by প্রীিত ওয়ােরছা
আমার ঠিক মনে আছে যখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি তখন গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বইয়ের একটা অনুচ্ছেদে শৈশব থেকে কৈশোরে পদাপর্নের সময়ের কিছু বৈশিষ্টের বর্ণনা ছিল। তবে সে বর্ণনা নিতান্তই খুবই আবছাগোছের। যেন এর চেয়ে জটিল কিছু আর নেই জীবনে। এটা পড়ে বিষয়টা নিয়ে আরো তালগোল পাকিয়ে ফেলেছিলাম। তারপর আমাদের শিক্ষিকা মুখ টিপে হেসে এবং লজ্জ্বিত স্বরে বলেছিলেন তোমরা এটি বাসায় পড়ে নিও। কথাটা শুনে মাথায় রীতিমত গেঁথে গিয়েছিল যে বিষয়টা নিয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা করতে নেই, এটি জীবনের খুবই গোপনীয় একটা বিষয়। সেই সাথে এই প্রথম আমি আবিস্কার করলাম আমার এই ছোট্ট জীবনে এখন থেকে গোপন বিষয়াদি প্রবেশ করতে শুরু করেছে যেটা অটোমেটিক্যাটি ঘটে থাকে এবং এর সাথে রিলেটেড কিছুই কারো সাথে শেয়ার করতে নেই। আমার এক কাজিন যে আমার থেকে ৩ বছরের বড়। তাকে কয়েকদিন ধরেই উসখুস উসখুস করতে দেখছি। মন খারাপ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলাম আপু কি হয়েছে ? উত্তর দিল-আমার যে কি হবে ! মা বোধ হয় আমাকে মেরেই ফেলবে। কেন মারবে কি হয়েছে? সে বলল না। কয়েকদিন পর সে খুশিতে আটখানা হয়ে আমাকে বলল, যাক বাবা এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম। আমি তো ভেবেছিলাম প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছি। আমি তো সজিব,রাতুল,রাসেল,সাব্বিরের সাথে খেলেছি। আমি অবাক হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি! তারপর সে বিস্তারিত বলল। সে যখন বয়ঃসন্ধিকালে প্রবেশ করে তখন তাকে কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আমার এক ফুপু। ফুপু নিজেই তথাকথিত সামাজিক লজ্জ্বায় পুরো বিষয় ভাতিজিকে খোলাসা করে বলেনি।শুধু বলেছে এখন থেকে ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করা যাবেনা,মেলামেশা করা যাবেনা। নইলে প্রেগন্যান্ট হয়ে যেতে পারে। আর ফুপু তাকে এটাও জানিয়েছে যে প্রেগন্যান্ট হলে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। আসলে বয়ঃসন্ধিকালের শুরুর দিকে সবারই অনিয়মিত মাসিক হয়। আর এজন্যই আমার সেই কাজিনের ৩ মাস ধরে মাসিক বন্ধ ছিল। বিষয়টা নিয়ে পুরো অন্ধকারে থাকা আমার সেই কাজিনকে যেটুকু জানানো হয়েছে সেটাও ছিল তার কাছে ঝাপসা। এভাবেই বেড়ে ওঠে আমাদের দেশের অধিকাংশ শিশুরা।
শৈশব থেকে কৈশোরে পদার্পনের মুহূর্তগুলো আবেগে ঠাসা থাকে। একটুতেই অভিমান হয়,একটুতেই ভুলবুঝাবুঝির কারণে পরিবারে তিক্ততার সৃষ্টি হয়।এই অচেনা জগত একদম অজানা কিশোর বয়সীদের কাছে। হঠাৎ এই শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন তাদেরকে আলোড়িত করে,কখনও মানসিকভাবে পীড়া দেয়,কখনও নিজের কাছে হীনমন্য করে তোলে। আমাদের দেশের সংস্কার ও সামাজিক মূল্যবোধের কারণে বড়দের সাথে অলিখিত একটা দুরত্ব থাকে। বড়রা শিশুদের সাথে শারীরিক এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে আলোচনা করতে সংকোচ বোধ করেন। পাঠ্য পুস্তকেও বয়ঃসন্ধিকালের এই বিষয়টা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোন সচেতনতা নাই। যার ফলে শিশুরা কিশোর বয়সের শুরুতে পুরো ধাঁধার মধ্যে পড়ে যায়। তারা লজ্জ্বিত হয়,নিজেকে প্রতিমূহুর্ত আড়াল করার চেষ্টা করে।
