Showing posts with label জানা আজানা তথ্য. Show all posts
Showing posts with label জানা আজানা তথ্য. Show all posts

Tuesday, April 10, 2012

ক্যানিবালিজম বা নরমাংস ভক্ষণ

by আমার মন

ক্যানিবালিজম বা নরমাংস ভক্ষণ মানে হচ্ছে মানুষের আচরণ যেখানে একজন মানুষ আরেকজনের মাংস ভক্ষণ করে। নিজের স্বজাতিকে চিবিয়ে খাওয়া। অন্য প্রাণীর মাংসের মত। মানুষের মাংস ভক্ষণ।
তবে এর অর্থ বিবর্ধিত করে প্রাণীতত্ত্বে বলা হয়েছে কোন প্রাণীর আচরণ যেখানে সে তার নিজের প্রজাতির মাংস আহার করে এবং এটা তার সহযোগীও হতে পারে। ক্যানিব্যালাইজ শব্দটি যা ক্যানিবালিজম থেকে এসেছে এর মানে হলো সামরিক অংশের পুনোৎপাদন। ক্যানিবালিজিমের চর্চা হয়েছে লিবিয়া ও কঙ্গোতে বেশ কিছু যুদ্ধে। করোওয়াই হলো এমন একটি উপজাতি যারা এখনো বিশ্বাস করে যে নরমাংস ভক্ষণ সংস্কৃতিরই একটি অংশ। কিছু মিলেনেশিয়ান উপজাতিরা এখনো তাদের ধর্মচর্চায় ও যুদ্ধে এই চর্চা করে। ক্যানিবালিজিম বিদেশী প্রভুদের যুক্তিকে শক্ত করে দাসত্বের পক্ষে। আর নিরব নরমদের উপর অন্যরকম,অভিনব ভাবে ধ্বংস করার পদ্ধতি।

ইতিহাস
৭ম শতকে মুসলিম-কোরাইশদের যুদ্ধের সময় ক্যানিবালিজমের ঘটনা ঘটে। ৬২৫ সালে উহুদের যুদ্ধের সময় হামযা ইবনে আবদু মুত্তালিব নিহত হলে তার কলিজা ভক্ষণ করেন কোরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান ইবনে হার্বের স্ত্রী হাইন্ড বিনতে উটবাহ।পরে তিনি মুসলমান হয়ে যান ও মুয়াইয়াহ মা হন যিনি ইসলামিক উম্মাইয়াদ খেলাফতের প্রতিষ্ঠা করেন। পরে মুয়াইয়াহ একজন অগ্রহণযোগ্য নেতাতে পরিণত হন ও একজন নরমাংসভোজীর জন্ম দেন। জেরুজালেমেও কিছু ঘটনা ঘটে।হাঙ্গেরীর মানুষরা মানুষের মাংস খায় যারা ১০ম শতাব্দীতে মাত্র মূর্তিপূজক থেকে খ্রিস্টানে পরিণত হয়। সেখান দিয়ে ক্রুসেডাররা তাদের পবিতে ভূমি জেরুজালেমের দিকে এগিয়ে যেত।আসলে ইংরেজি শব্দ ওগি যার মানে রাক্ষস তার উৎস কিন্তু এই হাঙ্গেরীর ফরাসী শব্দ হনগি।
বিভিন্ন জংগলে জংলীরা ভ্রমণকারীদের ধরে এনে খেতো,বা মমি করে রাখতো যা তাদের কাছে মহামূল্যবান ওষধ হিসাবে গণ্য হত।

নরমাংস ভক্ষণের কারণ
নরমাংস ভক্ষণের কারণগুলোর মাঝে রয়েছে:-<br /> সাংস্কৃতিক রীতি হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা
চরম পরিস্থিতিতে গ্রহণ করা হয় যেমন দুর্ভিক্ষের সময়
মানসিক সমস্যার কারণে বা সামাজিক আচরণের বিচ্যুতির কারণে ।

প্রাথমিকভাবে নরমাংস ভোজের সামাজিক আচরণ ২ প্রকার: প্রথমত, একই সম্প্রদায়ের মানুষের মাংস খাওয়া, অন্যটি হচ্ছে সম্প্রদায়ের মানুষের মাংস খাওয়া। এই অভ্যাসে ২ ধরণের নৈতিক পার্থক্য আছে। একটা হচ্ছে একজনকে হত্যা করা তার মাংস খাওয়ার জন্য ও আরেকটি হচ্ছে স্বাভাবিকভাবে মৃত মানুষের মাংস খাওয়া।
আর জরুরী অবস্থা বা দূর্ভিক্ষ,মহামারি,অকাল মৃত্যুতে মানুষ অন্য মানুষের মাংস খেতে বাধ্য হয়।

উদাহরণ-
১৯৪৩ সালে ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানীর প্রায় ১০০০০০ যুদ্ধবন্ধী সেনাকে রাশিয়ার সাইবেরিয়াতে পাঠানোর সময় তারা ক্যানিবালিজমের আশ্রয় নেয়। কারণ তাদের ক্রমাগত কম পরিমাণের খাবার সরবরাহ ও অসুখে আক্রান্ত হওয়া। মাত্র ৫০০০ জন বন্ধী স্ট্যালিনগ্রাডে পৌছতে সক্ষম হয়।ল্যান্স নায়েক হাতাম আলী নামে একজন ভারতীয় যুদ্ধবন্ধী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিউ গিনিতে জাপানী সেনাদের মাংস খাওয়ার কথা বলেন। তারা জীবন্ত মানুষের শরীর থেকে মাংস কেটে নিত ও ঐ ব্যাক্তিকে তারা নালায় ফেলে মারত। ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাপানী সেনা চিচিজিমাতে পাঁচজন আমেরিকান বিমান সেনাকে হত্যা করে খেয়ে ফেলে।

ড্রেঞ্জেল ভারগাস নামের ভেনেজুয়েলার একজন ব্যাক্তি ২ বছরে কমপক্ষে ১০ জন ব্যাক্তিকে খুন করে খেয়ে ফেলেন যাকে ১৯৯৯ সালে আটক করা হয়। জেফরি ডাহমার নামের আমেরিকান একজন ব্যাক্তির বাসায় মানুষের হাড় ও মাংস পাওয়া যায়। তাকে গ্রেফতার করা হয় ১৯৯১ সালে।
২০০১ সালের মার্চে জার্মানিতে আরমিন মাইভাস ইন্টারনেটে একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৮ থেকে ৩০ বছরের সুঠামদেহী জবাইযোগ্য ও আহার হতে চাওয়া মানুষের সন্ধান চাইছিলেন। বার্ন্ড জুর্গেন ব্রান্ডিস নামের একজন এতে সাড়া দেন ও খুন হয়ে যান। পরে আরমিন মাইভাসকে আটক করা হয়। রামেস্টেইন ব্যান্ডের মেইন টেইল ও ব্ল্যাড বাথ ব্যান্ডের ইটেন গান এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে রচিত। পিটার ব্রায়ান নামের একজন ব্রিটিশকে ইস্ট লন্ডনে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেফতার করা হয় যিনি তার বন্ধুকে খুন করেন ও খেয়ে ফেলেন।
মুসলিম ভ্রমণ কারি ইবনে বতুতা মানুষ খেকো জংলিদের হাতে পরে ছিলেন কিন্তু ভাগ্য গুনে বেঁচে আসেন।

বিপদে পরলে মানুষের দ্বারা সব কিছুই সম্ভব হয়। নিজের শরীরের মাংস খাওয়ার কথাও শুনা যায় বিভিন্ন সময়।
১৮০৯ সালে নিউজিল্যান্ডের মাওরি উপজাতিরা নর্থল্যান্ডে দ্যা বয়েড নামের একটি জাহাজের প্রায় ৬৬ জন যাত্রী ও ক্রুকে খুন করে ও তাদের মাংস খায়।

ভেবে দেখুন আপনি আর আপনার কয়েকজন বন্ধু হারিয়ে গিয়েছেন দুর সাগরে,যেখানে খাবার নেই,নেই কোন প্রাণ আপনারা ছাড়া। একদিন,দুইদিন করে আপনাদের ক্ষুদার জ্বালা বেড়ে তা এখন প্রকট! আপনার সামনেই আপনার প্রিয় বন্ধুটির লাশ পরে আছে যার দেহের মাংস দেখে আপনার মাঝে এক অস্বাভাবিক ইচ্ছা জেগে উঠলো-ক্যানিবালিজম!!!!
original post
read more

মানুষ কাঁদে কেন?

চোখের জলে আবেগের প্রকাশ কে কান্না বলে। প্রতিশব্দ:ক্রন্দন ( উইকিপিডিয়া)

আমরা কেন কাঁদি? কেন চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরে আর তখনি মনে হয় কি যেন নেই বা বুকের ভিতরটা কেমন যেন হালকা হয়ে যায়( আসলে মস্তিস্কে)

তবে কান্নার প্রধান কারণটা মানসিক।

মানুষের কান্নার বা চোখের পানি তিন ধরনের-

১.ব্যাসাল টিয়ার্স ( চোখকে ধুলাবালি থেকে রক্ষা করে এই কান্না)

২.রিফ্রেক্স টির্য়াস ( চোখের রিফ্রেসের জন্য এমন কান্না)

৩.ইমোশনাল টির্য়াস ( দু:খ কষ্ট অনুভব করার কান্না)

এখন কথা হলো, আমরা কেন কাঁদি? বিজ্ঞানীদের মতে ইমোশনাল টির্য়াসে খুব বেশি থাকে ম্যাঙ্গানিজ নামের এক ধরনের লবণ আর প্রোল্যাক্টিন নামের এক ধরনের প্রোটিন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই দু’টো পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে গেলে মানুষ অনেকটা আরাম বোধ করে। তাই আমাদের খুব মন খারাপ থাকলে, ফলে কাঁদলে, আর তার সঙ্গে এগুলো বের হয়ে আমাদের অনেক হালকা করে দিলো। মন খারাপও কিছুটা কমে যাবে।

তাই বলা হয় কাঁদিলে দু:খ মুন্দিভূত হয়- কাঁদলে মন হালকা হয়? এটাই তার কারণ।

চোখের জলের স্বাদ নোনতা। তাই হয়তো অনেকেয় সমুদ্রের পানির সাথে তুলনা করে থাকেন। কিন্তু কারণ হল এই সব রাসায়নিক একসাথে করলে নোনতা ছাড়া অন্য কোন স্বাদ পাওয়া যাবে না।

যখন আমরা কাঁদি, তখন আমাদের তোমার আশেপাশে যারা থাকবে, সবাই-ই বুঝবে কোনো কারণে আমাদের মন ভালো নেই। হয় মন খারাপ, অথবা ভীষণ হতাশ, কিংবা চরম পরিমাণে দ্বিধান্বিত। আর যদি পাশের মানুষটিকে মনের কষ্টা বা অনুভুতিটি শেয়ার করা যায়, এটাও মনকে অনেকখানি হালকা করে দিবে। খেয়াল করে দেখুন তো-আপনার মন খুব খারাপ হলো আর কোনো প্রিয় মানুষের কাছে কাঁদলেন আপনি। কেমন মনটা হালকা হয়ে যায়?

