Showing posts with label জার্নাল. Show all posts
Showing posts with label জার্নাল. Show all posts

Tuesday, April 10, 2012

রূপকথার এক অভিশপ্ত রানী... সুন্দরী শ্রেষ্ঠা...

by আহমেদ জী এস
রূপকথার এক অভিশপ্ত রানীর গল্পো......

মিশরের ফারাও সম্রাজ্ঞীদের মধ্যে ক্লিওপাত্রার নাম এবং কাহিনী কমবেশী জানিনা এমোন কেউ সম্ভবত আমাদের মধ্যে নেই । মিশরে জন্ম না হলেও ক্লিওপাত্রা মিশরের ফারাওয়ের রানী হয়েছিলেন , হয়েছিলেন কিংবদন্তী । ক্লিওপাত্রা যতো না রূপে তারো চেয়ে বেশী আলোচিত তার ছলনার জন্যে । কিন্তু কিংবদন্তীর আর একজনের কথা হয়তো আমাদের মনেও নেই যিনি রূপে ছিলেন অদ্বিতীয়া, ক্ষমতায় সর্বোচ্য । প্রায় তিন হাযার তিনশত বছর আগে ইতিহাস যেমন তাকে নিঃশব্দে চাপা দিয়েছে মিশরের বালুরাশির নীচে তেমনি সেইজন আমাদের মনের আড়ালেও চাপা পড়ে আছেন আজো । ক্লিওপাত্রার ও হাযার বছর আগে যিনি ছিলেন “লেডি অব অল ওম্যান”, “লেডি অব গ্রেস” , “লেডি অব অল বিউটি” ।

নামটি তার “নেফারতিতি” ।

পৃথিবী জুড়ে যে ফারাও সম্রাজ্ঞীর প্রহেলিকাময় আবক্ষ মুর্তিটি (বাস্ট) তার মরালী গ্রীবা নিয়ে বিখ্যাত “আইকন” হয়ে আছেন আজো, তিনিই “নেফারতিতি” যার শাব্দিক অর্থ “সুন্দরীতমা এসেছেন” ।

মিশরের ফারাও সম্রাজ্ঞীদের মধ্যে, এমোন কি তখনকার মিশরবাসীদের মধ্যেও তার রূপ ছিলো কিংবদন্তীর মতো । যীশুখ্রীষ্টের জন্মেরও ১৩৭০ থেকে ১৩৩০ বছর আগ পর্য্যন্ত নেফারতিতির ইতিহাস খুঁজে পাওয়া গেছে আর ঠিক তার পর থেকেই মিশরের সব ঐতিহাসিক দলিল, দস্তাবেজ থেকে তার নাম মূছে ফেলা হয়েছে । প্রত্নতাত্বিক জিনিষপত্রে তার আর কোনও চিহ্ন রক্ষিত হয়নি যেমন রক্ষিত রয়েছে অন্যান্য ফারাও আর তাদের সম্রাজ্ঞীদের স্মৃতি ।

কেন ? উত্তর খুঁজছে মানুষ ।

রূপকথার দুঃখিনী রানীর মতো, নেফারতিতি গর্ভে ছয় ছয়টি রাজকন্যের জন্ম দিলেও রাজ্যরক্ষায় কোনও উত্তরাধিকারী রাজপুত্রের জন্ম দিতে পারেননি । ফারাও “আখেনাতেন” ভাবলেন নেফারতিতির গর্ভে আর কোনদিন ভবিষ্যত ফারাওয়ের জন্ম হবেনা তাই পরিত্যাজ্য । রাজার ইচ্ছে, তাই রানী পরিত্যক্ত হলেন । ইতিহাসের করাল গর্ভে নেফারতিতি হারিয়ে গেলেন চিরদিনের জন্যে ।
এ হলো নেফারতিতির রহস্যময় নিরবতার পক্ষে একশ্রেনীর প্রত্নত্বাত্তিকদের বিশ্লেষন ।

কেউ কেউ বলেন, বারোটি বছর ১৮তম ফারাও “আখেনাতেন” আর নেফারতিতির গড়ে তোলা বিশাল ফারাও সাম্রাজ্য “এল-আমারনা” (El-Amarna) শাসন করে নেফারতিতির রহস্যময়ভাবে হারিয়ে যাওয়া সম্ভবত কোনও কঠিন রোগে তার মৃত্যু । ঐ সময় মিশর জুড়ে যে ভয়াবহ প্লেগ হয়েছিলো তাতেই মারা গেছেন নেফারতিতি ।

