Showing posts with label আলোচনা. Show all posts
Showing posts with label আলোচনা. Show all posts

Tuesday, April 10, 2012

মানুষ কাঁদে কেন?

চোখের জলে আবেগের প্রকাশ কে কান্না বলে। প্রতিশব্দ:ক্রন্দন ( উইকিপিডিয়া)

আমরা কেন কাঁদি? কেন চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরে আর তখনি মনে হয় কি যেন নেই বা বুকের ভিতরটা কেমন যেন হালকা হয়ে যায়( আসলে মস্তিস্কে)

তবে কান্নার প্রধান কারণটা মানসিক।

মানুষের কান্নার বা চোখের পানি তিন ধরনের-

১.ব্যাসাল টিয়ার্স ( চোখকে ধুলাবালি থেকে রক্ষা করে এই কান্না)

২.রিফ্রেক্স টির্য়াস ( চোখের রিফ্রেসের জন্য এমন কান্না)

৩.ইমোশনাল টির্য়াস ( দু:খ কষ্ট অনুভব করার কান্না)

এখন কথা হলো, আমরা কেন কাঁদি? বিজ্ঞানীদের মতে ইমোশনাল টির্য়াসে খুব বেশি থাকে ম্যাঙ্গানিজ নামের এক ধরনের লবণ আর প্রোল্যাক্টিন নামের এক ধরনের প্রোটিন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই দু’টো পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে গেলে মানুষ অনেকটা আরাম বোধ করে। তাই আমাদের খুব মন খারাপ থাকলে, ফলে কাঁদলে, আর তার সঙ্গে এগুলো বের হয়ে আমাদের অনেক হালকা করে দিলো। মন খারাপও কিছুটা কমে যাবে।

তাই বলা হয় কাঁদিলে দু:খ মুন্দিভূত হয়- কাঁদলে মন হালকা হয়? এটাই তার কারণ।

চোখের জলের স্বাদ নোনতা। তাই হয়তো অনেকেয় সমুদ্রের পানির সাথে তুলনা করে থাকেন। কিন্তু কারণ হল এই সব রাসায়নিক একসাথে করলে নোনতা ছাড়া অন্য কোন স্বাদ পাওয়া যাবে না।

যখন আমরা কাঁদি, তখন আমাদের তোমার আশেপাশে যারা থাকবে, সবাই-ই বুঝবে কোনো কারণে আমাদের মন ভালো নেই। হয় মন খারাপ, অথবা ভীষণ হতাশ, কিংবা চরম পরিমাণে দ্বিধান্বিত। আর যদি পাশের মানুষটিকে মনের কষ্টা বা অনুভুতিটি শেয়ার করা যায়, এটাও মনকে অনেকখানি হালকা করে দিবে। খেয়াল করে দেখুন তো-আপনার মন খুব খারাপ হলো আর কোনো প্রিয় মানুষের কাছে কাঁদলেন আপনি। কেমন মনটা হালকা হয়ে যায়?

আর একটি বিষয় হল,শারীরিক ব্যাথা- যার কারণে আমরা কাঁদি। এটাও সেই মানসিক বা ইমোশন থেকেয় তৈরি হয়। তবে মানুষের জন্য সুখবর যে, লজ্জা পেলে বা অনেক অবেগ বা মন খারাপ থাকলে প্রাণী জগতের একমাত্র তারাই কাদঁতে পারে!

ইমোশনাল কান্না শারীরিক ব্যখার বাইরেও কিছু বলার থাকে। বেশির বাগ সময় আমরা আবেগিয় কান্না কাঁদি- অন্যের সাথে সখ্যতা বাড়ানোর জন্য বা যোগাযোগ রাখার জন্য। যেমন-প্রিয় মানুষটি যখন কাদেঁ তখন আমাদের চোখেও পানি চলে আসে কারণ তার সাথে যোগাযোগ ভাল আমাদের।

বাচ্চারা কাঁদে,কারণ কথা শিখার আগে এটাই ভাব প্রকাশের মাধ্যম তাদের কাছে। মানুষের হতাশা,ভালবাসা,ভাললাগা,দু:খ,ভয় আর প্রয়োজনের তাগিদে কান্না চলে আসে।

যারা ভালবাসার মায়ায় জড়িয়ে আছেন প্রিয় জনের সাথে-তাদের কান্নাটা হয়ে যায় বন্ধন শক্ত রাখা আর নিজেদের দু:খটাকে প্রকাশের সহজ মাধ্যমের জন্য। আর সাথীর কাছ থেকে সাপোর্ট পাবার জন্য। ভাব প্রকাশের জন্য অনেক ভাষা আছে কিন্তু কান্না সার্বজনীন ভাষা। সবাই এটা বুঝে।

সামাজিক ভাব যেমন,বিয়েতে প্রিয় মানুষগুলোকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য চোখে পানি আসে। নাটক-সিনেমাতে অনেক দু:খ্যের কিছু মনে করে শিল্পীরা চোখে পানি আনতে পারেন। যদি সত্যিকারের অভিনয় জানেন।


কারো কাছে কান্না নিয়ে আরো কিছু জানা থাকলে শেয়ার করুন।

-বিভিন্ন ওয়েভ সাই
original post
read more

বিশ্বে জাতীয় সঙ্গীতের ইতিহাস + বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।

প্রতিটি রাষ্ট্রের জাতীয় ভাবে নিধার্রিত গান বা সুর সে দেশের জাতীয় সঙ্গীত। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় উপলক্ষে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই গান গাওয়া হয় অথবা এর সঙ্গীত বাজানো হয়।
জাতীয় সঙ্গীতে একটি জাতির আশা আকাঙ্খা ও গৌরবের প্রতিফলন ঘটে। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার একটি নির্দিষ্ট রীতি থাকে যা সব সময় একি থাকে এবং যেটির অপমান করা দন্ডনীয় অপারাধ।

ইতিহাস-

১৫৫৮ সাল থেকে ১৫৭২ সালের মধ্যে রচিত ডাচ জাতীয় সঙ্গীত 'ভিলহেলমাসকে' সবচেয়ে পুরাতন জাতীয় সঙ্গীত ধরা হয়ে থাকে।
যদিও ১৯৩২ সালে সরকারী ভাবে স্বীকৃতি পায় এই জাতীয় সঙ্গীত।

জাপানের জাতীয় সঙ্গীত 'কিমি গা ইয়ো' রচিত হয়েছিল ৭৯৪ সাল থেকে ১১৮৫ সালের মধ্যে। কবিতা ভিত্তিক এই রচনা ১৮৮০ সালের পরে জাপানের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা পায়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাতীয় সঙ্গীত রচনার ক্ষেত্রে দুর্লভ সম্মানের অধিকারী। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা।

সার্ক ভুক্ত দেশ সমূহের জাতীয় সঙ্গীত, লেখক ও সুরকার-

১. বাংলাদেশ- আমার সোনার বাংলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২. ভুটান- বাজ ড্রাগন রাজ্য- দাশু ইয়াদুন থিনলী- আকু তংমি।
৩. আফগানীস্থান- মিললী সুরোদ- আব্দুল বারী জাহানী- বাবরাক ওয়াছছা
৪. ভারত- "জানাগানামান-অধিনায়ক জয় হে"- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৫. মালদ্বীপ- গাউমি সালাম-মুহাম্মাদ জামেল দিদি- পন্ডিত ওনাকুওত্তায়াদুগ।
৬. নেপাল- "সায়াউন থুঙ্গা ফোওল কা"- বাইকুল মাইয়া- আম্বর গুরুং।
৭. পাকিস্থান- কোয়ামী তাইরানা- হাফিজ জুলান্দিরি- আহমেদ গুলামআলি চাগলা।
৮. শ্রীলঙ্কা- শ্রীলঙ্কা মাতা-আনান্দ সামারাকুন- আনান্দ সামারাকুন।

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত-

আমার সোনার বাংলা গানটি রচিত হয়েছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে। যার ২৫ টি লাইন রয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহ ও শাহজাদপুরে জমীদার থাকার সময় (১৮৮৯-১৯০১) এই কবিতাটি লেখেন। এবং ১৯০৫ সালে বঙ্গর্দমন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ পায়।

কুষ্টিয়ার বাউল শিল্পি গগণ হরকরার একটি গানের সুরের অনুকরনে রবীন্দ্রনাথ নিজে এটির সুরারুপ করেন।
১৯০৭ সালে সর্বপ্রথম এটি গাওয়া হয় বঙ্গভঙ্গ বিরোদ্ধী মিছিলে।
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১ মার্চ গঠিত হয় স্বাধীন বাংলার কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদ। পরে ৩ মার্চ তারিখে পল্টন ময়দানে ঘোষিত ইশতেহারে এই গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল ১৭ এপ্রিল মুজিব নগরে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এই গানটি গাওয়া হয়।

১৯৭০ সালে চলচিত্রকার জহীর রায়হান'জীবন থেকে নেয়া' চলচিত্রে এটি ব্যভজার করেন।
১৯৭২ সালে এর প্রথম ১০ লাইন জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাওয়ার জন্য নির্ধারন করা হয়। এবং প্রথম ৪ লাইন যন্ত্র সঙ্গীতে ব্যবহার করা হয়।

অর্জন-
২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকের ২০৫ টি দেশের তুলনামূলক বিচারে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ২য় স্থান অর্জন করে।
original post
read more

এত ছোট একটা জিনিস অথচ কি ক্ষমতা! মস্তিস্কের ক্ষমতা কত জানেন?

by আমার মন

ছেলের মাথায় ঘিলু আছে, বলে অনেক সময় লোকে। আসলে ঘিলুটা কি? মাথার ভিতর জিনিস আছে ! জিনিসটা কি?

সেটা হল মস্তিস্ক। যার অন্দরে সব স্মৃতি জমা থাকে। মাত্র তিন পাউন্ড ওজনের একটি জিনিস যার ক্ষমতা শুনলে মানুষ বিশ্বাস করতে চাইবে না।

মস্তিস্ক হল সকল প্রানীর কেন্দ্রিয় স্নায়ু বিভাগ। যা থেকে, প্রানীদেহের সব কাজ,চিন্তা-ভাবনা,নড়া-চড়া সব নিয়ন্ত্রন করে । একজন মানুষের মস্তিস্ক,অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রানীর চেয়ে প্রায় ৩ গুন বড় হয়।

এর সবচেয়ে বড় গুণ হল, আমাদের গবেষণা বা কোন ঘটনার গভীরে গিয়ে তার বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি কাল্পনিক চিত্র তৈরি করা,যা নিকট ভবিষ্যতে ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডক্টর ওয়াল্টারের মতে যদি মানুষের মস্তিষ্কের সমমানের একটি বৈদ্যুতিক মস্তিস্ক তৈরী করা যায় তাহলে তার খরচের টাকা গুনলে ১৫০০,০০০০০০০,০০০০০০০ টাকা পরবে সেই পরিমান টাকা দিয়ে বর্তমান সময়ে প্রায় অত্যাধুনিক দশ কোটি কম্পিউটার কেনা সম্ভব আর এই যান্ত্রিক মস্তিষ্কের আয়তন হবে আটারটি এক’শ তলা বিল্ডিং এর সমান আর এটা চালাতে এক হাজার কোটি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ এর প্রয়োজন হবে তাহলে দেখুন তার কত ক্ষমতা।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা মস্তিস্কের গঠন সম্পর্কে এখনো পরিস্কার ধারণা পান নি।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৭০০০০ বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে সক্ষম। কিন্তু করে না। যার কারণে মস্তিস্ক অলস বসে থাকে।
মানুষের মস্তিষ্ক সেকেন্ডে ১০-১৫ টি শব্দ ধারণ করতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলে মানুষের মস্তিষ্কে ২২ লক্ষ সেল আছে সাধারণ মানুষ তার থেকে মাত্র ৩% সেল ব্যবহার করে বাকী গুলো বেকার হয়ে পড়ে থাকে আর বিজ্ঞানী বুদ্ধিজীবি শ্রেণীর মানুষ ব্যবহার করে ১০ থেকে ১১% !!
কিন্তু মানব মস্তিস্কের প্রায় ৭৫ ভাগই পানি আর ২৫ ভাগ দিয়ে আমরা এইসব কাজ করে থাকি।

জাগ্রত থাকা অবস্থায় মস্তিস্ক প্রায় ২৫ ওয়াট পাওয়ার সৃষ্টি করে,যা একটি লাইট বাল্ব জালানোর জন্য যথেষ্ট। আর ঘুমের মাঝে আমরা যে সব সাদাকালো স্বপ্ন দেখি তার রহস্য এখনো বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করতে পারে নি।

আমাদের মস্তিষ্ক প্রায় ১০,০০০ টি বিভিন্ন গন্ধ চিনতে ও মনে রাখতে পারে।
এই সব ক্ষমতার কারণে, ১০০ বছর আগেও বোর্নিওতে মানুষের মাথার খুলি মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

আমরা বলি মেয়েরা কথা বেশি বলে থাকে কারণ মস্তিস্কের এই গঠন। প্রতিদিন মহিলারা গড়ে ৭০০০ বাক্য বলে থাকে, আর পুরুষরা বলে থাকে ২০০০ বাক্য।

আমরা যা খাই তার মোট শক্তির ২০% মস্তিস্কের জন্য যায়, যেখানে মস্তিস্ক শরীরের আয়তনের মাত্র ২% হলেও এর শক্তি চাহিদা অনেক ।

এত এত ক্ষমতা আমাদের শরীরের উপরের মাথাটাতে অথচ অনেক কিছু করতে পারি না। :(
original post
read more

রূপকথার এক অভিশপ্ত রানী... সুন্দরী শ্রেষ্ঠা...

by আহমেদ জী এস
রূপকথার এক অভিশপ্ত রানীর গল্পো......

