ছে পরিবেশ দূষন আর জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি । গণযুদ্ধের পূর্ববর্তী যুক্তরাষ্ট্রের দাস-প্রথার সাথে তুলনা করে তিনি আরো বলেছেন, এখানে জবরদস্তি শ্রম ব্যবহৃত হয়েছে অথচ সমুদয় লাভের টাকা পাচার হয়েছে ক্ষমতাধারীদের দ্বারা ।জনগণ যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে গেছে আজেো ।
আর অন্যদিকে কাজাখাস্তানে তুলো চাষটি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে ।

দিন দিন শুকিয়েছে উড়াল সাগরটি । সব হিসেব নিকেশ শেষে টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষের । কাজাখাস্তানের দিক থেকে বাঁধ তৈরী করে উত্তর উড়াল সাগরটিকে কিছুটা হলেও জলবতী করা গেছে ।২০০৫ সালে শেষ হওয়া এই বাঁধের কল্যানে ২০০৮ সালের মধ্যে এতে পানির উচ্চতা বেড়েছে ৭৯ ফুট । কমেছে লবনাক্ততা । দেখা যাচ্ছে মাছেদের রূপোলী ঝিলিক ।
উজবেকিস্তানের টনক নড়েনি । তাই শুকিয়ে যাওয়া দক্ষিন উড়াল সাগরটি তার অস্তিত্বকে হারিয়ে ফেলে তার বুকে জন্ম দিয়েছে এক বিশাল হাহাকার – “অরালকুম মরুভূমি” ।

উড়াল সাগরে জেগে ওঠা মরুভূমিতে ধূলিঝড়, মার্চ ২০১০ ।

যদিও বুকের নীচে তিরতির করে বয়ে চলা “গ্রাউন্ড ওয়াটার” তার তৃষ্ণা মেটাতে পারেনি । তেমন করে ভেজাতে পারেনি তার শুকিয়ে যাওয়া বুক ।পামির মালভুমি আর তিয়ানশান পর্বতমালায় জন্ম নেয়া এই ভূগর্ভস্থ জল সারাটা পথ বেয়ে গোপনে গোপনে তার বুকের তলদেশে খানিকটা অশ্রূ জমা করে রেখেছে শুধু । এইটুকু সম্বল নিয়ে বেঁচে আছে সে আজো এক অন্ধকার ভবিষ্যৎ নিয়ে।
প্রকৃতি যে নিঠুর প্রতিশোধ নিতে পারে উড়াল সাগরের উদাহরন তাই ই । এটাকে বলা হয় "one of the planet's worst environmental disasters" । মানুষ বুঝেছে কি করেছে তারা ।
নিজেদের প্রয়োজনেই মানুষকে আবার ভাবতে হয়েছে । স্বার্থ জড়িত, তাই ১৯৯৪ সালে কাজাখাস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান আর কিরঘিজিস্তান এক বৈঠকে সম্মত হলেন যে তারা তাদের বাজেটের ১% ব্যয় করবেন সাগরটিকে ফিরিয়ে আনার খাতে । ২০০০ সালের মার্চে হেগ এ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ফোরাম এ ইউনেষ্কো উপস্থাপন করলেন তাদের " Water-related vision for the Aral Sea basin for the year 2025 " এ দলিলটি । কাজের কাজ কিছু হলোনা । সমালোচনা হলো এই বলে , এটি একটি অবাস্তব কিছু এবং এতে লেকের কাছাকাছি জনগণের বিশেষ করে উজবেক এলাকার জনগণের স্বার্থের দিকে সুনজর দেয়া হয়নি ।
তবুও ২০০৬ সালের মধ্যে বিশ্ব-ব্যাংকের সহায়তায় চলা “রেস্টোরেশান প্রজেক্ট” এর সুবাদে উত্তর উড়াল সাগর অনেকটা সামলে উঠতে পেরেছে । যা হওয়ার কথা ছিলো তা হয়নি । কারন এলাকা ভিত্তিক জলবন্ঠনের হিস্যা আলাদা করে দিয়েছে তাদের । বাঁধের জলে গড়ে তোলা হাইড্রো-ইলেক্ট্রিক এনার্জী নিয়ে আঞ্চলিক টানাটানি হয়েছে কম নয় । তাই ভেস্তে গেছে সব । কথা উঠেছে, কেবল শাসক শ্রেনীই এই প্রোজেক্টের নকশা প্রনয়নকারী যেখানে ভুক্তভোগী জনগণের মতামত নেই কোথাও ।

রূদ্র আবহাওয়ার কারনে মমিতে পরিনত কার্প। ২০০৫ এর আগষ্টে তোলা ।

এর পরেও আছে আরো কিছু । নিজেদের ঘাড়ে জোয়াল পড়লে তখন টানতেই হয় । তার আগে নড়েচড়ে বসেনা কেউ ।
২০১০ সালের জুলাইয়ের শেষ হপ্তায় স্মরনকালের বৃহৎ বন্যায় যখোন ভাসলো পাকিস্তান তখন আরো নড়েচড়ে বসলো পাকিস্তানের ইসলামাবা ভিত্তিক Sustainable Development Policy Institute (SPDI) নামের থিঙ্ক ট্যাংকের লোকজন । আগে থেকেই তারা মধ্য এশিয়াতে বৈরী আবহাওয়ার কারনে সৃষ্ট সমস্যাগুলি যেমন জলবন্ঠন, আবহাওয়া, অর্থনীতি আর জ্বালানী ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করছিলেন ।উড়াল সাগরের শুকিয়ে যাওয়াতে এই এলাকাতে অর্থনৈতিক আর আবহাওয়াগত যে বৈষম্য তৈরী হয়েছে তা খতিয়ে দেখছিলেন তারা ।তারা দেখলেন, উড়াল সাগর উড়ে যাওয়াতে যে বৈরী আবহাওয়া তৈরী হয়ে গেছে তা কোনও রাজনৈতিক সীমানা মানেনি । তার করাল থাবা পড়েছে মধ্য এশিয়াতেও ।এর উদাহরন টেনে আন্তর্জাতিক আইন আর সুস্থ্য চিন্তার আলোকে তারা ইস্যু তুললেন, এ এলাকার জল সম্পদের সুষম বন্টনের ।তারা বোঝালেন , উড়াল সাগরকে আবার জলবতী করা ছাড়া মধ্য এশিয়াতে শান্তি আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবেনা । তারা নিজের দেশ পাকিস্তানের কথা মাথায় রেখেই এতোদিন বলে এসেছিলেন কথাগুলো । বন্যার কারনে তা আরো সোচ্চার হয়েছে মাত্র । মাত্রা পেয়েছে ভিন্ন । দক্ষিন উড়াল সাগরকে “রি-ফীল” করার প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন তারা ।
কে জানে, কবে আবার শুকিয়ে যাওয়া উড়ালের বুক চিরে ভাসবে জেলেদের নাও । উড়ন্ত পাখীরা ছুঁয়ে যাবে উড়ালের জল ।

পাদটীকা -
আমরাও কি এমোন একটি সত্যিকার দুঃস্বপ্নের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিনা ! উড়ালের তীরে তীরে বসবাসকারী অসহায় মানুষগুলির মতো আমরাও কি দেখতে থাকবো শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে গেছে এখোনও ধীরে বয়ে চলা আমাদের নদীগুলো !
শুধু দেখেই যাবো………… ……………..

read more

Saturday, March 17, 2012

কোন এক রহস্যময়ী :-*:-*

by মাহবু১৫৪
১।
ব্যাচেলার মানেই যত ঝক্কি ঝামেলা। যত দোষ আছে সব ব্যাচেলারদেরই। কোন দোষ না করেও আমরা তাই দোষী। বিশেষ করে যখন বাড়ি ভাড়ার জন্য আমাদের রীতিমত যুদ্ধ করতে হয় তখন বোঝা যায় কি পরিমাণ অসহায় আমরা। এইবার আসি আসল প্রসঙ্গে।
ঘটনার শুরু ঈদের ২ দিন আগে। আমি, রাজু, ইরাম এই ৩ জন মিলে সেদিন একটু রাত করে বাড়ি ফিরেছিলাম। তাও আবার রাত ১ টার পর। রাত যখন ১১ টা তখন বাড়িওয়ালা দরজা বন্ধ করে দেন। কেউ বাহিরে থাকুক আর না থাকুক এটা তার প্রতিদিনের রুটিন। ডুপ্লিকেট কোন চাবিও দেয়া হয় নি আমাদের। আর তাই ১১ টার মধ্যে বাসায় না ঢুকতে পারলে আমাদের সেদিন অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

এমনিতেই ঈদের আগের দিন। এতদিন অফিস আর ইউনিভার্সিটি থেকে ছুটি পাওয়া যায় নি কাজের চাপে। তাই ছুটি পেয়েই আমরা গিয়েছিলাম শপিং করতে। আর তাই এই বিপত্তি। এদিকে দরজা বন্ধ পেয়েই আমার মেজাজ সেদিন চরমে উঠলো। ইচ্ছে করেই জোরে জোরে মেইন দরজা ধাক্কাতে লাগলাম। আমার সঙ্গে থাকা রাজু আর ইরাম তো ভয়ে জান যায় যায় অবস্থা। এই অবস্থায় তাদেরকে অভয় দেয়ার কোন ইচ্ছেই আমার ছিল না।

অবিরাম ধাক্কাধাক্কির শব্দে বাড়িওয়ালার মেয়ে উপর থেকে উকি দিল। কিন্তু কোন সাড়াশব্দ সে করলো না। রাস্তার আলো এবং তার রুমের আলো দেখে বুঝে গেলাম সে বেশ চিন্তিত আমাদেরকে নিয়ে। তার এত চিন্তা করার কোন কারণ আমি বুঝতে পারলাম না। এত সহানুভুতি আমি অন্তত তার কাছ থেকে আশা করি নি। যাই হোক, খানিক বাদে বাড়িওয়ালা পুরো বাসা মাথায় তুলে আমাদের ১৪ গুষ্ঠি উদ্ধার করতে করতে দরজা খুললেন।

বাড়িওয়ালাঃ কি ব্যপার? এভাবে ধাকাচ্ছো কেন? আদব কায়দা কি সব ঝেড়ে ফেলে দিয়েছো?
আমিঃ দরজা খুলছিলেন না তো, তাই একটু জোরে জোরে ধাক্কাচ্ছিলাম।
বাড়িওয়ালাঃ বলি, এটা কি তোমার মগের মুল্লুক নাকি? যখন খুশি আসবে আর যখন খুশি যাবে!

আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম সে সময় ইরাম আমাকে কোন মতে থামিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে তবেই বাসায় ঢুকতে পারলো।

২।
২ দিন পর সকাল ১০ টা,
আমি ঘুমে ছিলাম। হঠাৎ মোবাইলের বিরক্তিকর শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো। এই সময়ে সাধারণত আমি ঘুম থেকে ঊঠি না। তারপরও উঠতে হল এই কলের জন্য। মোবাইলে স্ক্রীণে দেখলাম কে ফোন করেছে। কিন্তু নম্বরটা পরিচিত মনে হল না। ফোন ধরতেই

ওপাশ থেকেঃ হ্যালো, ভাল আছেন? (মেয়েলী কন্ঠ)
আমিঃ ভালো। কিন্তু আপনি কে?
ওপাশ থেকেঃ আপনি আমাকে চিনলেও চিনতে পারেন।
আমিঃ (মেজাজ তখন সপ্তমে) এখন আমি কি করতে পারি?
ওপাশ থেকেঃ কিছুই করতে হবে না আপাতত।
আমিঃ ধুর! যত্তসব।
ওপাশ থেকেঃ (নিরবতা)
আমিঃ রাখলাম আমি। এভাবে ফোন দিবেন না আর।

ফোন রেখেই মোবাইল বন্ধ করে রাখলাম।

৩।
সেদিন রাত ১১ টা ৩০ মিনিট,
ক্লাসে আগামীদিন বিশাল একটা প্রোজেক্ট জমা দিতে হবে। আর সেটার কাজ করছিলাম বসে বসে। সেই সময় আবার শব্দ করে মোবাইলের চিৎকার। নম্বর অপরিচিত হওয়ায় ফোনটা ধরতে ইচ্ছে করলো না। তাই সাইলেন্ট রেখে আবার নিজের কাজে মননিবেশ করলাম। কিন্তু অনবরত ফোন আসা শুরু করলো। আর তাই না ধরে পারলাম না।

ওপাশ থেকেঃ কি ব্যপার? ফোন ধরতে কি খুব কষ্ট হয় আপনার?
আমিঃ আপনি! আবারো ফোন দিয়েছেন?
ওপাশ থেকেঃ কি করছেন? আপনার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারি?
আমিঃ (বিরক্ত হয়ে) আপনি কি চান? আর আমার নম্বর কোথায় পেলেন?
ওপাশ থেকেঃ আপনার সাথে ফেন্ডশিপ করতে চাই।
আমিঃ ভাল কথা। কিন্তু এখন আমার সময় নেই। আমি কাজ করছি।
ওপাশ থেকেঃ জানি, আপনি কাজ করছেন। আর যেই কাজটা করছেন সেটা আগামীদিন জমা দিতে হবে না। স্যার ২ দিন পিছিয়েছেন।
আমিঃ (অবাক হয়ে) কি! আপনি জানলেন কি করে?
ওপাশ থেকেঃ (অট্টহাসি)
কিছু না বলেই ফোনটা রেখে দেয়ার শব্দ হল।

৪।
সকাল ৯ টা,
তড়িঘড়ি করে স্যার এর রুমে প্রোজেক্ট নিয়ে প্রবেশ করলাম। স্যার আমাকে এই সময়ে আসতে দেখে বেশ অবাক হল। আমি যখন প্রোজেক্ট জমা দিবো তখন স্যার আমাকে বললেন ২ দিন পর জমা দিতে। আমি হতচকিয়ে গেলাম স্যার এর কথা শুনে। উনি জানালেন স্টুডেন্টদের সুবিধার কথা ভেবেই ডেট পিছানো হয়েছে। স্যার এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। সেই অপরিচিত নম্বর থেকে যিনি ফোন করেছেন উনি কি করে জানলেন এই কথা? আমি কিছুতেই এর রহস্য উদঘাটন করতে পারছিলাম না। মোবাইল বের করে সেই নম্বরে বেশ কয়েকবার ফোন দিলাম। কিন্তু সিমটা বন্ধ পেলাম।
এর কিছুক্ষণ পরেই সেই নম্বর থেকে ফোন এলো।

আমিঃ হ্যালো, আপনি কি করে জানলেন খবরটা?
ওপাশ থেকেঃ আমি তো আগেই বলেছিলাম। বিশ্বাস হল এবার?
আমিঃ (মুচকি হেসে) হ ম ম, হল। তা আপনি কে এইবার আমাকে বলেন।
ওপাশ থেকেঃ আমি আপনার শুভাকাঙ্খী। এতটূকুই বলতে পারি।
আমিঃ এত রহস্যের কি আছে?
ওপাশ থেকেঃ সেটা বুঝবেন না।
আমিঃ আপনাকে সামনা সামনি দেখতে চাই।
ওপাশ থেকেঃ তাহলে পিছনে ঘুরুন।
আমিঃ (পিছনে ঘুরে) কৈ, কেউ তো নাই।
এই সময়ে ফোন কেটে গেল। আমি চেষ্টা করেও আর লাইন পেলাম না।

৫।
ভোর ৬ টা,
ফোন বেজে উঠলো। ধরতেই
ওপাশ থেকেঃ জানি ঘুমুচ্ছেন আপনি। তারপরও ফোন দিলাম।
আমিঃ (ঘুম ঘুম চোখে) ও আপনি? তা, কি মনে করে?
ওপাশ থেকেঃ আজকে আপনাদের বাড়িওয়ালা আসবেন বাসা ছেড়ে দেয়ার কথা বলতে। তাই আগে থেকে প্রস্তুতি নিন।
আমিঃ (তড়াক করে উঠে) বলেন কি? তা আপনি জানলেন কি করে?
ওপাশ থেকেঃ আমি জানি।
আমিঃ কিন্তু কেন?
কোন কথা না বলেই ফোন রেখে দেয়ার শব্দ পেলাম।

সকাল ১০ টা ৭ মিনিট,
কলিং বেলের আওয়াজ শুনে দরজা খুললাম। খুলে অবাক হওয়ার আর বাকি থাকলো না। বাড়িওয়ালা আর তার বউ আমার সামনে দাঁড়ানো।
বাড়িওয়ালাঃ দেখো বাবা, তোমাদের তো বাসাটা ছেড়ে দিতে হবে।
আমিঃ কিন্তু আংকেল, কেন?
বাড়িওয়ালাঃ আসলে আমার বড় ছেলে বিদেশ থেকে ফিরছে। তার ইচ্ছে এখন থেকে দেশেই থাকবে আমাদের সাথে। তাই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।
আমিঃ আংকেল, আপনি বলেছেন। এখন তো আর না করা যায় না। ঠিক আছে। আমাদের এই সপ্তাহটা সময় দিন।
বাড়িওয়ালাঃ ঠিক আছে। দিলাম।

