গরুর উদ্দেশ্যে সঙ্গীতযন্ত্র বাজানো-
প্রাচীনকালে কুং মিং ই নামে একজন সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। তার বাজানো সঙ্গীত অনেক সুমধুর। অনেকেই তার বাজানো সঙ্গীত শুনতে পছন্দ করতেন।
এক দিন, কুং মিং ই গ্রামাঞ্চলে যান। তিনি দেখতে পান, হাল্কা বাতাসে গাছের পাতা নড়ছে। একটি গরু মাঠে ঘাস খাচ্ছে। তিনি এমন সুন্দর দৃশ্য দেখে তার মনে সঙ্গীতযন্ত্র বাজানোর ইচ্ছে জগে। তাই তিনি তার গরুটির উদ্দেশ্যে বাজানো শুরু করেন। কিন্তু এতে গরুর মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় নি। গরুটি শান্তিভাবে আপন মনেই খাস খেয়ে যাচ্ছিল। ঘাস খাছে। কুং মিং ই ভাবলেন, হয়তো তার এ সঙ্গীত গরুটির কাছে দুর্বোধ্য বা ভালো লাগে নি, তাই তিনি তার যন্ত্রে আরো কয়েকটি সহজ সঙ্গীতের সুর বাজাতে থাকেন। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যন্ত্র সঙ্গীতের সুরে গরুটির কোন প্রতিক্রিয়াই দেখা গেলো না। কুং মিং ই এতে অনেক হতাশ হয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থলে একজন তাকে এ অবস্থায় দেখে বলেন, আপনি মন খারাপ করবেন না। আপনার বাজানো সঙ্গীত খুবই ভালো, তবে গরু কী মানুষের বাজানো সঙ্গীত বুঝতে পারে?
গরুর উদ্দেশ্যে সঙ্গীতযন্ত্র বাজানো: এর আসল অর্থ হল গরুকে সঙ্গীত শোনালে গরুর কোনো প্রতিক্রিয়া হবে না। মানে সঠিক জায়গায় সঠিক কাজ করতে হবে।
সাত পদক্ষেপের সময় কবিতা রচনার কাহিনী-
চীনের ইতিহাসে একটি বিখ্যাত পরিবার ছিলো । এই পরিবারে বাবা ছাও ছাও একজন সমরবিদ ও কবি ,তার দুটি ছেলে ছাও ফি ও ছাও জি সাহিত্যিক , ইতিহাসে তাদের তিনজনকে তিন ছাও বলা হয় । এদের মধ্যে ছাও ছাওয়ের মেজো ছেলে ছাও জির সাহিত্য রচনার দক্ষতা সবচেয়ে বেশী ।
ছাও ছাও হলেন খৃষ্ট দ্বিতিয় শতাব্দীর তিন রাজ্য আমলে উই রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা । তিনি একজন বিখ্যাত সমরবিদ , অবসর সময় তিনি প্রচুর কবিতাও লিয়েছিলেন । তার মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে ছাও ফি রাজা হলেন । ছাও ফি একজন বিখ্যাত সাহিত্য সমালোচক ছিলেন , তার লেখা ‘ তিয়েন লুন—লুন ওয়েন ‘ চীনের সাহিত্য সমালোচনার ইতিহাসের এক যুগান্তরকারী রচনা । ছাও ছাওয়ের মেজো ছেলে ছাও জি একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি , তিনি তখনকার সবচেয়ে বিখ্যাত কবি ছিলেন ।
ছাও ফি রাজা হওয়ার পর ছোট ভাই ছাও জির ধী শক্তির ঈর্ষা করেন । একবার একটি ছোট ঘটনার জন্য ছাও ফি ছোট ভাই ছাও জিকে শাস্তি দিতে চেয়েছিলেন । তবে তিনি এ কথাও বলেছেন যে ছাও জি যদি সাত পদক্ষেপ হাটার সময়ে একটি ভালো কবিতা রচনা করতে পারেন , তাহলে তিনি শাস্তি থেকে মুক্তি পাবেন । ছাও জি জানেন বড় ভাই ইচ্ছা করে তাকে কষ্ট দিচ্ছেন , কিন্তু বড় ভাই হচ্ছেন রাজা , তার কথা অমান্য করা যায় না । নিজের আপন ভাইয়ের দেয়া কষ্ট ভোগ করার কথা ভেবে চাও জির মন খুব খারাপ হলো । তিনি সঙ্গে সঙ্গেই একটি কবিতা আবৃত্তি করলেন । তিনি তার কবিতায় এই বলে নিজের মনের কথা প্রকাশ করেছেন , আমরা আপন ভাই , বতর্মান সম্পর্কের জন্য কষ্ট বোধ করি । ভাই-ভাই সংঘাত অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার । রাজা ছাও ফি ভাইয়ের আবৃত্তিশুনে সংকোচ বোধ করেন ।তিনি নিজের ভাইয়ের উপর কষ্ট দেয়া বন্ধ করলেন ।
গাছ মুড়ার কাছে খরগোশের অপেক্ষা করা-
চীনের বসন্ত ও শরত্ রাজবংশে সুং রাজ্যে একজন কৃষকের কৃষিভূমিতে একটি গাছের মুড়া আছে । এক দিন যখন তিনি কৃষিভূমিতে কাজ করছে , তখন একটি খরগোশ দৌড়ে দৌড়ে গাছের মুড়ার সঙ্গে ধাক্কা হয়ে মারা গেছে । এ কৃষক অনেক খুশি এবং ভাবছে , যদি প্রতিদিন একটি খরগোশ এভাই মারা যায় , তাহলে আমি খরগোশের মাংশ বিক্রি করতে পারবো এবং কৃষকের কাজ আর করতে হবে না । তাই তিনি কৃষিভূমির কাজ বন্ধ করে প্রতিদিন গাছের মুড়ার কাছে বসে এবং খরগোশের অপেক্ষা করেন । তবে সময় পার হয় , তবে আর কোনো খরগোশ তার আশার মত মারা যায় নি । কৃষক তখন আবার তার কৃষিভূমি দেখে আবিস্কার করেছেন যে , তার সব চাষ করা সব খাদ্যশস্যও মারা গেছে ।
এই প্রতিবাদ্য থেকে আমরা জানতে পারি , শুধু আগের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কাজ করলে হবে না । এ ছাড়া শুধু শুভাগ্যের ওপর নির্ভর করা এবং নিজেই চেষ্টা না করা চলবে না ।
বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমাঃ ডকুমেন্টস সহ সকল মিথ্যাচারের প্রমাণ
নিয়ে নিন Adobe Reader LE 2.5 কোনো লাইসেন্স-কী ছাড়া (সিম্বিয়ান মোবাইলের জন্যে)
শাড়ি খুলে ফেললে বয়স বেড়ে যায় / সারপ্রাইজ গিফট / মনে পড়ল / মুখদর্শন
Tuesday, April 10, 2012
চীন দেশের শিক্ষনীয় গল্প
Sunday, April 8, 2012
কষ্টে শুকিয়ে যাওয়া এক সাগর
কষ্টে শুকিয়ে যাওয়া এক সাগর
কত কষ্টে একটি সাগর শুকিয়ে যায় ?
প্রবাদ আছে – “ অভাগা যেদিকে চায়, সাগর শুকিয়ে যায়” ।
বিশ্বজুড়ে স্বার্থপর মানুষদের কল্যানে প্রবাদটি একটু পাল্টে বলতে হচ্ছে – “ অপরিনামদর্শীরা যেদিকে চায়, সাগরও শুকিয়ে যায়” ।
আর আমরা অভাগাকুল তার শাস্তি ভোগ করি প্রতিবাদহীন ।শুধু রুষে ওঠে প্রকৃতি ।
১৯৮৫ সালের উড়াল সাগর, আকাশ থেকে তোলা ।
আকাশ থেকে ১৯৯৭ সালের দৃশ্য
মহাকাশ থেকে তোলা ২০০৯ সালের উড়াল সাগর ।
কত দুঃখ নিয়ে একটি সাগর শুকিয়ে যায় ?
পৃথিবী নামের এই গ্রহটির পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয়ঙ্কর একটি ট্রাজিক সত্য এটি ।
অরাল নামের সাগর এক । আমরা ডেকেছি “উড়াল সাগর” বলে । এককালের সোভিয়েত ইউনিয়নের কাজাখাস্তান আর উজবেকিস্তানের মাঝখানে টলটলে পানিতে ভরা একটি লেক ।এতো বিশাল যে সাগর নামেই তাকে ডাকার যোগ্য সে । তার “অরাল” নামটির অর্থ “দ্বীপের সাগর” (Sea of Islands) । আসলেই মুক্তোর মালার মতো ১৫৩৪ টি দ্বীপ ছিলো এর বুকে একদিন । আজ জল-স্থল সব একাকার ।
আটষট্টি হাযার বর্গকিলোমিটার (২৬,৩০০ বর্গমাইল) এলাকা নিয়ে একদিন অরাল ছিলো পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম লেক । “আমু-দরিয়া” আর “সির-দরিয়া” নদীর বয়ে আনা পানিতে তৈরী হয়েছিলো তার টলটলে শরীর । বসতি ছিলো তীরে , ছিলো জেলেদের হৈ-হৈ । শিশুদের হুড়োহুড়ি । বাতাসে ছিলো মাছের আঁশটে গন্ধ ।বন্দরে বন্দরে ছিলো মাছ ধরা জাহাজের আনাগোনা ।
আজ নেই – আজ তার বুকে শুধু ধূঁ-ধূঁ বালুচর । রূপোলী জলে আর চিকচিক করে ওঠেনা মাছেদের বুক । ভাসেনা পাল তোলা নাও ।
উড়াল সাগরের বুকে হাহাকার নিয়ে পড়ে থাকা কালের স্বাক্ষী । কাজাখাস্তান ।
আমু-দরিয়া আর সির-দরিয়া’র ভালোবাসা থেকে লোভী মানুষেরা তাকে বঞ্ছিত করে রেখেছে । প্রিয়া অদর্শনের কষ্টে শুকিয়ে গেছে সে । এখোন সেখানে কেবল মৃত্যুই খেলা করে যায় । বাতাস তার ভারী হয়ে আছে দূর্গন্ধে । একদিন তার নরোম বুক চিরে , ঢেউ তুলে যে জলযান সাঁতরে বেড়াতো এ বন্দর থেকে সে বন্দরে আজ তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ধুঁ-ধুঁ বালুর বুকে এক রিক্ত হাহাকার নিয়ে ।কালের স্বাক্ষী, মানুষের অপরিনামর্দীতার স্বাক্ষী হয়ে ।
১৯৬০ সাল থেকে উড়াল সাগরের ধুঁকে ধুঁকে মরার শুরু । মাছেদের আঁশটে গন্ধে আসা ঝকঝকে “রুবল” নয়, সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকারের যে চাই কড়কড়ে “ডলার” । সাদা সোনা চাই তাদের, হোয়াইট গোল্ড । হোয়াইট গোল্ড তুলো চাই তাদের, তুলো । বিশ্বজুড়ে এর চাহিদার শেষ নেই । তাই সোভিয়েত মাটিতে ফলাতে হবে তুলোর গাছ ।লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমি জুড়ে যে তুলোর চাষ শুরু করেছে সরকার সেই ১৯৪০ সাল থেকে তাকে তো টিকিয়ে রাখতে জোগাতে হবে জীবন-ধারিনী পানি । তাই আমু-দরিয়া আর সির-দরিয়া’র পানি বইলো অন্যখাতে ।
[পাঠক, আমাদের সর্বনাশ – ফারাক্কা, টিপাইমুখ ইত্যাদির কথা একবার ভাবুন !]