মিশরের ফারাও সম্রাজ্ঞীদের মধ্যে ক্লিওপাত্রার নাম এবং কাহিনী কমবেশী জানিনা এমোন কেউ সম্ভবত আমাদের মধ্যে নেই । মিশরে জন্ম না হলেও ক্লিওপাত্রা মিশরের ফারাওয়ের রানী হয়েছিলেন , হয়েছিলেন কিংবদন্তী । ক্লিওপাত্রা যতো না রূপে তারো চেয়ে বেশী আলোচিত তার ছলনার জন্যে । কিন্তু কিংবদন্তীর আর একজনের কথা হয়তো আমাদের মনেও নেই যিনি রূপে ছিলেন অদ্বিতীয়া, ক্ষমতায় সর্বোচ্য । প্রায় তিন হাযার তিনশত বছর আগে ইতিহাস যেমন তাকে নিঃশব্দে চাপা দিয়েছে মিশরের বালুরাশির নীচে তেমনি সেইজন আমাদের মনের আড়ালেও চাপা পড়ে আছেন আজো । ক্লিওপাত্রার ও হাযার বছর আগে যিনি ছিলেন “লেডি অব অল ওম্যান”, “লেডি অব গ্রেস” , “লেডি অব অল বিউটি” ।

নামটি তার “নেফারতিতি” ।

পৃথিবী জুড়ে যে ফারাও সম্রাজ্ঞীর প্রহেলিকাময় আবক্ষ মুর্তিটি (বাস্ট) তার মরালী গ্রীবা নিয়ে বিখ্যাত “আইকন” হয়ে আছেন আজো, তিনিই “নেফারতিতি” যার শাব্দিক অর্থ “সুন্দরীতমা এসেছেন” ।

মিশরের ফারাও সম্রাজ্ঞীদের মধ্যে, এমোন কি তখনকার মিশরবাসীদের মধ্যেও তার রূপ ছিলো কিংবদন্তীর মতো । যীশুখ্রীষ্টের জন্মেরও ১৩৭০ থেকে ১৩৩০ বছর আগ পর্য্যন্ত নেফারতিতির ইতিহাস খুঁজে পাওয়া গেছে আর ঠিক তার পর থেকেই মিশরের সব ঐতিহাসিক দলিল, দস্তাবেজ থেকে তার নাম মূছে ফেলা হয়েছে । প্রত্নতাত্বিক জিনিষপত্রে তার আর কোনও চিহ্ন রক্ষিত হয়নি যেমন রক্ষিত রয়েছে অন্যান্য ফারাও আর তাদের সম্রাজ্ঞীদের স্মৃতি ।

কেন ? উত্তর খুঁজছে মানুষ ।

রূপকথার দুঃখিনী রানীর মতো, নেফারতিতি গর্ভে ছয় ছয়টি রাজকন্যের জন্ম দিলেও রাজ্যরক্ষায় কোনও উত্তরাধিকারী রাজপুত্রের জন্ম দিতে পারেননি । ফারাও “আখেনাতেন” ভাবলেন নেফারতিতির গর্ভে আর কোনদিন ভবিষ্যত ফারাওয়ের জন্ম হবেনা তাই পরিত্যাজ্য । রাজার ইচ্ছে, তাই রানী পরিত্যক্ত হলেন । ইতিহাসের করাল গর্ভে নেফারতিতি হারিয়ে গেলেন চিরদিনের জন্যে ।
এ হলো নেফারতিতির রহস্যময় নিরবতার পক্ষে একশ্রেনীর প্রত্নত্বাত্তিকদের বিশ্লেষন ।

কেউ কেউ বলেন, বারোটি বছর ১৮তম ফারাও “আখেনাতেন” আর নেফারতিতির গড়ে তোলা বিশাল ফারাও সাম্রাজ্য “এল-আমারনা” (El-Amarna) শাসন করে নেফারতিতির রহস্যময়ভাবে হারিয়ে যাওয়া সম্ভবত কোনও কঠিন রোগে তার মৃত্যু । ঐ সময় মিশর জুড়ে যে ভয়াবহ প্লেগ হয়েছিলো তাতেই মারা গেছেন নেফারতিতি ।

কেউ বলেন- না ; নেফারতিতি মিশরীয়দের সনাতন ধর্মবিশ্বাস বাতিল করে সূর্য্যদেবতা “রে” (Re)র পুঁজায় “আতেন” নামে যে সূর্য্যচাকতির পুঁজোকে মিশরবাসীদের জন্যে বাধ্যতামূলক করেন তারই বিষ্যোদগার ঘটে নেফারতিতির মৃত্যুর সাথে সাথে তার সমস্ত মূর্তি, স্তম্ভ, প্রাসাদ অর্থাৎ নেফারতিতির বানানো সকল সভ্যতার চিহ্নকে ধংশ করার মধ্যে দিয়ে । এই ধংশযজ্ঞে নেতৃত্ব দেন পুরোহিতরা কারন “আতেন” কে পেতে হলে ফারাও আর তার স্ত্রীকে (নেফারতিতি) পুঁজো করাও ছিলো বাধ্যতামূলক এটা তারা মেনে নিতে পারেননি । তাই ইতিহাসে নেফারতিতির কোনও উল্লেখ নেই সেই দিন থেকে, যেদিন তার মৃত্যু ঘটে ।

কেউ বলেন, ১৮তম ফারাও “আখেনাতেন” (যিনি বিখ্যাত কিশোর ফারাও রহস্যময় “তুতেনখামেন” এর পিতা) এর প্রতি প্রজারা সন্তুষ্ট ছিলেননা মোটেও । একে তো পুরোনো ধর্মবিশ্বাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার উপর রাজধানী “মেমফিস” থেকে সরিয়ে মরুভুমির মাঝে বালুর শহর “ আমারনা”য় স্থাপন করেন এবং পরে নিজের নামে “আখেনাতেন” রাখেন । তাই “আখেনাতেন” এর মৃত্যুর সাথে সাথে নেফারতিতির ভাগ্যও নির্নিত হয়ে যায় ।“আখেনাতেন” এর সৃষ্ট সকল কিছু মিশরের বালুতে পুঁতে ফেলার পাশাপাশি নেফারতিতিরও সমাধি ঘটে যায় ইতিহাসে ।

যদিও এসব বিশ্লেষনের জন্যে পর্যাপ্ত প্রত্নত্বাত্তিক নিদর্শন নেই তথাপিও যে কিছু কিছু শিলালিপির ভগ্নাবশেষ পাওয়া গেছে নেফারতিতির উপরে লেখা , তা বিশ্লেষন থেকেই এত্তো এত্তো কাহিনীর জন্ম হয়েছে । এ নিদর্শনগুলি আপনি দেখতে পাবেন বর্তমানের “ল্যুভর” আর “ব্রুকলিন” জাদুঘরে ।


।। ব্রুকলিন মিউজিয়ম ।।

মাত্র পনের বছর বয়সে নেফারতিতি বিয়ে করেন চতুর্থ অ্যামেনোফিস (Amenophis IV) মতান্তরে “অ্যামেনহোটেপ”( Amenhotep IV) কে যিনি খ্রিষ্টপূর্ব ১৩৫৩ অব্দে ফারাও হিসাবে মিশরের সিংহাসনে বসেছেন মাত্র আর নিজের নাম পাল্টে রেখেছেন “আখেনাতেন” ।

।। ফারাও আখেনাতেন ।।

বিশেষজ্ঞরা নেফারতিতির জন্ম এবং তার নিজ দেশটি আসলে কোথায় এ ব্যাপারে দ্বিধা বিভক্ত । কারো সন্দেহ, যেহেতু নেফারতিতি শব্দের অর্থ “সুন্দরীতমা এসেছেন” তাই আদপেই তিনি মিশরীয় নন, তিনি এসেছেন ভিন কোনও দেশ থেকে ।আবার কারো মতে তিনি মিশরেরই বিখ্যাত ব্যক্তি “আই” এর কন্যা যিনি পরে ফারাও ও হয়েছিলেন । জন্ম বা বংশ বৃত্তান্ত যা ই থাক তিনি যে সুন্দরী হিসেবে কিংবদন্তী ছিলেন তাতে দ্বিমত ছিলোনা কারো ।
সুন্দরীদের প্রভাব পুরুষকে যে নাচাতে পারে, এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি । রাজ্যশাসনে ফারাওয়ের পাশাপাশি নেফারতিতিও সমানতালে রাজ্য শাসণ করেছেন । শুধু তা ই নয়, যে নতুন ধর্ম দু’জনে প্রবর্তন করেছেন তার মধ্যমনি ছিলেন নেফারতিতি । দু’জনেই পুঁজিত হতেন দেবতা আর দেবী রূপে ।
প্রত্নতত্ববিদ আর ঈজিপ্টোলজিষ্টরা থেমে নেই এইসব ইতিহাস উদ্ঘাটনে । তারা “কারনাক” আর “ল্যুক্সর” এর মন্দিরগুলিতে খুঁজে বেড়াচ্ছেন এর স্বপক্ষের নিদর্শন ।

খ্রীষ্টপূর্ব ১৪শ শতকে নিজ রাজত্বকালে আখেনাতেন সূর্য্যদেব আতেন এর উদ্দেশ্যে তার রাজ্যে যে অসংখ্য মন্দির গড়ে তুলেছিলেন, প্রতিহিংসার রোষানলে তা সবই ধংশ করা হয়েছিলো তার মৃত্যুর ঠিক পরে পরেই । কারন এগুলো ছিলো মিশরবাসীর পুরোনো ধর্মের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার চিহ্ন । এই সব ভগ্ন মন্দিরের পাথরগুলি আবার পরবর্তী ফারাওরা ব্যবহার করেছেন নতুন নতুন মন্দির নির্মানে । প্রত্নতত্ববিদ আর ঈজিপ্টোলজিষ্টরা এখোন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন সেগুলোকে, যদি কোনও অজানা তথ্য পাওয়া যায় সম্রাজ্ঞী নেফারতিতির ।
ধারনা করা হয়, প্রাচীনকালের কারনাকের মন্দিরের পূর্বদিকে যে বিশাল প্রবেশপথ ছিলো তার পাশের দেয়ালের পাথরের বর্তমান ধংশাবশেষ থেকে ১০০র মতো শাস্ত্রীয় আচার অনুষ্ঠানের পূর্ণচিত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব । এসব ভাঙ্গা ভাঙ্গা চিত্রে নেফারতিতিকে দেখা যায় বিভিন্ন শাস্ত্রীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যমনি হিসেবে । প্রাচীন মিশরে এ জাতীয় আচার অনুষ্ঠানের ক্ষমতা রাখতেন কেবলমাত্র একজন ফারাও অথবা মিশরীয়দের প্রচলিত বিশ্বাস মতে “ওয়াইফ এন্ড কনসোর্ট অব দ্য গড” ।

এই ফ্রেসকোগুলি স্বাক্ষ্য দেয় , নেফারতিতি নিজেকে একজন ‘দেবী’র পর্যায়ে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলেন এমোনকি ফারাওয়েরও সমকক্ষ । একযুগের ও বেশী সময় ধরে নেফারতিতিই ছিলেন প্রাচীন মিশরের সবচেয়ে সুন্দরী আর ক্ষমতাশালী নারী । যা আর কোনও ফারাওদের স্ত্রীর ভাগ্যে জোটেনি ।

কম্পিয়্যুটার এনিমেশন ।

একটি খন্ডিত পাথরের লিপি উদ্ধার হলে দেখা যায়, সেখানে নেফারতিতির নাম রয়েছে । যেখানে তার নামের পাশে উৎকীর্ন রয়েছে “গ্রেট রয়্যাল ওয়াইফ” শব্দটি যা তার সামাজিক মর্যাদা প্রকাশ করছে । এমোন বেশ কিছু পাথর চিত্রে দেখা যায় নেফারতিতি যুদ্ধরথে চড়ে একটি দন্ড উঁচিয়ে আছেন ।
এ থেকে বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন তিনি ছিলেন “সুপ্রীম অথরিটি অব দ্য ষ্টেট” । অন্য চিত্রে তাকে দেখা যায় তরবারী হাতে মিশরের শত্রুদের নিধনে ব্যস্ত ।এছাড়াও রয়েছে সভ্রান্তদের মাঝে স্বর্নপদক বিতরনের চিত্র । সব মিলিয়ে এসকল “ফ্রেসকো” থেকে যে ছবি পাওয়া যায় তা নেফারতিতিকে চিত্রিত করেছে সুন্দরীশ্রেষ্ঠা মিশর অধীশ্বরী হিসেবে । এ পর্য্যন্ত মিশরের মাটি খুঁড়ে আর কোনও রাজকীয় মহিলার এমোনতর ছবি পাওয়া যায়নি । কিংবদন্তীর ক্লিওপাত্রাকেও এমোন বেশে দেখা যায়নি ।

এই সব টুকরো টাকরা লিপি থেকে পাওয়া তথ্যে নেফারতিতির সম্পর্কে গল্পের শেষ নেই ।

অনেক বিশ্লেষকেরাই মনে করেন রোগে শোকে নেফারতিতির মৃত্যু হয়নি । বরং এসব চিন্তাকারীদের ধারনা, ফারাও আখেনাতেন এর মৃত্যুর পরে নেফারতিতি চেষ্টা করে থাকবেন রাজ্যকে ধরে রাখতে । তাই তিনি বিদেশী কাউকে বিয়ে করার প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন যা উৎকীর্ণ আছে একটি পাথরের শিলালিপিতে । শিলালিপিটি পাঠানো হয়েছিলো “হিতিস” সম্রাটের কাছে । শিলালিপিটিতে ফারাওয়ের মৃত্যু সংবাদ উল্লেখের পাশাপাশি একজন রাজপুত্রকে মিশরে পাঠানোর অনুরোধ ছিলো ।“হিতিস” সম্রাট কথামতো একজন যুবরাজকে পাঠিয়েও নাকি ছিলেন যিনি পথিমধ্যে আততায়ীর হাতে নিহত হন । উদ্ধারকৃত পাথর খন্ডের এই লিপির লেখা কাহিনী বা “থিওরি” নেফারতিতির নামের সাথে যুক্ত করেছেন এ ধরনের গবেষকরা । তাদের ধারনা সত্যিকার নেফারতিতির মমি কোনওদিনই খুঁজে পাওয়া যাবেনা । সম্ভবত তার মরদেহকে মিশরের পুরোহিতরা এমোন সমাধিতে সমাহিত করেছেন যা সহজে খুঁজে পাওয়া হবে দুষ্কর ।

কল্পনার ফানুস শেষমেশ ঠেকেছে উর্দ্ধ আকাশে – ঐতিহাসিক দলিলপত্রে নেফারতিতির অনুপস্থিতির পরপরই আর একজনের নাম পাওয়া গেছে “ সামেনখারে” (Smenkhare) যিনি আখেনাতেন এর সাথে একত্রে রাজ্য শাসন করেছেন । প্রাপ্ত কিছু শিলাচিত্রে আখেনাতেনের পাশাপাশি “সামেনখারে” কে ও দেখা গেছে । অনেকেরই ধারনা “সামেনখারে” আর কেউ নন, পুরুষবেশী “নেফারতিতি” যিনি “হাটসেপসুট”(Hatshepsut) এর মতো দীর্ঘকাল অপেক্ষা করেছেন “ফারাও” হতে । “হাটসেপসুট” ছিলেন তৃতীয় “তুথমোসিস” এর প্রধান মহিষী ।
এ ঘটনা আপনাদেরকে মনে করিয়ে দেবে “লেডী ম্যাকড্যালেন” এর কাহিনী । যীশুখ্রীষ্টের সহচরী, মতান্তরে স্ত্রী হিসাবে যাকে অনেকেই ধারনা করে থাকেন । এ্যাঞ্জেলোর আঁকা বিশ্ববিখ্যাত “লাষ্ট সাপার” তৈলচিত্রের সিরিজের কয়েকটিতে যীশুর ঠিক পেছনেই যে কাপড়ে মাথা ঢাকা পুরুষটিকে বারে বারে দেখা গেছে অনেক গবেষক মনে করেন তিনিই “লেডী ম্যাকড্যালেন” । যীশুর কাছাকাছিই ঘনিষ্ট একজন বন্ধুর বেশে ছিলেন যাতে তিনি আমৃত্যু যীশুর সাথে সাথেই থাকতে পারেন । এ আবার আর এক কাহিনী । ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে ফেলেছি হয়তো ।

