Showing posts with label Feelings. Show all posts
Showing posts with label Feelings. Show all posts

Saturday, February 4, 2012

ছেলে মেয়ের সম্পর্কের পিছনের দ্বন্দ......

by তন্ময় ফেরদৌস



আগে একটা প্রশ্নের উত্তর দিন- "ছেলে ও মেয়ের মাঝে কি সতস্ফুর্ত এবং সহজ বন্ধুক্ত হয়া সম্ভব ?"


এবার প্রশ্নের উত্তর ভাবতে ভাবতে আমার কিছু চিন্তা ভাবনা শুনে নিন।



শুরু করি বিখ্যাত এক লেখকের অভিজ্ঞতা দিয়ে।

" আমি তখন সবে মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছি। আআর প্রতিবেশী একজন ছেলে আমার ক্লাশেই অন্য এক স্কুলে পড়তো। পড়াশোনায় সাহায্য, ঘুরে বেড়ানো, গল্প করা- সবি তার সাথে এমন অনায়াসে ঘটতো, আমরা কখনোই বুঝে উঠার অবকাশ পাইনি, আমরা দুজন ছেলে এবং মেয়ে - এরকম আলাদা দুটি সত্তা। সেই সময় আমার এক যায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব এলো। যে প্রস্তাব নিয়ে এসেছে সে আমার পাশে দাঁড়ানো সেই ছেলেকে দেখে প্রশ্ন করে উঠলো, "ও তোমার কে হয় ?"

আমার অবচেতন মন আড়ষ্ট কন্ঠে বলে উঠে- "ও আমার প্রতিবেশি, আমার ভাই।"


-----------------------------------------




ছেলে মেয়ের বন্ধুক্তকে আমরা বাঙ্গালীরা কখনোই সহজ ভাবে মেনে নিতে পারিনি। অন্তত বেশিরভাগ মানুষের বেলাতেই। জাতিগতভাবেই আমরা হিপোক্রেট। হয়ত মেনে নিতে পারি- ছেলে মেয়ের মাঝে পিওর বন্ধুক্ত সম্ভব। অথচ তার পরেই কোন বন্ধুকে তার বান্ধবীর সাথে রিক্সায় যেতে দেখলে বাকা চোখে তাকাতেও দ্বিধাবোধ করিনা। তার মানে নিজেকে প্রগতিশিল বা মুক্তমনা ভাবতে আমাদের ভালো লাগে, তবে ইমপ্লিমেন্টেশনের যায়গায় আমরা ব্যার্থ।



ছেলে এবং মেয়েতে কখনোই বন্ধুক্ত হতে পারেনা, এই কথাটি যারা বিশ্বাস করেন, তারা এই বিশ্বাসের পিছনে অবচেতন এক আকর্ষন কে দায়ী করেন। এ আকর্ষন কি শারিরিক, নাকি প্রচলিত সমাজ ব্যাবস্থার মানসিক ম্যানুপুলেশন, তার উত্তর নিয়ে সন্দেহ আছে।
আমার দু এক জেনারেশন আগেও বন্ধুক্ত ব্যাপারটি শুধু সমলিঙ্গে সীমাবদ্ধ ছিলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। গ্রামে কিংবা মফস্বলে আমরা এখনো দেখি একই গ্রামে বড় হয়া, একই বাতাস আর ধুলাবালিতে গড়ানো কোন এক পুরুষকে দেখে গ্রাম্য বধু মাথায় টেনে দেয় ঘোমটা। অথচ সম্পর্ক টা হতে পারত নির্মল এক বন্ধুক্তের। "বন্ধু " শব্দটার মত পবিত্র একটা সম্পর্ককে আমরা বন্ধ করে রাখছি। যে মেয়ের একাধিক ছেলে বন্ধু, তাকে নিয়ে আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি। সেইম ব্যাপার ছেলেদের বেলায় ও খাটে, যদিও কিছুটা কম।

এই সমস্যার একেবারে বেসিক দিকে অবজার্ভ করলে দেখা যায়, সমস্যার সূত্রপাত হচ্ছে শৈশবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছেলে মেয়ে আলাদা স্কুলে পড়ে, আলাদা নিয়ম নীতিতে বড় হয়, আলাদা যাপিত জীবনে অভ্যস্ত হয়। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ক্যারিয়ার কাইফে এক হলেও তাদের মাঝে থেকে যায় চিন্তা চেতনার বিরাট এক পার্থক্য। এই পার্থক্য তাদের এক হতে বাধা দেয়, বাধা দেয় তাদের কমিউনিকেশন পারফরমেন্সেও।

বলা হয়- "ছেলেমেয়ের মাঝে বেশি মেলামিশা ঠিক নয়।" দুইটা শিশুকে শিশু হিসেবে না দেখে ছেলে বাচ্চা মেয়ে বাচ্চা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা তাদের মাঝে সৃষ্টি করে এক বৈষম্য। এই বৈষম্যই পরবর্তীতে তৈরি করে আড়োষ্ঠতা, জড়তা। তারা নিজেদের নিয়ে অন্যরকম করে ভাববার প্রয়াস পায়। " ও আচ্ছা, আমরা তাহলে দুইটা আলাদা সত্তা ! " বাস, চিরদিন ধরে দেখা মেয়েটা ছেলেটার কাছে হয়ে উঠে রহস্যময়ী, অন্যরকম আকাঙ্খার। আর ছেলেটা মেয়েটার কাছে হয়ে উঠে বাইরের মানুষ, পরপুরুষ।

দুটি ভিন্নস্থানে , ভিন্ন পার্পেক্টিভে বড় হয়া ছেলেমেয়েদের মাঝে এ আকর্ষন কে কি বলে অভিহিত করা যায় ? একে না বলা যায় প্রেম, না বলা যায় সহজ বন্ধুক্ত। এ সম্পর্কের নাম কি তবে ?