তাদের স্রোত ধারা ঠেলে দেয়া হলো উজবেকিস্তানের উষর মরুভূমিতে গড়ে তোলা “কটন ফিল্ডে”র জন্যে সেচ প্রকল্পে । সোভিয়েত সরকার বললেন, উজবেকিস্তানের মরুভূমিতে আমরা ফসল ফলাবো – ফলাবো ধান, শষ্য, তরমুজ আর তুলো । যা সোভিয়েত মানুষকে খাদ্য যোগাবে, যোগান দেবে ডলার নামের সোনার হরিন । সোভিয়েত প্রভুরা খুশি । কিন্তু প্রকৃতি হেসেছিলো সেদিন অজান্তে ।
নদীর স্রোত আর গড়ালো না উড়াল সাগরের বুকে । ভালোবাসার উষ্ণ জলের পথ চেয়ে চেয়ে সাগরের বুক গেল শুকিয়ে । পানিতে টান ধরায় লবনের ঘনত্ব গেলো বেড়ে । ২০০৭ সালে এসে উড়াল সাগর শুকিয়ে তার আয়তনের ১০ শতাংশে এসে দাঁড়ালো । একদা সাগরের বুকে গড়ে উঠলো আর এক মরুভূমি । যেটুকু পানি একদা সাগরের পরিচয় ধরে রেখেছিলো তাদের লবনাক্ততা বেড়ে গেলো ভয়ঙ্কর ভাবে। প্রতি লিটারে তার পরিমান গিয়ে দাঁড়ালো ১০০ গ্রামে যেখানে সাধারন সাগরের পানিতে এর পরিমান ৩৫ গ্রামের কম । যেটুকু ছিলো মৎস সম্পদ তা ও শেষ হয়ে গেল । জনস্বাস্থ্যের হুমকি হয়ে দাঁড়ালো আবহাওয়া । গ্রীষ্মকালের গরম উঠলো চরমে, শীত হলো আরো প্রলম্বিত – আরো তীব্র ।মানুষ ভুগতে থাকলো মরুভুমিতে সৃষ্ট বালুঝড়ে । শ্বাসকষ্ট বাড়লো তাদের, বিশেষ ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হলো মানুষ । শিশু মৃত্যুর হার বাড়লো । ফসল গেলো ধংশ হয়ে আবহাওয়া আর জমির অতিরিক্ত লবনক্ততার কারনে । ৪০ হাযারের মতো জেলে বেকার হয়ে গেলো । বন্ধ হয়ে গেলো মাসকারাত ( এক ধরনের উভচর রডেন্ট ) থেকে আহরিত “ফার” শিল্প । সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমান দাঁড়ালো ৮০০ মিলিয়ন পাউন্ডে (তৎকালীন হিসাব)।
হালকা আর গাঢ় রংয়ে ধরা পড়েছে উড়াল সাগরের ২০০০ থেকে ২০১১ সালের পরিবর্তীত জলের স্তর । স্যাটেলাইট ছবি ।
এর মধ্যেই বিশাল লেকটি শুকিয়ে শুকিয়ে মরুভূমি জেগে উঠলো আর ভাগ হয়ে গেল চারটি ছোট্ট ছোট্ট পানির ধারায় – উত্তর উড়াল সাগর , দক্ষিন উড়াল সাগরের পূর্ব এবং পশ্চিম বেসিন এবং এর উত্তর আর দক্ষিনের মাঝখানে আরো ক্ষুদ্র একটি জলাশয় হিসেবে । ২০০৯ সালে দক্ষিন উড়াল সাগরের পূব অংশটি মুছে গেলো পৃথিবীর মানচিত্র থেকে আর পশ্চিম অংশটি সরু একটি নালী হয়ে কোনও মতে টিকিয়ে রাখলো দক্ষিন উড়াল সাগরের নাম । আর বেঁচে থাকা উত্তর উড়াল সাগরের সর্বোচ্চ্ গভীরতা ঠেকলো গিয়ে মাত্র ১৩৮ ফুটে ।
হ্যা, আজ উজবেকিস্তান বিশ্বের প্রথম সারির তুলা রফতানীকারক একটি দেশ ।তুলোর তৈরী সুতোয় হয়তো মানুষের আব্রু ঢেকেছে কিন্তু প্রকৃতি যে উলঙ্গ হয়ে গেলো তার খোঁজ কে রাখে !
তুলা চাষের জন্যে সোভিয়েত সরকারকে সেই ১৯৪০ সাল থেকেই সেচ ব্যবস্থার কথা ভাবতে হয়েছিলো । কিন্তু সেচের খালগুলি ছিলো খুব অপরিপক্ষ ভাবে নির্মিত । এ থেকে পানি শুষে নিত মাটি, রোদের তাপে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যেতো । এই সেচ প্রকল্পের অর্ন্তভূক্ত মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম কারাকোরাম ক্যানালের ৩০ থেকে ৭৫% পানিই এভাবে অপচয় হয়ে যেতো । এইসব কারনেই সোভিয়েত কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হয়েছিলো বিকল্প কিছু । তাই ১৯৬০ সালে গৃহীত হয় নতুন ইরিগেশান প্রোজেক্ট যাতে আমু-দরিয়া আর সির-দরিয়ার পানিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সেচের খালগুলিতে ।
প্রতি বছর ২০ থেকে ৬০ ঘন কিলোমিটার পানি উড়াল সাগরের পরিবর্তে গিয়ে পড়লো সেচের খালগুলিতে । ফলে হতভাগী উড়াল সাগরের পানির উচ্চতা হ্রাসের পরিমান বেড়ে যেতে থাকলো হু হু করে । প্রতি বছর এখোন এই উচ্চতা হ্রাসের হার ৩১ থেকে ৩৫ ইঞ্চি । কেবলমাত্র ১৯৮০ সালের মধ্যেই উড়াল সাগর থেকে যে পানি হারিয়ে গেলো তার পরিমান লেক “ইরি” আর লেক “অন্টারিও” তে যতো পানি আছে তাদের সমান ।
হয়তো প্রয়োজনেই সোভিয়েত কর্তৃপক্ষকে প্রকৃতির বিরূদ্ধে যেতে হয়েছিলো কিন্তু তার জন্যে তাকে খেসারত দিতে হয়নি কম । আবহাওয়া চরমপন্থী হয়ে গেছে সেখানে । উজবেকিস্তানে আজ কেবল ১২% সেচের খাল ঠিকমতো পানি বয়ে নিতে পারে মাত্র ।
আর তাই মানুষ সৃষ্ট পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিবেশ বিপর্যয়ের উদাহরন এটি ।
১৯৬৪ সালে তাই হয়তো সোভিয়েত হাইড্রোপ্রোজেক্ট ইনিস্টিটিউট এর আলেক্সান্দর আসারীন আঙ্গুল তুলে দেখিয়েছেন - "It was part of the five-year plans, approved by the council of ministers and the Politburo. Nobody on a lower level would dare to say a word contradicting those plans, even if it was the fate of the Aral Sea.”
পরিবেশ বিপর্যয়ের এই পরিনতি জানতেন সোভিয়েত কর্তৃপক্ষও । সাফাই গাইতে কিছু কিছু সোভিয়েত বিশেষজ্ঞরা বলে বসলেন “ অরাল সী ইজ আ ন্যাচারাল এরর ।”
কেউ একজন আগ বাড়িয়ে বললেন , “it is obvious to everyone that the evaporation of the Aral Sea is inevitable.”
তার পরেও অবশ্য সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ উড়াল সাগরকে জীবিত রাখতে তাদের পাঁচশালা সেচ পরিকল্পনায় একে “রি-ফিল” করার প্রোজেক্ট হাতে নিয়েছিলেন । কিন্তু রাশান মূল ভুখন্ডের মানুষদের বিরোধীতা আর খরচের কথা বিবেচনা করে এই প্রোজেক্ট ১৯৮৬ সালে বাতিল করে দেয়া হয় ।
পরের ইতিহাস - ১৯৯১ সালে উজবেকিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে । ২০০২ সালে উজবেকিস্তানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ( ইউকে) রাষ্ট্রদুত ক্রেইগ ম্যূরে সমস্ত ব্যাপারটিকে বর্ননা করেছেন এভাবে, উজবেকিস্তানের প্রধান নিয়ন্ত্রক ইসলাম কারিমভ জমিকে শোষন করার সোভিয়েত ষ্টাইলের অর্থনীতি এবং দর্শন থেকে দূরে সরে থাকতে পারতেন স্বাধীনতার সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে কিন্তু তিনি তা না করে সুযোগটাকে কাজে লাগিয়েছেন কেবলমাত্র নিজের ক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করতে ।
উড়াল সাগর শুকিয়ে যাওয়ার জন্যে তিনি দায়ী করেছেন কারিমভের “কটন পলিসি”কে । বলেছেন, সরকার যে সেচের জন্যে এতো বিশাল পরিকল্পনা নিয়েছে তা বিশাল একটি অপচয়, কারন সে জল তুলো চাষের জমিতে পৌঁছানোর আগেই বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে । এখানে কোনও “ক্রপ রোটেশান” এর ব্যবস্থা নেই । এইসব পতিত জমিতে তুলো চাষের জন্যে যে পরিমান রাসায়নিক সার আর কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে তা ধুঁয়ে গিয়ে পড়ছে শুকিয়ে যাওয়া উড়াল সাগরে ।এতে নষ্ট হয়ে গেছে পানি, হচ্ছে পরিবেশ দূষন আর জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি । গণযুদ্ধের পূর্ববর্তী যুক্তরাষ্ট্রের দাস-প্রথার সাথে তুলনা করে তিনি আরো বলেছেন, এখানে জবরদস্তি শ্রম ব্যবহৃত হয়েছে অথচ সমুদয় লাভের টাকা পাচার হয়েছে ক্ষমতাধারীদের দ্বারা ।জনগণ যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে গেছে আজেো ।
আর অন্যদিকে কাজাখাস্তানে তুলো চাষটি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে ।
দিন দিন শুকিয়েছে উড়াল সাগরটি । সব হিসেব নিকেশ শেষে টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষের । কাজাখাস্তানের দিক থেকে বাঁধ তৈরী করে উত্তর উড়াল সাগরটিকে কিছুটা হলেও জলবতী করা গেছে ।২০০৫ সালে শেষ হওয়া এই বাঁধের কল্যানে ২০০৮ সালের মধ্যে এতে পানির উচ্চতা বেড়েছে ৭৯ ফুট । কমেছে লবনাক্ততা । দেখা যাচ্ছে মাছেদের রূপোলী ঝিলিক ।
উজবেকিস্তানের টনক নড়েনি । তাই শুকিয়ে যাওয়া দক্ষিন উড়াল সাগরটি তার অস্তিত্বকে হারিয়ে ফেলে তার বুকে জন্ম দিয়েছে এক বিশাল হাহাকার – “অরালকুম মরুভূমি” ।
উড়াল সাগরে জেগে ওঠা মরুভূমিতে ধূলিঝড়, মার্চ ২০১০ ।
যদিও বুকের নীচে তিরতির করে বয়ে চলা “গ্রাউন্ড ওয়াটার” তার তৃষ্ণা মেটাতে পারেনি । তেমন করে ভেজাতে পারেনি তার শুকিয়ে যাওয়া বুক ।পামির মালভুমি আর তিয়ানশান পর্বতমালায় জন্ম নেয়া এই ভূগর্ভস্থ জল সারাটা পথ বেয়ে গোপনে গোপনে তার বুকের তলদেশে খানিকটা অশ্রূ জমা করে রেখেছে শুধু । এইটুকু সম্বল নিয়ে বেঁচে আছে সে আজো এক অন্ধকার ভবিষ্যৎ নিয়ে।
প্রকৃতি যে নিঠুর প্রতিশোধ নিতে পারে উড়াল সাগরের উদাহরন তাই ই । এটাকে বলা হয় "one of the planet's worst environmental disasters" । মানুষ বুঝেছে কি করেছে তারা ।