আর একটি বিষয় হল,শারীরিক ব্যাথা- যার কারণে আমরা কাঁদি। এটাও সেই মানসিক বা ইমোশন থেকেয় তৈরি হয়। তবে মানুষের জন্য সুখবর যে, লজ্জা পেলে বা অনেক অবেগ বা মন খারাপ থাকলে প্রাণী জগতের একমাত্র তারাই কাদঁতে পারে!

ইমোশনাল কান্না শারীরিক ব্যখার বাইরেও কিছু বলার থাকে। বেশির বাগ সময় আমরা আবেগিয় কান্না কাঁদি- অন্যের সাথে সখ্যতা বাড়ানোর জন্য বা যোগাযোগ রাখার জন্য। যেমন-প্রিয় মানুষটি যখন কাদেঁ তখন আমাদের চোখেও পানি চলে আসে কারণ তার সাথে যোগাযোগ ভাল আমাদের।

বাচ্চারা কাঁদে,কারণ কথা শিখার আগে এটাই ভাব প্রকাশের মাধ্যম তাদের কাছে। মানুষের হতাশা,ভালবাসা,ভাললাগা,দু:খ,ভয় আর প্রয়োজনের তাগিদে কান্না চলে আসে।

যারা ভালবাসার মায়ায় জড়িয়ে আছেন প্রিয় জনের সাথে-তাদের কান্নাটা হয়ে যায় বন্ধন শক্ত রাখা আর নিজেদের দু:খটাকে প্রকাশের সহজ মাধ্যমের জন্য। আর সাথীর কাছ থেকে সাপোর্ট পাবার জন্য। ভাব প্রকাশের জন্য অনেক ভাষা আছে কিন্তু কান্না সার্বজনীন ভাষা। সবাই এটা বুঝে।

সামাজিক ভাব যেমন,বিয়েতে প্রিয় মানুষগুলোকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য চোখে পানি আসে। নাটক-সিনেমাতে অনেক দু:খ্যের কিছু মনে করে শিল্পীরা চোখে পানি আনতে পারেন। যদি সত্যিকারের অভিনয় জানেন।


কারো কাছে কান্না নিয়ে আরো কিছু জানা থাকলে শেয়ার করুন।

-বিভিন্ন ওয়েভ সাই
original post
read more

বিশ্বে জাতীয় সঙ্গীতের ইতিহাস + বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।

প্রতিটি রাষ্ট্রের জাতীয় ভাবে নিধার্রিত গান বা সুর সে দেশের জাতীয় সঙ্গীত। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় উপলক্ষে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই গান গাওয়া হয় অথবা এর সঙ্গীত বাজানো হয়।
জাতীয় সঙ্গীতে একটি জাতির আশা আকাঙ্খা ও গৌরবের প্রতিফলন ঘটে। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার একটি নির্দিষ্ট রীতি থাকে যা সব সময় একি থাকে এবং যেটির অপমান করা দন্ডনীয় অপারাধ।

ইতিহাস-

১৫৫৮ সাল থেকে ১৫৭২ সালের মধ্যে রচিত ডাচ জাতীয় সঙ্গীত 'ভিলহেলমাসকে' সবচেয়ে পুরাতন জাতীয় সঙ্গীত ধরা হয়ে থাকে।
যদিও ১৯৩২ সালে সরকারী ভাবে স্বীকৃতি পায় এই জাতীয় সঙ্গীত।

জাপানের জাতীয় সঙ্গীত 'কিমি গা ইয়ো' রচিত হয়েছিল ৭৯৪ সাল থেকে ১১৮৫ সালের মধ্যে। কবিতা ভিত্তিক এই রচনা ১৮৮০ সালের পরে জাপানের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা পায়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাতীয় সঙ্গীত রচনার ক্ষেত্রে দুর্লভ সম্মানের অধিকারী। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা।

সার্ক ভুক্ত দেশ সমূহের জাতীয় সঙ্গীত, লেখক ও সুরকার-

১. বাংলাদেশ- আমার সোনার বাংলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২. ভুটান- বাজ ড্রাগন রাজ্য- দাশু ইয়াদুন থিনলী- আকু তংমি।
৩. আফগানীস্থান- মিললী সুরোদ- আব্দুল বারী জাহানী- বাবরাক ওয়াছছা
৪. ভারত- "জানাগানামান-অধিনায়ক জয় হে"- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৫. মালদ্বীপ- গাউমি সালাম-মুহাম্মাদ জামেল দিদি- পন্ডিত ওনাকুওত্তায়াদুগ।
৬. নেপাল- "সায়াউন থুঙ্গা ফোওল কা"- বাইকুল মাইয়া- আম্বর গুরুং।
৭. পাকিস্থান- কোয়ামী তাইরানা- হাফিজ জুলান্দিরি- আহমেদ গুলামআলি চাগলা।
৮. শ্রীলঙ্কা- শ্রীলঙ্কা মাতা-আনান্দ সামারাকুন- আনান্দ সামারাকুন।

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত-

আমার সোনার বাংলা গানটি রচিত হয়েছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে। যার ২৫ টি লাইন রয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহ ও শাহজাদপুরে জমীদার থাকার সময় (১৮৮৯-১৯০১) এই কবিতাটি লেখেন। এবং ১৯০৫ সালে বঙ্গর্দমন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ পায়।

কুষ্টিয়ার বাউল শিল্পি গগণ হরকরার একটি গানের সুরের অনুকরনে রবীন্দ্রনাথ নিজে এটির সুরারুপ করেন।
১৯০৭ সালে সর্বপ্রথম এটি গাওয়া হয় বঙ্গভঙ্গ বিরোদ্ধী মিছিলে।
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১ মার্চ গঠিত হয় স্বাধীন বাংলার কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদ। পরে ৩ মার্চ তারিখে পল্টন ময়দানে ঘোষিত ইশতেহারে এই গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল ১৭ এপ্রিল মুজিব নগরে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এই গানটি গাওয়া হয়।

১৯৭০ সালে চলচিত্রকার জহীর রায়হান'জীবন থেকে নেয়া' চলচিত্রে এটি ব্যভজার করেন।
১৯৭২ সালে এর প্রথম ১০ লাইন জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাওয়ার জন্য নির্ধারন করা হয়। এবং প্রথম ৪ লাইন যন্ত্র সঙ্গীতে ব্যবহার করা হয়।

অর্জন-
২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকের ২০৫ টি দেশের তুলনামূলক বিচারে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ২য় স্থান অর্জন করে।
original post
read more

এত ছোট একটা জিনিস অথচ কি ক্ষমতা! মস্তিস্কের ক্ষমতা কত জানেন?

by আমার মন

ছেলের মাথায় ঘিলু আছে, বলে অনেক সময় লোকে। আসলে ঘিলুটা কি? মাথার ভিতর জিনিস আছে ! জিনিসটা কি?

সেটা হল মস্তিস্ক। যার অন্দরে সব স্মৃতি জমা থাকে। মাত্র তিন পাউন্ড ওজনের একটি জিনিস যার ক্ষমতা শুনলে মানুষ বিশ্বাস করতে চাইবে না।

মস্তিস্ক হল সকল প্রানীর কেন্দ্রিয় স্নায়ু বিভাগ। যা থেকে, প্রানীদেহের সব কাজ,চিন্তা-ভাবনা,নড়া-চড়া সব নিয়ন্ত্রন করে । একজন মানুষের মস্তিস্ক,অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রানীর চেয়ে প্রায় ৩ গুন বড় হয়।

এর সবচেয়ে বড় গুণ হল, আমাদের গবেষণা বা কোন ঘটনার গভীরে গিয়ে তার বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি কাল্পনিক চিত্র তৈরি করা,যা নিকট ভবিষ্যতে ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডক্টর ওয়াল্টারের মতে যদি মানুষের মস্তিষ্কের সমমানের একটি বৈদ্যুতিক মস্তিস্ক তৈরী করা যায় তাহলে তার খরচের টাকা গুনলে ১৫০০,০০০০০০০,০০০০০০০ টাকা পরবে সেই পরিমান টাকা দিয়ে বর্তমান সময়ে প্রায় অত্যাধুনিক দশ কোটি কম্পিউটার কেনা সম্ভব আর এই যান্ত্রিক মস্তিষ্কের আয়তন হবে আটারটি এক’শ তলা বিল্ডিং এর সমান আর এটা চালাতে এক হাজার কোটি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ এর প্রয়োজন হবে তাহলে দেখুন তার কত ক্ষমতা।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা মস্তিস্কের গঠন সম্পর্কে এখনো পরিস্কার ধারণা পান নি।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৭০০০০ বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে সক্ষম। কিন্তু করে না। যার কারণে মস্তিস্ক অলস বসে থাকে।
মানুষের মস্তিষ্ক সেকেন্ডে ১০-১৫ টি শব্দ ধারণ করতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলে মানুষের মস্তিষ্কে ২২ লক্ষ সেল আছে সাধারণ মানুষ তার থেকে মাত্র ৩% সেল ব্যবহার করে বাকী গুলো বেকার হয়ে পড়ে থাকে আর বিজ্ঞানী বুদ্ধিজীবি শ্রেণীর মানুষ ব্যবহার করে ১০ থেকে ১১% !!
কিন্তু মানব মস্তিস্কের প্রায় ৭৫ ভাগই পানি আর ২৫ ভাগ দিয়ে আমরা এইসব কাজ করে থাকি।

জাগ্রত থাকা অবস্থায় মস্তিস্ক প্রায় ২৫ ওয়াট পাওয়ার সৃষ্টি করে,যা একটি লাইট বাল্ব জালানোর জন্য যথেষ্ট। আর ঘুমের মাঝে আমরা যে সব সাদাকালো স্বপ্ন দেখি তার রহস্য এখনো বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করতে পারে নি।

আমাদের মস্তিষ্ক প্রায় ১০,০০০ টি বিভিন্ন গন্ধ চিনতে ও মনে রাখতে পারে।
এই সব ক্ষমতার কারণে, ১০০ বছর আগেও বোর্নিওতে মানুষের মাথার খুলি মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

আমরা বলি মেয়েরা কথা বেশি বলে থাকে কারণ মস্তিস্কের এই গঠন। প্রতিদিন মহিলারা গড়ে ৭০০০ বাক্য বলে থাকে, আর পুরুষরা বলে থাকে ২০০০ বাক্য।

আমরা যা খাই তার মোট শক্তির ২০% মস্তিস্কের জন্য যায়, যেখানে মস্তিস্ক শরীরের আয়তনের মাত্র ২% হলেও এর শক্তি চাহিদা অনেক ।

এত এত ক্ষমতা আমাদের শরীরের উপরের মাথাটাতে অথচ অনেক কিছু করতে পারি না। :(
original post
read more

রূপকথার এক অভিশপ্ত রানী... সুন্দরী শ্রেষ্ঠা...

by আহমেদ জী এস
রূপকথার এক অভিশপ্ত রানীর গল্পো......