দ্বিতীয়বার ধাক্কাটা আসে অন্যদিক থেকে। বলছি-

আমি আগে যে উদাহরন টা দিলাম, তার শুরু হয় নিজ পরিবার থেকে। সোশালাইজেশনের প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র পরিবার হলেও , এখানে পরিবার কাজ করে স্পন্টেনিয়াস সোশালাইজেশনের বিপক্ষে।

কো এডুকেশনে পড়া ছেলেমেয়ের মাঝে এই সমস্যা কম দেখা যায়। তারা সাধারনত অনেক সতস্ফুর্ত হয়। তারা ছেলে- মেয়ের বাধা ডিঙ্গিয়ে আগে নিজেদের মানুষ ভাবার সুযোগ পায়। পরে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে তাদের মাঝে আর কোন জড়তা কাজ করেনা। একসাথে স্টাডি, হ্যাং আউট আর ফান চলে সমানতালে। এই সাবলিলতার যায়গাটা রুদ্ধ হয়ে যায় দ্বীতিয় ধাক্কায়। সেটা হলো- বিয়ে। সেই জন্মের পর থেকে একই বৃত্তে বড় হয়া ছেলেদের সাথে মেয়েটি তার স্বামীদের পরিচয় করিয়ে দেয়- সহপাঠী বলে, বন্ধু বলে নয়।

ব্লগে আমার বয়সী যারা আছেন, অর্থাৎ সদ্য গ্রাজুয়েশন করা বা করছে, এমন বয়সী- তারা এটা খুব ভালো বুঝতে পারবেন। কারন এই সময়টাতে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। নিজের ভার্সিটির বন্ধুবান্ধবের মাঝেই এই উদাহরন অনেক দেখা যাবে। কত বন্ধুদের যে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, সেই সাথে ফ্রেন্ডশিপের সীমানার বাইরে চলে যাচ্ছে কত জন......

কখনো কখনো স্বামী নিজেকে উদার প্রমান করতে স্ত্রির বন্ধুদের সাথে আড্ডায় যোগ দিলেও স্ত্রী অবচেতনভাবেই সতর্ক হয়ে উঠে।সেই ধাক্কাধাক্কি, বকাঝকা আর ফ্রেন্ডশিপের সম্পর্কটা গিয়ে দাঁড়ায় ফরমাল এক পরিমিতবোধের যায়গায়।


অন্যদিক দিয়ে চিন্তা করি।


অনেক সময় দেখা যায়, তিনজন ছেলে বন্ধু একজন মেয়ে বন্ধুর কাছে কতটা গুরুত্বপুর্ন, এই শজ ইর্ষায় জড়িয়ে পড়ে নিজেদের, মেয়েটার এবং বন্ধুক্তের যায়গাটা সঙ্কটাপন্ন করে তুলে। নিজেরা একজন আরেকজনকে ভুল বুঝে। এই সন্দেহ প্রকাশ করে- হয়তো কেউ একজন মেয়েটির বন্ধু নয়, বরং প্রেমানুরাগী। এতে করে বন্ধুক্তের যে মূল যায়গা, পরস্পরের প্রতি মমতা, সহমর্মিতা, তা নষ্ট হয়ে যায়।

গভীর বন্ধুক্ত যে প্রেমে গড়ায় না, তা নয়, বরং সেই সম্পর্ক প্রেমে ফড়ালে তা অনেক সহজ হয়ে যায়। বন্ধু হিসেবে আগে থেকেই দুজন দুজনকে জানার সুযোগ থাকায় বিয়েপরবর্তি অনেক ঝঞ্জাট এড়ানো যায়। কিন্ত সব সম্পর্ক প্রেমে ফড়াবে এমন একটা ধারনা থেকে যখন অভিভাবকগন একটি নির্মল বন্ধুক্তের ক্ষেত্রে সতর্ক্তা তৈরি করেন, তখন সেই নির্মলতার মধ্যে কিছুটা অসস্তি চলে আসে।




এত সব কিছুর ভিড়েও ছেলেমেয়েতে নির্মল বন্ধুক্ত হয়, অভিভাবকদের ঢুকিয়ে দেয়া তারা সশিক্ষায় উপড়াতে পারে বলেই সেই বন্ধুক্তটা হতে পারে। কোথাও বন্ধুক্তের ক্ষেত্রে জন নেয় অন্যরকম এক দুর্বলতা। কিন্ত সব বিষয় কে এক ছকে ফেলে ছেলেবেলা থেকেই তাদের মধ্যে সন্দেহের বীজ ঢুকিয়ে দুটি সত্তাকে সারা জীবনের জন্য সরলতামুক্ত করে তোলার কোন অর্থ নেই।



আমি এই পোস্টে শুধু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করলাম। তবে এর পিছে ধর্মের অনেক গুরুত্বপুর্ন একটা ভুমিকা উল্লেখ করা হলোনা । উল্লেখ করা হলোনা বায়োলজিকাল এবং সাইকোলজেকাল পার্স্পেকটিভ। পরে অন্য কোন পোস্টে হয়তো অন্য কোন পয়েন্ট অফ ভিউ আসবে।



এগুলো সব ই আমার একান্ত অনুভূতি, দ্বিমত থাকতে পারে, তবে তাতে করে মূল ব্যাপারটা মনে হয় খুব একটা পরিবর্তন হবেনা।
original post
read more

Tuesday, November 15, 2011

স্নেহময় বাবা অথবা ভাগ্যহীন আমি !!



-আব্বু , এই নদীটার নাম কি ??
-জানি না
আব্বু , এটা কি বুড়িগঙ্গা ??
-না আব্বু , এটা মনে হয় শীতলক্ষা ।
তাহলে এই জায়গাটার নাম কি ??

বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরছি । ঘুমপাগল আমি ঘুমানোর জন্যই ট্রেনের ভাড়ার ৩ গুণ টাকা আর পুরো জীবনের নিরাপত্তা মহান ড্রাইভার সাহেবের হাতে সপে দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাবো এটাই সাধ ছিল । কিন্তু আমার সাধের বাধ ভেঙ্গে দিল এই বিচ্ছু । বসেছে আমার পাশে , তাঁর বাবার কোলে । কিন্তু যখনই ঘুমাতে যাই তখনই একটা না একটা প্রশ্ন !! ইচ্ছা করছে , কষে একটা থাপ্পড় লাগাই কিন্তু নিজেকে সংযত রাখলাম বহু কষ্টে !! ঘুমটা আর আসছে না । X( X( X(

ভাবছি, আমার বাবা থাকলেও কি এমনি হতো ? আমি একটার পর একটা অবান্তর প্রশ্ন করতাম আর আমার বাবা সেগুলো উত্তর দিয়ে যেতো । জানি না , কিন্তু এটা বুঝতে পারছি আমি বাবা হলে এটা মোটেও সহ্য করতাম না !! /:) /:) /:)