নিজেদের প্রয়োজনেই মানুষকে আবার ভাবতে হয়েছে । স্বার্থ জড়িত, তাই ১৯৯৪ সালে কাজাখাস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান আর কিরঘিজিস্তান এক বৈঠকে সম্মত হলেন যে তারা তাদের বাজেটের ১% ব্যয় করবেন সাগরটিকে ফিরিয়ে আনার খাতে । ২০০০ সালের মার্চে হেগ এ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ফোরাম এ ইউনেষ্কো উপস্থাপন করলেন তাদের " Water-related vision for the Aral Sea basin for the year 2025 " এ দলিলটি । কাজের কাজ কিছু হলোনা । সমালোচনা হলো এই বলে , এটি একটি অবাস্তব কিছু এবং এতে লেকের কাছাকাছি জনগণের বিশেষ করে উজবেক এলাকার জনগণের স্বার্থের দিকে সুনজর দেয়া হয়নি ।
তবুও ২০০৬ সালের মধ্যে বিশ্ব-ব্যাংকের সহায়তায় চলা “রেস্টোরেশান প্রজেক্ট” এর সুবাদে উত্তর উড়াল সাগর অনেকটা সামলে উঠতে পেরেছে । যা হওয়ার কথা ছিলো তা হয়নি । কারন এলাকা ভিত্তিক জলবন্ঠনের হিস্যা আলাদা করে দিয়েছে তাদের । বাঁধের জলে গড়ে তোলা হাইড্রো-ইলেক্ট্রিক এনার্জী নিয়ে আঞ্চলিক টানাটানি হয়েছে কম নয় । তাই ভেস্তে গেছে সব । কথা উঠেছে, কেবল শাসক শ্রেনীই এই প্রোজেক্টের নকশা প্রনয়নকারী যেখানে ভুক্তভোগী জনগণের মতামত নেই কোথাও ।
রূদ্র আবহাওয়ার কারনে মমিতে পরিনত কার্প। ২০০৫ এর আগষ্টে তোলা ।
এর পরেও আছে আরো কিছু । নিজেদের ঘাড়ে জোয়াল পড়লে তখন টানতেই হয় । তার আগে নড়েচড়ে বসেনা কেউ ।
২০১০ সালের জুলাইয়ের শেষ হপ্তায় স্মরনকালের বৃহৎ বন্যায় যখোন ভাসলো পাকিস্তান তখন আরো নড়েচড়ে বসলো পাকিস্তানের ইসলামাবা ভিত্তিক Sustainable Development Policy Institute (SPDI) নামের থিঙ্ক ট্যাংকের লোকজন । আগে থেকেই তারা মধ্য এশিয়াতে বৈরী আবহাওয়ার কারনে সৃষ্ট সমস্যাগুলি যেমন জলবন্ঠন, আবহাওয়া, অর্থনীতি আর জ্বালানী ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করছিলেন ।উড়াল সাগরের শুকিয়ে যাওয়াতে এই এলাকাতে অর্থনৈতিক আর আবহাওয়াগত যে বৈষম্য তৈরী হয়েছে তা খতিয়ে দেখছিলেন তারা ।তারা দেখলেন, উড়াল সাগর উড়ে যাওয়াতে যে বৈরী আবহাওয়া তৈরী হয়ে গেছে তা কোনও রাজনৈতিক সীমানা মানেনি । তার করাল থাবা পড়েছে মধ্য এশিয়াতেও ।এর উদাহরন টেনে আন্তর্জাতিক আইন আর সুস্থ্য চিন্তার আলোকে তারা ইস্যু তুললেন, এ এলাকার জল সম্পদের সুষম বন্টনের ।তারা বোঝালেন , উড়াল সাগরকে আবার জলবতী করা ছাড়া মধ্য এশিয়াতে শান্তি আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবেনা । তারা নিজের দেশ পাকিস্তানের কথা মাথায় রেখেই এতোদিন বলে এসেছিলেন কথাগুলো । বন্যার কারনে তা আরো সোচ্চার হয়েছে মাত্র । মাত্রা পেয়েছে ভিন্ন । দক্ষিন উড়াল সাগরকে “রি-ফীল” করার প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন তারা ।
কে জানে, কবে আবার শুকিয়ে যাওয়া উড়ালের বুক চিরে ভাসবে জেলেদের নাও । উড়ন্ত পাখীরা ছুঁয়ে যাবে উড়ালের জল ।
পাদটীকা -
আমরাও কি এমোন একটি সত্যিকার দুঃস্বপ্নের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিনা ! উড়ালের তীরে তীরে বসবাসকারী অসহায় মানুষগুলির মতো আমরাও কি দেখতে থাকবো শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে গেছে এখোনও ধীরে বয়ে চলা আমাদের নদীগুলো !
শুধু দেখেই যাবো………… ……………..
Tuesday, February 21, 2012
সিগারেট ছেড়ে দিন না।
সিগারেটে যে স্বাস্হ্যের জন্য অনেক ভয়ংকর ক্ষতিকারক মাল আছে তাদের কয়েকটা হল:
নিকোটিন, আর্সেনিক, কার্বন মনোক্সাইড, ডিডিটি, সায়ানহাইড্রিক এসিড, ন্যাপথালিন সহ আরো ম্যালা বাজে জিনিস। এর যে কোন একটা কয়েক মিলিগ্রাম আপনার শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে ঢুকিয়ে দিলে(ঐ CO গ্যাসটা বাদে) আপনি মোটামুটি বেহেশতে চলে যেতে পারেন (রুপকার্থে)!
সিগারেট ছাড়লে অনেক লাভ। ছাড়ার ২-৩ দিনের মধ্যে আপনি যে সমস্ত সুন্দর ঘ্রান উপভোগ করতে পারেননি, তা পারবেন।
খাবারের স্বাদ বেড়ে যাবে, মানে খেয়ে মজা পাবেন যা অনেকদিন পাননা। মাসখানেকের মধ্যে সিড়ি বেয়ে উঠতে আগের চাইতে অনেক কম হাঁপাবেন।
ক্ষুধা একটু বেড়ে যেতে পারে, ক্ষতি নেই। জিহ্বার স্বাদের গ্ল্যান্ডগুলো আরো ভাল কাজ করবে, খেয়ে আগের চাইতে বেশি মজা পাবেন।

হায়াৎ মউৎ সৃস্টিকর্তার উপর, তবে আপনার আয়ু বেশ খানিকটা বেড়ে যাবে সন্দেহ নেই। বাজি ধরবেন?
তাহলে আজই ছাড়ুন, হ্যাঁ আজই, যদিনা এরই মধ্যে না ছেড়ে থাকেন। জীবনটা একবারের জন্যই, এটাকে অপচয় করাতে কোন লাভ নেই।
original post
Monday, February 6, 2012
বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়া---নগ্ন ভিডিও ফুটেজ অবধারিত!
রুপালী জগত মানুষকে চুম্বকের মত টানে।খুব সহজেই মানুষ আকৃষ্ট হয় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতি।তার যৌক্তিক কারণও আছে।মিডিয়া মানুষের কথা বলে,সমসাময়িক অসামঞ্জস্যতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়,বিনোদনপ্রিয় মানুষকে হাসায় কাঁদায়।নাটক সিনেমার প্রিয় চরিত্রের সাথে দর্শকরাও হেসে কেঁদে একাত্ম হয়ে যায়।সাধারণ মানুষের জন্য এই জগত স্বপ্নের সমান।যে কেউই এটা মানবে -একটি শক্তিশালী মিডিয়াই পারে মানুষের বিবেক জাগ্রত করতে।কিন্তু মিডিয়া দূষিত.কলুষিত হয়ে পড়লে এর দায়ভার একা কি শুধু একজন নারীকেই বহন করতে হয় !
আমাদের দেশে অল্প কয়েক বছরের মধ্যে গড়ে উঠেছে অসংখ্য টি,ভি চ্যানেল।এই সব টি.ভি চ্যানেল এবং বড় পর্দার জন্য জন্য প্রয়োজন প্রচুর মিডিয়া কর্মী।ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে তাদের মেধাকে বিকশিত করার সুযোগ পাচ্ছে যেটা খুবই আশাব্যঞ্জক ঘটনা।ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কিছু জায়গায় মেয়েদের চাহিদা ব্যাপক।মেয়েরা মিডিয়াতে সুযোগ পাওয়ার জন্যে সঠিক পন্থায় এগুতে না পেরে মরিয়া হয়ে উঠছে।উর্ধ্বতন সুযোগসন্ধানী কামনা লিপ্সুদের ছড়ানো ফাঁদে নির্দ্বিধায় পা দিচ্ছে।মিডিয়াতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আশায় নিজেকে বিকিয়ে দিতেও পিছপা পর্যন্ত হচ্ছে না এসব মেয়েরা।বেডে যাওয়াটাকে স্মার্টনেস হিসাবে ধারণা করছে তারা।এর প্রভাব পড়ছে তাদের সামাজিক জীবনে।একসময় সমাজের রোষানলে তাদের জীবন হয়ে উঠছে দূর্বিসহ।এই কাতারে আছে সুশিক্ষিত এবং সম্ভ্রান্ত ঘরের মেয়েরাও।
সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়ায় মেয়েদের প্রতিষ্ঠিত করার আশ্বাসে তাদের নিগৃহিত করার ভয়াবহ চিত্র ব্যাপক ভাবে প্রচার পেয়েছে।বেশ কিছুদিন থেকেই ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মেয়েদের অসংযত সময়ের ভিডিও মোবাইলে,ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।হালের এমন কোন টপ ক্রেজ মডেল,অভিনেত্রী নাই যাদের অশালীন ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে পাওয়া যায় না ! এতে করে মিডিয়ার সুনাম নষ্ট হচ্ছে।এসব জানার পর যে কোন অভিভাবক তার মেয়ের পর্যাপ্ত মেধা থাকা সত্বেও তার এই জগতে পা রাখার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করছেন।প্রযোজক,পরিচালকদের সাথে বেডে না গেলে নাকি সেখানে কাজের সুযোগ পাওয়া যায় না।শুধু নাম ,যষ,খ্যাতি,আর্থিক স্বচ্ছলতা আর ফেস ভ্যালুর জন্য মেয়েরা মিডিয়ার নোংরা মানুষদের অধীনতা মেনে নিচ্ছেন সাবলীল ভাবে। এ থেকে বের হয়ে আসার জন্য প্রয়োজন মেয়েদের মূল্যবোধকে জাগ্রত করা।মেয়েদের যোগ্যতাকে সম্মান প্রদর্শন করে নিয়োগ দান করা।আর এই অনাচার দমন করতে এগিয়ে আসতে হবে প্রসাশনকে।
original post
মিরাক্কেলে কেন যাবে আমাদের ছেলেরা ! আমাদের কত কত টিভি!কেন কেউ এমন উদ্যেগ নেয় না।
মানুষ খুব কষ্ট পেলে কাঁদে,আবার কখনও খুব সুখের অনুভূতিতে কাঁদে। কিন্তু হাসতে পারে শুধু আনন্দ পেলেই। কাউকে হাসতে দেখলেও মন ভরে ওঠে ভালো লাগার অনুভূতিতে। সবার মাঝে রাশি রাশি হাসি ছড়িয়ে দিতে কলকাতার জি-বাংলা চ্যানেলের আয়োজন ‘মীরাক্কেল’। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশেও তুমুল জনপ্রিয়। এতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিযোগিরাও। এবার অনুষ্ঠানটিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘মীরাক্কেল’ এর অডিশন।
৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এফডিসি’র ৪নং ফ্লোরে ‘ মিরাক্কেল ৬’-এর ঢাকা ডিভিশনের অডিশন পর্ব অনুষ্ঠিত হল। এই অডিশন আয়োজনটি ছিল ‘ মিরাক্কেল ৬’-এরই একটি বর্ধিত কার্যক্রম। অডিশনটি মিরাক্কেলের ৭ম পার্ট ভেবে অনেকেই দ্বিধান্বিত হয়েছেন। আসলে এটি ‘ মিরাক্কেল ৭’ নয়, এটি হল পার্ট ৬-এর এক্সটেনসন। এখানে টিকে যাওয়া নতুন প্রতিযোগীরা ফাইনালিস্টদের সাথে টক্কর দেবে। পরিচালক বর্ধিত এই পর্বের নামকরণ করেছেন ‘ থ্রি এক্স হেল’। এইদিন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারীরা মাতিয়ে রেখেছে এফডিসি’র ৪নং ফ্লোর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত অংশগ্রহণকারী লাইন ধরে ধৈয্যের পরীক্ষা তবেই অডিশন দেওয়ার সুযোগ পায়।