তাহলে সুন্দরী নেফারতিতি কি চিরকালই রহস্যময়ী থেকে যাবেন ?
না তা হয়নি ।
নেফারতিতির যে সৌন্দর্য্যের কথা আমরা বলি বা দেখি তার অনেকগুলিই এসেছে “এল-আমারনা” য় প্রাপ্ত ধংশাবশেষ থেকে ।বার্লিনের ঈজিপসিয়ান মিউজিয়ামে ১৯২৪ সাল থেকে প্রদশিত “জেরী’স শো” তে নেফারতিতির যে আবক্ষ (বাস্ট) মূর্তিটি দেখা যায় তা শ্রেষ্ঠ শিল্পের এক অপূর্ব নমুনা ।


৩২০০ বছরের পুরোনো এই মূর্তিটি জার্মান আর্কিওলজিষ্ট Ludwig Borjardt ১৯১২ সালের ৬ই ডিসেম্বর “এল-আমারনা”র ধংশাবশেষ থেকে উদ্ধার করেন । মূর্তিটি ২০ ইঞ্চির বেশী লম্বা নয় । এখোন পর্যন্ত আসলেই মুর্তিটি নেফারতিতির কিনা নিশ্চিত প্রমান করা যায়নি । বিভ্রান্তি রয়েছে এটি নেফারতিতির কন্যা “ইতমোসিস” এর কিনা ।

এককালের সুন্দরী শ্রেষ্ঠা আর মিশরের সর্বোচ্য ক্ষমতার অধিকারী নারীটির রহস্যময়ভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে হারিয়ে যা্ওয়ার কাহিনী আর তার দেহাবশেষ নিয়ে বিভ্রান্তি কাটেনি আজো ।

।।মমির সামনে ডঃ ফ্লেচার আর নেফারতিতির কম্প্যুটারাইজড ছবি ।।
২০০৩ সালের জুন মাসে ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নত্বাত্তিক জোয়ান ফ্লেচার দাবী করে বসলেন, তিনি নেফারতিতির “মমি” খুঁজে পেয়েছেন ।
লুক্সর এর “ভ্যালী আব কিংস” খুঁড়ে ৩৫ নম্বর সিমেট্রির মধ্যে এক কোনে “মমি নম্বর – ৬১০৭২” এর ভেতরে তিনি অন্য এক নারী ও শিশুর মমির পাশে সনাক্ত করেছেন কিংবদন্তীর নেফারতিতিকে । অনেক স্বাক্ষ্য প্রমান হাজির করেছেন । নেফারতিতির মাথার বিখ্যাত নীল রংয়ের ব্যান্ড সহ লম্বা “ফ্লাট টপ” মুকুটটি যা “ক্রাউন অব ওয়র অব আখেনাতেন” এর স্বারক চিহ্ন, পাওয়া গিয়েছিলো মমি নম্বর ৬১০৭২ এর পাশে ফ্লেচারের খনন কালের অনেক আগে, উনিশ শতকে । ফ্রেঞ্চ আর্কিওলজিষ্ট ভিক্টর লোরে উনিশ শতকের শেষের দিকে নাকি এই মমি নম্বর ৬১০৭২ খুঁজে পেয়েছিলেন কিন্তু মমিগুলির শোচনীয় অবস্থা দেখে তা উদ্ধারে আগ্রহী হননি এবং এভাবেই ফ্লেচারের আগ পর্য্যন্ত তা অজানাই থেকে গেছে । ১৮৯৮ সালে এটি খনন করা হয় প্রথম তার পরে পরেই আবার ১৯০৭ সালে তা বন্ধ করে দেয়া হয় ।
ফ্লেচার দাবী করছেন, বার্লিনের ঈজিপসিয়ান মিউজিয়ামে নেফারতিতির যে আবক্ষ (বাস্ট) মূর্তিটি দেখা যায় মাথায় বিখ্যাত “ফ্লাট টপ”মুকুট সহ, সেই মুকুটটি এই মমি নম্বর ৬১০৭২ এর কাছাকাছি জায়গা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিলো এবং এল–আমারনায় প্রাপ্ত দেয়ালচিত্রেও এর স্বাক্ষ্য আছে বলে মমিটি নেফারতিতিরই । এছাড়া বার্লিনের আবক্ষ মূর্তিটির সাথে মমিটির “মরালী গ্রীবা”, চোয়ালের গড়ন ইত্যাদির মিলও রয়েছে । ফ্লেচারের এই “কনক্লুসান” বাতিল করে দিয়েছেন ঈজিপ্টোলজিষ্টরা । তারা দাবী করছেন, যে মমিটির কথা ফ্লেচার বলছেন তা একটি ১৫ বছর বয়েসী কিশোরের এবং ফ্লেচারের থিওরীকে জোড়ালো করার মতো তেমন কোনও প্রমান উনি দেখাতে পারেননি । যা দেখিয়েছেন তা “ইন্যাডিকোয়েট” আর “সারকাম্সটেনশিয়াল এভিডেন্স” মাত্র । অবশ্য যে ডিএনএ টেষ্টের কথা বলা হয়েছে তা কতোখানি গ্রহন যোগ্য তা নিয়ে বিতর্ক আছে । বহুল ভাবে নাড়াচাড়া করা হয়েছে এমোন জিনিষ এবং অতীব লম্বা সময়কাল ধরে মাটির নীচের উষ্ণতাপমাত্রায় থাকা কোনও জিনিষের ডিএনএ টেষ্ট কতোখানি নির্ভরযোগ্য, বিতর্ক তাই নিয়ে ।অবশ্য ১৯১২ সালে প্রকাশিত এক নিবদ্ধে এ্যানাটমীর অধ্যাপক স্যার গ্রাফটন ইলিয়ট স্মিথ এই মমিটিকেই এবং এর সাথে থাকা অপর মমিটিকেও পরীক্ষা করে দুটোই যে তরুনী নারী দেহ তা উল্লেখ করেছিলেন । এও বলেছিলেন যে, খুব ভালোভাবে সংরক্ষিত এই মমিটি পরীক্ষা করে এটি যে একজন নারীর তা বোঝার জন্যে এ্যানাটমীর পন্ডিত হওয়ার দরকার নেই । এটি প্রকাশিত হয় সেই সময়, যখোন এই মমিটির আইডেন্টিটি নিয়ে তেমন উৎসাহ জন্ম হয়নি খননকারীদের মধ্যে । পরবর্তীকালে রেডিওলজিষ্ট এবং ফিজিক্যাল এ্যান্ত্রোপলজিস্টদের পরীক্ষায়ও একই তথ্য পাওয়া যায় ।এইভাবে মমিটির পরিষ্কার সেক্স আইডেন্টিটি থাকার পরেও সেক্স নির্ণয়ে ডিএনএ টেষ্ট যা “কন্টামিনেশান” এর কারনে নির্ভর যোগ্য নাও হতে পারে সেই টেষ্টের জন্যে বসে থাকা বাহুল্যমাত্র ।
ডঃ জাহি হাওয়াস, মিশরীয় “সুপ্রীম কাউন্সিল অব এ্যান্টিকুইটিস” এর প্রধান ব্যক্তি অবশ্য একবার এই তরুনী নারীর মমিটিকে মধ্যবয়সী মহিলার বলে জানিয়েছিলেন । তার মতে মমিটি সম্রাট তৃতীয় তুথমোসিস এর প্রধানা মহিষী “ম্যারীতার-হাপসেতসুত” এর । আবার হাওয়াস এক ডকুমেন্টারীতে ফ্লেচারের সাথে তাল মিলিয়ে বলেছিলেন, সিমেট্রি নম্বর -৩৫ এ যে মমিটি পাওয়া গেছে তা নেফারতিতির হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী । আবার হালের ২০১০ সালের প্রথমদিকে প্রকাশিত ডিএনএ টেষ্ট এর রিপোর্ট প্রমান করে যে এটি সম্রাট আখেনাতেন এর বোন এর যিনি আবার রহস্যময় ফারাও তুতেনখামেন এর মা “কিয়া” র ।এই রিপোর্টের সহযোগী লেখক আবার ডঃ জাহি হাওয়াস ।

তাই আপনি নেফারতিতিকে খুঁজে পেতে কোনদিকে যে যাবেন এমোন একটি গোলকধাঁধার মধ্যে পড়ে আছেন ।

।। মিশরের কায়রো মিউজিয়মে নেফারতিতি । এই ছবির টুপিটি দেখে কেউ কেউ এটি "তেফনাত" এর বলে দাবী করেন ।।

শুধু এইগুলোই নয় গোলক ধাঁধা আরো আছে । নেফারতিতির উপর কোনও লিখিত সরকারী দলিল পাওয়া যায়নি তার রহস্যময় অর্ন্তধানের পরে । কারন কি ?
নেফারতিতির যে মমিটি পাওয়া গেছে বলে ফ্লেচার দাবী করছেন তাতেও চরম নিষ্ঠুরতার চিহ্ন রয়েছে । মমিটির ডান কানটি এবং একটি হাত নিখোঁজ । কুঠার জাতীয় কোনও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তা দেহচ্যুত হয়েছে ।একটি খন্ডিত হাত আবার আর এক বৃটিশ দল তাদের দ্বিতীয় অভিযানে খুঁজে পেয়েছেন পাশ্ববর্তী কফিন থেকে । এখোন এইসব তথ্য একটি পাজল (puzzle) এর মতো খাঁজে খাঁজে মেলাতে বাকী । ফ্লেচার তাই মেলাতে চাইছেন । মেলাতে চাইছেন নতুন ধর্মের প্রবর্তন করে নেফারতিতি জনগণের যে রোষানলে পড়েছিলেন এই নিষ্ঠুরতা তারই পরিনতি । এবং হয়তো নেফারতিতিকে এই নিষ্ঠুরতা দিয়েই খুন করা হয়েছে এমোন ধারনাও তার । কারন নেফারতিতির মুখেও রয়েছে আঘাতের চিহ্ন । মমি আবিষ্কারের পরবর্তী এক পরীক্ষায় এটি জানা গেছে । সম্ভবত ধারালো কোন চাকু দিয়ে এই নারকীয় কাজটি করা হয়েছে ।

এতো সব করতে গিয়ে ফ্লেচার পড়েছেন বিপদে । তাকে মিশরে প্রত্নতত্ব তল্লাশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে । নিষিদ্ধ করেছেন মিশরের “সুপ্রীম কাউন্সিল অব এ্যান্টিকুইটিস” । ডঃ জাহি হাওয়াস বলেছেন, ফ্লেচার তার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন । তিনি বলেছেন, "Dr Fletcher has broken the rules. There are more than 300 foreign expeditions currently working in Egypt, and they all follow the same guidelines. We grant concessions to any scholar affiliate to a scientific or educational institution, and it has long been accepted code of ethics that any discovery made during excavations should first be reported to the SCA. By going first to the press with what might be considered a great discovery, Dr. Fletcher broke the bond made by York University with the Egyptian authorities. And by putting out in the popular media what is considered by most scholars to be an unsound theory, Dr. Fletcher has broken the rules and therefore, at least until we have reviewed the situation with her university, she must be banned from working in Egypt.”

একেকজন বিশেষজ্ঞ বলছেন এক এক কথা । কারো কথা থেকে নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই , আসলে মমিটি কার । রহস্য আরো ঘনীভুত যখোন ধারনা করা হলো, ১৯৩৩ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে কিশোর তুতেনখামেন ফারাও পদে বহাল হলে তিনিই তার পিতা আখেনাতেন আর তার স্ত্রী নেফারতিতির গড়া সমস্ত সৌধ, মন্দির সহ যাবতীয় স্মৃতি ধ্বংশ করে ফেলেন । কারন ও আছে । কারো কারো ধারনা, নতুন ধর্ম প্রচার কালে নেফারতিতি প্রাচীন ধর্মের মন্দিরগুলো ভাঙ্গার পাশাপাশি “কিয়া” নামের আখেনাতেন এর বোন এর (মতান্তরে স্ত্রী) গড়া স্তম্ভগুলোও ভেঙ্গে ফেলেন ।আর তুতেনখামেন হলেন কিয়ার সন্তান । আর তাই নেফারতিতির মমিটি ফারাওদের সমাধিস্থলে পাওয়া যাবেনা প্রতিহিংসার কারনেই ।তাহলে নেফারতিতি কোথায় ?

।। সূর্য্যদেব "আতেন" এর পূঁজায় নেফারতিতি ।।

রহস্যময় তুতেনখামেন কি নেফারতিতির এই হারিয়ে যাওয়া নাটকের নেপথ্য রূপকার ? হতেও পারে । কারন, এমোন ধারনাও করছেন ঈজিপ্টোলজিষ্টরা যে ,নেফারতিতির পিতা “আই” যিনি তুতেনখামেনের পরে ফারাও হয়েছিলেন তার নেপথ্য হাত ছিলো তুতেনখামেনের রহস্যময় মৃত্যুতে ।

এসব কি তবে রহস্যময় অকাল মৃত্যুর কাছে পরাজিত তুতেনখামেনের অভিশাপ ? নেফারতিতি কি অভিশপ্ত ?? হতে পারে কারন তুতেনখামেন এক রহস্যের নাম …..
original post
read more

Sunday, April 8, 2012

শুয়ে বসে থাকবেন না ...........একটি স্বাস্থ্য প্যাচালী..............

by আহমেদ জী এস

জীবনে বিশ্রামের মূল্য কতোটুকু ?

জীবনটাকে পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করা থেকে দুরে থাকতে আপনার অজুহাতের কোনও শেষ নেই ।
কারন বেশীরভাগ সময়েই আপনাকে শেখানো হয়েছে, খেলাধূলো এবং বিশ্রাম “গুড ফর নাথিং”।
যখোনই আপনি একটু ফাঁকা সময় হাতে পেয়েছেন, আপনার মাথার মধ্যে কোন চিন্তাটি গজিয়ে উঠছে ?
প্রতিযোগিতার এই দৌড়ে না ভেবে উপায় নেই – “গেট বিজি” ।
অথবা ভেবেছেন, অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা, তাই । কিম্বা, অলস বসে থাকলে “বাত” এর আক্রমন হবে, এমোনটাও ভাবতে পারেন । আবার এটাও ভেবে থাকলে দোষ নেই – “পরিশ্রমেই সাফল্য” । সুতরাং.. দৌড়াও…দৌড়াও.. রান…রান…. ।
বিশ্রাম নেয়া আর আপনার হয়ে ওঠেনি । অবশ্য আপনার ধারনা, বিশ্রাম মানেই শুয়ে-বসে থাকা । হ্যা, সাধারন অর্থে বিশ্রাম মানে তাই ।
শুয়ে বসে আপনি আপনার ক্লান্ত হয়ে পড়া মাংশপেশীকেই বিশ্রাম দিতে পারেন শুধু । কিন্তু আপনার মস্তিষ্ক ? ওখানে তো চলছে সারাক্ষন ঝড় । তার কি হবে ?
আপনার মস্তিষ্ক তথা মানসিক জগতেরও বিশ্রাম প্রয়োজন হবে । এবং তা হতে হবে মধুর । চিন্তা চেতনাকে "ছুট্টি" দিয়ে নয় । তাহলে আপনি "ডাল" বা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়বেন । এটাকে রাখতে হবে সতেজ আর টৈ-টুম্বুর ।
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন তা্ -ই ।
আসলে আপনি যতো সক্রিয় বিশ্রামে থাকবেন ততোই আপনার জীবনটা সুখের হবে । কিন্তু জীবনের অধিকাংশ বাধাগুলো যেমন – ক্লান্তি, অপরাধবোধ, নিজের ছেলেমেয়েদের সাথে সংসারে হেকটিক সিডিউল, ব্যবসা-বানিজ্য, সামাজিকতা রক্ষার ঝকমারি ইত্যাদি এড়িয়ে চলা সহজ নয় মোটেই ।
এর জন্যে চাই, ভিন্নমাত্রার দক্ষতা যার সাথে আপনি পরিচিত নন । আর দরকার পরিকল্পনার ।
আপনার প্রয়োজন বিশ্রাম খুঁজে নেয়ার দক্ষতা, যা জীবনদীপ্ততার হাতিয়ার । আর এ নিয়েই অধমের এই প্যাচালী...................