কিছুক্ষণ পরই আমাদের বাসের আগের একটি বাস দুর্ঘটনায় পড়ল আর সেই এলাকার পুরো সবাই লাঠি ইট নিয়ে বাকি সব বাস ধাওয়া করলো । আমি মোটামোটি নিশ্চিত আজকে কপালে খারাপই আছে । ব্যাগ হাতে নিয়ে বসে আছি কখন ভাংচুর শুরু হয় আর আমি কোনভাবে নিজের জীবন নিয়ে ভাগি । :(( :(( :((

-আব্বু,বাসটা কি ভেঙ্গে ফেলবে ??
-না,কিছু হবে না । আল্লাহকে ডাকো ।
-আব্বু, মানুষ বাস ভাঙ্গবে কেনো ??
-ভাংবেনা দেখো ।

আরে এ তো মহা যন্ত্রণা !! এই পরিস্থিতিতে কেউ এসব প্রশ্নের উত্তর দেয় নাকি ?? মা হলে একটা কথা কিন্তু একজন বাবার পক্ষে কিভাবে সম্ভব এতো সহ্য করে কথা বলা । অনেকক্ষণ পর বাস চলা শুরু করলো আবার । পথের মাঝে এটা-সেটা, অমুক-তমুক ইত্যাদি প্রশ্ন করে ওর আব্বুকে অনেক ব্যস্ত রাখল সে । :| :| :|

আমি বাকি সময়টা যখন বুঝলাম যে আজকে আর ঘুমানোর সম্ভাবনা নেই ওর কথাগুলো শুনছিলাম আর ভাবছিলাম নিজের বাবার কথা ।
সে আমার সাথেও কথা জমানোর চেষ্টা করলো কিন্তু বিফল হলো অনেক । আমি এমনিতেই ক্ষিপ্ত , ওর জন্য ঘুমাতে পারলাম না কিন্তু পরে বুঝলাম এই ব্যাপারটা আমিও উপভোগ করেছি অনেক । :) :) :)

বাস থেকে নামার আগে পর্যন্ত একটা কথাই ভাবছিলাম , আমি ভেবেছিলাম বাবাদের সহ্য করার ক্ষমতা অনেক কম কিন্তু না , বাবারাও কতো স্নেহময় হয় !! নিজের বাবার কথা মনে পড়ছে খুব । বাস থেকে একে একে সবাই নেমে যাচ্ছে , আমি নামার আগে ঐ বাচ্চা আমাকে বললো , “ভালো থাকবেন আংকেল” । :) :)

আমি পিছনে তাকাবো না কারণ আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আছে । আমার অশ্রুসিক্ত হাসিমুখ দেখে ও যদি আবার ওর বাবাকে প্রশ্ন করে বসে ,
“আব্বু, উনি হাসছেন কিন্তু চোখ দিয়ে পানি পড়ছে কেনো ??” /:) /:)

সেই প্রশ্নের উত্তর তোমার বাবা দিতে পারবে না জানি । যিনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন তিনি আজ এই পৃথিবীতেই নেই । তিনি আমার আব্বু । ভালো থেকো তুমি তোমার আব্বু-আম্মুকে নিয়ে ।
original post
read more

নারীর উদ্বেগ সৌন্দর্যে পুরুষের সম্পর্কে

by সৈয়দ ছায়েদ অাহমদ

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌন্দর্য নিয়ে চিন্তায় পড়েন নারী। আর পুরুষ চিন্তিত হন সম্পর্ক নিয়ে। সমাজতাত্তি্বক ড. কেট উডথ্রপ পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
ইউনিভার্সিটি অব বাথ'স সেন্টার ফর ডেথ অ্যান্ড সোসাইটি জানায়, সান লাইফ ডিরেক্ট কস্ট অফ ডায়িং অ্যানুয়াল প্রতিবেদন দেখা গেছে, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নারী ও পুরুষ উভয়েই কিছু কিছু বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আর্থিক বিষয় ও চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর এ দুটি

বিষয় নারী ও পুরুষের জীবনযাপনের ওপর প্রভাব ফেলে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারী-পুরুষের ওপর ওই জরিপ চালানো হয়। সেখানে এক-তৃতীয়াংশ নারী বলেছেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সৌন্দর্য রক্ষা করার ব্যাপারটি তাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে ২১ শতাংশ পুরুষ নিজের চেহারা ও সৌন্দর্য নিয়ে ভাবেন। তবে বেশির ভাগ পুরুষ জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা যৌন সম্পর্ক নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। তবে এটি নিয়ে নারীরা তেমন চিন্তিত নন। মাত্র ১২ শতাংশ নারী এটি নিয়ে চিন্তা করেন।
এ ছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীরা অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও চিন্তায় পড়েন। কারণ বিধবা অবস্থায় নারীদের পক্ষে জীবন ধারণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারকে সময় দিতে গিয়ে অনেক নারীই কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন না। এ কারণে তাদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা থাকে কম।
original post
read more

Thursday, November 3, 2011

আপনার স্ত্রীকে ভালবাসুন ............

by সুফি




স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপনার চায়ে ছোট একটি চুমুক দেয়। কারণ, সে নিশ্চিত হতে চায় চা টি আপনার পছন্দ মত হয়েছে কিনা।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপনাকে নামাজ পড়তে জোর করে। কারণ সে আপনারই সাথে জান্নাতে যেতে চায়।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপনাকে সন্তানদের সাথে খেলা করতে বলে। কারণ সন্তানদের অভিভাবক সে একা নয়।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপানাকে নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়। কারণ, সে অন্য সমস্ত মানুষকে রেখে শুধুমাত্র আপনাকেই বেঁছে নিয়েছে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন তার কিছু দোষ ত্রুটি আপনাকে বিরক্ত করে। কারণ, আপনারও এমন অনেক দোষ ত্রুটি রয়েছে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন তার রান্না খারাপ হয়। কারণ, সে ভাল রান্নার চেষ্টা করেছে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সকাল বেলায় তাকে উষ্কখুষ্ক দেখায়। কারণ, সে আবার আপানরই জন্য সাজগোজ করবে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপনাকে সন্তানের লেখাপড়ায় সাহায্য করতে বলে। কারণ সে চায় আপনাকে সংসারের অংশ হিসেবে পেতে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে জানতে চায় তাকে মোটা লাগছে কিনা। কারণ, আপনার মতামত তার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ; এজন্য তাকে বলুন সে সুন্দর।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন তাকে সুন্দর দেখায়। কারণ সে আপনারই, তাই প্রশংসা করুন।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে তৈরি হতে দীর্ঘ সময় পার করে দেয়। কারণ সে চায় তাকে আপনার চোখে সবচেয়ে সুন্দর লাগুক।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে এমন কোন উপহার দেয় যা আপনার পছন্দ হয়নি। কারণ সে আপনাকে খুশি করতে চায়, তাই তাকে বলুন, ঠিক এমন উপহারই আপনার প্রয়োজন ছিল।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন তার মধ্যে কোন বদঅভ্যাস গড়ে ওঠে। কারণ আপনারও এমন অনেক বদঅভ্যাস রয়েছে; প্রজ্ঞা আর কোমলতার সাথে তার সেই বদঅভ্যাস পরিবর্তন করানোর সময় এখনো আপনার আছে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে অকারণেই কাঁদে। তাকে বলুন সব ঠিক হয়ে যাবে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে PMS বা মাসিক অবসাদ এ ভোগে। তার জন্য চকলেট আনুন, তার পায়ের পাতায় ও কোমরে মালিশ করে দিন, এবং তার সাথে নিছকই গল্প করুন (বিশ্বাস করুন এতে কাজ হয়!)