মিশরের ফারাও সম্রাজ্ঞীদের মধ্যে ক্লিওপাত্রার নাম এবং কাহিনী কমবেশী জানিনা এমোন কেউ সম্ভবত আমাদের মধ্যে নেই । মিশরে জন্ম না হলেও ক্লিওপাত্রা মিশরের ফারাওয়ের রানী হয়েছিলেন , হয়েছিলেন কিংবদন্তী । ক্লিওপাত্রা যতো না রূপে তারো চেয়ে বেশী আলোচিত তার ছলনার জন্যে । কিন্তু কিংবদন্তীর আর একজনের কথা হয়তো আমাদের মনেও নেই যিনি রূপে ছিলেন অদ্বিতীয়া, ক্ষমতায় সর্বোচ্য । প্রায় তিন হাযার তিনশত বছর আগে ইতিহাস যেমন তাকে নিঃশব্দে চাপা দিয়েছে মিশরের বালুরাশির নীচে তেমনি সেইজন আমাদের মনের আড়ালেও চাপা পড়ে আছেন আজো । ক্লিওপাত্রার ও হাযার বছর আগে যিনি ছিলেন “লেডি অব অল ওম্যান”, “লেডি অব গ্রেস” , “লেডি অব অল বিউটি” ।

নামটি তার “নেফারতিতি” ।

পৃথিবী জুড়ে যে ফারাও সম্রাজ্ঞীর প্রহেলিকাময় আবক্ষ মুর্তিটি (বাস্ট) তার মরালী গ্রীবা নিয়ে বিখ্যাত “আইকন” হয়ে আছেন আজো, তিনিই “নেফারতিতি” যার শাব্দিক অর্থ “সুন্দরীতমা এসেছেন” ।

মিশরের ফারাও সম্রাজ্ঞীদের মধ্যে, এমোন কি তখনকার মিশরবাসীদের মধ্যেও তার রূপ ছিলো কিংবদন্তীর মতো । যীশুখ্রীষ্টের জন্মেরও ১৩৭০ থেকে ১৩৩০ বছর আগ পর্য্যন্ত নেফারতিতির ইতিহাস খুঁজে পাওয়া গেছে আর ঠিক তার পর থেকেই মিশরের সব ঐতিহাসিক দলিল, দস্তাবেজ থেকে তার নাম মূছে ফেলা হয়েছে । প্রত্নতাত্বিক জিনিষপত্রে তার আর কোনও চিহ্ন রক্ষিত হয়নি যেমন রক্ষিত রয়েছে অন্যান্য ফারাও আর তাদের সম্রাজ্ঞীদের স্মৃতি ।

কেন ? উত্তর খুঁজছে মানুষ ।

রূপকথার দুঃখিনী রানীর মতো, নেফারতিতি গর্ভে ছয় ছয়টি রাজকন্যের জন্ম দিলেও রাজ্যরক্ষায় কোনও উত্তরাধিকারী রাজপুত্রের জন্ম দিতে পারেননি । ফারাও “আখেনাতেন” ভাবলেন নেফারতিতির গর্ভে আর কোনদিন ভবিষ্যত ফারাওয়ের জন্ম হবেনা তাই পরিত্যাজ্য । রাজার ইচ্ছে, তাই রানী পরিত্যক্ত হলেন । ইতিহাসের করাল গর্ভে নেফারতিতি হারিয়ে গেলেন চিরদিনের জন্যে ।
এ হলো নেফারতিতির রহস্যময় নিরবতার পক্ষে একশ্রেনীর প্রত্নত্বাত্তিকদের বিশ্লেষন ।

কেউ কেউ বলেন, বারোটি বছর ১৮তম ফারাও “আখেনাতেন” আর নেফারতিতির গড়ে তোলা বিশাল ফারাও সাম্রাজ্য “এল-আমারনা” (El-Amarna) শাসন করে নেফারতিতির রহস্যময়ভাবে হারিয়ে যাওয়া সম্ভবত কোনও কঠিন রোগে তার মৃত্যু । ঐ সময় মিশর জুড়ে যে ভয়াবহ প্লেগ হয়েছিলো তাতেই মারা গেছেন নেফারতিতি ।

কেউ বলেন- না ; নেফারতিতি মিশরীয়দের সনাতন ধর্মবিশ্বাস বাতিল করে সূর্য্যদেবতা “রে” (Re)র পুঁজায় “আতেন” নামে যে সূর্য্যচাকতির পুঁজোকে মিশরবাসীদের জন্যে বাধ্যতামূলক করেন তারই বিষ্যোদগার ঘটে নেফারতিতির মৃত্যুর সাথে সাথে তার সমস্ত মূর্তি, স্তম্ভ, প্রাসাদ অর্থাৎ নেফারতিতির বানানো সকল সভ্যতার চিহ্নকে ধংশ করার মধ্যে দিয়ে । এই ধংশযজ্ঞে নেতৃত্ব দেন পুরোহিতরা কারন “আতেন” কে পেতে হলে ফারাও আর তার স্ত্রীকে (নেফারতিতি) পুঁজো করাও ছিলো বাধ্যতামূলক এটা তারা মেনে নিতে পারেননি । তাই ইতিহাসে নেফারতিতির কোনও উল্লেখ নেই সেই দিন থেকে, যেদিন তার মৃত্যু ঘটে ।

কেউ বলেন, ১৮তম ফারাও “আখেনাতেন” (যিনি বিখ্যাত কিশোর ফারাও রহস্যময় “তুতেনখামেন” এর পিতা) এর প্রতি প্রজারা সন্তুষ্ট ছিলেননা মোটেও । একে তো পুরোনো ধর্মবিশ্বাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার উপর রাজধানী “মেমফিস” থেকে সরিয়ে মরুভুমির মাঝে বালুর শহর “ আমারনা”য় স্থাপন করেন এবং পরে নিজের নামে “আখেনাতেন” রাখেন । তাই “আখেনাতেন” এর মৃত্যুর সাথে সাথে নেফারতিতির ভাগ্যও নির্নিত হয়ে যায় ।“আখেনাতেন” এর সৃষ্ট সকল কিছু মিশরের বালুতে পুঁতে ফেলার পাশাপাশি নেফারতিতিরও সমাধি ঘটে যায় ইতিহাসে ।

যদিও এসব বিশ্লেষনের জন্যে পর্যাপ্ত প্রত্নত্বাত্তিক নিদর্শন নেই তথাপিও যে কিছু কিছু শিলালিপির ভগ্নাবশেষ পাওয়া গেছে নেফারতিতির উপরে লেখা , তা বিশ্লেষন থেকেই এত্তো এত্তো কাহিনীর জন্ম হয়েছে । এ নিদর্শনগুলি আপনি দেখতে পাবেন বর্তমানের “ল্যুভর” আর “ব্রুকলিন” জাদুঘরে ।


।। ব্রুকলিন মিউজিয়ম ।।

মাত্র পনের বছর বয়সে নেফারতিতি বিয়ে করেন চতুর্থ অ্যামেনোফিস (Amenophis IV) মতান্তরে “অ্যামেনহোটেপ”( Amenhotep IV) কে যিনি খ্রিষ্টপূর্ব ১৩৫৩ অব্দে ফারাও হিসাবে মিশরের সিংহাসনে বসেছেন মাত্র আর নিজের নাম পাল্টে রেখেছেন “আখেনাতেন” ।

।। ফারাও আখেনাতেন ।।

বিশেষজ্ঞরা নেফারতিতির জন্ম এবং তার নিজ দেশটি আসলে কোথায় এ ব্যাপারে দ্বিধা বিভক্ত । কারো সন্দেহ, যেহেতু নেফারতিতি শব্দের অর্থ “সুন্দরীতমা এসেছেন” তাই আদপেই তিনি মিশরীয় নন, তিনি এসেছেন ভিন কোনও দেশ থেকে ।আবার কারো মতে তিনি মিশরেরই বিখ্যাত ব্যক্তি “আই” এর কন্যা যিনি পরে ফারাও ও হয়েছিলেন । জন্ম বা বংশ বৃত্তান্ত যা ই থাক তিনি যে সুন্দরী হিসেবে কিংবদন্তী ছিলেন তাতে দ্বিমত ছিলোনা কারো ।
সুন্দরীদের প্রভাব পুরুষকে যে নাচাতে পারে, এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি । রাজ্যশাসনে ফারাওয়ের পাশাপাশি নেফারতিতিও সমানতালে রাজ্য শাসণ করেছেন । শুধু তা ই নয়, যে নতুন ধর্ম দু’জনে প্রবর্তন করেছেন তার মধ্যমনি ছিলেন নেফারতিতি । দু’জনেই পুঁজিত হতেন দেবতা আর দেবী রূপে ।
প্রত্নতত্ববিদ আর ঈজিপ্টোলজিষ্টরা থেমে নেই এইসব ইতিহাস উদ্ঘাটনে । তারা “কারনাক” আর “ল্যুক্সর” এর মন্দিরগুলিতে খুঁজে বেড়াচ্ছেন এর স্বপক্ষের নিদর্শন ।