শুধুই দর্শকের গ্যালারীতে বসে থাকবেননা… . . .

আমরা বড়ই হয়েছি কেবল দেখতে দেখতে, দর্শক হিসেবে । অংশগ্রহন করা হয়ে ওঠেনি অনেক কিছুতেই । কেবল পর্দায় দিন-রাত তাকিয়ে তাকিয়ে ছবি দেখা ছাড়া আমরা নিজেরা হয়ে উঠতে পারিনি পাত্রপাত্রী ।
ছবি দেখে, শাহরুখ খান কিম্বা ঐশ্বরিয়া রাই হতে তো বড্ড ইচ্ছে মনে মনে । কিন্তু ইচ্ছেগুলো ইচ্ছেই থেকে গেছে ।
সাদা পর্দায় নয়, জীবনের বিশাল পর্দায় অভিনীত ছবিতে সক্রিয় অংশগ্রহনের অভিজ্ঞতাটাই হলো গিয়ে রিয়েল ম্যাজিক । বৈষয়িক প্রাপ্তির চেয়ে এই প্রাপ্তিটুকুই আমাদের বেশী সুখী করতে পারে । আর তা তুলনাহীন, মিলবেনা অন্য কারো সাথে । তাই , আপনার সন্তানটিকে বা ছোট্ট ভাই-বোনদের যখোন আপনি শেখাচ্ছেন – “টুইংকল টুইংকল লিটল ষ্টার…”
আপনিও ওদের সাথে মিটিমিটি তারাদের মতোন জ্বলে উঠুন । কেবল দর্শক হয়ে থাকবেন না । মোটেও ভাববেন না , আপনার এই বয়সে এটা কি মানাবে ?


কাজের অপরাধবোধ সময়ের অপচয় মাত্র…. . . .


অনেক রাত পর্য্যন্ত আপনাকে কাজ করতে হয়, এমোন কি ছুটির দিনেও রেহাই নেই কাজ থেকে , বিশ্রামের সময় কোথায় ? এমোন অপরাধের অনুশোচনায় ভুগবেন না । সাইকোলজিষ্টরা বলেন, কাজ সংক্রান্ত অপরাধ বোধটি একটি “আন-রিয়েল” অপরাধ শ্রেনীর । এতে আপনি কাউকে শারীরিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেননি । আপনার এই অপরাধবোধটুকু বলছে, বিশ্রামের কোনও অর্থ নেই ।
ডোন্ট বাই ইট ।
মনের ভেতরে এই ভাবনাটুকু গড়ে তুলুন, কাল শুক্রবারের দিনটিতে আমি অফিসে বা কাজে যাচ্ছিনে ।কাল বাসার সবার ছুট্টি । ওদের দিকে নজর দিয়ে ওদের সাথে সময় কাটানোটাই আমার প্রায়োরিটি । কাজ যেটুকু বাকী রোববারে করে ফেলবো । দেখবেন একটা অহেতুক অপরাধবোধ থেকে আপনি ছাড়া পেয়েছেন । এতে আপনার মন-মেজাজ হাল্কা থাকবে, যেটা আপনি আসলেই চেয়ে এসেছেন এতোদিন ।
আপনি যদি একজন “মা” হন ভেবে দেখুন, আপনার সন্তানরা যখোন দেখবে তাদের বাবা তাদের সঙ্গ দিচ্ছে তখন আপনার খানিকটা সময় বিশ্রাম নিতে কোনও দোষ নেই কারন আপনার বাচ্চারা তখন তাদের বাবার সাথে আনন্দে মশগুল । আপনার স্বাস্থ্য আর জীবনীশক্তি পুরোপুরিই নির্ভর করছে এই রকম “কোয়ালিটি রিফুয়েলিং” এর উপর । আপনি যদি কাজটিকেই প্রাধান্য দিয়ে ভেতরে ভেতরে অনুশোচনায় ভোগেন যে, সংসারে সময় দিতে পারছেন না তাহলে আপনি যথেষ্ট বুদ্ধি মাথায় রাখেন না । যদি ভাবতে গিয়ে মনে হয়, “ধেত্তেরি তোর চাকরী…..” তাহলে বুঝতে হবে আপনার অধৈর্য্য আপনাকে বুদ্ধির শেষ মাথায় ঠেলে দিচ্ছে । বুদ্ধির শেষ মাথায় পৌছে গেলে আপনি ঘর-সংসারের নিত্যদিনের চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলার জন্যে দরকারী শক্তি আর ধৈর্য্য খুঁজে পাবেন না ।
এরকম ফালতু অপরাধবোধ আপনাকে জোরে জোরে বলবে, জীবনের মধুর ক্ষনগুলো আপনার জন্যে নয় । আপনি এর যোগ্য নন ।
আপনি বুদ্ধিধারী হলে এরকম “বোগাস” কথা কানে তুলবেন না ।



“অফ-মুড”টাকে কষে নাড়া দিন . . . . .

কখনও কখনও আপনার মুড আপনার জীবনকেই জিম্মি করে ফেলবে । প্রতিদিনই আপনাকে অনেক কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয় । কাজ থেকে বাড়ীতে ফিরে আপনার মুড থাকে বিরক্তির তুঙ্গে । এটি সাময়িক, কিন্তু জীবনের রস-কষ শুষে নিতে পারে । অনুভুতিটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।
চুপচাপ বসে না থেকে কিছু একটা করুন । ছেলেমেয়ে থাকলে তাদের সাথে আড্ডা দিতে বসে যান । ওরাও আপনাকে পেয়ে বাড়তি মজা পাবে যা ওদেরকে রাখবে তরতাজা । এটা না থাকলে সংসার পার্টনারের সাথে ঘরের কিছু কাজ সেরে ফেলুল । খুনসুটি করুন ।
ও স্যরি, আপনি অবিবাহিত । কেউ নেই বলে মুখ গোমড়া করে দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন না । সারাদিন খেটেখুটে এসে এই বিশ্রামের সময়টুকুতেও যদি জীবনে কি পেলেন এমন হিসাব কষতে বসেন, তবে দেখবেন আপনার জীবনীশক্তির সলতেটি পুড়ে পুড়ে এইটুকুন হয়ে গেছে ।
ট্রাক-স্যুট পড়ে ফেলুন আর ঝেড়ে দৌড় দিন একটা । ব্যায়ামও হবে আর আসার পথে মোড়ের ডিভিডি শপ থেকে একটা সুস্থ্য ধারার ছবি নিয়ে আসবেন । কিম্বা কিছু স্ন্যাকস । কিম্বা বন্ধুকে ফোন করুন । ঘন্টা খানেক কাটিয়ে দিন ……

বের হয়ে আসুন ঘেরাটোপ থেকে.. .. .. ..



নতুন কিছুর চেষ্টা করা সবসময়ই খানিকটা আতংকের । নিজেকে বোকা বোকা লাগবে এই ভয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না । বোকাদেরই অনেক মজা করার থাকে কারন তারা এতে নতুন কিছু শেখে । আর আপনার মগজটি তাই-ই চায় , কিছুতে লেগে থাকতে , অলস বসে থাকতে নয় । আপনি নিজেকে গুটিয়ে রাখেন এই ভয়ে যে, লোকে হয়তো ভাববে আপনি অনেক কিছুই জানেন না । এই ভীতিটাই আপনাকে অন্তর্মুখী করে ফেলবে । এ ঘেরাটোপ থেকে বেড়িয়ে আসুন । এ জাতীয় বোকামীর সাথে বাঁধা গাটছড়া খুলে ফেলুন । জাষ্ট জাম্প…জাম্প ।
ভাবতে থাকুন-“পথে এবার নামো সাথী, পথেই হবে পথ চেনা….”

খুঁজুন লম্বা সময় ধরে তৃপ্তি .. .. .. ..


ছোটখাটো স্বল্পকালীন আনন্দই কেবল নয় , খুঁজুন লম্বা সময় ধরে তৃপ্তি দিতে পারে এমোন কিছু । আপনি সাধারনত খাবার, সেক্স, শপিং, সিনেমা ইত্যাদির পেছনেই পড়ে থাকেন ।এরা হলো খন্ডকালীন ডিপোজিট যা কখনই আপনাকে লং-টার্ম ডিভিডেন্ড দেবেনা ।অথচ এর পাশাপাশি যদি আপনি এমোন কিছু করেন যেমন, প্রতিবেশী কাউকে সাহায্য করা, বাচ্চা- লালন পালনে হাত লাগানো, নতুন কোনও শখের পেছনে ছোটাছুটি , দেখবেন তার আনন্দ সব ছাঁপিয়ে দীর্ঘতর হয়েছে ।আপনার ভেতরের একান্ত চাহিদাকেই এ জাতীয় কাজ পূর্ণ করে দেবে । তৃপ্তিটা হবে বোনাস পাওনা ।

জীবন নিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন .. .. .. ..


জীবনটাকে আরো রঙীন করে তুলতে আপনার বিশ্রামের সময়টুকুকে অন্যভাবেও কাজে লাগাতে পারেন । পরীক্ষামূলক । নিজে গান গাইতে পারেন, ছবি আঁকা শুরু করে দিতে পারেন, পারেন লেখালিখি করতে । কিছু না করার থাকলে বাগানের বা টবে লাগানো গাছে পানি ঢালতে পারেন ।বাচ্চাদের ও শেখাতে পারেন এসব । ওরাও বেশ আনন্দ পাবে আর সারাদিনের ক্লান্তির পরে আপনারও বেশ ঝরঝরে লাগবে দেহ-মন ।
এখানে কোনও বিচারক বসে নেই আপনার কাজের বিচার করতে । আর আপনার কাজের কোনও বিচার করার প্রয়োজনও পড়বেনা বোধহয় ।
মনের ভেতরের এই সুইচটাকে অফ করে দিন, যা আপনাকে সবসময় বলছে – কাজ মানেই কাজ আর বিশ্রাম মানেই কিছু না করে চুপচাপ বসে থাকা ।“ওয়র্ক মাইন্ডসেট”টাকে বন্ধ রাখুন । জ্বেলে দিন মনের ভেতরের একান্ত আনন্দমুখর যে মানুষটি বাস করে তার ঘরের বাতিটিকে । কেবলমাত্র বিশ্রামের সময়টুকুতে শুধু চুপচাপ বসেই থাকবেন না । কিছু একটা করুন যাতে আপনার মনের খোরাক মেটে । মোটেও বৈষয়িক প্রাপ্তির কথা মাথায় আনবেন না । কিছু না করার খুঁজে পেলে, লাইফ পার্টনারকে কাতুকুতু দিন …..
( একটা সত্যি ঘটনা – আমার এক বন্ধু, মুনসী মানুষ, সবে অধ্যাপনায় যোগ দিয়েছে আর বিয়েটাও সেরে ফেলেছে নগদে ।একদিন পথে দেখা, হাতে তিনচারটে বিছুটি পাতার শাখা । বললাম, কিরে মুনসী- এগুলো দিয়ে কি করবি ? নির্বিধায় তার জবাব- তোর ভাবীর কনুইতে আর নাকে ঘসে দেবো । দেখবো আসলে চুলকোয় কিনা …. নতুন বৌ তো, হাসিখুশিতে রাখতে হবে…….)

অভ্যেস গড়ে তুলবে “প্যাসন” .. .. .. ..


মনের চার দেয়ালের মধ্যে আপনি হাতড়ে বেড়ালেও “প্যাসন” এর দেখা পাবেন না । আপনাকে এর মধ্যে সুড়ুৎ করে ঢুকে পড়তে হবে । লেগে থাকতে হবে যেমন লেগে ছিলেন উঠতি বয়সকালে সুন্দরী মেয়েটি বা সুন্দর ছেলেটির পেছনে । সব কাজই যে নিঁখুত ভাবে করতে হবে এমোনটা নয়, কিঁছুটা নিজে নিজে শেখার জন্যে করুন । এখানে ভুল-ত্রুটি হলেও ক্ষতি নেই । কে দেখতে যাচ্ছে ? জানবেন, প্রাইজ দিতে আপনার জন্যে ফুলের মালা নিয়ে কেউ বসে নেই । এই অভ্যেসগুনোকে উপভোগ করতে শিখুন এবং দেখবেন গেল দিনের চেয়ে আপনার পারফর্ম্যান্স আজ অনেকটা ভালো হয়েছে । এই একাগ্রতা বা প্যাসন যা – ই বলুন, যদি একবার আপনাকে দিয়ে ইঞ্জিনটি “ষ্টার্ট” দেয়াতে পারে দেখবেন আপনার জীবন নামের নিত্যদিনের রেলগাড়ীটি “কুউউ……উ………উ…….. ঝিক-ঝিক…………….” ছন্দে কি সুন্দর চলছে সারাটি হপ্তা জুড়ে ।


সুখি মানুষেরাই নতুন কিছু গড়তে জানে………


জীবন সম্পর্কে হাযারো ফিলোসফি আওড়ানো যাবে । সবচেয়ে ছোট্টটি হলো, জীবনে কিছু ঘটবে এটা ভেবে বসে থাকবেন না । য়্যু হ্যাভ টু মেক ইট হ্যাপেন ।
আপনিই হলেন আপনার জীবনের “মিউজিক ডিরেক্টর” । আপনার অবসরে আপনি জীবনের তন্ত্রীতে সুর তুলুন নিজের মতো করে । বাচ্চারা ঘুমিয়ে গেছে, ওয়েব ব্রাউজ করুন । তা নেই ? ক্ষতি কি ? আজকের খবরের কাগজটির যে লেখাগুলো পড়া হয়ে ওঠেনি সেখানে চোখ রাখুন । খবরের কাগজ রাখেন না ? বাচ্চাদের বইগুলো থেকে একটাকে টেনে আনুন । এই যাহ…….. বাচ্চারাতো এই পিচ্চি পিচ্চি, স্কুলেই যায়না !ওদের খেলনাগুলো নিয়ে খেলতে থাকুন ।অর্ধাঙ্গ বা অর্ধাঙ্গিনীকে ডাকুন । তাকেও সব কাজে সঙ্গী করুন । দেখবেন, অবসরের সময়গুলো কেমন করে যে কেটে গেছে । বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করবেন না ।
আপনি আন-ম্যারেড বা ম্যারেড ব্যাচেলর ? রাস্তার মোড়ের দোকানে গিয়ে চা-সিগ্রেট নিয়ে বসে পড়ুন । জয়েন দ্য গ্রুপ । দুনিয়ার সব জ্ঞান জুটে যাবে সেখানে । এটা পছন্দ না হলে বই নিয়ে বসুন , কিছু লিখতে টেষ্টা করুন ।
এভাবে আগামী ছুটির দিনগুনোর ছক কেটে ফেলুন । তেমন জম্পেশ করতে চাইলে বন্ধু-বান্ধবদের একত্রে করুন ।


অজুহাত গুলোকে সরিয়ে রাখুন .. .. ..