একজন অভিভাবক কিভাবে সন্তানের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টা মোকাবেলা করবেন?কিভাবে তাকে পূর্ন ধারণা দেবেন জীবনের স্বাভাবিক এই প্রক্রিয়া সম্মন্ধে ? আসলে একমাত্র অভিভাবকই পারেন সন্তানের এই নতুন জগতের প্রবেশকে অভিনন্দিত করতে। তাহলে সে এই পরিবর্তনকে সুন্দরভা
বে নিতে পারবে। একজন অভিভাবককে হতে হবে বন্ধুসুলভ। সন্তান তার ভেতরে ঘটে যাওয়া সব কিছু বলতে পারার স্বাচ্ছন্দ যেন খুঁজে পায় বাবা মা-য়ের কাছে,পরস্পরের সম্পর্ক্যটা এমন হতে হবে।বয়সের এই অতি সংবেদনশীল সময়ে সঠিক গাইডেন্স দরকার তাদের।
অনেক সময় অভিভাবককে কিছু বিষয় টেকনিক্যালি হ্যান্ডেল করতে হয়। বয়ঃসন্ধিপূর্ব সময়েই তাদেরকে ধীরে ধীরে তাদের জীবনে আসন্ন এই পরিবর্তন বিষয়ে ধারণা দিতে হবে। জানাতে হবে এটি প্রকৃতির স্বাভাবিক একটা আচরন। শিশুমনের সুস্থ বিকাশের জন্য সঠিক তথ্য পাঠ্যবইয়ের অর্ন্তভুক্ত করা উচিত। এতে করে তারা নিজেরাই হরমোনাল পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে সচেতন থাকতে পারবে। এছাড়াও এই সময়ে মানসিক পরিবর্তনের ফলে যে সকল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে সে সম্মন্ধে সম্যক ধারণা দিতে তাদের ডাক্তার অথবা সাইকোথেরাপিস্টের কাছে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।পরিবার এবং পারিপার্শ্বিক সবার যতেœ কিশোর বয়সটা হয়ে উঠুক দূর্বার আনন্দের।
original post
আমার ঠিক মনে আছে যখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি তখন গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বইয়ের একটা অনুচ্ছেদে শৈশব থেকে কৈশোরে পদাপর্নের সময়ের কিছু বৈশিষ্টের বর্ণনা ছিল। তবে সে বর্ণনা নিতান্তই খুবই আবছাগোছের। যেন এর চেয়ে জটিল কিছু আর নেই জীবনে। এটা পড়ে বিষয়টা নিয়ে আরো তালগোল পাকিয়ে ফেলেছিলাম। তারপর আমাদের শিক্ষিকা মুখ টিপে হেসে এবং লজ্জ্বিত স্বরে বলেছিলেন তোমরা এটি বাসায় পড়ে নিও। কথাটা শুনে মাথায় রীতিমত গেঁথে গিয়েছিল যে বিষয়টা নিয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা করতে নেই, এটি জীবনের খুবই গোপনীয় একটা বিষয়। সেই সাথে এই প্রথম আমি আবিস্কার করলাম আমার এই ছোট্ট জীবনে এখন থেকে গোপন বিষয়াদি প্রবেশ করতে শুরু করেছে যেটা অটোমেটিক্যাটি ঘটে থাকে এবং এর সাথে রিলেটেড কিছুই কারো সাথে শেয়ার করতে নেই। আমার এক কাজিন যে আমার থেকে ৩ বছরের বড়। তাকে কয়েকদিন ধরেই উসখুস উসখুস করতে দেখছি। মন খারাপ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলাম আপু কি হয়েছে ? উত্তর দিল-আমার যে কি হবে ! মা বোধ হয় আমাকে মেরেই ফেলবে। কেন মারবে কি হয়েছে? সে বলল না। কয়েকদিন পর সে খুশিতে আটখানা হয়ে আমাকে বলল, যাক বাবা এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম। আমি তো ভেবেছিলাম প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছি। আমি তো সজিব,রাতুল,রাসেল,সাব্বিরের সাথে খেলেছি। আমি অবাক হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি! তারপর সে বিস্তারিত বলল। সে যখন বয়ঃসন্ধিকালে প্রবেশ করে তখন তাকে কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আমার এক ফুপু। ফুপু নিজেই তথাকথিত সামাজিক লজ্জ্বায় পুরো বিষয় ভাতিজিকে খোলাসা করে বলেনি।