খ্রীষ্টপূর্ব ১৪শ শতকে নিজ রাজত্বকালে আখেনাতেন সূর্য্যদেব আতেন এর উদ্দেশ্যে তার রাজ্যে যে অসংখ্য মন্দির গড়ে তুলেছিলেন, প্রতিহিংসার রোষানলে তা সবই ধংশ করা হয়েছিলো তার মৃত্যুর ঠিক পরে পরেই । কারন এগুলো ছিলো মিশরবাসীর পুরোনো ধর্মের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার চিহ্ন । এই সব ভগ্ন মন্দিরের পাথরগুলি আবার পরবর্তী ফারাওরা ব্যবহার করেছেন নতুন নতুন মন্দির নির্মানে । প্রত্নতত্ববিদ আর ঈজিপ্টোলজিষ্টরা এখোন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন সেগুলোকে, যদি কোনও অজানা তথ্য পাওয়া যায় সম্রাজ্ঞী নেফারতিতির ।
ধারনা করা হয়, প্রাচীনকালের কারনাকের মন্দিরের পূর্বদিকে যে বিশাল প্রবেশপথ ছিলো তার পাশের দেয়ালের পাথরের বর্তমান ধংশাবশেষ থেকে ১০০র মতো শাস্ত্রীয় আচার অনুষ্ঠানের পূর্ণচিত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব । এসব ভাঙ্গা ভাঙ্গা চিত্রে নেফারতিতিকে দেখা যায় বিভিন্ন শাস্ত্রীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যমনি হিসেবে । প্রাচীন মিশরে এ জাতীয় আচার অনুষ্ঠানের ক্ষমতা রাখতেন কেবলমাত্র একজন ফারাও অথবা মিশরীয়দের প্রচলিত বিশ্বাস মতে “ওয়াইফ এন্ড কনসোর্ট অব দ্য গড” ।

এই ফ্রেসকোগুলি স্বাক্ষ্য দেয় , নেফারতিতি নিজেকে একজন ‘দেবী’র পর্যায়ে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলেন এমোনকি ফারাওয়েরও সমকক্ষ । একযুগের ও বেশী সময় ধরে নেফারতিতিই ছিলেন প্রাচীন মিশরের সবচেয়ে সুন্দরী আর ক্ষমতাশালী নারী । যা আর কোনও ফারাওদের স্ত্রীর ভাগ্যে জোটেনি ।

কম্পিয়্যুটার এনিমেশন ।

একটি খন্ডিত পাথরের লিপি উদ্ধার হলে দেখা যায়, সেখানে নেফারতিতির নাম রয়েছে । যেখানে তার নামের পাশে উৎকীর্ন রয়েছে “গ্রেট রয়্যাল ওয়াইফ” শব্দটি যা তার সামাজিক মর্যাদা প্রকাশ করছে । এমোন বেশ কিছু পাথর চিত্রে দেখা যায় নেফারতিতি যুদ্ধরথে চড়ে একটি দন্ড উঁচিয়ে আছেন ।
এ থেকে বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন তিনি ছিলেন “সুপ্রীম অথরিটি অব দ্য ষ্টেট” । অন্য চিত্রে তাকে দেখা যায় তরবারী হাতে মিশরের শত্রুদের নিধনে ব্যস্ত ।এছাড়াও রয়েছে সভ্রান্তদের মাঝে স্বর্নপদক বিতরনের চিত্র । সব মিলিয়ে এসকল “ফ্রেসকো” থেকে যে ছবি পাওয়া যায় তা নেফারতিতিকে চিত্রিত করেছে সুন্দরীশ্রেষ্ঠা মিশর অধীশ্বরী হিসেবে । এ পর্য্যন্ত মিশরের মাটি খুঁড়ে আর কোনও রাজকীয় মহিলার এমোনতর ছবি পাওয়া যায়নি । কিংবদন্তীর ক্লিওপাত্রাকেও এমোন বেশে দেখা যায়নি ।

এই সব টুকরো টাকরা লিপি থেকে পাওয়া তথ্যে নেফারতিতির সম্পর্কে গল্পের শেষ নেই ।

অনেক বিশ্লেষকেরাই মনে করেন রোগে শোকে নেফারতিতির মৃত্যু হয়নি । বরং এসব চিন্তাকারীদের ধারনা, ফারাও আখেনাতেন এর মৃত্যুর পরে নেফারতিতি চেষ্টা করে থাকবেন রাজ্যকে ধরে রাখতে । তাই তিনি বিদেশী কাউকে বিয়ে করার প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন যা উৎকীর্ণ আছে একটি পাথরের শিলালিপিতে । শিলালিপিটি পাঠানো হয়েছিলো “হিতিস” সম্রাটের কাছে । শিলালিপিটিতে ফারাওয়ের মৃত্যু সংবাদ উল্লেখের পাশাপাশি একজন রাজপুত্রকে মিশরে পাঠানোর অনুরোধ ছিলো ।“হিতিস” সম্রাট কথামতো একজন যুবরাজকে পাঠিয়েও নাকি ছিলেন যিনি পথিমধ্যে আততায়ীর হাতে নিহত হন । উদ্ধারকৃত পাথর খন্ডের এই লিপির লেখা কাহিনী বা “থিওরি” নেফারতিতির নামের সাথে যুক্ত করেছেন এ ধরনের গবেষকরা । তাদের ধারনা সত্যিকার নেফারতিতির মমি কোনওদিনই খুঁজে পাওয়া যাবেনা । সম্ভবত তার মরদেহকে মিশরের পুরোহিতরা এমোন সমাধিতে সমাহিত করেছেন যা সহজে খুঁজে পাওয়া হবে দুষ্কর ।

কল্পনার ফানুস শেষমেশ ঠেকেছে উর্দ্ধ আকাশে – ঐতিহাসিক দলিলপত্রে নেফারতিতির অনুপস্থিতির পরপরই আর একজনের নাম পাওয়া গেছে “ সামেনখারে” (Smenkhare) যিনি আখেনাতেন এর সাথে একত্রে রাজ্য শাসন করেছেন । প্রাপ্ত কিছু শিলাচিত্রে আখেনাতেনের পাশাপাশি “সামেনখারে” কে ও দেখা গেছে । অনেকেরই ধারনা “সামেনখারে” আর কেউ নন, পুরুষবেশী “নেফারতিতি” যিনি “হাটসেপসুট”(Hatshepsut) এর মতো দীর্ঘকাল অপেক্ষা করেছেন “ফারাও” হতে । “হাটসেপসুট” ছিলেন তৃতীয় “তুথমোসিস” এর প্রধান মহিষী ।
এ ঘটনা আপনাদেরকে মনে করিয়ে দেবে “লেডী ম্যাকড্যালেন” এর কাহিনী । যীশুখ্রীষ্টের সহচরী, মতান্তরে স্ত্রী হিসাবে যাকে অনেকেই ধারনা করে থাকেন । এ্যাঞ্জেলোর আঁকা বিশ্ববিখ্যাত “লাষ্ট সাপার” তৈলচিত্রের সিরিজের কয়েকটিতে যীশুর ঠিক পেছনেই যে কাপড়ে মাথা ঢাকা পুরুষটিকে বারে বারে দেখা গেছে অনেক গবেষক মনে করেন তিনিই “লেডী ম্যাকড্যালেন” । যীশুর কাছাকাছিই ঘনিষ্ট একজন বন্ধুর বেশে ছিলেন যাতে তিনি আমৃত্যু যীশুর সাথে সাথেই থাকতে পারেন । এ আবার আর এক কাহিনী । ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে ফেলেছি হয়তো ।

তাহলে সুন্দরী নেফারতিতি কি চিরকালই রহস্যময়ী থেকে যাবেন ?
না তা হয়নি ।
নেফারতিতির যে সৌন্দর্য্যের কথা আমরা বলি বা দেখি তার অনেকগুলিই এসেছে “এল-আমারনা” য় প্রাপ্ত ধংশাবশেষ থেকে ।বার্লিনের ঈজিপসিয়ান মিউজিয়ামে ১৯২৪ সাল থেকে প্রদশিত “জেরী’স শো” তে নেফারতিতির যে আবক্ষ (বাস্ট) মূর্তিটি দেখা যায় তা শ্রেষ্ঠ শিল্পের এক অপূর্ব নমুনা ।


৩২০০ বছরের পুরোনো এই মূর্তিটি জার্মান আর্কিওলজিষ্ট Ludwig Borjardt ১৯১২ সালের ৬ই ডিসেম্বর “এল-আমারনা”র ধংশাবশেষ থেকে উদ্ধার করেন । মূর্তিটি ২০ ইঞ্চির বেশী লম্বা নয় । এখোন পর্যন্ত আসলেই মুর্তিটি নেফারতিতির কিনা নিশ্চিত প্রমান করা যায়নি । বিভ্রান্তি রয়েছে এটি নেফারতিতির কন্যা “ইতমোসিস” এর কিনা ।

এককালের সুন্দরী শ্রেষ্ঠা আর মিশরের সর্বোচ্য ক্ষমতার অধিকারী নারীটির রহস্যময়ভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে হারিয়ে যা্ওয়ার কাহিনী আর তার দেহাবশেষ নিয়ে বিভ্রান্তি কাটেনি আজো ।