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যদি সে অসন্তোষজনক কিছু করে ফেলে। এরকম হতেই পারে এবং এর রেষ একসময় কেটেও যাবে।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপনার কাপড়ে ভুলবশতঃ দাগ লাগিয়ে ফেলে। একটি নতুন জামা আপানি এমনিতেও কিনতেন।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে আপনাকে বলে আপনার কিভাবে ড্রাইভ করা উচিৎ। সে শুধু চায় আপনি নিরাপদে থাকুন।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...যখন সে তর্ক করে। সে তাই চায় যা আপানাদের দুইজনের জন্যই ভাল হয়।

স্ত্রী কে ভালবাসুন...সে শুধু আপনারই। এটি ছাড়া তাকে ভালবাসার অন্য কোন বিশেষ কারণেরও প্রয়োজন নেই!!!
original post
read more

Tuesday, November 1, 2011

ভাল থাকতে বাসুন ভালো(সংগৃহীত).....

by তাবন
ভালোবাসা, এই বিষয়টিকে উপেক্ষা করে কেউ যে পথ চলছে সে বিষয়টি হয়ত হলফ করে কেউ বলতে পারবে না। আর এই এখনকার যুগে এই ভালোবাসা সে খুব সহজে হয়ে যায়, আবার খুব সহজে হারিয়ে যায়। তবে শ্রদ্ধা,বিশ্বাস আর অনুভূতি এই তিন বিষয়ের মধ্যে নিহিত আছে আপনার ভালোবাসা রক্ষার মূলসূত্র। আর প্রিয় মানুষটিকে ভালোবাসেন??


নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করে চললে উপকারে আসতে পারে...


• প্রেমিক-প্রেমিকার ভুলটাকে যেমনি ধরিয়ে দেবেন, তেমনি ঠিক তার প্রশংসা করতেও কখনো ভুলবেন না।

• যত বড় ভুলই করুন না কেন বা যত কম গুরুত্বপূর্ণ কথাই হোক না কেন, সেটি কখনোই লুকাবেন না। কারণ, কথাটা ৩য় ব্যাক্তির কাছ থেকে শুনলে সেটি আপনাদের দু`জনের জন্যই কষ্ট বয়ে আনবে।

• যা ঝামেলা রয়েছে সেটা দু`জনে আলোচনা করে দ্রুত মিটমাট করে নিন। কোনো তৃতীয় ব্যক্তিকে সম্পর্কের মাঝে প্রবেশ করতে দেবেন না, তাতে ঝামেলা না কমে বরং বাড়বে।

• যতই মনোমালিন্য হোক দুটি মনের মাঝে, সম্পর্কটা ভাঙ্গতে চাওয়া ঠিক নয় কারন ভাঙ্গার চেয়ে গড়ার আনন্দ অনেক বেশি।

• যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একক আধিপত্য কাম্য নয়, আমি-তুমি চিন্তা না করে সবসময় চিন্তা করুন `আমরা`।

• তাকে সবসময় কথায় বা কাজের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করুন, সে আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও প্রিয় মানুষ।


মনের মানুষটির কাছে মন খুলে ভালোবাসা প্রকাশ করুন, আর ভালোবেসেই ভালো থাকুন সবসময়।

বি: দ্র: একবার যদি কেও ভালবাসতো(সারাজীবণের জন্য)।
original post
read more

Sunday, September 18, 2011

রূপালি টেডি বিয়ার

by রঙধনু


আমি ফাতিমা, আমার বয়স আট। সারাজীবন মানুষের কাছ থেকে শুনে এসেছি আমি অন্যদের চেয়ে আলাদা, সত্যি বলতে, সমবয়সী অন্যদের চাইতে আমার নিজেকে আসলেই আলাদা মনে হয়, আমি যেখানে থাকতাম সে স্থানের জন্যই এমন হয়েছে। আমি স্কুলে যেতাম, অনেক বন্ধু ছিল, বন্ধুরা সবাই সবাইকে খুব ভালবাসতাম, বন্ধুরা বন্ধুর আনন্দে আনন্দিত হতাম দুঃখে হতাম দুঃখিত, তারা আমার কাছে দ্বিতীয় পরিবারের মতই ছিল । আমার একটি পরিবার ছিল, মা ছিল, চার ভাই ছিল এবং একটি বোন ছিল… এখন নেই।

একদিন, যেদিন আমার সব শেষ হয়ে গেল, ঐ দিনের কথা আমার খুব ভাল মনে আছে, কারণ সেদিন ছিল আমার বোনের জন্মদিন। সেদিন আমরা সবাই তাড়তাড়ি উঠে গিয়েছিলাম, সকালে ঘরে অনেক হৈ হুল্লোড় হচ্ছিল, আমার ভাইয়েরা দৌড়াদৌড়ি করে বোনের কাছ থেকে তার উপহার লুকানোর চেষ্টা করছিল, মা একটি দারুন সুগন্ধি কেক তৈরী করছিল এবং আমি তা সাজাতে সাহায্য করছিলাম। তারপর আমরা সবাই বোনকে জ›মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে একত্রিত হলাম, মা চকচকে কাগজে মোড়ানো খুব বড় একটি উপহার দিলেন, আমরা জানতাম না তাতে কি ছিল। আমার বোন মা কে উষ্ণ চুমুতে ধন্যবাদ জানালো। হঠাৎ মায়ের মুখে আমি তীব্র আতঙ্ক দেখতে পেলাম, চোখে ছিল ভয়ানক ভয়ের ছাপ, সেকেন্ডের ভগ্নাংশকাল স্থায়ী ছিল সে দৃষ্টি, এরপর সবই অন্ধকার।