কেউ বলেন- না ; নেফারতিতি মিশরীয়দের সনাতন ধর্মবিশ্বাস বাতিল করে সূর্য্যদেবতা “রে” (Re)র পুঁজায় “আতেন” নামে যে সূর্য্যচাকতির পুঁজোকে মিশরবাসীদের জন্যে বাধ্যতামূলক করেন তারই বিষ্যোদগার ঘটে নেফারতিতির মৃত্যুর সাথে সাথে তার সমস্ত মূর্তি, স্তম্ভ, প্রাসাদ অর্থাৎ নেফারতিতির বানানো সকল সভ্যতার চিহ্নকে ধংশ করার মধ্যে দিয়ে । এই ধংশযজ্ঞে নেতৃত্ব দেন পুরোহিতরা কারন “আতেন” কে পেতে হলে ফারাও আর তার স্ত্রীকে (নেফারতিতি) পুঁজো করাও ছিলো বাধ্যতামূলক এটা তারা মেনে নিতে পারেননি । তাই ইতিহাসে নেফারতিতির কোনও উল্লেখ নেই সেই দিন থেকে, যেদিন তার মৃত্যু ঘটে ।

কেউ বলেন, ১৮তম ফারাও “আখেনাতেন” (যিনি বিখ্যাত কিশোর ফারাও রহস্যময় “তুতেনখামেন” এর পিতা) এর প্রতি প্রজারা সন্তুষ্ট ছিলেননা মোটেও । একে তো পুরোনো ধর্মবিশ্বাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার উপর রাজধানী “মেমফিস” থেকে সরিয়ে মরুভুমির মাঝে বালুর শহর “ আমারনা”য় স্থাপন করেন এবং পরে নিজের নামে “আখেনাতেন” রাখেন । তাই “আখেনাতেন” এর মৃত্যুর সাথে সাথে নেফারতিতির ভাগ্যও নির্নিত হয়ে যায় ।“আখেনাতেন” এর সৃষ্ট সকল কিছু মিশরের বালুতে পুঁতে ফেলার পাশাপাশি নেফারতিতিরও সমাধি ঘটে যায় ইতিহাসে ।

যদিও এসব বিশ্লেষনের জন্যে পর্যাপ্ত প্রত্নত্বাত্তিক নিদর্শন নেই তথাপিও যে কিছু কিছু শিলালিপির ভগ্নাবশেষ পাওয়া গেছে নেফারতিতির উপরে লেখা , তা বিশ্লেষন থেকেই এত্তো এত্তো কাহিনীর জন্ম হয়েছে । এ নিদর্শনগুলি আপনি দেখতে পাবেন বর্তমানের “ল্যুভর” আর “ব্রুকলিন” জাদুঘরে ।


।। ব্রুকলিন মিউজিয়ম ।।

মাত্র পনের বছর বয়সে নেফারতিতি বিয়ে করেন চতুর্থ অ্যামেনোফিস (Amenophis IV) মতান্তরে “অ্যামেনহোটেপ”( Amenhotep IV) কে যিনি খ্রিষ্টপূর্ব ১৩৫৩ অব্দে ফারাও হিসাবে মিশরের সিংহাসনে বসেছেন মাত্র আর নিজের নাম পাল্টে রেখেছেন “আখেনাতেন” ।

।। ফারাও আখেনাতেন ।।

বিশেষজ্ঞরা নেফারতিতির জন্ম এবং তার নিজ দেশটি আসলে কোথায় এ ব্যাপারে দ্বিধা বিভক্ত । কারো সন্দেহ, যেহেতু নেফারতিতি শব্দের অর্থ “সুন্দরীতমা এসেছেন” তাই আদপেই তিনি মিশরীয় নন, তিনি এসেছেন ভিন কোনও দেশ থেকে ।আবার কারো মতে তিনি মিশরেরই বিখ্যাত ব্যক্তি “আই” এর কন্যা যিনি পরে ফারাও ও হয়েছিলেন । জন্ম বা বংশ বৃত্তান্ত যা ই থাক তিনি যে সুন্দরী হিসেবে কিংবদন্তী ছিলেন তাতে দ্বিমত ছিলোনা কারো ।
সুন্দরীদের প্রভাব পুরুষকে যে নাচাতে পারে, এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি । রাজ্যশাসনে ফারাওয়ের পাশাপাশি নেফারতিতিও সমানতালে রাজ্য শাসণ করেছেন । শুধু তা ই নয়, যে নতুন ধর্ম দু’জনে প্রবর্তন করেছেন তার মধ্যমনি ছিলেন নেফারতিতি । দু’জনেই পুঁজিত হতেন দেবতা আর দেবী রূপে ।
প্রত্নতত্ববিদ আর ঈজিপ্টোলজিষ্টরা থেমে নেই এইসব ইতিহাস উদ্ঘাটনে । তারা “কারনাক” আর “ল্যুক্সর” এর মন্দিরগুলিতে খুঁজে বেড়াচ্ছেন এর স্বপক্ষের নিদর্শন ।