আমাদের তৃতীয় হাতটি বেশ বড় আর জোরালো – “অজুহাত” ।
পকেটে টাকা নেই বা সঙ্গীর অভাব এই অজুহাত তুলবেন না । টাকা নেই তো কি হয়েছে ? আশেপাশের পার্কে বা খোলা মাঠে গিয়ে বসুন খানিকটা সময় । প্রকৃতিকে দেখুন । গন্ধ নিন বাতাসের । একা হলেই বা ক্ষতি কি ? আপনার ভেতরের কবিটিকে ঘুম থেকে টেনে তুলুন ।
না হলে উইন্ডো শপিং করতে লেগে পড়ুন । বিচিত্র মানুষের ভীড়ে নিজেকে মিশিয়ে দিন ।
আপনার পরিবার আছে ? ছোট ছোট সময় নিয়ে বাইরে ঘুরে আসুন । সংসারের অহেতুক এবং অপ্রয়োজনীয় কিছু খরচ কমিয়ে এই অবসর সময়টুকুর পেছনে ব্যয় করুন । রাস্তার পাশে চটপটি আর ফুচকার দোকানে পা লেপ্টে বসে পড়ুন । লোকে কি ভাববে ? কিচ্ছু যায় আসে না । জীবনটা আপনার তো ? তাহলে ?

বি পজেটিভ .. ... ...


বিশ্ব-ব্রম্মান্ডের গূঢ় রহস্যটি হলো এই একটি-ই ।
পজেটিভ চিন্তা ভাবনা আপনার বডি-ল্যাঙ্গোয়েজ কে বদলে দেবে । সুখের অভিব্যক্তি চেকনাই এনে দেবে আপনার মুখের হাসিতে, চেহারায় জৌলুস ফুঁটে উঠবে, গলার স্বরে আসবে আত্মপ্রত্যয়ী টান, ব্যবহারে ফিরে আসবে পরিতৃপ্তির আমেজখানি । আর এই পরিবর্তনই আপনার গোমড়া সময়গুনোকে তাড়িয়ে দিয়ে আপনার চারপাশে বন্ধুদের জড়ো করবে, এমোনকি আপনার সাফল্যকেও এনে দেবে আপনার হাতের মুঠোয় ।
আপনার পজেটিভ চিন্তা আসেনা ? কুচ পরোয়া নেই ! ভান করুন, পজেটিভ চিন্তার । দেখবেন, মূহূর্তেই তারা কাজে লেগে পড়েছে আর আপনার বিশ্রামের সময়টিকে ভরে তুলেছে এক নতুন আলোয় ।
আপনি জানবেন – এটিই আসল, এটিই সত্য.................
original post
read more

ভুতের আছর....... নার্ভাস কথাবলী

ভুতের আছর................ নার্ভাস কথাবলী ……..
(তিন খন্ডে সমাপ্ত *** প্রথম খন্ড)

আপনাকে কি কখোনও ভুতে বা শয়তানে আছর করেছে ? কিম্বা জ্বীন-পরীতে পেয়েছে ? পায়নি ..? গুড ! পাওয়ার অবশ্য কোনও কারনও নেই ।
আপনাকে না পেলেও হয়তো শুনেছেন, অমুক কে ভুতে ধরেছে । ওঝা-ফকির চলছে ।কেউ বিশ্বাস করেন, কেউ করেন না ।
আসলে আপনার শরীরটি একটি সর্বোন্নোত প্রানীর শরীর এবং সঙ্গত কারনেই তা বেশ জটিল ।আর এর মধ্যে আপনার মগজটি হলো সবচেয়ে জটিল এবং দুর্বোধ্য ।অথচ এই মগজটি খুবই শান্তিপূর্ণ আর সার্বক্ষনিক ব্যস্ত । এর সকল ক্রিয়াকান্ডই সুক্ষ ভাবে ব্যালান্সড । তারপরেও এখানে মাঝে মাঝে ঝড় উঠতে পারে । এই ঝড় হতে পারে বাইরের পরিবেশগত কারনে অথবা শরীরের ভেতরের রাজনৈতিক কারনে । এই ঝড় বা গন্ডগোল হলেই আমরা বলি- ভুতে আছর করেছে, জ্বীন-পরীতে পেয়েছে ।
জেনে রাখুন, এই গন্ডগোলগুলি মোটেও ভুতের ভয়, শয়তানের আছর অথবা অপদেবতাদের রোষ থেকে হয়না ।
এগুলো সবই আপনার মগজে ঘটতে থাকা জৈব-রাসায়নিক ক্রিয়াকান্ডের ফল । তাই আপনার মগজে কি ঘটছে আর কি করেই বা ঘটছে তা জেনে রাখা ভালো যাতে ভুত-শয়তান-জ্বীন-পরী আপনার ত্রি-সীমানায় ঘেসতে না পারে ।
আসুন, গল্পে গল্পে তা জানি…………..

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুঃখ হলো, এ পর্য্যন্ত মানুষের মস্তিষ্ক বা হিউম্যান ব্রেইন রয়ে গেল মানুষের কাছেই অচেনা আর অনেকটা অবহেলায় ।
ইতিহাসের সমস্ত কালটা জুড়েই এই মস্তিষ্ক মানুষের মানবতা এবং মানবিক গুনাবলী প্রকাশে সক্রিয় থেকেছে । আর এ কারনেই পাখা না থাকলেও মানুষ পাখীর মতো উড়ছে আকাশে, লেজ না থেকেও মানুষ ডুব দিচ্ছে সাগরের গহীন তলে । মস্তিষ্কের কারনেই মানব ইতিহাসের দূর্যোগময় সময়গুলো কাটিয়ে মানুষ আশার আলো জ্বেলেছে । আর ধ্বংশকে রূপান্তর করেছে সৃষ্টিতে ।শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে গেছে বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষা (Scientific Exploration) আর ধারনার (Speculation) গবেষনায় তার পরেও মানুষের মস্তিষ্ক রয়ে গেছে এখোনও রহস্যময় । এমনকি এটি ফিজিওলজী ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের কাছেও রয়ে গেছে প্রায় অচেনা । কারন কি ?
কারনটি তাহলে খুলেই বলি –
আমাদের মাথার খুপড়িতে (Skull)যে মগজটুকু(Brain)আছে তার ওজন মাত্র ৩ পাউন্ড । অল্প জায়গা জুড়ে থাকা এই ব্রেইনটিতে আছে ১৫ বিলিয়ন স্নায়ুকোষ বা নিউরোন (Neuron)। কেবলমাত্র এই এতোগুলো কোষকে নিয়ন্ত্রন করা খুব সহজ একটা কাজ নয় । তার উপর রয়েছে নিউরোগ্লিয়া(Neuroglia)বা সংক্ষেপে “গ্লিয়া” নামক আর এক ধরনের কোষ যারা সর্বক্ষন নিউরোনগুলোকে পরিচর্যা আর সংস্কার করে চলেছে । এদের সংখ্যা মাত্র ১৫০ বিলিয়ন । তার উপরে আছে এদের কানেকটিং ফাইবারগুলি(Connecting Fibres)।পুরো নার্ভাস সিষ্টেম বাদ দিয়ে কেবলমাত্র মস্তিষ্কের গঠনটাই এমোন জটিল । আর এই জটিলতার কারনেই একে বুঝে ওঠা আসলেই কষ্টকর ।
কতোখানি কষ্টকর, তার একটা তুলনা করলে মন্দ হয়না – সারা পৃথিবীর সকল টেলিফোন সেটের কথাই ধরুন । পৃথিবীতে এখোন প্রায় ৬বিলিয়ন এর বেশী লোকের বাস । এই হিসেবে সারা বিশ্বের সকল টেলিফোন সেট, তাদের সংযোগ লাইন এবং সারাদিনে যে শত শত কোটি সংবাদ আদান প্রদান হচ্ছে তার বিশালতার কথা চিন্তা করুন, বুঝতে চেষ্টা করুন তার জটিলতা । আমরা যদি এই বিশালতা আর জটিলতাকে মাথায় রাখি তবে একজন মানুষের মস্তিষ্কের জটিলতার তুলনায় পার্থিব এই জটিলতা মোটেও তুলনার যোগ্য নয় ।
এই জটিলতার কথা জানার কি প্রয়োজন আপনার, এমোন প্রশ্ন উঠতেই পারে ।
এই যেমন আপনি, এই মূহুর্তে আমার এই লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ছেন কিম্বা ভাবছে“আজাইররা পোষ্ট” অথবা বিরক্ত বোধ করছেন এটা ভেবে যে কি কুক্ষনে আপনি এই ব্লগে ঢুকলেন; ইত্যাকার যে প্রতিক্রিয়া আপনার ভেতরে ঘটে চলেছে এই মূহুর্তে তা আর কিছু নয়, আপনার মস্তিষ্কের জটিলতারই বা জৈব-রাসায়নিক ক্রিয়াকান্ডের ফল ।
আপনার কি এটা জানতে ইচ্ছে করেনা, কেনই বা আপনি রেগে যাচ্ছেন, কেনই বা আপনার ভেতরে একটুখানি ভালোবাসা দানা বাঁধছে ধীরে ধীরে ? কেনই বা আপনার মনখানা হঠাৎ হঠাৎ উদাস হয়ে যাচ্ছে ? কেনই বা ভাল্লাগছেনা কিছুই ? কেনই বা আপনি এরকমটি না হয়ে ওরকম ? এগুলো জানতে হলে আপনাকে মগজের ভেতরে একটু ডুব দিতেই হবে । কারন জটিল বলে একে এড়িয়ে গেলে, জ্বীন-পরী বা শয়তানের আছর হয়েছে এমোন আজগুবী ধারনা থেকে কখনও মুক্ত হতে পারবেন না । আবার সবকিছুকেই মনস্তাত্বিক ধাঁধাঁ (Psychological Puzzle) বলে ধরে নেয়াও ঠিক হবেনা । তাহলে মস্তিষ্কের পাহাড়-উপত্যকার মনোরম পরিবেশে একটু ঘুরে এলে দোষ কি ? ঘুরে আসা না বলে, ডুব দিয়ে আসা বললেই বোধহয় বেশী যুক্তিযুক্ত হতো ।
মগজে ডুব দিতে গেলেই প্রথমে যে বাঁধাটা আসবে তা হলো ২০টি হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত মাথার খুলি বা Skull. এটি পেরিয়ে যখন আমরা মস্তিষ্কের উপরি ভাগে পৌছবো তখন সত্যিকার ভাবেই আমাদের লাগবে ডুবরীর পোষাক । কারন মস্তিষ্কের উপরিভাগে যে তিন স্তর বিশিষ্ট আবরন (Meningis)রয়েছে তার মধ্যেই রয়েছে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুয়িড (CSF)যা আপনার মগজে পুষ্টির যোগান দেয় আর বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে । এই ফ্লুয়িড বা তরলের ভেতর ডুব দিয়েই আপনি যেখানে পৌছে যাবেন সেটি হলো সেরিব্রাল হেমস্ফিয়ার (Cerebral Hemisphere)।দেখতে পাবেন এটি বাম এবং ডান, দুটি ভাগে বিভক্ত । মজার ব্যাপার হলো, ডান হেমস্ফিয়ারটি আপনার শরীরের বামদিকের সকল কাজ আর বাম হেমস্ফিয়ারটি আপনার শরীরের ডানদিকের সকল কাজ নিয়ন্ত্রন করছে । এই যেমন আপনি এখন ডান হাতটি দিয়ে মাউসটিকে ঘোরাচ্ছেন, তা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে আপনার মগজের বাম হেমস্ফিয়ারটি দিয়ে । এগুলো একটি ভৌতিক ছবিতে দেখা সাপের মতো আঁকাবাঁকা পাহাড়-উপত্যকায় ঘেরা এলাকা । এই পাহাড়ের মতো উঁচু উঁচু জায়গাগুলোকে বলা হয় Gyrus আর উপত্যকা বা নীচু জায়গাগুলোকে বলা হয় Sulcus । সব মিলিয়ে (সামনে-পেছনে-পাশে-উপরে)আপনার মগজটিকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে Frontal, Occipital, Temporal এবং Parietal Lobe বা অঞ্চল এই হিসেবে ।



এই এলাকাগুলিই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে আমাদের যাবতীয় কাজগুলি নিয়ন্ত্রন করে থাকে । যেমন Frontal Lobe আমাদের মাংশপেশীর কার্য্যক্রমকে নিয়ন্ত্রন করে থাকে । Parietal Lobe আমাদের যাবতীয় অনুভুতিগুলোকে সংগ্রহ করে থাকে । দৃষ্টিকে শাসন করে থাকে Occipital Lobe আর Temporal Lobe আমাদের কথা বলাকে নিয়ন্ত্রন করে থাকে । এছাড়াও আরো শতশত রহস্যজনক কাজকর্ম যেমন সচেতনতা, আবেগ, অনুভুতি, সৃজনশীলতা, মোহমায়া ইত্যাদিও নিয়ন্ত্রন করে থাকে এই এলাকাগুলিই ।
একটু পেছনে আর নীচে ডুব দিলেই আপনি গিয়ে পড়বেন Cerebellum (সেরেব্লাম) এলাকায় ।এই এলাকাটি মস্তিষ্ক এমনকি আমাদের শরীরের ভারসাম্য রক্ষার কেন্দ্র । এই এলাকার নিয়ন্ত্রনের কারনেই আমরা সাধারনত “হেট-মুন্ড উর্দ্ধ-পদ “ হয়ে থাকিনা । এখানেই আপনার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়াকে পরিমার্জিত (Refined) ও সমন্বিত (Co-ordinated) করা হয় । যখন আপনার চলাচলে একটি কাব্যিক ভাব এসে যায় তখন আপনার ঐ নড়নচড়নের ছন্দময় কবিতাটি এই এলাকাতেই লেখা হয় । ভালো একটা উদাহরন হলো র্যা ম্পে মডেলদের ক্যাট-ওয়াক ।যার Cerebellum যতো ছন্দময়তা সৃষ্টি করতে পারে র্যা ম্পে সে ততো দৃষ্টি নন্দন তার চলাফেরায় ।
আরো নীচে নামলে আপনি পৌছে যাবেন Lower brain stem এলাকায় ।এন্টার্কটিকার মতো মস্তিষ্কের সর্ব দক্ষিন (নিম্ন) এলাকাই এটি । এখানে আছে আবার দুটো আলাদা ষ্ট্রাকচার, একটি Pons অন্যটি Medulla. এরাই সেরিব্রাল হেমস্ফিয়ার কে স্পাইনাল কর্ড (Spinal cord)এর সাথে সংযুক্ত করেছে । আপনি যদি সমস্ত স্নায়ুতন্ত্রকে (Nervous System)বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থার সাথে তুলনা করেন তবে আপনার মস্তিষ্কটি হলো একটি বিদ্যুত কেন্দ্র (যেমন ঘোড়াশাল বিদ্যুত কেন্দ্র)আর স্পাইনাল কর্ড হলো সেই বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে যে মোটামোটা কেবল (Cable)মাটির নীচ দিয়ে প্রতিটি শহরে শহরে চলে গেছে সেরকম স্নায়ু কেবল ।বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থায় যেমন সাব-ষ্টেশন, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি থাকে তেমনি স্নায়ুতন্ত্রেও এই রকম ব্যাপার স্যাপার আছে । এই ধারনাটুকু মাথায় থাকলে স্নায়ুতন্ত্রকে বুঝতে আপনার সুবিধে হবে ।


