Showing posts with label বিতর্ক. Show all posts
Showing posts with label বিতর্ক. Show all posts

Sunday, April 8, 2012

ইংলিশ (English)স্কিলস – টিপস টু পিপিং থ্রু ইংলিশ


ইংরেজী আসলেই বিদঘুটে একটি ভাষা … hilarious এবং brilliant!


প্রথমে আমরা একটা Box দিয়ে শুরু করবো যা বহুবচনে হবে Boxes,
তাহলে Ox এর বহুবচন Oxen হয়েছে , কেন নয় Oxes ?

একটি Fowl কে আমরা বলি Goose, কিন্তু দু’টিকে বলি Geese,
তারপরেও Moose এর বহুবচন কখনও হবেনা Meese.

আপনি একটি একাকী Mouse দেখতে পেতে পারেন বা ঘরভর্তি Mice,
কি অদ্ভুত , House এর প্লুরাল Houses হয়েছে, হয়নি কখনও Hice !

Man এর বহুবচন যদি সবসময় হয় Men,
তাহলে Pan এর বহুবচনে কেন হবেনা Pen ?

যদি একটি পা কে বলি Foot আর দুটোকে বলি Feet,
তবে কোন সূত্রে দুইটা Boot কে বলা যাবেনা Beet?

একটি দাঁত যদি Tooth হয় তবে একপাটি দাঁতকে বলি Teeth,
মহাভারত অশুদ্ধ হবে যদি একসারি Booth কে বলি Beeth.

ভাইকে বলি Brother আর ভাইয়েরা হলো Brethren,
আর মা যদি Mother হয়, কি দোষে মায়েরা হবেনা Methren?

এর পরে পুরুষদের আমরা বলি He, His অথবা Him,
কি অবাক কান্ড , মেয়েরা কিয়ের লিগা হয়না She, Shis অথবা Shim ?

আসলে ইংলিশ একটি ক্রেজী ল্যাঙ্গোয়েজ

কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কি ফাজলামো এদের ভাষাতে ?
Eggplant এ কোনও Egg পাবেন না ।
Hamburger এ Ham.
Pineapple এ Apple ও নাই, আরও নাই Pine.

আমরা ইংরেজীকে নিশ্চিন্ত মনে ধরে নিই ঠিক কিন্ত যদি এর Paradoxeগুলোকে খুঁজি, তাহলে কি পাবো ?

চোরাবালি বা Quicksand কখনই দ্রুত কাজ করেনা বরং উল্টো Work Slowly.

Guinea pig কখনই Guinea থেকে আসেনি এবং এটা একটা Pig ও নয় ।

Boxing Rings কোনও বাক্স নয়, গোলও নয় ।

Teachers যদি Taught করায় , তবে Preachers যা করে তা কেন Praught নয় ?

Vegetarian রা যদি vegetables খায়, তবে Humanitarianরা কি খায় ?

এটাকে কি ক্রেজী মনে হয়না যখন “you can make amends but not one amend?”

কখোনও কখোনও মনে হয় যারা ইংরেজী শিখে বড় হয়, এই সব verbally insane এর জন্যে তাদের পাগলাগারদে যাওয়া উচিৎ ।
অন্য কোন ভাষায় আপনি এরকম পাবেন ????????

“মানুষ একটি “Play” তে “Recite” করে আবার একটি “Recital” এ “Play” করে ?

আমরা ট্রাক ভর্তি করে “Ship “ করি আর Ship ভর্তি করে কার্গো পাঠাই ?

আমাদের নাক “Run” (সর্দ্দি ঝরে) করে আর পা দিয়ে গন্ধ (Feet that smell) বেরোয় ?

আমরা Driveway তে Park করি আর Parkwayতে drive করি ?

আপনাকে ইংরেজীর অদ্ভুত পাগলামীতে অবাক হতেই হবে যখন দেখবেন–
Your house can burn up as it burns down,
You fill in a form by filling it out,
An alarm goes off by going on.

এই পাগলামীর গপ্পো শেষে ঝাঁপ বন্ধ করার আগে জিজ্ঞেস করি –

Father যদি Pop/Papa, তাহলে Mother কেন Mop/Mapa হল’না ???

টু হুম য়্যু আস্ক দিস ????:P:P:P


নটে গাছটি মুড়োনোর আগে কানে কানে একটি সত্যি কথা বলি –
আমাদের দেশে মায়েরা Mop না ঠিকই কিন্তু সারাজীবনই Mop করে
আর বাবারা শুধু সারাদিন Pop ( রাগে ফোটে ) করে !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
original post
read more

Tuesday, March 20, 2012

গণতন্ত্রের তন্ত্র-মন্ত্র - ১

গণতন্ত্রের তন্ত্র-মন্ত্র - ১

গণতন্ত্র বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দর্শন। কি এই গণতন্ত্র, কোথা থেকে এর উদ্ভব, এই দর্শন প্রতিষ্ঠার পিছনে কারা ছিলেন, বিশ্বের অতিত ইতিহাসে গণতন্ত্র কখন কেমন ছিল, কি করে তা রাষ্ট্রযন্ত্রে স্থান পেল, কতটুকু সফল এই রাজনৈতিক মতাদর্শ, এর বিকল্প কিছু আছে কিনা; বিভিন্ন জ্ঞানী, খ্যাতিমান, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবি ও লেখকেরা এই মতাদর্শের পক্ষে ও বিপক্ষে কি বলেছেন বা লিখেছেন এই সম্পর্কে ধারাবাহিক লিখে যাব। আপনাদের গঠনমূলক মতামত কামনা করছি।

প্রথমে উল্লেখ করছি সুখ্যাত ভারতীয় লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ইতিহাসের স্বপ্নভঙ্গ বইয়ের একটি অংশ:

আমাদের দেশের গ্রামে-গন্ঞ্জে, আধা মফস্বলে আমি ঘুরেছি অনেক। আমি দেখেছি বাধের উপর বসে থাকা বিষন্ন মানুষ, যার কোন কাজ নেই, পেটে ভাত নেই। দেখেছি খরায় বিবর্ণ ফসলের খেতের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিমর্ষ চাষীকে। বস্তির ধারে ছোট ছোট বাচ্চারা খেলা করে ধুলোর মধ্যে । শহরের চৌরাস্তায় গাড়িগুলো থামলে শিশু কোলে নিয়ে ভিক্ষে চাইতে আসে জননী। পুরিষের পাত্র মাথায় করে নিয়ে যায় হরিজন। এরা যেন অনন্তকালের স্রোতে এক-একটি বিন্দু। কোনও পরিবর্তন নেই। আমাদের শৈশবে যেমন শিশুকোলে জননীকে ভিক্ষা করতে দেখেছি, আজও তাই দেখছি। গণতন্ত্র এই শিশু ও জননীকে মাথার উপর একটি আচ্ছাদন দিতে পারেনি, দিতে পারেনি একটি সম্মানজনক জীবিকা।কোন শিল্পী হয়তো সেই ভিখারিণীর মর্মন্তুদ ছবি আঁকেন, তার জন্য বাহবা পান, লেখা হয় কবিতা, মন্চস্থ হয় নাটক, তবু চৌরাস্তার মোড়ে শিশু কোলে জননীকে দেখতে পাওয়া যাবেই। ছোটবেলায় রাস্তার মুচিকে ঠিক যে অবস্থায় যে পোষাকে বসে থাকতে দেখতাম, এখনও তারা ঠিক সেরকমই রয়েছে। বাড়িতে ধাঙরেরা আসে খালি পায়ে, নেংটি পড়ে, আমাদের ঠাকুরদারা যেমন দেখেছিলেন আমরাও সেরকমই দেখছি। প্রতিদিন যে মানুষটি আসে তার নামও আমরা জানি না, ওরা সবাই ধাঙর বা মেথর। আফ্রিকার কেনিয়া শহরে আমি জুতো পায়ে মেথর দেখেছি, পরনে প্যান্ট-শার্ট। আমাদের এখানকার যেকোন ধনী কিংবা সাম্যবাদীর বাড়ির মেথরের একই রকম চেহারা। কাশী শহরে ভিখিরির লাইনের মধ্যে এক বৃদ্ধকে দেখে আমি চমকে উঠেছিলাম, তার মুখে অজস্র আঁকিবুকি, সামনে হাত পেতে বসে সে ঘুমে ঢুলছে। আমার মনে হয়েছিল ঐ ভিখিরির বয়স আরাই হাজার বছর।গৌতম বুদ্ধ ওকে যেমন দেখেছিলেন, আমরাও সেই অবস্থাতেই দেখছি। কিছুই বদলাতে পারিনি।

এই গণতন্ত্র আমাদের কোন ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে? কোন পথে আসবে সমস্ত মানুষের মুক্তি? নাকি সেই মুক্তি কোন দিনই আসবে না? তার আগেই ধ্বংস হয়ে যাবে পৃথিবী কিংবা মানব সভ্যতা? যদি মানব সভ্যতার বিনাশ হয়ই, তবে তা পরমাণু অস্ত্র বা বিষবাস্পে হবে না। হবে বন্ঞ্চিত মানুষের দীর্ঘশ্বাসে।
original post
read more

Saturday, February 4, 2012

ছেলে মেয়ের সম্পর্কের পিছনের দ্বন্দ......

by তন্ময় ফেরদৌস



আগে একটা প্রশ্নের উত্তর দিন- "ছেলে ও মেয়ের মাঝে কি সতস্ফুর্ত এবং সহজ বন্ধুক্ত হয়া সম্ভব ?"


এবার প্রশ্নের উত্তর ভাবতে ভাবতে আমার কিছু চিন্তা ভাবনা শুনে নিন।



শুরু করি বিখ্যাত এক লেখকের অভিজ্ঞতা দিয়ে।

" আমি তখন সবে মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছি। আআর প্রতিবেশী একজন ছেলে আমার ক্লাশেই অন্য এক স্কুলে পড়তো। পড়াশোনায় সাহায্য, ঘুরে বেড়ানো, গল্প করা- সবি তার সাথে এমন অনায়াসে ঘটতো, আমরা কখনোই বুঝে উঠার অবকাশ পাইনি, আমরা দুজন ছেলে এবং মেয়ে - এরকম আলাদা দুটি সত্তা। সেই সময় আমার এক যায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব এলো। যে প্রস্তাব নিয়ে এসেছে সে আমার পাশে দাঁড়ানো সেই ছেলেকে দেখে প্রশ্ন করে উঠলো, "ও তোমার কে হয় ?"

আমার অবচেতন মন আড়ষ্ট কন্ঠে বলে উঠে- "ও আমার প্রতিবেশি, আমার ভাই।"


-----------------------------------------




ছেলে মেয়ের বন্ধুক্তকে আমরা বাঙ্গালীরা কখনোই সহজ ভাবে মেনে নিতে পারিনি। অন্তত বেশিরভাগ মানুষের বেলাতেই। জাতিগতভাবেই আমরা হিপোক্রেট। হয়ত মেনে নিতে পারি- ছেলে মেয়ের মাঝে পিওর বন্ধুক্ত সম্ভব। অথচ তার পরেই কোন বন্ধুকে তার বান্ধবীর সাথে রিক্সায় যেতে দেখলে বাকা চোখে তাকাতেও দ্বিধাবোধ করিনা। তার মানে নিজেকে প্রগতিশিল বা মুক্তমনা ভাবতে আমাদের ভালো লাগে, তবে ইমপ্লিমেন্টেশনের যায়গায় আমরা ব্যার্থ।



ছেলে এবং মেয়েতে কখনোই বন্ধুক্ত হতে পারেনা, এই কথাটি যারা বিশ্বাস করেন, তারা এই বিশ্বাসের পিছনে অবচেতন এক আকর্ষন কে দায়ী করেন। এ আকর্ষন কি শারিরিক, নাকি প্রচলিত সমাজ ব্যাবস্থার মানসিক ম্যানুপুলেশন, তার উত্তর নিয়ে সন্দেহ আছে।
আমার দু এক জেনারেশন আগেও বন্ধুক্ত ব্যাপারটি শুধু সমলিঙ্গে সীমাবদ্ধ ছিলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। গ্রামে কিংবা মফস্বলে আমরা এখনো দেখি একই গ্রামে বড় হয়া, একই বাতাস আর ধুলাবালিতে গড়ানো কোন এক পুরুষকে দেখে গ্রাম্য বধু মাথায় টেনে দেয় ঘোমটা। অথচ সম্পর্ক টা হতে পারত নির্মল এক বন্ধুক্তের। "বন্ধু " শব্দটার মত পবিত্র একটা সম্পর্ককে আমরা বন্ধ করে রাখছি। যে মেয়ের একাধিক ছেলে বন্ধু, তাকে নিয়ে আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি। সেইম ব্যাপার ছেলেদের বেলায় ও খাটে, যদিও কিছুটা কম।

এই সমস্যার একেবারে বেসিক দিকে অবজার্ভ করলে দেখা যায়, সমস্যার সূত্রপাত হচ্ছে শৈশবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছেলে মেয়ে আলাদা স্কুলে পড়ে, আলাদা নিয়ম নীতিতে বড় হয়, আলাদা যাপিত জীবনে অভ্যস্ত হয়। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ক্যারিয়ার কাইফে এক হলেও তাদের মাঝে থেকে যায় চিন্তা চেতনার বিরাট এক পার্থক্য। এই পার্থক্য তাদের এক হতে বাধা দেয়, বাধা দেয় তাদের কমিউনিকেশন পারফরমেন্সেও।

বলা হয়- "ছেলেমেয়ের মাঝে বেশি মেলামিশা ঠিক নয়।" দুইটা শিশুকে শিশু হিসেবে না দেখে ছেলে বাচ্চা মেয়ে বাচ্চা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা তাদের মাঝে সৃষ্টি করে এক বৈষম্য। এই বৈষম্যই পরবর্তীতে তৈরি করে আড়োষ্ঠতা, জড়তা। তারা নিজেদের নিয়ে অন্যরকম করে ভাববার প্রয়াস পায়। " ও আচ্ছা, আমরা তাহলে দুইটা আলাদা সত্তা ! " বাস, চিরদিন ধরে দেখা মেয়েটা ছেলেটার কাছে হয়ে উঠে রহস্যময়ী, অন্যরকম আকাঙ্খার। আর ছেলেটা মেয়েটার কাছে হয়ে উঠে বাইরের মানুষ, পরপুরুষ।

দুটি ভিন্নস্থানে , ভিন্ন পার্পেক্টিভে বড় হয়া ছেলেমেয়েদের মাঝে এ আকর্ষন কে কি বলে অভিহিত করা যায় ? একে না বলা যায় প্রেম, না বলা যায় সহজ বন্ধুক্ত। এ সম্পর্কের নাম কি তবে ?

দ্বিতীয়বার ধাক্কাটা আসে অন্যদিক থেকে। বলছি-

আমি আগে যে উদাহরন টা দিলাম, তার শুরু হয় নিজ পরিবার থেকে। সোশালাইজেশনের প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র পরিবার হলেও , এখানে পরিবার কাজ করে স্পন্টেনিয়াস সোশালাইজেশনের বিপক্ষে।

কো এডুকেশনে পড়া ছেলেমেয়ের মাঝে এই সমস্যা কম দেখা যায়। তারা সাধারনত অনেক সতস্ফুর্ত হয়। তারা ছেলে- মেয়ের বাধা ডিঙ্গিয়ে আগে নিজেদের মানুষ ভাবার সুযোগ পায়। পরে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে তাদের মাঝে আর কোন জড়তা কাজ করেনা। একসাথে স্টাডি, হ্যাং আউট আর ফান চলে সমানতালে। এই সাবলিলতার যায়গাটা রুদ্ধ হয়ে যায় দ্বীতিয় ধাক্কায়। সেটা হলো- বিয়ে। সেই জন্মের পর থেকে একই বৃত্তে বড় হয়া ছেলেদের সাথে মেয়েটি তার স্বামীদের পরিচয় করিয়ে দেয়- সহপাঠী বলে, বন্ধু বলে নয়।

ব্লগে আমার বয়সী যারা আছেন, অর্থাৎ সদ্য গ্রাজুয়েশন করা বা করছে, এমন বয়সী- তারা এটা খুব ভালো বুঝতে পারবেন। কারন এই সময়টাতে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। নিজের ভার্সিটির বন্ধুবান্ধবের মাঝেই এই উদাহরন অনেক দেখা যাবে। কত বন্ধুদের যে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, সেই সাথে ফ্রেন্ডশিপের সীমানার বাইরে চলে যাচ্ছে কত জন......

কখনো কখনো স্বামী নিজেকে উদার প্রমান করতে স্ত্রির বন্ধুদের সাথে আড্ডায় যোগ দিলেও স্ত্রী অবচেতনভাবেই সতর্ক হয়ে উঠে।সেই ধাক্কাধাক্কি, বকাঝকা আর ফ্রেন্ডশিপের সম্পর্কটা গিয়ে দাঁড়ায় ফরমাল এক পরিমিতবোধের যায়গায়।


অন্যদিক দিয়ে চিন্তা করি।


অনেক সময় দেখা যায়, তিনজন ছেলে বন্ধু একজন মেয়ে বন্ধুর কাছে কতটা গুরুত্বপুর্ন, এই শজ ইর্ষায় জড়িয়ে পড়ে নিজেদের, মেয়েটার এবং বন্ধুক্তের যায়গাটা সঙ্কটাপন্ন করে তুলে। নিজেরা একজন আরেকজনকে ভুল বুঝে। এই সন্দেহ প্রকাশ করে- হয়তো কেউ একজন মেয়েটির বন্ধু নয়, বরং প্রেমানুরাগী। এতে করে বন্ধুক্তের যে মূল যায়গা, পরস্পরের প্রতি মমতা, সহমর্মিতা, তা নষ্ট হয়ে যায়।

গভীর বন্ধুক্ত যে প্রেমে গড়ায় না, তা নয়, বরং সেই সম্পর্ক প্রেমে ফড়ালে তা অনেক সহজ হয়ে যায়। বন্ধু হিসেবে আগে থেকেই দুজন দুজনকে জানার সুযোগ থাকায় বিয়েপরবর্তি অনেক ঝঞ্জাট এড়ানো যায়। কিন্ত সব সম্পর্ক প্রেমে ফড়াবে এমন একটা ধারনা থেকে যখন অভিভাবকগন একটি নির্মল বন্ধুক্তের ক্ষেত্রে সতর্ক্তা তৈরি করেন, তখন সেই নির্মলতার মধ্যে কিছুটা অসস্তি চলে আসে।




এত সব কিছুর ভিড়েও ছেলেমেয়েতে নির্মল বন্ধুক্ত হয়, অভিভাবকদের ঢুকিয়ে দেয়া তারা সশিক্ষায় উপড়াতে পারে বলেই সেই বন্ধুক্তটা হতে পারে। কোথাও বন্ধুক্তের ক্ষেত্রে জন নেয় অন্যরকম এক দুর্বলতা। কিন্ত সব বিষয় কে এক ছকে ফেলে ছেলেবেলা থেকেই তাদের মধ্যে সন্দেহের বীজ ঢুকিয়ে দুটি সত্তাকে সারা জীবনের জন্য সরলতামুক্ত করে তোলার কোন অর্থ নেই।



আমি এই পোস্টে শুধু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করলাম। তবে এর পিছে ধর্মের অনেক গুরুত্বপুর্ন একটা ভুমিকা উল্লেখ করা হলোনা । উল্লেখ করা হলোনা বায়োলজিকাল এবং সাইকোলজেকাল পার্স্পেকটিভ। পরে অন্য কোন পোস্টে হয়তো অন্য কোন পয়েন্ট অফ ভিউ আসবে।



এগুলো সব ই আমার একান্ত অনুভূতি, দ্বিমত থাকতে পারে, তবে তাতে করে মূল ব্যাপারটা মনে হয় খুব একটা পরিবর্তন হবেনা।
original post
read more

Tuesday, January 24, 2012

কবর পুজা, মাজার পুজা এবং আমাদের ইসলাম। সাহাবাদের কবর বনাম পীরদের কবর

by Abdullah Arif Muslim

সূফির মাজার

সূফির মাজার
বনাম

নবীর সাহাবাদের কবর
-----------------------------------------------------------------------

বোবা সরি বাবা ফকিরুদ্দিন এর মাজার

বনাম


নবীর সাহাবাদের কবর


=============================================

আল্লাহর রাসুল সা: আলী রা: কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, সকল উচু কবর ধ্বংস করার জন্য। আমাদেরও এখন একই কাজ সকল উচু কবর, মাজার নামের ব্যবসা ধ্বংস করে দেওয়া, মাটির সাথে সমান। আফসোসের বিষয় সেই আলী রা: এর কবরই এখন মাজারে পরিনত করছে।

মাজার শব্দের অর্থ হলো দর্শনীয় স্থান। যেটা দেখলে মন ভাল হয়। যেমন সমুদ্র সৈকত একটা মাজার বা দর্শনীয় স্থান।