তাঁরা চলে যাওয়ার পর আমি যতটা না অবাক হয়েছি বাড়ি ছাড়ার কথা শুনে ততটাই বেশি অবাক হয়েছি সেই অপরিচিত ফোন কলের মালিকের কাজকারবার দেখে।

৬।
শতবার চেষ্টা করেও তাকে যখন পাচ্ছিলাম না তখন হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিলাম। কিন্তু নতুন বাসা নেয়ার পর আবার সেই নম্বর থেকে ফোন এল একদিন।
ওপাশ থেকেঃ নতুন বাসা নিয়েছেন?
আমিঃ আচ্ছা, আপনি কি করে বুঝে যান সব?
ওপাশ থেকেঃ আমি তো আগেই বলেছি যে আমি আপনার শুভাকাঙ্খী।
আমিঃ আমাদের কি কখনও পরিচয় বা দেখা হবে না?
ওপাশ থেকেঃ হয়তো বা না! এভাবেই চলুক।
ফোন রেখে দেয়ার শব্দ পেলাম ওপাশ থেকে

এরপর থেকে সেই ফোন আমার জীবনের একটা বড় অংশ হয়ে ধরা দিল। আমি যেকোন কাজ করার আগে সেই ফোন কল পাই। আমাকে কি করতে হবে বা কি করলে ভাল হয় কিংবা কোনটায় মন্দ হবে সবকিছু এখন সেই রহস্যময়ীই বলে। আমি বাধ্য ছেওলের মত শুনে যাই তার বাণী।

এভাবেই চলছে আমার জীবন। হয়ত এভাবেই চলবে বাকিটা জীবন।
original post
read more

একটি খুব বোরিং কাহিনি /:)/:)

by মাহবু১৫৪
১।
এক কুয়াশাঘেরা শুভ্র সকালে লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। আসলে ঘুমিয়ে ছিলাম বললে ভুল বলা হবে। বিছানা ছেড়ে উঠতে মন সায় দিচ্ছিল না। রীতিমত ঘুমের ভান করে পরে ছিলাম। আহ! কি শন্তিই না পাচ্ছিলাম এভাবে শুয়ে থাকতে। ক্লাস না থাকায় শান্তি ডাবল মনে হচ্ছিল। তার উপর আবার আমার আব্বা এবং আম্মা দুজনেই বেড়াতে গিয়েছেন। যেন সোনায় সোহাগা। আব্বা বাসায় থাকলে অবশ্য এতটা আরাম পেতাম না। তাই বলা যায় ট্রিপল শান্তি।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে চারিদিকে কোলাহল বাড়তে লাগলো। রিকশার টুংটাং শব্দ চারিদিকের কোলাহলকে নতুন এক মাত্রা দিয়ে যেতে লাগলো। মানুষের অবিরাম ছুটে চলা বাড়তে লাগলো। ইতিমধ্যে কুয়াশা ভেঙ্গে সূর্যের আলো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। খানিক গরম যেন মিশে আছে এর সাথে।

বেলা সাড়ে ১২ টায় লেপ + বিছানার মায়া ত্যাগ করে উঠে পরলাম। নাহ! আর ঘুমিয়ে থাকা যায় না। অনেক কাজ আছে।

২।
বিকেল ৫ টা ২০ মিনিট,
বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিলাম। পড়ন্ত বিকেলে হাল্কা সুন্দর আবহাওয়ায় বেশ ভাল লাগছিল।পাশে রাখা মোবাইল ফোনটি হাতে নিতেই কল পেলাম রাজিবের। বেশ ভাল লাগলো ওর ফোন পেয়ে। কারণ এই শালা সহজে কাউকে ফোন দেয় না। বরং ওর কোন দরকারে আমাদেরই ফোন দিতে হয়। চরম কিপটে একটা বন্ধু সে আমাদের। তবে বেশ ভাল বন্ধু সে। যেকোন দরকারে তাকেই কাছে পাওয়া যায়। আমাদের বন্ধু মহলে সে বেশ প্রাণচঞ্চল একজন মানুষ।
ফোনটা ধরেই –

রাজিবঃ কি রে ব্যাটা! খবর কি?
আমিঃ খবর তো ভালই। এতদিন পর আমাকে মনে পড়লো তোর!
রাজিবঃ মাফ কর দোস্ত। অনেক প্রব্লেম চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে।
আমিঃ (শ্লেষা মিশ্রিত স্বরে) কি তোমার এত প্রব্লেম? শুনি! শালা তুমি তো ...............।
আমাকে থামিয়ে দিয়ে
রাজিবঃ দোস্ত তোমার সাথে একটা কথা আছে। বলবো?
আমিঃ বল, শুনি
রাজিবঃ আগামী সোমবার আমার বিয়ে। আমার বাসায়। সকাল সকাল চলে আসিস।
এক নাগাড়ে কথা গুলো রাজিব বলাতে আমার হজম হতে দেরি হচ্ছিল। খুব অবাক হলাম ওর কথা শুনে। এত তারাতারি বিয়ে!
আমিঃ কি কস! মাথা কি ঠিক আছে তোর?
রাজিবঃ সব ঠিক আছে। তুই চলে আসিস। পরে কথা হবে। রাখছি আমি
ওপাশ থেকে ফোন রেখে দেয়ার শব্দ পেলাম।

ঘটনার সত্যতা উৎঘাটনের জন্য পরের দিন সকালে ইউনিভার্সিটি যেয়ে বন্ধুদের যারা যারা রাজিবকে চিনে তাদের সবার সাথে আলাপ করলাম রাজিবের বিষয়টা নিয়ে। ওদেরকেও একইভাবে দাওয়াত দেয়া হয়েছে। অথচ আমরা কেউ ঘুনাক্ষরেও জানতে পারি নি আগে ব্যপারটি। যাই হোক, হতাশ হলাম। কিন্তু মনে মনে ঠিকই একটা উত্তেজনা টের পাচ্ছিলাম। হয়ত বাকিরাও হচ্ছিল।

৩।
সোমবার বেলা ১২ টা ঠাকুরবাড়ি লেন,

আজ বহুদিন পর এই রাস্তায় এলাম। তাও প্রায় ৫/৬ বছর পর। এত অল্প সময়ের ভিতরেই এই লেনের পরিবর্তন চোখে পরার মত। চারিদিকে পরিবর্তন দেখতে দেখতে কখন যে চলে এলাম রাজিবদের বাড়ির কাছে টের পেলাম না। শুধু এই একটি বাড়ি আমার কাছে আগের মতই লাগলো। অন্যগুলোর থেকে বেমানান বলাই যায়। এরকম সাতপাচ ভাবতে ভাবতেই রাজিব বাসার দরজা দিয়ে জোরে হাক দিল। সৎবিত ফিরে পেয়ে দেখলাম রাজিব ডাকছে। ওর সাথে মোলাকাত করে বুঝতে পারলাম খুব খুশি সে আমি আসায়।

বিয়ে বাড়িতে ঢুকে বেশ হই হূল্লোড় করে সময় কাটছিল। রাজিব তার কাজিনদের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। ঘন্টা দুয়েক পরে আমাদের সব বন্ধুরাও চলে আসলো। বিয়ের বাড়ির সব কাজ আমাদের উপর দেয়া হল। বাড়ি সাজানো, বাসর ঘর সাজানো, রান্না বাড়ার তদারকি ইত্যাদি সবকিছু আমরা নিজেদের দ্বায়িত্বে নিয়ে নিলাম। রাজিবের বাবা খুব খুশি হলেন আমাদের এই উদ্দোগে।

৪।
বিকেল ৫ টা,
বাসর ঘর সাজাচ্ছি আমি আর আমার ২ বন্ধু মিলে। হাসি ঠাট্টা করে সময়টা দারূণ কাটছিল। হঠাৎ খেয়াল করলাম বাসর ঘরে এক অষ্টাদশী মেয়ে প্রবেশ করেছে। কারো সাথে কোন কথা বলছে না। শুধু বার বার আমার দিকে অপলক চেয়ে আছে। চোখে চোখ পরলে সে ফিরিয়ে নিচ্ছে। বেশ কয়েকবার এই ব্যপারটি আমি লক্ষ করলেও আমার বন্ধুরা তা করে নি। শেষে একটা মুচকি হাসি দিয়ে সে রুম থেকে বিদায় নিয়েছিল।

এরপর থেকে আমি যেখানেই যাই সেখানেই সেই মেয়ের আগমন ঘটতে থাকে। এটা এতটাই বেড়ে গেল যে আমার বন্ধুরাও শেষে লক্ষ করলো বিষয়টা। তবে আর যাই হোক, মেয়েটা দেখতে খারাপ না। তাই আমার মনের মধ্যে একটা আকুপাকু ভাব অনুভব করলাম।

বরের সাথে যখন কনেকেও বসানো হল একসাথে তখন স্টেজে আমরা ছিলাম। কেউ কেউ ছবি তুলছে। আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম এক কোনায়। হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার পাশেই সেই মেয়েটা দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে। সে কখন আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে আমি খেয়াল করি নি। কোন কথা না বলে শুধু মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলাম বেশ কিছুক্ষণ। কি এমন আছে এই মেয়ের মধ্যে যে বার বার তার দিকেই আমি আকর্ষিত হচ্ছি। বা সে আমাকে দেখে যাচ্ছে এভাবে। বিয়ে বাড়ির সব ঝামেলা শেষে যখন সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা চলে আসছি তখন রাস্তার ওপারে সেই মেয়েটাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম বিষন্ন বদনে। রাস্তার লাইটের আবছা আলোয় যা আমি স্পষ্ঠ দেখতে পেলাম।

৫।
২/৩ মাস পর,
পড়াশোনার প্রেশারে বিষয়টা ভুলেই গিয়েছিলাম। নিয়মিত পরীক্ষার টেনশেনে যখন মাথা খারাপ অবস্থা তখন একদিন সকালে বাসে উঠেই চমকে গেলাম। আমি যেই সারিতে দাঁড়িয়েছি তার ঠিক পিছনের সারিতে সেই অপরিচিতাকে বসে থাকতে দেখলাম। কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনেছে সে। আমার দিকে চোখ পরতেই মুচকি একটা হাসি দিল। আমি কি করবো ঠিক বুঝতে না পেরে মাথা ঝাকালাম।

আমার গন্তব্য উত্তরা। সেই মেয়েরও হয়ত। ইতিমধ্যে পাশের সিট খালি হলে আমি একরকম তারাতারি যেয়েই বসে পরলাম তার পাশের সিটে। সে এটা দেখে আমার দিকে তাকিয়ে হাসি দিল একটা। এই প্রথম তাকে এত সুন্দর করে হাসি দিতে দেখলাম।

অচেনাঃ কি ব্যপার? খুব যলদি মনে হচ্ছে?
আমিঃ নাহ! আসলে, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে খুব পা ব্যাথা করছিল।
অচেনাঃ ও আচ্ছা। বুঝেছি।
আমিঃ আপনার নামটা জানতে পারি?
অচেনাঃ হ ম ম। আমি অহনা।
আমিঃ বাহ! সুন্দর নাম।
অহনাঃ আপনার নাম আমি জানি তাই জানতে চাইলাম না।
আমিঃ (অবাক হয়ে) কি করে জানেন?
অহনাঃ সেটা বলবো না।
আমিঃ কেন? আচ্ছা............
অহনাঃ আপনি কই যাচ্ছেন?
আমিঃ ইউনিভার্সিটি। আপনি?
অহনাঃ আপনি যেখানে যাচ্ছেন, আমিও সেখানে যাচ্ছি।
আমিঃ রাজিব আপনার কি হয়?
অহনাঃ বন্ধু।
আমিঃ ও আচ্ছা।
অহনাঃ আমি কিন্তু আপনারও বন্ধু!
আমিঃ (অবাক হয়ে) কি করে? আমরা তো মাত্রই পরিচিত হলাম।
অহনাঃ আসলে, তুমি একটা গাধা!
আমিঃ (আকাশ থেকে পড়ার মত) কি বললেন!
অহনাঃ আরে বোকা ছেলে, আমি তোমার স্কুলের সেই অহনা। যার জন্য তুমি ৩ বছর পিছে পরে ছিলা। একবার তো চড় ----------
আমিঃ (প্রায় ৫ মিনিট পর) আরে!! তুমি তাহলে সেই অহনা?
অহনাঃ হ ম ম। এতক্ষণে তাহলে চিনতে পারলে!!
আমিঃ (নিজেকে ধিক্কার দিয়ে) আসলে আমার স্মৃতি শক্তি এতটা ভাল নয়। আমি আসলেই লজ্জিত।
অহনাঃ (অভিমানী ভঙ্গীতে) থাক, আর লজ্জিত হওয়া লাগবে না।

ইউনিভার্সিটির সামনে বাস এসে থামার পর দুজনেই নেমে গেলাম। বিদায় জানাতে মন চাইছিল না। তারপরও বিদায় দিতে হবে। অহনার সামনে দাঁড়িয়ে লক্ষ করলাম ওর মুখটা কালো হয়ে গিয়েছে। কিছু একটা বলতে চাচ্ছে সে। কিন্তু পারছে না। মনের ভিতর যে একটা ঝড় হচ্ছে তার সেটা বোঝা যাচ্ছে। অবশেষে নিরবতা ভেঙ্গে তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলাম। কিন্তু কি মনে করে জানি তার পথের দিকে তাকিয়ে রইলাম। এই অহনার জন্য সেই স্কুল সময় থেকেই পাগল ছিলাম। তখন সারা না পেলেও আজ বাধা নেই কোন। তাহলে কিসের এত জড়তা? কিসের এত ভয়?

মনের ভাবনাকে দূরে ঠেলে অহনাকে পিছন থেকেই ডাক দিলাম। দৌড়ে তার সামনে যেয়ে বললাম -

“তোমার হাতটা সারাজীবন ধরার অনুমতি পেতে পারি?”

অহনার মুখে একটা খুশির আভা দেখতে পেলাম। যা আমাকে আশাহত না করে আলোর পথ দেখালো। মুখে কিছু না বলে আমার হাতটা ধরে তার হাতে রাখলো।

ব্যস! আমি আমার উত্তর পেয়ে গেলাম।
original post
read more

আমার হোস্টেল জীবনের খুটিনাটি

by মাহবু১৫৪
সেই ছোটবেলা থেকেই বড় ভাই, বোন, আত্মীয়দের কাছ থেকে শুনে এসেছি তাদের হোস্টেল জীবনের নানারকম ইতিহাস। তাদের বেশিরভাগ গল্প জুড়েই থাকতো হোস্টেলের / মেস বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে কথা। এইসব কোনটা হাসির কিংবা আবার কোনটা অতীব কষ্টের। তবে প্রায় সবাই এক বাক্যে স্বীকার করে নিতো যে হোস্টেল জীবনের মত মজা আর নেই। পারিবারিক বাধা না থাকায় এই জীবনটা তাই মুক্ত পাখির মত। ডানা মেলে উড়ার সময় হল এটাই। তাদের এমন রঙ্গীন রঙ্গীন সব নষ্টালজিক কথা শুনে মনের গভীরে ইচ্ছে জেগেছিল যে আমিও যদি এরকম হোস্টেলে থাকতে পারতাম!

