by মাহবু১৫৪
আমার জীবনে প্রথম কোন কাজ কাউকে কিছু না বলে করা আর প্রথম বারই ধরা খাওয়া চরম ভাবে। আজ অনেক অনেক বছর পর সেই কথাই আপনাদের বলবো। যা বেশ কিছুদিন ধরে আমার খুব মনে পরছে। আমাকে বার বার নষ্টালজিক করে দিচ্ছে।
তখন খুব সম্ভব ৭/৮ এ পড়ি। এলিফ্যান্ট রোডে এক ইংরেজি শিক্ষকের কাছে পড়তাম আমি। আসলে উনার খবর পেয়েছিলাম আমার এক কাজিনের কাছ থেকে। সেও পড়তো বলে আমার বাসা থেকে বলা হল আমাকেও যেতে হবে। আর তাই শিক্ষকের বাসায় যাওয়া। প্রতি সপ্তাহে উনার কাছে যেতাম ৩ দিন। আমি সেই শিক্ষকের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ যে উনি আমাকে ইংরেজিতে অনেক গাইড করেছেন। যদিও এস এস সি তে ভাল পাই নি বলে ফলাফলের পরে স্যার এর সাথে দেখা করি নি। হয়ত উনি বেশ নাখোশ হয়েছিলেন।
আসল ঘটনায় আসি। আমি স্যার এর বাসায় নিয়মিত যেতাম। আর কেউ না গেলেও আমি যেতাম। একদিন ঠিক করলাম তার বাসায় না গিয়ে ছিঃনেমা দেখতে যাবো। সেই সময়ে নায়িকা পপির বেশ সুনাম ছিল। বেশ কয়েকটা ছবি হিট হওয়াতে বেশ নামডাক পরে গিয়েছিল। তো আমিও ঠিক করেছিলাম জীবনে কাউকে কিছু না বলে পপির ছিঃনেমা দেখতে যাবো। যে ছিঃনেমা দেখতে যাবো সেই ছিঃনেমা দেখতে যাওয়ার পিছনে কারণ ছিল পপির একটা বৃষ্টি ভেজা গান (...............)।
স্যার এর বাসায় পড়তে যেতাম দুপুর ৩ টায়। আর পড়া শেষ হত বিকেল ৫ টায়। আমি প্রতিদিনের মত বাসা থেকে বের হয়েছিলাম গাড়ি নিয়ে। ঠিক জায়গায় ড্রাইভারকে গাড়ি রাখতে বলে আমি স্যার এর বাসায় না গিয়ে ৩ টার শো ধরতে হলে উপস্থিত হয়ে গেলাম। যথারীতি কাপাকাপা হাতে টিকেট কেটে হলে প্রবেশ করেছিলাম। ছিঃনেমার ব্রেকের সময় ভেবেছিলাম চলে আসবো। কিন্তু কি মনে করে যেন থেকে গেলাম।
এটাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। আমার বড় ভাই তখন আবার এলিফ্যান্ট রোডের একটি ব্যাংকের ব্রাঞ্চে চাকরি করতেন। উনি ৫ টার পর অফিস থেকে বের হয়ে রাস্তায় দেখতে পেলেন আমাদের গাড়ি। উনার সন্দেহ হল। কারণ এই সময়ে গাড়ি এখানে থাকার কথা নয়। উনি সাথে সাথে বাসায় ফোন দিলেন। আমার কথা জানতে চাইলেন যে আমি এসেছি কি না। আব্বার সাথে কথা বললেন। কিন্তু কেউ কোন সঠিক উত্তর দিতে পারলো না।
এর মধ্যে আবার আব্বা আমার স্যার এর বাসায় ফোন দিয়ে স্যার এর কাছ থেকে জেনে নিলেন আমি এসেছি কি না। কিন্তু স্যার না সূচক উত্তর দিলেন। এরপর শুরু হল আসল কাহিনি। উত্তেজনা সবার চরমে উঠে গেল। সবাই টেনশনে পরে গেল। আম্মা কান্নাকাটি করে অস্থির হয়ে গিয়েছিলেন। বাসায় সবার ছোট ছেলে কি তাহলে হারিয়ে গেল?