অডিশন পর্ব পরিচালনা করতে ঢাকায় বিচারক হিসেবে আসেন জিটিভি বাংলার পরিচালক সুদীপ্ত ভৌমিক,ি মরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার-এর পরিচালক শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায় এবং প্রযোজক নবনীতা চক্রবর্তী। তারা সবাই এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত বাংলাদেশে এসেছেন। সবাই ভীষণ উচ্ছ্বসিত পুরো এই আয়োজনকে ঘিরে। তবে মিরাক্কেলের প্রাণ উপস্থাপক মীর বাংলাদেশে আসতে পারেননি।
বাংলাদেশে আসার বিষয়ে ল পরিচালক শুভঙ্কর বললেন, ‘ বাংলাদেশে মিরাক্কেলের বিশাল জনপ্রিয়তার জন্য এদেশের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। নিজের অনুষ্ঠানকে আমি নিজে মূল্যায়ন করতে চাইনা, আপনারা সবাই মিরাক্কেল দেখতে থাকুন। ২৬ জানুয়ারিতে কলকাতার অডিশন শেষ করেছি,অ ামি ঢাকার অডিশনে কলকাতার উচ্ছ্বলতার কোন কমতি দেখতে পাইনি। এই বিষয়টি আমাকে ভীষনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। পুরো অনুষ্ঠানের সাফল্য আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব হত না।’
কেমন করছে এবারের অংশগ্রহণকারীরা? উত্তরে তিনি বললেন,‘অনেক মেধাদীপ্ত পারফর্ম করছেন তারা। বোঝা যাচ্ছে মিরাক্কেলকে সামনে রেখে তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন’। এ পর্যন্ত কতগুলো অসাম শালা পেলেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথম রাউন্ডের লিস্ট বেশ লম্বা হয়েছে। সেখান থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্যএকটা শর্ট লিস্ট করব। তারপর ফাইনালি সিলেক্ট করব।’ শুভঙ্কর জানালেন, বাংলাদেশ থেকে ৩০ জন পারফর্মার নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে ভালো পারফর্মার পেলে এই সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।
মিরাক্কেলের প্রযোজক নবনীতা চক্রবর্তীর কাছে প্রশ্ন ছিল, এবারের অডিশনে অন্যবারের চেয়ে কোন পার্থক্য টের পেয়েছেন কিনা? উত্তরে তিনি বললেন,‘আমি আগেও দুইবার বাংলাদেশে এসেছি।কিন্তু এবারে সর্বোচ্চ সংখ্যক অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। মিরাক্কেল তাদের কাছে আগের চেয়েও অনেক বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছে। মিরাক্কেল নিয়ে তাদের মধ্যে যে ভালবাসা ,যে উচ্ছ্বাস দেখেছি তার কোন তুলনা হয়না। এরকম চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আমরা আরও বৃহত্তর চিন্তা ভাবনা করতে পারব আশা করছি।’
অডিশন রুমে চোখে পড়ল ‘মিরাক্কেল ৫’ এবং প্রচার চলতি ‘মিরাক্কেল ৬’ থেকে ছিটকে পড়া পরিচিত মুখের প্রতিযোগীদের। এদের মধ্যে আছেন শশী, রুমী, ইয়াফী, রাজু, শাকিলা, বাবু, ইমন, কায়েস, উজ্জ্বলসহ আরও অনেকে। তারা সার্বিক সহযোগিতা করছেন এবারে অডিশনের জন্য আসা পুরো টিমকে। তাদের ভেতরেও আনন্দ উচ্ছ্বলতা প্রকাশের কোন ঘাটতি নেই। অডিশনের ফাঁকে ফাঁকে তাদের ছোট ছোট পরিবেশনা, একে অন্যের সাথে হাসিঠাট্টা মুখোরিত করে রেখেছে পুরো টিমকে। বোধ হয় একেই বলে জীবনাশক্তি।
সাবেক প্রতিযোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেল তাদেরকে নিজ দায়িত্বে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্র কিংবা চাকরিজীবি। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ তাদের কোন সহযোগিতা করেনি, যার কারণে মনের মধ্যে একটা দুঃচিন্তা নিয়ে মিরাক্কেলে পারফর্মেন্স করতে হয়েছে। ক্ষণে ক্ষণে মনোযোগ ব্যাহত হয়েছে। প্রতিযোগীদের অনেকেরই চাকুরী চলে গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার নষ্ট হয়েছে, আবার কেউবা চাকরি বাঁচাতে প্রতিযোগিতার মাঝখানে স্ব-ইচ্ছায় চলে এসেছেন।
সাবেক মিরাক্কেল সদস্য ইয়াফীর কাছে জানতে চাইলাম, আপনারা যারা ‘মিরাক্কেল’-এ সফল হয়েছেন তারা এদেশে কমেডি অনুষ্ঠানের কি কোন উদ্যেগ নিয়েছেন ? ইয়াফী জানালেন,তারা বেশ কয়েকজন মিলে ‘নাভিদস্ কমেডি ক্লাব’ এ নিয়মিত অনুশীলন এবং কমেডি পরিবেশন করে থাকেন।গত বছর এনটিভি তে ২৮ পর্বের ‘হা- শো’ নামের একটি প্রতিযোগীতামূলক অনুষ্ঠান করেছিলেন সেই প্রতিযোগীতায় সেরাদের ৩ জন ‘মিরাক্কেলের পার্ট ৬’ এ পারফর্ম করার সুযোগ পেয়েছে। তিনি একটু হতাশ হয়ে বললেন, ‘আমাদের সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে জোকস্ গুলোকে মেলে ধরতে পারি না। মিরাক্কেলে পরিবেশিত কো
ন অ্যাডাল্ট জোকস্ আমরা এখানে বসে খুব এনজয় করি। কিন্তু আমাদের দেশে ওই একই জোকস্ বলার কারণে আপনি প্যাদানি খাবেন। জোকস্ সিলেকশনে অনেক সমস্যার সম্মুখিন হতে হয় আমাদের।’আগামী ৬ ফেব্রয়ারি বরিশালে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি খুলনায় মিরাক্কেলের অডিশন রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে।
আমাদের ছেলেরা আমাদের দেশে সুযোগ না পেয়ে ছুটছে বিদেশে।পরিচিত দৃশ্য।বড় অভাগা দেশ।
original post
সন্তান নাকি ক্যারিয়ার ?:|/:)
যে কোন মানুষের কাছে সন্তান অনিন্দ্য সুন্দর এক প্রিয়মুখ।আর মায়ের কাছে জীবনের চেয়েও প্রিয়।কথায় আছে মানুষ দুই কারণে তার নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে পারে-এক হল দেশ, দুই হল সন্তান। ভিষণরকম সত্যি কথা।কিন্তু এই সত্যির একটা অংশ একটু অন্যভাবে আসে মায়েদের জীবনে।অনেকসময় এই সত্যিটা জোড় করে চাপিয়ে দেওয়া হয়।প্রিয় সেই সন্তানের দেখভাল করা,স্কুলিং করানো সবকিছুর দায়িত্ব যেন শুধু মায়ের ! তাইতো মায়ের পেশাগত উৎকর্ষতার জায়গাটাও মলিন হয়ে যায় সন্তানের চিন্তায়।সন্তানের কল্যানার্থে একজন মা বাধ্য হন তার কষ্টার্জিত প্রিয় সেই পেশাকে উৎসর্গ করতে।
ইউরোপ,আমেরিকার মত উন্নত দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে জন্মহার কমে যাচ্ছে মায়েদের কর্মব্যস্ততার কারণে!পেশাগত কারণে সন্তান লালনপালনের সময় কোথায় তাদের !যদিও সন্তান পালনজনিত অনেক রাষ্ট্রীয় সুবিধা তারা ভোগ করে থাকেন।দেশ-স্থান-কাল ভেদে কোন মেয়েই চান না নিজেকে চারদেয়ালে আটকে রাখতে।মেধা দিয়ে ,যোগ্যতা দিয়ে সবাই নিজের জন্য একটা সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে চান।আর এই চাওয়াতে প্রথম যে ধাক্কাটা লাগে তা হল বিয়েজনিত কারণে।স্বামী এবং তার পরিবার যদি সহযোগীতা করে তাহলে ধাক্কাটা সামলে উঠতে পারেন।তবে সামাজিক বাস্তবতায় এখন অধিকাংশ পরিবার নিউক্লিয়ার পরিবার হওয়াতে মেয়েটি যখন মা হন তখন তিনি দিশেহারা বোধ করেন।একটা মায়ের জন্য সন্তানকে পরিচর্যা এবং একই সাথে তার পেশাকে অব্যাহত রাখা দুঃসহ হয়ে ওঠে তাদের পক্ষে।আমাদের দেশের মায়েদের পরিপ্রেক্ষিতে যদি বলি তাহলে সমস্যাটা যেন আরও প্রকটভাবে অনুভুত হয় প্রতিটি পেশাজীবি মায়ের কাছে।অপর্যাপ্ত মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং শিশুর জন্যে ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা না থাকায় মায়েরা কর্মক্ষেত্রে বর্ণনাতীত মানসিক কষ্ট ভোগ করে থাকেন।পেশাজীবি মায়েদের সহযোগীতার জন্যে মা-শাশুড়ীর সহযোগীতা ছাড়া পেশা চালিয়ে যাবার কোন উপায় নাই আমাদের দেশে।প্রতিনিয়ত পেশা এবং সন্তান এই দ্বৈত টানাপোড়েনে মায়েরা ঘরের বাইরে কাজ করার মানসিক উদ্যেম হারিয়ে ফেলেন। শেষপর্যন্ত বাধ্য হন পেশা ছেড়ে ঘরমুখী হতে।এখনকার মেয়েরা সন্তান পালনজনিত ভাবনায় সন্তান ধারণ করতে দ্বিধা করেন।
original post
Saturday, February 4, 2012
ছেলে মেয়ের সম্পর্কের পিছনের দ্বন্দ......

আগে একটা প্রশ্নের উত্তর দিন- "ছেলে ও মেয়ের মাঝে কি সতস্ফুর্ত এবং সহজ বন্ধুক্ত হয়া সম্ভব ?"
এবার প্রশ্নের উত্তর ভাবতে ভাবতে আমার কিছু চিন্তা ভাবনা শুনে নিন।
শুরু করি বিখ্যাত এক লেখকের অভিজ্ঞতা দিয়ে।
" আমি তখন সবে মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছি। আআর প্রতিবেশী একজন ছেলে আমার ক্লাশেই অন্য এক স্কুলে পড়তো। পড়াশোনায় সাহায্য, ঘুরে বেড়ানো, গল্প করা- সবি তার সাথে এমন অনায়াসে ঘটতো, আমরা কখনোই বুঝে উঠার অবকাশ পাইনি, আমরা দুজন ছেলে এবং মেয়ে - এরকম আলাদা দুটি সত্তা। সেই সময় আমার এক যায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব এলো। যে প্রস্তাব নিয়ে এসেছে সে আমার পাশে দাঁড়ানো সেই ছেলেকে দেখে প্রশ্ন করে উঠলো, "ও তোমার কে হয় ?"