খ্রীষ্টপূর্ব ১৪শ শতকে নিজ রাজত্বকালে আখেনাতেন সূর্য্যদেব আতেন এর উদ্দেশ্যে তার রাজ্যে যে অসংখ্য মন্দির গড়ে তুলেছিলেন, প্রতিহিংসার রোষানলে তা সবই ধংশ করা হয়েছিলো তার মৃত্যুর ঠিক পরে পরেই । কারন এগুলো ছিলো মিশরবাসীর পুরোনো ধর্মের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার চিহ্ন । এই সব ভগ্ন মন্দিরের পাথরগুলি আবার পরবর্তী ফারাওরা ব্যবহার করেছেন নতুন নতুন মন্দির নির্মানে । প্রত্নতত্ববিদ আর ঈজিপ্টোলজিষ্টরা এখোন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন সেগুলোকে, যদি কোনও অজানা তথ্য পাওয়া যায় সম্রাজ্ঞী নেফারতিতির ।
ধারনা করা হয়, প্রাচীনকালের কারনাকের মন্দিরের পূর্বদিকে যে বিশাল প্রবেশপথ ছিলো তার পাশের দেয়ালের পাথরের বর্তমান ধংশাবশেষ থেকে ১০০র মতো শাস্ত্রীয় আচার অনুষ্ঠানের পূর্ণচিত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব । এসব ভাঙ্গা ভাঙ্গা চিত্রে নেফারতিতিকে দেখা যায় বিভিন্ন শাস্ত্রীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যমনি হিসেবে । প্রাচীন মিশরে এ জাতীয় আচার অনুষ্ঠানের ক্ষমতা রাখতেন কেবলমাত্র একজন ফারাও অথবা মিশরীয়দের প্রচলিত বিশ্বাস মতে “ওয়াইফ এন্ড কনসোর্ট অব দ্য গড” ।

এই ফ্রেসকোগুলি স্বাক্ষ্য দেয় , নেফারতিতি নিজেকে একজন ‘দেবী’র পর্যায়ে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলেন এমোনকি ফারাওয়েরও সমকক্ষ । একযুগের ও বেশী সময় ধরে নেফারতিতিই ছিলেন প্রাচীন মিশরের সবচেয়ে সুন্দরী আর ক্ষমতাশালী নারী । যা আর কোনও ফারাওদের স্ত্রীর ভাগ্যে জোটেনি ।

কম্পিয়্যুটার এনিমেশন ।

একটি খন্ডিত পাথরের লিপি উদ্ধার হলে দেখা যায়, সেখানে নেফারতিতির নাম রয়েছে । যেখানে তার নামের পাশে উৎকীর্ন রয়েছে “গ্রেট রয়্যাল ওয়াইফ” শব্দটি যা তার সামাজিক মর্যাদা প্রকাশ করছে । এমোন বেশ কিছু পাথর চিত্রে দেখা যায় নেফারতিতি যুদ্ধরথে চড়ে একটি দন্ড উঁচিয়ে আছেন ।
এ থেকে বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন তিনি ছিলেন “সুপ্রীম অথরিটি অব দ্য ষ্টেট” । অন্য চিত্রে তাকে দেখা যায় তরবারী হাতে মিশরের শত্রুদের নিধনে ব্যস্ত ।এছাড়াও রয়েছে সভ্রান্তদের মাঝে স্বর্নপদক বিতরনের চিত্র । সব মিলিয়ে এসকল “ফ্রেসকো” থেকে যে ছবি পাওয়া যায় তা নেফারতিতিকে চিত্রিত করেছে সুন্দরীশ্রেষ্ঠা মিশর অধীশ্বরী হিসেবে । এ পর্য্যন্ত মিশরের মাটি খুঁড়ে আর কোনও রাজকীয় মহিলার এমোনতর ছবি পাওয়া যায়নি । কিংবদন্তীর ক্লিওপাত্রাকেও এমোন বেশে দেখা যায়নি ।