।।মমির সামনে ডঃ ফ্লেচার আর নেফারতিতির কম্প্যুটারাইজড ছবি ।।
২০০৩ সালের জুন মাসে ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নত্বাত্তিক জোয়ান ফ্লেচার দাবী করে বসলেন, তিনি নেফারতিতির “মমি” খুঁজে পেয়েছেন ।
লুক্সর এর “ভ্যালী আব কিংস” খুঁড়ে ৩৫ নম্বর সিমেট্রির মধ্যে এক কোনে “মমি নম্বর – ৬১০৭২” এর ভেতরে তিনি অন্য এক নারী ও শিশুর মমির পাশে সনাক্ত করেছেন কিংবদন্তীর নেফারতিতিকে । অনেক স্বাক্ষ্য প্রমান হাজির করেছেন । নেফারতিতির মাথার বিখ্যাত নীল রংয়ের ব্যান্ড সহ লম্বা “ফ্লাট টপ” মুকুটটি যা “ক্রাউন অব ওয়র অব আখেনাতেন” এর স্বারক চিহ্ন, পাওয়া গিয়েছিলো মমি নম্বর ৬১০৭২ এর পাশে ফ্লেচারের খনন কালের অনেক আগে, উনিশ শতকে । ফ্রেঞ্চ আর্কিওলজিষ্ট ভিক্টর লোরে উনিশ শতকের শেষের দিকে নাকি এই মমি নম্বর ৬১০৭২ খুঁজে পেয়েছিলেন কিন্তু মমিগুলির শোচনীয় অবস্থা দেখে তা উদ্ধারে আগ্রহী হননি এবং এভাবেই ফ্লেচারের আগ পর্য্যন্ত তা অজানাই থেকে গেছে । ১৮৯৮ সালে এটি খনন করা হয় প্রথম তার পরে পরেই আবার ১৯০৭ সালে তা বন্ধ করে দেয়া হয় ।
ফ্লেচার দাবী করছেন, বার্লিনের ঈজিপসিয়ান মিউজিয়ামে নেফারতিতির যে আবক্ষ (বাস্ট) মূর্তিটি দেখা যায় মাথায় বিখ্যাত “ফ্লাট টপ”মুকুট সহ, সেই মুকুটটি এই মমি নম্বর ৬১০৭২ এর কাছাকাছি জায়গা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিলো এবং এল–আমারনায় প্রাপ্ত দেয়ালচিত্রেও এর স্বাক্ষ্য আছে বলে মমিটি নেফারতিতিরই । এছাড়া বার্লিনের আবক্ষ মূর্তিটির সাথে মমিটির “মরালী গ্রীবা”, চোয়ালের গড়ন ইত্যাদির মিলও রয়েছে । ফ্লেচারের এই “কনক্লুসান” বাতিল করে দিয়েছেন ঈজিপ্টোলজিষ্টরা । তারা দাবী করছেন, যে মমিটির কথা ফ্লেচার বলছেন তা একটি ১৫ বছর বয়েসী কিশোরের এবং ফ্লেচারের থিওরীকে জোড়ালো করার মতো তেমন কোনও প্রমান উনি দেখাতে পারেননি । যা দেখিয়েছেন তা “ইন্যাডিকোয়েট” আর “সারকাম্সটেনশিয়াল এভিডেন্স” মাত্র । অবশ্য যে ডিএনএ টেষ্টের কথা বলা হয়েছে তা কতোখানি গ্রহন যোগ্য তা নিয়ে বিতর্ক আছে । বহুল ভাবে নাড়াচাড়া করা হয়েছে এমোন জিনিষ এবং অতীব লম্বা সময়কাল ধরে মাটির নীচের উষ্ণতাপমাত্রায় থাকা কোনও জিনিষের ডিএনএ টেষ্ট কতোখানি নির্ভরযোগ্য, বিতর্ক তাই নিয়ে ।অবশ্য ১৯১২ সালে প্রকাশিত এক নিবদ্ধে এ্যানাটমীর অধ্যাপক স্যার গ্রাফটন ইলিয়ট স্মিথ এই মমিটিকেই এবং এর সাথে থাকা অপর মমিটিকেও পরীক্ষা করে দুটোই যে তরুনী নারী দেহ তা উল্লেখ করেছিলেন । এও বলেছিলেন যে, খুব ভালোভাবে সংরক্ষিত এই মমিটি পরীক্ষা করে এটি যে একজন নারীর তা বোঝার জন্যে এ্যানাটমীর পন্ডিত হওয়ার দরকার নেই । এটি প্রকাশিত হয় সেই সময়, যখোন এই মমিটির আইডেন্টিটি নিয়ে তেমন উৎসাহ জন্ম হয়নি খননকারীদের মধ্যে । পরবর্তীকালে রেডিওলজিষ্ট এবং ফিজিক্যাল এ্যান্ত্রোপলজিস্টদের পরীক্ষায়ও একই তথ্য পাওয়া যায় ।এইভাবে মমিটির পরিষ্কার সেক্স আইডেন্টিটি থাকার পরেও সেক্স নির্ণয়ে ডিএনএ টেষ্ট যা “কন্টামিনেশান” এর কারনে নির্ভর যোগ্য নাও হতে পারে সেই টেষ্টের জন্যে বসে থাকা বাহুল্যমাত্র ।
ডঃ জাহি হাওয়াস, মিশরীয় “সুপ্রীম কাউন্সিল অব এ্যান্টিকুইটিস” এর প্রধান ব্যক্তি অবশ্য একবার এই তরুনী নারীর মমিটিকে মধ্যবয়সী মহিলার বলে জানিয়েছিলেন । তার মতে মমিটি সম্রাট তৃতীয় তুথমোসিস এর প্রধানা মহিষী “ম্যারীতার-হাপসেতসুত” এর । আবার হাওয়াস এক ডকুমেন্টারীতে ফ্লেচারের সাথে তাল মিলিয়ে বলেছিলেন, সিমেট্রি নম্বর -৩৫ এ যে মমিটি পাওয়া গেছে তা নেফারতিতির হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী । আবার হালের ২০১০ সালের প্রথমদিকে প্রকাশিত ডিএনএ টেষ্ট এর রিপোর্ট প্রমান করে যে এটি সম্রাট আখেনাতেন এর বোন এর যিনি আবার রহস্যময় ফারাও তুতেনখামেন এর মা “কিয়া” র ।এই রিপোর্টের সহযোগী লেখক আবার ডঃ জাহি হাওয়াস ।

তাই আপনি নেফারতিতিকে খুঁজে পেতে কোনদিকে যে যাবেন এমোন একটি গোলকধাঁধার মধ্যে পড়ে আছেন ।

।। মিশরের কায়রো মিউজিয়মে নেফারতিতি । এই ছবির টুপিটি দেখে কেউ কেউ এটি "তেফনাত" এর বলে দাবী করেন ।।

শুধু এইগুলোই নয় গোলক ধাঁধা আরো আছে । নেফারতিতির উপর কোনও লিখিত সরকারী দলিল পাওয়া যায়নি তার রহস্যময় অর্ন্তধানের পরে । কারন কি ?
নেফারতিতির যে মমিটি পাওয়া গেছে বলে ফ্লেচার দাবী করছেন তাতেও চরম নিষ্ঠুরতার চিহ্ন রয়েছে । মমিটির ডান কানটি এবং একটি হাত নিখোঁজ । কুঠার জাতীয় কোনও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তা দেহচ্যুত হয়েছে ।একটি খন্ডিত হাত আবার আর এক বৃটিশ দল তাদের দ্বিতীয় অভিযানে খুঁজে পেয়েছেন পাশ্ববর্তী কফিন থেকে । এখোন এইসব তথ্য একটি পাজল (puzzle) এর মতো খাঁজে খাঁজে মেলাতে বাকী । ফ্লেচার তাই মেলাতে চাইছেন । মেলাতে চাইছেন নতুন ধর্মের প্রবর্তন করে নেফারতিতি জনগণের যে রোষানলে পড়েছিলেন এই নিষ্ঠুরতা তারই পরিনতি । এবং হয়তো নেফারতিতিকে এই নিষ্ঠুরতা দিয়েই খুন করা হয়েছে এমোন ধারনাও তার । কারন নেফারতিতির মুখেও রয়েছে আঘাতের চিহ্ন । মমি আবিষ্কারের পরবর্তী এক পরীক্ষায় এটি জানা গেছে । সম্ভবত ধারালো কোন চাকু দিয়ে এই নারকীয় কাজটি করা হয়েছে ।

এতো সব করতে গিয়ে ফ্লেচার পড়েছেন বিপদে । তাকে মিশরে প্রত্নতত্ব তল্লাশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে । নিষিদ্ধ করেছেন মিশরের “সুপ্রীম কাউন্সিল অব এ্যান্টিকুইটিস” । ডঃ জাহি হাওয়াস বলেছেন, ফ্লেচার তার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন । তিনি বলেছেন, "Dr Fletcher has broken the rules. There are more than 300 foreign expeditions currently working in Egypt, and they all follow the same guidelines. We grant concessions to any scholar affiliate to a scientific or educational institution, and it has long been accepted code of ethics that any discovery made during excavations should first be reported to the SCA. By going first to the press with what might be considered a great discovery, Dr. Fletcher broke the bond made by York University with the Egyptian authorities. And by putting out in the popular media what is considered by most scholars to be an unsound theory, Dr. Fletcher has broken the rules and therefore, at least until we have reviewed the situation with her university, she must be banned from working in Egypt.”

একেকজন বিশেষজ্ঞ বলছেন এক এক কথা । কারো কথা থেকে নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই , আসলে মমিটি কার । রহস্য আরো ঘনীভুত যখোন ধারনা করা হলো, ১৯৩৩ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে কিশোর তুতেনখামেন ফারাও পদে বহাল হলে তিনিই তার পিতা আখেনাতেন আর তার স্ত্রী নেফারতিতির গড়া সমস্ত সৌধ, মন্দির সহ যাবতীয় স্মৃতি ধ্বংশ করে ফেলেন । কারন ও আছে । কারো কারো ধারনা, নতুন ধর্ম প্রচার কালে নেফারতিতি প্রাচীন ধর্মের মন্দিরগুলো ভাঙ্গার পাশাপাশি “কিয়া” নামের আখেনাতেন এর বোন এর (মতান্তরে স্ত্রী) গড়া স্তম্ভগুলোও ভেঙ্গে ফেলেন ।আর তুতেনখামেন হলেন কিয়ার সন্তান । আর তাই নেফারতিতির মমিটি ফারাওদের সমাধিস্থলে পাওয়া যাবেনা প্রতিহিংসার কারনেই ।তাহলে নেফারতিতি কোথায় ?