আমার অবচেতন মন আড়ষ্ট কন্ঠে বলে উঠে- "ও আমার প্রতিবেশি, আমার ভাই।"
-----------------------------------------
ছেলে মেয়ের বন্ধুক্তকে আমরা বাঙ্গালীরা কখনোই সহজ ভাবে মেনে নিতে পারিনি। অন্তত বেশিরভাগ মানুষের বেলাতেই। জাতিগতভাবেই আমরা হিপোক্রেট। হয়ত মেনে নিতে পারি- ছেলে মেয়ের মাঝে পিওর বন্ধুক্ত সম্ভব। অথচ তার পরেই কোন বন্ধুকে তার বান্ধবীর সাথে রিক্সায় যেতে দেখলে বাকা চোখে তাকাতেও দ্বিধাবোধ করিনা। তার মানে নিজেকে প্রগতিশিল বা মুক্তমনা ভাবতে আমাদের ভালো লাগে, তবে ইমপ্লিমেন্টেশনের যায়গায় আমরা ব্যার্থ।

ছেলে এবং মেয়েতে কখনোই বন্ধুক্ত হতে পারেনা, এই কথাটি যারা বিশ্বাস করেন, তারা এই বিশ্বাসের পিছনে অবচেতন এক আকর্ষন কে দায়ী করেন। এ আকর্ষন কি শারিরিক, নাকি প্রচলিত সমাজ ব্যাবস্থার মানসিক ম্যানুপুলেশন, তার উত্তর নিয়ে সন্দেহ আছে।
আমার দু এক জেনারেশন আগেও বন্ধুক্ত ব্যাপারটি শুধু সমলিঙ্গে সীমাবদ্ধ ছিলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। গ্রামে কিংবা মফস্বলে আমরা এখনো দেখি একই গ্রামে বড় হয়া, একই বাতাস আর ধুলাবালিতে গড়ানো কোন এক পুরুষকে দেখে গ্রাম্য বধু মাথায় টেনে দেয় ঘোমটা। অথচ সম্পর্ক টা হতে পারত নির্মল এক বন্ধুক্তের। "বন্ধু " শব্দটার মত পবিত্র একটা সম্পর্ককে আমরা বন্ধ করে রাখছি। যে মেয়ের একাধিক ছেলে বন্ধু, তাকে নিয়ে আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি। সেইম ব্যাপার ছেলেদের বেলায় ও খাটে, যদিও কিছুটা কম।
এই সমস্যার একেবারে বেসিক দিকে অবজার্ভ করলে দেখা যায়, সমস্যার সূত্রপাত হচ্ছে শৈশবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছেলে মেয়ে আলাদা স্কুলে পড়ে, আলাদা নিয়ম নীতিতে বড় হয়, আলাদা যাপিত জীবনে অভ্যস্ত হয়। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ক্যারিয়ার কাইফে এক হলেও তাদের মাঝে থেকে যায় চিন্তা চেতনার বিরাট এক পার্থক্য। এই পার্থক্য তাদের এক হতে বাধা দেয়, বাধা দেয় তাদের কমিউনিকেশন পারফরমেন্সেও।
বলা হয়- "ছেলেমেয়ের মাঝে বেশি মেলামিশা ঠিক নয়।" দুইটা শিশুকে শিশু হিসেবে না দেখে ছেলে বাচ্চা মেয়ে বাচ্চা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা তাদের মাঝে সৃষ্টি করে এক বৈষম্য। এই বৈষম্যই পরবর্তীতে তৈরি করে আড়োষ্ঠতা, জড়তা। তারা নিজেদের নিয়ে অন্যরকম করে ভাববার প্রয়াস পায়। " ও আচ্ছা, আমরা তাহলে দুইটা আলাদা সত্তা ! " বাস, চিরদিন ধরে দেখা মেয়েটা ছেলেটার কাছে হয়ে উঠে রহস্যময়ী, অন্যরকম আকাঙ্খার। আর ছেলেটা মেয়েটার কাছে হয়ে উঠে বাইরের মানুষ, পরপুরুষ।
দুটি ভিন্নস্থানে , ভিন্ন পার্পেক্টিভে বড় হয়া ছেলেমেয়েদের মাঝে এ আকর্ষন কে কি বলে অভিহিত করা যায় ? একে না বলা যায় প্রেম, না বলা যায় সহজ বন্ধুক্ত। এ সম্পর্কের নাম কি তবে ?
দ্বিতীয়বার ধাক্কাটা আসে অন্যদিক থেকে। বলছি-
আমি আগে যে উদাহরন টা দিলাম, তার শুরু হয় নিজ পরিবার থেকে। সোশালাইজেশনের প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র পরিবার হলেও , এখানে পরিবার কাজ করে স্পন্টেনিয়াস সোশালাইজেশনের বিপক্ষে।
কো এডুকেশনে পড়া ছেলেমেয়ের মাঝে এই সমস্যা কম দেখা যায়। তারা সাধারনত অনেক সতস্ফুর্ত হয়। তারা ছেলে- মেয়ের বাধা ডিঙ্গিয়ে আগে নিজেদের মানুষ ভাবার সুযোগ পায়। পরে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে তাদের মাঝে আর কোন জড়তা কাজ করেনা। একসাথে স্টাডি, হ্যাং আউট আর ফান চলে সমানতালে। এই সাবলিলতার যায়গাটা রুদ্ধ হয়ে যায় দ্বীতিয় ধাক্কায়। সেটা হলো- বিয়ে। সেই জন্মের পর থেকে একই বৃত্তে বড় হয়া ছেলেদের সাথে মেয়েটি তার স্বামীদের পরিচয় করিয়ে দেয়- সহপাঠী বলে, বন্ধু বলে নয়।
ব্লগে আমার বয়সী যারা আছেন, অর্থাৎ সদ্য গ্রাজুয়েশন করা বা করছে, এমন বয়সী- তারা এটা খুব ভালো বুঝতে পারবেন। কারন এই সময়টাতে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। নিজের ভার্সিটির বন্ধুবান্ধবের মাঝেই এই উদাহরন অনেক দেখা যাবে। কত বন্ধুদের যে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, সেই সাথে ফ্রেন্ডশিপের সীমানার বাইরে চলে যাচ্ছে কত জন......
কখনো কখনো স্বামী নিজেকে উদার প্রমান করতে স্ত্রির বন্ধুদের সাথে আড্ডায় যোগ দিলেও স্ত্রী অবচেতনভাবেই সতর্ক হয়ে উঠে।সেই ধাক্কাধাক্কি, বকাঝকা আর ফ্রেন্ডশিপের সম্পর্কটা গিয়ে দাঁড়ায় ফরমাল এক পরিমিতবোধের যায়গায়।
অন্যদিক দিয়ে চিন্তা করি।
অনেক সময় দেখা যায়, তিনজন ছেলে বন্ধু একজন মেয়ে বন্ধুর কাছে কতটা গুরুত্বপুর্ন, এই শজ ইর্ষায় জড়িয়ে পড়ে নিজেদের, মেয়েটার এবং বন্ধুক্তের যায়গাটা সঙ্কটাপন্ন করে তুলে। নিজেরা একজন আরেকজনকে ভুল বুঝে। এই সন্দেহ প্রকাশ করে- হয়তো কেউ একজন মেয়েটির বন্ধু নয়, বরং প্রেমানুরাগী। এতে করে বন্ধুক্তের যে মূল যায়গা, পরস্পরের প্রতি মমতা, সহমর্মিতা, তা নষ্ট হয়ে যায়।
গভীর বন্ধুক্ত যে প্রেমে গড়ায় না, তা নয়, বরং সেই সম্পর্ক প্রেমে ফড়ালে তা অনেক সহজ হয়ে যায়। বন্ধু হিসেবে আগে থেকেই দুজন দুজনকে জানার সুযোগ থাকায় বিয়েপরবর্তি অনেক ঝঞ্জাট এড়ানো যায়। কিন্ত সব সম্পর্ক প্রেমে ফড়াবে এমন একটা ধারনা থেকে যখন অভিভাবকগন একটি নির্মল বন্ধুক্তের ক্ষেত্রে সতর্ক্তা তৈরি করেন, তখন সেই নির্মলতার মধ্যে কিছুটা অসস্তি চলে আসে।

এত সব কিছুর ভিড়েও ছেলেমেয়েতে নির্মল বন্ধুক্ত হয়, অভিভাবকদের ঢুকিয়ে দেয়া তারা সশিক্ষায় উপড়াতে পারে বলেই সেই বন্ধুক্তটা হতে পারে। কোথাও বন্ধুক্তের ক্ষেত্রে জন নেয় অন্যরকম এক দুর্বলতা। কিন্ত সব বিষয় কে এক ছকে ফেলে ছেলেবেলা থেকেই তাদের মধ্যে সন্দেহের বীজ ঢুকিয়ে দুটি সত্তাকে সারা জীবনের জন্য সরলতামুক্ত করে তোলার কোন অর্থ নেই।
আমি এই পোস্টে শুধু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করলাম। তবে এর পিছে ধর্মের অনেক গুরুত্বপুর্ন একটা ভুমিকা উল্লেখ করা হলোনা । উল্লেখ করা হলোনা বায়োলজিকাল এবং সাইকোলজেকাল পার্স্পেকটিভ। পরে অন্য কোন পোস্টে হয়তো অন্য কোন পয়েন্ট অফ ভিউ আসবে।
এগুলো সব ই আমার একান্ত অনুভূতি, দ্বিমত থাকতে পারে, তবে তাতে করে মূল ব্যাপারটা মনে হয় খুব একটা পরিবর্তন হবেনা।
original post
Wednesday, January 25, 2012
বিখ্যাত সাইট Dolancer নিয়ে আমার কিছু কথা.....
বেশ কিছুদিন ধরেই এই সাইটের নাম শুনছি.... এতদিন শুধু সবার সাথে এই সাইট নিয়ে মজা করছি... কিন্তু এখন দেখি সবাই যেভাবে এটার সদস্য হচ্ছে তাতে কিছু একটা বলা দরকার।
--> এই সাইট যদি এতই সুপ্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে কেন মাত্র ৩৪০ দিন বয়স নিয়ে সাইটে ১২ বছরের সাফল্যর ব্যানার ঝুলিয়ে রেখেছে...???
এই প্রশ্নটা করেছিলাম এই সাইটের একজন সদস্যকে সে বলল আসলে এটা আমেরিকায় ১২ বছর ধরে আছে বাংলাদেশে আসছে ১ বছরের মত। তাই..
শুনে আমি আমেরকিয় তাদের সাইটের ঠিকানা চাইলাম কিন্তু সে দিতে পারে নাই। আমার কথা হল এই মিথ্যাচার করে কি লাভ??
আর যারা সদস্য হচ্ছে তারা কোন কিছু ভালোভাবে না বুঝেই সদস্য হওয়ার জন্য লাফাচ্ছে.. আর এটা যদি এতই ভালো হয় তাহলে ফ্রীল্যান্সার / ওডেস্ক এগুলোর নাম যেমন সবার কাছে শোনা যায়.. এটার নাম ১ বছর আগে শুনি নাই কেন?????