আব্বা খোঁজাখুজি করতে লাগলেন আমার ভাইকে নিয়ে। এর মাঝে আবার আব্বাও চলে আসলেন এলিফ্যান্ট রোডে।
এদিকে আমি ৬ টার পর হল থেকে বের হয়ে রাস্তায় এলাম। আমি তখনো ধারণা করতে পারিনি কি ঘটতে যাচ্ছে আমার। তারপরও বেশ ভয় ভয় করছিল। রাস্তায় নেমে গাড়ির পাশে আব্বা আর ভাইয়াকে দেখতে পেয়ে তো আমার আত্মা রাম খাচা ছাড়া অবস্থা। আমাকে দেখে যেন তারা আকাশের চাদ হাতে পেলেন। আমাকে দেখে আব্বা জানতে চাইলেন কই গিয়েছি। আমি অবাক হয়ে বলেছিলাম – কেন, স্যার এর বাসা থেকে আসলাম! উনি বললেন যে – কিন্তু তুমি তো স্যার এর বাসায় আজকে যাও নি! উনার সাথে আমার কথা হয়েছে।
পরে আমাকে আব্বা বললেন যে বাসায় চল তারাতারি। তোমার আম্মা কান্নাকাটি শুরু করেছে তোমার খোঁজ না পেয়ে। এর মাঝে আবার ভাইয়া কানে কানে জানতে চাইলেন যে ছিঃনেমা দেখতে গিয়েছিলাম কি না। পরে তাঁদের ক্রমাগত চাপাচাপিতে স্বীকার করে নিতে হয়েছিল যে আমি হলে ছিঃনেমা দেখতেই গিয়েছিলাম।
বাসার গেটে যেয়ে নামতেই বুঝতে পারলাম আমার কপালে আজ দুঃখই আছে। আস্তে আস্তে মাথা নিচু করে দুরু দুরু বুকে রুমে যেয়ে বসতেই একের পর এক সবার প্রশ্ন বানে জর্জরিত হতে থাকলাম। আব্বা আবার বাসায় এসেই স্যার এর বাসায় ফোন করে জানিয়ে দিলেন যে আমাকে পাওয়া গিয়েছি। তবে স্যার কে বলেন নি যে আমি ছিঃনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। উনাকে বলা হয়েছিল আমার এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম।
এর মধ্যে আম্মা এসে আমার কাছে বসে সমানে বকাঝকা করতে লাগলেন। হয়ত কানটাও টেনেছিলেন। এখন মনে পরছে না ঠিকমত। এরপর আব্বাও ঝারি টারি মেরে বলেছিলেন এভাবে টিচারের বাসায় যাওয়া বন্ধ করে যেন আর কোথাও না যাই কখনো। আমিও বাধ্য ছেলের মত সে কথা মেনে নিয়েছিলাম। আমার বোনেরা এর মাঝে আবার জেনে নিয়েছিলেন যে কোন ছিঃনেমা দেখতে গিয়েছিলাম।
যা অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এরপর আরো কয়েকবার হলে গিয়েছিলাম ছিঃনেমা দেখতে তবে স্যার এর বাসায় পড়া বাদ দিয়ে নয়। এরপর থেকে আর ধরা খায়নি।
original post
আমার জীবনে প্রথম কোন কাজ কাউকে কিছু না বলে করা আর প্রথম বারই ধরা খাওয়া চরম ভাবে। আজ অনেক অনেক বছর পর সেই কথাই আপনাদের বলবো। যা বেশ কিছুদিন ধরে আমার খুব মনে পরছে। আমাকে বার বার নষ্টালজিক করে দিচ্ছে।
তখন খুব সম্ভব ৭/৮ এ পড়ি। এলিফ্যান্ট রোডে এক ইংরেজি শিক্ষকের কাছে পড়তাম আমি। আসলে উনার খবর পেয়েছিলাম আমার এক কাজিনের কাছ থেকে। সেও পড়তো বলে আমার বাসা থেকে বলা হল আমাকেও যেতে হবে। আর তাই শিক্ষকের বাসায় যাওয়া। প্রতি সপ্তাহে উনার কাছে যেতাম ৩ দিন। আমি সেই শিক্ষকের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ যে উনি আমাকে ইংরেজিতে অনেক গাইড করেছেন। যদিও এস এস সি তে ভাল পাই নি বলে ফলাফলের পরে স্যার এর সাথে দেখা করি নি। হয়ত উনি বেশ নাখোশ হয়েছিলেন।
আসল ঘটনায় আসি। আমি স্যার এর বাসায় নিয়মিত যেতাম। আর কেউ না গেলেও আমি যেতাম। একদিন ঠিক করলাম তার বাসায় না গিয়ে ছিঃনেমা দেখতে যাবো। সেই সময়ে নায়িকা পপির বেশ সুনাম ছিল। বেশ কয়েকটা ছবি হিট হওয়াতে বেশ নামডাক পরে গিয়েছিল। তো আমিও ঠিক করেছিলাম জীবনে কাউকে কিছু না বলে পপির ছিঃনেমা দেখতে যাবো। যে ছিঃনেমা দেখতে যাবো সেই ছিঃনেমা দেখতে যাওয়ার পিছনে কারণ ছিল পপির একটা বৃষ্টি ভেজা গান (...............)।