এইচ এস সি পাশের পর যখন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সময় হল তখন কেন জানি সেই ইচ্ছেটা দমে গিয়েছিল। ঢাকায় স্থানীয় হওয়াতে হয়ত ব্যপারটি হয়ে উঠে নি। আর আব্বা আম্মাও হয়ত চাইতেন না আমাকে দূরে রাখতে। তাই বাসায় থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছিল। স্নাতক, স্নাতকত্তোর শেষ করেছি এভাবেই। ফলে ইচ্ছের প্রকাশটা হয়ে উঠে নি।

কিন্তু ভাগ্যের কি খেলা! মনের সেই বাসনা আজ আমার পূরণ হয়েছে। ২০১১ সালের শেষের দিকে মাষ্টার্স করতে বাহিরে চলে আসি। আর এসেই এখানে হোস্টেলে উঠি। যদিও দেশে থাকতেই হোস্টেলের সিট আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম।

আমি যেই হোস্টেলে উঠেছি সেই হোস্টেলে বাঙ্গালী কোন ছাত্র / ছাত্রী নেই বললেই চলে। এখানে বেশিরভাগ বাঙ্গালী ছাত্র / ছাত্রী মেস করে বাহিরে থাকে। এখানে বলে রাখা ভাল যে আমার হোস্টেলে থাকার কারণ হল ঠান্ডা! এখানে শীতের সিজনে মাইনাস ৪৪ – ৫০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা পর্যন্ত যায়। যাই হোক, এই হোস্টেলের বেশির ভাগ ছাত্র / ছাত্রীই চাইনিজ! /:) কিছু পাকিস্তানি, নাইজেরিয়ান, ইরানের ছাত্র / ছাত্রীও আছে।

প্রথম যখন এসেছি তখন থেকেই খেয়াল করে আসছি চাইনিজরা ইংলিশ বলতে যেয়ে ৩/৪ বার মাথা ঠোকায়, কিংবা চুল ছিড়ে কিংবা আবার তোতলায়। এখানে আমরা বাঙ্গালীরা চাইনিজদের বলি “নাক বোচা” কিংবা “চ”। ওদের সাথে ইংলিশে কথা বলতে যেয়ে মাঝে মাঝে কিভাবে ওদের বোঝাবো সেই নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবতে হয়। সহজে কিছু না বোঝার একটা বাতিক লক্ষ্য করা যায় এদের মধ্যে। দুর্ভাগ্যক্রমে আমার রুমমেটগুলো সব চাইনিজ। আমার সাথে ৫ জন চাইনিজ ছাত্র থাকে। প্রতি জনের ১ টা করে রুম। আর একটা কমন রান্নাঘর।

কেউ যদি বলে বাঙ্গালীরা বেশি খায় তাহলে আমি অবশ্যই এর প্রতিবাদ করবো। কারণ চাইনিজদের দেখি তারা আমাদের থেকে ৩ গুণ বেশি খায়। খাওয়া দাওয়া এদের কাছে মুখ্য ব্যপার বলেই আমার মনে হয়। ওরা যেমন খায় তেমনি আবার নষ্টও করে। স্বভাব চরিত্রের দিক দিয়ে ওরা বেশ ভদ্র, নরম। কিন্তু টেবিল ম্যানার, বাথরুম ব্যবহার কিংবা রান্নাঘর ব্যবহারে ওদের থেকে নোংরা হয়তো আর পাওয়া যাবে না। ওরা যখন খায় মুখ দিয়ে অসহ্য রকম শব্দ করতে করতে খায়। X(

একটা উদাহরণ দেই। ওরা যখন টেবিলে বসে তখন মাংসের হাড্ডি সব টেবিলের উপর রেখে দেয়। সেটা ২/৩ দিন অবধি টেবিলে থাকলেও তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। রান্নাঘরে যখন রান্না করে তখন আমি পারতপক্ষে সেখানে যাই না। প্রচন্ড নোংরা আর আগোছালো করে রাখে তারা। রান্না খাওয়া দাওয়া শেষে প্লেট, গ্লাস না ধুয়েই তারা বেসিনে রেখে দেয় ৩/৪ দিন। এ অবস্থায় রান্না করার সুযোগ পাওয়া খুব কষ্ট। কারণ তরকারি কাটার জায়গায় তাদের জিনিসপত্র এলোমেলো ভাবে থাকে। আমি অনেকবার তাদের পরিষ্কার করতে বলি। তারা করে। কিন্তু বলে লাভ হয় না। কারণ ১/২ দিন পর আবার একই অবস্থা হয়। আর বাথরুমের কথা নাই বা বললাম। X(X(

হোস্টেলের নিয়ম বেশ কড়া। প্রতি মাসে একবার ইনপেকশন হয়। একেক জন রুমমেটের একেকটা কাজ প্রতিমাসে থাকে। কেউ কাজ ঠিক মত না করলে তাকে সুযোগ দেয় ইনসপেকশনের লোক। ২ দিন পরে আবার এসে যদি একই অবস্থা দেখে তাহলে জরিমানা দিতে হয়। সেই সময়টুকুতেই যা একটু পরিষ্কার দেখতে পারা যায় রুমের চেহারা। মাঝে মাঝে মেজাজ এত খারাপ হয় যে মুখ দিয়ে গালি বের হয়ে আসে। মাঝে মাঝে ওদের সামনেই দেই। ওরা বোঝে না! ;) হোস্টেল ব্যবহার করার নমুনা দেখলে মনে হয় এটা তাদের নিজেদের বাড়ি।

আমার এক রুমমেট আবার খুব দিল দরিয়া। তার প্রেমিকা সহ আরো ২ জন মোট ৪ জন বন্ধু তারা একসাথে খাওয়া দাওয়া, রান্না করে ৩ বেলা। তারা রান্না প্রতিদিন করে। আমরা সাধারণত বাজার করি বাসে যেয়ে। কিন্তু সেই রুমমেট বাজার করে ট্যাক্সিতে যেয়ে। সম্প্রতি সে একটা টিভিও কিনেছে। টাকা পয়সা এদের কাছে মনে হয় হাতের ময়লা!

চাইনিজগুলোর কমনসেন্স বলতে কিছু নেই মনে হয়। রাত ৩ টার দিকে একদিন ঘুমিয়ে আছি। হঠাৎ দরজা জোরে লাগানোর শব্দ। সাথে চিল্লাপাল্লা, রান্নাবারা, বারবার দরজা খোলা আর সিড়ি বেয়ে রুমে আসা যাওয়া। এই অবস্থায় কেউ ঘুমিয়ে থাকতে মনে হয় কেউ পারবে না। আমিও পারি নি। বাতি অন করে দেখি ৩ টা বাজে!X(X( এই সময়ে তারা কোথা থেকে আসলো আর এখনই বা কেন এরকম শুরু করলো বুঝলাম না। তাদের এই অত্যচার চলেছিল একদম টানা ৬ টা পর্যন্ত। একটুকুও ঘুমাতে পারি নি সেদিন। বসে বসে মুন্ডুপাত করছিলাম এগুলোর।

বেশিরভাগ সাপ্তাহিক ছুটিতে রুমে পার্টির আয়োজন করে চাইনিজেরা। সেই সময়গুলোতে আমার পক্ষে রুমে থাকা এক কথায় অসম্ভব। তাদের ক্রমাগত হাসাহসি, চিল্লাচিল্লি, রান্নাবারার ঠেলায় আমি রুম থেকে বের হয় যাই। পুরো ক্যাম্পাস একবার চক্কর দিয়ে আসি। তাদের পার্টি শেষে রুমমেটের প্রেমিকা আমাকে একদিন বিয়ার অফার করেছিল। মাঝে মাঝে তারা আমাকে শুকর খাওয়ার অফার করে। পরে তাদেরকে বুঝিয়ে বলায় এখন আর বলে না।

আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন তাহলে এত যখন সমস্যা করে তাহলে কারো কাছে বিচার দাও না কেন? এখানে উত্তর হল এসব দেখাশোনার দায়িত্ব থাকে রেসিডেন্ট অ্যাসিসটেন্টের (আর এ) উপর। কিন্তু যাদের কাছে বিচার দিবো তারাই তো চাইনিজ! /:):(( বিচার দিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। আর আমি এখানে একা বাঙ্গালী। আমি কারো সহযোগিতাও পাবো না।

খুব মজা লাগে যখন আমরা বাঙ্গালীরা চাইনিজদের সামনেই ওদের বদনাম গাইতে থাকি বাংলায়। :P আমার সাথে কোন বড় / ছোট ভাইয়ের দেখা হলেই প্রথম কথা "আপনার চাইনিজ বন্ধুরা কেমন আছে?" :-/:-/

ভাল মন্দ মিলিয়ে এই হল আমার হোস্টেল জীবন।
original post
read more

সে, আমি; আমরা ও আমাদের সম্পর্ক :)

by মাহবু১৫৪
সম্পর্কে সে আমার খালাতো বোন। আমার ছোট খালার সবার ছোট মেয়ে। আমার খালাদের (আম্মা সেঝো, ৪ বোন আম্মারা) মধ্যে এই খালা সবার ছোট। ছোট বলেই কি না জানি না, এই খালার প্রতি আমার অসম্ভব শ্রদ্ধাবোধ। আম্মার পরেই যাকে খুব সম্মান করি উনি হলেন আমার এই খালা। উনি খুব মিশুক প্রকৃতির মানুষ। প্রচন্ড হাসিখুশি এবং গল্প / আড্ডা করতে উনার জুড়ি নেই। উনার সামনে গল্প করতে মিনিট দশেক বসলে কেউ না হেসে পারবে না। তার একেকটা কথার মাঝে এত হাস্যরস লুকিয়ে থাকে যাতে তাঁর সামনে কেউ থাকলে হাসতে বাধ্য সে। তাই সব আসরের মধ্যমণি আমার এই খালা। আমার প্রিয় মানুষদের মধ্যে উনি একজন।

ধরি, আমার খালাতো বোনের নাম “অহনা” । এখনও মনে পরে সেই ছোটবেলা থেকেই তার সাথে আমার সম্পর্কটা বেশ মজবুত ছিল। সে শুধু আমার বোন যে তা নয়। একাধারে সে আমার খুব ভাল একজন বন্ধুও ছিল। এমন কি আমার বড় ভাই বোনদের থেকে তাকে আমি বেশি পচ্ছন্দ করতাম। তার সাথে সব কথা শেয়ার করা যেত। সেও তার মনের সব কথা আমাকে অকপটে বলে দিত। সে কোন সমস্যায় জড়ালে আমার কাছে আসতো বলতে। বলতে পারেন তার সাথে আমি বেশ ফ্রী ছিলাম। অহনা খুব বোকা, ভীতু স্বভাবের ছিল। কেউ ক্যামেরা নিয়ে তার সামনে ছবি তুলতে দাঁড়ালে কেদে দিত। তখন তাকে থামানো অনেক কষ্টকর ছিল।

খাওয়া দাওয়া কম করার কারণে তাকে আমরা সবাই আদর করে ডাকতাম “কাঠি” । এতে সে খুব ক্ষেপে যেত। মনে পরে সে যখন ইন্টার মিডিয়েট দেবে তখন অবধি তাকে এই নাম ধরেই ডাকতাম। তার বাবা মানে আমার ছোট খালু ছিলেন ঢাকা। ঢাকার কাকরাইলে উনাকে তার পেশার কারণে থাকতে হত। সেখানে তিনি একাই থাকতেন। আর তার পরিবার থাকতো জয়দেবপুর, গাজিপুরে। মাঝে মাঝে তিনি গাজিপুর যেতেন। এই খালু যখন মারা যান তখন খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম। আমার প্রিয় মানুষগুলোর মধ্যে যে তিনিও আছেন। আমাকে অসম্ভব ভালবাসতেন।

সে যাই হোক, মনে পরে যখন স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হত তখন স্কুল ছুটি থাকতো ১ মাসের বেশি। সেই ১ মাসের জন্য আমরা চলে যেতাম নানু বাড়ি। আমি, আম্মা, ছোট খালা, আর অহনা। নানু আমার জন্মের আগেই মারা গিয়েছিলেন। অসাধারণ কেটেছে আমার সেই মধুর দিনগুলো। মামাতো ভাই বোন, অহনা, আমি সবাই মিলে অনেক মজা করে সময় কাটিয়েছি। কুয়াশা মাখা শীতের সকালে উঠে বাদাম কুড়াতে যাওয়া কিংবা হাল্কা বাতাসে ঘোড়াঘুড়ি করা, কিংবা দূরে খেজুর গাছের রস নিয়ে যাওয়া লোকটার কাছ থেকে খানিক রস চেয়ে খাওয়া, খালি পায়ে ঘাসের উপর দিয়ে হাটা সেসব এখনও চোখের সামনে ভেসে উঠে।

সারাদিন ছুটোছুটি করে, পিকনিক করে, কিংবা বোমবাস্টিং খেলে, পুকুরে মাছ ধরা দেখে সময় কাটতো। রাত নামলে হারিকেনের হাল্কা আলোয় চোর পুলিশ খেলার কথা মনে হলে এখনো অনেক মজা পাই। নানার বাড়িটা দোচালা হওয়াতে আমরা ঘুমাতাম উপরে। মাটিতে তোশক বিছিয়ে ঢালাও ভাবে ঘুমাতাম আমরা।

বয়স যত বাড়তে থাকলো ততই অহনার সাথে আমার সখ্যতা বাড়তে লাগলো। আমাদের বাসায় আসলে কিংবা আমরা তাদের বাসায় গেলে অনেক ভাল লাগতো। সে আমার থেকে ১ বছরের ছোট ছিল। তাই আমাকে সে ভাইয়া না ডেকে নাম ধরে ডাকতো। এই নিয়ে আমার ছোট খালা ওকে বকা দিত। কিন্তু সে কিছুতেই আমাকে ভাইয়া বলে ডাকতো না। ওরা যখন ঢাকা চলে এসেছিল তখন প্রতি ঈদেই তার বাসায় যাওয়া হত। অহনার সাথে কাটানো প্রতিটা সময় আমার কাছে ছিল অনেক মুল্যবান।

অহনা যখন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে তখন থেকেই তাকে বিয়ে দেয়ার জন্য তার পরিবার উঠেপড়ে লেগেছিল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। আমি এই কারণে তীব্র প্রতিবাদ করেছিলাম। কেন এত তারাতারি বিয়ে দিতে হবে অহনাকে? ওর তো বয়সই হয় নি বিয়ের। বিয়ে করলে পড়াশোনা করবে কিভাবে? কিন্তু অহনার পরিবার রক্ষণশীল হওয়াতে আমার কোন কথাতেই কোন কাজ হয় নি। বিয়ের পরেও পড়াশোনা করা যাবে এটা ছিল উনাদের যুক্তি।

সময় থেমে থাকে না। আসতে আসতে আমরা বড় হতে লাগলাম। অহনা তার অসুস্থতার কারণে ইন্টার পরীক্ষা দিতে পারলো না। পরের বছর দিতে হল তাকে। ছোটবেলা থেকেই সে খুব অসুস্থ থাকতো। তাই তাকে নিয়ে সবাই অনেক চিন্তা করতো।

আমি যখন ইউনিভার্সিটিতে তখন অহনা সবে ইন্টার পাশ করে ডিগ্রীতে ভর্তি হয়েছে। আগেই বলেছি ছোটবেলা থেকে তার বিয়ের প্রস্তাব আসছিল। অনেক দেখে শুনে তার পরিবার একটা ছেলে পছন্দ করলো। সবারই পছন্দ হল ছেলে। কিন্তু অহনার কেন জানি এতে মত ছিল না, তারপর ও সে মত দিল। এ ছাড়া আর কোন উপায় তার ছিল না। যেহেতু তার পরিবার চাপ দিচ্ছিল।

সেই বিকেলের কথা আমার এখনও মনে আছে যেদিন সে আর তার মা আমাদের বাসায় এসেছিল ছেলের ব্যপারে আমার আব্বার সাথে কথা বলতে। অহনাকে একা পেয়ে আমি সেদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম -

আমিঃ কি রে! খবর কি?
অহনাঃ এই তো। ছেলে দেখে গিয়েছে।
আমিঃ জানি। তা কেমন লাগলো?
অহনাঃ আছে আর কি, সেই রকম না।
আমিঃ কেন, ভাল লাগে নাই?
অহনাঃ না, আমার ভাল লাগে না।
আমিঃ (রাগত স্বরে) তাহলে তোমার কারে ভাল লাগে? এতজন দেখলা কাউকে তো দেখি তোমার ভাল লাগে না!
অহনাঃ (নিরবতা)
আমিঃ তাহলে কি আমারে ভাল লাগে? কেমন ছেলে তোর পছন্দ?
অহনাঃ (আমার দিকে তাকিয়ে) তোমার কি মনে হয়?
আমিঃ দেখ, তুই যদি আমার সম্পর্কে বোন না হতিস, তাহলে তোকেই আমি বিয়ে করতাম। কাউকে দরকার হত না তাহলে। আর তোকে অপছন্দ করার মত কিছু নেই। তুই অনেক শান্ত, ভদ্র একটা মেয়ে। আমি যেরকম চাই। কিন্তু আমার পরিবার আর তোমার পরিবার কেউ এরকম পরিবারের মধ্যে বিয়ে মেনে নিবেন না। তাই সেটা সম্ভব না। আর আমিও চাই না।
অহনাঃ হ্যা, জানি।