।। সূর্য্যদেব "আতেন" এর পূঁজায় নেফারতিতি ।।

রহস্যময় তুতেনখামেন কি নেফারতিতির এই হারিয়ে যাওয়া নাটকের নেপথ্য রূপকার ? হতেও পারে । কারন, এমোন ধারনাও করছেন ঈজিপ্টোলজিষ্টরা যে ,নেফারতিতির পিতা “আই” যিনি তুতেনখামেনের পরে ফারাও হয়েছিলেন তার নেপথ্য হাত ছিলো তুতেনখামেনের রহস্যময় মৃত্যুতে ।

এসব কি তবে রহস্যময় অকাল মৃত্যুর কাছে পরাজিত তুতেনখামেনের অভিশাপ ? নেফারতিতি কি অভিশপ্ত ?? হতে পারে কারন তুতেনখামেন এক রহস্যের নাম …..
original post
read more

Sunday, April 8, 2012

ইউটিউবের আবিষ্কারকঃ বাংলাদেশী জাভেদের গল্প!!!

by পথহারা নাবিক


বাংলাদেশি গবেষকের পুত্র জাভেদ করিম ছোটবেলা থেকে আবিষ্কারের নেশায় মত্ত। বিশ্বব্যাপী সবচে জনপ্রিয় সাইট ইউটিউবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জাভেদ। তার প্রতিষ্ঠিত ইউটিউব পা দিয়েছে ৭ম বছরে। জাভেদের বাবা নাইমুল ইসলাম বাংলাদেশি গবেষক। ১৯৯২ সালে স্বপরিবারে পাড়ি জমান আমেরিকায় । ১৯৭৯ সালে পূর্ব জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন জাভেদ। জার্মানিতেই বেড়ে ওঠেন। তবে আমেরিকাতে শিক্ষা জীবন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক পাস করেন তিনি। ইউটিউব তৈরির ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য তারও আগের। ২০০৪ সাল। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ছেন জাভেদ করিম। ছাত্রাবস্থায়ই যোগ দিলেন অনলাইন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান পেপালে। চাকরিটা একবারে মন্দ ছিল না। তবু লেখাপড়ার ফাঁকে শুরু করা চাকরিটা উদ্ভাবনী মনের তৃষ্ণা কিছুতেই মেটাতে পারছিল না। খুঁজছিলেন বিকল্প পথ। কিভাবে নতুন কিছু করা যায়। পেপালে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী চাঁদ হার্লি এবং স্টিভ চেনের সাথেও মাঝে মাঝে শেয়ার করতেন তার মনের কথা। স্টিভও কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র আর হার্লি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন বিভাগে পড়াশোনা করছে। হার্লি আর স্টিভও চাচ্ছেন নতুন কিছু করতে। সবার মনেই একই ভাবনা। ঠেকায় কে! সবাই ভাবতে লাগলেন কি করা যায়। পারষ্পরিক যোগাযোগের অভাবে কিছুদিন ভাঁটা পড়ে তাদের পরিকল্পনায়। বছর গড়িয়ে যায়। পরিকল্পনাকে বাস্তব রুপ দিতে এবার নড়ে চড়ে বসেন। সিদ্ধান্ত নেন একসাথে আলোচনায় বসার। আলোচনার সুবিধার্থে সান ফ্রান্সিস্কোতে স্টিভ চেনের বাসায় নৈশ ভোজের দাওয়াত পড়লো সবার। সেখানেই সিদ্ধান্ত হলো ইউটিউব সাইটটি তৈরি করার। অনলাইনে প্রচুর সাইট থাকলেও ভিডিও শেয়ার করার মত কোন উল্লেখযোগ্য সাইট নেই। এজন্য ভিডিও শেয়ারিং সাইটের সম্ভাবনা যাচাই করে একটি ভিডিও শেয়ারিং সাইট বানানোর সিদ্ধান্ত হলো। ২০০৫ সাল। ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখে ইউটিউব ডটকম নামে ডোমেইন নিবন্ধন করে ফেলা হলো। ডোমেইন নাম নিবন্ধনের পর তিন তরুণ প্রকৌশলী হাত লাগালেন সাইট ডিজাইনের কাজে। কয়েক মাসের চেষ্টায় দাঁড় করে ফেললেন সুন্দর একটি সাইট। সাইট ডোমেইন নিবন্ধন এবং ডিজাইন শেষ হলেও এবার মূল কাজ বাকি। একই বছরের ২৩ এপ্রিলে ‘মি এট জু’ নামক প্রথম ভিডিও আপলোড করেন জাভেদ করিম নিজে। ভিডিও-তে সান দিয়াগো পার্কে হাতিশালার দাঁড়ানো তার নিজের এ ভিডিওটি আপলোড করে শুরু করলেন ভিডিও শেয়ারিং। http://bit.ly/meatzoo ঠিকানার ওয়েবসাইটে এখনও মিলবে ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি। মে মাসে সাইটটির পরীক্ষামূলক সংস্করন উন্মুক্ত করলেন তারা। পরীক্ষামূলক সংস্করনে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়াও পেলেন। দিন দিন বাড়তেই থাকলো ইউটিউবের ব্যবহারকারী সংখ্যা। কিন্তু ব্যবহারকারীদের জন্য সাইটটি পরীক্ষামূলক সংস্করন থেকে উন্মুক্ত করতে প্রয়োজন আরোও হোস্টিং স্পেস। দরকার প্রচুর বিনিয়োগ। ভেনচার ক্যাপিটালিস্ট বা প্রকল্প বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা চাইতে থাকলেন। তরুণ তিন প্রকৌশলীর পরিকল্পনার কথা শুনে ইউটিউবে বিনিয়োগে রাজি হলেন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্কুইয়া ক্যাপিটালিস্ট। নভেম্বর মাসে ‘ব্রডকাস্ট ইওরসেলফ’ স্লোগানে উন্মুক্ত করা হলো ইউটিউব। দ্রুত বাড়তে থাকলো ইউটিউব ব্যবহারকারীর সংখ্যা। ২০০৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করলো স্কুইয়া ক্যাপিটাল। জুলাইয়ে প্রতিদিন সাইটটিতে ৬৫ হাজার ভিডিও আপলোড ঘোষণা দিলো প্রতিষ্ঠানটি। একই বছরের অক্টোবরে ঘটল ইউটিউবের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৬৫ কোটি ডলারে ইউটিউব সাইটটি কিনে নেওয়ার ঘোষণা দিলো সার্চ ইনজিন জায়ান্ট গুগল ইনকর্পোরেশন। ইউটিউব ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্তভাবে শেষ হলো একই বছরের নভেম্বরের ১৩ তারিখে। ইউটিউবের ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের শেয়ার পেলেন জাভেদ। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই ৬শ কোটি ভিডিও দেখেছেন ব্যবহারকারীরা। অ্যালেক্সা র‌্যাংকিং-য়ে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভিজিট হওয়া ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে ইউটিউব রয়েছে ৩য় স্থানে। ইউটিউব ছাড়াও আরো বেশ কিছু প্রকল্পে কাজ করেছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুদ এ প্রকৌশলী। পোর্টেবল ত্রিমাত্রিক গ্রাফিক্স, সলভিং ড্যাড পাজল, থ্রিডি স্প্রিং সিমুলেশন, রোবোটিক ওয়েবক্যাম, রেডিওসিটি ইনজিন, রে-ট্রেসার, লাইফ থ্রিডি, কোয়াক ২ মডেল ভিউয়ার সহ বেশ কিছু প্রজেক্টের উদ্ভাবকও জাভেদ করিম। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ইউটিউবে প্রতিদিন ৩ মিলিয়ন অর্থাৎ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক লোক বিভিন্ন ভিডিও দেখে থাকেন। প্রতি মিনিটে এ সাইটে ৩৫ ঘন্টার ভিডিও আপলোড হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য মতে এটি ৪৮ ঘন্টায় গিয়ে পৌছেছে। ফলে গত ৬ মাসে ভিডিও আপলোডের পরিমান বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। বর্তমানে পৃথিবীর ২২টি ভাষায় ইউটিউব ব্যবহার করা যায়।
original post
read more

ভুতের আছর……………..নার্ভাস কথাবলী (শেষ খন্ড)

by আহমেদ জী এস


এবারে আসুন আমরা জীবনের চমকপ্রদ অংশে প্রবেশ করি । আবেগপ্রবনতা আর অনুভুতি ছাড়া জীবনের কোনও রং নেই, এটা আমরা সকলেই জানি । কিন্তু জানিনা যে এগুলো হলো কতকগুলি জৈব রাসায়নিক ক্রিয়ার ফল । এগুলো হলো আপনার মগজের প্যাসনেট সার্কিট (Passionate Circuits) এর কাজ । এই সার্কিটের প্রধান অংশই হলো লিম্বিক সিস্টেম (Limbic System)যার কিছু অংশ Corpus callosum, Frontal এবং Temporal Lobe এ অবস্থান করে এবং অংশ বিশেষ Hypothalamus নামক এলাকায় প্রবেশ করে । এই সিষ্টেমের মধ্যে আরো আছে Cerebral Cortex এর অংশ বিশেষ এবং Amygdala নামের এলাকাগুলি ।আপনার মগজের এই লিম্বিক সিষ্টেমের বিভিন্ন অংশকে উত্তেজিত করা গেলে আপনি ভয়ঙ্কর রেগে যেতে পারেন, ভয় পেতে পারেন, আক্রমনাত্মক আচরন করতে পারেন এবং যৌনতার সাথে সম্পৃক্ত অনুভুতিগুলোকে জাগিয়ে তুলতে পারেন । আপনার এই মানসিক পরিবর্তনগুলো লিম্বিক সিষ্টেমের নেটওয়ার্কের মধ্যে দিয়ে মগজের হাইপোথ্যালামাসে পৌছুবে । আর এখান থেকেই আপনার শরীরের মহামূল্যবান ও অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গে যে সিগনাল যাবে তাতে ঐ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নাটকীয় ঘটনাবলী ঘটতে থাকবে । মনে রাখতে হবে মানুষ এ পর্য্যন্ত এই কৌতুহলোদ্দীপক লিম্বিক সিষ্টেমের কনামাত্র জানতে পেরেছে ।যেমন আপনি “স্বপ্ন” কেন দেখেন তার রহস্য এখনও মানুষ ভেদ করতে পারেনি ।গবেষনা চলছে – চলবে !