সহীহ হাদিসগুলোতে আছে, কবর পাকা করা নিষেধ, কবরে বাতি দেওয়া নিষেধ, কবরের উপর ঘর নির্মাণ নিষেধ, কবরকে উৎসরেব স্থান বানানো নিষেধ, কবরে গিলাফ লাগানো নিষেধ। কিন্তু আমাদের মুসলমান নামধারীরা সবগুলো নিষেধ করা কাজই বেশী করে করে।

বলতে পারে সেগুলো পীরদের মাজার। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই পীরগুলার অস্তিত্ব কেন সাহাবাদের যুগে নাই, কেন তাবেয়ীদের যুগে নাই। কারণ এটা একটা ব্যবসা যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে।

আল্লাহ কোরআনে বলেছেন
সূরা ফাতির-২২> হে নবী, তুমি কবরে শায়িতদের কথা শুনাতে সক্ষম না।
আর আমাদের কবরগুলোতে এমনই আক্বিদাহ পোষন করে যে কবর বাসী শুনে।

আল্লাহ কোরআনে বলেছেন
সূরা আহকাফ-৯> হে নবী, বল, আমি জানি না আমার সাথে আল্লাহ কি ব্যবহার করবেন এবং আমি জানি না আল্লাহ তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করবেন।

বুঝার চেষ্টা করুন, নবী নিজেই যেখানে জানেন না তার সাথে কি ব্যবহার হবে, সেখানে আমাদের দেশের ৯০% মানুষ মনে করে আব্দুল কাদের জিলানী, শাহ জালাল, শাহ পরান (র রা জান্নাতি। তারা জান্নাতের সার্টিফিকেটই দিয়া দেয়।

অনেকে তাদের মুখে জান্নাতি না বললেও মনে মনে সেটা বিশ্বাস করে। আর ঈমান হলো সেটাই যা অন্তরে বিশ্বাস করা হয়, মুখে স্বীকার করা হয় এবং কার্য দ্বারা সম্পাদন করা হয়।

কবরপুজারী, মাজারপুজারীরা মুখে অস্বীকার করলেও তাদের অন্তর এই স্বাক্ষ্যই দেয় যে তারা জান্নাতি।
আল্লাহ আমাদের কবর পুজা, মাজার পুজা ইত্যাদি থেকে বাচার এবং কবর পুজা মাজার পুজা ধ্বংস করার তৌফিক দান করুন। আল্লাহ এই পীর পুজারী, কবর পুজারীদের হেদায়েত দান করুন। আমীন।
original post
read more

প্রসঙ্গ বিএসএফ ও প্রতিক্রিয়াশীলদের প্রতিক্রিয়া এবং আমার কথা

by রুমি আলম
প্রতিক্রিয়াশীলদের প্রতিক্রিয়াঃ হাবিবুর রহমানকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্রটি এনডিটিভি ও পশ্চিমবঙ্গের একটি টিভি চ্যানেলসহ নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আমাদের দেশের প্রিন্টিং ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, ফেসবুক, ব্লগ, ইউটিউব ইত্যাদি মাধ্যমে শুরু হয় তোলপাড়। অনেকে বিএসএফ যেহেতু কেন্দ্রীর সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রনাধীন তাই মনমোহন সরকারকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবার দাবি করেছেন। অনেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের ভারত তোষনকে দায়ী করেছেন। অনেকে বুলেটের বদলে বুলেটে জবাব দেবার কথা বলেছেন। সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা পাঠানো এবং এখনই যুদ্ধ ঘোষণার কথাও লিখেছেন। অনেকেই সেই যুদ্ধে শহীদ হয়ে স্বর্গের সুধারস পানের বাসনাও প্রকাশ করেছেন। ভারতীয় পন্য বর্জনের দাবী জানিয়েছেন। কোন একটি সংগঠন সম্ভবত পন্য বর্জনের কর্মসূচীও ঘোষণা করেছেন। অনেকে ব্যঙ্গ করে বিএসএফকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেবার কথা বলেছেন। ভারতীয় টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে বর্জনের দাবী জানিয়েছেন। যতরকম তীব্র ও অশালীন ভাষায় ক্ষোভ ঝাল মিটানো যায় সবই হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমগুলোও সম্পাদকীয় ছেপেছে। সুশীল সমাজও বিভিন্ন টকশো, গোলটেবিল ইত্যাদির আলোচনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন।


প্রতিক্রিয়ার সমালোচনাঃ নির্যাতিত হাবিবুর রহমান চরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতে গমন করেছিল, এটি একটি গোরতর অপরাধ। সেটি ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তবে বিএসএফের উচিত ছিল আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা। তাঁরা সেটি না করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এমন অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আরও অধিক অন্যায় করেছেন। বিএসএফ শুধু যে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করার মধ্যেই তাদের নৃশংসতা সীমাবদ্ধ রাখে, তা কিন্তু নয়। প্রতিবছর তাদের সীমান্ত এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভারতীয় নাগরিকও তাদের হাতে হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। সীমান্তে নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ জানানোর পর সম্প্রতি বিএসএফকে প্রাণঘাতী নয়, এমন অস্ত্র দিয়েছে ভারত সরকার। সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও সিমান্তে বিএসএফের নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং বেশ সোচ্চার। ভারতীয় গণমাধ্যম সত্য উদ্ঘাটনে যে ভূমিকা পালন করেছে, তা প্রশংসনীয়। অনেক সুযোগসন্ধানী চক্র এই ঘটনার সুযোগে স্বাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে উসকে দিতে চাচ্ছে, এটা নিতান্তই মুর্খামি।


যারা যুদ্ধ ঘোষণার কথা বলছেন, তাঁরা কী একবারও ভেবে দেখেছেন বিশাল ভারতের সাথে এমন অসম যুদ্ধের মানে কি? কিংবা বিজিবির সাথে গোলাগুলিতে শাহ আলম নামের ভারতের এক চোরাকারবারি নিহত হলে তাঁরাও কি এভাবে প্রতিক্রিয়া বা যুদ্ধ ঘোষণার কথা ভেবেছে? আমাদের অনেকেরই যুদ্ধে শহীদ হওয়ার খায়েশ জেগে উঠেছে, তাঁরা একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখেন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে আপনার কতজন পূর্বপুরুষ যুদ্ধ করেছেন কিংবা শহীদ হয়েছেন? পন্য বর্জনের যারা ডাক দিয়েছেন, ভালো কথা। স্বদেশী পন্য ব্যবহারে হব ধন্য। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন আপনার হয়ত সামর্থ্য আছে, কিন্তু যে অসহায় দেশপ্রেমিক কৃষক, শ্রমিক বা দিনমজুর তাদের? তাঁরা কি তাহলে অধিক মুল্যে দেশী পেয়াজ কিনবে? নাকি কমমুল্যে ভারতীয় কাপড় কিনে কিছু টাকা বাঁচিয়ে সন্তানের পড়ালেখার জন্য শিক্ষকের বেতন দিবে? জাতি জানে, বিগত জোট সরকারের আমলে যাকে তাকে ব্যাংক লোন দিয়ে কলকারখানা স্থাপনের লাইসেন্স দেওয়ায় এবং যত্রতত্র ফসলি জমি ক্রয়ের সুবিধা দেওয়ায় চাষাবাদের ভুমি দিন দিন কমেছে। সেই বিষয় নিয়ে আপনারা কেউ কিচ্ছু বলবেন না। রাজনৈতিকভাবে বিএনপি বা অন্য রাজনৈতিক দল যদি এমন ঘোষণা দেয় তবে তাঁদের সাধুবাদ। জানি তাঁরা এটা করবে না। কিন্তু কিছু মানুষ, গোষ্ঠী বা চক্র কে উসকে দিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করে ভোটের ফসল ঘরে নিতে চাইবে। আমাদের দেশে ভারতের চ্যানেল অবাধে চলবে কিন্তু আমাদের চ্যানেল সেদেশে চলবে না, এটা মেনে নেওয়া যায়না।


যদিও এই ব্যবস্থার জন্য চারদলীয় জোট সরকার পুরোপুরি দায়ী। কিন্তু কথা হলো সরকারের আইনের জন্য অপেক্ষা করার কী দরকার? প্রত্যেকে নিজেরাই নিজেদের ঘর সামলে নিলেই হয়, তাতে মাসিক কিছু টাকাও বেঁচে যায়। জানি সেটা করতে পারবেন না, কারন আপনাদের সন্তানদের ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াবেন আর ঘরে ডিশ লাইন থাকবেনা সেটা কী করে হয়, আর শিলা কি জওয়ানি শিলা, ওলা গান শুনিয়ে মাথা বানাবেন ঢিলা। আর মিডিয়ায় যারা আছেন তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে না লিখে বরং ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণ করুন। যাতে মানুষ স্বদেশী চ্যানেলগুলোই দেখতে আকৃষ্ট হয়। বাংলাদেশে অসংখ্য টিভি ও পত্রিকা থাকার পরেও এই ঘটনাটি কিন্তু ভারতের একটি মিডিয়াই প্রকাশ করেছে, তাহলে প্রশ্ন জাগে আমাদের মিডিয়াগুলো করে কী? তাঁরা কি শুধু মালিক পক্ষের অবৈধ অর্থ রক্ষার কাজেই ব্যস্ত? যারা সরকারের ভারত তোষণের কথা বলে ঝড় তুলছেন তাঁরা একটু মনে করে দেখুন, ’৭১ এ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতই ছিল আমাদের দুর্দিনের পরম স্বজন। তাঁরা শুধু আমাদের আশ্রয় আর খাবারই দেয়নি, যুদ্ধে অংশ নিয়ে অনেকেই শহীদ হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরন করেছেন। তারপরও বঙ্গবন্ধু ’৭২ এর ২৬ মার্চের মধ্যেই ইন্দিরা গান্ধী সরকারকে তাদের সৈন্য ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করেন।‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিপাগল বাঙালীদের সহযোগিতা করে ভারতীয় সেনারা স্বাধীনতার স্বাদ এনে দিয়েছিল। আবার বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ভারতীয় সেনারা দ্রুত বাংলাদেশ ত্যাগ করে তাদের দেশে সেনা ছাউনিতে ফিরে গিয়ে বঙ্গবন্ধু ও বাঙালীকে সম্মান জানিয়েছিল।


এখানেও অনেকেই সমালোচনা করবেন যে, তাঁরা ফিরে যাওয়ার সময় লুটপাট করেছে, পাকিস্তানী বাহিনীর ফেলে যাওয়া সব অস্ত্র নিয়ে গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিছুদিন আগে একটি দৈনিকে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের একটি লেখা পড়লাম। তিনি লিখেছেন, ভারতের যেসব সৈন্যের কাছে তাঁদের কর্তৃপক্ষ কোন অবৈধ জিনিস পেয়েছিল তাদের সকলকেই শাস্তির আওতায় নিয়েছিল। এরকম কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ভারতীয় সেনাদের অনেককেই তিনি বিভিন্ন দ্রব্য(শাড়ী, টিভি/ রেডিও ইত্যাদি)উপহার স্বরুপ দিয়েছিলেন, যা তাঁরা নিতে চাননি। কিন্তু জোর করে গ্রহন করানোর দরুন দোষী স্যবস্ত হলে পরে কাদের সিদ্দিকী নিজে ভারতে গিয়ে স্বাক্ষ্য দিয়ে তাঁদের শাস্তির আওতামুক্ত করেছিলেন। এতেই তাঁদের শৃঙ্খলা সহজে অনুমেয়। তাছাড়া শেখ হাসিনার সরকারের প্রথম শাসনামলে গঙ্গার পানি চুক্তির কথা ভুলে যাওয়া কী ঠিক? বর্তমান সরকারের সময়ে সাম্প্রতিককালে মনমোহন সিং এর সফরের পরে দুদেশই সহযোগিতার রূপরেখা চুক্তিতে সই করেছেন।


স্থল সীমানাসংক্রান্ত ’৭৪-এর চুক্তির প্রটোকল চুক্তিতে স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছরের সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। স্বীমান্ত প্রটোকল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা, বাংলাদেশ থেকে নেপাল পর্যন্ত ট্রানজিট ট্রাফিক সহযোগিতা, সুন্দরবনে জীববৈচিত্র্য রক্ষা তথা বাঘ সংরক্ষন নিয়ে দুটি চুক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা চুক্তি, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও দূরদর্শনের মধ্যে একটি চুক্তি এবং মত্স্যসম্পদ রক্ষা বিষয়ে দুটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশ ফ্যাশন ইনস্টিটিউট টেকনোলজি ও ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজির মধ্যে সহযোগিতা সৃষ্টির চুক্তিসহ মোট ৮টি সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতের বস্ত্রপণ্য প্রস্তুতকারকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে চরম বিরোধিতা স্বত্বেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৪৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চাওয়ায় তৈরি পোশাকের ৪৬টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিতে ভারত রাজি হয়েছে।ভারত এই সুবিধা দেওয়ায় বাংলাদেশের রফতানি আয় প্রায় এক শ' কোটি ডলার বৃদ্ধি পাবে। বহুল আলোচিত দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা ছিটমহলবাসীর একমাত্র যাতায়াতের পথ ভারত নিয়ন্ত্রিত তিনবিঘা করিডর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দুইদিনের মধ্যে কার্যকর হলে সেখানে বসবাসরত ১৬ হাজার ছিটমহলবাসীর আনন্দের কথা কী আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত? এমনি অনেক অর্জন আমাদের হয়েছে এবং সেগুলোকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তারপরও অনেকেই সমালোচনা করবেন।


কারন আপনাদের অনেকেরই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাক এটা চান না। দেশের মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখাই আপনাদের উদ্দেশ্য। আপনারা ভুলে যান, বেগম জিয়া সার্ক সম্মেলনে দিল্লী গিয়ে গঙ্গার পানি সমস্যা নিয়ে আলোচনার কথা বেমালুম ভুলে যাওয়ার কথা। উলফার সাথে তারেক জিয়ার গোপন সমঝোতায় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রনে দশ ট্রাক অস্ত্র চালানের কথা। সমালোচনার বিপক্ষে আমিও নই। যখন দেখি আমার একজন ভাই গরুচোর ও চোরাচালানের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের সাথে জড়িত এবং ভিন্ন দেশের মানুষ তাকে রক্তাক্ত করেছে, তখন আমার ভিতরেও রক্তক্ষরন হয়। আমার সেই ভাইদের জন্য কিছু না করতে পারার অপরাধবোধ কাজ করে। মানবতাবাদী দেশপ্রেমিক সবসময়ই অন্যায়ের যৌক্তিক সমালোচনা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু বিশেষ মানুষের অধিক দেশপ্রেম প্রকাশ জাতির জন্য অশুভ লক্ষন। কই তাঁদের তো দেখিনা সেনা ক্যু এর কথা ফাঁস হলেও অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রকারীদের সমালোচনা করতে? বরং উল্টো অনেক মিডিয়ায় দেখা গেছে কেন সাংবাদিক সম্মেলন করা হলো এবং ষড়যন্ত্রের কথা কেন দেশবাসীকে জানানো হলো তার তীব্র সমালোচনা করতে।


কিন্তু এটা স্বীকার করেন না যে, অবাধ তথ্য প্রবাহের পথে এটাও একটা মাইলফলক। যেখানে অতীতে সামরিক অভ্যুত্থান সফলভাবে ঘটে গেলেই মানুষ জানতে পারতো, সেখানে সেনাবাহিনী জনগণের কাছে ভিতরের কথা জানিয়ে প্রমান করেছে তাঁরাও এদেশের বিচ্ছিন্ন কোন অংশ নয়।
কিছুদিন আগে ভারতের 'তারা টিভি' নামক একটি দূরদর্শন যন্ত্রে আমাদের প্রিয় পতাকা অবমাননার ছবি আমাদের পত্রিকা/ টিভি চ্যানেল/ ফেসবুক/ ব্লগে ইত্যাদিতে তোলপাড় করেছিল। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল এটি প্রায় অর্ধযুগ আগে বিএনপি-জামাত জোটের শাসনামলে ঘটেছিল। অথচ এখন এটা নিয়ে হইচই ফেলা দেয়া হলো। সরকারের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করা হলো। ঘটনা যখন ঘটেছিল তখন মহাশয়দের কেউই খোঁজ পেল না। আর এখন দেশপ্রেম উথলে দিল। এসব ঘটনাক্রম দেখে অবাক না হয়ে পারা যায় না। উদ্দেশ্যপ্রনোদিত সমালোচকদের মুখোশ উম্মোচন করা সময়ের দাবী।



এবার একটু অতীতে ফিরে যাই, ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনের পরে সারাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে এদের কেউ শরিক হয়েছিলেন বলে আমাদের জানা নেই। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরেও আপনাদের দেখিনি এভাবে প্রতিবাদ করতে কিংবা ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা হলেও আপনারা নীরব থেকেছেন। এমন কি ১/১১ এর পরেও শেখ হাসিনাই প্রথম গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়েছিলেন। তখন এইসব মিডিয়া বা তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের দেখিনি জনগণের পাশে দাঁড়াতে। তাহলে এখন এত দেশপ্রেমিক হয়ে উঠার কারন কি? কারন আছে নিশ্চয়ই। আর তা হলো, এখন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনায়, যুদ্ধাপরাধীর বিচার কার্যক্রম চলছে। এসব দেখে আপনাদের গাত্রদাহ হয়। সারাদেশে তাই বর্তমান সরকারের ভারত তোষণের ধোয়া তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করাই আপনাদের উদ্দেশ্য, এটা সচেতন মহল ভালো করেই জানে। অতীতেও আপনারা আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে মসজিদে মসজিদে উলু ধ্বনি বাজবে বলে ধোঁকা দিয়েছেন দীর্ঘদিন, কিন্তু দিয়েও কাজ হয়নি। তাই এখন সুযোগমত জনগণকে ভুল বোঝানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন।



বাংলাদেশ সরকার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতকে ঘটনার প্রতিকারের দাবী জানানোয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রনে থাকা বিএসএফ কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনায় দায়ী বিএসএফের ১০৫ ব্যাটালিয়নের ৮ জনকে বহিষ্কার করে সংশ্লিষ্ট কমান্ডার কে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ জানিয়েছে। তাহলে আপনাদের এত উদ্ভট প্রতিক্রিয়া কেন? কেউ কেউ সাম্পদায়িকতাকে উসকে দিচ্ছেন কিন্তু কেন? নিজেদের একবার প্রশ্ন করে দেখুন আপনার বাড়িতে কেউ চুরি করতে গেলে আপনি কী ছেড়ে দেবেন? আমাদের প্রায় বিশ হাজার বর্গমাইলের সীমান্ত অঞ্চলে শিক্ষার হার প্রায় শুন্যের কোঠায়, লোভে পড়ে সেখানের গরীব মানুষগুলো বিভিন্ন পন্য ও মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িয়ে পড়ে।


আসুন তাদেরকে কিভাবে শিক্ষিত করে তোলা যায়, কিভাবে চুরির মত লজ্জা ও অপমানজনক অপকর্ম থেকে বিরত রাখা যায় সেদিকে মনোযোগ দেই। তানাহলে আপনাদের এই উদ্দেশ্যমুলক সমালোচনাকে বিশ্ববিবেক বলবে চোরের মা’র বড় গলা। তবে জনগন বুঝে, আপনাদের অনেকেরই পূর্ব পুরুষদের খায়েশ বাস্তবায়নে আপনারাও এদেশটাকে পাকিস্তান বানোনোর স্বপ্ন দেখেন, অনেকেই সাম্প্রতিককালে ক্যু সফল না হওয়ায় গাত্রদাহে সরকারের সফলতাকে আড়াল করার জন্য সরকারের ভারত তোষণের বিষ ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িকতা উসকে খালেদা-নিজামী-তারেক গংদের ক্ষমতায় আরোহনের পথ সুগম করতে চান, অনেকেই চীন-ভারতের দ্বন্ধে চীনা নুন-সোডা খাওয়ার লোভে ভারত বিরোধীতা করেন। কেউ কেউ হয়ত ব্যতিক্রম।তাঁদের যৌক্তিক সমালচনাকে সাধুবাদ। কিন্তু উদ্দেশ্যমুলক সমালচনাকে ধিক্কার। কথা স্পষ্ট, সকলের অতীত দেখে ও পর্যালোচনা সাপেক্ষেই জনগন স্বিদ্ধান্ত নেবে। কারন কথায় আছে, কারো অতীত জানা থাকলে তাঁর ব্যপারে স্বিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ।
original post
read more

ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তা ও পরিবর্তনের ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতা

by রুমি আলম
বলা যায় স্বাধীনতার প্রায় দুই যুগ পরে এরশাদের পতনের পর থেকেই দেশে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা ও অপ্রয়োজনীয়তা বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এইসময়ে ছাত্রসংগঠনের নেতা কর্মীদের সামনে পূর্বের ন্যায় আন্দোলন সংগ্রামের স্বাভাবিক চরিত্র না থাকায় কিছু কিছু অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা, জিয়াউর রহমান অবৈধ পথে ক্ষমতায় এসেই জাতীয় রাজনীতি এবং ছাত্ররাজনীতি উভয় ক্ষেত্রেই অর্থ ও অস্ত্রের সহজলভ্যতা দিয়ে রাজনীতির চিরচেনা সেই ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল নীতির রাজা লালন করাই রাজনীতি এই অহংকারকে ভয়ংকর ও কুতসিত চরিত্রদান করেন। কাকতালীয়ভাবে ’৯১ এর নির্বাচনেও বিএনপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের চরিত্রে কালিমা লেপনের যে অপচেষ্টা জিয়াউর রহমান করেছিলেন, তারই হাতে গড়া দলের নেতা কর্মীরা মহাউদ্দ্যমে এবার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যেন জিয়াউর রহমানের সেই অসমাপ্ত কাজই করতে শুরু করেছিলেন। তখনও একবার আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ছাত্রদের হাতে বইখাতা তুলে দিয়ে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে ছাত্রলীগ তথা ছাত্ররাজনীতিকেই রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু যে বিষবাষ্প রাজনীতির মাঠে ছড়ানো হয়েছিল তা সংগঠনকে খুব সহজে স্পর্শ না করতে পারলেও ব্যক্তির পর্যায়ে খুব সহজেই পৌঁছে গিয়েছিল।


এমনই একপর্যায়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার কথা বললে তথাকথিত সুশীলের খুব প্রশংসাও কুড়ান। এইধরনের সুশীলেরা কখনই ছাত্ররাজনীতির অতীত ভুমিকা, থাকার প্রয়োজনীয়তা এবং কিভাবে থাকা উচিত সেগুলোর বিষয়ে কোন পরামর্শ দেন না। তাঁদের সোজা কথা ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই। খেয়াল করলে দেখা যাবে এই সুশীলদের একটি অংশ অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বা বেসামরিক আমলা, একটি অংশ ব্যবসায়ী, একটি অংশ ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতি করে হালে পানি না পেয়ে এখন এনজিও ব্যক্তিত্ব, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের শিক্ষক। তারা ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার জন্য দৃশ্যমান যেসব যুক্তিগুলো দেখান, সেগুলো ছাত্রসংগঠনগুলো একটু সুনজর ও সাংগঠনিক কার্যপরিধি বৃদ্ধি করলেই সমাধান সম্ভব। কিন্তু খেয়াল করবেন, এই সুশীল মশায়রা কখনই সমাধানের কথা বলবেন না। একেবারে বন্ধই করতে হবে। কেন? কারন, পাকিআমল থেকেই সামরিক শাসন আমাদের শোষণ করছে বারবার। স্বাধীনতা পেলেও পাকি আশীর্বাদপুষ্ট জলপাই রঙা বাহিনী বারবার আমাদের ভাগ্যের শিকে ছিড়েছে। রাজনৈতিক দলকে জনগণের সামনে বিবস্ত্ররুপে উপস্থাপন করে বারবার ধোঁকা দিচ্ছে। আর এই তথাকথিত সুশীল ভদ্রলোকেরা সবসময় হাঁটুতে বুদ্ধিওয়ালা জলপাই বাহিনীর মগজে গোবররুপে স্থিত হয়েছে। ফলাফল যা হবার তাই হয়েছে। শেষরক্ষা কারো হয়নি।


আর এই শেষরক্ষা না হওয়ার পিছনে কারন হল ছাত্রনেতা, ছাত্ররাজনীতি এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও ছাত্ররাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে যারা জাতীয় নেতা হয়েছেন তাঁরাই। এই সুশীলদের সামনে শত্রু তাই ছাত্ররাজনীতি। ছাত্ররাজনীতি থাকলে দেশে দেশপ্রেমিক জাতীয় নেতা তৈরী হবে, এটা তাঁরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনা।


বাস্তবতা হচ্ছে, কিছুকাল যাবত দেশে যেভাবে ছাত্ররাজনীতি চলছে এভাবে চলা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটা শুধু সুশীলদের কথা না, যারা একসময় ছাত্ররাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তাঁরা, এমনকি এদেশের আমজনতাও চায়, পরিবর্তন আসুক। সমস্যা তৈরি হয়েছে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে হবে। মাথায় ব্যথা তাই বলে মাথা ফেলে দিলে চলবে না, চিকিৎসা করে সুস্থ করতে হবে।


ব্রিটিশ ভারতবর্ষে যখন ছাত্ররাজনীতির গোড়াপত্তন হয় তখন যেভাবে সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মপরিচালনা করা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পরে আগের সংগঠন যেমন প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে আবার জন্ম নেয়া নতুন সংগঠনও ভিন্নরূপে আত্মপ্রকাশ ঘটায়। এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ মাইলফলক। রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতিগত শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাজপথেও এই সংগঠনটি জন্মলগ্ন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। জিন্নার নেতৃত্বাধীন যে মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পকিস্তান স্বাধীন হলো, সেই মুসলিম লীগের অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য বিরোধীদল হিসেবে শুধু পূর্ব পাকিস্তানে নয় সমগ্র পাকিস্তানেই ছাত্ররাই প্রথম একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে। তারপর ধীরে ধীরে অনেক সংগঠনের জন্ম হয়েছে এবং কালের আবর্তে অনেকে হারিয়েও গেছে। যেমন ছাত্ররাজনীতি অনেক নেতা তৈরী করলেও সময়ের সাথে অনেকেই পথ চলেন নি বা পারেন নি।


প্রায় এক যুগ ছাত্ররাজনীতির একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ছাত্ররাজনীতির কল্যানকর ও গৌরবের বিষয়গুলোর যেমন প্রয়োজনীয়তা বোধ করি তেমনি ছাত্ররাজনীতির বিপথগামিতায় অনিশ্চিত বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের হতাশায় নিমজ্জিত হই। আর খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে বলেই মনে করি, ছাত্ররাজনীতির নীতিগত ও কর্মগত পরিবর্তন সময়ের দাবী। ব্যক্তি যদি বিকৃত রুচির পরিচায়ক হন, তাহলে সংগঠনের খুব বেশী কিছু করার নেই। তারপরও কিছু নিয়মের বাঁধনে আবদ্ধ করে রাখলে অনেকাংশেই সুফল আসে। যখন এদেশে ছাত্ররাজনীতির গোড়াপত্তন হয়, তখন যেভাবে পরিচালিত হয়েছে এখনো সেভাবেই ঐতিহ্য ধরে রেখে পরিচালিত হতে হবে তার কোন যৌক্তিকতা নেই। বহমান হোক চেতনায় সমুজ্জল ঐতিহ্য, পরিচালনায় আসুক নতুনত্ব। তাই সময় এসেছে নতুন করে ভাববার। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহনযোগ্য হিসেবে ছাত্ররাজনীতিকে উপস্থাপন করার।


ইতিহাস বলে, ছাত্র সংগঠন শুরু থেকে অন্য কোন জাতীয় সংগঠনের অঙ্গসংগঠন ছিলনা। জিয়াউর রহমান সামরিক ফরমানবলে অঙ্গসংগঠন হতে বাধ্য করে। এর পরে বিগত ১/১১ এর পরবর্তী সরকার আবার জাতীয় সংগঠনকে নির্বাচন কমিশনের আইনের ছকে বেঁধে ছাত্রসংগঠনকে অঙ্গরূপে অস্বীকার করতে বাধ্য করে। যা এখনও বহাল আছে। এবং এই আইন বাতিলের প্রয়োজনীয়তা ছাত্রসংগঠনগুলো এখনো অনুভব করেনি। অথবা প্রয়োজন নেই।
‘৭১পূর্ববর্তী সময়ে পড়ালেখার চেয়ে জরুরী ছিল অস্ত্র চালনা শিক্ষা, দেশ গঠনের প্রয়োজনীয়তার চেয়ে জরুরী ছিল স্বাধীন দেশ অর্জন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জরুরী হয়েছে দেশ গঠন এবং সেজন্য উচ্চশিক্ষায় নিজেকে গড়া। আর এই নিজেকে গড়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ব্যবস্থা যদি কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে তার প্রতিবাদ এবং সফলতা অর্জনই এখন ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রধান কাজ হওয়া উচিত। কিন্তু যেহেতু আমাদের জাতীয় রাজনীতির চরিত্রে পরিবর্তন খুব ধীর গতির তাই ছাত্রসংগঠন এর ক্ষেত্রেও রাতারাতি পরিবর্তন অসম্ভব। তদুপরি নিজেদের স্বার্থ ও সুবিধার বিষয়টি ছাত্রসংগঠনের নিজেদেরকেই বুঝতে হবে ও সেইমতো কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।

১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে এই সংগঠনটিই সবচেয়ে প্রাচীন। তাই এর পর যত ছাত্রসংগঠনের জন্ম হয়েছে কেউ স্বীকার না করলেও সত্যি যে, সকল সংগঠনই কোন না কোনভাবেই ছাত্রলীগকে অনুসরন করেছে। তাই অদুর ভবিষ্যতেও যাতে অন্যান্য সংগঠন ছাত্রলীগকে অনুসরন করে নিজেদের পরিবর্তনের পথে নিয়ে যেতে পারে সেই ঐতিহাসিক ভুমিকায় ছাত্রলীগকেই অবতীর্ণ হতে হবে। নিকট অতীতে ছাত্রদের হাতে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে নেতা নির্বাচনের জন্য ২৯ বছর বয়স নির্ধারিত করা হয়েছে। যা সকলের কাছেই গ্রহযোগ্যতা পেয়েছে। ইতিহাসে সাক্ষ্য দেয়, এই সংগঠনটি একসময় প্রতিবছরই সম্মেলনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করত এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্মেলন করতে ব্যর্থ হলে আপনা আপনিই আগের কমিটি ভেঙ্গে যেত এবং যথাযথ গঠনতান্ত্রিক নিয়মে পূর্ব নির্ধারিত সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কাছে সম্মেলন আয়োজনের জন্য সর্বময় দ্বায়িত্ব ন্যস্ত হতো। এমন নিয়মের কড়াকড়ি ফিরিয়ে আনা উচিত। বামধারার চর্চারত অনেক সংগঠনই নিয়মিত সম্মেলন করে।


কিন্তু যেহেতু তাঁদের ভাত্রিপ্রতিম মুরুব্বী সংগঠনগুলো এদেশে এখনো জনগণের আস্থা অর্জন করে রাষ্ট্রীয় দ্বায়িত্ব পালনে যেতে পারেনি, সমালোচনার গন্ডীতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, তাই তাঁদের কর্মকাণ্ডকে জনগন এখনও আপনরুপে গ্রহন করেনি এবং দৃশ্যমানও নয়। দেশে আরও একটি বৃহৎ ছাত্রসংগঠন রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজো পর্যন্ত তাঁদের একটি গঠনতন্ত্র তৈরী করতে পারেনি। যদিও তাঁদের ভাত্রিপ্রতিম সংগঠন বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় একাধিকবার অধিষ্ঠিত হয়েছে। ’৯০ এর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগসহ প্রগতিশীল প্রায় সকল সংগঠনের ভিতরে গ্রুপিং-দ্বন্ধ দারুনভাবে প্রকাশিত থাকায় ছাত্রদল ডাকসুতে জয়লাভ করে এবং স্বাভাবিকভাবেই এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসমাজের সাথে মিলিত হয়ে আন্দোলনে অংশ নেয়। এছাড়া এই সংগঠনটি ছাত্ররাজনীতিকে কলংক ব্যতিরেকে অন্য কোন উপহার আদৌ দিতে পারেনি। তবে হ্যাঁ, কথা আসতে পারে যে, তাঁদের সংগঠনের নেতারাও এমপি, মন্ত্রী হচ্ছে, জনগন ভোট দেয়। কিন্তু এদেশের সচেতন মহল জানে, এমপি বা মন্ত্রী হলেই দেশপ্রেমিক গনমানুষের নেতা হওয়া যায় না। তাই পরিবর্তনের ধারায় ছাত্রলীগকেই অগ্রনী হিসেবে দেখতে এবং ভবিষ্যতের দেশ পরিচালনার ভার গ্রহন করার জন্য জাতীয় নেতা তৈরি করার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি করতে ছাত্রলীগের যেকোন ভুমিকা জনগন সাধুবাদ জানাবে বলেই বিশ্বাস করি।


একসময় যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল চিঠির মাধ্যমে রাস্তাঘাট ছিল দুর্গম এখন মুঠোফোন, ইন্টারনেট এবং রাস্তাঘাটও অনেক উন্নত। আগে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) ছিল অপ্রতুল এখন প্রতি থানা বা উপজেলায় একাধিকতো বটেই অনেক ইউনিয়নেও কলেজ স্থাপিত হয়েছে। ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এবং অনেক পরেও আওয়ামীলীগ বা অন্য কোন সংগঠনের থানা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম ছিলনা। সেসময়ে ৬দফা, ’৭০ এর নির্বাচন, ’৬৯ এর ছাত্রগন অভ্যুথান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহনের উদ্দেশে জনগনকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে গ্রামে গঞ্জে সংগঠনের পরিধি বৃদ্ধি করতে হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে অনেক প্রয়োজনই সফলতার মাধ্যমে তার বর্তমান চেহারা হারিয়ে নতুন প্রয়োজনরুপে দৃশ্যমান হয়। তেমনি সেসময় যেভাবে সংগঠনের কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর অনেকগুলোই সফলতার মাধ্যমে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে, কিন্তু বর্তমানে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে।


এখন প্রতিটি ওয়ার্ড/ ইউনিয়নে মুরুব্বী সংগঠনের পাশাপাশি যুবসংগঠন, স্বেচ্ছাসেবকসংগঠন, কৃষকসংগঠন এমনকি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও শ্রমিকসংগঠনও তাঁদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। আরও রয়েছে নানারকম পরিষদ/ফোরাম ও সাংস্কৃতিকসংগঠন। এহেন পরিস্থিতিতে ছাত্রসংগঠনগুলোকেও ভাবতে হবে ওয়ার্ড/ ইউনিয়ন/পৌরসভা/ থানা/ উপজেলা/ জেলা/ মহানগর প্রভৃতি শাখা থাকার প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা। মোদ্দাকথা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে ছাত্রসংগঠনের কোন শাখা থাকাটা বর্তমান সময়ে অযৌক্তিক। ছাত্ররাই যেহেতু ছাত্ররাজনীতি করবে ও নেতৃত্ব দিবে তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে কারা নেতৃত্ব দিবে? সকলেইতো কোন না কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র তাহলে যে যেখানে পড়ালেখা করে সেখানেই নেতৃত্ব দিবে।


বর্তমান বাস্তবতায় উপলব্ধিগত বিষয় হলো, এখন যেহেতু দেশ গঠনই আমাদের সকলের প্রধানতম দ্বায়িত্ব, তাই ন্যুনতম ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ছাত্রদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা করা উচিত। ক্লাস নাইন থেকে ‘রাজনীতি শিক্ষা’ নামক অবাধ্যতামুলক কোন শিক্ষাকার্যক্রম পাঠ্য করা যেতে পারে। তাতে করে আমাদের রাজনীতির মৌল বিষয়গুলো, ঘটনার অববাহিকায় ব্যক্তির ভুমিকা ও রাজনীতির আদর্শিক প্রয়োজনীয়তার মতো মৌলিক সত্যাসত্য উদ্ঘাটনে পাঠক ব্রতী হবে এবং নিজেই স্বিদ্ধান্ত নিতে পারবে।


এতে করে ছাত্রসংসদ চালু করা সম্ভব হবে। নতুন ছাত্রবান্ধব ছাত্রনেতা তৈরী হবে। জাতীয় সংগঠনের নেতারা ছাত্রসংগঠনে পকেটের কর্মীকে নেতা বানানোর জন্য অর্থলগ্নি করবেনা, সাবেক নেতারাও আশীর্বাদপুষ্টকে মদদ দিয়ে অন্যায় কর্মে লিপ্ত করবে না। টেন্ডারবাজিতে ছাত্রনেতা/ কর্মীদের ব্যবহার কমবে। টাকার বিনিময়ে পদ বেচাকেনার পথ রুদ্ধ হবে। নির্মম বাস্তবতা হলো, ছাত্রসংগঠনগুলো তাঁদের বিভিন্ন শাখা কমিটিগুলোকে কখনোই গ্রুপিং এ উসকে দেয় না, এধরনের কুকর্মে সেখানকার স্থানীয় মুরুব্বী সংগঠনের নেতারা ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করে থাকেন। সোজা কথায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে কোন ছাত্র সংগঠন না থাকাই বাঞ্ছনীয়। এমনকি গঠনতন্ত্রের সংশোধনী এনে ছাত্র সংগঠনের কোন নেতা বা কর্মীর জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন প্রার্থীকে সমর্থন করে প্রচার প্রচারনায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা উচিত। যারা যে জাতীয় রাজনৈতিক সংগঠনের ভাত্রিপ্রতিম তাঁরা মনোনয়ন নির্ধারিত হলেই কেবল নির্বাচনী কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করার সাংগঠনিক বিধান থাকা বাঞ্ছনীয়।


এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রেরও দ্বায়িত্ব রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়মে ছাত্রসংগঠন যেহেতু কোন মুরুব্বী সংগঠনের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন নয়। তাই যেকোন জাতীয় সংগঠন আদর্শিকভাবে তাঁদের অনুসারী ছাত্রসংগঠনের আইনগতভাবে অভিবাবক নয়। তাহলে ছাত্রসংগঠনের কি সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে না? অবশ্যই থাকা উচিত। স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তো কর্তৃপক্ষই দ্বায়ীত্বশীল অবিভাবক। কিন্তু সংগঠনের চরিত্র যখন জাতীয় রুপ ধারণ করবে তখন অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রনালয় অথবা ইউজিসি কেই দ্বায়িত্ব নিতে হবে। কারন ছাত্রসংগঠনগুলো নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরেও তাঁদের সরকারের সাথে বিভিন্ন দাবীদাওয়া বা প্রয়োজন নিয়ে কথা বলবে।

তাছাড়াও সরকারে উচিত ছাত্ররাজনীতির কথা বলার সীমানা নির্ধারণ। এক্ষেত্রে হয়ত কণ্ঠ রোধের কথা উত্থাপিত হবে। তাহলে কী সবসময় দেশের বা বাইরের যেকোন বিষয়ে যখন তখন সভা-সমাবেশ করে নিজেদের ব্যস্ত রাখবে? মোটকথা এক্ষেত্রেও একটা যুতসই নির্দেশনা ছাত্রসংগঠনগুলোর নিজেদের যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য থাকা প্রয়োজন।


এদেশের রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ও সচেতন মহল জানে, কারা কি উদ্দেশ্যে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ বা কলুষিত করার পাঁয়তারা করছে। পূর্ব পাকিস্তান থাকাকালীন সময়ের আইয়ুবের মার্শাল ‘ল থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে কিছুকাল আগের তত্বাবধায়কের আড়ালে বাস করা ভয়ংকর ক্ষমতাধরদের বিরুদ্ধে ছাত্রসংগঠন ও ছাত্ররাই সর্ব প্রথম আন্দোলন ও প্রতিবাদ গড়ে তোলে। সেজন্য সুশীলের আড়ালে বাস করা একধরনের কুশীল ও মিডিয়ার অবাধ তথ্যপ্রবাহের সুযোগে একশ্রেনীর মিডিয়াও চায়না এদেশে ছাত্ররাজনীতির অমসৃণ পিচঢালা পথ বেয়ে দেশপ্রেমিক জননেতা তৈরী হোক। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বেসামরিক আমলা মহাশয়রাও তাঁদের ভবিষ্যতে এমপি, মন্ত্রী ও উপদেষ্টা হওয়ার সুপ্ত বাসনার তাড়নায় তাঁরাও চায়না গনমানুষের ভাগ্য গড়ার যোগ্য কারিগর গড়ে উঠুক।


দুঃখজনক হলেও সত্যি, ’৯০ এর আগে প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংসদ নির্বাচন হতো। কিন্তু জনতার ভোট প্রদানের মাধ্যমে ফিরে আসা গণতন্ত্রের শুরু থেকেই সেটা অন্ধকার গুহায় স্থায়ীত্ব লাভ করেছে এক অদৃশ্য কারনে। যে দলটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিল তাঁরা সেসময় ক্ষমতায়ন না হলে দল হিসেবে তাঁদের অস্তিত্ব এবং বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা আজ ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্ন উচ্চতায় দেখা যেত। সেই ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলটির অরাজনৈতিক আচরনের কারনে রাজনৈতিক সংস্কৃতি এদেশে বেড়ে উঠতে পারেনি। অপরদিকে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক, কৃষিবিদ ও ব্যবসায়ী প্রভৃতি পেশাজীবী এবং তাঁদের বিভিন্ন সংগঠন সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করেছে।