সেই ছেলের সাথে তার বিয়ের কথা পাঁকা হয়েছিল। যথারীতি বিয়ের তারিখ ও ঠিক হয়েছিল। আমরা সবাই অনেক খুশি হয়েছিলাম তার বিয়ের ব্যপারে। কারণ অনেক কষ্টের বিনিময়ে এরকম একটা ভাল পাত্র আমার খালু পেয়েছিলেন। তার গায়ে হলুদের স্টেজ সাজানো, বাজার, বাসা ডিজাইন করা, ছবি তোলা, বাসর ঘর সাজানো, গেইট ধরা, রান্নাবারা তদারকি করা, বিয়ে বাড়িতে গেস্টের আপ্যায়ণ, তদারকির কাজ ইত্যাদি সবকিছুতেই আমার উপস্থিতি ছিল সবসময়। এমন কি অহনার সাথে তার শ্বশুর বাড়িতে আমি আর আমার মামাতো ২ ভাই বোন গিয়েছিলাম।

শেষ বিদায় দিয়ে যখন বাসায় আসলাম তখন নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে ২ ফোটা পানি গড়িয়ে পরেছিল। হয়তো এটা আমার প্রিয় বোনের, বন্ধুর বিদায়ের কারণেই।

বর্তমান সে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জননী।
original post
read more

স্যার এর বাসায় না যেয়ে আমার বাংলা ছিঃনেমা দেখতে যাওয়া এবং অতঃপর ...

by মাহবু১৫৪
আমার জীবনে প্রথম কোন কাজ কাউকে কিছু না বলে করা আর প্রথম বারই ধরা খাওয়া চরম ভাবে। আজ অনেক অনেক বছর পর সেই কথাই আপনাদের বলবো। যা বেশ কিছুদিন ধরে আমার খুব মনে পরছে। আমাকে বার বার নষ্টালজিক করে দিচ্ছে।

তখন খুব সম্ভব ৭/৮ এ পড়ি। এলিফ্যান্ট রোডে এক ইংরেজি শিক্ষকের কাছে পড়তাম আমি। আসলে উনার খবর পেয়েছিলাম আমার এক কাজিনের কাছ থেকে। সেও পড়তো বলে আমার বাসা থেকে বলা হল আমাকেও যেতে হবে। আর তাই শিক্ষকের বাসায় যাওয়া। প্রতি সপ্তাহে উনার কাছে যেতাম ৩ দিন। আমি সেই শিক্ষকের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ যে উনি আমাকে ইংরেজিতে অনেক গাইড করেছেন। যদিও এস এস সি তে ভাল পাই নি বলে ফলাফলের পরে স্যার এর সাথে দেখা করি নি। হয়ত উনি বেশ নাখোশ হয়েছিলেন।

আসল ঘটনায় আসি। আমি স্যার এর বাসায় নিয়মিত যেতাম। আর কেউ না গেলেও আমি যেতাম। একদিন ঠিক করলাম তার বাসায় না গিয়ে ছিঃনেমা দেখতে যাবো। সেই সময়ে নায়িকা পপির বেশ সুনাম ছিল। বেশ কয়েকটা ছবি হিট হওয়াতে বেশ নামডাক পরে গিয়েছিল। তো আমিও ঠিক করেছিলাম জীবনে কাউকে কিছু না বলে পপির ছিঃনেমা দেখতে যাবো। যে ছিঃনেমা দেখতে যাবো সেই ছিঃনেমা দেখতে যাওয়ার পিছনে কারণ ছিল পপির একটা বৃষ্টি ভেজা গান (...............)। ;)

স্যার এর বাসায় পড়তে যেতাম দুপুর ৩ টায়। আর পড়া শেষ হত বিকেল ৫ টায়। আমি প্রতিদিনের মত বাসা থেকে বের হয়েছিলাম গাড়ি নিয়ে। ঠিক জায়গায় ড্রাইভারকে গাড়ি রাখতে বলে আমি স্যার এর বাসায় না গিয়ে ৩ টার শো ধরতে হলে উপস্থিত হয়ে গেলাম। যথারীতি কাপাকাপা হাতে টিকেট কেটে হলে প্রবেশ করেছিলাম। ছিঃনেমার ব্রেকের সময় ভেবেছিলাম চলে আসবো। কিন্তু কি মনে করে যেন থেকে গেলাম।

এটাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। আমার বড় ভাই তখন আবার এলিফ্যান্ট রোডের একটি ব্যাংকের ব্রাঞ্চে চাকরি করতেন। উনি ৫ টার পর অফিস থেকে বের হয়ে রাস্তায় দেখতে পেলেন আমাদের গাড়ি। উনার সন্দেহ হল। কারণ এই সময়ে গাড়ি এখানে থাকার কথা নয়। উনি সাথে সাথে বাসায় ফোন দিলেন। আমার কথা জানতে চাইলেন যে আমি এসেছি কি না। আব্বার সাথে কথা বললেন। কিন্তু কেউ কোন সঠিক উত্তর দিতে পারলো না।

এর মধ্যে আবার আব্বা আমার স্যার এর বাসায় ফোন দিয়ে স্যার এর কাছ থেকে জেনে নিলেন আমি এসেছি কি না। কিন্তু স্যার না সূচক উত্তর দিলেন। এরপর শুরু হল আসল কাহিনি। উত্তেজনা সবার চরমে উঠে গেল। সবাই টেনশনে পরে গেল। আম্মা কান্নাকাটি করে অস্থির হয়ে গিয়েছিলেন। বাসায় সবার ছোট ছেলে কি তাহলে হারিয়ে গেল?:-*:(( আব্বা খোঁজাখুজি করতে লাগলেন আমার ভাইকে নিয়ে। এর মাঝে আবার আব্বাও চলে আসলেন এলিফ্যান্ট রোডে।

এদিকে আমি ৬ টার পর হল থেকে বের হয়ে রাস্তায় এলাম। আমি তখনো ধারণা করতে পারিনি কি ঘটতে যাচ্ছে আমার। তারপরও বেশ ভয় ভয় করছিল। রাস্তায় নেমে গাড়ির পাশে আব্বা আর ভাইয়াকে দেখতে পেয়ে তো আমার আত্মা রাম খাচা ছাড়া অবস্থা। আমাকে দেখে যেন তারা আকাশের চাদ হাতে পেলেন। আমাকে দেখে আব্বা জানতে চাইলেন কই গিয়েছি। আমি অবাক হয়ে বলেছিলাম – কেন, স্যার এর বাসা থেকে আসলাম! উনি বললেন যে – কিন্তু তুমি তো স্যার এর বাসায় আজকে যাও নি! উনার সাথে আমার কথা হয়েছে। :-*

পরে আমাকে আব্বা বললেন যে বাসায় চল তারাতারি। তোমার আম্মা কান্নাকাটি শুরু করেছে তোমার খোঁজ না পেয়ে। এর মাঝে আবার ভাইয়া কানে কানে জানতে চাইলেন যে ছিঃনেমা দেখতে গিয়েছিলাম কি না। পরে তাঁদের ক্রমাগত চাপাচাপিতে স্বীকার করে নিতে হয়েছিল যে আমি হলে ছিঃনেমা দেখতেই গিয়েছিলাম। /:)

বাসার গেটে যেয়ে নামতেই বুঝতে পারলাম আমার কপালে আজ দুঃখই আছে। আস্তে আস্তে মাথা নিচু করে দুরু দুরু বুকে রুমে যেয়ে বসতেই একের পর এক সবার প্রশ্ন বানে জর্জরিত হতে থাকলাম। আব্বা আবার বাসায় এসেই স্যার এর বাসায় ফোন করে জানিয়ে দিলেন যে আমাকে পাওয়া গিয়েছি। তবে স্যার কে বলেন নি যে আমি ছিঃনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। উনাকে বলা হয়েছিল আমার এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম। :|

এর মধ্যে আম্মা এসে আমার কাছে বসে সমানে বকাঝকা করতে লাগলেন। হয়ত কানটাও টেনেছিলেন। এখন মনে পরছে না ঠিকমত। এরপর আব্বাও ঝারি টারি মেরে বলেছিলেন এভাবে টিচারের বাসায় যাওয়া বন্ধ করে যেন আর কোথাও না যাই কখনো। আমিও বাধ্য ছেলের মত সে কথা মেনে নিয়েছিলাম। আমার বোনেরা এর মাঝে আবার জেনে নিয়েছিলেন যে কোন ছিঃনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। :P

যা অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এরপর আরো কয়েকবার হলে গিয়েছিলাম ছিঃনেমা দেখতে তবে স্যার এর বাসায় পড়া বাদ দিয়ে নয়। এরপর থেকে আর ধরা খায়নি। B-) B-)
original post
read more

Thursday, March 15, 2012

আমার জীবনের কিছু অলৌকিক ঘটনা।

by পড়শী
অলৌকিক ঘটনা বলে আসলে কিছু কি আছে? হয়তো আছে, হয়তো নেই। কিন্তু আজ আমার দেখা, খুব কাছের মানুষের কাছে শোনা বা আমার অনুভূত কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই।

ঘটনা ১। ঘটনাটা আমার আব্বুর জীবনের। সময়কাল ১৯৫২-৫৬ হবে মনে হয়। তাঁর কাছ থেকে শোনা। আমার আব্বু (পরলোকগত, আল্লাহ তাঁর মাগফেরাত দিন) ছোটবেলায় একবার ফুটবল খেলতে গিয়ে মারাত্মক আহত হন। তাঁর পায়ে একটা হাড় (সম্ভবতঃ গরুর ভাঙা হাড়) ঢুকে যায়। ব্যাথার যন্ত্রনায় আব্বু অস্থির হয়ে গেলেন। সেই সময়ে ওইরকম গ্রামে উন্নত চিকিতসা ব্যাবস্থার কথা কল্পনাও করা যেত না। তাই গ্রামে যা হয় আর কি! নানা জনের পরামর্শে বিভিন্ন হোমিওপ্যাথি, ভেষজ, কবিরাজী চিকিতসা চলতে লাগল। পায়ের অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে লাগল। যন্ত্রণার মাত্রাও তীব্র থেকে তীব্রতর হতে লাগল। গায়ে প্রচন্ড জ্বর। এভাবে প্রায় দেড়-দুইমাস কেটে গেল। যন্ত্রনা পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। আব্বু সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হলেন। পরিবারের সবাই আল্লাহ কে ডাকা শুরু করল।

আমার দাদা ছিলেন পীরভক্ত। তিনিও মুষড়ে পড়লেন আর আল্লাহ কে ডাকতে লাগলেন। অবশেষে, অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে, এলাকার বিজ্ঞজনদের পরামর্শে আব্বুকে নিয়ে যাওয়া হলো কোলকাতায়। কোলকাতার সেই সময়ের খুব নামকরা হাসপাতাল (নাম টা আমার ঠিক মনে পড়ছে না) এর একজন বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ আব্বুর চেক আপ করলেন। এরপর যা বললেন, তার জন্য আমার দাদা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি দাদা কে বললেন, আপনার ছেলের সম্পূর্ণ পা গ্যাংগ্রীন হয়ে গেছে। এর একমাত্র চিকিতসা পা টি হাটু থেকে কেটে ফেলতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আরো দেরী করলে গ্যাংগ্রীন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে এবং অসম্ভব যন্ত্রনা নিয়ে আপনার ছেলে মারা যাবে।

আমার দাদা চরম বিমর্ষ হয়ে পড়লেন। তাঁর সবচেয়ে প্রিয় আদরের ধন সারাজীবন এক পা নিয়ে পঙ্গু হয়ে বেঁচে থাকবে, এটা তিনি মেনে নিতে পারলেন না। তিনি ডাক্তারের কথায় রাজী হলেন না। আব্বুকে আবার গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে আসলেন।

ঘটনা জেনে প্রতিবেশীরা আব্বুকে অনেক বোঝালো, যে ছেলের জীবন আগে। এই রকম আবেগের মূল্য দিতে গেলে ছেলেকে হারাতে হবে। যত শীঘ্র সম্ভব আবার কোলকাতায় নিয়ে পা কাটিয়ে নিয়ে আসার জন্য সবাই পরামর্শ দিল। কিন্তু, দাদু তার সিদ্বান্তে অটল।

আমার আব্বুর অবস্থা খুব দ্রুত আরো খারাপ হতে লাগল। আব্বু চিৎকার দিয়ে কাঁদতেন যন্ত্রনায়। সবাই তখন হাল ছেড়ে দিয়ে আব্বুর মৃত্যুর জন্য মানুষিক প্রস্তুতি নিতে লাগল।

এর মধ্যে হঠাত একদিন আমার দাদুর মুর্শিদ, যিনি এর আগে কখনোই দাদুর বাসায় আসেন নি, এসে উপস্থিত। আমার দাদু তাকে জড়িয়ে ধরে অনেক ক্ষণ কাঁদলেন। তিনি দাদুকে আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে বললেন।

ওই দিন বিকেলে তিনি আমার আব্বু কে দেখলেন। তারপর, কোথা থেকে কিছু মাটি নিয়ে এসে, কাদা মত বানিয়ে আমার আব্বুর পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত লেপে দিলেন। বললেন, এইরকম কিছু দিন থাক। তারপর উনি চলে গেলেন।

আল্লাহর কি খেলা। তারপর দিন থেকে আমার আব্বুর যন্ত্রনা কমে যেতে লাগল। আস্তে আস্তে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেন।


আমি আমার দাদুকে কখনো দেখি নি। আমার আব্বুর পা না কাটার সিদ্ধ্বান্তের জন্য তার প্রতি আমার চির কৃতজ্ঞতা। আর সেই দরবেশ, তার সম্পর্কে আমি আব্বুর কাছে আর বেশি কিছু শুনি নাই।

থাক, আজ আর কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে না। আমার আব্বুর কথা চিন্তা হলেই আমার চোখে পানি চলে আসে। অন্য ঘটনাগুলো আর একদিন বলব।
original post
read more

আমার পিচ্চি কালের কিঞ্চিত ১৮+ কাহিনী। মান-সম্মানের ফালুদা পোস্ট।

by পড়শী
আমি ছোট বেলা থেকেই ছিলাম মায়ের আঁচল ধরা ছেলে, ঘরকুনো, আর বিরাট ভ্যাবলা টাইপের। একটু লাজুক আর উদাস প্রকৃতির।

বাবা-মা কে আদর করে আব্বু-আম্মু ডাকতাম।

ক্লাস টু তে স্কুলে ভর্তি হব।জিলা স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা হবে। পরীক্ষা দিবে ৩০০ জন, নিবে মনে হয় ৪০-৫০ জন , এই রকম। আম্মু বাসায় প্রতিদিন পড়ান।
আব্বুকে পড়াশুনার ব্যাপার ছোট বেলায় একটু ভয় পেতাম। আব্বু পড়া ধরলে কিচ্ছু বলতে পারতাম না।

আব্বু পরীক্ষার আগের দিন পড়া ধরলেন। জাতীয় ফুল কি----গোলাপ, জাতীয় কবির নাম কি---সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। আব্বুর সামনে সব কিছু গুলিয়ে ফেলতাম। আব্বু আম্মু কে বলত, তোমার ছেলে এবার স্কুলে চান্স পাবে না। চান্স পেলে আমি সবাইকে দশ কেজি মিষ্টি খাওয়াব।

যাই হোক, পরীক্ষার দিন বড় ভাইয়া (আমার থেকে ১২-১৩ বছর বড়) নিয়ে গেল স্কুলে।কিভাবে খাতায় নাম লিখতে হবে, ধীরে-সুস্থে কিভাবে উত্তর লিখতে হবে, কোন প্রশ্ন বুঝতে না পারলে, স্যার কে দেকে জিজ্ঞেস করতে হবে, ইত্যাদি শিখিয়ে দিয়ে আম্মু পাঠিয়েছে। পরীক্ষার হলে ঢুকলাম। প্রশ্ন পেয়ে উত্তর করতে লাগলাম।সম্ভবতঃ দেড় ঘন্টার পরীক্ষা ছিল। উত্তর লিখতে শুরু করার কিছুক্ষণ পর ব্লাডার এ প্রবল চাপ অনুভব করলাম। এ অবস্থায় কি করতে হবে, তা তো আর আম্মু শিখিয়ে দেয় নি। আমিও তাই ভেবে পেলাম না কি করা উচিৎ। ভাবতে ভাবতে পরীক্ষার হলের মেঝে ভিজতে লাগল। আর আমি প্রশ্নের উত্তর করতে লাগলাম। টীচার খাতা সাইন করতে আসার সময়, আমি একটু লজ্জা পাচ্ছিলাম, যদি বুঝে ফেলে। টীচার এসে একবার মেঝের দিকে তাকালেন। মানীর মান আল্লাহ রাখে, তিনি সম্ভবতঃ কিছু বুঝতে পারেন নি।