Medulla নামক এই এলাকাটি চীরজাগ্রত একটি দেশ ।এখানে আপনি ঘুমপরীদের খুঁজে পাবেন না ।কারন এই এলাকার জনগণ (মানে নিউরোন)ঘুমায় না কখোনও কারন এরাই আপনার জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কেন্দ্র যেমন হার্ট-রেট নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র (Heart rate control centre), শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র (Centre for Breathing)কব্জা করে রেখেছে । তাই এদের ঘুমানোর কোনও সুযোগ নেই ।এরা যদি ঘুমিয়ে পড়ে, জানবেন আপনি “ওয়ান-ওয়ে টিকিট” কেটে ফেলেছেন । এই Medullaই স্পাইনাল কর্ডে এসে শেষ হয় । আপনার স্পাইনাল কর্ডটিই মস্তিষ্কের প্রধান কমিয়্যুনিকেশন কেবল যা আপনার মেরুদন্ডের হাড়ের ভিতর দিয়ে নীচে নেমে গেছে । এই কর্ডের মাধ্যমেই আপনার শরীরের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মস্তিষ্কে চলে আসে যাবতীয় সংবাদ । সংবাদগুলো হতে পারে স্পর্শ, স্বাদ, ব্যথা, শীত কিম্বা গরমের অনুভুতি ।নিউটনের তৃতীয় সূত্র – এ্যাকশান ইক্যুয়াল টু রিএ্যাকশানের মতো এই অনুভুতিগুলোর প্রতিক্রিয়াই আবার আপনার মস্তিষ্ক থেকে স্পাইনাল কর্ড বেয়ে প্রয়োজনীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পৌছে যাবে । সুতরাং স্পাইনাল কর্ডে দু’ধরনের তার (Cable) থাকতে হবে ।আপনার গৃহকর্মে ব্যবহৃত প্রচলিত ইলেকট্রিক তারে যেমন দু’রঙের তার দেখতে পান তেমনটি । এর একটিকে আমরা বলি – Sensory fibre যা অনুভুতিগুলোকে মগজে নিয়ে আসে আর অন্যটি হলো Motor fibre যা মগজের নির্দেশকে পৌছে দেয় প্রান্তীয় অঞ্চল পর্য্যন্ত ।
এ পর্য্যন্ত আপনি মগজের ভৌগলিক (Geographical Areas)ও জনসংখ্যাগত (Neural Population)তথ্য সম্পর্কে জেনেছেন । এবারে আসুন এই Neural Population এর পলিটিক্যাল সিচ্যুয়েশানে । এতো শক্তিশালী হয়েও মগজের কিন্তু নিজস্ব কোনও প্রাকৃতিক সম্পদ (Natural Resources)নেই । মগজের জন্যে জ্বালানী হিসেবে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং পুষ্টিকে ( প্রধানত গ্লুকোজ ) আনতে হয় বাইরে থেকে । তাই হার্ট, ফুসফুস, পাকস্থলীর উপর তাকে দখলীসত্ব কায়েম রাখতেই হয় । অর্থাৎ এ্গুলোর সাহায্য ছাড়া মগজ অচল । এই আভ্যন্তরীন চাহিদা মেটাতে মগজকে তাই নিয়ন্ত্রন রাখতে হয় শরীরের শ্বাস-প্রশ্বাস, খাদ্যবস্তু হজম, রক্ত-সঞ্চালন ইত্যাদি জীব-দৈহিক কাজকর্মের উপরে । নিজের জন্যে আপনার মগজটি শরীরের রক্ত-সঞ্চালনের এক তৃতীয়াংশই বরাদ্দ দিয়ে রাখে, যদিও শরীরের ওজনের মাত্র ২% মগজটির ওজন ।জাষ্ট লাইক আ ডিক্টেটর …..
original post
read more

ভুতের আছর……………..নার্ভাস কথাবলী (দ্বিতীয় খন্ড)


এইসব করতে গিয়ে আপনার মগজকে একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ভেতর দিয়ে যেতে হয় । তাই আপনার সম্পূর্ণ স্নায়ুতন্ত্রটি একটি কেন্দ্রীয় (Central)এবং একটি প্রান্তিক (Peripheral)স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে গঠিত । একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার সাথে যদি একে তুলনা করা যায় তবে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, যা Brain এবং Spinal cord নিয়ে গঠিত তা সংসদ, মন্ত্রী-পরিষদ, সচিবালয় ইত্যাদির মতোই একত্রে কাজ করে থাকে । আপনার মগজটিকে যে Frontal, Occipital, Temporal এবং Parietal Lobe এই হিসেবে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে সেইসব এলাকাতেই আছে এক একটি মন্ত্রীর দফতর ।আর মন্ত্রীর দফতরে যেমন আছে সেক্রেটারী, সেকশন অফিসার, অফিস কারনিক ইত্যাদিরা যারা একই দফতরের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত, তেমনি আপনার মগজের সেইসব এলাকাতেও আছে একই মন্ত্রনালয়ের আলাদা আলাদা কাজের জন্যে এক একটি টেবিল অর্থাৎ সক্রিয় এলাকা । যেমন এই লেখাটি পড়তে গিয়ে আপনাকে মাউসটিকে নাড়াতে হচ্ছে । খেয়াল করুন, আপনার হাতের কোন কোন আঙুল এই কাজে ব্যস্ত ।জেনে রাখুন, আপনার প্রতিটি আঙুলের নড়াচড়া বা মুভমেন্টের জন্যে আলাদা আলাদা এলাকা বা “সেন্টার” রয়েছে । এখোন ধরা যাক, আপনার তর্জনীকে (ইনডেক্স ফিঙার)নাড়াতে পারছেন না । কি হয়েছে ? আপনার তর্জনীকে নাড়াতে যে সেন্টারটি দায়ী তাদের লোকজন (নিউরোনগুলি) হরতাল ডেকে বসেছে । অথবা এখানে লোড-শেডিং হয়েছে যাতে কাজকর্ম সাময়িক ভাবে বন্ধ রয়েছে । আর যদি এখানকার নিউরোনগুলিকে ক্রস-ফায়ারে ফেলে দেন (অর্থাৎ নিউরোনগুলি মরে যায়) তবে ইহজন্মে আপনি আর তর্জনী তুলে কাউকে শাসাতে পারবেন না ।খুব সহজ ভাবে এটুকু মনে রাখুন ।ছবিতে দেখতে পারেন ।




হরতাল, লোড-শেডিং, ক্রস-ফায়ার ইত্যাদির পেছনে নিশ্চয়ই কিছু না কিছু কারন আছে, তাইনা ?এইগুলি হলো প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রম ।
তাহলে আসুন, মগজের লক্ষ লক্ষ কাজের পেছনে প্রচলিত নিয়মটি কি কিম্বা কাজটি কি করে হচ্ছে জেনে নেয়া যাক –

আগেই জেনেছেন আপনার স্নায়ুতন্ত্রে Sensory fibre এবং Motor fibre নামের দুধরনের “তার” রয়েছে । এই তারগুলো আর কিছুই নয়, এক একটি নিউরোন বা স্নায়ুকোষ পরষ্পর জোড়া লেগে লেগে একটি তার/সুতো বা আঁশ (fibre)তৈরী করেছে । যেখানে একটি নিউরোন অপরটির সাথে সংযুক্ত হয়েছে সে স্থানটিকে বলা হয় “সিন্যাপস”(Synapse বা নার্ভ জাংশান)।
একটি স্নায়ুকোষের সংকেত রিসিভারকে আমরা বলি “ডেনড্রাইট” (Dendrite)। আর সেন্ডার যা পরবর্তী কোষে সংকেতটিকে প্রেরন করে থাকে তাকে আমরা বলি “এ্যাক্সন” (Axon)। এই Axon গুলিই পরস্পর মিলেমিশে তৈরী করেছে সংকেত আদান প্রদানের Communication Systemটির যাকে আমরা মস্তিষ্কের White Matter বলি ।আপনি অনেক সময় কাউকে বলে থাকেন, “তোর মাথায় গোবর ভরা” ।আসলে আপনি না জেনেই তার মগজে যে White Matter এর ঘাটতি আছে তাকেই বোঝান । প্রায় ৩০০ মিলিয়ন এ্যাক্সন মিলেমিশে কর্পাস ক্যালোসাম (Corpus callosum)নামের এই সাদা অঞ্চলটি গঠন করে মস্তিষ্কের ডান ও বাম অঞ্চল দুটোকে সংযুক্ত করেছে । গুচ্ছ গুচ্ছ White Matter মিলেমিশে আবার তৈরী করেছে Nerve Tracts এর ।এই Tractsগুলি আপনার মস্তিষ্কের সকল অঞ্চলগুলির পরস্পরের মধ্যে সংবাদ আদান প্রদানের একটি জটিল নেটওয়ার্ক তৈরী করেছে যেমনটি আপনি দেখে থাকেন আমাদের প্রচলিত টেলিফোন সিস্টেমে ।বিজ্ঞানীরা বলছেন এই নেটওয়ার্ক আপনার মস্তিষ্কে জন্ম থেকেই “ফিক্সড” নয় । আপনার প্রতিদিনকার নতুন নতুন অভিজ্ঞতার আলোকে আপনার আগে থেকেই থাকা নেটওয়ার্কে নতুন নতুন সংযোগ তৈরী হয়ে যাচ্ছে ।
এই সংকেত আদতে একটি জৈব-রাসায়নিক সংকেত অর্থাৎ বায়োকেমিক্যাল মেসেজ ।


বিভিন্ন Synapse এলাকাতেই যে বায়োকেমিক্যাল ক্রিয়াকান্ড ঘটে থাকে তা-ই আপনার জীবনের ছন্দ । এই বায়োকেমিক্যাল ক্রিয়াকান্ডের ফলাফলের নামই Life বা জীবন ।
কখোনও কখোনও এমোনটা হয়, আমরা জীবনের হিসাব মেলাতে বসি । অনেকেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে থাকেন “জীবনের খাতায় সব শূন্যই জমা হলো যোগ হয়নি কিছুই ” । আপনি যদি এরকমটা বলে থাকেন তবে আপনি Life বা জীবনের গূঢ় তত্ত্বটিই জেনে বা না বুঝেই বলে ফেলেছেন । কারন জীবনের সব বায়োকেমিক্যাল ক্রিয়াকান্ড আর কিছুই নয়, যোগ-বিয়োগের খেলা । সাদামাটা কথায় আমরা যাকে বলি “প্লাস” আর “মাইনাস” । কিন্তু একজন বায়োকেমিষ্ট এগুলোকে বলবেন, “পজেটিভ আয়ন” আর “নেগেটিভ আয়ন” । আপনি কেমেষ্ট্রির ছাত্র হলে বুঝেই ফেলেছেন এই “পজেটিভ আয়ন” আর “নেগেটিভ আয়ন” আর কিছুই নয়, আপনার দেহ গঠনের উপাদানগুলো যেমন সোডিয়াম, ক্যালশিয়াম, ক্লোরিন, বাই-কার্বোনেট, পটাশিয়াম ইত্যাদি আয়ন ।
আপনার দেহকোষ তথা এই নিউরোনগুলির ভেতরে বাইরে এদেরই আদান প্রদান চলে । যোগ বিয়োগের খেলা ।
আপনি একটি ব্যাটারীতে দেখবেন একপ্রান্তে “+” অন্যপ্রান্তে “-” এইরকম চিহ্ন দেয়া আছে । আপনি এটা জানেন যে, এই ব্যাটারীর যোগ বিয়োগের কারনেই ব্যাটারী থেকে বিদ্যুত উৎপন্ন হয় আর গাড়ী চলে । আপনার দৈনন্দিন জীবনটাও অর্থাৎ সমস্ত কর্মকান্ডই এই যোগ বিয়োগের কল্যানেই চলতে থাকে । এই প্রক্রিয়াটিই হলো মূল ।জীববিজ্ঞানীরা বলেন “এ্যাকশান পটেনশিয়াল” ।
আপনার দেহের যে কোনও Synapse এলাকাতেই যে বায়োকেমিক্যাল ক্রিয়াকান্ড ঘটে থাকে তার শুরুটাই “এ্যাকশান পটেনশিয়াল” দিয়ে । এই এ্যাকশান পটেনশিয়াল শুরু হলেই আপনার Synapse (দুটি নিউরোনের সংযোগ) এর প্রথম নিউরোনটির ডগা (নার্ভ এন্ডিং) থেকে একধরনের রাসায়নিক রস (Chemical substance) নিঃসৃত হবে । যাকে আমরা বলি “নিউরোট্রান্সমিটার” (Neurotransmitter)। প্রথম নিউরোনটির ডগা (নার্ভ এন্ডিং) থেকে যে নিউরোট্রান্সমিটারটি নিঃসৃত হবে সেটি Synapse গঠনকারী দ্বিতীয় নিউরোনে প্রবেশ করবে । এটি হলো একটি অনুভুতির বা Impulse এর যাত্রা শুরুর পদ্বতি যা একইভাবে তৃতীয় সেখান থেকে চতুর্থ এইভাবে একটি নার্ভ ফাইবারের পরবর্তী সবগুলি নিউরোন বেয়ে আপনার মস্তিষ্কের যেখানে যেখানে যাবার সেখানে হাজির হবে । আর আপনি একটি অনুভুতি পেয়ে যাবেন ।আপনার শরীরে এই রকম অনেক নিউরোট্রান্সমিটার রয়েছে যাদের কাজ আবার ভিন্ন ভিন্ন । এক এক ধরনের নিউরোট্রান্সমিটার আপনাকে এক এক ধরনের অনুভুতি বা Information দেবে আর তার বিপরীতে আপনার দেহযন্ত্র এক এক নির্দিষ্ট ধরনের সাড়া দেবে ।