আমি জানিনা কতক্ষণ অচেতন ছিলাম, কিন্তু যখন চোখ মেললাম, আমি অদ্ভুত সব শব্দ শুনতে পেলাম, এটা আমার ভাইদের হুল্লোড়ের শব্দ ছিল না, অনেক মানুষ দৌড়াদৌড়ি করছিল এবং চিৎকার করে কাঁদছিল। অবশেষে আমি বুঝতে পারলাম আমি ধ্বংসস্তুপের মধ্যে রয়েছি….. আমি রাস্তায় এবং আমার মাথার উপরে কোন ছাদ নেই। আমি কাঁদতে শুরু করলাম এবং লক্ষ্য করলাম আমার মত আরো অনেকেই কাঁদছে এবং কারো সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। আমি কোনমতে উঠে দাঁড়ালাম এবং বাকিদের খোঁজার সিদ্ধান্ত নিলাম। “মা” আমি কয়েকবার চিৎকার করে ডাকলাম “মা”… কেউ জবাব দিলনা। আমি হাঁটছি এবং হাঁটছি… আমার মনে হলো আমি অনেকক্ষণ যাবৎ হাটছি, সর্বত্রই একই দৃশ্য, সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে অথবা কিছু ধ্বংসাবশেষ রয়েছে এবং আহত লোকেরা কাঁদছে। আমি শুধু পরিচিত মুখের খোঁজ করছিলাম।

ঠিক সেই সময় আমি ইটের নিচে উজ্জ্বল কিছু একটা দেখতে পেলাম, আমি সেটা হাতে তুলে নিলাম, এটি ছিল উপহার মোড়ানোর একটি কাগজ। সেটি অর্ধেক খোলা এবং সেখানে কিছু একটা ছিল, হ্যাঁ এইতো, একটি সুন্দর একটি রপালী টেডি বিয়ার…যদিও ওটা আর সুন্দর দেখাচ্ছিল না, ওটা ছিড়ে গিয়েছিল এবং তাতে রক্ত লেগে ছিল। আমি উপহারের কাগজটির দিকে আবার তাকালাম, কী আশ্চর্য! এটা সেই কাগজ যা আমার মা আমার বোনকে উপহার মুড়িয়ে দিয়েছিল। “তার মানে সে কাছে কোথাও আছে”- আমি ভাবলাম। আমাকে সাহায্য করার জন্য আমি কাউকে খুঁজছিলাম, সবচাইতে কাছে যে অ্যাম্বুলেন্সটি দেখলাম তার কাছে গেলাম এবং কাউকে সাহায্য করতে বললাম।সবাই ব্যস্ত ছিল তবু একজন রাজি হল আমাকে সাহায্য করতে। আমরা ধ্বংসস্তুপের মধ্যে খুঁজতে শুরু করলাম কিন্তু কাউকে খুঁজে পেলাম না। কিছুক্ষণ পর লোকটি, “সকালে একটি উদ্ধারকারী দল আসবে” এই বলে চলে গেলেন। ধীরে ধীরে রাত ঘনিয়ে এল, আমি কাঁদতে থাকলাম এবং কখনো বাড়ি ফিরতে পারবো কিনা ভাবতে লাগলাম। এটা ছিল একটা ভয়ঙ্কর রাত। আমার কাছে পুরো ব্যাপারটাই একটা টেলিভিশন দৃশ্যের মত মনে হচ্ছিল। এ ধরণের দৃশ্য যখনই টেলিভিশনে দেখানো হতো, মা তখন চ্যানেল পাল্টে ফেলতেন, কারণ তাতে রক্ত এবং রিপোর্টের ভাষ্যে “সহিংসতা” দেখানো হতো। যদিও “সহিংসতা বলতে কী বোঝানো হত তা আমি কখনোই বুঝতাম না। আমি মাকে জিজ্ঞেস করতাম, আমাদের কখনো এমন হবে কিনা, এসব কথা বললে মাকে খুব বিমর্ষ দেখাত এবং তিনি প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলতেন।

আমি টেডি বিয়ারটি হাতে নিয়ে হাঁটতে থাকলাম…কিছু খালি দোকানের পাশ দিয়ে যেতে আমি টিভির শব্দ শুনতে পেলাম। তখন সন্ধ্যার খবর চলছিল এবং তাতে “বোমা” এবং “হামলা” এ ধরনের কিছু নিয়ে বলা হচ্ছিল। আমি সবকিছু ভালভাবে বুঝিনি কিন্তু শত শত মানুষ নিহত হওয়ার ব্যাপারটি বুঝলাম। “শত শত? এত মানুষ!” আমি ভাবলাম, তার মানে আমি আর কখনই আমার পরিবারের কাউকে দেখতে পাবো না? আমি জানি না কিন্তু আমি খুব ভীত ছিলাম এবং অনেক ক্লান্তও। আমি চোখ খোলা রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করছিলাম কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লাম।

ফাতিমা?… ফাতিমা, উঠ…তুমি ঠিক আছো? আমি চোখ খুললাম এবং অবশেষে একটি পরিচিত মুখ দেখতে পেলাম, তিনি ছিলেন আমার চাচা। “আপনি কীভাবে আমাকে খুঁজে পেলেন?” আমি জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে বললেন যে, কি ঘটেছে তিনি শুনেছেন এবং আমাদের খোঁজে তিনি এসেছেন, তিনি সারারাত আমাদের খোঁজ করেছেন। আমিও যে পরিবারের সবাইকে খুঁজেছি তাও আমি তাকে জানালাম।

তখনকার জন্য তিনি আমাকে তার সাথে থাকতে বললেন, তিনি শহরের অন্য দিকে থাকতেন। সেই রাতে আমি ঘুমাইনি, আমার মনে হয় কেউই ঘুমায়নি, সেদিনের ঘটনায় আমরা সবাই শোকাহত ছিলাম। আমি খেয়াল করার আগেই…ভোর হয়ে গিয়েছিল, চাচা আমাকে কিছুক্ষণ ঘুমাতে বললেন, আমাদের আরেকটি দীর্ঘ দিনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কিন্তু আমি সহজেই বুঝতে পারলাম, চাচাও রাতে ঘুমাননি।