পরীক্ষা শেষ করে বেরুলাম। ভাইয়া আমাকে কোলে নিয়ে রিক্সায় উঠালেন। আরে তোর প্যান্ট ভেজা ক্যান? বাড়ী এসে ভাইয়া এ ঘটনা পারলে মাইক নিয়ে সবাইকে বলে বেড়াতে লাগল। ভাইয়া টা যে এত দুষ্ট।

আব্বু ঘটনা শুনে আরো নিশ্চিত হলেন, আমার এ বছর স্কুলে ভর্তি হওয়া হবে না। যাই হোক, রেজাল্ট দিলে দেখা গেল, ৩০০ জনের ভেতরে থার্ড হয়েছি। আব্বু উচ্ছসিত হয়ে আশে-পাশের বাড়ির সবাইকে মিষ্টি খাওয়ালেন।

আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলাম।
বাড়ীতে কোন মেহমান এলে, বিশেষ করে যদি মেয়ে (ছোট, সমবয়সী বা আন্টি) গোত্রের কেউ থাকত সাথে, আমি পারলে কোন এক ঘরে গিয়ে লুকিয়ে থাকতাম। লুকিয়ে লুকিয়ে গল্পের বই পড়তাম। বই পড়া ছিল নেশা।

যদি মেহমানদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য কখনো আব্বু ডাকত, আমার গলা শুকিয়ে আসত। পরিচয় হওয়ার সময় কার সাথে কি বলতে হবে, বুঝে উঠতে পারতাম না।আব্বু যদি পরিচয় করিয়ে দিত, ইনি হচ্ছে তোমার আঙ্কেল, আন্টি, এদের কে সালাম কর। আমি সালাম করে ভ্যাবলার মত মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতাম। উনারা জিজ্ঞেস করত,তুমি কিসে পড়, সাইন্স নিবা না আর্টস নিবা, ইত্যাদি, আমি যতটা সংক্ষেপে সম্ভব, টু দ্য পয়েন্টে উত্তর দিতাম। আর ওইখান থেকে কত তাড়াতাড়ি পালানো যায়, সেই অপেক্ষায় থাকতাম। আম্মু অবস্থা বুঝে বলত, যা, তোর কাজে। আমি হাঁফ ছেড়ে বাচতাম।

এ রকম ছিলাম বলে, ছোট বেলা থেকেই আমাদের পাড়া-পড়শীর ছেলে-মেয়েরা আর কাজিন রা আমার বোকামীর গল্প করে হাসাহাসি করত।

একবার আম্মু বাজারে পাঠাল, ৫০ টাকা দিয়ে, কিছু সদাই পত্র কিনে আনতে। আমাদের এলাকায় বাজারের পথে এক ভিক্ষুক মাঝে মাঝে গান গেয়ে গেয়ে ভিক্ষা করত। লোকজন যাবার পথে তার সামনে রাখা প্লেটে আট আনা, চার আনা ভিক্ষা দিত।অনেকে দেখতাম, ভাংতি না থাকলে, ৫ টাকার নোট দিয়ে, ৪ টাকা আট আনা প্লেট থেকে তুলে নিত।আমি পাশ দিয়ে যাবার সময়, ভিক্ষুক বলে উঠল, বাবা, দুটা ভিক্ষা দিয়া যান। আমার মনে হল, আমার তাকে ভিক্ষা দেয়া উচিৎ।কিন্তু আমার কাছে তো ভাংতি নাই।ভিক্ষুকের প্লেট থেকে কি টাকা উঠিয়ে নেয়া যায়। আমি পুরো টাকাটাই তাকে দিয়ে বাড়ী চলে এলাম।

এ গল্প আম্মু যার সাথে দেখা হয় তার সাথেই করতে লাগল। কিছু দিন আমাকে ছেলেপিলে হাতেম তাঈ ডাকা শুরু করল। কি যন্ত্রণা।

একবার এ রকম কি আনতে আম্মু দোকানে পাঠিয়েছে বেশ সকালে। যাওয়া আসা সব মিলিয়ে ১৫ মিনিটেগর বেশী লাগার কথা না। আমি ফিরলাম প্রায় এক ঘন্টা পরে। ওই পথে একটা স্কুল ছিল। সকালে সেখানে রাস্তার উপর পি-টি হত। সোজা হও, আরামে দাঁড়াও, আমি শপথ করিতেছি যে..........পি-টি এর সময় ওই রাস্তার মোড়ে একটা সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিত, 'থামুন'।

রিক্সা, গাড়ী, মটর সাইকেল অন্য রাস্তা দিয়ে চলাচল করত।আমি পাশ দিয়ে চলে গেলেই হয়। তা না করে, 'থামুন' সাইনবোর্ড দেখে থেমে গেলাম। অপেক্ষা করছি কখন পি-টি শেষ করে ওরা সাইনবোর্ড উঠিয়ে নিয়ে যাবে।

ইতিমধ্যে আমার এত দেরী দেখে আম্মু বড় ভাইয়াকে পাঠিয়ে দিয়েছে আমার কি হলো খোঁজ নেবার জন্য। ভাইয়া এসে দেখে আমি 'থামুন' সাইনবোর্ডের সামনে থেমে আছি।

পাড়া-পড়শী, আত্মীয়-স্বজন যেই বেড়াতে আসে, তাকেই এই গল্প শুনায়। আর সবাই হেসে খুন। ভাইয়া টা আমাকে ক্ষেপাতে খুব মজা পেত, কেন তা এক রহস্য।

এই ভাইয়া অবশ্য আব্বু রিটায়ার্ড করার পরে আমাদের সংসারের সবার পড়াশুনা সহ সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।
original post
read more

Saturday, March 3, 2012

গোপন যে কথা এখনো হাসায়।

by প্রীিত ওয়ােরছা
আমার ঠিক মনে আছে যখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি তখন গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বইয়ের একটা অনুচ্ছেদে শৈশব থেকে কৈশোরে পদাপর্নের সময়ের কিছু বৈশিষ্টের বর্ণনা ছিল। তবে সে বর্ণনা নিতান্তই খুবই আবছাগোছের। যেন এর চেয়ে জটিল কিছু আর নেই জীবনে। এটা পড়ে বিষয়টা নিয়ে আরো তালগোল পাকিয়ে ফেলেছিলাম। তারপর আমাদের শিক্ষিকা মুখ টিপে হেসে এবং লজ্জ্বিত স্বরে বলেছিলেন তোমরা এটি বাসায় পড়ে নিও। কথাটা শুনে মাথায় রীতিমত গেঁথে গিয়েছিল যে বিষয়টা নিয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা করতে নেই, এটি জীবনের খুবই গোপনীয় একটা বিষয়। সেই সাথে এই প্রথম আমি আবিস্কার করলাম আমার এই ছোট্ট জীবনে এখন থেকে গোপন বিষয়াদি প্রবেশ করতে শুরু করেছে যেটা অটোমেটিক্যাটি ঘটে থাকে এবং এর সাথে রিলেটেড কিছুই কারো সাথে শেয়ার করতে নেই। আমার এক কাজিন যে আমার থেকে ৩ বছরের বড়। তাকে কয়েকদিন ধরেই উসখুস উসখুস করতে দেখছি। মন খারাপ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলাম আপু কি হয়েছে ? উত্তর দিল-আমার যে কি হবে ! মা বোধ হয় আমাকে মেরেই ফেলবে। কেন মারবে কি হয়েছে? সে বলল না। কয়েকদিন পর সে খুশিতে আটখানা হয়ে আমাকে বলল, যাক বাবা এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম। আমি তো ভেবেছিলাম প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছি। আমি তো সজিব,রাতুল,রাসেল,সাব্বিরের সাথে খেলেছি। আমি অবাক হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি! তারপর সে বিস্তারিত বলল। সে যখন বয়ঃসন্ধিকালে প্রবেশ করে তখন তাকে কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আমার এক ফুপু। ফুপু নিজেই তথাকথিত সামাজিক লজ্জ্বায় পুরো বিষয় ভাতিজিকে খোলাসা করে বলেনি।শুধু বলেছে এখন থেকে ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করা যাবেনা,মেলামেশা করা যাবেনা। নইলে প্রেগন্যান্ট হয়ে যেতে পারে। আর ফুপু তাকে এটাও জানিয়েছে যে প্রেগন্যান্ট হলে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। আসলে বয়ঃসন্ধিকালের শুরুর দিকে সবারই অনিয়মিত মাসিক হয়। আর এজন্যই আমার সেই কাজিনের ৩ মাস ধরে মাসিক বন্ধ ছিল। বিষয়টা নিয়ে পুরো অন্ধকারে থাকা আমার সেই কাজিনকে যেটুকু জানানো হয়েছে সেটাও ছিল তার কাছে ঝাপসা। এভাবেই বেড়ে ওঠে আমাদের দেশের অধিকাংশ শিশুরা।

শৈশব থেকে কৈশোরে পদার্পনের মুহূর্তগুলো আবেগে ঠাসা থাকে। একটুতেই অভিমান হয়,একটুতেই ভুলবুঝাবুঝির কারণে পরিবারে তিক্ততার সৃষ্টি হয়।এই অচেনা জগত একদম অজানা কিশোর বয়সীদের কাছে। হঠাৎ এই শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন তাদেরকে আলোড়িত করে,কখনও মানসিকভাবে পীড়া দেয়,কখনও নিজের কাছে হীনমন্য করে তোলে। আমাদের দেশের সংস্কার ও সামাজিক মূল্যবোধের কারণে বড়দের সাথে অলিখিত একটা দুরত্ব থাকে। বড়রা শিশুদের সাথে শারীরিক এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে আলোচনা করতে সংকোচ বোধ করেন। পাঠ্য পুস্তকেও বয়ঃসন্ধিকালের এই বিষয়টা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোন সচেতনতা নাই। যার ফলে শিশুরা কিশোর বয়সের শুরুতে পুরো ধাঁধার মধ্যে পড়ে যায়। তারা লজ্জ্বিত হয়,নিজেকে প্রতিমূহুর্ত আড়াল করার চেষ্টা করে।

একজন অভিভাবক কিভাবে সন্তানের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টা মোকাবেলা করবেন?কিভাবে তাকে পূর্ন ধারণা দেবেন জীবনের স্বাভাবিক এই প্রক্রিয়া সম্মন্ধে ? আসলে একমাত্র অভিভাবকই পারেন সন্তানের এই নতুন জগতের প্রবেশকে অভিনন্দিত করতে। তাহলে সে এই পরিবর্তনকে সুন্দরভাLinkবে নিতে পারবে। একজন অভিভাবককে হতে হবে বন্ধুসুলভ। সন্তান তার ভেতরে ঘটে যাওয়া সব কিছু বলতে পারার স্বাচ্ছন্দ যেন খুঁজে পায় বাবা মা-য়ের কাছে,পরস্পরের সম্পর্ক্যটা এমন হতে হবে।বয়সের এই অতি সংবেদনশীল সময়ে সঠিক গাইডেন্স দরকার তাদের।

অনেক সময় অভিভাবককে কিছু বিষয় টেকনিক্যালি হ্যান্ডেল করতে হয়। বয়ঃসন্ধিপূর্ব সময়েই তাদেরকে ধীরে ধীরে তাদের জীবনে আসন্ন এই পরিবর্তন বিষয়ে ধারণা দিতে হবে। জানাতে হবে এটি প্রকৃতির স্বাভাবিক একটা আচরন। শিশুমনের সুস্থ বিকাশের জন্য সঠিক তথ্য পাঠ্যবইয়ের অর্ন্তভুক্ত করা উচিত। এতে করে তারা নিজেরাই হরমোনাল পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে সচেতন থাকতে পারবে। এছাড়াও এই সময়ে মানসিক পরিবর্তনের ফলে যে সকল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে সে সম্মন্ধে সম্যক ধারণা দিতে তাদের ডাক্তার অথবা সাইকোথেরাপিস্টের কাছে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।পরিবার এবং পারিপার্শ্বিক সবার যতেœ কিশোর বয়সটা হয়ে উঠুক দূর্বার আনন্দের।
original post
read more

গোপন যে কথা এখনো হাসায়।

by প্রীিত ওয়ােরছা
আমার ঠিক মনে আছে যখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি তখন গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বইয়ের একটা অনুচ্ছেদে শৈশব থেকে কৈশোরে পদাপর্নের সময়ের কিছু বৈশিষ্টের বর্ণনা ছিল। তবে সে বর্ণনা নিতান্তই খুবই আবছাগোছের। যেন এর চেয়ে জটিল কিছু আর নেই জীবনে। এটা পড়ে বিষয়টা নিয়ে আরো তালগোল পাকিয়ে ফেলেছিলাম। তারপর আমাদের শিক্ষিকা মুখ টিপে হেসে এবং লজ্জ্বিত স্বরে বলেছিলেন তোমরা এটি বাসায় পড়ে নিও। কথাটা শুনে মাথায় রীতিমত গেঁথে গিয়েছিল যে বিষয়টা নিয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা করতে নেই, এটি জীবনের খুবই গোপনীয় একটা বিষয়। সেই সাথে এই প্রথম আমি আবিস্কার করলাম আমার এই ছোট্ট জীবনে এখন থেকে গোপন বিষয়াদি প্রবেশ করতে শুরু করেছে যেটা অটোমেটিক্যাটি ঘটে থাকে এবং এর সাথে রিলেটেড কিছুই কারো সাথে শেয়ার করতে নেই। আমার এক কাজিন যে আমার থেকে ৩ বছরের বড়। তাকে কয়েকদিন ধরেই উসখুস উসখুস করতে দেখছি। মন খারাপ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলাম আপু কি হয়েছে ? উত্তর দিল-আমার যে কি হবে ! মা বোধ হয় আমাকে মেরেই ফেলবে। কেন মারবে কি হয়েছে? সে বলল না। কয়েকদিন পর সে খুশিতে আটখানা হয়ে আমাকে বলল, যাক বাবা এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম। আমি তো ভেবেছিলাম প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছি। আমি তো সজিব,রাতুল,রাসেল,সাব্বিরের সাথে খেলেছি। আমি অবাক হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি! তারপর সে বিস্তারিত বলল। সে যখন বয়ঃসন্ধিকালে প্রবেশ করে তখন তাকে কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আমার এক ফুপু। ফুপু নিজেই তথাকথিত সামাজিক লজ্জ্বায় পুরো বিষয় ভাতিজিকে খোলাসা করে বলেনি।শুধু বলেছে এখন থেকে ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করা যাবেনা,মেলামেশা করা যাবেনা। নইলে প্রেগন্যান্ট হয়ে যেতে পারে। আর ফুপু তাকে এটাও জানিয়েছে যে প্রেগন্যান্ট হলে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। আসলে বয়ঃসন্ধিকালের শুরুর দিকে সবারই অনিয়মিত মাসিক হয়। আর এজন্যই আমার সেই কাজিনের ৩ মাস ধরে মাসিক বন্ধ ছিল। বিষয়টা নিয়ে পুরো অন্ধকারে থাকা আমার সেই কাজিনকে যেটুকু জানানো হয়েছে সেটাও ছিল তার কাছে ঝাপসা। এভাবেই বেড়ে ওঠে আমাদের দেশের অধিকাংশ শিশুরা।

শৈশব থেকে কৈশোরে পদার্পনের মুহূর্তগুলো আবেগে ঠাসা থাকে। একটুতেই অভিমান হয়,একটুতেই ভুলবুঝাবুঝির কারণে পরিবারে তিক্ততার সৃষ্টি হয়।এই অচেনা জগত একদম অজানা কিশোর বয়সীদের কাছে। হঠাৎ এই শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন তাদেরকে আলোড়িত করে,কখনও মানসিকভাবে পীড়া দেয়,কখনও নিজের কাছে হীনমন্য করে তোলে। আমাদের দেশের সংস্কার ও সামাজিক মূল্যবোধের কারণে বড়দের সাথে অলিখিত একটা দুরত্ব থাকে। বড়রা শিশুদের সাথে শারীরিক এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে আলোচনা করতে সংকোচ বোধ করেন। পাঠ্য পুস্তকেও বয়ঃসন্ধিকালের এই বিষয়টা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোন সচেতনতা নাই। যার ফলে শিশুরা কিশোর বয়সের শুরুতে পুরো ধাঁধার মধ্যে পড়ে যায়। তারা লজ্জ্বিত হয়,নিজেকে প্রতিমূহুর্ত আড়াল করার চেষ্টা করে।