স্যার এর বাসায় পড়তে যেতাম দুপুর ৩ টায়। আর পড়া শেষ হত বিকেল ৫ টায়। আমি প্রতিদিনের মত বাসা থেকে বের হয়েছিলাম গাড়ি নিয়ে। ঠিক জায়গায় ড্রাইভারকে গাড়ি রাখতে বলে আমি স্যার এর বাসায় না গিয়ে ৩ টার শো ধরতে হলে উপস্থিত হয়ে গেলাম। যথারীতি কাপাকাপা হাতে টিকেট কেটে হলে প্রবেশ করেছিলাম। ছিঃনেমার ব্রেকের সময় ভেবেছিলাম চলে আসবো। কিন্তু কি মনে করে যেন থেকে গেলাম।
এটাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। আমার বড় ভাই তখন আবার এলিফ্যান্ট রোডের একটি ব্যাংকের ব্রাঞ্চে চাকরি করতেন। উনি ৫ টার পর অফিস থেকে বের হয়ে রাস্তায় দেখতে পেলেন আমাদের গাড়ি। উনার সন্দেহ হল। কারণ এই সময়ে গাড়ি এখানে থাকার কথা নয়। উনি সাথে সাথে বাসায় ফোন দিলেন। আমার কথা জানতে চাইলেন যে আমি এসেছি কি না। আব্বার সাথে কথা বললেন। কিন্তু কেউ কোন সঠিক উত্তর দিতে পারলো না।
এর মধ্যে আবার আব্বা আমার স্যার এর বাসায় ফোন দিয়ে স্যার এর কাছ থেকে জেনে নিলেন আমি এসেছি কি না। কিন্তু স্যার না সূচক উত্তর দিলেন। এরপর শুরু হল আসল কাহিনি। উত্তেজনা সবার চরমে উঠে গেল। সবাই টেনশনে পরে গেল। আম্মা কান্নাকাটি করে অস্থির হয়ে গিয়েছিলেন। বাসায় সবার ছোট ছেলে কি তাহলে হারিয়ে গেল?
এদিকে আমি ৬ টার পর হল থেকে বের হয়ে রাস্তায় এলাম। আমি তখনো ধারণা করতে পারিনি কি ঘটতে যাচ্ছে আমার। তারপরও বেশ ভয় ভয় করছিল। রাস্তায় নেমে গাড়ির পাশে আব্বা আর ভাইয়াকে দেখতে পেয়ে তো আমার আত্মা রাম খাচা ছাড়া অবস্থা। আমাকে দেখে যেন তারা আকাশের চাদ হাতে পেলেন। আমাকে দেখে আব্বা জানতে চাইলেন কই গিয়েছি। আমি অবাক হয়ে বলেছিলাম – কেন, স্যার এর বাসা থেকে আসলাম! উনি বললেন যে – কিন্তু তুমি তো স্যার এর বাসায় আজকে যাও নি! উনার সাথে আমার কথা হয়েছে।
পরে আমাকে আব্বা বললেন যে বাসায় চল তারাতারি। তোমার আম্মা কান্নাকাটি শুরু করেছে তোমার খোঁজ না পেয়ে। এর মাঝে আবার ভাইয়া কানে কানে জানতে চাইলেন যে ছিঃনেমা দেখতে গিয়েছিলাম কি না। পরে তাঁদের ক্রমাগত চাপাচাপিতে স্বীকার করে নিতে হয়েছিল যে আমি হলে ছিঃনেমা দেখতেই গিয়েছিলাম।
বাসার গেটে যেয়ে নামতেই বুঝতে পারলাম আমার কপালে আজ দুঃখই আছে। আস্তে আস্তে মাথা নিচু করে দুরু দুরু বুকে রুমে যেয়ে বসতেই একের পর এক সবার প্রশ্ন বানে জর্জরিত হতে থাকলাম। আব্বা আবার বাসায় এসেই স্যার এর বাসায় ফোন করে জানিয়ে দিলেন যে আমাকে পাওয়া গিয়েছি। তবে স্যার কে বলেন নি যে আমি ছিঃনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। উনাকে বলা হয়েছিল আমার এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম।
এর মধ্যে আম্মা এসে আমার কাছে বসে সমানে বকাঝকা করতে লাগলেন। হয়ত কানটাও টেনেছিলেন। এখন মনে পরছে না ঠিকমত। এরপর আব্বাও ঝারি টারি মেরে বলেছিলেন এভাবে টিচারের বাসায় যাওয়া বন্ধ করে যেন আর কোথাও না যাই কখনো। আমিও বাধ্য ছেলের মত সে কথা মেনে নিয়েছিলাম। আমার বোনেরা এর মাঝে আবার জেনে নিয়েছিলেন যে কোন ছিঃনেমা দেখতে গিয়েছিলাম।
যা অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এরপর আরো কয়েকবার হলে গিয়েছিলাম ছিঃনেমা দেখতে তবে স্যার এর বাসায় পড়া বাদ দিয়ে নয়। এরপর থেকে আর ধরা খায়নি।
original post


No comments:
Post a Comment