আরো একটি সংস্থা যারা পাকিস্তান ঘরানায় এখনো এদেশের সকল কিছুতে বামহাত দিয়ে থাকে তাঁদেরও সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকে ছাত্ররাজনীতিকে ধ্বংস ও বিতর্কিত করার লক্ষ্যে। উপরোক্ত সকল অশুভ শক্তির এক অদৃশ্য বন্ধনে অভিনব কায়দায় চলছে ছাত্ররাজনীতিকে ধবংসের নীলনকশা। এবং তারই ধারাবাহিকতায় জনগণের ভাগ্য গড়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত মূলধারার জাতীয় রাজনৈতিক দলেও সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রভাব ক্রমশ অস্তমিত। এই দুরভিসন্ধির ফাঁদ থেকে দেশকে রক্ষা করার সময়োপযোগী স্বিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে ছাত্রসংগঠনগুলোকেই নিতে হবে।


ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় আমাদের জাতীয় জীবনে ’৪৭ এর পর থেকে ছাত্রসংগঠনগুলোই কখনো অহিংস পদ্ধতিগত আন্দোলন-প্রতিবাদ আবার কখনো সশস্ত্র বিপ্লবী ভুমিকায় আবির্ভূত হয়ে জাতীয় রাজনীতিকে কখনো মত ও পথ দেখিয়েছে আবার কখনো নিজেরাই নেতৃত্ব দিয়ে নায়কোচিত বীরের সম্মানে অধিষ্ঠিত হয়েছে। ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন যা মূলত ’৪৮ থেকেই শুরু হয়েছিল এটার নেতৃত্বের পুরোভাগে ছাত্ররাই ছিল। ’৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতি যখন দ্বিধান্বিত ও অনৈক্যে স্থিত তখন ছাত্রসংগঠনগুলোই নিজেদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন করে জাতীয় রাজনীতিকে পথ দেখিয়েছে।


’৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ‘ল জারী করার পরেও ছাত্রসংগঠনগুলোই প্রথম প্রতিবাদ করেছিল। ’৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন নিজেদের জাতীয় প্রয়োজনে ছাত্রসংগঠনগুলোই নেতৃত্ব দিয়েছে। ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনে আওয়ামীলীগের মুসলিম লীগ পন্থীরা যখন ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে পাশ মার্ক দেয়নি বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগ নেতাদের উপর আস্থা হারিয়ে ছাত্রসংগঠন তথা ছাত্রলীগকেই দেশব্যপী জনমত গড়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং অত্যন্ত সফলতার সহিত ছাত্রলীগ জনগণের আস্থা অর্জন করেছিল, যদিও বাম ছাত্রসংগঠনগুলো ৬ দফাকে সিআইএ/’র এর ষড়যন্ত্র বলে কুতসা রটালেও পরবর্তীতে ছাত্রসংগঠনগুলো ৬ দফার সমন্বয়ে তাঁদের ১১ দফা নিয়ে মাঠে নামে এবং যার ধারাবাহিকতায় ’৬৯ এর গনঅভ্যুথান ঘটে। যার পুরো নেতৃত্ব ছাত্রসংগঠনগুলোই দেয়। ’



এর নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতি যখন নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়া নিয়ে দ্বিধান্বিত তখনো ছাত্রসংগঠনগুলোই নির্বাচনে অংশগ্রহনের জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং সারাদেশব্যপী ছাত্রসংগঠনগুলো প্রচার প্রচারনায় অংশ নিয়ে জয়লাভ নিশ্চিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বপ্রস্তুতি সর্বপ্রথম ছাত্রসংগঠনগুলোই গ্রহন করেছিল। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশেও ’৭৫ পরবর্তী সময়ে পাকি সামরিক কায়দায় রাজনীতিকে কলুষিত করার পাঁয়তারার বিরুদ্ধেও ছাত্রসংগঠনগুলোই প্রথম প্রতিবাদ করে।


এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে জাতীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যখন মত ও পথের ভিন্নতায় বিভক্ত তখনো ছাত্রসংগঠনগুলোই একতাবদ্ধ হয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথকে ত্বরান্বিত করেছে। ছোট বড় অনেক সফলতা ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিকট অতীতে ২০০৮ এর আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা তীব্র প্রতিবাদেও যখন এদেশের তথাকথিত সুশীল সমাজ, মিডিয়া এমনকি অনেক রাজনৈতিক দলও উচ্চ কণ্ঠে কথা বলতে পারেন নি, তখন ছাত্রসংগঠনগুলোই সাধারন ছাত্রদের সাথে নিয়ে তথাকথিত সেনাসমর্থিত সরকারে ভিত কাঁপিয়ে দেয় যার ধারাবাহিকতায় আজ আবার গণতন্ত্র পুনর্বহাল হয়েছে।


যে ছাত্ররাজনীতির শত লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রক্তের আলপনায় এত উচ্চ সফলতার অতীত নির্মিত হয়েছে, সেই ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হওয়া অথবা কলুষিত হওয়া জাতির জীবনে অভিশাপ স্বরুপ। আর সেজন্যই ছাত্র রাজনীতির সকল সফল আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এবং অনেক আদিপাঠ নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তাই ছাত্রলীগেরই দ্বায়িত্ব সময়ের সাথে নিজেদের যোগ্যতার পরিশীলিত প্রকাশে সুন্দর আগামী নির্মাণে এবং দেশের নেতৃত্বভার গ্রহনের উপযোগী নেতা তৈরি ও জাতিকে সকল ক্রান্তিকালে পথ দেখানোর ভুমিকায় অবতীর্ণ হওয়া।


বর্তমানে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহন করে ছাত্রসংগঠনগুলোর জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান অথবা ছাত্রসংগঠনগুলো নিজেরাই সময়পোযোগী স্বিদ্ধান্ত গ্রহন করে দুষ্কৃতিকারী দের দুরভিসন্ধিমূলক দেশকে বিরাজনীতিকরনের অপচেষ্টাকে প্রতিহত করতে পারাই হবে সময়ের সাহসী প্রতিবাদ।
original post
read more

Tuesday, January 10, 2012

রক্তাক্ত হৃদয়ে কুয়েট আমার

by কুয়েট থেকে বলছি
একটা চাপাতি - টপ টপ করে রক্ত পড়ছে সেটা থেকে। কিসের রক্ত? মুরগির? গরুর? ছাগলের? — নাকি মানুষের? এই রক্ত আপনার ব্যাচমেটের, আপনার বড় ভাইয়ের - শ্রদ্ধায় আর আস্থায় ছিল যে আপনার ছায়ার স্থান, আপনার ছোট ভাই - স্নেহে ভরপুর আপনার মন যার জন্য। একসাথে বসে তার সাথে কত সময় কাটিয়েছেন আপনি, আড্ডায় - গানে, প্রেমে-বিরহে যে ছিল আপনার সঙ্গী তার রক্তই ঝড়ছে টপ টপ করে চাপাতি দিয়ে... এরকম আরো কাউকে পিটানো হয়েছে রড দিয়ে, চাপকানো হয়েছে ধাতব শিকল দিয়ে। শিউরে উঠছেন? হ্যাঁ আপনাকেই বলছি, আপনার বন্ধুর এরকম হলে আপনার অনুভূতি কি হইতো? শিরদাঁড়া বেয়ে হিম রক্ত বেয়ে যাচ্ছে কি? এখনই না আরো আছে গল্প।

আপনাকে মারতে এসেছে যে, সে কে? আপনারই ছোট ভাই - এই সেদিনও যাকে পড়া বুঝিয়ে দিয়ে এসেছিলেন, গত পরশু যে আপনার পাশেই বসে চা খাচ্ছিল। হয়তো কখনো একটু তর্ক হয়েছে, কখনো তাও হয় নি; আপনার সাথেই সে ক্লাস করে, বা আপনার আশে পাশের ক্লাসে। আপনার বন্ধুকে মারতে দেখে আপনি এগিয়ে যাবার সাহস পান নি, বরং প্রাণভয়ে নিজের ইনস্টিংক্টেই লুকিয়ে থাকতে চেয়েছিলেন; তারপরও ঠিকই তো খুঁজে পেল আপনাকে... ঘরের ভেতর থেকে টেনে হিঁচড়ে, এমনকি খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন তো - সেখান থেকেই বের করে মারতে মারতে পাঁচতলায় আপনার ঘর থেকে বের করে নিচে নিয়ে গেলো — পিটাতে... মনের সুখে পিটালো তারা আর সেখানে মার খেলেন আপনি... দুইজন তিনজন, পাঁচ-ছয়জন মিলে আপনাকে পিটাচ্ছে - বাঁধা দেবার সাহস আছে? ক্ষমতাই তো নেই! এতক্ষণে অবসন্ন পুরা শরীর, ব্যাথাটাও ঠিকমত অনুভব করা যাচ্ছে না। "বেশ মেরেছি এবার - চল আরেকটারে ধরি, বানাতে হবে" - বলে আরেকজনের দিকে ধেয়ে গেলো তারা।

এসব ঘটনায় আপনারা কি করবেন? বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আপনি - আপনার শিক্ষকদের উপর ভরসা রাখবেন তো? হ্যাঁ ছিলও তারা আপনার পাশে - আপনাকে বাঁচাতে এসে নিজেরাই জখম হয়ে গেলো - তাদের কেউ কেউ আইসিউই তে শুয়ে এখন লড়ছে।

তাহলে উপাযার্চ, ছাত্র কল্যান পরিচালক - আরও যারা আছেন তারা। গতকাল রাতে "সাধারণ ছাত্রদের কারো কিছু হবে না, হলে তার দায়িত্ব আমার" বলে আজ ক্যাম্পাসেই নেই উপাচার্য স্যার। ছাত্রকল্যান পরিচালক যিনি, তিনিও এলেন পুলিশ সাথে নিয়ে ঠিক তখনি - যখন কালপ্রিটরা সব তাদের কাজ সেড়ে পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে গেছে।

আপনি কুয়েটের একুশে হলের ছাত্র, ফিস্টের খাবারের বাজেট এতো বেশি হইলেও খাবারের মান এতো খারাপ কেন সেটা গতরাতে জানতে চাওয়ায় আজ দুপুরে আপনার ভার্সিটির ছোটভাই, বড়ভাই, ব্যাচমেটরা আর তাদের রাজনৈতিক দোসর বি.এল. কলেজের ছাত্ররা আপনাকে পিটিয়ে, মেরে কেটে, জখম করে, আধা আতুর করে রেখে গেলো। তখন জনগণের সেবক পুলিশ ঠিক বাহিরেই বসে আয়েশ করছিল - অনুমতি নেই বলে কিছু বলে নাই কাওকে। তারপর, সিনেমার শেষ দৃশ্যে যেমন, তেমনি সব শেষ হবার পর তারা আসলো।

কুয়েটের ছাত্রদের লীগের ছেলেরা পিটাচ্ছে? তাহলে এরপর কি হবে, লীগের ছেলেদের উপর কেও হাত তুলবে? না সে সাহস নাই... তারপরও দিই হল ভ্যাকেন্ট করে, তাহলে বিচার চেয়ে আন্দোলন করতে পারবে না! ভ্যাকেন্ট করতে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং করা লাগবে? কি দরকার, কেউ কিছু তো আর বলার সাহস পাবে না, দিয়েছি কয়েকটাকে আচ্ছা করে - বেশি তেড়িবেড়ি করলে বাকিদেরও দেবো।

তাও সাধারন ছাত্ররা ভিসি'র বাসার সামনে অবস্থান নেয় ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের আশায় - কিন্তু তাদের উপর টিয়ার শেল মেরে, হামলা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। তারপর জোর করে হল ভ্যাকেন্ট - যে যেমনে পারো জান নিয়ে পালাও।

পাঠক আপনিই বলেন, যে ক্যাম্পাসে একসময় কোন রাজনীতি ছিল না, কারো গায়ে কেও কোনদিন হাত তুলার কথা চিন্তাও করে নি, সেখানে নির্মম ভাবে আজ কেন পিটানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের? এমনকি শিক্ষকদেরও? এ ঘটনার যদি কোন সুষ্ঠু সমাধান না হয় তবে কেও কি ক্যাম্পাসে ঠিকমত চলতে পারবে? যে শান্ত ছেলেগুলো এ তাণ্ডব দেখে আজ বাড়ি বা অন্য কোথাও গিয়ে রয়েছে - সে কি ঘুমের মাঝে ভয়ে শিউরে শিউরে উঠবে না - যদি আদতেই ঘুমাতেও পারে?


কুয়েটের পরিবেশ ঠিক করতে আপনাকেও এগিয়ে আসতে হবে, আপনাদের সঙ্গ না পেলে আমরা আমাদের এ কুয়েটকে আর ঠিক করতে পারবো না - আর বাঁচাতে পারবোনা ভালোবাসার গর্বের এই ক্যাম্পাসকে। আর কোন বাবা-মা তার সন্তানকে ইঞ্জিনিয়ার হতে এখানে আর পাঠাবে না।
original post
read more

কাঁদল ছাত্র,কাঁদল শিক্ষক। কুয়েট(পর্ব-১)

by তাবাসসুম জাহান

কুয়েটে ঘটে যাওয়া তান্ডবের কিছু বর্ননা শুনলাম। শুনে নিজের চোখের পানি আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। আমার মনে হয় কেউ যদি মানুষ হয় সে না কেদে পারবেনা ছাত্রলীগের এই হামলার বর্ননা শুনে।
আমি আমার আগের পোষ্টে কিছু বর্ননা দিয়েছি।
সাধারণ ছাত্রদের যেভাবে মারা হল তা মন কুয়েট ,কুয়েটের ছাত্রদের, শিক্ষক, কর্মচারী, আশেপাশের এলাকার লোকজনের কাছে কল্পনাতিত ছিল।
ছাত্রদের বাচাতে না পেরে ছাত্রদের সামনে কাদলো শিক্ষকরা। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর আবারো পুলিশের হাতে মার খেতে হল নিরিহ ছাত্রদের,শিক্ষকদের।
যাদের নামে মামলা করা হয়েছে সেই সব স্যারদের আগে বর্ননা দেইঃ
আরিফ স্যার(গনিত বিভাগ)ঃ তিনি কুয়েট প্রতিষ্ট হওয়ার পর ছাত্রকল্যানের প্রধান ছিলেন একসময়। সে সময় কোন দলের কেউ কোন আপরাধ করে পার পাবে এমন সম্ভব ছিলনা। তিন সত্য বলতে সব সময় আপোষহীন। এখন তিনি কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি।
ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী তাকে আহত করেছেন। এখনো তিনি হাস্পাতালের বেডে শুয়ে আছেন। তার পরেও ক্ষান্ত হয়নি সন্ত্রাসীরা।অন্যায় ভাবে , তাকে আপদস্ত করার জন্য মামলা দিয়েছে জানোয়ার গুলা।

ডঃ মুহাম্মদ মাসুদ স্যারঃ ক্যাম্পাসের সকল ছাত্রদের পছন্দের ব্যাক্তি। তিনি এখন যন্ত্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। স্যারের সম্পর্কে কি বলব ভেবে পাছিনা। তিনি যে কুয়েট ক্যাম্পাসের ছাত্র-ছাত্রীর কাছে কতটা শ্রোধার পাত্র তা ক্যাম্পাসের যে কোন ছাত্র,শিক্ষক,কর্মচারী কে জিজ্ঞাসা করলে বুঝতে পারবেন। অনেক ছাত্র আছে যারা তাকে কখন দেখেওনি তারাও শুধু নাম শুনে, গল্প শুনে শ্রোদ্ধায় মাথা নিচু করে। এমনই একজন ব্যাক্তি তিনি।যন্ত্রকৌশল বিভাগের এমন কোন প্রোগ্রাম হয়নি যেটাতে তার পকেট থেকে কিছু যায়না। যেকোন বিভাগের ছাত্ররা যে কোন সমস্যায় তাকে পাশে পেয়েছে। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবেনা, না বর্তমানের না পুরাতন ছাত্র।
এই স্যারকেও ছাত্রলীগ , যুবলীগের সন্ত্রাসীরা অপমান করেছেন। ছাত্রদের বাচাতে যাওয়া তুষার স্যারকে মারছে দেখি তিনি দৌড়ে গিয়ে বলেছিলেন “সে ছাত্র নয়, সে আমাদের ডিপাটমেন্টের শিক্ষক” । তখন সন্ত্রাসীরা “কিসের শিক্ষক মার”বলে তাকেও মারে। তিনি মোবাইল হাতে ধরে ছিলেন। সন্ত্রাসীরা হাত থেকে মোবাইল নিয়ে ভেজ্ঞে ফেলেছে।

ডঃ এ এন এম মিজানুর রহমানঃ তিনি এনার্জি টেকনোলজির প্রধান। কুয়েট থেকে পাশ করেছে “মিজান স্যার”কে চেনে না, নাম শুনেনি এমন হতেই পারেনা। সেশন জোট মুক্ত ক্যাম্পাস রাখার জন্য শুক্রবার কি আর শনি বার কি সব সময়ই ক্লাস নেয়ার জন্য তৈরি। এটা যদি খারাপ হয় , তিনি খারাপ মানুষ। এটায় তার আপরাধ। এই জন্যই তিনি ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের চোখর বিষ হয়ে দাড়ালেন। তিনি যখন অমর একুশে হলের প্রোভোষ্ট ছিলেন তখন ছাত্ররা পড়ছে, নাকি আড্ডা দিচ্ছে। এটা দেখার জন্য রাতের বেলাতে ছুটে আসতেন। রুমে রুমে গিয়ে ছাত্রদের খোজ নিতেন।

ডঃখন্দকার আততাব আহম্মেদঃ তিনি যন্ত্রকৌশলের বর্তমান ডীন। তিনি যখন ছাত্রকল্যানের প্রধান ছিলেন তখন কুয়েট রাজনীতি মুক্ত করার জন্য বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখছেন। নিজে বিএনপি পন্থি থাকলেও ছাত্রদলের ছেলেদের কখনো ছাড়দেননি। রাজনীতি মুক্ত কুয়েট তারই ফসল ছিল।আজ যেটা কল্পনা হয়ে গেছে।
এবার বলি ভিসি সাহেবের কথাঃ

ডঃমুহাম্মদ আলগীরঃ তার সম্পর্কে কিছু বলার নাই। সবই সবাই জানে। কারো মনে হয় বুঝতে বাকি নেই তিনি কেমন মানসিকতার লোক।
তিনি ভিসি হয়েছেন রাজনৈতিক সাহাজ্য নিয়ে। তার সামনে ৮-১০ জন সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন যারা ভিসি হবার যোগ্য ছিলেন। তিনি নেতাদের সাথে লিয়াজো করে,তাদের টপকিয়ে ভিসি হয়েছেন। তিনি ভিসি হওয়ার ৩০ মিনিটের মাথায় ২টি নোটিশ পড়েছিলেন সবাই। এক “মুক্ত চিন্তার বিকাশের জন্য রাজনীতি উম্মুক্ত করা হল”।দুই “ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি ও সাধারন সম্পাদক অভ্র এর ৬মাসের বহিস্কার আদেশ বাতিল করা হল(নোটিশের ছবি পেলে উপলোড দিব)”। যদিও কুয়েটের মুখ উজ্জল করে তার কিছুদিনের মাথায় মেহেদি মদ্যপান করে মারা যায়(কুয়েটে মদ্যপানে মারা গেল ছাত্রলীগ সভাপতি লিখে সার্চ দিলেই পাবেন)। তারা বহিস্কার হয়েছিল স্যারদের সাথে খারাপ ব্যাবহার করা ও হলে হলে ঢুকে ছাত্রদের মারার অভিযোগে।
যাই হক ভিসি সাহেবের উদ্দেশ্যে বলি “ আপনি ছাত্রলীগের ছেলে গুলো ছাড়া একজন ছাত্র-ছাত্রী ও বের করতে পারবেন না। যে আপনাকে শ্রোদ্ধা করে”। কিছু দিন আগে আপনি ষড়যন্ত্র বলে “ছাত্রী হয়রানির” বিচার করেননি। লোক দেখানো বিচার করে ছেড়ে দিয়েছেন ছাত্রলীগের ছেলেদের।আপনার মেয়ে যদি সেদিন এই হয়রানির শিকার হত , তখন কি করতেন??
আপনি পুলিশ লেলিয়ে মার খাইয়েছেন সাধারন ছাত্রদের। যেখানে অন্যান্য স্যাররা পাগল হয়ে গিয়েছিল ছাত্রদের বাচানোর জন্য। শেষে না বাচাতে পেরে কান্না ভেঙ্গে পরেছিল স্যাররা। আপনি আপানার দলের সন্ত্রাসী লেলিয়ে মার খাইয়েছেন আমাদের ছাত্রদের স্যারদের। আপনাকে পুলিশ আনার জন্য স্যাররা বললেও আপনি পুলিশ এনেছিল ছাত্ররা মার খাওয়ার পরে। আর সে পুলিশ ও আবার আপনারই আদেশে সাধারন ছাত্রদের মেরেছে, ছাত্রলীগের সসস্ত্র সন্ত্রসীদের রেখে। সবই আপনি করেছেন শুধু আপনার ক্ষমতার লোভে। আপনি যদি আমাদের ভিসি হন, আপনি যদি শিক্ষক শব্দটার অর্থ বোঝেন, তাহলে বুয়েটের মত সন্ত্রাসীদের বিচার করে দেখান। আমি জানি আপনি দেখানে পারবেন না। কারন আপনি একটা লীগের পা চাটা কুত্তা।
আপনি বলেছিলেন “২৪ ঘন্টার মধ্যে বিচার করবেন, পরে দিন যখন ছাত্রলীগ হামলা করল। ছাত্ররা আপনার কাছে গেল। আপনি বললেন “আগের কথা ভূলে যাও, আমি এসব বলিনি”। তাহলে আপনার উপর ছাত্ররা ক্ষেপবে না কেন?
আপনি ষড়যন্ত্র ষড়যন্ত্র বলে নিজেকে বাচাতে চাইছেন। কিন্তু সত্যত তা না। সত্য হল সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা আপনার , আপনার পোষা কুত্তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট। আপনি বলেছেন ছাত্রদল-শিবিরের ছেলেরা এটা করেছে। আপনি , আপনার ছাত্রলীগের , আপনার আওয়ামীলীগের ছেলেদের নিজের মন কে প্রশ্ন করেন “ছাত্রদল-শিবির”এর কোন ছেলে গোলমালের নেতৃত্ব দিয়েছে কিনা? উত্তর একটাই আসবে “না”। এটা আপনি ভাল ভাবেই জানেন। শুধু ক্ষমতার লোভে আপনি এটা অস্বীকার করবেন, এটাও সাধারন ছাত্ররা খুব ভাল্ভাবে জানে। আপনি যে একটা নির্লজ্জ লোক এটা কে জানেনে? আমি যদি আপনার মেয়ে হতাম আপনার মুখে থু থু ও দিতাম না। জানিনা আপনার মেয়ে আপনার মুখে থু থু দেয় কিনা। আপনাকে বলার আর আমার কিছু নাই। স্বাগতম আপনাকে যে আপনি এত কিছুর পরেও ভিসি আছেন। আপনি ভিসি হিসাবে সার্থক!!!!!!!