এই লিম্বিক সিষ্টেমের মধ্যেই আছে আপনার শিক্ষার এলাকা ।Hippocampus হলো আপনার শিক্ষামন্ত্রনালয় । মগজের এই এলাকাটি আপনাকে শিখতে সাহায্য করবে । যেমন আপনি এই লেখাটি থেকে যদি কিছু শিখতে চান তবে এই এলাকাটিই আপনার মগজকে সাহায্য করবে কতোটুকু তথ্য আপনি আপনার মগজে জমা রাখবেন “মেমরী” হিসাবে তা ঠিক করতে ।অর্থাৎ Hippocampus এলাকাটি যার যতো বেশী সক্রিয় তিনি ততো বেশী মেমরীতে রাখতে ও বেশী শিখতে পারবেন । এই লেখাটি পড়তে পড়তে আপনি এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আপনার Hippocampus কতোটুকু সক্রিয় ?
আপনার Amygdala এলাকাটি আপনার মগজের Cortical Area থেকে পাঠানো শ্রবন ও দৃষ্টির বিশদ তথ্য গ্রহন করবে আর তা থেকে আপনার রাগ-ক্রোধ বা ভীতি জন্ম নেবে । এবং এই এলাকাটিই আপনার মগজকে সাহায্য করবে ঐ পরিস্থিতিতে আপনার ব্যবহার ঠিক কি ধরনের হওয়া উচিৎ তা নির্ণয় করতে । অর্থাৎ আপনি যদি আপনার প্রেমিকাকে আসতে দেখেন তখন আপনার এই Amygdala এলাকাটিই আপনাকে পরিস্থিতি বুঝে নির্দেশ দেবে আপনি পালিয়ে যাবেন (যদি পকেটে পয়সা না থাকে ) নাকি তাকে নিয়ে চাইনিজ খেতে (যদি পকেট ভারী থাকে) যাবেন ।
আপনার মগজে যে উঁচু উঁচু পাহাড় আছে তাদের একটির নাম Cingulate gyrus (সিঙ্গুলেট জাইরাস /গাইরাস)যা তার অবস্থানগত কারনেই গুরুত্বপূর্ণ । এই অংশটি আপনার মগজের মূল অংশের (Cerebral Cortex)Sensory এবং Motor এলাকার সাথে লিম্বিক সিষ্টেমের যোগাযোগ ঘটিয়ে থাকে । এবং সম্ভবত এটিই মগজের উচ্চ Neural regions বা বিশেষ ভাবে সমৃদ্ধ স্নায়ুকোষ এলাকা ও মগজের সবচেয়ে মৌলিক অংশ আবেগ এলাকার (Passionate core)মধ্যে দালালীর (mediator) ভুমিকায় নেমে পড়ে । এই Cingulate gyrus এর কর্মক্ষমতার কারনেই কেউ আপনাকে আবেগপ্রবন, আবার এর কারনেই কেউ আপনাকে আবেগহীন বলে ভাবতে পারেন ।



আর শেষমেশ আপনার Hypothalamus । মস্তিষ্কের এই এলাকাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । আপনার সকল কাজের নিয়ন্ত্রন করবে এই এলাকাটিই, ঠিক প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয়ের মতো । এই Hypothalamus নামের অংশটি লিম্বিক সিষ্টেমের সকল অংশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য পেয়ে থাকে আর সেই তথ্যের বিচার বিশ্লেষনের উপর ভিত্তি করেই আপনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিশেষ করে ভাইটাল অর্গান সমুহকে যথাযথ কাজের নির্দেশ প্রদান করে । আপনার শরীরের অতি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন “হরমোন”ও এই এলাকা থেকেই নির্গত হয় ।যেমন আগের উদাহরনটিতে আপনার প্রেমিকার কথা বলা হয়েছে তাকে দেখলেই আপনার Hypothalamus আপনার হার্টকে বলবে বেশী করে লাফাতে ।এই নির্দেশগুলো বা সংকেত যাবে নিউরোট্রান্সমিটার আর হরমোনের বেশ ধরে । খেয়াল করে দেখুন, প্রেমিক বা প্রেমিকাকে দেখতে পেলে কার না বুক লাফাতে থাকে ? এসবই কিন্তু জ্বীন-পরীতে পাওয়া নয়, আপনার নার্ভ এন্ডিং থেকে বিশেষ বিশেষ নিউরোট্রান্সমিটারের নিঃসরনজনিত বায়োকেমিক্যাল রি-এ্যাকশান যা আগেই আপনি জেনেছেন ।
আসলে আপনার মগজটি একটি জটিল অধ্যায় আর এতে যে নিউরোন জগৎ রয়েছে তা খুবই শান্তিপূর্ণ এবং সার্বক্ষনিক ব্যস্ত । আর এগুলো খুব সুক্ষভাবে ব্যালান্সড । তারপরেও এখানে মাঝে মাঝে ঝড় উঠতে পারে । এই ঝড় হতে পারে বাইরের পরিবেশগত কারনে অথবা ভিতরের রাজনৈতিক কোন্দলের কারনে । আর এই কারনেই সাইকিয়াট্রিক সমস্যাগুলোর জন্ম । এই সমস্যাগুলো ঘটে থাকে মূলত নিউরোনগুলির কমিয়্যুনিকেটিং সার্কিটের গন্ডগোলের কারনে । সার্কিটের গন্ডোগোল আপনার আচার আচরনে অস্বাভাবিকতা এনে দেবে যার কারনে লোকে বলবে আপনাকে শয়তানে আছর করেছে, জ্বীনে-ভুতে ধরেছে । আপনি তো জানলেন , এ অস্বাভাবিকতা মোটেও ভুতের ভয়, শয়তানের আছর অথবা অপদেবতাদের রোষের ফল নয় । সবই আপনার মগজের এবং স্নায়ুতন্ত্রের জৈব রাসায়নিক ক্রিয়া । বিজ্ঞান এগুলোকে জানছে প্রতিদিন একটু একটু করে ।

এই সাইকিয়াট্রিক সমস্যা বা সাইকিয়াট্রিক অসুস্থতা যাই বলুন না কেন এগুলো আর দশটা রোগ যেমন ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস এর মতোই একটি শারীরিক রোগ ।আপনার আমার মতো ৪৮ শতাংশ লোকদের ভিতরেই জীবনে তা একবার না একবার জন্ম হতে পারে আর তা দেখা দিতে পারে বিভিন্ন ফর্মে । কিন্তু মানসিক রোগের এই লক্ষনগুলি যতোই বিরক্তিকর আর অস্বস্তির হোক না কেন তারা আসলেই কোনও না কোনও ভাবে আপনার চিন্তা অথবা কাজের গন্ডোগোলের ফল । আর যেহেতু আপনার সব কাজের পেছনেই রয়েছে নিউরোন, তাই মানসিক অসুস্থতা মানেই নিউরোনের অসুস্থতা (Neuropsychiatric illness)।
এই অসুস্থতার আসল কারন এখনও অজানা । যে ডিজিজ প্রসেস এদের পেছনে কাজ করছে তা এতোই সুক্ষ যে আপনি যদি একটি শক্তিশালী অনুবীক্ষন যন্ত্র দিয়ে তাকে দেখতেও চান, খুঁজে পাবেন না ।তবে অনেক বিজ্ঞানীই মনে করছেন যে, মানসিক এই রোগগুলি আপনার মগজের বিশেষ বিশেষ অংশে নিউরোট্রান্সমিটারগুলির পরিবর্তিত কর্মের (Altered Activity)ফল । সোজা কথায় – আকামের ফল ।
মানসিক অসুস্থতার, অস্বাভাবিক চিন্তার অথবা উল্টোপাল্টা কাজের লক্ষনগুলি আর কিছুই নয় আপনার মগজের নিউরোট্রান্সমিটারগুলির অস্বাভাবিক বা পরিবর্তিত কার্য্যকলাপ। তাহলে আপনাদের জানা উচিৎ মগজের নিউরোট্রান্সমিটারগুলির আসল কাজ কি ।সবগুলি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ এখানে নেই তাই বেছে বেছে প্রধান কয়েকটি নিয়ে আমি আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখতে চাই ।

প্রথমেই Serotonin (সেরোটোনিন)এর কথা দিয়ে শুরু করি ।

আপনার শরীরে ৫ থেকে ১০ মিলিগ্রাম Serotonin আছে যার ৯০% ই থাকে আপনার অন্ত্রে আর বাকী অংশ থাকে অনুচক্রিকা আর মগজে ।এটি আপনার শিক্ষা(Learning), আপনার ঘুম(Sleep)এবং মানসিক ভাব(Mood)এর নিয়ন্ত্রক । আপনার মগজে বা শরীরে এর ঘাটতির বা উল্টোপাল্টা কাজের কারনে আপনাকে বিষন্নতা রোগে (Depression) পেয়ে বসবে । এমোনকি আপনি কখনও খানিক উত্তেজিত আবার পরক্ষনেই ম্রিয়মান হয়ে পরবেন । আপনার এমোনটি হলে , আপনাকে ভুতে বা পরীতে পেয়েছে এটা ভেবে বসলে দোষ কার ? আবার এই Serotonin ঠিকঠাক থাকলেও হতে পারে এটি সিন্যাপসে (Synapse)বেশীক্ষন স্থায়ী হচ্ছেনা ।অর্থাৎ তার কাজের স্যিগনাল মগজে পাঠাতে পারছেনা ঠিকমতো । কি হবে ? আপনার বিনিদ্র রাত কাটবে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে অথবা ঘুম আসছেনা বলে রাত দু’টোর সময়ে উঠে ঘরে পায়চারী শুরু করে দেবেন । আপনার মেজাজ-মর্জির কোনও ঠিক-ঠিকানা থাকবেনা । শেখার আগ্রহ কমে যাবে । কেউ বোঝাতে আসলেও আপনি বুঝতে চাইবেন না । এখোন লোকে যদি ভেবে বসে, আপনাকে শয়তানে আছর করেছে তবে তাদের খুব একটা দোষ দেয়া যাবে কি ?