চাচার গাড়িতে করে আমরা আমাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম, এক সময়কার পরিচিত দালানগুলোর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দালানগুলোর জায়গায় শূণ্যস্থান দেখে আশ্চর্য এক অনুভূতি হচ্ছিল। পুরোটা সময় আমি টেডিটি ধরে রেখেছিলাম, এটাই আমার কাছে একমাত্র আশা ছিল, আমার বোন কে ফিরে পেলে আমি তাকে এটা ফিরিয়ে দেবো। আমাদের বাড়ির আশেপাশে যে হাসপাতালগুলো ছিল সেগুলোতে খোঁজ করতে শুরু করলাম, যদিও সেগুলোকে দেখতে আর হাসপাতালের মত লাগছিল না, সেখানে এমন ভীড় ছিল যে, আমার হাঁটার মত জায়গাও ছিল না। হাসপাতালের এক কর্মীকে চাচা আমার পরিবারের বর্ণনা দিলেন, কিন্তু কোন জবাব পেলেন না। সারাদিন অসহায়ভাবে আমরা খুঁজতে থাকলাম, কিন্তু কাউকে পেলাম না। হতাশ ও ব্যাথাতুর মনে আমি চাচার সাথে ফিরে গেলাম। আমি সেখানে এক সপ্তাহ ছিলাম, দিনগুলো শুধু খারাপই হচ্ছিল, যতই সময় যাচ্ছিল আমি ততই আমার পরিবারের অভাব বোধ করছিলাম, আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। এবং টেডি বিয়ারটি কখনই আমার সঙ্গ ত্যাগ করেনি।

একদিন আমার চাচা আমার কাছে আসলেন। তাঁর বিবর্ণ চেহারা দেখে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। তিনি বিছানায় আমার পাশে বসলেন এবং বললেন, “আমি তোমার ভাইকে পেয়েছিলাম।” তাঁর বলার ভঙ্গি দেখে আমি দ্বিধান্বিত হলাম।

চাচা বললেন, “আমি দুঃখিত।” আমি কোন প্রতিক্রিয়া দেখালাম না, হয়তো তখনো কিছুই বুঝিনি। “সে চলে গেছে, তোমার পরিবারের সবাই চলে গেছে!”

“চলে গেছে?” আমি জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি বোঝাতে চাইছেন তারা সবাই মৃত?”

আমি টেডিটির দিকে তাকালাম, মনে হচ্ছে এটাই আমার পরিবারের একমাত্র বস্তু যা আমার কাছে রয়েছে।

“ফাতিমা, তুমি নিশ্চিত থাকো, তারা সকলেই বেহেশতে আছে। তুমি কি তাদের সুখ চাও না?” চাচার কথার কয়েকটি শব্দই আমি শুনলাম। সেদিন আমিও তো তাদের সাথে ছিলাম…শুধু আমিই কেন বেঁচে গেলাম? আমিও কেন নিহত হলাম না? আমার পরিবারকে ফিরে পেতে হলে আমাকে কি করতে হবে? আমাদের সাথেই বা কেন এমন হল? আমাদের দেশেই কেন সবসময় এমন হবে?

সেদিনের পর অনেক বছর কেটে গেছে। এখন আমার বয়স তিরিশ। আমার নিজের একটি পরিবার আছে। আমি জানি, যে কোন দিন আমি এদের যে কাউকে সহজেই হারাতে পারি। কিন্তু আমি স্বেচ্ছায় আমার ও আমার পরিবারের জীবন উৎসর্গ করতে পারি সেই মহান উদ্দেশ্যে, যার জন্য আমার জন্ম হয়েছে: আমার ধর্মকে রক্ষা করা, দেশকে রক্ষা করা।

এটা আমার পরিবারের গলপ, আমার গল্প, এক আট বছর বয়স্ক ফিলিস্তিনি বালিকার গল্প।



লেখক: সালমা তানতাওই, সাংবাদিকতা বিভাগ,
কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়, মিশর।
অনুবাদ: এস. এম সাইফুল্লাহ শাকিল
original post
read more

ভালোবাসাগুলো তোমার প্রতীক্ষায়

কেমন আছো তুমি? আজ অনেকদিন পর তোমাকে লিখতে বসলাম। এই লেখার মাঝে বিশেষ কিছু নেই। কারণ, পরবর্তী ১০-১৫ মিনিটে আমি যা লিখবো, তা গত এক মাস ধরেই আমার মনে ঘুরঘুর করছে। তুমি কেমন আছো, কেবল এতটুকু খবর জানতে মনটা ভীষণ কাঁদছে।

ক'দিন ধরে অনেক বৃষ্টি হচ্ছে তাই না? তোমার কি মনে পড়ে বৃষ্টি নিয়ে আমাদের দু'জনের স্বপ্নীল স্মৃতিগুলো? আমি বৃষ্টিকে অনেক মিস করতাম, কারণ বৃষ্টি আমাকে সবসময় তোমার কথা মনে করাতো। বৃষ্টি হলেই মনে হতো, তুমি এখন আমার পাশে থাকলে তুমি বৃষ্টিতে ভেজার জন্য কান্নাকাটি শুরু করে দিতে। তোমার কি মনে পড়ে টুপটাপ বৃষ্টির মধ্যে আমরা যখন হাঁটতাম, আমি বারবার তোমার মাথার উপর আমার ব্যাগটা ধরতাম? তুমি তখন মুখটা ঠিক ঐ আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘের মতোই কালো করে ফেলতে। তারপর আমি ব্যাগটা সরালেই তুমি হেসে উঠতে। ঠিক যেন মেঘের আড়াল থেকে বের হয়ে সূর্য তার দ্যুতি ছড়াচ্ছে।

আমি কেবল তোমার ঐ হাসিমাখা মুখটুকু দেখার জন্যই তোমাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দিতাম না। অবশ্য তোমার আবার ঠাণ্ডা লেগে যায় কি না সেই ভয়ও আমার ছিল।