ডঃ শীবেন্দ্র শীখর সিকদারঃ পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান। আপনাকে স্যার বলতে পারছিনা বলে দুঃখিত। আপনাকে স্যার বললে, দেশের সব স্যারদের মনে হয় আপমান করা হবে।আপনি নিজেই বলেন , আপনাকে আপানার সামনে ছেলেরা কি বলে গালিদেয়। আপনি কি তার পরেও বোঝেন না আপনার অবস্থান কোথায়? আপনাকে কেন শিক্ষক হিসাবে কুয়েটে রেখেছে বুঝিনা। আপনার কাছে শেখার কি আছে? আপনি ত স্বাধীনতার আগের চোথা এখন ও পড়ান। কোন পরিবর্তন ছাড়াই ৪০ বছরের ছাত্র রা একই লেকচার শুনে যাচ্ছে। আর আপনার মত অপদার্থ কি করে পদার্থ বিজ্ঞানর প্রধান হয়? আপনি কি করে ছাত্র কল্যানের প্রধান হন? ছাত্রদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক আছে? আছেত শুধু ছাত্রলীগের ১০টা ছেলের সাথে । আপনাকেত ছাত্রলীগের ছেলেরায় অপদার্থ বলে। আপনাকে ছাত্ররা এটকিয়ে রাখল, ছাত্রীদের হলে ছাত্রীরা আটকায়ে রাখল। এতবার ছাত্রদের হাতে লাঞ্চিত হয়েও আপনার সামন্য লজ্জা হল না। আসলেই আপনি একটা নির্লজ্জ, বেহায়া। আপনাকে নিয়ে আমি আর কিছু বলবনা।

তুষার স্যারঃ ‘০৪ ব্যাচ যন্ত্রকৌশল থেকে পাশ করে একই বিভাগে যোগদান করেছেন। অনেকের পছন্দদের বড় ভাই, অনেকের পছন্দের স্যার তুষার স্যার। জুনিয়র টিচার হলেও তিনি ডিপাটমেন্টের ছাত্র-ছাত্রীর ভালবাসার পাত্র। ট্রেনে এক ভাই বলল, “০৮ ব্যাচে তার নাকি একটা বিষয়ে ২০ টা ক্লাস নেয়ার কথা থাকলেও নিয়েছিলেন ৩৬টা, তার পরেও নাকি ছাত্র-ছাত্রী তার ক্লাসে কখন বিরক্ত বোধ করত না”।
হলে মারামারি হচ্ছে শুনে যেসব স্যার ছাত্রদের বাচাতে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি তার একজন। একজন ছাত্রকে চাপাতির কোপ দিচ্ছে দেখে তিনি দৌড়ে তার কাছে গেলেন। বিনিময়ে তাকেও মার খেতে হল। সাথে মার খেল মাসুদ স্যার, কোয়েল স্যার। কিন্তু তার পরেও মারের হাত থেকে বাচাতে পারলেন না ছাত্রটিকে। ছাত্রদের সামনে চোখগড়িয়ে পানি ঝরালেন স্যার। কাদল পাশে থাকা ছাত্ররাও। ছাত্ররা কাদল স্যারদের এ অবস্থা দেখে। তিনি ডিপার্টমেন্টে ফিরেই চাকরি থেকে অব্যহতি দিলেন। আর কান্না জড়ানো কন্ঠে নাকি বলে ছিলেন “ যে চাকরি করে আমি আমার ছাত্রকেই বাচাতে পারলাম না ,আমার সামনে আমার ছাত্ররা মার খেলে, করব না সে চাকরি। আপনাদের যদি করার ইচ্ছা থাকে করেন , আর প্রতিবাদ করার সহস থাকলে ছেড়েদেন”।
স্যার দুঃখিত আমারা আপনার পাশে থাকে পারিনি। আমাদের বন্ধু,বড় ভাইদের সামনে আপনি অপমানিত হলেন।আমরা কিছুই করতে পারলাম। কিন্তু এটুকু বলছি, স্যার আমরা আপনাকে অনেক ভালবাসি, অনেক শ্রোদ্ধা করি। জানোয়ার দের কথা ভুলে যান। আপনি আবার যোগদান করেন।

এই স্যারে গায়ে হাত তুলে ছিল ’১০ ব্যাচের ইসিই ডিপাঃ এর ছাত্রলীগের জানোয়ার “শুভ”। শুভ তোর বাবা কি তোকে বাড়িতে রেখেছে? তোর মা কি তোকে এখন ও রান্না করে খাওয়াই। হয়ত তারা জানেই না তার ছেলে কত বড় জানোয়ার। স্যারের গায়ে হাত তুলে বাড়ি ফিরেছে।

ডঃআজিজ স্যারঃ কেমিষ্টি ডিপাটমেন্টের প্রধান।আগেই বলে নেই, স্যার তাবলীগ করেন। পায়জামা পাঞ্জাবি পরে থাকেন। তিনিও গিয়েছিলেন অমর একুশে হলে। ছাত্রলীগ যুবলীগের ছেলেরা ধাওয়া দিলে তিনি মাটিতে পরে যান। কুত্তা গুলো মাটিতে পরা স্যার কে পিটালেন। তিনি আবেগ জড়ানো কন্ঠে ভিসি কে কল দিয়ে বলেছিলেন “স্যার আপনাকে যে পুলিশ পাঠাতে বললাম পুলিশ কোথায়? আপনি আমাদের ছেলেদের আমাদের যে ভাবে লাঞ্চিত করলেন। আপনার উপর আল্লাহর গজব পরবে”।
স্যার আপনার দোয়া কবুল হক।
এছাড়াও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা অপমান করেছে বায়োমেডিকেলে হেড ডঃ মহিউদ্দিন স্যার, তড়িত কৌশল বিভাগের ডঃ রফিক স্যার কে।[/sb

ছাত্রদের বাচাতে গিয়ে শহীদ হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ শামসুজ্জোহা কে নিয়ে আমরা মাতামাতি করি। কিন্তু হাজারও জোহা যে এই বাংলায় এখন ও মারখাচ্ছে তার বিচার ও চাই না। সেই সময় ডঃজোহা কে দেখিনি। তবে এখন মনে হচ্ছে জীবন্ত জোহা আমার ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে ,আমরা খেয়াল ও করছিনা।
original post
read more

কুয়েটের একজন আসামী বলছি

by প্রতীক্ষিত
১.
“ভিসি স্যার, আপনার উপর আল্লাহর গজব পড়ুক। আপনি এখনো আসছেন না কেন?”- কাঁদতে কাঁদতে মোবাইলে কথা বলছিলেন একজন সিনিয়র শিক্ষক।

২.
গুমোট, থমথমে, বেমানান একটি দিন। গতরাতে খাবারের নিম্নমানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে গন্ডগোলের পর সকলেরই মন ভাঙ্গাচোড়া। কুয়েটে সবাই ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন এবং প্রত্যয় নিয়ে পড়তে এসেছে, আন্দোলন করতে আসেনি।কিন্তু, দিনের পর দিন ছাত্রী হয়রানি, ইভটিজিং, রুমে ডেকে নিয়ে অথবা রুম থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধোর, হলের সিট বেদখল, ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য গভীর রাতে ধরে নিয়ে গিয়ে বেধরক পিটুনি…… আর কত সহ্য করা যায়? তাই তো শেষ পর্যন্ত বার্ষিক ফিস্টের খাবারের নিম্নমান নিয়ে প্রতিবাদ করল সাধারণ ছাত্ররা। তা না হলে, বছরের দু-একটা দিনের খাবার নিয়ে একজন হবু ইঞ্জিনিয়ারের কিছু এসে যায় না।

৩.
অশান্ত-ভাঙ্গাচোড়া মন নিয়ে কেউকেউ গিয়েছিল ক্লাশ করতে। ক্লাশ শেষে ফিরে এসেছে বেলা একটা দশে সেকেন্ড হাফের ব্রেকে। সবাই যখন হাত-পা ছড়িয়ে শুয়েছে বিছানায় কিম্বা বসেছে প্রিয় কম্পিউটারের সামনে। তখনই দলবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল ছাত্রলীগ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের নিয়ে। ছাত্ররা টের পেয়ে তালা লাগিয়ে দিল কলাপসেবল গেটে। কিন্তু মূহুর্তেই ভেঙ্গে গেল সেই তালা ছাত্রলীগের মূহুর্মূহ রডের আঘাতে। নিমিষেই ছড়িয়ে গেল তারা হলের সবখানে। হাতে বাঁশের চেলা, রামদা, চাপাতি, চাদরের নিচে লুকানো আগ্নেয়াস্ত্রটা ঝিলিক দিচ্ছিল মাঝেমাঝে। কিচ্ছুক্ষণ পরেই শুরু হল পাশবিক চিতকার আর প্রবল আর্তনাদ। সেই চিতকারে-আর্তনাদে কোন সুস্থ মানুষ ঠিক থাকতে পারে না।

৪.
রাম দা এর ক্রমাগত আঘাত যখন থেতলে দিচ্ছে ছাত্রটির হাত-পা, ঝরাচ্ছে ঝরঝর করে রক্ত তখনো সে ভাবছে, কেন সে মার খাচ্ছে? কি তার অপরাধ? ধারালো দিক দেখিয়ে রাম দা হাতে উদ্যত ছেলেটি বলে “এই দিক দিয়ে মারব তোকে? এই দিক দিয়ে?” সিনিয়র ভাইটিকে মারতে মারতে বলে, “অনেকদিন 2k7 মারি না, এবার মারব শালা”। এসব শব্দের কোনটিই পৌঁছে না মার খেতে থাকা ছাত্রটির কানে। শুধু সর্বশেষে যখন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তার বুকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে রেখে যায়, যখন তার দম বন্ধ হয়ে আসে, তখন তার মনে হয় সে বুঝি আর বাঁচবে না।
যখন সম্বিত ফিরে আসে তখন সে দেখে রুমের সবাই রক্তাক্ত। সৌভাগ্যক্রমে কম মার খাওয়া কেউ তার ক্ষতস্থানে সেভলন লাগিয়ে দিচ্ছে। চোখ জ্বালা করে, বেরিয়ে আসে অশ্রু, শারীরিক আঘাতে নয়, কষ্টে, অপমানে। এই দেহের ক্ষতস্থান একদিন শুকিয়ে যাবে, ব্যাথা সেরে যাবে, কিন্তু এই অপমান, এই কষ্ট রয়ে যাবে বুকের মাঝে, এই পাশবিক স্মৃতি বয়ে বেড়াতে হবে আজীবণ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবণের শেষপ্রান্তে এসে অজানা অপরাধে জুনিয়রের কাছে মার খেতে হলো। শেষ কটা দিন কিভাবে হাঁটবে ক্যাম্পাসে? যখন সেই জুনিয়রের সাথে দেখা হবে কোথায় লুকোবে চোখ দুটো?

৫.
আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, গল্প শুনেছি। সেসব গল্প শুনেশুনে রাজাকার, আল-বদরের যে প্রতিকৃতি আমার মনে তৈরী হয়েছে তার সাথে হুবুহু মিলে যায় ছাত্রলীগের চরিত্র।
ফুলবাড়িগেট কিংবা বি এল কলেজের ছাত্রলীগের সাহস ছিল না কুয়েটে ঢোকার। আর তাদেরকেই কুয়েট ছাত্রলীগ একুশে হলে ঢোকায় আস্ত্রসহ ঠিক যেভাবে রাজাকাররা পথঘাট চিনিয়ে চিনিয়ে বাড়িবাড়ি নিয়ে যেত পাকবাহিনীকে।
বুদ্ধিজীবিদের মারতে যাবার আগে আল-বদর নাকি লিস্ট করেছিল দেশের সূর্যসন্তানদের। ঠিক একই রকমভাবে কুয়েটের মেধাবী, যাদের মনে হয় নেতৃত্ব দেবার মত বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন তাদের লিস্ট করেছে ছাত্রলীগ এক তারিখ রাতে। আর দুই তারিখ দুপুরে রুমে রুমে গিয়ে লিস্ট ধরে ধরে পিটিয়েছে ছেলেদের। যারা ফেরাতে এসেছে তাদেরও পিটিয়েছে।
শুনেছি কারো সাথে ব্যাক্তিগত বিরোধ থাকলে সেটাও রাজাকাররা মিটিয়েছে পাকবাহিনীর সুবিধা নিয়ে। এই কথাটাও মিথ্যা হল না যখন দেখলাম, নিজের বিভাগের বড় ভাইকে পেটানোর জন্য অন্য বিভাগের ছেলেদের রুমে ঢুকিয়ে দিল আর নিজে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে রাখল।
রাজাকার-আল-বদররা নাকি কাঙ্খিত ব্যাক্তিটিকে মেরে ফেলবার আগে “আল্লাহু আকবার” বলে তকবির দিত। শুভজিতকে যখন ছাত্রলীগের কুকুররা পেল তখন আর তাদের আনন্দ, তাদের পাশবিকতা দেখে কে? জামার কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে এল হলের মাঝখানে ফাঁকা জায়গায়। সবাই একসাথে ঘিরে ধরে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দিল কিছুক্ষণ। তারপরই শুরু হলো সতঃস্ফূর্ত অমানুষিক নির্যাতন। আহঃ কোন মানুষ এভাবে মানুষকে মারতে পারে না। যখন এক পর্যায়ে জনি ফেরাতে গিয়ে বলল, “ভাই আর মারিস না, মরে যাবে”। তখন যেন তাদের চোখে ঝিলিক খেলে গেল। “অই তোর অত লাগে কেন?” বলে জনিকেও পেটাতে শুরু করল। পালিয়ে যাবার কোন উপায় ছিল না ওদের।

৬.
একজন একজন করে আহত ছাত্রদের আধমরা অবস্থায় বের করে আনা হচ্ছে। ভেতরে তখনো মারধোর চলছে, বাইরে থেকে শোনা যাচ্ছে যুগপত আর্তনাদ ও উল্লাসধ্বনি। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষকও মার খেয়েছেন, পুলিশ আসার কোন নাম নেই। কাঁদছে সবাই, ছাত্র-শিক্ষক সবাই কাঁদছে হাউমাউ করে। এমন পরিস্থিতিতে পশুছাড়া কেউ নিজেকে সংযত রাখতে পারে না। আমি ঠোঁট কামড়ে ধরি। চোখটা জ্বালা করে। “চোখটা এত পোড়ায় কেন? ও পোড়া চোখ সমুদ্রে যাও”

৭.
আমি বুঝি না, প্রকৌশলী হতে আসা একটা ছাত্র যখন চাপাতি হাতে তুলে নেয় তখন তার হাত কি একটুও কাঁপে না? বড়ভাইকে-শিক্ষককে মারতে যাবার আগে তার বিবেক কি এতটুকুও কাজ করে না? এরা কি পরিবার থেকে কিছুই শিখে আসেনি?
হে জননী, আপনার যে আদরের সন্তানকে পরমযত্নে, ভালবাসায় উচ্চশিক্ষিত করার আশায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন একবার কি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন কি অবলীলায় রাজনীতির বিষাক্ত ছোঁয়ায় সে মানুষ থেকে পশু হয়ে গেছে? সে এখন ছাত্র পেটায়, শিক্ষক পেটায়, সে এখন ত্রাস!
হে দায়িত্ববান পিতা, আপনি কষ্ট করে প্রতিমাসে যে টাকা পাঠান আপনার ছেলেকে সেই টাকা দিয়ে সে যে মদ গাঁজার নেশায় ডুবে থাকে, রাতভর জুয়া খেলে, আরো টাকার প্রয়োজনে ফিস্টের টাকা আত্নসাত করে, বাঁধা দিলে রামদা, চাপাতি দিয়ে কোপায় তা কি আপনি জানেন?