একজন অভিভাবক কিভাবে সন্তানের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টা মোকাবেলা করবেন?কিভাবে তাকে পূর্ন ধারণা দেবেন জীবনের স্বাভাবিক এই প্রক্রিয়া সম্মন্ধে ? আসলে একমাত্র অভিভাবকই পারেন সন্তানের এই নতুন জগতের প্রবেশকে অভিনন্দিত করতে। তাহলে সে এই পরিবর্তনকে সুন্দরভাLinkবে নিতে পারবে। একজন অভিভাবককে হতে হবে বন্ধুসুলভ। সন্তান তার ভেতরে ঘটে যাওয়া সব কিছু বলতে পারার স্বাচ্ছন্দ যেন খুঁজে পায় বাবা মা-য়ের কাছে,পরস্পরের সম্পর্ক্যটা এমন হতে হবে।বয়সের এই অতি সংবেদনশীল সময়ে সঠিক গাইডেন্স দরকার তাদের।

অনেক সময় অভিভাবককে কিছু বিষয় টেকনিক্যালি হ্যান্ডেল করতে হয়। বয়ঃসন্ধিপূর্ব সময়েই তাদেরকে ধীরে ধীরে তাদের জীবনে আসন্ন এই পরিবর্তন বিষয়ে ধারণা দিতে হবে। জানাতে হবে এটি প্রকৃতির স্বাভাবিক একটা আচরন। শিশুমনের সুস্থ বিকাশের জন্য সঠিক তথ্য পাঠ্যবইয়ের অর্ন্তভুক্ত করা উচিত। এতে করে তারা নিজেরাই হরমোনাল পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে সচেতন থাকতে পারবে। এছাড়াও এই সময়ে মানসিক পরিবর্তনের ফলে যে সকল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে সে সম্মন্ধে সম্যক ধারণা দিতে তাদের ডাক্তার অথবা সাইকোথেরাপিস্টের কাছে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।পরিবার এবং পারিপার্শ্বিক সবার যতেœ কিশোর বয়সটা হয়ে উঠুক দূর্বার আনন্দের।
original post
read more

Monday, February 20, 2012

স্টিভের মৃত্যুশয্যায় বিলের চিঠি!

by সাব্বিন হাসান

অ্যাপল স্রষ্টা স্টিভ জবস নেই। তবে আলোচনা থেমে নেই শতাব্দী সেরা এ দূরদর্শী উদ্ভাবককে নিয়ে। মৃত্যুর সময় মাইক্রোসফট খ্যাত বন্ধু বিল গেটসের লেখা শেষ চিঠি তাই ছিল স্টিভের কাছেই। সংবাদমাধ্যম সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

উদ্ভাবনী জীবন এবং ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই স্টিভ আর বিল গেটস ছিলেন সব সময়ের বন্ধু। মৃত্যুর কিছুদিন আগে পাওয়া বিল গেটসের পাঠানো চিঠি ছিল স্টিভের মৃত্যুশয্যায়। ব্যক্তি জীবনে টানাপোড়েন আর প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা থাকলেও বন্ধুত্বের জায়গার তাঁরা ছিলেন অটুট জুটি।

স্টিভের মৃত্যুর পরে প্রকাশিত জীবনীতে বিল গেটসকে নিয়ে করা স্টিভের বৈরী এক মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার ঝড় তোলে। এ বইয়ের জন্য দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টিভ বিল গেটসকে ‘কল্পনাশক্তিহীন’ ব্যক্তি বলেও মন্তুব্য করেন। আর বিল গেটস অন্যের মেধার ওপর নির্ভরশীল এ কথাও বলেন স্টিভ।

তবে স্টিভের মৃত্যুর পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস এ প্রসঙ্গে পাল্টা কোনো মন্তব্য না করে স্টিভকে ‘অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান’ বলেই অখ্যায়িত করেন। ‘ম্যাকিনটোশ’ পিসি তৈরি করে স্টিভ তাঁর উদ্ভাবনী শক্তির প্রথম প্রমাণ দেন।

এরপর বনিবনা না হওয়ায় স্টিভ মাইক্রোসফট ছাড়েন। নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বজয়ী অ্যাপল। আর দু বন্ধুর মধ্যে মেধার লড়াইটা শুরু হয় এখানেই।

দ্য টেলিগ্রাফে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, আইফোন আর আইপ্যাডের অবয়ব ভাবনা স্টিভকে অনবদ্য উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত করে তোলে। এতে শুরু হয় মাইক্রোসফট-অ্যাপল লড়াই। তবে এ প্রতিযোগিতায় কখনই বন্ধুত্বে কোনো ফাটল তৈরি হয়নি।

গত পাঁচ বছরে অ্যাপলের বিশ্ব বাজারমূল্য মাইক্রোসফটকে রাতারাতি টপকে যায়। একে একে ম্যাক, আইফোন এবং আইপ্যাড তৈরি করে স্টিভ নিজেকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। তবে স্টিভ আর আমি (বিল গেটস) একে অপরের কাজকে দারুণ উপভোগ করেছি।

মাইক্রোসফট ছাড়ার পর থেকে স্টিভ পুরোটা সময় আমার (বিল গেটস) সঙ্গে প্রতিযোগিতাই করে গেছে। কিন্তু স্টিভ যখনই কোনো প্রকট সমস্যায় পড়ত তখনই আমাকে (বিল গেটস) ফোন করত। আমাদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার জায়গাটা ছিল খুবই স্বচ্ছ।

তবে শেষমুহূর্তে স্টিভ খুবই মুষড়ে পড়েছিল। আমাকে পাঠানো শেষদিকের প্রায় প্রতিটি চিঠিতেই ছিল প্রার্থনার সরল সুর। স্টিভের মৃত্যুর মাত্র ক’মাস আগে আমি (বিল গেটস) স্টিভের বাসায় গিয়েছিলাম কুশল বিনিময় করতে। সেখানে দু বন্ধুতে কেটেছে কয়েক ঘণ্টা নিবিড় সময়।

এ সময় স্টিভ কীভাবে অ্যাপল প্রতিষ্ঠা পেল আর অ্যাপলের ভবিষ্যৎ ভাবনা এসব নিয়েই বেশি কথা বলেছেন। নিশ্চিত মৃত্যুতেও তাই স্টিভের পুরো ভাবনাজুড়েই ছিল অ্যাপল আর শুধুই অ্যাপল।

মৃত্যুর ঠিক কয়েকদিন পরে স্টিভের স্ত্রী লরেন বিল গেটসকে ফোন করে জানান, মৃত্যুশয্যায় স্টিভের খুব কাছেই ছিল বন্ধু বিল গেটসের পাঠানো শেষ চিঠি। আর মৃত্যুর কদিন আগে এ চিঠি স্টিভ তার স্ত্রীকে পড়েও শুনিয়েছিলেন।

স্রষ্টা না থাকলেও সৃষ্টি থেমে থাকে না। তবুও শতাব্দী সেরা উদ্ভাবক হিসেবে স্টিভ এখন শুধু আলোচনার পাত্র নন। বরং তার ভবিষ্যৎ ভাবনার আরও কী ছিল তা নিয়েই গবেষণা করছে বিশ্বসেরা প্রযুক্তি নির্মাতাদের অনেকেই।Link
original post
read more

ঐতিহাসিক নিদর্শন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

by যাযাবর নাবিক

কোনো এক শুক্রবার পড়ন্ত দুপুরে বাড়ির ছোট্ট সোনামণিরা বায়না ধরল মামা ঘুরতে যাব কোথায় যাবে—শিশুমেলা কোনো এক কারণে ওইদিন আমাদের বাড়িতে দুই হালি শিশু জড়ো হয়েছিল শিশুরা আমাকে আবার খুব মানে, তাই তাদের বললাম পার্কে তো অনেক গিয়েছ, আগামীতে আরও নিয়ে যাব, কিন্তু আজ চল তোমাদের দূরে কোথাও নিয়ে যাই তোমরা অনেক মজা পাবে বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই আমার একটা পরিকল্পনা ছিল সাটুরিয়া বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে যাওয়ার তাই আজ আর সুযোগ হাতছাড়া করলাম না বিশেষ করে শিশুরা ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবে
চটজলদি দে ছুট ভ্রমণ সংঘের সমন্বয়কারী ধামরাইর অধিবাসী নাসিরুদ্দিন কচিকে ফোন দিলাম সে প্রস্তুতি নিল শিশুদের ভ্রমণ নিরাপদের জন্য কোনো রকম দুপুরে খেয়ে ছুট দিলাম ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক বালিয়াটি জমিদার বাড়ির উদ্দেশ্যে মাইক্রো চলছে দ্রুতগতিতে কালামপুর বাজার থেকে কচি তার সহযোগীকে নিয়ে মোটরবাইক স্টার্ট দিল প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম জমিদার বাড়ির গেটে
বাড়িটি বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে ভেতরে প্রবেশ করে একে একে ঘুরে দেখলাম বাড়ির স্থাপত্য, নকশা, কারুকার্য ছাদের ওপর উঠে পুরো বাড়িটি দেখলাম জমিদারদের ব্যবহৃত তৈজসপত্রের ছোট্ট জাদুঘরটি দেখে মুগ্ধ হলাম জাদুঘরটি এক সময় রংমহল ছিল দেয়ালে করা প্রায় দেড়শ’ বছরের পুরনো রঙের প্রলেপ ও নকশা এখনও বিদ্যমান বালিয়াটির জমিদাররা শুধু ভোগ-বিলাসিতায় জীবন কাটাননি, তারা বংশ পরম্পরায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে গেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ঢাকার কেএম জুবলি হাইস্কুল ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ছাত্রছাত্রী সংখ্যায় বৃহত্ আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এ বাড়ির জমিদার কিশোরিলাল শিক্ষা বিস্তারে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখে গেছেন বংশানুক্রমে জমিদাররা বালিয়াটি হোমিওপ্যাথিক দাতব্য চিকিত্সালয় ও তত্কালীন ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে বালিয়াটিতে ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে গেছেন এছাড়া তারা অনেক মঠ ও মন্দির স্থাপন করে গেছেন, যেখানে আজও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা আর্চনা করে থাকেন তাদের অতীত কর্ম আজও দেশবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে কালের পরিক্রমায় আজ আর বালিয়াটিতে জমিদারদের বংশের কেউ নেই তবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ভগ্নদশায় বাড়িটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে
বাড়ির শান বাধানো পুকুরঘাটে গিয়ে বসলে আপনিও নিজেকে জমিদার ভাবতে শুরু করবেন বালিয়াটির জমিদারদের উজ্জ্বল ইতিহাসের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া মন হঠাত্ টনক ফিরল বিশাল উঠানে শিশুদের হৈচৈয়ে তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে শিশুদের মাঝেমধ্যে কম্পিউটার ও ল্যাপটপের মনিটর হতো অন্তত একটা দিনের জন্য ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সখ্য গড়ার জন্য সরেজমিন দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শনে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন এতে তারা বিনোদনের পাশাপাশি মানসিক উত্কর্ষকতা লাভ করতে পারবে
যাতায়াত : ঢাকা থেকে সাটুরিয়াগামী বাস যায় গাবতলী থেকে অথবা নিজস্ব গাড়িতে ধামরইর কালামপুর হয়ে মাত্র দেড় ঘণ্টায় যাওয়া যায়
original post
read more

ঐতিহাসিক নিদর্শন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

by যাযাবর নাবিক

কোনো এক শুক্রবার পড়ন্ত দুপুরে বাড়ির ছোট্ট সোনামণিরা বায়না ধরল মামা ঘুরতে যাব। কোথায় যাবে—শিশুমেলা। কোনো এক কারণে ওইদিন আমাদের বাড়িতে দুই হালি শিশু জড়ো হয়েছিল। শিশুরা আমাকে আবার খুব মানে, তাই তাদের বললাম পার্কে তো অনেক গিয়েছ, আগামীতে আরও নিয়ে যাব, কিন্তু আজ চল তোমাদের দূরে কোথাও নিয়ে যাই। তোমরা অনেক মজা পাবে। বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই আমার একটা পরিকল্পনা ছিল সাটুরিয়া বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে যাওয়ার। তাই আজ আর সুযোগ হাতছাড়া করলাম না। বিশেষ করে শিশুরা ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবে।
চটজলদি দে ছুট ভ্রমণ সংঘের সমন্বয়কারী ধামরাইর অধিবাসী নাসিরুদ্দিন কচিকে ফোন দিলাম। সে প্রস্তুতি নিল শিশুদের ভ্রমণ নিরাপদের জন্য। কোনো রকম দুপুরে খেয়ে ছুট দিলাম ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক বালিয়াটি জমিদার বাড়ির উদ্দেশ্যে। মাইক্রো চলছে দ্রুতগতিতে। কালামপুর বাজার থেকে কচি তার সহযোগীকে নিয়ে মোটরবাইক স্টার্ট দিল। প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম জমিদার বাড়ির গেটে।
বাড়িটি বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে। ভেতরে প্রবেশ করে একে একে ঘুরে দেখলাম বাড়ির স্থাপত্য, নকশা, কারুকার্য। ছাদের ওপর উঠে পুরো বাড়িটি দেখলাম। জমিদারদের ব্যবহৃত তৈজসপত্রের ছোট্ট জাদুঘরটি দেখে মুগ্ধ হলাম। জাদুঘরটি এক সময় রংমহল ছিল। দেয়ালে করা প্রায় দেড়শ’ বছরের পুরনো রঙের প্রলেপ ও নকশা এখনও বিদ্যমান। বালিয়াটির জমিদাররা শুধু ভোগ-বিলাসিতায় জীবন কাটাননি, তারা বংশ পরম্পরায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে গেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ঢাকার কেএম জুবলি হাইস্কুল ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ছাত্রছাত্রী সংখ্যায় বৃহত্ আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এ বাড়ির জমিদার কিশোরিলাল শিক্ষা বিস্তারে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখে গেছেন। বংশানুক্রমে জমিদাররা বালিয়াটি হোমিওপ্যাথিক দাতব্য চিকিত্সালয় ও তত্কালীন ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে বালিয়াটিতে ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। এছাড়া তারা অনেক মঠ ও মন্দির স্থাপন করে গেছেন, যেখানে আজও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা আর্চনা করে থাকেন। তাদের অতীত কর্ম আজও দেশবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। কালের পরিক্রমায় আজ আর বালিয়াটিতে জমিদারদের বংশের কেউ নেই। তবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ভগ্নদশায় বাড়িটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে।
বাড়ির শান বাধানো পুকুরঘাটে গিয়ে বসলে আপনিও নিজেকে জমিদার ভাবতে শুরু করবেন। বালিয়াটির জমিদারদের উজ্জ্বল ইতিহাসের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া মন হঠাত্ টনক ফিরল বিশাল উঠানে শিশুদের হৈচৈয়ে। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে শিশুদের মাঝেমধ্যে কম্পিউটার ও ল্যাপটপের মনিটর হতো অন্তত একটা দিনের জন্য ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সখ্য গড়ার জন্য সরেজমিন দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শনে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এতে তারা বিনোদনের পাশাপাশি মানসিক উত্কর্ষকতা লাভ করতে পারবে।
যাতায়াত : ঢাকা থেকে সাটুরিয়াগামী বাস যায় গাবতলী থেকে অথবা নিজস্ব গাড়িতে ধামরইর কালামপুর হয়ে মাত্র দেড় ঘণ্টায় যাওয়া যায়।
read more

Thursday, February 9, 2012

“ আমার বাপ কবে যে এই কাজটা করলো…!!!”

by ফেরারি কামরান
ভার্সিটি লাইফে যখন মেসে (বাগবাড়ির “মদিনা হাউজ”) ছিলাম তখনকার একটা ঘটনা। আমাদের সাথে কয়েকজন বড় ভাই থাকতেন। রিপন ভাই, রন্টি ভাই, রাব্বি ভাই, সাইফ ভাই এবং পরে এসেছিলেন হাসান ভাই। তো একদিন রাব্বি ভাই বাহির থেকে মেসে এসে দেখেন হাসান ভাই তার ঘরে বই পড়ছে। দেখেতো তিনি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন- “কিরে হাসান তুই ঘরে তাইলে একটু আগে মদিনা মার্কেটে আমি কারে দেইখা আসলাম!!!” শুনেতো হাসান ভাই নিজেই অবাক!!! বললেন- “আমিতো প্রায় এক ঘন্টা আগে বাসায় আসছি!!” নাহ! রাব্বি ভাই বিশ্বাসই করতে পারছেন না… “আমি এইমাত্র দেইখা আসলাম, রিক্সায় ছিলাম তাই কথা বলি নাই।” তখন হাসান ভাইয়ের উত্তর ছিলো- “কি জানি, আমার বাপ কবে যে এই কাজটা করলো!!” ঘটনার ভাবার্থ বুঝে আমরা সবাই হো হো করে হেসে উঠলাম।।

যাইহোক অনেকের জীবনেই হয়ত এমন ঘটনা ঘটে কিন্তু বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা আমার জীবনে এমন ঘটনা বেশ কয়কবার ঘটেছে- ভার্সিটির প্রথম ক্লাসে আমার পাশে বসা ছেলেটির সাথে পরিচিত হলাম। কিছুক্ষণ পরে সে জিজ্ঞেস করলো- “কিছু মনে কোরো না- তোমার সাথে কি আমার আগে কোথাও দেখা হয়েছিল?” আমি আমার মেমোরিতে সার্চ করে দেখলাম। নাহ, তার সাথে আমার পূর্বপরিচয়ের কোনো ঘটনা মনে পড়লোনা। আমি একটু রহস্য করে বললাম-“কি জানি হয়তো হতে পারে”। সে বললো- “আমার মনে হচ্ছে ভার্সিটিতে ভর্তির আগেই তোমার সাথে আমার দেখাও হয়েছিলো কথাও হয়েছিলো”…… যাইহোক ঘটনা আর বেশিদুর গড়ায়নি…

এখন আমি একটি প্রাইভেট কলেজে শিক্ষকতা করি। সেদিন এক ছাত্রী এসে বললো- “স্যার একটা কথা বলি??” বলার অনুমতি দিলে সে বললো- “স্যার আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন আমাকে যে স্যার বাসায় এসে পড়াতেন সেই স্যার হুবহু আপনার মত দেখতে!!” ভাবলাম ছাত্রীতো, হয়ত একটু বাড়িয়েই বলছে।। ঠিক এর পরের দিনই আর এক ছাত্র এসে বলছে- “স্যার আমার বড় ভাইয়ের বন্ধু পুরাই আপনার মত দেখতে” মনে মনে ভাবছি- তোমার বড় ভাই আমার বন্ধু হতেই পারে। তাকে জিজ্ঞেস করার আগেই সে জানালো তার বড় ভাইয়ের বন্ধু ঢাবিতে পড়ে। আর আমি পড়তাম শাবিপ্রবিতে!! নাহ মিললো না!!