তোমার মনে আছে, সারাদিন বৃষ্টি হলে আমাদের প্ল্যান ছিল আমরা ভবিষ্যতে কাজ ফাঁকি দিয়ে ঘরে বসে থাকবো দু'জন? আমরা ঠিক করেছিলাম সারাদিন বৃষ্টি হলে সেদিন বারান্দায় বসে চা খাবো, দু'জনে মিলে রান্না করবো, তুমি আমার গায়ে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, আর আমরা দু'জন মন উজাড় করে রাজ্যের যত কথা বলবো।

তেমন দিন সত্যিই আর কখনো আসবে না? আমার খুব কান্না আসে তা ভাবতে।

তোমার কি মনে পড়ে, আমরা যতক্ষণ একসাথে থাকতাম, পুরোটা সময়জুড়ে আমাদের সঙ্গ দিতো আমাদের স্বপ্নগুলো। তোমার আর আমার স্বপ্নগুলো যেন নিজেরাই কথা বলা শুরু করে দিতো। আর তুমি-আমি দু'জনে হাত ধরাধরি করে সেই স্বপ্নগুলো মনে মনে কল্পনা করতাম।

আচ্ছা, তোমার কি মনে আছে প্রথম যেদিন তুমি আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলে? আমি সেইদিনের কথা কোনোদিন ভুলবো না। তুমি প্রায়ই আমার বুকে মাথা রাখতে, কিন্তু সেইদিনই প্রথম তুমি ঘুমিয়ে পড়েছিলে। তোমাকে ঘুমুতে দেখে আমার অনেক ভালো লাগছিল। তখন বুঝতে পারছিলাম না এখানে ভালো লাগার কী ছিল। পরে মনে হলো, তুমি আমাকে কতো আপন ভেবে আমার বুকে শান্তিতে ঘুমিয়ে ছিলে, কে দেখলো, কে কী ভাবলো সেসব না ভেবে তোমার ঘুম পাচ্ছিল তুমি ঘুমুচ্ছিলে আমার বুকে। এতো মিষ্টি মূহুর্ত বুঝি সবার জীবনে আসে না।

তুমি কি জানো, তোমার প্রতিটা কথা আমার কাছে কতোটা আপন ছিল? হয়তো আমি আমার নিজের সমস্যার কারণে সবসময় সেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারিনি। কিন্তু তোমার প্রতিটা কথা আমি সবসময় নিয়েছি অনেক গুরুত্বের সাথে। ভালোবাসার মানুষ বলে তোমাকে কোনোদিনই এক মূহুর্তের জন্যও আমি অবহেলা করিনি। কখনোই তোমাকে কম গুরুত্ব দেইনি। ভেবেছি, কেবল তোমাকে হাসিখুশি রাখার জন্য হলেও তোমার সব কথা শুনে চলবো। তুমি তো আর আমার খারাপ চাইবে না যে তোমার কথা শুনলে আমার অনিষ্ট হবে, তাই না?

একটা ঝড় হয়েছিল জানো? সেই ঝড়ের তাণ্ডব লেগেছিল আমার মধ্যে। সে জন্য কিছুদিন তোমাকে সেভাবে গুরুত্ব দিতে পারিনি। বিশ্বাস করবে কি না জানি না, আমি সত্যিই খুব ডিপ্রেসড ছিলাম। তাই হয়তো সেই সময়টা জুড়ে তোমার সঙ্গে খুব ভালোভাবে কথাও বলতে পারিনি।

কিন্তু আমি সত্যিই আশা করেছিলাম যে আমার উপরের প্রতিক্রিয়ার আবরণটা ভেদ করে তুমি আমাকে অন্তর থেকে বুঝবে। আমি ভেবেছিলাম আমার সমস্যাগুলো বুঝবে, বুঝবে যে আমার এমন ব্যবহার মন থেকে আসছিল না, সে সবই সাময়িক সমস্যার ফল ছিল, যা অচিরেই ঠিক হয়ে যেত।

কত আশা ছিল, কত ভালোবাসা আর স্বপ্ন ছিল তোমাকে নিয়ে। আজ আশাগুলো হারিয়ে গেল, স্বপ্নগুলো মিলিয়ে গেল, শুধু পড়ে রইলো তোমার জন্য মনের সবটুকু ভালোবাসা।

ভালোবাসাগুলো আজও রয়েছে তোমার প্রতীক্ষায়। তারা বিশ্বাস করতে চায় না তুমি তাদের দূরে ঠেলে দিয়েছো। তারা বিশ্বাস করতে চায় না তুমি তাদের আর কাছে টানবে না। তাদের সঙ্গে তাই আমিও থাকবো তোমার প্রতীক্ষায়।

তুমি আসবে বলে..তোমার পাওনা ভালোবাসাগুলো আবারও নিজের করে নিতে, আবারও নিজের অধিকারটুকু আদায় করতে, আবারও আমার বুকে নিজের জায়গা করে নিতে..


আমি আর আমার ভালোবাসাগুলো....তোমার প্রতীক্ষায়।

read more

একরাশ হিংসা

১.
জানো, আমি ছোট থাকতে বিড়ালের বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘুম পাড়াতাম। আমি যেখানে পড়তে যেতাম সেখানে একটা বিড়াল থাকতো। কয়েক মাস পরপরই বিড়ালটা কতগুলো ইঁদুরের মতো বাচ্চা দিতো। জন্মের পরপরই ক্যাঁচকোঁচ শুরু করে দিত। সপ্তাহখানেক পরে গায়ে লোম গজালে কি সুন্দর ফুটফুটে লাগতো বিশ্বাস করবা না। আমি ওগুলোর গলায় অনেক আদর করতাম। আর আদর পেয়ে ওগুলো চোখ বন্ধ করে ফেলত।

ছেলেটা যে বিড়াল পছন্দ করে, মেয়েটা তা অনেক আগে থেকেই জানতো। এভাবে বিড়ালের বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘুম পাড়ানোর ঘটনাও জানতো। কিন্তু প্রতিবারই যখন ছেলেটা এই কথা বলতে যায়, মেয়েটার যেন রাগ ওঠে। তারা দু'জন ঠিক করেছিল তারা বাসায় দু'টো বিড়াল পালবে। কিন্তু বিড়াল দু'টো হলে বাচ্চাকাচ্চা দিয়ে ভরে ফেলবে এই ভয়ে শেষে একটা বিড়াল পালার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ছেলেটার মুখে বিড়ালকে এতো আদর করার কথা শুনে মেয়েটার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।