৮.
আমার জীবণের প্রথম ভোটটি দিয়েছিলাম আওয়ামিলীগকে। সেই আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় এসে আমাদের চিনিয়েছে নব্য রাজাকার, নব্য আল-বদর। একদিন বুয়েটে, পরেরদিন কুয়েটে, তারপরের দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যলয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, তারপরের দিন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এভাবে প্রতিদিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের অত্যাচার চলছেই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তো আমাদের বলেন, আমরা পড়াশোনা ছেড়ে দিই। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্নকে আমরা গলা টিপে হত্যা করি, আমাদের প্রয়োজেন নেই। এরচেয়ে দাদার রেখে যাওয়া জমিতে গিয়ে কৃষিকাজ করি গিয়ে। অবশ্য সে ব্যবস্থাও তো রাখেন নি আপনি। কখনো সে জমিতে বানাতে চেয়েছেন এয়ারপোর্ট, কখনো আর্মি ট্রেনিং সেন্টার, কখনো তার বুক চিঁড়ে দিতে চেয়েছেন ট্রানজিট, কখনোবা বানিয়েছেন মরুভূমি। তারচেয়ে বরং, পরেরবার ছাত্রলীগ পেটাতে আসার আগে তাদের হাতে তুলে দেবেন আধুনিক কিছু অস্ত্র, যেন আমাদের ধুকধুকে মরতে না হয়, একেবারেই মরে যাই। কি আর করা, আমাদের মৃত্যুই আমরা কামনা করি।

৯.
শুনেছি এই সরকারের আমল শেষ হলে আমাদের ভিসি ডঃ আলমগীর তার কুয়েটের চাকরী ছেড়ে দেবেন। ভিসি থাকাকালীন সময়ে তার বিভিন্ন বানিজ্যে উপার্জিত কোটি কোটি টাকা দিয়ে চাঁদপুরে গিয়ে নির্বাচনে দাঁড়াবেন। নির্বাচিত হয়ে গেলে হয়তো কোন মন্ত্রী-টন্ত্রী হয়ে যাবেন নিশ্চয়ই। কুয়েট নিয়ে তার এত মাথাব্যাথার সময় কোথায়? তাছাড়া তিনি তো কুয়েটর ছাত্রও ছিলেন না কখনো। কুয়েটের ভাল তিনি চাইবেন কেন? যার পা চাটলে তার লাভ তার পা-ই তো তিনি চাটবেন।
আমার বড়ভাইদের কাছে আমার প্রশ্ন, এই ভিসি কর্তৃক আয়োজিত কনভোকেশনে আপনারা আসবেন? এই রক্তাক্ত কুয়েট চেয়েছিলেন আপনারা? এই অমানুষ ভিসির সাথে হাত মেলাতে আপনাদের এতটুকু বাঁধবে না? আমাদের দেহ যখন ক্ষত-বিক্ষত, আমাদের রুমময় ছড়িয়ে আছে জানালার ভাঙ্গা কাঁচ আর টপটপে রক্তের ফোঁটা তখন কি আপনারা মাততে পারবেন সমাবর্তনের আনন্দে?
আমাদের ধারণা পারবেন না। যদি না পারেন তবে আমাদের অনুরোধ, আপনারা এগিয়ে আসুন এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে, উচ্চকন্ঠে প্রতিবাদ করুন, বর্জন করুন কনভোকেশন। আজ কুয়েটের বড় প্রয়োজন আপনাদেরকে। কুয়েটের পাশে দাঁড়ান, আমাদের, আপনাদের প্রিয় শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ান। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ ঘোর অমানিশা কাটতেই হবে। নয়তো সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।

১০.
ভিসি ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আপনারা কে কার চেয়ে কত খারাপ তার হিসাব আমরা মেলাতে পারব না। আমাদের খারাপের মাপকাঠির সীমা আপনারা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছেন।
ছাত্ররা যখন পাশবিক নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে তখন আপনি পুলিশ পাঠান নি। কি চমতকার, আপনি পুলিশ পাঠালেন তখন যখন ছাত্রলীগের ধ্বংসা মহড়া শেষ হলো। সেই পুলিশ দিয়ে সাধারণ ছাত্রদের পেটালেন আপনি। অথচ, আগের রাতে কি অবলীলায় বলেছিলেন যে, সক্ল সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দায়িত্ব নাকি আপনার।
আজকে এই ঘটনা ঘটত না যদি ভিসি হবার প্রথম দিনেই আপনি সেই দুই কুখ্যাত ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ তুলে না নিতেন, যদি মুক্তবুদ্ধি চর্চার নামে কলুষিত ছাত্ররাজনীতি আবার প্রচলন না করতেন। এ ঘটনা ঘটত না যদি আপনি ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতা না করে ছাত্রী হয়রানীর বিচার করতেন, যদি ছাত্রী হয়রানির বিচার করতেন তবে হয়তো অঙ্কুশ-নিনাদকে এভাবে গভীর রাতে মার খেতে হতো না, যদি অঙ্কুশ-নিনাদকে নির্যাতন করার বিচার করতেন তবে হয়তো আজ ছাত্র-শিক্ষক নির্বিশেষে গণহারে মার খেতে হত না। আমাদেরও এই কলঙ্কের দেখা পেতে হতো না।
শিবেন-আলমগীর আপনারাই কুয়েট ছাত্রলীগের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক, আপনারাই কুয়েটের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী। আপনাদের মদদেই ছাত্রলীগ সাধারণ ছাত্রদের পিটিয়েছে, স্যারদের পিটিয়েছে, আবার তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে। আমি সেই মামলার একজন আসামী বলছি- “আপনাদের উপর আল্লাহর গজব পড়ুক”
original post
read more

Tuesday, November 29, 2011

“আমিই প্রকৃত দেশপ্রেমিক” : কমরেড কিষানজী

by রািকবুল আলম
সন্দেহাতীতভাবে ভারত সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের তালিকায় তার অবস্থান দুই নম্বরে (এই তালিকার ১ নম্বর নাম কমরেড গণপতি), তিনি সিপিআই (মাওবাদী)’এর পলিট ব্যুরোর সদস্য ও সামরিক শাখার প্রধান কমরেড মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও, ওরফে ‘প্রহলাদ’, ওরফে ‘বিমল’, ওরফে ‘রামজী’, ওরফে ‘কিষানজী’ (৫৭)। তাঁর বেড়ে উঠা অন্ধ্রপ্রদেশে গান্ধী ও রবি ঠাকুরের বই পড়ে। কিন্তু বিশ্বের মুক্তির ইতিহাস অধ্যয়ন ও অনুধাবন করার পর এক পর্যায়ে তিনি বিপ্লবাকাঙ্খায় অরণ্যে আত্মগোপন করেন। তাঁর জন্ম ১৯৫৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের করিমনগর জেলার পেদপল্লী গ্রামে (উঃ তেলেঙ্গনা)। ১৯৮০ সালে কান্দাপালি সিথামাইয়াহ নামের এক স্কুল শিক্ষকের নেতৃত্বে “পিপলস্ ওয়ার গ্রুপ” (পিডব্লিউজি) প্রতিষ্ঠিত হয়, যার অন্যতম সহযোগী ছিলেন কিষানজী। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ‘পিডব্লিউজি’ এবং ‘মাওয়িস্ট কমিউনিস্ট সেন্টার অব ইন্ডিয়া’ একীভুত হয়ে গঠিত হয় ‘সিপিআই (মাওবাদী)’। ১৯৮২ সালে সার্চ অপারেশন চলার সময়ে পুলিশ তাঁর পেদপল্লী গ্রামের বাড়ীটি ভেঙ্গে দেয়। তিনি আত্মগোপনে চলে যান, এরপরে আর মায়ের সাথে দেখা করতে আসেননি; তবে তেলেগু পত্রিকার মাধ্যমে তিনি তাঁর মা’কে লিখতেন। কিষানজী’র স্ত্রী সুজাতাও মাওবাদী আন্দোলনের সাথে যুক্ত। তিনি দান্তেওয়াড়া এলাকার মাওবাদী কর্মকাণ্ড তত্ত্বাবধান করেন। মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়’এর নক্সাল এলাকায় ২০ বছর জড়িত থাকার পর তাকে পুনরায় পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হয়। লালগড় পুলিশ ক্যাম্প থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে কিষানজী’র একটি গুপ্ত আশ্রয়স্থল থাকা সত্ত্বেও তাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনী (র’, সিআরপিএফ, বিএসএফ, পুলিশ, সেনাবাহিনী) তাঁকে খুঁজে না পাওয়ার মূলে ছিল জনগণের সাথে তাঁর একাত্মতা। তিনি প্রতিদিন ১৫টি সংবাদপত্র পড়তেন, সেই সাথে তার পার্টির প্রকাশনাগুলোর সাথে যুক্ত থাকতেন। তিনি ছিলের সিপিআই (মাওবাদী) পার্টির সামরিক শাখার প্রধান। মুখের ছবি তুলতে না দিলেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে মন খুলেই কথা বলতেন। ৩৭ বছর যাবৎ একই মতাদর্শে অটুট থেকে নিপীড়িতদের মুক্তির সংগ্রামে আমৃত্যু লড়ে যান এই বিপ্লবী।

২৪ নভেম্বর ২০১১ ছিল এক কালো দিন, সেদিন ‘ভুয়া সংঘর্ষ’ (ফেক এনকাউন্টার) দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র কর্তৃক সিআরপিএফ দ্বারা হত্যা করা হয় কমরেড কিষানজী’কে। বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারের শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়া চলছিল মাওবাদীদের সাথে। ২৩ তারিখে কিষানজী এমনই এক গোপন সভায় হাজির হলে তাকে ধোঁকা দিয়ে আটক করা হয় এবং অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করার পর ২৪ নভেম্বর ২০১১ তারিখ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বুড়িশোল জঙ্গলে এক ভুয়া এনকাউন্টারের নাটক সাজানো হয়।

ধিক্কার জানাই ভারত রাষ্ট্রকে বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য…

শহীদ কমরেড কিষানজী’র প্রতি রইলো আমাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। কিষানজী শুধু কোন একক ব্যক্তি নন; তিনি এমনই এক সত্ত্বা, যা বিদ্যমান সকল মুক্তিকামী মানুষের মাঝে। তাই কিষানজী’দের মৃত্যু নাই, তারা চিরঞ্জীব। তিনি বেঁচে থাকবেন, গণমানুষের মুক্তির নেশায়, লড়াই-সংগ্রামে।

লাল সালাম, কমরেড…..

——————————————
(২০০৯ সালের নভেম্বরে “তেহেলকা ডট কম”এ প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে কমরেড মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও ওরফে ‘কিষানজী’ কথা বলেন সশস্ত্র সংগ্রাম, শান্তি আলোচনা, দলের অর্থায়নের উৎস, ভারতের প্রথাগত গণতন্ত্র ও জনগণতন্ত্রের পার্থক্য এবং সিপিআই (মাওবাদী)’এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন তুষা মিত্তাল।) মধ্যরাত্রিতে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারটির উদ্ধৃতাংশ:

প্রশ্ন: আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন। আপনি কিভাবে সিপিআই (মাওবাদী) দলে যোগ দিলেন?
কমরেড কিষানজী: আমি অন্ধ্র প্রদেশের করিম-নগরে জন্মগ্রহণ করি। ১৯৭৩ সালে গণিতে স্নাতক ডিগ্রীর পর আমাকে আইনের মাধ্যমে অভিযুক্ত দেখিয়ে হায়দ্রাবাদে সরিয়ে দেওয়া হয়। আমার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ‘তেলেঙ্গানা সংঘর্ষ সমিতি’ (Telangana Sangarsh Samiti)’এর সাথে আমার সংযুক্তি থেকে; এখানে উল্লেখ্য যে, ‘তেলেঙ্গানা সংঘর্ষ সমিতি’ পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্যের দাবী জানাচ্ছিল সেসময়ে। ১৯৭৫ সালের জরুরী অবস্থার মধ্যেই আমি অন্ধ্র প্রদেশে ‘রেডিক্যাল স্টুডেন্টস মুভমেন্ট’ (Radical Students Union (RSU))’এর কাজ শুরু করি। এরপরে আমি বিপ্লবের উদ্দেশ্যে আত্মগোপনে চলে যায়। সেসময়ে বেশ কিছু বিষয়ে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম; এর মাঝে কিছু বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ, যেমন: লেখক ভারাভারা রাও (যিনি বিপ্লবী লেখক সংঘ, Revolutionary Writers Association’এর প্রতিষ্ঠাতা), তৎকালীন ভারতের রাজনৈতিক আবহ এবং একটি প্রগতিশীল পরিবেশ, যে পরিবেশে আমার বেড়ে উঠা।


আমার বাবা ছিলেন একজন গণতন্ত্রী এবং মহান মুক্তিযোদ্ধা [*তিনি ১৯৪০ এর দশকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন]। তিনি রাজ্য কংগ্রেস পার্টির সহসভাপতিও ছিলেন। আমরা বর্ণে ব্রাহ্মণ হলেও আমাদের পরিবার বর্ণ বিশ্বাস করতো না। যখন আমি সিপিআই (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) দলে যোগদান করি, আমার বাবা কংগ্রেস পরিত্যাগ করেন। তখন তিনি একথা বলেন যে, ‘এক ছাদের নিচে দুই ধারার রাজনীতি বেঁচে থাকতে পারে না।’ তিনি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন, কিন্তু সশস্ত্র সংগ্রামে নয়। ১৯৭৭ সালে জরুরী অবস্থা শেষ হবার পর আমি সামন্তবাদের বিরুদ্ধে কৃষকদের একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেই। ৬০ হাজারেরও বেশী কৃষক এই আন্দোলনে যোগ দেন, এই কৃষক আন্দোলন পরবর্তীতে সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রশ্ন: গৃহমন্ত্রী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী) সিপিআই (মাওবাদী)’এর সাথে বন অধিকার, জমি অধিগ্রহণ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল SEZs(Special Economic Zones)’এর মতো বিষয়গুলোতে কথা বলতে আগ্রহী। আপনারা তার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন কেন? তিনি শুধুমাত্র আপনাদের সহিংসতা স্থগিত রাখার কথাই বলেছেন।

কমরেড কিষানজী:সরকার তার বাহিনী প্রত্যাহার করলে আমরা আলাপের জন্য প্রস্তুত। সহিংসতা আমাদের কর্মসূচীর অংশ নয়। আমাদের এই সহিংসতা কেবলই আত্মরক্ষার জন্য। সরকারী বাহিনী আমাদের লোকদের প্রতিদিন আক্রমণ করছে। বাস্তারে গত মাসে কোবরা বাহিনী ১৮জন নিরপরাধ আদিবাসী এবং ১২জন মাওবাদীকে হত্যা করেছে। ছত্তিশগড়ে উন্নয়ন খাতে যারা আমাদের সহায়তা করতো, তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এগুলো বন্ধ করুন; সহিংসতাও বন্ধ হয়ে যাবে। সম্প্রতি, ছত্তিশগড়ে পুলিশের ডিজিপি একটা সন্ত্রাসী সংগঠন ‘সালওয়া জুডুম’এর ৬,০০০ বিশেষ পুলিশ সদস্যদের নিজেদের গৌরব বলে তকমা লাগিয়েছেন। অথচ, তারা বছর বছর ধরে আদিবাসীদের ধর্ষণ, হত্যা, লুটের সাথে জড়িত। ‘সালওয়া জুডুম’এর অত্যাচারে গ্রামের পর গ্রাম বিরানভূমিতে পরিণত হচ্ছে। সরকার নিজের মনগড়া কথা বলে যেতে পারে, তবে আমরা তা বিশ্বাস করিনা। তারা কিভাবে এই কর্মপন্থার পরিবর্তন ঘটাবে, যখন তাদের অধিকারে কিছুই নাই? সবই তো যুক্তরাষ্ট্র আর বিশ্বব্যাংকের এখতিয়ারে!

প্রশ্ন: কোন পরিস্থিতিতে আপনারা সহিংসতা কমাবেন?

কমরেড কিষানজী: প্রধানমন্ত্রীকে আদিবাসীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং সেই সাথে এই সব অঞ্চলে মোতায়েন করা সৈন্যদের প্রত্যাহার করতে হবে। এই সেনাবাহিনী নতুন কিছু না, আমরা গত ২০বছর যাবৎ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছি। সকল বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। সেনা প্রত্যাহারের জন্য যা সময় লাগে নিন, কিন্তু এসেময়ে যেন আমাদের উপর পুলিশী হামলা না হয়, তা নিশ্চিত করুন। যদি সরকার তাতে রাজী থাকে, তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে কোন সহিংসতা হবে না। আমরা পূর্বের ন্যায় গ্রামাঞ্চলে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।

প্রশ্ন: এতে সম্মত হওয়ার পূর্বে আপনারা কি রাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করতে পারেন যে, এক মাসের জন্য আপনারা আক্রমণ করবেন না?

কমরেড কিষানজী: আমরা এবিষয়টা নিয়ে চিন্তা করবো। এবিষয়ে আমাকে দলের সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু এমন কী নিশ্চয়তা আছে যে, তাদের তরফ থেকে এই এক মাসে কোন সহিংসতা হবে না? তাই সরকারের তরফেই এই ঘোষণা আসতে হবে এবং প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এটা জনগণের জন্য শুধুমাত্র একটি প্রদর্শনী হবে না। অন্ধ্র প্রদেশের দিকে তাকান। তারা আলোচনা শুরু করলো, আবার সেই আলোচনা ভেঙ্গেও দিল। আমাদের একজন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অন্ধ্রের রাজ্য সচিবের সাথে দেখা করতে গেলেন; পরবর্তীতে, সরকারের সাথে আলাপ করার দুঃসাহসের অভিযোগে (!) পুলিশ উনাকে গুলি করে হত্যা করে।

প্রশ্ন: যদি সত্যিই আপনারা গণমানুষের কর্মসূচী নিয়ে কাজ করেন, তাহলে সাথে অস্ত্র রাখার প্রয়োজনীয়তা কী? আপনার লক্ষ্য কি ‘আদিবাসী কল্যাণ’, নাকি ‘রাজনৈতিক শক্তি’?

কমরেড কিষানজী: রাজনৈতিক শক্তি। আদিবাসী কল্যাণকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি, কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতা ছাড়া আমরা কিছুই অর্জন করতে পারব না। একটি সেনাবাহিনী এবং অস্ত্রশস্ত্র ছাড়া কেউ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারবে না। আদিবাসীদের রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকার ফলেই তারা শোষিত এবং এই শোষণ তাদেরকে সবচেয়ে অনুন্নত ও পিছিয়ে পড়াদের চরমে পৌঁছে দিয়েছে। নিজের সম্পদের উপরেও তাদের কোন অধিকার নেই। তাসত্ত্বেও, আমাদের মতাদর্শ অস্ত্রের উপর স্থিত না। আমরা অস্ত্রকে দ্বিতীয় অবস্থানে স্থান দেই। অন্ধ্রে আমরা একারণেই এক বড় ক্ষতির সম্মুখীন হই।

প্রশ্ন: সরকার বলছে আগে সহিংসতা থামান, আপনারা বলছেন আগে সেনা প্রত্যাহার করুন। এই বুদ্ধিবৃত্তিশূণ্য চক্রে আদিবাসী সমাজ, আপনারা যাদের প্রতিনিধিত্ব করেন বলে দাবি করেন, তারা সর্বাধিক কষ্টকর অবস্থার সম্মুখিন হচ্ছে।

কমরেড কিষানজী: আচ্ছা, তাহলে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের আনা হোক। অন্ধ্র প্রদেশ হোক, পশ্চিমবঙ্গ বা মহারাষ্ট্র, আমরা কখনোই সহিংসতা শুরু করিনি। প্রথম আক্রমণ সবসময় সরকার পক্ষ থেকেই আসে। পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম [ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি (মার্কসবাদী)]’এর সন্ত্রাসীরা তাদের দলের সাথে যুক্ত নয় এমন কাউকেই গ্রামে প্রবেশ করতে দেয় না (*তৎকালীন সময়ে সিপিএম ছিল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল)। পুলিশ ১৯৯৮ সাল থেকে লালগড় এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করে আছে। এমতাবস্থায়, আলুর মূল্যবৃদ্ধি অথবা বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য কিভাবে আমরা চাপ দিতে পারি? এজন্য এমন কোন মঞ্চ আমাদের নাই। যখন পশ্চিমবঙ্গে সর্বনিম্ন মজুরি দেওয়ার কথা প্রতিদিন ৮৫ টাকা, অথচ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে ২২ টাকা করে; আমরা দাবী জানালাম ২৫ টাকা করার। মহাভারতের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল যখন পাণ্ডবদের দাবী অনুযায়ী কৌরভরা পাঁচটি গ্রাম তাদের দিতে অস্বীকার করে, তখন। রাষ্ট্রও আমাদের ৩ টাকা মজুরী বৃদ্ধিকে অগ্রাহ্য করলো। এখানে আমরা পাণ্ডব, আর তারা কৌরভ।

প্রশ্ন: আপনি বলেছেন সহিংসতা আপনাদের কর্মসূচী নয়, কিন্তু আপনারা গত চার বছরে প্রায় ৯০০ পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছেন, যাদের বেশিরভাগই এসেছে গরীব আদিবাসী পরিবার থেকে। এমনকি যদি সেটি অপরপক্ষের সহিংসতার কাউন্টারও হয়ে থাকে, এর মধ্য দিয়ে গণ-মানুষের পক্ষের এই লক্ষ্যে কিভাবে এগুনো সম্ভব?

কমরেড কিষানজী: আমাদের যুদ্ধ পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে নয়, এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। আমরা পুলিশের সাথে হতাহতের সংখ্যা কমাতে চাই। বাংলায়, অনেক পুলিশ পরিবার আসলে আমাদের সাথে সহমর্মী। সেখানে গত ২৮ বছরে ক্ষমতাসীন সিপিএম প্রায় ৫১ হাজার রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হ্যাঁ, আমরা গত সাত মাসে ৫২ জন সিপিএম সদস্যকে হত্যা করেছি। আর তা কিন্তু সিপিএম ও পুলিশের পশুর ন্যায় বর্বর আচরণের ফলেই করতে হয়েছে।

প্রশ্ন: সিপিআই (মাওবাদী) কিভাবে গঠিত হলো? আপনাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির কী কী অভিযোগ রয়েছে?

কমরেড কিষানজী: সেখানে কোন চাঁদাবাজী হয়নি। আমরা কর্পোরেট এবং বড় বুর্জোয়াদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ করেছি, এটি কর্পোরেট সেক্টর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে তহবিল সংগ্রহে অর্থায়ন ভিন্ন অন্য কিছু নয়। আমাদের একটি ষাণ্মাসিক নিরীক্ষা হয়। একটা পয়সাও নষ্ট হয় না। গ্রামবাসীরাও স্বেচ্ছায় প্রতি বছর তাদের দুই দিনের আয় পার্টি তহবিলে অনুদান হিসেবে দিয়ে থাকেন। গাদচিরলি’তে দুই দিনের বাঁশ কাটা থেকে আমরা ২৫ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করি। বাস্তারে টেন্ডু পাতা সংগ্রহ থেকে আমরা প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করি। এছাড়াও, কৃষকেরা ১০০০ কুইন্টাল ধান অনুদান হিসেবে দিয়ে থাকে।

প্রশ্ন: যদি কৃষক এই অনুদান দিতে রাজি না হয়?

কমরেড কিষানজী: এমনটা কখনোই হবে না।

প্রশ্ন: এর কারণ কি ভয়?