এবারে Dopamine (ডোপামিন) এর কথা – মগজের একটি প্রধান নিউরোট্রান্সমিটার ।

এটি মগজের বিশেষ একটি এলাকায় (Basal Ganglia)কাজ করে আপনার নড়াচড়া বা মুভমেন্টকে নিয়ন্ত্রন করে । হয় Dopamine বা Dopamine Neurones এর স্বল্পতা আপনার নিয়ন্ত্রিত এবং সাবলীল চলাফেরাকে বিঘ্নিত করবে ।হাত-পা কাঁপতে পারে এবং শেষমেষ আপনাকে Parkinson’s disease এ পেয়ে বসতে পারে । লোকে ভাববে আপনার শরীরে অপদেবতাদের ভর হয়েছে ।
আপনার মগজের Frontal Lobe এলাকায় Dopamine এর উপস্থিতি অন্যএলাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহকে নিয়ন্ত্রন করবে ।যার ফলে আপনার স্মৃতি, একাগ্রতা, সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা জাতীয় বুদ্ধিদীপ্ত কাজগুলি নিয়ন্ত্রিত হবে । আর যদি Dopamine এর ঘাটতি কিম্বা এদের কমিয়্যুনিকেটিং সার্কিটের গন্ডোগোল হয় তবে কি হবে ? আপনার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হবে, একাগ্রতা হারিয়ে যাবে বুদ্ধি যাবে ঘোলাটে হয়ে । সহজ অংক, দু’য়ে দু’য়ে যে চার হয় তাও আপনি সহজে বুঝে উঠতে পারবেন না ।
আপনার মগজের “Pleasure System” বা আনন্দ উৎপাদনকারী এলাকা সমূহ যা আপনাকে কোনও কিছুর আনন্দ উপভোগ করতে অনুভুতির যোগান দিচ্ছে, অথবা আপনাকে কোনও কিছু করার অনুপ্রেরনা যোগাচ্ছে তার পেছনেও রয়েছে এই Dopamine এর ভূমিকা ।তাই Dopamine System এর ছন্দপতন হলে আপনার ভেতর Psychosis বা মনোরোগ অথবা Schizophrenia বা আতঙ্করোগ জন্ম নেবে ।আর এ জাতীয় রোগ হলে আপনাকে যে জ্বীন-ভুতে ধরেনি একথা কি সাধারন মানুষকে বোঝাতে পারবেন ?
এবারে Epinephrin বা Norepinephrin এর কথা – আমেরিকার বাইরে এদের যথাক্রমে Adrenaline এবং Noradrenaline নামে ডাকা হয় । আপনার শরীরের জরুরী অবস্থায় যেমন শীতে, অবসাদে, শক (Shock)এ এরাই আপনাকে সামাল দেয় ।
Noradrenaline আপনার মগজের সেই অংশকে নিয়ন্ত্রন করে যেখান থেকে আবেগময়তা (Impulsivity)সৃষ্টি হয় । এদের ঘাটতি বা কাজের অসংলগ্নতা (Imbalance) আপনার ভেতরে জন্ম দেবে কোনও কিছুতেই মনোসংযোগ করতে না পারার , অপরাধবোধের, নিজেকে অপদার্থ ভাবার, অবসাদের, অস্থিরতার, উৎসাহ হারিয়ে ফেলার, মৃত্যুভয়ের এমোনকি আত্মহত্যার চিন্তারও । তরুন পাঠক এদের উপস্থিতি হাড়েহাড়ে টের পান যদিও জানেননা না আসল কেমিষ্ট্রি কি ঘটছে তার শরীরে । তার প্রিয়লোকটির সান্নিধ্যে তার শারীরবৃত্তীয় যে অনুরণন উনি টের পান বা যে ঝংকার ওঠে তার শরীরে তা আর কিছু নয় এই Adrenaline এবং Noradrenaline এর দোলাচল । আপনি মানুন আর না-ই মানুন, আপনি স্বাভাবিক মানুষ হলে এই কেমেষ্ট্রির হাত থেকে আপনার রেহাই নেই ।

তবে হ্যাঁ, আপনি এগুলোকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন । আর এখানেই রয়েছে আপনার “কারিশমা” ।
আপনি কি জানেন, আপনার শরীর প্রকারান্তরে একটি “বায়োলজিক্যাল ওয়াচ” বা “Circadian watch”এটাকে আপনি যে ভাবে টিউন করবেন বা এ্যালার্ম দিয়ে রাখবেন আপনার শরীর স্বয়ংক্রিয় ভাবে ঠিক সেভাবেই কাজ করে যাবে ।

এই যে রোজা গেল, আপনার খাদ্যাভাসের সময় উল্টেপাল্টে হয়ে গেছে প্রথম ক’দিন । প্রথম প্রথম ক্ষুধার কষ্ট হয়েছে, পরে আর কষ্ট হয়নি । অর্থাৎ আপনার শরীরের নিউরোট্রান্সমিটারগুলিকে তথা আপনার মগজকে আপনি নির্দেশ দিয়েছেন (আপনার অজান্তেই) সকালবেলা নো ব্রেকফাষ্ট, দুপুরে নো লাঞ্চ, সন্ধ্যায় প্রথম খাওয়া (ব্রেকফাষ্ট/ইফতার) আবার রাত তিনটেয় ডিনার বা সেহরী ।অর্থাৎ আপনি আগের দৈনন্দিনের খাওয়ার রুটিন পাল্টে দিয়েছেন ।আপনার শরীর ক’দিন পরে তাতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে ।য়্যু হ্যাভ রি-টিউনড ইয়োর বডি টাইমিং সিষ্টেম । খেয়াল করেছেন হয়তো, ঈদের দিন সকালে আপনার ক্ষিধে লাগেনি । আপনার শরীর রোজার মাসটিতে জেনেছে সকালে তার “Hunger Center”কে কাজ করতে হবেনা । তাই সকালে আপনার ক্ষিধে পায়নি । ঠিক ইফতারের সময়টাতেই ক্ষিধে পেয়েছে ।ঈদের ক’দিন পরেই আবার তা আগের অবস্থায় ফিরে যাবে কারন আপনি আবার মগজটিকে প্রাকটিস করিয়েছেন, সকালে ব্রেকফাষ্ট, দুপুরে লাঞ্চ ইত্যাদি ইত্যাদি ।

তেমনি আপনার ভালোলাগা, মন্দলাগা, রাগ-অভিমান ইত্যাদিকেও আপনি নিয়ন্ত্রিত করতে পারেন যদি প্রাকটিস করতে পারেন নিয়মিত । আপনি নিজেই এর নিয়ন্তা । কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই এখানে ।
original post
read more

Saturday, March 17, 2012

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সেরা ৫ সানগ্লাস B-)B-)

সানগ্লাস এর রয়েছে অনেক রকম ব্র্যান্ড। কারণে অকারণে অনেকেই আছেন সানগ্লাস কিনে থাকেন। ফ্যাশন সচেতন তরুণ / তরুণীদের কাছে সানগ্লাসের চাহিদা অনেক বেশি। প্রখর রোদের তাপ থেকে বাচতেও সানগ্লাস ব্যবহার করা হয়।

এইবার আসুন জেনে নেই বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সেরা ৫ সানগ্লাস এর কথা।

১। ডলস এন্ড গাবান্না ডি জি ২০২৭ বি

দাম মাত্র ৩, ৮৩, ৬০৯ ডলার

ব্রাউন সেইপের ফ্রেমটী গোল্ডের তৈরি। ব্র্যান্ড লোগো ডায়ামন্ড এর যা লেখা আছে এর গ্লাস এর সাইডে।

২। লাক্সারিয়েটর স্টাইল ২৩

দাম মাত্র ৬৫, ০০০ ডলার

এতে বাফেলো আইভোরি টেম্পেলস এবং ১৩২ ডায়ামন্ড সেট করা আছে ১৮ ক্যারেটের গোল্ড ফ্রেমের মধ্যে। ডায়ামন্ড এর ওয়েট ২ ক্যারেট করে যা ডান পাশের গ্লাস এ সেট করা।

৩। মস লিপো

দাম মাত্র ৩, ৮০০ ডলার

৪। ক্রম হার্টস কুফান্না

দাম মাত্র ১, ৩৫০ ডলার

এর রিম তৈরি করা হয়েছে টিটেনিয়াম দিয়ে সাথে স্টারলিং সিলভার এবং টেম্পল তৈরি করা হয়েছে এক্সোটিক wood থেকে।

৫। লুইস ভুটন ইভাসিয়ন

দাম মাত্র ১, ২০০ ডলার

টিটেনিয়ামের ফ্রেম দিতে এই সানগ্লাস বানানো হয়েছে।
original post
read more

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সেরা ৫ সানগ্লাস B-)B-)

সানগ্লাস এর রয়েছে অনেক রকম ব্র্যান্ড। কারণে অকারণে অনেকেই আছেন সানগ্লাস কিনে থাকেন। ফ্যাশন সচেতন তরুণ / তরুণীদের কাছে সানগ্লাসের চাহিদা অনেক বেশি। প্রখর রোদের তাপ থেকে বাচতেও সানগ্লাস ব্যবহার করা হয়।

এইবার আসুন জেনে নেই বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সেরা ৫ সানগ্লাস এর কথা।

১। ডলস এন্ড গাবান্না ডি জি ২০২৭ বি

দাম মাত্র ৩, ৮৩, ৬০৯ ডলার

ব্রাউন সেইপের ফ্রেমটী গোল্ডের তৈরি। ব্র্যান্ড লোগো ডায়ামন্ড এর যা লেখা আছে এর গ্লাস এর সাইডে।

২। লাক্সারিয়েটর স্টাইল ২৩

দাম মাত্র ৬৫, ০০০ ডলার

এতে বাফেলো আইভোরি টেম্পেলস এবং ১৩২ ডায়ামন্ড সেট করা আছে ১৮ ক্যারেটের গোল্ড ফ্রেমের মধ্যে। ডায়ামন্ড এর ওয়েট ২ ক্যারেট করে যা ডান পাশের গ্লাস এ সেট করা।

৩। মস লিপো

দাম মাত্র ৩, ৮০০ ডলার

৪। ক্রম হার্টস কুফান্না

দাম মাত্র ১, ৩৫০ ডলার

এর রিম তৈরি করা হয়েছে টিটেনিয়াম দিয়ে সাথে স্টারলিং সিলভার এবং টেম্পল তৈরি করা হয়েছে এক্সোটিক wood থেকে।

৫। লুইস ভুটন ইভাসিয়ন

দাম মাত্র ১, ২০০ ডলার

টিটেনিয়ামের ফ্রেম দিতে এই সানগ্লাস বানানো হয়েছে।
original post
read more

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সেরা ৫ ডায়ামন্ড রিং B-)B-)

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিরিজ পোস্টে এইবার আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম ডামামন্ড রিং। এই পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সেরা ৫ ডায়ামন্ড রিংযের কথা। আসুন জেনে নেই -


১। পিংক ডায়ামন্ড রিং

রেয়ার এই রিং এর দাম মাত্র ১০ দশমিক ৮ মিনিয়ন ডলার।

২। ব্লু ডায়ামন্ড রিং

দাম মাত্র ৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার।

৩। ওভাল কাট ডায়ামন্ড রিং

দাম মাত্র ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার।

৪। ডি বিয়ারস প্লাটিনাম

দাম মাত্র ১ দশমিক আট তিন মিলিয়ন ডলার।

৫। এলিজ়াবেথ টেইলর ডায়ামন্ড রিং

দাম মাত্র ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার।

original post
read more
affiliate program

EARN INCOME FROM YOUR WEBSITE

Turn your valuable web site traffic into income. Work online and join our free money making affiliate program. We offer the most pay-per-click rate to help maximize your cash stream.

Join our income making program absolutely free and 100% risk free.

Sign Up...

A steady income generator

Imagine running of a something that never failed to provide you with cash-flow. A earning money program so amazingly profitable that you never had to look for job ever again!Income while you sleep

CASH WHILE YOU SLEEP

Earn $1,000... $2,000... $5,000...

Turn your website visitors into cash!
You get money for every visitor that clicks on our advertizing. Our goal is to enable you to make as much as possible from your site. We pay monthly, either by check, or through PayPal.

Begin collecting steady partner commissions

Our money making program really can make you income on the same day. Start receiving steady partner revenue with almost no effort at all. This is a serious revenue opportunity, the chance for you to build a steady, reliable, long-time profitable business.

Savings Highway Dream Team Member Site Savings Highway Dream Team Member Site