'আমাদের বাসায় বিলাই পালা নিষেধ,' রুল জারি করে যেন মেয়েটা।
'ওমা! কেন? বিলাই কী দোষ করেছে?' X((
'বিলাই কোনো দোষ করেনি, দোষ করেছ তুমি,' দ্বিগুণ রাগ দেখিয়ে বলে মেয়েটা। X((X((
'আমি আবার কী করলাম?' :-*
'আমাদের বাসায় বিলাই থাকলে তুমি সারাদিন বিড়ালের পেছনেই কাটাবা। আমাকে তোমার আর চোখে পড়বে না। এ জন্য বিড়াল পালা আমাদের ঘরে নিষেধ। আমি বিলাই একেবারে ঘরের বাইরে ফেলে দিব।' X((
'আমি কি বলেছি নাকি যে আমি তোমাকে ভুলে গিয়ে বিলাই নিয়ে থাকবো?' X((
'না, আমি এতোকিছু জানিনা। বিলাই পালা নিষেধ ব্যস নিষেধ।' X(
'না আমি বিলাই পালবো,' ছেলেটা যেন কাঁদো-কাঁদো গলায় বলে। তা দেখে মেয়েটার মন নরম হয়। সে বলে, 'আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তু ততোটুকুই আদর করবা যতটুকু না করলেই না।'

ছেলেটা যেন খুশি হয়ে ওঠে আবার। 'আচ্ছা ঠিক আছে। প্রতি বেলা খাবার দেয়ার সময় বিলাইটার গাল চুলকে দিবো। গলায় চুলকে দেব। আর যদি কোলে আসতে চায় তাহলে কোলে নিব।' B-)

বিলাই কোলে নেয়ার কথা শুনে মেয়েটার মেজাজ আবার খারাপ হয়ে যায়। সে বলে, 'আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে তোমার বিলাই নিয়ে তুমিই থাকো। আমি থাকবো না তোমার সাথে।' :P /:) X((
'সে কি! তাহলে বিলাই থাকবে কই?' বিচলিত হওয়ার ভান করে ছেলেটা। মেয়েটা রেগে বলে, 'কেন? আমি বুঝি সারাদিন বিলাই কোলে নিয়ে থাকবো? X( '
'না, তা না। কিন্তু বিলাই তো তোমার আর আমার সংসারে থাকবে, তাই না? তুমিই যদি না থাকো, তাহলে তো আমাদের সংসারও হলো না। আমাদের সংসারই যদি না হয়, তাহলে বিলাই আসবে কোত্থেকে?' :((:((

কিন্তু তার এই কথার জবাব দেয় না মেয়েটা।

২.
কথাগুলো শুরু হয় একটু অন্যভাবে। ছেলেটা প্রথমে বলে, সে আজ দোকানে খরগোশ দেখেছে। কিউট কিউট দেখতে খরগোশগুলো তাকে দেখে খাঁচার ভিতর থেকেই এগিয়ে এসে ডাকাডাকি শুরু করে। ছেলেটার এই কথা শুনে মেয়েটারও মনে পড়ে তার ছোটবেলার কথা।

সে অনেক ছোট থাকতে খরগোশ নিয়ে খেলত। খরগোশ নিয়ে আবার কীভাবে খেলে, এমন প্রশ্ন করে ছেলেটা। মেয়েটা বলে, খরগোশ কোলে নিত। খরগোশ ছেড়ে দিলে খরগোশ দৌড়াতো, মেয়েটাও পেছন পেছন দৌড়াতো। খুব অল্পবয়সের ছিল তখন মেয়েটা। ছেলেটা মনে মনে কল্পনা করে এই দৃশ্য। বাচ্চা একটা মেয়ে একটা সাদা খরগোশের পেছনে ছুটছে। আচ্ছা, খরগোশটা তখন বেশি কিউট ছিল, নাকি মেয়েটা? মেয়েটার দিকে তাকায় সে। সে নিশ্চিত, মেয়েটা বেশি সুন্দর ছিল।

খরগোশ নিয়ে খেলার কথা বলার পর ছেলেটারও বিড়ালের বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘুম পাড়ানোর কথা মনে পড়ে যায়। তখনই সে কথাগুলো মেয়েটাকে বলে।

৩.
'কী হলো কথা বলছো না কেন?' ছেলেটা জিজ্ঞেস করে।
'না, ঠিক করেছি তুমি বিলাইকে বেশি আদর করলে আমিও দু'টা খরগোশ ধরে আনবো। ওগুলোকে আদর করে আর ওদের সাথে খেলে সময় কাটাব।' 8-|
রেগে যায় ছেলেটা, 'আমি খরগোশকে কান ধরে বের করে দিব। X((X((X(( খরগোশের কান বড় আছে, বের করতে সমস্যা হবে না।' :D:D

'তাহলে তুমিও বিলাই পালতে পারবানা।' মেয়েটা বলে, 'পাললেও খুব বেশি আদর করতে পারবানা।'
'আচ্ছা ঠিক আছে বললাম তো। তোমাকে বেশি সময় দেব।'
মেয়েটা খুশি হয়।
তার হাসিমুখ দেখে ছেলেটাও খুশি হয়।

সেই মুহুর্তের পূর্ব পর্যন্ত ছেলেটার মনে খরগোশ নিয়ে আর মেয়েটার বিড়ালের প্রতি একরাশ হিংসা বাসা বাঁধে। এই হিংসাও যেন অনেক সুইট, অনেক ভালোবাসার, অনেক স্বপ্ন আর অভিমানে ভরা।

original post

read more
affiliate program

EARN INCOME FROM YOUR WEBSITE

Turn your valuable web site traffic into income. Work online and join our free money making affiliate program. We offer the most pay-per-click rate to help maximize your cash stream.

Join our income making program absolutely free and 100% risk free.

Sign Up...

A steady income generator

Imagine running of a something that never failed to provide you with cash-flow. A earning money program so amazingly profitable that you never had to look for job ever again!Income while you sleep

CASH WHILE YOU SLEEP

Earn $1,000... $2,000... $5,000...

Turn your website visitors into cash!
You get money for every visitor that clicks on our advertizing. Our goal is to enable you to make as much as possible from your site. We pay monthly, either by check, or through PayPal.

Begin collecting steady partner commissions

Our money making program really can make you income on the same day. Start receiving steady partner revenue with almost no effort at all. This is a serious revenue opportunity, the chance for you to build a steady, reliable, long-time profitable business.

Savings Highway Dream Team Member Site Savings Highway Dream Team Member Site