আর একটা কথা সেটা হল আজ রূমে আসার সময় শুনছিলাম এই সাইটের একজন সদস্য মোবাইলে কাউকে এভাবে বোঝাচ্ছে... হ্যা খুবই লাভ প্রতিদিন ১ ডলার বা ৭০ টাকা মাত্র ১-২ ঘন্টা সময় দিতে হবে।
এখন আমার কথা হল যদি এমনি এমনি ২ ঘন্টা দিয়ে ৭০ টাকা পেতাম তাহলে বেশ ভালো হত.. কিন্তু যেখানে আমি ১০০ ডলার বা ৭০০০ হাজার টাকা দিয়ে সদস্য হয়ে প্রতিদিন মাত্র ১ ডলার পাচ্ছি.. সেখানে আমার বিনিয়োগ করা টাকা আমার কাছে আসতে সময় লাগবে ১০০ দিন বা ৩ মাস ১০ দিন... তাহলে এই ১০০ দিনে ২ ঘন্টা শ্রম দিয়ে ২০০ ঘন্টা নষ্ট করে ৩ মাসে প্রায় ১০০০ টাকার মত ইন্টারনেট বিল যে কোনদিক দিয়ে বের হয়ে গেল সেটা একবারও ভেবে দেখল না।
অথচ এই ২০০ ঘন্টা যদি ফ্রীল্যান্স এর পিছে ব্যায় করা হয় আমার বিশ্বাস এর থেকে অনেক ভালো আউটপুট আসবে।
আরো অনেক কিছুই বলার মত ছিল কিন্তু এত লিখতে ভালো লাগছে না,
সবার শেষে মুনির হাসান স্যারের সাথে গলা মিলিয়ে বলতে চাই,
টাকা কামানোর কোন সহজ বুদ্ধি নাই।
কষ্টা করে উপার্জন করুন টাকা হতে আসার পর দেখবেন কত সুখ লাগে মনের ভিতর..... ভাওতাবজি করবেন না আর ভাওতাবাজীতে সহযোগীতাও করবেন না দয়া করে। তাহলে বাংলাদেশে ফ্রীল্যান্স এর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্মাতে খুব বেশি সময় লাগবে না। ধন্যবাদ সবাই ভালো থাকবেন
original post
Tuesday, January 24, 2012
কবর পুজা, মাজার পুজা এবং আমাদের ইসলাম। সাহাবাদের কবর বনাম পীরদের কবর

সূফির মাজার

সূফির মাজার
বনাম

নবীর সাহাবাদের কবর
-----------------------------------------------------------------------

বোবা সরি বাবা ফকিরুদ্দিন এর মাজার
বনাম

নবীর সাহাবাদের কবর
=============================================
আল্লাহর রাসুল সা: আলী রা: কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, সকল উচু কবর ধ্বংস করার জন্য। আমাদেরও এখন একই কাজ সকল উচু কবর, মাজার নামের ব্যবসা ধ্বংস করে দেওয়া, মাটির সাথে সমান। আফসোসের বিষয় সেই আলী রা: এর কবরই এখন মাজারে পরিনত করছে।
মাজার শব্দের অর্থ হলো দর্শনীয় স্থান। যেটা দেখলে মন ভাল হয়। যেমন সমুদ্র সৈকত একটা মাজার বা দর্শনীয় স্থান।
সহীহ হাদিসগুলোতে আছে, কবর পাকা করা নিষেধ, কবরে বাতি দেওয়া নিষেধ, কবরের উপর ঘর নির্মাণ নিষেধ, কবরকে উৎসরেব স্থান বানানো নিষেধ, কবরে গিলাফ লাগানো নিষেধ। কিন্তু আমাদের মুসলমান নামধারীরা সবগুলো নিষেধ করা কাজই বেশী করে করে।
বলতে পারে সেগুলো পীরদের মাজার। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই পীরগুলার অস্তিত্ব কেন সাহাবাদের যুগে নাই, কেন তাবেয়ীদের যুগে নাই। কারণ এটা একটা ব্যবসা যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে।
আল্লাহ কোরআনে বলেছেন
সূরা ফাতির-২২> হে নবী, তুমি কবরে শায়িতদের কথা শুনাতে সক্ষম না।
আর আমাদের কবরগুলোতে এমনই আক্বিদাহ পোষন করে যে কবর বাসী শুনে।
আল্লাহ কোরআনে বলেছেন
সূরা আহকাফ-৯> হে নবী, বল, আমি জানি না আমার সাথে আল্লাহ কি ব্যবহার করবেন এবং আমি জানি না আল্লাহ তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করবেন।
বুঝার চেষ্টা করুন, নবী নিজেই যেখানে জানেন না তার সাথে কি ব্যবহার হবে, সেখানে আমাদের দেশের ৯০% মানুষ মনে করে আব্দুল কাদের জিলানী, শাহ জালাল, শাহ পরান (র রা জান্নাতি। তারা জান্নাতের সার্টিফিকেটই দিয়া দেয়।
অনেকে তাদের মুখে জান্নাতি না বললেও মনে মনে সেটা বিশ্বাস করে। আর ঈমান হলো সেটাই যা অন্তরে বিশ্বাস করা হয়, মুখে স্বীকার করা হয় এবং কার্য দ্বারা সম্পাদন করা হয়।
কবরপুজারী, মাজারপুজারীরা মুখে অস্বীকার করলেও তাদের অন্তর এই স্বাক্ষ্যই দেয় যে তারা জান্নাতি।
আল্লাহ আমাদের কবর পুজা, মাজার পুজা ইত্যাদি থেকে বাচার এবং কবর পুজা মাজার পুজা ধ্বংস করার তৌফিক দান করুন। আল্লাহ এই পীর পুজারী, কবর পুজারীদের হেদায়েত দান করুন। আমীন।
original post
ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তা ও পরিবর্তনের ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতা
বলা যায় স্বাধীনতার প্রায় দুই যুগ পরে এরশাদের পতনের পর থেকেই দেশে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা ও অপ্রয়োজনীয়তা বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এইসময়ে ছাত্রসংগঠনের নেতা কর্মীদের সামনে পূর্বের ন্যায় আন্দোলন সংগ্রামের স্বাভাবিক চরিত্র না থাকায় কিছু কিছু অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা, জিয়াউর রহমান অবৈধ পথে ক্ষমতায় এসেই জাতীয় রাজনীতি এবং ছাত্ররাজনীতি উভয় ক্ষেত্রেই অর্থ ও অস্ত্রের সহজলভ্যতা দিয়ে রাজনীতির চিরচেনা সেই ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল নীতির রাজা লালন করাই রাজনীতি এই অহংকারকে ভয়ংকর ও কুতসিত চরিত্রদান করেন। কাকতালীয়ভাবে ’৯১ এর নির্বাচনেও বিএনপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের চরিত্রে কালিমা লেপনের যে অপচেষ্টা জিয়াউর রহমান করেছিলেন, তারই হাতে গড়া দলের নেতা কর্মীরা মহাউদ্দ্যমে এবার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যেন জিয়াউর রহমানের সেই অসমাপ্ত কাজই করতে শুরু করেছিলেন। তখনও একবার আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ছাত্রদের হাতে বইখাতা তুলে দিয়ে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে ছাত্রলীগ তথা ছাত্ররাজনীতিকেই রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু যে বিষবাষ্প রাজনীতির মাঠে ছড়ানো হয়েছিল তা সংগঠনকে খুব সহজে স্পর্শ না করতে পারলেও ব্যক্তির পর্যায়ে খুব সহজেই পৌঁছে গিয়েছিল।
এমনই একপর্যায়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার কথা বললে তথাকথিত সুশীলের খুব প্রশংসাও কুড়ান। এইধরনের সুশীলেরা কখনই ছাত্ররাজনীতির অতীত ভুমিকা, থাকার প্রয়োজনীয়তা এবং কিভাবে থাকা উচিত সেগুলোর বিষয়ে কোন পরামর্শ দেন না। তাঁদের সোজা কথা ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই। খেয়াল করলে দেখা যাবে এই সুশীলদের একটি অংশ অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বা বেসামরিক আমলা, একটি অংশ ব্যবসায়ী, একটি অংশ ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতি করে হালে পানি না পেয়ে এখন এনজিও ব্যক্তিত্ব, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের শিক্ষক। তারা ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার জন্য দৃশ্যমান যেসব যুক্তিগুলো দেখান, সেগুলো ছাত্রসংগঠনগুলো একটু সুনজর ও সাংগঠনিক কার্যপরিধি বৃদ্ধি করলেই সমাধান সম্ভব। কিন্তু খেয়াল করবেন, এই সুশীল মশায়রা কখনই সমাধানের কথা বলবেন না। একেবারে বন্ধই করতে হবে। কেন? কারন, পাকিআমল থেকেই সামরিক শাসন আমাদের শোষণ করছে বারবার। স্বাধীনতা পেলেও পাকি আশীর্বাদপুষ্ট জলপাই রঙা বাহিনী বারবার আমাদের ভাগ্যের শিকে ছিড়েছে। রাজনৈতিক দলকে জনগণের সামনে বিবস্ত্ররুপে উপস্থাপন করে বারবার ধোঁকা দিচ্ছে। আর এই তথাকথিত সুশীল ভদ্রলোকেরা সবসময় হাঁটুতে বুদ্ধিওয়ালা জলপাই বাহিনীর মগজে গোবররুপে স্থিত হয়েছে। ফলাফল যা হবার তাই হয়েছে। শেষরক্ষা কারো হয়নি।
আর এই শেষরক্ষা না হওয়ার পিছনে কারন হল ছাত্রনেতা, ছাত্ররাজনীতি এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও ছাত্ররাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে যারা জাতীয় নেতা হয়েছেন তাঁরাই। এই সুশীলদের সামনে শত্রু তাই ছাত্ররাজনীতি। ছাত্ররাজনীতি থাকলে দেশে দেশপ্রেমিক জাতীয় নেতা তৈরী হবে, এটা তাঁরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনা।
বাস্তবতা হচ্ছে, কিছুকাল যাবত দেশে যেভাবে ছাত্ররাজনীতি চলছে এভাবে চলা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটা শুধু সুশীলদের কথা না, যারা একসময় ছাত্ররাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তাঁরা, এমনকি এদেশের আমজনতাও চায়, পরিবর্তন আসুক। সমস্যা তৈরি হয়েছে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে হবে। মাথায় ব্যথা তাই বলে মাথা ফেলে দিলে চলবে না, চিকিৎসা করে সুস্থ করতে হবে।
ব্রিটিশ ভারতবর্ষে যখন ছাত্ররাজনীতির গোড়াপত্তন হয় তখন যেভাবে সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মপরিচালনা করা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পরে আগের সংগঠন যেমন প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে আবার জন্ম নেয়া নতুন সংগঠনও ভিন্নরূপে আত্মপ্রকাশ ঘটায়। এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ মাইলফলক। রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতিগত শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাজপথেও এই সংগঠনটি জন্মলগ্ন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। জিন্নার নেতৃত্বাধীন যে মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পকিস্তান স্বাধীন হলো, সেই মুসলিম লীগের অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য বিরোধীদল হিসেবে শুধু পূর্ব পাকিস্তানে নয় সমগ্র পাকিস্তানেই ছাত্ররাই প্রথম একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে। তারপর ধীরে ধীরে অনেক সংগঠনের জন্ম হয়েছে এবং কালের আবর্তে অনেকে হারিয়েও গেছে। যেমন ছাত্ররাজনীতি অনেক নেতা তৈরী করলেও সময়ের সাথে অনেকেই পথ চলেন নি বা পারেন নি।
প্রায় এক যুগ ছাত্ররাজনীতির একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ছাত্ররাজনীতির কল্যানকর ও গৌরবের বিষয়গুলোর যেমন প্রয়োজনীয়তা বোধ করি তেমনি ছাত্ররাজনীতির বিপথগামিতায় অনিশ্চিত বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের হতাশায় নিমজ্জিত হই। আর খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে বলেই মনে করি, ছাত্ররাজনীতির নীতিগত ও কর্মগত পরিবর্তন সময়ের দাবী। ব্যক্তি যদি বিকৃত রুচির পরিচায়ক হন, তাহলে সংগঠনের খুব বেশী কিছু করার নেই। তারপরও কিছু নিয়মের বাঁধনে আবদ্ধ করে রাখলে অনেকাংশেই সুফল আসে। যখন এদেশে ছাত্ররাজনীতির গোড়াপত্তন হয়, তখন যেভাবে পরিচালিত হয়েছে এখনো সেভাবেই ঐতিহ্য ধরে রেখে পরিচালিত হতে হবে তার কোন যৌক্তিকতা নেই। বহমান হোক চেতনায় সমুজ্জল ঐতিহ্য, পরিচালনায় আসুক নতুনত্ব। তাই সময় এসেছে নতুন করে ভাববার। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহনযোগ্য হিসেবে ছাত্ররাজনীতিকে উপস্থাপন করার।