মনে করা যাক, আপনি একটি বিছুটি পাতা ছুঁয়ে ফেলেছেন । আপনার স্পর্শ এলাকার নার্ভ এন্ডিং থেকে “হিস্টামিন” নামের একটি নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত বা Release হবে ।এই নিঃসৃত নিউরোট্রান্সমিটারটি পরবর্তী নিউরোনের রেসেপ্টরের সাথে সংযুক্ত হবে ।অর্থাৎ সংকেতটি বা Information টি গ্রহন করা হলো এবং তা এভাবেই আপনার মস্তিষ্কে পৌছে যাবে আর এই“হিস্টামিন” নিঃসরনের ফলে আপনি চুলকানীর অনুভুতি পাবেন । তখন আপনার বিছুটি পাতা ছোঁয়ার স্থানে আপনি চুলকোতে থাকবেন । আপনার শরীরে যদি হিষ্টামিনের ঘাটতি হয় তবে আপনার চুলকানী খুব কম হবে বা একবারেই হবেনা । এন্টি-হিস্টামিন জাতীয় ঔষধ খেয়ে আপনি এই কাজটিই করে থাকেন । আবার ধরুন, আপনার আঙুল আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকাকে স্পর্শ করেছে । এবারে কিন্তু হিস্টামিন নয়, আপনার নার্ভ এন্ডিং থেকে বেরুবে “এ্যাড্রেনালিন”। আপনার শরীরে এই স্পর্শের কারনে যা যা ঘটবে তা এই “এ্যাড্রেনালিন” এর কাজ । আপনার হার্ট রেট বেড়ে যাবে, শরীরে উষ্ণতা ছড়াতে থাকবে ইত্যাদি ইত্যাদি ।
আর এভাবেই আপনার শরীর বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটারের কারনে বিভিন্ন অনুভুতি লাভ করবে আর সাড়া দেবে । অর্থাৎ আপনার রাগ-অনুরাগ, মায়া-মমতা, ঘৃনা-ভালোবাসা, উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ইত্যাদি কেবল এই নিউরোট্রান্সমিটারগুলির খেলা ।অর্থাৎ নিউরোট্রান্সমিটারগুলিকে যদি আপনি স্নায়ুর শব্দ (Neural Words)হিসেবে ধরেন তবে নিউরোনগুলি বিভিন্ন ভাষাতে কথা বলে ।
বেঁচে থেকে ঠিকঠাক কাজ করতে হলে আপনার মস্তিষ্ককে অবশ্যই এই রকম জটিল একটি মিডিয়া-নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে যাতে করে যে কোনও অনুভুতি যেমন তাপ, চাপ, স্পর্শ, ব্যথা ইত্যাদির জন্যে আপনি সঠিক রেসপন্স করতে পারেন । এই নেটওয়ার্কের তারগুলি স্পাইনাল কর্ড থেকে ব্রেইন এবং ব্রেইন থেকে স্পাইনাল কর্ডের মধ্যে সংযোগ দিয়ে থাকে । আর মস্তিষ্কে এভাবেই Information এর পাহাড় জমা হতে থাকে ।মজার ব্যাপার হলো, আপনার মস্তিষ্ক এইসব ইনফর্মেশানের অধিকাংশরই কোনও জবাব দেবার বা রেসপন্স করার প্রয়োজন বোধ করেনা । যেমন, আপনি একটি জুতো পায়ে দিয়েছেন যা আপনাকে আরাম দিচ্ছে – এইরকম একটি Sensory Input এর জন্যে আপনার মগজটি মাথা ঘামাবেনা । এটাকে ইগনোর করবে । কিন্তু যদি দেখা যায় জুতোর একটি ফুটো দিয়ে আপনার পায়ের বুড়ো আঙ্গুলটি বেরিয়ে গেছে অথবা একটি পেরেক জুতোর নীচে ঢুকে আপনাকে ব্যথা দিচ্ছে তখন কিন্তু আপনার মগজটি মাথা ঘামাতে শুরু করবে । এই Sensory Input এর জন্যে আপনার মগজটি Motor Output অর্থাৎ কার্যকরী নির্দেশ প্রদান করবে যথাযথ অঙ্গপ্রতঙ্গকে । প্রান্তীয় এলাকা পর্য্যন্ত বিস্তৃত এই যে স্পাইনাল কর্ড এর মধ্যে দিয়ে Sensory আর Motor Fibre এর নেটওয়ার্ক তাকে আমরা বলি Spinal Nerves । আপনার শরীরে এইরকম ৩১ জোড়া Spinal Nerves আছে । এরাই হলো আপনার শরীর-রাষ্ট্রযন্ত্রের স্থানীয় সরকার বা Local Government বা প্রান্তিক স্নায়ুতন্ত্র ।



এরা তো আপনার মগজে তথ্য (Information) পাঠিয়েই ক্ষান্ত । সংবাদ মিডিয়ার মতো কাজ করছে এরা । কিন্তু Intelligence Report পাঠানো তো তাদের কাজ নয় । তাই মানুষের তৈরী সরকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের জন্যে তার নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ বা অন্যান্য সংস্থার কাছে একটি ঘটনার পেছনের Intelligence Information চেয়ে থাকে তেমনি আপনার মগজেরও রয়েছে Intelligence Services যারা আপনার মগজকে তথ্যসমূহের ভেতরকার গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট পাঠিয়ে থাকে । এরা হলো “ক্রানিয়াল নার্ভস” (Cranial Nerves)যারা আপনার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অধীন ।আপনার রয়েছে এরকম ১২ জোড়া Cranial Nerves যাদের কাজ হলো বিশেষ সংবাদ প্রদান । যেমন, Optic Nerve টি আপনার দৃষ্টিকে ধারন করবে; Olfectory Nerve কোনও কিছুর গন্ধকে ধারন করবে আবার Cochlear Nerve আপনার শ্রুত শব্দাবলীকে ধরে রাখবে । এদের পাঠানো তথ্যের বিচার বিশ্লেষনের উপর ভিত্তি করেই আপনার শরীর পরবর্তী পদক্ষেপটি নেবে ।
মনে করা যাক, একটি খাদ্যবস্তু হাতে নিলেন, আপনার চোখ বললো এটি তেতুল ।এই তথ্যটি চলে গেল আপনার লালা গ্রন্থিতে । অমনি আপনার মুখে লালা ঝড়তে লাগলো । গন্ধ নিয়ে দেখলেন গন্ধটা কেমন কেমন ।এই তথ্যটিও চলে গেল আপনার মগজ হয়ে লালা গ্রন্থিতে । আপনার লালা ঝড়া বন্ধ হয়েও যেতে পারে । এই সময় আপনার বন্ধুটি বললো , এটা মুখে দিস না- কারন মাছি পড়েছে এতে । আপনি তা শুনলেন । এখন কি করবেন ? আপনি এখোন যা করবেন তা কিন্তু করবেন প্রাপ্ত সব তথ্যের বিচার বিশ্লেষন করেই । অর্থাৎ আপনার কেন্দ্রীয় এবং প্রান্তিক স্নায়ূতন্ত্র এখানে এক যোগে কাজ করে যে সিদ্ধান্তে আসবে আপনার এ্যাকশানটি হবে তা-ই ।
ব্যক্তি আপনি এখানে আপনার স্নায়ুতন্ত্রের ক্রীড়ানক । আপনার স্নায়ুতন্ত্র ব্যক্তি-আপনাকে দিয়ে শুধু কাজগুলো করিয়ে নেবে ।
original post
read more

ভুতের আছর……………..নার্ভাস কথাবলী (শেষ খন্ড)

by আহমেদ জী এস


এবারে আসুন আমরা জীবনের চমকপ্রদ অংশে প্রবেশ করি । আবেগপ্রবনতা আর অনুভুতি ছাড়া জীবনের কোনও রং নেই, এটা আমরা সকলেই জানি । কিন্তু জানিনা যে এগুলো হলো কতকগুলি জৈব রাসায়নিক ক্রিয়ার ফল । এগুলো হলো আপনার মগজের প্যাসনেট সার্কিট (Passionate Circuits) এর কাজ । এই সার্কিটের প্রধান অংশই হলো লিম্বিক সিস্টেম (Limbic System)যার কিছু অংশ Corpus callosum, Frontal এবং Temporal Lobe এ অবস্থান করে এবং অংশ বিশেষ Hypothalamus নামক এলাকায় প্রবেশ করে । এই সিষ্টেমের মধ্যে আরো আছে Cerebral Cortex এর অংশ বিশেষ এবং Amygdala নামের এলাকাগুলি ।আপনার মগজের এই লিম্বিক সিষ্টেমের বিভিন্ন অংশকে উত্তেজিত করা গেলে আপনি ভয়ঙ্কর রেগে যেতে পারেন, ভয় পেতে পারেন, আক্রমনাত্মক আচরন করতে পারেন এবং যৌনতার সাথে সম্পৃক্ত অনুভুতিগুলোকে জাগিয়ে তুলতে পারেন । আপনার এই মানসিক পরিবর্তনগুলো লিম্বিক সিষ্টেমের নেটওয়ার্কের মধ্যে দিয়ে মগজের হাইপোথ্যালামাসে পৌছুবে । আর এখান থেকেই আপনার শরীরের মহামূল্যবান ও অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গে যে সিগনাল যাবে তাতে ঐ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নাটকীয় ঘটনাবলী ঘটতে থাকবে । মনে রাখতে হবে মানুষ এ পর্য্যন্ত এই কৌতুহলোদ্দীপক লিম্বিক সিষ্টেমের কনামাত্র জানতে পেরেছে ।যেমন আপনি “স্বপ্ন” কেন দেখেন তার রহস্য এখনও মানুষ ভেদ করতে পারেনি ।গবেষনা চলছে – চলবে !



এই লিম্বিক সিষ্টেমের মধ্যেই আছে আপনার শিক্ষার এলাকা ।Hippocampus হলো আপনার শিক্ষামন্ত্রনালয় । মগজের এই এলাকাটি আপনাকে শিখতে সাহায্য করবে । যেমন আপনি এই লেখাটি থেকে যদি কিছু শিখতে চান তবে এই এলাকাটিই আপনার মগজকে সাহায্য করবে কতোটুকু তথ্য আপনি আপনার মগজে জমা রাখবেন “মেমরী” হিসাবে তা ঠিক করতে ।অর্থাৎ Hippocampus এলাকাটি যার যতো বেশী সক্রিয় তিনি ততো বেশী মেমরীতে রাখতে ও বেশী শিখতে পারবেন । এই লেখাটি পড়তে পড়তে আপনি এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আপনার Hippocampus কতোটুকু সক্রিয় ?
আপনার Amygdala এলাকাটি আপনার মগজের Cortical Area থেকে পাঠানো শ্রবন ও দৃষ্টির বিশদ তথ্য গ্রহন করবে আর তা থেকে আপনার রাগ-ক্রোধ বা ভীতি জন্ম নেবে । এবং এই এলাকাটিই আপনার মগজকে সাহায্য করবে ঐ পরিস্থিতিতে আপনার ব্যবহার ঠিক কি ধরনের হওয়া উচিৎ তা নির্ণয় করতে । অর্থাৎ আপনি যদি আপনার প্রেমিকাকে আসতে দেখেন তখন আপনার এই Amygdala এলাকাটিই আপনাকে পরিস্থিতি বুঝে নির্দেশ দেবে আপনি পালিয়ে যাবেন (যদি পকেটে পয়সা না থাকে ) নাকি তাকে নিয়ে চাইনিজ খেতে (যদি পকেট ভারী থাকে) যাবেন ।
আপনার মগজে যে উঁচু উঁচু পাহাড় আছে তাদের একটির নাম Cingulate gyrus (সিঙ্গুলেট জাইরাস /গাইরাস)যা তার অবস্থানগত কারনেই গুরুত্বপূর্ণ । এই অংশটি আপনার মগজের মূল অংশের (Cerebral Cortex)Sensory এবং Motor এলাকার সাথে লিম্বিক সিষ্টেমের যোগাযোগ ঘটিয়ে থাকে । এবং সম্ভবত এটিই মগজের উচ্চ Neural regions বা বিশেষ ভাবে সমৃদ্ধ স্নায়ুকোষ এলাকা ও মগজের সবচেয়ে মৌলিক অংশ আবেগ এলাকার (Passionate core)মধ্যে দালালীর (mediator) ভুমিকায় নেমে পড়ে । এই Cingulate gyrus এর কর্মক্ষমতার কারনেই কেউ আপনাকে আবেগপ্রবন, আবার এর কারনেই কেউ আপনাকে আবেগহীন বলে ভাবতে পারেন ।



আর শেষমেশ আপনার Hypothalamus । মস্তিষ্কের এই এলাকাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । আপনার সকল কাজের নিয়ন্ত্রন করবে এই এলাকাটিই, ঠিক প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয়ের মতো । এই Hypothalamus নামের অংশটি লিম্বিক সিষ্টেমের সকল অংশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য পেয়ে থাকে আর সেই তথ্যের বিচার বিশ্লেষনের উপর ভিত্তি করেই আপনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিশেষ করে ভাইটাল অর্গান সমুহকে যথাযথ কাজের নির্দেশ প্রদান করে । আপনার শরীরের অতি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন “হরমোন”ও এই এলাকা থেকেই নির্গত হয় ।যেমন আগের উদাহরনটিতে আপনার প্রেমিকার কথা বলা হয়েছে তাকে দেখলেই আপনার Hypothalamus আপনার হার্টকে বলবে বেশী করে লাফাতে ।এই নির্দেশগুলো বা সংকেত যাবে নিউরোট্রান্সমিটার আর হরমোনের বেশ ধরে । খেয়াল করে দেখুন, প্রেমিক বা প্রেমিকাকে দেখতে পেলে কার না বুক লাফাতে থাকে ? এসবই কিন্তু জ্বীন-পরীতে পাওয়া নয়, আপনার নার্ভ এন্ডিং থেকে বিশেষ বিশেষ নিউরোট্রান্সমিটারের নিঃসরনজনিত বায়োকেমিক্যাল রি-এ্যাকশান যা আগেই আপনি জেনেছেন ।
আসলে আপনার মগজটি একটি জটিল অধ্যায় আর এতে যে নিউরোন জগৎ রয়েছে তা খুবই শান্তিপূর্ণ এবং সার্বক্ষনিক ব্যস্ত । আর এগুলো খুব সুক্ষভাবে ব্যালান্সড । তারপরেও এখানে মাঝে মাঝে ঝড় উঠতে পারে । এই ঝড় হতে পারে বাইরের পরিবেশগত কারনে অথবা ভিতরের রাজনৈতিক কোন্দলের কারনে । আর এই কারনেই সাইকিয়াট্রিক সমস্যাগুলোর জন্ম । এই সমস্যাগুলো ঘটে থাকে মূলত নিউরোনগুলির কমিয়্যুনিকেটিং সার্কিটের গন্ডগোলের কারনে । সার্কিটের গন্ডোগোল আপনার আচার আচরনে অস্বাভাবিকতা এনে দেবে যার কারনে লোকে বলবে আপনাকে শয়তানে আছর করেছে, জ্বীনে-ভুতে ধরেছে । আপনি তো জানলেন , এ অস্বাভাবিকতা মোটেও ভুতের ভয়, শয়তানের আছর অথবা অপদেবতাদের রোষের ফল নয় । সবই আপনার মগজের এবং স্নায়ুতন্ত্রের জৈব রাসায়নিক ক্রিয়া । বিজ্ঞান এগুলোকে জানছে প্রতিদিন একটু একটু করে ।