কমরেড কিষানজী: কখনোই না। তারা আমাদের সঙ্গেই আছেন। আমরা যে উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্যোগ নিয়েছি, তার জন্য একটা পয়সাও গ্রামবাসীদের কাছ থেকে দাবী করিনি।

প্রশ্ন: মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় আপনারা কী কী উন্নয়ন করেছেন? ছত্তিসগড় এবং ঝাড়খন্ডের আদিবাসীদের জীবন-ধারা কিভাবে উন্নত হয়েছে?

কমরেড কিষানজী: আমরা মানুষকে রাষ্ট্রের প্রকৃত চেহারার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি, তাদেরকে ধনীদের জীবন-যাত্রা ও তারা (আদিবাসীরা) কী কী সুবিধা থেকে বঞ্চিত, সে সম্পর্কে অবগত করেছি। এসব এলাকায় ১টাকায় ১০০০ টেন্ডু পাতা বিক্রি হতো। আমরা মহারাষ্ট্রের ৩টি জেলা, অন্ধ্র প্রদেশের ৫টি জেলা এবং সমগ্র বাস্তার এলাকায় এই দাম বাড়িয়ে প্রতি টেন্ডু পাতার দাম ৫০ পয়সা করেছি। প্রতি বান্ডেল বাঁশ ৫০ পয়সায় বিক্রি হতো। এখন যার দাম ৫৫ টাকা। আমদের এই অর্জন এসেছে রাষ্ট্রের নির্মম প্রতিরোধ ও নিষ্ঠুর চেহারাটার সাক্ষাৎ পাওয়ার মধ্য দিয়ে। শুধুমাত্র গাদচিরলি’তেই তারা আমাদের ৬০ জনকে হত্যা করে, আর আমরা মারি ৫ জনকে।

এছাড়াও সিপিআই (মাওবাদী) পার্টি প্রায় প্রতিদিনই ১২০০টি গ্রামে স্বাস্থ্য সহায়তা দিয়ে থাকে। বাস্তারে আমাদের বেশকিছু সৈনিক রয়েছেন, যারা দক্ষ ডাক্তার, তারা এপ্রোন পরেন এবং জঙ্গলে ধাত্রীর কাজ করে থাকেন। শুধুমাত্র বাস্তারেই আমাদের এমন ৫০টি ভ্রাম্যমান স্বাস্থ্য দল এবং ১০০টি ভ্রাম্যমান হাসপাতাল আছে। গ্রামবাসীরা নির্দিষ্ট অসুস্থতার জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের যান; যেমন: জ্বরের জন্য যাবে ইসা’র কাছে, আবার ডাইরিয়ার জন্য যাবে রামু’র কাছে, ইত্যাদি। এই অঞ্চলে মানুষ এতো বেশী অসুস্থ হয় যে কখনো কখনো লাশ উঠানোর মানুষেরও স্বল্পতা দেখা দেয়। আমরা মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ডাক্তারদের কাছে ঔষধ সরবরাহ করে থাকি। সরকার জানে না যে, এই ঔষধ কিন্তু সরকারী হাসপাতাল থেকেই আসে।

প্রশ্ন: রাষ্ট্র যদি নক্সাল অধ্যুষিত এলাকায় সিভিল প্রশাসন পাঠায়, আপনারা কি তার অনুমতি দিবেন?

কমরেড কিষানজী: আমরা স্বাগত জানাব। আমরা চাই শিক্ষক ও ডাক্তারেরা এখানে আসুক। লালগড়ের জনগণ যুগ-যুগ ধরে সেখানে একটি হাসপাতালের দাবী জানাচ্ছে। কিন্তু সরকার কিছুই করেনি। যখন জনগণ নিজেদের চেষ্টায় একটা হাসপাতাল গড়ে তুললো, সরকার এটিকে সেনা-ছাউনিতে রূপান্তর করলো।

প্রশ্ন: আপনাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা কি? তিনটি সুস্পষ্ট লক্ষ্যের কথা বলুন।

কমরেড কিষানজী: গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং তারপর সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন রাজনৈতিক ক্ষমতা। দ্বিতীয়ত, আমাদের অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করার জন্য সাম্রাজ্যবাদের ঋণের কোন প্রয়োজন নাই। যুগ-যুগ ধরে আমরা বিদেশী ঋণের টাকা শোধ করে আসছি, আর যেহেতু এখানে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ক্রমবর্দ্ধমান তাই অপরিশোধিত ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এটা কখনোই পরিশোধিত হবে না। আর এটাই চায় বিশ্বব্যাংক। আমাদের এমন এক অর্থনীতি প্রয়োজন, যা দুইটি বিষয়ের উপর কাজ করবে- কৃষি এবং শিল্প। প্রথমত, আদিবাসীরা জমি চায়। জমিতে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্র তাদের শোষণ করেই যাবে। শ্রমের ভিত্তিতে শতকরা হারে জনগণকে শস্য বরাদ্দ দিতে হবে। আমরা শিল্পের বিরোধী নই; শিল্প ছাড়া উন্নয়ন কিভাবে সম্ভব? কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে শিল্পটি ভারতের জন্য সহায়ক, নাকি আমেরিকা বা বিশ্বব্যাংকের সহায়ক। বড় বাঁধ, বড় শিল্পের বদলে আমরা ছোট শিল্প, বিশেষত যা কৃষির উপর নির্ভরশীল, এমন শিল্পকে উন্নীত করার পক্ষপাতী। তৃতীয় লক্ষ্য হলো, টাটা থেকে আম্বানী পর্যন্ত সকল বড় কোম্পানিকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব করা, সকল স্মারক চুক্তি (MOU) বাতিল করা, তাদের সকল সম্পদকে জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করা ও এর মালিকদের জেলে প্রেরণ করা। অবশ্যই, নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা থাকবেন।

প্রশ্ন: কিন্তু বিশ্বে কমিউনিস্ট সরকারগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, তারা যে ব্যবস্থাকে উৎখাত করেছিল শোষণের অভিযোগে, ক্ষমতায় এসে তারা নিজেরাও সেরকমই হয়ে যায়। মাওবাদী শাসন ব্যবস্থারই এমন অনেক উদাহরণ দেওয়া সম্ভব যেখানে বল প্রয়োগ হয়েছে এবং মত পার্থক্য সহ্য করা হয়নি। কিভাবে তা মানুষের স্বার্থে হতে পারে?
কমরেড কিষানজী: এই সব পুঁজিবাদীদের দ্বারা ছড়ানো গল্প। গ্রামের মানুষেরা বিনা চিকিৎসায় মরছে, অথচ ডাক্তারেরা সব শহরে থাকতে চায়। আমাদের সব প্রকৌশলীরা জাপানের মতো উন্নত দেশে, অথবা আইটি নিয়ে কাজে আগ্রহী। তারা জনগণের সম্পদ ব্যবহার করেই নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছেছেন। তারা আমাদের দেশের জন্য কী করেছেন? রাষ্ট্র আপনাকে ডাক্তার হওয়ার জন্য জোর দিতে পারে না। কিন্তু যদি আপনি তা হয়ে যান, তাহলে আপনাকে জোর দেওয়া উচিৎ (রাষ্ট্র কর্তৃক) নিজের দক্ষতা অনুযায়ী দুই বছর গ্রামে সেবা দেওয়ার জন্য। রাষ্ট্র কতটা শোষক, তা নির্ভর করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় কারা আসীন তার উপর।

আমরা একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চাই। যদি সেখানে কোন গণতন্ত্র না থাকে, তাহলে গ্রামবাসীদের বলুন আমাদের ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য আরেকটি বিপ্লবের সূচনা করতে। একটি প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ইতিমধ্যে বাস্তারে আমাদের একটি বিকল্প জনগণতান্ত্রিক সরকার আছে। নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচিত করি, যা বিপ্লবী জনগণের কমিটি নামে পরিচিত। জনগণ হাত উঁচিয়ে ভোট দেন। সেখানে একজন চেয়ারম্যান, একজন ভাইস চেয়ারম্যান, এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কল্যাণ, কৃষি, আইন-শৃঙ্খলা, জনসংযোগ ইত্যাদি বিভাগ রয়েছে। এই ব্যবস্থা বর্তমানে ভারতের প্রায় ৪০টি জেলায় বিদ্যমান। ‘মাওবাদীরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না’ বলে যে একটা ধারণা আছে, তা সম্পূর্ণরূপে ভুল।

বর্তমানে ভারতে যা বর্তমান, তা হলো আনুষ্ঠানিক গণতন্ত্র। এটি প্রকৃত গণতন্ত্র নয়। তা মমতা হোক, সিপিএম হোক, আর কংগ্রেস পার্টি, সবগুলোই স্বৈরতান্ত্রিক। আমরা তাদের আসল চেহারাটা সবার সামনে উন্মোচনের জন্যই পশ্চিমবঙ্গে ১৪ জন আদিবাসী নারীকে মুক্তির জন্য আলোচনা করেছি; বিশ্ববাসী দেখুক, তাদের এই জেলে কাদের আটকে রাখা হয়।

প্রশ্ন: আপনি যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাহলে ইতিমধ্যে বিদ্যমান গণতন্ত্রকে পরিহার করছেন কেন? নেপালে তো মাওবাদীরা নির্বাচনেও অংশ নিয়েছে।

কমরেড কিষানজী: নতুন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য পুরোনোটিকে অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে। নেপালে মাওবাদীরা সমঝোতা করেছে (*এরই ফল স্বরূপ বর্তমানে নেপালে মাওবাদী পার্টির নেতৃত্বে আসীন দুই দালাল, প্রচণ্ড আর ভট্টরাই)। ১৮০ জন এমপি (সংসদ সদস্য) গুরুতর অপরাধের আসামী, ৩ শতাধিক এমপি কোটিপতি। এর নামই কি নির্বাচন? আপনি কি জানেন, মার্কিন সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই উত্তর প্রদেশে একটি ঘাঁটিতে অনুশীলন শুরু করেছে? তারা স্বদম্ভে বলছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে তারা তাদের ইচ্ছানুযায়ী যেকোন স্থানে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে। এই স্পর্ধা কে অনুমোদন দেয়? আমি তো নয়। আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই। আমিই প্রকৃত দেশপ্রেমিক।

প্রশ্ন: ভারতকে আপনি কেমন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান? একটি আদর্শ ব্যবস্থা বাছাই করুন।

কমরেড কিষানজী: আমাদের প্রথম আদর্শ ব্যবস্থা হলো প্যারিস, যা ভেঙ্গে গেছে। এরপর রাশিয়া ধ্বসে পড়লো, আর তখনই জ্বলে উঠলো গণচীন। কিন্তু মাও পরবর্তী সময়ে সেটিরও পতন হয়। এখন বিশ্বের কোনোখানেই জনগণের হাতে সত্যিকারের ক্ষমতা নাই। সর্বত্রই শ্রমিকেরা এজন্য সংগ্রাম করছে। তাই কোন আদর্শ ব্যবস্থা বিদ্যমান নাই।

প্রশ্ন: যখন কমিউনিজম অন্যত্র ফলপ্রসু হয়নি, তখন ভারতে তা কিভাবে কাজ করবে? চীনে বর্তমানে মাও’এর তত্ত্বকে ভ্রান্তিমূলক আখ্যা দেওয়া হয়। নেপালে ইতিমধ্যে মাওবাদীদের বিদেশী বিনিয়োগ খোঁজছেন।

কমরেড কিষানজী: নেপালে মাওবাদীরা যা করছেন, তা ভুল। এই পথ অনুসরণ করার মানে হলো আরেকটি বুদ্ধদেব বাবু ["মার্কসিস্ট" পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী] তৈরী করা। আমরা তাদের নিকট আবেদন জানিয়েছি পুরোনো পন্থায় ফিরে আসার জন্য। যেখানেই সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজম শিকড় গজিয়ে উঠে, সেখানেই সাম্রাজ্যবাদ তা স্বমূলে উপড়ে ফেলতে চায়। অবশ্যই, লেনিন, মাও, প্রচণ্ড – সবারই কিছু দুর্বলতা আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিজয়ের পর লেনিন এবং স্তালিন আমলাতন্ত্রের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রকে প্রতিস্থাপিত করেন। তারা জনগণের অংশগ্রহণকে উপেক্ষা করেন। তাদের ভুল থেকে আমাদের শিখতে হবে। পুঁজিবাদও কিন্তু মুখ থুবড়ে পড়েছে। আপনি কিভাবে বলবেন যে পুঁজিবাদই সফল হয়েছে? সমাজতন্ত্রই মুক্তির শুধুমাত্র পথ।

প্রশ্ন: কিন্তু ক্ষমতায় গেলে আপনারাও কী নেপালের মাওবাদীদের মতো বা সিপিএম’এর মতো বিভ্রান্ত হতে পারেন না?

কমরেড কিষানজী: যদি আমরা পরিবর্তিত হই, তাহলে জনগণ আমাদের বিরুদ্ধেই আরেক বিপ্লবের (ক্রান্তিকারী আন্দোলন)সূচনা করবে। শাসক যেই হোক না কেন, যদি সে শোষকে পরিণত হয় তাহলে জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য উঠে দাঁড়াবেই। তাদের ‘একজন কিষানজী’, ‘একজন প্রচণ্ড’ বা ‘একজন স্তালিন’এর উপর অন্ধ বিশ্বাস থাকা উচিৎ নয়। যদি কোনো নেতা বা পার্টি তাদের নিজস্ব মতাদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়, তাহলে তাদের উপরে আস্থার সমাপ্তি ঘটিয়ে আবারো বিদ্রোহ করতে হবে। জনগণের এই পরম্পরা জিইয়ে রাখতে হবে।

প্রশ্ন: আপনি কি কখনও কোন ব্যক্তিগত দ্বিধার সম্মুখীন হয়েছেন? সহিংসতাই কি একমাত্র পথ রাষ্ট্রের উপর চাপ বৃদ্ধি করার?

কমরেড কিষানজী: আমার বিশ্বাস আমরা সঠিক কাজটিই করার চেষ্টা করছি। আমরা একটা ন্যায়ের যুদ্ধ করে যাচ্ছি। হ্যাঁ, পথ চলতে ভুল হতেই পারে। কিন্তু তা রাষ্ট্রের মতো নয়, আমরা ভুল করলে তা স্বীকার করতেও জানি। ফ্রান্সিস ইন্ডুয়ার’কে হত্যা করাটা ছিল একটি ভুল, আমরা এজন্য ক্ষমাপ্রার্থী। লালগড়ে আমরা একটা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছি। সেখানে আমরা সম্প্রতি শুধুই উন্নয়নের জন্য সরকারকে (লিখিতভাবে) দাবী জানিয়েছি এবং সরকারকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি। আমরা ৩০০টি গভীর নলকূপ এবং ৫০টি অস্থায়ী হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছি। এছাড়াও আমরা ফরোয়ার্ড ব্লক, আরএসপি, সিপিআই, এমনকি সিপিএম’এর মতো বাম দলগুলোর সাথেও আলোচনা করেছি। আমি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রীদের সাথেও যোগাযোগ করেছি। মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আমি নিজে কথা বলেছি।

প্রশ্ন: মুখ্যমন্ত্রীর অফিস এগুলো ময়লার ঝুড়িতে ফেলেছে।

কমরেড কিষানজী: আমি মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। আমি তাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধ করতে বলেছি এবং বলেছি যে, আমরা আমাদের উন্নয়ন চাহিদা চিঠির মাধ্যমে পাঠিয়েছি। তিনি জানালেন যে, তিনি তার দল ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী চিদাম্বরম দ্বারা চাপে আছেন।

প্রশ্ন: পুলিশ কেন আপনাকে ধরতে সক্ষম হচ্ছে না?

কমরেড কিষানজী: আটটি রাজ্যে দিন নেই, রাত নেই, আমাকে ধরার জন্য অভিযান চলতেই থাকে। তাদের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় আমার অবস্থান ২ নম্বরে। পুলিশ যেন আমার কাছে পৌছাতে না পারে, সেজন্য বাংলার ১৬০০ গ্রামের মানুষ রাতে পাহাড়া দেয়। আমি এখন যেখানে আছি, সেখান থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে একটা ক্যাম্পে ৫০০ পুলিশ রয়েছে। বাংলার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। পুলিশ আমাকে ধরার আগে তাদের মারতে হবে।

প্রশ্ন: স্বরাষ্ট্র সচিব সম্প্রতি আপনাদের অস্ত্র দেওয়ার জন্য চীনকে উদ্দিষ্ট করেছেন। এটা কি সত্য?

কমরেড কিষানজী: তিনি আমাদের মতাদর্শ সম্পর্কে একদমই কিছু জানেন না। যুদ্ধে জয়ী হতে হলে শত্রু সম্পর্কে জানতে হয়। আমাদের অবস্থান চীন থেকে সম্পূর্ণভাবে বিপরীত। আমি ভেবেছিলাম চিদাম্বরম এবং পিল্লাই আমার প্রতিযোগী, কিন্তু আমার শত্রু এতো নিন্ম-মানের হবে তা কখনোই বুঝতে পারিনি। তারা কেবল হাওয়াতেই তরবারী ঘোরাবেন। বিজয় আমাদেরই হবে।

প্রশ্ন: লষ্কর-ই-তৈয়বা সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? আপনি কি তাদের যুদ্ধ সমর্থন করেন?

কমরেড কিষানজী: আমরা তাদের কিছু দাবী সমর্থন করি, কিন্তু তাদের পদ্ধতি ভুল এবং জনবিরুদ্ধ। তাদেরকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বাদ দিতে হবে, কারণ তা কোন লক্ষ্যের দিকে সহায়ক নয়। শুধুমাত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বিজয় অর্জন করা সম্ভব।
original post
read more

Wednesday, November 23, 2011

বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমাঃ ডকুমেন্টস সহ সকল মিথ্যাচারের প্রমাণ

by নিঝুম মজুমদার


জামাতী আর বি এন পি'র এক্ব্রটিভিস্টদের মাধ্যমে বার বলা হচ্ছে যে, বঙ্গবন্ধু রাজাকারদের "এক্ট অফ ক্লেমেন্সি" বা "সাধারন kক্ষমা"র মাধ্যমে ক্ষমা করে দিয়েছেন। যেই বঙ্গবন্ধুর কথা শুনলে ছাগু-বিম্পি নির্বিশেষে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন, ঠিক এই প্রজাতীরা "সাধারণ ক্ষমার" প্রসঙ্গ এলেই বঙ্গবন্ধুর এই ক্ষমাকে মিথ্যে ও পানি মিশিয়ে চমৎকার করে মানুষের মধ্যে বিতরণ করতে এক পা পেছান না। সত্যিই কি বঙ্গবন্ধু রাজাকারদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন? যদি দিয়েই থাকেন, তবে কাদের ক্ষমা করেছেন? আসুন সেই বিখ্যাত এক্ট অফ ক্লেমেন্সি'র ডকুমেন্টটি দেখে নেই-

১৯৭৩ সালের ৩০ শে নভেম্বর এই সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করেন বঙ্গবন্ধু।




উপরের এই সাধারন ক্ষমার বাংলা ব্যখ্যাঃ

সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ৫নং ধারার (ক) অনুচ্ছেদে যে বিধান রাখা হয় তাতে সত্যিকার অর্থে কোন যুদ্ধাপরাধী মুক্তি পাওয়ার কথা নয়। কারণ ঘোষণার ৫ নং ধারায় বলা হয়েছে

" যারা বর্ণিত আদেশের নিচের বর্ণিত ধারাসমূহে শাস্তিযোগ্য অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত অথবা যাদের বিরোদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে অথবা যাদের বিরোদ্ধে নিম্নোক্ত ধরা মোতাবেক কোনটি অথবা সবকটি অভিযোগ থাকবে

"(১) ১২১ (বাংলাদেশের বিরোদ্ধে যুদ্ধ চালানো অথবা চালানোর চেষ্টা), (২) ১২১ ক (বাংলাদেশের বিরোদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ষড়যন্ত্র), (৩) ১২৮ ক (রাষ্ট্রদ্রোহিতা), (৪) ৩০২ (হত্য), (৫) ৩০৪ (হত্যার চেষ্টা), (৬) ৩৬৩ (অপহরণ), (৭) ৩৬৪ (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ) (৮) ৩৬৫ (আটক রাখার উদ্দেশ্যে অপহরণ), (৯) ৩৬৮ (অপহৃত ব্যক্তিকে গুম ও আটক রাখা), (১০) ৩৭৬ (ধর্ষণ), (১১) ৩৯২ (দস্যুবৃত্তি), (১২) ৩৯৪ (দস্যুবৃত্তিকালে আঘাত), (১৩) ৩৯৫ (ডাকাতি), (১৪) ৩৯৬ (খুনসহ ডাকাতি), (১৫) ৩৯৭ (হত্যা অথবা মারাত্বক আঘাতসহ দস্যুবৃত্তি অথবা ডাকাতি), (১৬) ৪৩৫ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে ক্ষতিসাধণ), (১৭) ৪৩৬ (বাড়িঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার), (১৮) ফৌজদারী দন্ডবিধির ৪৩৬ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে কোন জলযানের ক্ষতি সাধন) অথবা এসব কাজে উৎসাহ দান। এসব অপরাধী কোনভাবেই ক্ষমার যোগ্য নন।"