ঘটনা এখানেই শেষ না। তারপর কয়েকদিন বাদে আমার তত্ত্বাবধানের এক ছাত্রীর মা ফোন করে জানালো আমি নাকি দেখতে তার ছোটো ভাইয়ের মত, যে বেশ কয়েক বছর আগে পরলোকগত…হায় আফসোস!!!
আর কিছুক্ষণ আগে আমি যখন ঘরে বসে কম্পিউটারে নেট ইউজ করছি তখন আমার কলেজের এক কলিগের ফোন- “হ্যালো, কামরান রিক্সায় কইরা কই যাও?? তোমার সাথে কে??” শুনেতো পুরাই অবাক হইলাম। ঘটনাটা হইলো- সে বাসে করে বিশ্ব রোড দিয়ে নতুন বাজারে যাচ্ছিলো। বসুন্ধরার সামনে বাসের জানালা দিয়ে দেখলো বিপরীত দিক দিয়ে একটা মেয়েকে নিয়ে রিক্সা দিয়ে আসছি।। আর সেটা দেখেই সে আমাকে ফোন করেছে… নাহ, সে ফান করার জন্যে ফোন করেনি… সিরিয়াসলি দেখেছে।। তা নাহলে সে ফোন করতোনা… প্রতিটি ঘটনার পরেই মনে মনে বলি- “ আমার বাপ কবে যে এই কাজটা করলো…!!!”
original post
read more

জাফর ইকবালের স্টুডেন্ট বলে কথা!!! (বাস্তবিক ভাবে Funny পোস্ট)

by ফেরারি কামরান
তখন সম্ভবত থার্ড ইয়ার সেকেন্ড সেমিস্টারে পড়ি। অনেকের কম্পিউটারেই পেনড্রাইভের মাধ্যমে Benjamin.txt নামের একটি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। যেটা কম্পিউটারকে ৩০ মিনিট পরপর Restart করে। Windows Setup না দেয়া পর্যন্ত Remove হতনা। আমি যে মেসে থাকতাম সেখানে আমাদের সাথে থাকতেন Sociology Dept. এর বড় ভাই (রাব্বি ভাই )। তো রাব্বি ভাই(বর্তমানে ভার্সিটির টিচার এবং খুব মজার মানুষ) - এর ডিপার্টমেন্টের এক স্যারের কম্পিউটারে Benjamin.txt নামের একটি ভাইরাস এট্যাক করেছে এবং সেটা কোনো ভাবেই নাকি রিমুভ করা যাচ্ছেনা। রাব্বি ভাই আমাকে দায়িত্ব দিলেন স্যারের বাসায় গিয়ে প্রব্লেম সলভ করে দিয়ে আসতে। স্বন্ধ্যার সময় আমি আর আমার এক বন্ধু (শাহীন Economics Dept.) গেলাম স্যারের বাসায়। স্যার দরজা খুললে আমরা আমাদের আসার উদ্দেশ্য বললাম। ভিতরে ঢুকতে না ঢুকতেই স্যার কিছুটা ধমকের সুরেই জিজ্ঞেস করলেন তোমাদের মধ্যে বেঞ্জামিন কে? বেঞ্জামিন কে??? আমরা দুইজন হকচকিয়ে গেলাম। বললাম আমরা না!!! আমি কমরান আর ও শাহীন। শাহীন বলে ফেললো স্যার বেঞ্জামিন ভাই সিএসই ৪/২ তে পড়ে। (তখন সত্যি সত্যি বেঞ্জামিন নামে আমাদের এক সিনিয়র বড় ভাই ছিলেন) শুনে আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছিলামনা। যাইহোক আমি বসলাম কম্পিউটারের সামনে। স্যার শুরু করলেন শিক্ষক সুলভ কথাবার্তা- দেখো চেষ্টা করে পারো কিনা??? আমি আর কবির (স্যার এর Dept. এর ছাত্র) অনেকক্ষণ ধরেই চেষ্টা করছি কিন্তু পারি নাই। নাহ! বেঞ্জামিন কাজটা ঠিক করেনি। মানুষের জন্য ভালো কিছু তৈরী করুক, তা না এরা শুধু মানুষের ক্ষতি করে। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে দেশের...... স্যারের স্ত্রী আমাদের চা আর বিস্কুট খেতে দিলেন। আমি চা খেতে খেতে স্যারের কথা শুনছি আর উইন্ডোজ সেটআপ দিচ্ছি। প্রায় ৪০ মিনিট লেগে গেলো। এরপর সেটআপ শেষ হলে একটা আপডেট এন্টি ভাইরাস দিয়ে পিসি স্ক্যান করে দিলাম। কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে স্যার বলে উঠলেন- “আমি জানতাম তুমিই পারবে। দেখতে হবে না কার স্টুডেন্ট!!! জাফর ইকবালের ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট বলে কথা।” স্যারের শেষ কথায় গর্বিত গর্বিত ভাব নিয়ে আমরা ফিরে এলাম।

পরে মেসে এসে রাব্বি ভাইকে সব কিছু বললাম এবং আসল ঘটনা বেরিয়ে এল- স্যারের ডিপার্টমেন্টের সেই ছাত্র(কবির) স্যারকে বুঝিয়েছেন যে এই ভাইরাসটা বেঞ্জামিন নামের একজন তৈরি করেছে এবং সে ছাড়া এইটা কেউ ডিলিট করতে পারবেনা। রাব্বি ভাই স্যারের খুব ক্লোজ ছিলেন বলে রাব্বি ভাই স্যারের প্রব্লেম শুনে বলেছিলেন- আমার মেসে সিএসই এর একজন আছে ওকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আর স্যার ভেবে বসলেন আমিই সেই বেঞ্জামিন!!! আমাকে পাঠানো হয়েছে ভাইরাসটা ডিলিট করতে কারন কবির বলেছে বেঞ্জামিন ছাড়া এইটা কেউ ডিলিট করতে পারবেনা!!! বুঝুন অবস্থা!!!Link
original post
read more

Tuesday, January 24, 2012

ফিরাইডে ইশপেশাল (কাউয়া কথন)

by জ্যোস্নার ফুল


গতকাল বন্ধু মামুন বলল ওর নাকি গত তিনদিন ধরেই ভাগ্যা খুব ভালো যাচ্ছে। কারন তিনদিন ধরেই বাসা থেকে আসা-যাওয়ার সময় ওর আশে-পাশে কাকের ইয়ে পড়তে দেখেছে, যেহেতু সেই ইয়ে ওর মাথায় একবারও পড়েনি সেহেতু সে নিজেকে অতিব ভাগ্যবানদের একজন মনে করছে। আমি তখন ভেবে দেখলাম, কাকের ইয়ে থেকে বাচাটাতো আসলেই ভাগ্যবানের লক্ষন। এবং তখন থেকেই পরিচিত সম অথবা অসমবয়েসী যার সাথে দেখা হল, তাকেই কাকের ইয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলাম। মোটামুটি ১০-১২ জনের জরিপ নিয়ে দেখা গেল তারা কেউই কাকের এই নিষ্ঠুর প্রকৃতির, প্রকৃতির ডাক থেকে রেহাই পায়নাই। জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে, কোন না কোন ভাবে তাদের শরীরের কোন না কোন অংশে কাকের সেই ইয়ের ছাপ পড়েছে।
আমরা সবাই অবগত যে ইয়ে নিয়ে কাকের এই আচরন অনেক রহস্যময়ি, পৃথিবি মন্ডলের কত শত পন্ডিতবর্গ এত এত রহস্য উন্মোচিত করল কিন্তু কাকের ইয়ে কেন যে সোজা এসে ঠিক-ঠাক ভাবে মানব জাতীর উপরে বর্ষিত হয় এই রহস্যের সমাধান কেউ বের করতে পারলনা (কারো যদি এই বিষয়ে জানা থাকে অসভ্যই আওয়াজ দিবেন)। অনেক সময় দেখা যায় আপনি আপন মনের মাধুরি মিশিয়ে কবিতা গাইতে গাইতে পথ চলছেন, এমন সময়ে পত্র-পল্লবির ফাঁক-ফোকড় দিয়ে এক ফালি ইয়ে এসে ঠিক আপনার চান্দি বরাবর আঘাত করল। একজন চলন্ত মানুষের ঠিক চান্দি বরাবর এই জিনিষ কিভাবে আঘাত হানে এই জিজ্ঞাসা সম্ভবত আজ সমস্ত জাতির জিজ্ঞাসা হয়ে দাড়িয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় এই কাউয়া জাতির পর্যবেক্ষন শক্তি অতিশয় প্রখর, এবং গণিত জ্ঞানও অতি উচ্চ পর্যায়ের। বেশির ভাগ সময়েই, আপনি কত কিঃমি বেগে হাটছেন, আপনার থেকে তার উচ্চতা কতটুকু, বাতসের গতিবেগ কেমন, কৌনিক দুরুত্ব ইত্যাদি সমস্ত কিছু হিসেব করে তবেই সে তার ইয়ে বর্ষন করে।
পর্যবেক্ষনে ভুল হলে আপনার চান্দি হয়ত বেচে যাবে, কিন্তু আপনি কি বেচে যাবেন? না, আপনি আরো বেশি ঘের খাবেন। ধরেন, আপনি খুব আকারে মাঞ্জা মেরে আপনার প্রিয়তমার সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন, আপনার গায়ে পরিস্কার-পরিছন্ন পোশাক। এমন সময় একটি কাক পাখি, আপনার সেই পরিস্কার শার্টটিকে স্বাস্থ সম্মত টয়লেট ভেবে কাজ সেরে দিল, এদিকে আপনি কিছুই টের পেলেননা। ফলাফল কি হবে? আপনার বান্ধবীটি ভালোবেসে আপনার পিঠে হাত দিয়ে আতকে উঠবে, এবং চিতকার করে কবি ঠাকুরের সেই বিখ্যাত কবিতাটি আবৃতি করবে,
ওয়াক থু,
তোমার পিডে দেহি কাউয়ার গু!
একবার খালিশপুর ওন্ড্যারল্যান্ড পার্কের সামনে বসে বন্ধুরা সবাই সন্ধ্যাকালিন আড্ডা দিচ্ছিলাম। আমাদের হাতে ছিল চাঁয়ের কাপ আর উল্লেখিত যায়গাটিতে ছিল কাক পাখিদের আঁদি নিবাস।
হঠাত করেই বন্ধু রিহাদ মাথায় হাত দিয়ে বলল, এ কি আডা আডা? মাথায় সাদা আডা এবং উপরে কাকের উপস্থিতি বিশ্লেষন করে আমরা বুঝতে পারলাম আসলে ওইটা কোন প্রজাতির আডা। রিহাদ রেগে গিয়ে বলল, হালার প্যাডে কি অসূখ হইলনি, রাইত-বিরাতে হাইগা মাখাইতাছে! ঠিক তার পর পরই আমার কাপে পানির মত কি যেন পড়ার শব্দ পেলাম, কিন্তু আলোতে নিয়ে সাদা কিংবা সেইরকম কিছুই দেখতে পেলামনা। বন্ধু সাদি বলল, পাইলি কিছু? আমি মাথা নেড়ে না বলার পরে ও বলল তাইলে মনে হয় হাগেনাই, মুইতা দিছে।
প্রচন্ডরকমের হাঁসি এবং কাকের হিঁসুর কারনে আমাকে সেই চাঁ ফেলে দিতে হয়েছিল।
কাক পাখিদের আরেকটি রহস্যময় কর্মকান্ড হচ্ছে, এরা মাঝে মাঝে কোন এক গুরুত্বপুর্ন কারনে কাক-সভার আয়োজন করে, এই সমস্ত সভায় নিমিষেই কয়েক’শ কাক এসে জড়ো হয়। আমি এখন পর্যন্ত গুরুত্বপুর্ন কারনগুলো জানিনা, কেউ জানলে তাকে অবশ্যই জানানোর জন্য অনুরোধ রইল। অবশ্য ছোটবেলায় গ্রামের বন্ধুরা বলত, কোন কাক মৃত্যবরণ করলে নাকি সাধারণত এইধরনের সভা ডাকা হয়।

যেহেতু ছোট বেলায় গ্রামে ছিলাম, সেই সুবাদে কিছুটা ডানপিটে ছিলাম। একবার কার কাছথেকে যেন শুনেছিলাম, কাকেদের বাসা নাকি লোহা-লক্কড় দিয়ে বানানো হয়, এবং সেই বাসায় সোনার জিনিষ-পত্র পাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকে। শোনার সাথে সাথে এ্যাডভাঞ্চারে নেমে পড়লাম। আমি এবং কয়েক বন্ধু মিলে গাছে গাছে কাকের বাসা খুজতে লাগলাম। বাসা খুজে পেলাম অনেক কিন্তু সোনা-দানা কিছুই পেলামনা। আশা-ভরশা ছেড়ে দিয়ে যখন বাড়ি ফিরে আসতে চাইলাম, ফিরতি পথে একটা মাঝারি উচ্চতার কদম গাছে বিশাল এক কাউয়ার বাসায় নজর পড়ল। বন্ধু শিপনকে বললাম এইডায় তুই উঠ, ও বলল, আমার হাটু ছুইলা গ্যছে, হাটপারই পারিনা আর গাছে…। বাকিদের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম আমারই উঠতে হবে, সবাইকে বললাম, আচ্ছা কেউ না উঠলে নাই, তয় সোনা পাইলে নিবার আইয়ো এক্কেবারে খাওয়ায় দিমুনে। বলে, তীব্র ক্ষোভ নিয়ে উঠলাম কদম গাছে।
কাকের নীড়ে যেয়ে সবকিছু তছনছ করেও কিছু পেলামনা। গাছ থেকে নেমে আসবো এমন সময় দেখি তিনটা কাক বাসার কাছে এসে বসল। এরপর সবচেয়ে বড় কাকটা আমাকে এ্যাটাক করল, সেকি যেন তেন এ্যাটাক! উড়ে এসেই হয় ঠোকর দেয় না হয় ছো দেয়। আমি গাছ থেকে যে তাড়াতাড়ি নেমে আসব সে উপায়ও নেই। কোন দেকেই যেতে পারছিনা। উপায়ন্তর না দেখে একটা ছোট ডাল ভেঙ্গে কাকটার দিকে ছুড়ে মারলাম, ডালটা যেয়ে লাগল কোন একটা গাছের মৌ-চাকে। ভন ভন করে ছুটতে লাগল মৌমাছি, এদিকে কাকের আক্রমন ঠেকাতে যেয়ে ডাল ভেঙ্গে পড়ে গেলাম। ভাগ্য ভালো নিচে ছিল ধানি কাঁদা-মাটির জমি। পড়ে ভালোই ব্যথা পেয়েছিলাম, কিন্তু যখন দেখলাম, মৌ-মাছি জনিত ভীতিতে আশে-পাশের ২-১ জন যারা ছিল সবাই ভো-দৌড় দিচ্ছে তখন সব ব্যাথা ভুলে আমিও এক দৌড়ে বাড়ি গিয়ে উঠলাম।
এত সংগ্রাম এবং আত্নত্যাগের পরেও, কৃত অসাধু কর্মের জন্য আমাকে আম্মাজানের হাতে দোররা খেতে হয়েছিল।
যাইহোক, ঐ ঘটনার পর থেকে কাক পাখিদের প্রতি আমার অগাধ সম্ভ্রম জন্ম নেয়। কোন গাছে উঠলে আগে দেইখা নেই সেই গাছে কাকের বাসা আছে কিনা।
আপনারাও কোন শুভ যাত্রা করার সময় দেইখা নিয়েন, মাথার উপ্রে কি আছে।