ইতিহাস বলে, ছাত্র সংগঠন শুরু থেকে অন্য কোন জাতীয় সংগঠনের অঙ্গসংগঠন ছিলনা। জিয়াউর রহমান সামরিক ফরমানবলে অঙ্গসংগঠন হতে বাধ্য করে। এর পরে বিগত ১/১১ এর পরবর্তী সরকার আবার জাতীয় সংগঠনকে নির্বাচন কমিশনের আইনের ছকে বেঁধে ছাত্রসংগঠনকে অঙ্গরূপে অস্বীকার করতে বাধ্য করে। যা এখনও বহাল আছে। এবং এই আইন বাতিলের প্রয়োজনীয়তা ছাত্রসংগঠনগুলো এখনো অনুভব করেনি। অথবা প্রয়োজন নেই।
‘৭১পূর্ববর্তী সময়ে পড়ালেখার চেয়ে জরুরী ছিল অস্ত্র চালনা শিক্ষা, দেশ গঠনের প্রয়োজনীয়তার চেয়ে জরুরী ছিল স্বাধীন দেশ অর্জন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জরুরী হয়েছে দেশ গঠন এবং সেজন্য উচ্চশিক্ষায় নিজেকে গড়া। আর এই নিজেকে গড়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ব্যবস্থা যদি কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে তার প্রতিবাদ এবং সফলতা অর্জনই এখন ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রধান কাজ হওয়া উচিত। কিন্তু যেহেতু আমাদের জাতীয় রাজনীতির চরিত্রে পরিবর্তন খুব ধীর গতির তাই ছাত্রসংগঠন এর ক্ষেত্রেও রাতারাতি পরিবর্তন অসম্ভব। তদুপরি নিজেদের স্বার্থ ও সুবিধার বিষয়টি ছাত্রসংগঠনের নিজেদেরকেই বুঝতে হবে ও সেইমতো কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।
১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে এই সংগঠনটিই সবচেয়ে প্রাচীন। তাই এর পর যত ছাত্রসংগঠনের জন্ম হয়েছে কেউ স্বীকার না করলেও সত্যি যে, সকল সংগঠনই কোন না কোনভাবেই ছাত্রলীগকে অনুসরন করেছে। তাই অদুর ভবিষ্যতেও যাতে অন্যান্য সংগঠন ছাত্রলীগকে অনুসরন করে নিজেদের পরিবর্তনের পথে নিয়ে যেতে পারে সেই ঐতিহাসিক ভুমিকায় ছাত্রলীগকেই অবতীর্ণ হতে হবে। নিকট অতীতে ছাত্রদের হাতে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে নেতা নির্বাচনের জন্য ২৯ বছর বয়স নির্ধারিত করা হয়েছে। যা সকলের কাছেই গ্রহযোগ্যতা পেয়েছে। ইতিহাসে সাক্ষ্য দেয়, এই সংগঠনটি একসময় প্রতিবছরই সম্মেলনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করত এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্মেলন করতে ব্যর্থ হলে আপনা আপনিই আগের কমিটি ভেঙ্গে যেত এবং যথাযথ গঠনতান্ত্রিক নিয়মে পূর্ব নির্ধারিত সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কাছে সম্মেলন আয়োজনের জন্য সর্বময় দ্বায়িত্ব ন্যস্ত হতো। এমন নিয়মের কড়াকড়ি ফিরিয়ে আনা উচিত। বামধারার চর্চারত অনেক সংগঠনই নিয়মিত সম্মেলন করে।
কিন্তু যেহেতু তাঁদের ভাত্রিপ্রতিম মুরুব্বী সংগঠনগুলো এদেশে এখনো জনগণের আস্থা অর্জন করে রাষ্ট্রীয় দ্বায়িত্ব পালনে যেতে পারেনি, সমালোচনার গন্ডীতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, তাই তাঁদের কর্মকাণ্ডকে জনগন এখনও আপনরুপে গ্রহন করেনি এবং দৃশ্যমানও নয়। দেশে আরও একটি বৃহৎ ছাত্রসংগঠন রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজো পর্যন্ত তাঁদের একটি গঠনতন্ত্র তৈরী করতে পারেনি। যদিও তাঁদের ভাত্রিপ্রতিম সংগঠন বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় একাধিকবার অধিষ্ঠিত হয়েছে। ’৯০ এর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগসহ প্রগতিশীল প্রায় সকল সংগঠনের ভিতরে গ্রুপিং-দ্বন্ধ দারুনভাবে প্রকাশিত থাকায় ছাত্রদল ডাকসুতে জয়লাভ করে এবং স্বাভাবিকভাবেই এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসমাজের সাথে মিলিত হয়ে আন্দোলনে অংশ নেয়। এছাড়া এই সংগঠনটি ছাত্ররাজনীতিকে কলংক ব্যতিরেকে অন্য কোন উপহার আদৌ দিতে পারেনি। তবে হ্যাঁ, কথা আসতে পারে যে, তাঁদের সংগঠনের নেতারাও এমপি, মন্ত্রী হচ্ছে, জনগন ভোট দেয়। কিন্তু এদেশের সচেতন মহল জানে, এমপি বা মন্ত্রী হলেই দেশপ্রেমিক গনমানুষের নেতা হওয়া যায় না। তাই পরিবর্তনের ধারায় ছাত্রলীগকেই অগ্রনী হিসেবে দেখতে এবং ভবিষ্যতের দেশ পরিচালনার ভার গ্রহন করার জন্য জাতীয় নেতা তৈরি করার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি করতে ছাত্রলীগের যেকোন ভুমিকা জনগন সাধুবাদ জানাবে বলেই বিশ্বাস করি।
একসময় যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল চিঠির মাধ্যমে রাস্তাঘাট ছিল দুর্গম এখন মুঠোফোন, ইন্টারনেট এবং রাস্তাঘাটও অনেক উন্নত। আগে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) ছিল অপ্রতুল এখন প্রতি থানা বা উপজেলায় একাধিকতো বটেই অনেক ইউনিয়নেও কলেজ স্থাপিত হয়েছে। ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এবং অনেক পরেও আওয়ামীলীগ বা অন্য কোন সংগঠনের থানা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম ছিলনা। সেসময়ে ৬দফা, ’৭০ এর নির্বাচন, ’৬৯ এর ছাত্রগন অভ্যুথান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহনের উদ্দেশে জনগনকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে গ্রামে গঞ্জে সংগঠনের পরিধি বৃদ্ধি করতে হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে অনেক প্রয়োজনই সফলতার মাধ্যমে তার বর্তমান চেহারা হারিয়ে নতুন প্রয়োজনরুপে দৃশ্যমান হয়। তেমনি সেসময় যেভাবে সংগঠনের কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর অনেকগুলোই সফলতার মাধ্যমে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে, কিন্তু বর্তমানে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে।
এখন প্রতিটি ওয়ার্ড/ ইউনিয়নে মুরুব্বী সংগঠনের পাশাপাশি যুবসংগঠন, স্বেচ্ছাসেবকসংগঠন, কৃষকসংগঠন এমনকি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও শ্রমিকসংগঠনও তাঁদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। আরও রয়েছে নানারকম পরিষদ/ফোরাম ও সাংস্কৃতিকসংগঠন। এহেন পরিস্থিতিতে ছাত্রসংগঠনগুলোকেও ভাবতে হবে ওয়ার্ড/ ইউনিয়ন/পৌরসভা/ থানা/ উপজেলা/ জেলা/ মহানগর প্রভৃতি শাখা থাকার প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা। মোদ্দাকথা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে ছাত্রসংগঠনের কোন শাখা থাকাটা বর্তমান সময়ে অযৌক্তিক। ছাত্ররাই যেহেতু ছাত্ররাজনীতি করবে ও নেতৃত্ব দিবে তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে কারা নেতৃত্ব দিবে? সকলেইতো কোন না কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র তাহলে যে যেখানে পড়ালেখা করে সেখানেই নেতৃত্ব দিবে।
বর্তমান বাস্তবতায় উপলব্ধিগত বিষয় হলো, এখন যেহেতু দেশ গঠনই আমাদের সকলের প্রধানতম দ্বায়িত্ব, তাই ন্যুনতম ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ছাত্রদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা করা উচিত। ক্লাস নাইন থেকে ‘রাজনীতি শিক্ষা’ নামক অবাধ্যতামুলক কোন শিক্ষাকার্যক্রম পাঠ্য করা যেতে পারে। তাতে করে আমাদের রাজনীতির মৌল বিষয়গুলো, ঘটনার অববাহিকায় ব্যক্তির ভুমিকা ও রাজনীতির আদর্শিক প্রয়োজনীয়তার মতো মৌলিক সত্যাসত্য উদ্ঘাটনে পাঠক ব্রতী হবে এবং নিজেই স্বিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
এতে করে ছাত্রসংসদ চালু করা সম্ভব হবে। নতুন ছাত্রবান্ধব ছাত্রনেতা তৈরী হবে। জাতীয় সংগঠনের নেতারা ছাত্রসংগঠনে পকেটের কর্মীকে নেতা বানানোর জন্য অর্থলগ্নি করবেনা, সাবেক নেতারাও আশীর্বাদপুষ্টকে মদদ দিয়ে অন্যায় কর্মে লিপ্ত করবে না। টেন্ডারবাজিতে ছাত্রনেতা/ কর্মীদের ব্যবহার কমবে। টাকার বিনিময়ে পদ বেচাকেনার পথ রুদ্ধ হবে। নির্মম বাস্তবতা হলো, ছাত্রসংগঠনগুলো তাঁদের বিভিন্ন শাখা কমিটিগুলোকে কখনোই গ্রুপিং এ উসকে দেয় না, এধরনের কুকর্মে সেখানকার স্থানীয় মুরুব্বী সংগঠনের নেতারা ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করে থাকেন। সোজা কথায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে কোন ছাত্র সংগঠন না থাকাই বাঞ্ছনীয়। এমনকি গঠনতন্ত্রের সংশোধনী এনে ছাত্র সংগঠনের কোন নেতা বা কর্মীর জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন প্রার্থীকে সমর্থন করে প্রচার প্রচারনায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা উচিত। যারা যে জাতীয় রাজনৈতিক সংগঠনের ভাত্রিপ্রতিম তাঁরা মনোনয়ন নির্ধারিত হলেই কেবল নির্বাচনী কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করার সাংগঠনিক বিধান থাকা বাঞ্ছনীয়।
এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রেরও দ্বায়িত্ব রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়মে ছাত্রসংগঠন যেহেতু কোন মুরুব্বী সংগঠনের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন নয়। তাই যেকোন জাতীয় সংগঠন আদর্শিকভাবে তাঁদের অনুসারী ছাত্রসংগঠনের আইনগতভাবে অভিবাবক নয়। তাহলে ছাত্রসংগঠনের কি সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে না? অবশ্যই থাকা উচিত। স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তো কর্তৃপক্ষই দ্বায়ীত্বশীল অবিভাবক। কিন্তু সংগঠনের চরিত্র যখন জাতীয় রুপ ধারণ করবে তখন অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রনালয় অথবা ইউজিসি কেই দ্বায়িত্ব নিতে হবে। কারন ছাত্রসংগঠনগুলো নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরেও তাঁদের সরকারের সাথে বিভিন্ন দাবীদাওয়া বা প্রয়োজন নিয়ে কথা বলবে।
তাছাড়াও সরকারে উচিত ছাত্ররাজনীতির কথা বলার সীমানা নির্ধারণ। এক্ষেত্রে হয়ত কণ্ঠ রোধের কথা উত্থাপিত হবে। তাহলে কী সবসময় দেশের বা বাইরের যেকোন বিষয়ে যখন তখন সভা-সমাবেশ করে নিজেদের ব্যস্ত রাখবে? মোটকথা এক্ষেত্রেও একটা যুতসই নির্দেশনা ছাত্রসংগঠনগুলোর নিজেদের যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য থাকা প্রয়োজন।
এদেশের রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ও সচেতন মহল জানে, কারা কি উদ্দেশ্যে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ বা কলুষিত করার পাঁয়তারা করছে। পূর্ব পাকিস্তান থাকাকালীন সময়ের আইয়ুবের মার্শাল ‘ল থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে কিছুকাল আগের তত্বাবধায়কের আড়ালে বাস করা ভয়ংকর ক্ষমতাধরদের বিরুদ্ধে ছাত্রসংগঠন ও ছাত্ররাই সর্ব প্রথম আন্দোলন ও প্রতিবাদ গড়ে তোলে। সেজন্য সুশীলের আড়ালে বাস করা একধরনের কুশীল ও মিডিয়ার অবাধ তথ্যপ্রবাহের সুযোগে একশ্রেনীর মিডিয়াও চায়না এদেশে ছাত্ররাজনীতির অমসৃণ পিচঢালা পথ বেয়ে দেশপ্রেমিক জননেতা তৈরী হোক। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বেসামরিক আমলা মহাশয়রাও তাঁদের ভবিষ্যতে এমপি, মন্ত্রী ও উপদেষ্টা হওয়ার সুপ্ত বাসনার তাড়নায় তাঁরাও চায়না গনমানুষের ভাগ্য গড়ার যোগ্য কারিগর গড়ে উঠুক।