উল্লেখ্য যে, সাধারণ ক্ষমা ঘোষনার পরেও প্রায় ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী কারাগারে বন্দী ছিলেন।

আরেকটি ব্যাপার লক্ষ্য করুন, এই সাধারন ক্ষমার ডকুমেন্টস-এ একটি কথা লেখা রয়েছে যে, যদি অপরাধী অনুপস্থিত থাকে তাহলে কি হবে। সেখানে বলা আছে যে সেক্ষেত্রে সেসব অভিযুক্তদের সাধারণ ক্ষমার জন্য আবেদন করতে হবে এবং তাদের আত্নসমর্পন করতে হবে, এবং সেই ক্ষেত্রেই তারা সাধারণ ক্ষমার জন্য যোগ্য বিবেচিত হতে পারেন যদি না তাদের বিরুদ্ধে উপরে উল্লেখিত অপরাধের অভিযোগ না থাকে।

এখন কথা হলো, ১৯৭১ সালে আমার জানামতে নীচের ৩ জনের নামে মামলা হয়েছিলো দালাল আইনে যারা এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) ১৯৭৩ এর মাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে কারাগারে বন্দী রয়েছে।

তাদের নাম ও মামলার বিবরণ নীচে দেয়া হোলোঃ

ক) রাজাকার কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পর প্রথম মামলা হয় ১৯৭২ সালে। মামলার নম্বর হচ্ছে- (৫)৭২, জি আর নং- ২৫০ (২) ৭২। মামলা করেন শহীদ বদিউজ্জমানের ভাই হাসানুজ্জামান। উল্লেখ্য যে, কামারুজ্জামান তখন পলাতক আসামী ছিলো।

খ) সাকা চৌধুরীর নামে ১৯৭২ সালে দালাল আইনে চট্রগ্রাম জেলার হাট হাজারী থানায় ১৩/৪/১৯৭২ তারিখে ১৭ নং মামলা দায়ের হয়। রাউজান থানা ৪১(১)৭২ নং এবং ৪৩(১)৭২ নং মামলা দায়ের করা হয়।

গ) পিরোজপুরের মেধাবী ছাত্র গণপতি হালদার হত্যাকান্ডের একজন অন্যতম আসামী দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেইল্যা। ১৯৭২ সালে তার নামে মামলা ৩০২ ও দালাল আইনের ১১(ক) ধারায়।

ইতিহাস বলে এবং ডকুমেন্টস বলে যে, উক্ত ৩ জন কখনোই সাধারণ ক্ষমার জন্য আবেদন করেনি। এবং তারা পলাতক আসামী হিসেবেই ১৯৭৫ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর এই দালাল আইন বাতিল হবার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান ছিলো।






এক নজরে যুদ্ধপরবর্তী দালালদের বিচারঃ



মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে দালালীর জন্য ১৯৭২-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আটক হয় - ৩৭ হাজার ৪ শত ৯১ জন

ট্রাইবুনাল গঠিত হয়- ৭৩ টি ( সারা বাংলাদেশে )

১৯৭৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত উক্ত ট্রাইবুনাল গুলোতে দায়ের করা মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মোট ২ হাজার ৮ শত ৪৮ টি মামলা ।

দোষী প্রমাণিত হয় - মোট ৭৫২ জন
মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়ঃ প্রায় ২০ জনেরও বেশী।
মামলায় খালাশ পায় - ২ হাজার ৯৬ জন ।

আইনগত ব্যাবস্থায় দ্রুততা আনার জন্য সে সময় ৭৩ টি ট্রাইবুনালের ব্যাবস্থা করা হলেও প্রতিদিন ৩-৪ টির বেশী মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি এবং মাসে যার পরিমাণ ছিলো ১৩০ টির মত মামলা ।

এবার দেখুন এই সাধারণ ক্ষমা ঘোষনার ভিডিওঃ





শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন কিসের ভিত্তিতেঃ

বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমা প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে। লক্ষ করি বর্তমান সংবিধানের ৪৯ নং অনুচ্ছেদ (১৯৭২ সালের সংবিধানের ৫৭ নং অনুচ্ছেদ)

" The President shall have power to grant pardons, reprieves and respites and to remit, suspend or commute any sentence passed by any court, tribunal or other authority."

অর্থাৎ " কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দন্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোন দন্ড মওকুফ স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।"

সুতরাং বলা যায়, শুধুমাত্র শাস্তি এবং দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার আছে রাষ্ট্রপ্রধানের। কিন্তু যারা শাস্তি কিংবা দন্ড পাননি তাদেরকে কি সাধারণ ক্ষমা করা যাবে?

যুদ্ধাপরাধীদের সাধারণ ক্ষমার নিদর্শন অন্যান্য দেশেঃ

সাধারণ ক্ষমার এমন নিদর্শন কম্বোডিয়া ট্রায়ালের ক্ষেত্রেও দেখা যায় । ১৯৯৬ সালে রাজা নরোদম সিহানুক রেভ্যুলুশনারী ট্রাইবুনালে খেমাররুজ নেতা মানে পলপট সরকারের বিদেশ মন্ত্রী ইয়েং স্যারির দন্ডের মার্জনা ঘোষনা করেন । তবে এই ক্ষেত্রে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে , কম্বোডিয়ায় দন্ড পাওয়ার পর যুদ্ধাপরাধী স্যারির দন্ড মওকুফ করা হয়েছে কিন্তু ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী ৫৭ নং অনুচ্ছেদে শুধু মাত্র দন্ডপ্রাপ্তদের ক্ষমা ঘোষনার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির থাকলেও , বঙ্গবন্ধু দন্ডিত হননি এমন ব্যাক্তিদের সাধারণ ক্ষমা করেছেন । এই যুক্তিতে সাধারণ ক্ষমা ঘোষনাটিকেও বাদ করা যেতে পারে অসংবিধানিক সূচিত করে ।

সাধারণ ক্ষমা ঘোষনার প্রাক্কালে কিছু জাতীয় ঘটনার দিকে তাকাইঃ




ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন “স্বাধীনতাত্তোর দালালদের বিচার প্রক্রিয়াঃ একটি পর্যালোচনা” শীর্ষক তাঁর লেখা একটি প্রবন্ধে লিখেন – “যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ পুনর্গঠনে আওয়ামীলীগ সরকারের দূর্বলতার সুযোগে পাকিস্থান আমলই ভালো ছিলো এই প্রচার চালানো হয় এবং এ পর্যায়ে “মুসলিম বাংলা আন্দোলন” বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশ-বিরোধী তttৎপরতায় লিপ্ত হয় । ধর্ম ভিত্তিক দলগুলো পিকিংপন্থী দলগুলোর সঙ্গে একত্রিত হয়ে দালালদের মুক্তির দাবী তোলে ।

১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে নির্বাচনের প্রাক্কালে দালাল ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সমর্থন পেতে ন্যাপ (ভাসানী) এবং আতাউর রহমানের জাতীয় লীগসহ আওয়ামী বিরোধী পিকিংপন্থী জোট নির্বাচনের আগেই দালালদের মুক্তি দাবী করে । এ সময় মাওলানা ভাসানী হুমকি দেন যে, ১৯৭২ সালের ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে দালাল আইন বাতিল না করলে তিনি দূর্বার আন্দলোন গড়ে তুলবেন”

বঙ্গবন্ধুর সাধারন ক্ষমার পর যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তৎকালীন সময়ে দায়ের করা হয় নি তাদের ছাড়া সবার বিচারই বঙ্গবন্ধু নির্মম ভাবে নিহত হবার আগ পর্যন্তই চলছিলো।

আসুন নীচে তার কয়েকটি প্রমাণ দেখিঃ

১) ইত্তেফাকের একটি রিপোর্টঃ ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর মাসের ৫ তারিখে,

দুইজন আলবদরের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

“ঢাকার ৩য় স্পেশাল ট্রাইবুনাল জজ জনাব এস এম মাহমুদ গত শনিবার হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করার দায়ে আল বদর মকবুল হোসেন , আয়ুব আলী ও আতিয়ার রহমানকে দোষী সাব্যাস্ত করিয়া যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন । আসামী আতিয়ার রহমান পলাতক বিধায় তাহার গ্রেফতারের দিন হইতে রায় কার্যকরী হইবে” (সংক্ষেপিত)

২) দৈনিক পূর্বদেশের একটি রিপোর্টঃ ১৯৭৪ সালের ২-এপ্রিল

দালালীর দায়ে বরিশালে ১৪ জনের মৃত্যুদন্ড

“বরিশাল জেলার সেশন জজ জনাব আর কে বিশ্বাস মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হানাদার বাহিনীর সাথে সহযোগিতা ও হত্যার অভিযোগে আব্দুল মালেক বেগ সহ আরো ১৪ ব্যাক্তিকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেছেন । আদালতের কার্যবিধিতে বলা হয়েছে ১৯৭১ সালের ২২ শে আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অভিযুক্তরা মেহেদীগঞ্জ থানার ভাষাঞ্চর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের ততকালীন কোষাধ্যক্ষ জবনাব আব্দুল বারী মোল্লার দোকানে চড়াও হয় । তারা আব্দুল বারী মোল্লাকে হত্যা করে ও দোকান লুট করে ।

৩) দৈনিক সংবাদের একটি রিপোর্টঃ ১৯৭৫ সালের ২০ শে এপ্রিল

পাক দালালীর দায়ে দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

“কুমিল্লা জেলার দায়রা জজ এবং ১ নং বিশেষ আদালতের সভাপতি জনাব কায়সার আলী সম্প্রতি দালালীর দায়ে দু;ব্যাক্তিকে যাবজ্জেবন সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন । মামলার বিবরণে প্রকাশ শহীদ রফিক উদ্দিন আহমেদ তদানীন্তন পাকিস্তান আর্মির হাবিলদার এবং ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন । ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ পাক হানাদার বাহিনী বাঙ্গালীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে তিনি পালিয়ে এসে কিছু কাল বুড়িচং থানার আরাম আনন্দপুরস্থ তার নিজ বাড়ীতে অবস্থান করেন । পরে তিনি ভারতে চলে যান এবং মুক্তিযুদ্ধের যোগ দেন । কিন্তু দৈহিক অপারগতার দরুণ তিনি আবার নিজ বাড়ীতে ফিরে লুকিয়ে থাকেন । ১৯৭১ সালের ২৩ শে সেপ্টেম্বর কথিত বিবাদীদ্বয় কয়েকজন রাজাকার নিয়ে পাকিস্থানী সেনাবাহিনীর লোকেরা রফিক উদ্দিনের বাড়ী ঘেরাও করে এই বাড়ীর আব্দুর রশিদকে তার ঘর থেকে বের করে আনে । পরে বিবাদী দু’জন সহ পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরেরা রফিক উদ্দিনের ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে বের করে এনে বিবাদী আব্দুল হামিদের সম্মুখে একত্রিত করে উক্ত মামলার সরকার পক্ষের মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এবং সরাক্র পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন সরকারী উকিল কাজী হাচিবুর রহমান । আদালত বিবাদীদেরকে বাংলাদেশ ফৌজদারী দন্ড বিধির ৩৬৪/৩৪ ধারার সাথে রাষ্ট্রপতির আদেশ ৮ এর ১১(এ) মতে দোষী সাব্যাস্ত করেন এবং উপোরোক্ত কারাদন্ডের নির্দেশ দেন” (আসামী দ্বয় হচ্ছেন- আব্দুল হামিদ আজিজুল্লাহ ও আব্দুস সোবাহান । উল্লেক্ষ্য মামলা চলাকালীন সময়ে আব্দুস সোবাহানের মৃত্যু হয় )

উপরের তিনটি পত্রিকার রিপোর্ট দেয়ার মানে হচ্ছে এই , যদি ৩০ শে নভেম্বর ১৯৭৩ সালের সাধারণ ক্ষমাতে সব রাজাকার রা মাফ-ই পেয়ে যেতো , তবে সেই তারিখের পর দুই বছর পর্যন্ত কিভাবে জাজ সাহেব রায় দিলেন বা মামলা চলেছিলো?

কে এই দালাল আইন ১৯৭২ সাল বাদ করে দিয়েছিলেন?

দালাল আইন ১৯৭২, তৎকালীন সামরিক শাসক, রাজাকারদের পেয়ারা দোস্তk জিয়ার নির্দেশে বাতিল করা হয় ১৯৭৫ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর। নীচে তার ডকুমেন্টস সহ প্রমাণ দেয়া হোলো-





সকল তথ্য এবং উপাত্ত সহ সাধারণ ক্ষমাজনিত ঘটনাটি নিয়ে যে মিথ্যাচার জামাত, বি এন পি সহ রাজাকারদের সকল শুভাকাঙ্খীরা করে এসেছে এতটি বছর, তার সকল জবাব আজ দিলাম। আশা করি তাদের মিথ্যের জবাব আমি প্রমাণ সহ দিতে পেরেছি।
original post
read more

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের সাধারন ক্ষমা নিয়ে একজন আইনজীবির মিথ্যাচার এবং প্রকৃত ঘটনা

by এস্কিমো


বাংলাভিশনের এক টক শোতে সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি বলছেন – শেখ মুজিব যুদ্ধপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। যারা বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে সামান্য জানেন তারা কথাটা যে কত বড় মিথ্যাচার তা স্বীকার করবেন। জামায়াতের নেতাদের রক্ষার জন্যে খন্দকার মাহবুব হোসেনের কেন এই মিথ্যাচার?

আসল ঘটনা কি ঘটেছিলো বঙ্গবন্ধুর “সাধারন ক্ষমা”য়?

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ যখন পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরনপণ সংগ্রামে লিপ্ত – তখন “ জামায়াত এবং তার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ” একটা সংগঠন হিসাবে নীতিগত কারনে সেই মুক্তির সংগ্রামের শুধু রাজনৈতিক ভাবে বিরোধীতিই করেনি – রাজাকার, আল-বদর, আলশাসম বাহিনী তৈরী করে সক্রিয় ভাবে পাকহানাদারদের হত্যা, ধর্ষন, লটপাট এবং অগ্নিসংযোগে সহায়তা করেছে। দেশের মানুষ যখন মুক্তি আশায় অসহনীয় কঠিন সময় পাড়ি দিচ্ছিল – তখন জামাত একটা সংগঠন হিসাবে তাবেদার মন্ত্রী সভায় গিয়েছে, পাতানো নির্বাচনের অংশগ্রহন করেছে। এর সবই প্রমান মিলে তাদের পত্রিকা “দৈনিক সংগ্রাম”এর ১৯৭১ সালের সংখ্যাগুলোতে।

এরই প্রেক্ষিতে স্বাধীনতার পর জামাতসহ স্বাধীনতা বিরোধী দলগুলোর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। স্বাধীনতার পরপরই জামাতের অনেক নেতাকর্মী জেলে যায়, অনেকে পালিয়ে বিদেশে অবস্থান নেয়। বিদেশে থাকা জামাত নেতারা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। যতদিন না দেশে তাদের জন্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরী হয় – ততদিন তারা বিদেশে বসে বাংলাদেশ বিরোধী কার্যক্রম চালাতে থাকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ ১৯৭৫ সালের হত্যাকান্ড পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

তারপর সামরিক শাসক মে: জে: জিয়াউর রহমানের সাথে আঁতাত করে এরা দেশে ফিরে আসে। তখন থেকেই প্রচার শুরু হয় বঙ্গবন্ধু এদের ক্ষমা করে দিয়েছে। এটা একটা বিরাট ভুল ও প্রপাগান্ডা। সাধারন ক্ষমার আওতায় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী সাধারন কর্মীদের ক্ষমা করা হয় – যাতে এরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু সাধারন ক্ষমার আওতায় সেই ৩৪ হাজার ৬০০ রাজাকার, মুসলিমলীগ কর্মী, জামাত কর্মীদের ক্ষমা করা হলেও তাদের পুরানো বিশ্বাসের রাজনীতি করা অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। তাদের সেই অধিকার ফিরে পাবার জন্যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।

অনেকের কাছে প্রশ্ন যে স্বাধীনতার পরপরই কেন বিচার করা হলো না। এই প্রশ্ন আসার কারন হলো দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক শাসকরা আমাদের ইতিহাস বিকৃতি করেছে এবং অনেক কিছু গোপন করে রেখেছিলো। ফলে একটা প্রজন্মের কাছে অনেক কথাই অষ্পষ্ট থেকেছে। এখানে ষ্পষ্ট করা দরকার যে - স্বাধীনতার পরপরই Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) Order, 1972 (P.O. No. 8 of 1972), এর আওতায় বিচার কাজ শুরু হয় - সেই বিচারের পরিসংখ্যান হলো -

১৯৭২-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আটক হয় - ৩৭ হাজার ৪ শত ৯১ জন

ট্রাইবুনাল গঠিত হয়- ৭৩ টি ( সারা বাংলাদেশে )

১৯৭৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত উক্ত ট্রাইবুনাল গুলোতে দায়ের করা মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মোট ২ হাজার ৮ শত ৪৮ টি মামলা ।

দোষী প্রমাণিত হয় - মোট ৭৫২ জন

মামলায় খালাশ পায় - ২ হাজার ৯৬ জন ।

আইনগত ব্যাবস্থায় দ্রুততা আনার জন্য সে সময় ৭৩ টি ট্রাইবুনালের ব্যাবস্থা করা হলেও প্রতিদিন ৩-৪ টির বেশী মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি এবং মাসে যার পরিমাণ ছিলো ১৩০ টির মত মামলা ।

পরে জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় এসে সামরিক ফরমানে আইনটি বাতিল করেন - যা ৫ম সংশোধনীর সুবাদে সংবিধানের অংশ হয়ে যায়।

Click This Link

এখানে উল্লেখ্য যে, সাধারন ক্ষমা ঘোষনায় সুস্পষ্ঠ ভাবে উল্লেখ ছিল যে,

“এই আদেশ বলে দন্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা), ৩০৪ ধারা (হত্যার চেষ্টা), ৩৭৬ ধারা (ধর্ষন), ৪৩৫ ধারা (অগ্নিসংযোগ অথবা বিস্ফোরক দ্বারা ক্ষতি সাধন) ৪৩৬ ধারা (বাড়িঘর ধ্বংসের অভিপ্রায়ে অগ্নিসংযোগ বা বিস্ফোরক দ্রব্য দ্বারা অপকর্মের চেষ্টা) মোতাবেক অভিযুক্ত বা দন্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ১নং অনুচ্ছেদ মোতাবেক ক্ষমা প্রদর্শন প্রযোজ্য হইবে না”

এখানে যেমন ঢালাও ভাবে ক্ষমা করা হযনি – তেমনি বঙ্গবন্ধুর নিহত হবার সময়েও অনেক অপরাধীর বিচার চলছিলো। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সামরিক আদেশে সেই বিচার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান নির্বাহী আদেশ দন্ডপ্রাপ্তদের জেল থেকে মুক্তি দেন।

এরপর পঞ্চম সংশোধনীর সুবাদে জামায়াতসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়। আজ দেখি বিএনপির নীতিনির্ধারকগন জামায়াতের পক্ষে উকালতি করতে কোর্টে যাচ্ছেন। বিএনপির প্রধান আদালতের রায়ের আগেই জামায়াতের নেতাদের নিষ্পাপ হিসাবে ঘোষনা দিচ্ছেন।

খুবই দুঃখজনক এবং লজ্জার কথা যে স্বাধীন দেশের টিভিতে বসে পরাজিত শক্তির পক্ষে দেশের সর্বোচ্চ আইনজীবি ফোরামের নেতা অবলীলায় মিথ্যাচার করছেন ইতিহাস নিয়ে – যে ইতিহাসের সাথে ৩০ লক্ষ মানব সন্তানের মৃত্যু আর ৩ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম জড়িত।
original post
read more
affiliate program

EARN INCOME FROM YOUR WEBSITE

Turn your valuable web site traffic into income. Work online and join our free money making affiliate program. We offer the most pay-per-click rate to help maximize your cash stream.

Join our income making program absolutely free and 100% risk free.

Sign Up...

A steady income generator

Imagine running of a something that never failed to provide you with cash-flow. A earning money program so amazingly profitable that you never had to look for job ever again!Income while you sleep

CASH WHILE YOU SLEEP

Earn $1,000... $2,000... $5,000...

Turn your website visitors into cash!
You get money for every visitor that clicks on our advertizing. Our goal is to enable you to make as much as possible from your site. We pay monthly, either by check, or through PayPal.

Begin collecting steady partner commissions

Our money making program really can make you income on the same day. Start receiving steady partner revenue with almost no effort at all. This is a serious revenue opportunity, the chance for you to build a steady, reliable, long-time profitable business.

Savings Highway Dream Team Member Site Savings Highway Dream Team Member Site