original post

read more

Saturday, January 21, 2012

আমার সমকামি বেলা ১৮+

by শিশির সিন্ধু
আমার জীবনে এমন একটা ঘটনা ঘটবো এইটা জিন্দেগীতেও কল্পনা করি নাই...আমি একজন ফুড ব্লগার যার ৯৫% ব্লগ লিখার বিষয় হইলো খাওয়া খাইদ্য সম্পর্কিত...আইজকা আমি আমার জীবনের খুবই সেন্সেটিভ পারসোনার :|:| উউপস স্যরি পারসোনাল গোপনীয় নমনীয় স্পর্শপাতর বিষয় নিয়া না বলা কাহিনীর স্তর উন্মোচন করুম...গত পরশুদিন পল্টনে এক বড় ভাইয়ের অফিসে গেসিলাম তো বাইর হইতে হইতে প্রায় সাড়ে নয়টা বাইজা গেলো...অফিস থেকা নাইমাই দেখলাম এক বেডায় ডিমের খানদান নিয়া বইসা রইছে...নগদে গিয়া একটা হাফ বয়েলড আর একটা ফুল বয়েলড হাসের ডিম হালাল কইরা ফালাইলাম :D:D ...শরীর টা গরম হওয়া শুরু করলো :):) ....ফুর ফুর একটা ফিলিং পাওয়া শুরু করলাম B-)B-) ...আশে পাশে কোনো রিকশা না পাইয়া শুরু করলাম হাটা প্রায় ১০০ মিটার হাটার পরে দেখলাম এক বেটায় ফুটপাতে চকি ফালাইয়া সস্তা বইয়ের দোকান খুইলা বইছে....এইসব দোকানে মাঝে মাঝে পুরাতন ভালো বই পাওন যায় তাই দোকানে উকি ঝুকি মারা শুরু করলাম...দুই একটা বই হাতে নিয়া দেখা শুরু করলাম যার মইধ্যে অনলাইনে টেকা কামানির উপায়, ঘরে বসে মাশরুম চাষ, মানুষ চেনার উপায়, তুমি জিতবেই ইত্যাদি...হঠাৎ একটা বই চোখে পড়ল নাম হইলো গিয়া আধুনিক যৌন বিজ্ঞান ;);) ..বইটা হাতে নিতেই পাশ থেকা একজন বলল আসলেই আধুনিক যামানায় সবকিছুতেই আধুনিক হওয়া দরকার...আমি থোড়া থতমত খাইয়া গেলাম #:-S #:-S ..পাশে তাকাইয়া দেখি প্রায় ২৮/২৯ বয়সের একটা পোলা আমার দিকে তাকাইয়া কথা কইতাছে, আমি ব্যাক্কলের মতন তার কথার জবাবে মাথা নাড়লাম #:-S #:-S ...তো হঠাৎ মূত্র বিসর্জনের প্রয়োজন হওয়ায় পাশেই একটা বড় বিল্ডিংয়ের ভিতরে ঢুইক্যা একটা কার্পেটের দোকানদাররে জিগাইলাম যে ভাই টয়লেট টা কুনদিকে...দোকানদার বাম কব্জিটা ঘুরাইয়া টয়লেটের পাতা বাতাইয়া দিলো...টয়লেটে গিয়া ঢুকলাম গিয়া দেখি তিন চাইরজন লোক সিরিয়ালে আছে, পিছে তাকাইয়া দেখি সেই ২৮/২৯ বছরের মানুষটাও আইছে ...অস্বাভাবিক লাগলো না, তার দিকে তাকাইতেই একটা হাসি দিলো...মনে হইলো কি জানি বলতে চাইতেছে...ভালো কথা যেহেতু তিন চাইর জন সিরিয়ালে খারাইয়া রইছে তাই সিরিয়াল পাইতে একটু সময় লাগতেছে...এর মধ্যে পিছে তাকাইয়া দেখি ভদ্রলোক নাই....ভালো কথা এর মধ্যে সিরিয়াল পাওয়াতে আমি আমার কাম সাইরা টয়লেট থেকা বাইরা হইয়া রাস্তায় হাটা ধরছি...১০ কদমও যাই নাই এর মধ্যে কেডায় জানি ঘাড়ে হাত রাইখ্যা কইলো ভাই একটু দাড়ান...আমি খাড়াইয়া পিছে তাকাইয়া দেখি সেই ভ্দ্দরলোক আবারও আমার পিছে...বলল ভাই বিরক্ত হইয়েন না একটা কথা বলি আপনাকে আমার খুব পরিচিত লোক মনে হইতেছে...আপনার দেশের বাড়ি কই...চিন্তা গ্রামের বাড়িই তো জিগাইসে এটিএম কার্ডের পিন নাম্বার তো আর জিগায় নাই তো কইলাম গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুর...তারপর সে শুধাইলো আপনের বাসা মগবাজার না?? ব্যাক্কলের মতন কইয়া ফালাইলাম জ্বিনা ভ্রাতা আমার বাসা ধানমন্ডিতে...তখন কইলো যে ও না তাইলে তো মনে হয় আপনারে চিনি না...কিন্তু খুব চেনা চেনা লাগতেছে...আমি আবারো হাসি দিয়া চইলা আইতে লাগলাম...বেডায় আবার সামনে আইসা দাড়াইলো...আইসা কইলো ভাইয়া আপনি কি জানেন যে আপনি অনেক স্মার্ট...আমি কইলাম বুঝলাম না কি বললেন...আবার কইলো যে যেকোন মডেলের চেয়ে আপনি কিন্তু কম স্মার্ট না...আমি কইলাম ধইন্যবাদ(মনে মনে একটু খুশি হইছিলাম..মনে আরেকটা আশা জাগছিলো যে বেডায় মনে হয় কোন ডিরেক্টর আমারে হের নাটকে বা সিনেমায় নিতে চাইতাছে :P:P )...আবারো কইলো একটা কথা বলি আমি কইলাম বলেন...এরপর যা শুনলাম যেইটা এক্সপেক্ট করি নাই...কইলো ভাইয়া আমি একজন সমকামি...শুনার সাথে সাথে অটোমেটিক্যালি নিতম্বের দুটি অংশ টাইট হইয়া জোড়া লাইগা এক হইয়া যাওয়ার চেস্টা করল...
কুৎ কইরা একটা ঢোল গিল্লাম... :-& :-&
সমকামি: আপনাকে আমার খুব ভালো লাগছে
আমি: কুৎ :-& :-&
সমকামি: আমি আপনার পার্টনার হইতে চাই
আমি: কুৎ কুৎ :-& :-&
সমকামি: আমাদের ৫/৬ জনের একটা ক্লাব আছে, ওরা সবাই খুবই ফ্রেন্ডলি আপনার ভালো লাগবে।
আমি: কুৎ কুৎ কুৎ :-& :-&
সমকামি: আপনি রাজি না থাকলেও কুনো সমস্যা নাই কিছু করতে হইবো না শুধু চলেন ক্লাবটা দেইখ্যা আসলেন, কিছু নতুন অভিজ্ঞতা হইলো
আমি: কুৎ কুৎ :-& :-&
সমকামি: আসেন ডিম খাই
বইলা আমার হাত ধইরা টানতে লাগলো

বিশ্বাস করেন যখনই আমার হাত ধরলো ২২০ ভোল্টের একটা ঝাটকা খাইলাম বইলা মনে হইলো..নগদে কইলাম আমি ডিম খাই না আমি ভেজিটেরিয়ান...:-*:-/:-/
সমকামি: হাঃহাঃ তাইলে তখন যে দুইটা হাসের ডিম খাইলেন
আমি: ছাগলের মতন বড় বড় চোখ কইরা হের দিকে তাকাইয়া বড় বড় নিশ্বাস নিতে শুরু করলাম, মুখের কথা আটকাইয়া আইতে লাগলো.. এবার কুৎ কইরা ঢোকটাও গিলতে পারলাম না,(শালার পো তখন থেকা আমার পিছে লাগছে :-/ :-/ :-/ )
সমকামি আরে আসেন তো আপনের যে ফিগার তাতে দুইটা ডিমে কিছুই হইবো না ৪ টা খাইলে শরীরে জোড় পাইবেন
আমি: নাআ নাআ নাআ নাআ নাআ নাআ নাআ নাআ ভাই আমি ডিম খাবো না :-/:-/
সমকামি: ঠিক আছে ঠিক আছে খাইতে হবে না...তো কিসে যাবেন রিকসায় নাকি সি এন জি তে
আমি: অনেক কস্টে কুৎ কইরা ঢো ক গিল্লা কইলাম কই যামু??:-*:-*
সমকামি: কেন!! আমাদের ক্লাবে
আমি: আ আ আমমি কেন আপনাদের ক্লাবে যাবো:-*:-*
সমকামি: অইযে বল্লাম নতুন অভিজ্ঞতা হবে
আমি: দদ্দদরকার নাই আমার অভিজ্ঞতার:-*:-*
সমকামি: আহা ভাইয়া ঠিক আছে অভিজ্ঞতার দরকার না থাকুক সমকামি সম্পর্কে যে আপনার ভুল ধারনা আছে সেগুলি ভেঙ্গে যাবে
আমি: আমার কোনো ধারনারই দরকার নাই :-*:-*
সমকামি: ভাইয়া আমার সঙ্গ পেলে আর কখনই কোনো নারীর সঙ্গ চাইবেন না, আমি মেয়েদের চেয়েও ভালো ফোরপ্লে করতে জানি, আমরা সবাই প্রটেকশন ইউজ করি, লুব্রিকেন্ট ইউজ করি...জানেন নিশ্চই ডিমের সাদা অংশ খুব ভালো লুব্রিকেন্ট :-P :-& :-/

আমার কেমন জানি বমি বমি লাগা শুরু করলো, মাথা ঘুরানি আরম্ভ করলো, শরীর ঝিম ঝিম করতে শুরু করলো :-& :-& :-&

সমকামি: কি ভাইয়া যাবেন না?? আমি আপনাকে রাতের বেলায় আপনার বাসায় ড্রপ করবো
আমি: ভাইয়া আপনি যেরকম ভাবছে আমিতো আসলে অইরকম না ( অনেক কস্টে ):((
সমকামি: হাঃ হাঃ ঠিক আছে তাহলে আপনার মোবাইল নম্বরটা আমাকে দিন আর আমারটা রাখুন যদি কখনো আপনার রুচি বদল হয় তো আপনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করলেন
আমি কইতে যামু যে আমার মোবাইল নাই এর মধ্যেই আমার মোবাইল বাইজ্যা উঠলো...ফোনটা কাইট্যা চি চি কইর‌্যা কইলাম যে ভাইয়া আমি জানি আমার রুচি কখনই বদলাবে না তাই নম্বরটা দিতে চাচ্ছি না
সমকামি: তাহলে আপনার পরিচিত যে দেখতে আপনার মতন অথবা এইসব বিষয়ে আগ্রহ আছে তার কোনো নম্বর দিন
আমি: নাআ নাআ ভাই এরকম কাউকে আমি চিনি না
সমকামি: আপনার একটা ছবি তুলি
আমি: নাআ নাআ প্লিজ :-/:-/
সমকামি: সবকিছুতেই না না করছেন তাহলে একটা কথা বলে রাখি আজকে আপনার কথা চিন্তা করে আমি স্বমেহন করব সেটা না করবেন কি ভাবে
আমি: কুৎ :-& :-* :-* :-/ :-/ :-/

ঠিক তখনই একটা বাস আইস্যা থামলো আমার সামনে আমি কোনো মথে কইলাম ভাই আমার বাস আইস্যা পরছে কইয়া দিলাম দৌড়

বাসের সামনে গিয়া দেখি ৮/৯ জন বাসে উঠার লইগ্যা ঠেলাঠেলি করতাছে...ক্যামনে ক্যামনে যে কাউরে পারা দিয়া কারো ঘাড়ের উপড়ে দিয়া লাফাইয়া বাসে উঠলাম অইটা একটা মিরাকল...বাসে উইঠ্যা দেখি জন্মের ভিড়...কানে খালি একটা কথাই বারেবারে বাজতাছে ''সবকিছুতেই না না করছেন তাহলে একটা কথা বলে রাখি আজকে আপনার কথা চিন্তা করে আমি স্বমেহন করব সেটা না করবেন কি ভাবে"
নগদে আমার আশেপাশের সবার দিকে চোখ দিলাম, কাউরে বিশ্বাস হইতাছে না...নিতম্বটারে কোনমতে গিয়া বাসের দেয়ালে ঠেকাইয়া ধইর‌্যা খাড়াইলাম..মনে খালি এটুকুই আশা যে এই বাসের দেয়াল কমপক্ষে আমার লগে বেঈমানি করবো না....কোনো মতে বাসায় গিয়া পৌছাইলাম....বাসায় ঢুইকাই নগদে গোসল দিলাম, পানি ঠান্ডা কি গরম অইটা দেখার অবস্হা আসিলো না....তারপর খাটে বইস্যা আধঘন্টা ঝিম ধইর‌্যা বইস্যা চিন্তা করলাম কি হইলো এইডা....আমার উনারে কল দিয়া সব কইলাম.....আপন মানুষ যদি কথা শ্যাস করতে না দিয়াই হাসতে হাসতে দম বন্ধ কইরা ফালায় তাইলে কার কাছে যামু??দেড় ঘন্টা ধইরা খালি হাসতেই ছিলো....এক লাইন কাহিনী শুনে তিন লাইন হাসে....
সব দুঃখ কোনো মতে ভুলছি...আম্মা ডাক দিলো ভাত খাওনের লাইগ্যা ....ভাত খাইত্যে বসলাম...প্লেটে ভাত নিসি দেখি আম্মা দেখি প্লেটে ভুনা ডিম বাইরা দিলো....আমার কানে বাইজা উঠলো "জানেন নিশ্চই ডিমের সাদা অংশ খুব ভালো লুব্রিকেন্ট "
ভাত খামু না কইয়া নগদে বাথরুম আইসা বমি কইরা পল্টনে খাওয়া হাফ বয়েলড আর ফুল বয়েলড ডিম দুইটা বাইর করার চেস্টা করতে থাকলাম
কতদিন যে ডিম খাইতে পারুম না কে জানে ওয়াকঃ


বিঃদ্রঃ## বাংলা সিনেমার নায়িকারা রাস্তা দিয়া বাচাও বাচাও কইয়া দৌড় দেয় দেইখ্যা জিবনে খেক খেক কইরা কত হাসছি....এই ব্লগে প্রমিস কইরা গেলাম আর জীবনে হাসুম না নায়িকাগো দেইখ্যা...অগো দুঃখটা আইজকা বুঝলাম

## যদি লোকটা কইত্য যে ভাই আমি একজন ভ্যাম্পায়ার আমি আপনের ঘাড়ে কামুড় দিয়া ব্যুফে চুক্তিতে আপনের রক্ত খামু তাইলেও এত ডরাইতাম না
original post
read more
affiliate program

EARN INCOME FROM YOUR WEBSITE

Turn your valuable web site traffic into income. Work online and join our free money making affiliate program. We offer the most pay-per-click rate to help maximize your cash stream.

Join our income making program absolutely free and 100% risk free.

Sign Up...

A steady income generator

Imagine running of a something that never failed to provide you with cash-flow. A earning money program so amazingly profitable that you never had to look for job ever again!Income while you sleep

CASH WHILE YOU SLEEP

Earn $1,000... $2,000... $5,000...

Turn your website visitors into cash!
You get money for every visitor that clicks on our advertizing. Our goal is to enable you to make as much as possible from your site. We pay monthly, either by check, or through PayPal.

Begin collecting steady partner commissions

Our money making program really can make you income on the same day. Start receiving steady partner revenue with almost no effort at all. This is a serious revenue opportunity, the chance for you to build a steady, reliable, long-time profitable business.

Savings Highway Dream Team Member Site Savings Highway Dream Team Member Site