দুঃখজনক হলেও সত্যি, ’৯০ এর আগে প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংসদ নির্বাচন হতো। কিন্তু জনতার ভোট প্রদানের মাধ্যমে ফিরে আসা গণতন্ত্রের শুরু থেকেই সেটা অন্ধকার গুহায় স্থায়ীত্ব লাভ করেছে এক অদৃশ্য কারনে। যে দলটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিল তাঁরা সেসময় ক্ষমতায়ন না হলে দল হিসেবে তাঁদের অস্তিত্ব এবং বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা আজ ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্ন উচ্চতায় দেখা যেত। সেই ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলটির অরাজনৈতিক আচরনের কারনে রাজনৈতিক সংস্কৃতি এদেশে বেড়ে উঠতে পারেনি। অপরদিকে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক, কৃষিবিদ ও ব্যবসায়ী প্রভৃতি পেশাজীবী এবং তাঁদের বিভিন্ন সংগঠন সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করেছে।
আরো একটি সংস্থা যারা পাকিস্তান ঘরানায় এখনো এদেশের সকল কিছুতে বামহাত দিয়ে থাকে তাঁদেরও সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকে ছাত্ররাজনীতিকে ধ্বংস ও বিতর্কিত করার লক্ষ্যে। উপরোক্ত সকল অশুভ শক্তির এক অদৃশ্য বন্ধনে অভিনব কায়দায় চলছে ছাত্ররাজনীতিকে ধবংসের নীলনকশা। এবং তারই ধারাবাহিকতায় জনগণের ভাগ্য গড়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত মূলধারার জাতীয় রাজনৈতিক দলেও সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রভাব ক্রমশ অস্তমিত। এই দুরভিসন্ধির ফাঁদ থেকে দেশকে রক্ষা করার সময়োপযোগী স্বিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে ছাত্রসংগঠনগুলোকেই নিতে হবে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় আমাদের জাতীয় জীবনে ’৪৭ এর পর থেকে ছাত্রসংগঠনগুলোই কখনো অহিংস পদ্ধতিগত আন্দোলন-প্রতিবাদ আবার কখনো সশস্ত্র বিপ্লবী ভুমিকায় আবির্ভূত হয়ে জাতীয় রাজনীতিকে কখনো মত ও পথ দেখিয়েছে আবার কখনো নিজেরাই নেতৃত্ব দিয়ে নায়কোচিত বীরের সম্মানে অধিষ্ঠিত হয়েছে। ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন যা মূলত ’৪৮ থেকেই শুরু হয়েছিল এটার নেতৃত্বের পুরোভাগে ছাত্ররাই ছিল। ’৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতি যখন দ্বিধান্বিত ও অনৈক্যে স্থিত তখন ছাত্রসংগঠনগুলোই নিজেদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন করে জাতীয় রাজনীতিকে পথ দেখিয়েছে।
’৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ‘ল জারী করার পরেও ছাত্রসংগঠনগুলোই প্রথম প্রতিবাদ করেছিল। ’৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন নিজেদের জাতীয় প্রয়োজনে ছাত্রসংগঠনগুলোই নেতৃত্ব দিয়েছে। ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনে আওয়ামীলীগের মুসলিম লীগ পন্থীরা যখন ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে পাশ মার্ক দেয়নি বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগ নেতাদের উপর আস্থা হারিয়ে ছাত্রসংগঠন তথা ছাত্রলীগকেই দেশব্যপী জনমত গড়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং অত্যন্ত সফলতার সহিত ছাত্রলীগ জনগণের আস্থা অর্জন করেছিল, যদিও বাম ছাত্রসংগঠনগুলো ৬ দফাকে সিআইএ/’র এর ষড়যন্ত্র বলে কুতসা রটালেও পরবর্তীতে ছাত্রসংগঠনগুলো ৬ দফার সমন্বয়ে তাঁদের ১১ দফা নিয়ে মাঠে নামে এবং যার ধারাবাহিকতায় ’৬৯ এর গনঅভ্যুথান ঘটে। যার পুরো নেতৃত্ব ছাত্রসংগঠনগুলোই দেয়। ’
এর নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতি যখন নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়া নিয়ে দ্বিধান্বিত তখনো ছাত্রসংগঠনগুলোই নির্বাচনে অংশগ্রহনের জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং সারাদেশব্যপী ছাত্রসংগঠনগুলো প্রচার প্রচারনায় অংশ নিয়ে জয়লাভ নিশ্চিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বপ্রস্তুতি সর্বপ্রথম ছাত্রসংগঠনগুলোই গ্রহন করেছিল। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশেও ’৭৫ পরবর্তী সময়ে পাকি সামরিক কায়দায় রাজনীতিকে কলুষিত করার পাঁয়তারার বিরুদ্ধেও ছাত্রসংগঠনগুলোই প্রথম প্রতিবাদ করে।
এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে জাতীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যখন মত ও পথের ভিন্নতায় বিভক্ত তখনো ছাত্রসংগঠনগুলোই একতাবদ্ধ হয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথকে ত্বরান্বিত করেছে। ছোট বড় অনেক সফলতা ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিকট অতীতে ২০০৮ এর আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা তীব্র প্রতিবাদেও যখন এদেশের তথাকথিত সুশীল সমাজ, মিডিয়া এমনকি অনেক রাজনৈতিক দলও উচ্চ কণ্ঠে কথা বলতে পারেন নি, তখন ছাত্রসংগঠনগুলোই সাধারন ছাত্রদের সাথে নিয়ে তথাকথিত সেনাসমর্থিত সরকারে ভিত কাঁপিয়ে দেয় যার ধারাবাহিকতায় আজ আবার গণতন্ত্র পুনর্বহাল হয়েছে।
যে ছাত্ররাজনীতির শত লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রক্তের আলপনায় এত উচ্চ সফলতার অতীত নির্মিত হয়েছে, সেই ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হওয়া অথবা কলুষিত হওয়া জাতির জীবনে অভিশাপ স্বরুপ। আর সেজন্যই ছাত্র রাজনীতির সকল সফল আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এবং অনেক আদিপাঠ নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তাই ছাত্রলীগেরই দ্বায়িত্ব সময়ের সাথে নিজেদের যোগ্যতার পরিশীলিত প্রকাশে সুন্দর আগামী নির্মাণে এবং দেশের নেতৃত্বভার গ্রহনের উপযোগী নেতা তৈরি ও জাতিকে সকল ক্রান্তিকালে পথ দেখানোর ভুমিকায় অবতীর্ণ হওয়া।
বর্তমানে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহন করে ছাত্রসংগঠনগুলোর জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান অথবা ছাত্রসংগঠনগুলো নিজেরাই সময়পোযোগী স্বিদ্ধান্ত গ্রহন করে দুষ্কৃতিকারী দের দুরভিসন্ধিমূলক দেশকে বিরাজনীতিকরনের অপচেষ্টাকে প্রতিহত করতে পারাই হবে সময়ের সাহসী প্রতিবাদ।
original post
Sunday, January 22, 2012
বাহির বলে দূরে থাকুক
থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার সিনেমাতে আমরা দেখি তিশা একই সাথে তপু ও মোশাররফ করিমের সাথে সম্পর্ক রাখছে। একই সাথে দুজনের সাথে সম্পর্ক রাখা (বাস্তবে এটা সাধারণত গোপনেই করা হয়) আমাদের দৃষ্টিতে অনৈতিক ও প্রতারণা। এধরনের বহুগামী আচরণের পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করতে পারে। চলুন দেখা যাক কারণগুলো কী কীঃ
ব্যক্তি জন্মগতভাবেই বহুগামী চরিত্রের অধিকারী।
একজনের সাথে দীর্ঘদিন সম্পর্ক রাখার পরে একঘেঁয়েমিতে ভুগলে।
নতুন কারো সাথে সম্পর্ক করার মাধ্যমে নিজেকে স্বাধীন ভাবতে চাইলে।
সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধান্বিত হলে। যেমনটা আমরা থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার মুভিতে দেখেছি। মুভিতে তিশার ভেতরটা কখনো বলছে মোশাররফ করিম দূরে থাকুক, কিন্ত বাইরে বলছে কাছে থাকুক। আবার বাহির বলছে তপু দূরে থাকুক, কিন্তু ভেতরটা চাইছে কাছে থাকতে।
অন্য কারো সাথে সম্পর্ক রাখছে জেনেও যদি এক পক্ষ তা মেনে নিয়ে ক্ষমা করে দেয়।
প্রতিশোধপরায়নতা থেকে।
ব্যক্তি আসলেই অন্যের কাছে আকর্ষণীয় কিনা তা যাচাই করার জন্যও ভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে।
লুকিয়ে অন্য একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াটা কারো কাছে থ্রিল বা মজার ব্যাপার বলেও মনে হয়।
অনেকে একই সাথে একাধিক সম্পর্ক রাখাটাকে প্রতারণা বা অনৈতিক বলে মনে করে না।
প্রেমিক/প্রেমিকাটি অন্য আরেকটি সম্পর্ক একই সাথে রাখছে, একথা জানার পরে ব্যক্তি বেশ বড় আঘাত পায়। সারাক্ষণই একটা অবিশ্বাস তার মধ্যে কাজ করে। জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়টার মোকাবেলা করতে হয় তাকে। এক্ষেত্রে বেশির ভাগ ব্যক্তিই সংগীর সাথে বোঝাপড়া করতে গিয়ে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হন না। সংগীর সাথে খোলামেলা আলোচনা করতে গিয়ে তার দৃষ্টিভংগীটি যদি জানতে পারেন, তবে মনের কষ্ট একটু হলেও কমতে পারে। আবার প্রকৃত সত্য সংগীর মুখ থেকে শোনার পরে আরো বেশি কষ্টও হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাকেই ভেবে দেখতে হবে এমন ঘটনার পরেও আপনি এই প্রতারক ব্যক্তির সাথেই সম্পর্ক চালিয়ে যাবেন কি যাবেন না। মন থেকে সত্যিই কি পারবেন ঐ প্রেমিক বা প্রেমিকাকে ক্ষমা করে দিতে? পারবেন কি আগের মতই তার প্রতি বিশ্বাস রাখতে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি আপনি পেয়ে যান, তবে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করবেন না। আরেকটি কথা, মানুষ কখনোই কোন ভুল সিদ্ধান্ত নেয় না। কেননা, আপনার সামনে এই মুহূর্তে যে অপশনগুলো আছে তার মধ্যে থেকে যেটা সবচেয়ে ভাল হবে সেটাই তো আপনি বেছে নিচ্ছেন।
original post

EARN INCOME FROM YOUR WEBSITE
Turn your valuable web site traffic into income. Work online and join our free money making affiliate program. We offer the most pay-per-click rate to help maximize your cash stream.
Join our income making program absolutely free and 100% risk free.
A steady income generator
Imagine running of a something that never failed to provide you with cash-flow. A earning money program so amazingly profitable that you never had to look for job ever again!
CASH WHILE YOU SLEEP
Earn $1,000... $2,000... $5,000...
Turn your website visitors into cash!You get money for every visitor that clicks on our advertizing. Our goal is to enable you to make as much as possible from your site. We pay monthly, either by check, or through PayPal.
Begin collecting steady partner commissions
Our money making program really can make you income on the same day. Start receiving steady partner revenue with almost no effort at all. This is a serious revenue opportunity, the chance for you to build a steady, reliable, long-time profitable business.Savings Highway Dream Team Member Site Savings Highway Dream Team Member Site