শুধু বলেছে এখন থেকে ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করা যাবেনা,মেলামেশা করা যাবেনা। নইলে প্রেগন্যান্ট হয়ে যেতে পারে। আর ফুপু তাকে এটাও জানিয়েছে যে প্রেগন্যান্ট হলে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। আসলে বয়ঃসন্ধিকালের শুরুর দিকে সবারই অনিয়মিত মাসিক হয়। আর এজন্যই আমার সেই কাজিনের ৩ মাস ধরে মাসিক বন্ধ ছিল। বিষয়টা নিয়ে পুরো অন্ধকারে থাকা আমার সেই কাজিনকে যেটুকু জানানো হয়েছে সেটাও ছিল তার কাছে ঝাপসা। এভাবেই বেড়ে ওঠে আমাদের দেশের অধিকাংশ শিশুরা।
শৈশব থেকে কৈশোরে পদার্পনের মুহূর্তগুলো আবেগে ঠাসা থাকে। একটুতেই অভিমান হয়,একটুতেই ভুলবুঝাবুঝির কারণে পরিবারে তিক্ততার সৃষ্টি হয়।এই অচেনা জগত একদম অজানা কিশোর বয়সীদের কাছে। হঠাৎ এই শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন তাদেরকে আলোড়িত করে,কখনও মানসিকভাবে পীড়া দেয়,কখনও নিজের কাছে হীনমন্য করে তোলে। আমাদের দেশের সংস্কার ও সামাজিক মূল্যবোধের কারণে বড়দের সাথে অলিখিত একটা দুরত্ব থাকে। বড়রা শিশুদের সাথে শারীরিক এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে আলোচনা করতে সংকোচ বোধ করেন। পাঠ্য পুস্তকেও বয়ঃসন্ধিকালের এই বিষয়টা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোন সচেতনতা নাই। যার ফলে শিশুরা কিশোর বয়সের শুরুতে পুরো ধাঁধার মধ্যে পড়ে যায়। তারা লজ্জ্বিত হয়,নিজেকে প্রতিমূহুর্ত আড়াল করার চেষ্টা করে।
একজন অভিভাবক কিভাবে সন্তানের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টা মোকাবেলা করবেন?কিভাবে তাকে পূর্ন ধারণা দেবেন জীবনের স্বাভাবিক এই প্রক্রিয়া সম্মন্ধে ? আসলে একমাত্র অভিভাবকই পারেন সন্তানের এই নতুন জগতের প্রবেশকে অভিনন্দিত করতে। তাহলে সে এই পরিবর্তনকে সুন্দরভা
বে নিতে পারবে। একজন অভিভাবককে হতে হবে বন্ধুসুলভ। সন্তান তার ভেতরে ঘটে যাওয়া সব কিছু বলতে পারার স্বাচ্ছন্দ যেন খুঁজে পায় বাবা মা-য়ের কাছে,পরস্পরের সম্পর্ক্যটা এমন হতে হবে।বয়সের এই অতি সংবেদনশীল সময়ে সঠিক গাইডেন্স দরকার তাদের।অনেক সময় অভিভাবককে কিছু বিষয় টেকনিক্যালি হ্যান্ডেল করতে হয়। বয়ঃসন্ধিপূর্ব সময়েই তাদেরকে ধীরে ধীরে তাদের জীবনে আসন্ন এই পরিবর্তন বিষয়ে ধারণা দিতে হবে। জানাতে হবে এটি প্রকৃতির স্বাভাবিক একটা আচরন। শিশুমনের সুস্থ বিকাশের জন্য সঠিক তথ্য পাঠ্যবইয়ের অর্ন্তভুক্ত করা উচিত। এতে করে তারা নিজেরাই হরমোনাল পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে সচেতন থাকতে পারবে। এছাড়াও এই সময়ে মানসিক পরিবর্তনের ফলে যে সকল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে সে সম্মন্ধে সম্যক ধারণা দিতে তাদের ডাক্তার অথবা সাইকোথেরাপিস্টের কাছে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।পরিবার এবং পারিপার্শ্বিক সবার যতেœ কিশোর বয়সটা হয়ে উঠুক দূর্বার আনন্দের।
original post


No comments:
Post a Comment