এই সাইকিয়াট্রিক সমস্যা বা সাইকিয়াট্রিক অসুস্থতা যাই বলুন না কেন এগুলো আর দশটা রোগ যেমন ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস এর মতোই একটি শারীরিক রোগ ।আপনার আমার মতো ৪৮ শতাংশ লোকদের ভিতরেই জীবনে তা একবার না একবার জন্ম হতে পারে আর তা দেখা দিতে পারে বিভিন্ন ফর্মে । কিন্তু মানসিক রোগের এই লক্ষনগুলি যতোই বিরক্তিকর আর অস্বস্তির হোক না কেন তারা আসলেই কোনও না কোনও ভাবে আপনার চিন্তা অথবা কাজের গন্ডোগোলের ফল । আর যেহেতু আপনার সব কাজের পেছনেই রয়েছে নিউরোন, তাই মানসিক অসুস্থতা মানেই নিউরোনের অসুস্থতা (Neuropsychiatric illness)।
এই অসুস্থতার আসল কারন এখনও অজানা । যে ডিজিজ প্রসেস এদের পেছনে কাজ করছে তা এতোই সুক্ষ যে আপনি যদি একটি শক্তিশালী অনুবীক্ষন যন্ত্র দিয়ে তাকে দেখতেও চান, খুঁজে পাবেন না ।তবে অনেক বিজ্ঞানীই মনে করছেন যে, মানসিক এই রোগগুলি আপনার মগজের বিশেষ বিশেষ অংশে নিউরোট্রান্সমিটারগুলির পরিবর্তিত কর্মের (Altered Activity)ফল । সোজা কথায় – আকামের ফল ।
মানসিক অসুস্থতার, অস্বাভাবিক চিন্তার অথবা উল্টোপাল্টা কাজের লক্ষনগুলি আর কিছুই নয় আপনার মগজের নিউরোট্রান্সমিটারগুলির অস্বাভাবিক বা পরিবর্তিত কার্য্যকলাপ। তাহলে আপনাদের জানা উচিৎ মগজের নিউরোট্রান্সমিটারগুলির আসল কাজ কি ।সবগুলি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ এখানে নেই তাই বেছে বেছে প্রধান কয়েকটি নিয়ে আমি আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখতে চাই ।

প্রথমেই Serotonin (সেরোটোনিন)এর কথা দিয়ে শুরু করি ।

আপনার শরীরে ৫ থেকে ১০ মিলিগ্রাম Serotonin আছে যার ৯০% ই থাকে আপনার অন্ত্রে আর বাকী অংশ থাকে অনুচক্রিকা আর মগজে ।এটি আপনার শিক্ষা(Learning), আপনার ঘুম(Sleep)এবং মানসিক ভাব(Mood)এর নিয়ন্ত্রক । আপনার মগজে বা শরীরে এর ঘাটতির বা উল্টোপাল্টা কাজের কারনে আপনাকে বিষন্নতা রোগে (Depression) পেয়ে বসবে । এমোনকি আপনি কখনও খানিক উত্তেজিত আবার পরক্ষনেই ম্রিয়মান হয়ে পরবেন । আপনার এমোনটি হলে , আপনাকে ভুতে বা পরীতে পেয়েছে এটা ভেবে বসলে দোষ কার ? আবার এই Serotonin ঠিকঠাক থাকলেও হতে পারে এটি সিন্যাপসে (Synapse)বেশীক্ষন স্থায়ী হচ্ছেনা ।অর্থাৎ তার কাজের স্যিগনাল মগজে পাঠাতে পারছেনা ঠিকমতো । কি হবে ? আপনার বিনিদ্র রাত কাটবে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে অথবা ঘুম আসছেনা বলে রাত দু’টোর সময়ে উঠে ঘরে পায়চারী শুরু করে দেবেন । আপনার মেজাজ-মর্জির কোনও ঠিক-ঠিকানা থাকবেনা । শেখার আগ্রহ কমে যাবে । কেউ বোঝাতে আসলেও আপনি বুঝতে চাইবেন না । এখোন লোকে যদি ভেবে বসে, আপনাকে শয়তানে আছর করেছে তবে তাদের খুব একটা দোষ দেয়া যাবে কি ?

এবারে Dopamine (ডোপামিন) এর কথা – মগজের একটি প্রধান নিউরোট্রান্সমিটার ।

এটি মগজের বিশেষ একটি এলাকায় (Basal Ganglia)কাজ করে আপনার নড়াচড়া বা মুভমেন্টকে নিয়ন্ত্রন করে । হয় Dopamine বা Dopamine Neurones এর স্বল্পতা আপনার নিয়ন্ত্রিত এবং সাবলীল চলাফেরাকে বিঘ্নিত করবে ।হাত-পা কাঁপতে পারে এবং শেষমেষ আপনাকে Parkinson’s disease এ পেয়ে বসতে পারে । লোকে ভাববে আপনার শরীরে অপদেবতাদের ভর হয়েছে ।
আপনার মগজের Frontal Lobe এলাকায় Dopamine এর উপস্থিতি অন্যএলাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহকে নিয়ন্ত্রন করবে ।যার ফলে আপনার স্মৃতি, একাগ্রতা, সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা জাতীয় বুদ্ধিদীপ্ত কাজগুলি নিয়ন্ত্রিত হবে । আর যদি Dopamine এর ঘাটতি কিম্বা এদের কমিয়্যুনিকেটিং সার্কিটের গন্ডোগোল হয় তবে কি হবে ? আপনার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হবে, একাগ্রতা হারিয়ে যাবে বুদ্ধি যাবে ঘোলাটে হয়ে । সহজ অংক, দু’য়ে দু’য়ে যে চার হয় তাও আপনি সহজে বুঝে উঠতে পারবেন না ।
আপনার মগজের “Pleasure System” বা আনন্দ উৎপাদনকারী এলাকা সমূহ যা আপনাকে কোনও কিছুর আনন্দ উপভোগ করতে অনুভুতির যোগান দিচ্ছে, অথবা আপনাকে কোনও কিছু করার অনুপ্রেরনা যোগাচ্ছে তার পেছনেও রয়েছে এই Dopamine এর ভূমিকা ।তাই Dopamine System এর ছন্দপতন হলে আপনার ভেতর Psychosis বা মনোরোগ অথবা Schizophrenia বা আতঙ্করোগ জন্ম নেবে ।আর এ জাতীয় রোগ হলে আপনাকে যে জ্বীন-ভুতে ধরেনি একথা কি সাধারন মানুষকে বোঝাতে পারবেন ?
এবারে Epinephrin বা Norepinephrin এর কথা – আমেরিকার বাইরে এদের যথাক্রমে Adrenaline এবং Noradrenaline নামে ডাকা হয় । আপনার শরীরের জরুরী অবস্থায় যেমন শীতে, অবসাদে, শক (Shock)এ এরাই আপনাকে সামাল দেয় ।
Noradrenaline আপনার মগজের সেই অংশকে নিয়ন্ত্রন করে যেখান থেকে আবেগময়তা (Impulsivity)সৃষ্টি হয় । এদের ঘাটতি বা কাজের অসংলগ্নতা (Imbalance) আপনার ভেতরে জন্ম দেবে কোনও কিছুতেই মনোসংযোগ করতে না পারার , অপরাধবোধের, নিজেকে অপদার্থ ভাবার, অবসাদের, অস্থিরতার, উৎসাহ হারিয়ে ফেলার, মৃত্যুভয়ের এমোনকি আত্মহত্যার চিন্তারও । তরুন পাঠক এদের উপস্থিতি হাড়েহাড়ে টের পান যদিও জানেননা না আসল কেমিষ্ট্রি কি ঘটছে তার শরীরে । তার প্রিয়লোকটির সান্নিধ্যে তার শারীরবৃত্তীয় যে অনুরণন উনি টের পান বা যে ঝংকার ওঠে তার শরীরে তা আর কিছু নয় এই Adrenaline এবং Noradrenaline এর দোলাচল । আপনি মানুন আর না-ই মানুন, আপনি স্বাভাবিক মানুষ হলে এই কেমেষ্ট্রির হাত থেকে আপনার রেহাই নেই ।

তবে হ্যাঁ, আপনি এগুলোকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন । আর এখানেই রয়েছে আপনার “কারিশমা” ।
আপনি কি জানেন, আপনার শরীর প্রকারান্তরে একটি “বায়োলজিক্যাল ওয়াচ” বা “Circadian watch”এটাকে আপনি যে ভাবে টিউন করবেন বা এ্যালার্ম দিয়ে রাখবেন আপনার শরীর স্বয়ংক্রিয় ভাবে ঠিক সেভাবেই কাজ করে যাবে ।

এই যে রোজা গেল, আপনার খাদ্যাভাসের সময় উল্টেপাল্টে হয়ে গেছে প্রথম ক’দিন । প্রথম প্রথম ক্ষুধার কষ্ট হয়েছে, পরে আর কষ্ট হয়নি । অর্থাৎ আপনার শরীরের নিউরোট্রান্সমিটারগুলিকে তথা আপনার মগজকে আপনি নির্দেশ দিয়েছেন (আপনার অজান্তেই) সকালবেলা নো ব্রেকফাষ্ট, দুপুরে নো লাঞ্চ, সন্ধ্যায় প্রথম খাওয়া (ব্রেকফাষ্ট/ইফতার) আবার রাত তিনটেয় ডিনার বা সেহরী ।অর্থাৎ আপনি আগের দৈনন্দিনের খাওয়ার রুটিন পাল্টে দিয়েছেন ।আপনার শরীর ক’দিন পরে তাতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে ।য়্যু হ্যাভ রি-টিউনড ইয়োর বডি টাইমিং সিষ্টেম । খেয়াল করেছেন হয়তো, ঈদের দিন সকালে আপনার ক্ষিধে লাগেনি । আপনার শরীর রোজার মাসটিতে জেনেছে সকালে তার “Hunger Center”কে কাজ করতে হবেনা । তাই সকালে আপনার ক্ষিধে পায়নি । ঠিক ইফতারের সময়টাতেই ক্ষিধে পেয়েছে ।ঈদের ক’দিন পরেই আবার তা আগের অবস্থায় ফিরে যাবে কারন আপনি আবার মগজটিকে প্রাকটিস করিয়েছেন, সকালে ব্রেকফাষ্ট, দুপুরে লাঞ্চ ইত্যাদি ইত্যাদি ।

তেমনি আপনার ভালোলাগা, মন্দলাগা, রাগ-অভিমান ইত্যাদিকেও আপনি নিয়ন্ত্রিত করতে পারেন যদি প্রাকটিস করতে পারেন নিয়মিত । আপনি নিজেই এর নিয়ন্তা । কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই এখানে ।
original post
read more

ইংলিশ (English)স্কিলস – টিপস টু পিপিং থ্রু ইংলিশ


ইংরেজী আসলেই বিদঘুটে একটি ভাষা … hilarious এবং brilliant!


প্রথমে আমরা একটা Box দিয়ে শুরু করবো যা বহুবচনে হবে Boxes,
তাহলে Ox এর বহুবচন Oxen হয়েছে , কেন নয় Oxes ?

একটি Fowl কে আমরা বলি Goose, কিন্তু দু’টিকে বলি Geese,
তারপরেও Moose এর বহুবচন কখনও হবেনা Meese.

আপনি একটি একাকী Mouse দেখতে পেতে পারেন বা ঘরভর্তি Mice,
কি অদ্ভুত , House এর প্লুরাল Houses হয়েছে, হয়নি কখনও Hice !

Man এর বহুবচন যদি সবসময় হয় Men,
তাহলে Pan এর বহুবচনে কেন হবেনা Pen ?

যদি একটি পা কে বলি Foot আর দুটোকে বলি Feet,
তবে কোন সূত্রে দুইটা Boot কে বলা যাবেনা Beet?

একটি দাঁত যদি Tooth হয় তবে একপাটি দাঁতকে বলি Teeth,
মহাভারত অশুদ্ধ হবে যদি একসারি Booth কে বলি Beeth.

ভাইকে বলি Brother আর ভাইয়েরা হলো Brethren,
আর মা যদি Mother হয়, কি দোষে মায়েরা হবেনা Methren?

এর পরে পুরুষদের আমরা বলি He, His অথবা Him,
কি অবাক কান্ড , মেয়েরা কিয়ের লিগা হয়না She, Shis অথবা Shim ?

আসলে ইংলিশ একটি ক্রেজী ল্যাঙ্গোয়েজ

কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কি ফাজলামো এদের ভাষাতে ?
Eggplant এ কোনও Egg পাবেন না ।
Hamburger এ Ham.
Pineapple এ Apple ও নাই, আরও নাই Pine.

আমরা ইংরেজীকে নিশ্চিন্ত মনে ধরে নিই ঠিক কিন্ত যদি এর Paradoxeগুলোকে খুঁজি, তাহলে কি পাবো ?

চোরাবালি বা Quicksand কখনই দ্রুত কাজ করেনা বরং উল্টো Work Slowly.

Guinea pig কখনই Guinea থেকে আসেনি এবং এটা একটা Pig ও নয় ।

Boxing Rings কোনও বাক্স নয়, গোলও নয় ।

Teachers যদি Taught করায় , তবে Preachers যা করে তা কেন Praught নয় ?

Vegetarian রা যদি vegetables খায়, তবে Humanitarianরা কি খায় ?

এটাকে কি ক্রেজী মনে হয়না যখন “you can make amends but not one amend?”

কখোনও কখোনও মনে হয় যারা ইংরেজী শিখে বড় হয়, এই সব verbally insane এর জন্যে তাদের পাগলাগারদে যাওয়া উচিৎ ।
অন্য কোন ভাষায় আপনি এরকম পাবেন ????????

“মানুষ একটি “Play” তে “Recite” করে আবার একটি “Recital” এ “Play” করে ?

আমরা ট্রাক ভর্তি করে “Ship “ করি আর Ship ভর্তি করে কার্গো পাঠাই ?

আমাদের নাক “Run” (সর্দ্দি ঝরে) করে আর পা দিয়ে গন্ধ (Feet that smell) বেরোয় ?

আমরা Driveway তে Park করি আর Parkwayতে drive করি ?

আপনাকে ইংরেজীর অদ্ভুত পাগলামীতে অবাক হতেই হবে যখন দেখবেন–
Your house can burn up as it burns down,
You fill in a form by filling it out,
An alarm goes off by going on.

এই পাগলামীর গপ্পো শেষে ঝাঁপ বন্ধ করার আগে জিজ্ঞেস করি –

Father যদি Pop/Papa, তাহলে Mother কেন Mop/Mapa হল’না ???

টু হুম য়্যু আস্ক দিস ????:P:P:P


নটে গাছটি মুড়োনোর আগে কানে কানে একটি সত্যি কথা বলি –
আমাদের দেশে মায়েরা Mop না ঠিকই কিন্তু সারাজীবনই Mop করে
আর বাবারা শুধু সারাদিন Pop ( রাগে ফোটে ) করে !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
original post
read more
affiliate program

EARN INCOME FROM YOUR WEBSITE

Turn your valuable web site traffic into income. Work online and join our free money making affiliate program. We offer the most pay-per-click rate to help maximize your cash stream.

Join our income making program absolutely free and 100% risk free.

Sign Up...

A steady income generator

Imagine running of a something that never failed to provide you with cash-flow. A earning money program so amazingly profitable that you never had to look for job ever again!Income while you sleep

CASH WHILE YOU SLEEP

Earn $1,000... $2,000... $5,000...

Turn your website visitors into cash!
You get money for every visitor that clicks on our advertizing. Our goal is to enable you to make as much as possible from your site. We pay monthly, either by check, or through PayPal.

Begin collecting steady partner commissions

Our money making program really can make you income on the same day. Start receiving steady partner revenue with almost no effort at all. This is a serious revenue opportunity, the chance for you to build a steady, reliable, long-time profitable business.

Savings Highway Dream Team Member Site Savings Highway Dream Team Member Site