এই সব টুকরো টাকরা লিপি থেকে পাওয়া তথ্যে নেফারতিতির সম্পর্কে গল্পের শেষ নেই ।

অনেক বিশ্লেষকেরাই মনে করেন রোগে শোকে নেফারতিতির মৃত্যু হয়নি । বরং এসব চিন্তাকারীদের ধারনা, ফারাও আখেনাতেন এর মৃত্যুর পরে নেফারতিতি চেষ্টা করে থাকবেন রাজ্যকে ধরে রাখতে । তাই তিনি বিদেশী কাউকে বিয়ে করার প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন যা উৎকীর্ণ আছে একটি পাথরের শিলালিপিতে । শিলালিপিটি পাঠানো হয়েছিলো “হিতিস” সম্রাটের কাছে । শিলালিপিটিতে ফারাওয়ের মৃত্যু সংবাদ উল্লেখের পাশাপাশি একজন রাজপুত্রকে মিশরে পাঠানোর অনুরোধ ছিলো ।“হিতিস” সম্রাট কথামতো একজন যুবরাজকে পাঠিয়েও নাকি ছিলেন যিনি পথিমধ্যে আততায়ীর হাতে নিহত হন । উদ্ধারকৃত পাথর খন্ডের এই লিপির লেখা কাহিনী বা “থিওরি” নেফারতিতির নামের সাথে যুক্ত করেছেন এ ধরনের গবেষকরা । তাদের ধারনা সত্যিকার নেফারতিতির মমি কোনওদিনই খুঁজে পাওয়া যাবেনা । সম্ভবত তার মরদেহকে মিশরের পুরোহিতরা এমোন সমাধিতে সমাহিত করেছেন যা সহজে খুঁজে পাওয়া হবে দুষ্কর ।

কল্পনার ফানুস শেষমেশ ঠেকেছে উর্দ্ধ আকাশে – ঐতিহাসিক দলিলপত্রে নেফারতিতির অনুপস্থিতির পরপরই আর একজনের নাম পাওয়া গেছে “ সামেনখারে” (Smenkhare) যিনি আখেনাতেন এর সাথে একত্রে রাজ্য শাসন করেছেন । প্রাপ্ত কিছু শিলাচিত্রে আখেনাতেনের পাশাপাশি “সামেনখারে” কে ও দেখা গেছে । অনেকেরই ধারনা “সামেনখারে” আর কেউ নন, পুরুষবেশী “নেফারতিতি” যিনি “হাটসেপসুট”(Hatshepsut) এর মতো দীর্ঘকাল অপেক্ষা করেছেন “ফারাও” হতে । “হাটসেপসুট” ছিলেন তৃতীয় “তুথমোসিস” এর প্রধান মহিষী ।
এ ঘটনা আপনাদেরকে মনে করিয়ে দেবে “লেডী ম্যাকড্যালেন” এর কাহিনী । যীশুখ্রীষ্টের সহচরী, মতান্তরে স্ত্রী হিসাবে যাকে অনেকেই ধারনা করে থাকেন । এ্যাঞ্জেলোর আঁকা বিশ্ববিখ্যাত “লাষ্ট সাপার” তৈলচিত্রের সিরিজের কয়েকটিতে যীশুর ঠিক পেছনেই যে কাপড়ে মাথা ঢাকা পুরুষটিকে বারে বারে দেখা গেছে অনেক গবেষক মনে করেন তিনিই “লেডী ম্যাকড্যালেন” । যীশুর কাছাকাছিই ঘনিষ্ট একজন বন্ধুর বেশে ছিলেন যাতে তিনি আমৃত্যু যীশুর সাথে সাথেই থাকতে পারেন । এ আবার আর এক কাহিনী । ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে ফেলেছি হয়তো ।

তাহলে সুন্দরী নেফারতিতি কি চিরকালই রহস্যময়ী থেকে যাবেন ?
না তা হয়নি ।
নেফারতিতির যে সৌন্দর্য্যের কথা আমরা বলি বা দেখি তার অনেকগুলিই এসেছে “এল-আমারনা” য় প্রাপ্ত ধংশাবশেষ থেকে ।বার্লিনের ঈজিপসিয়ান মিউজিয়ামে ১৯২৪ সাল থেকে প্রদশিত “জেরী’স শো” তে নেফারতিতির যে আবক্ষ (বাস্ট) মূর্তিটি দেখা যায় তা শ্রেষ্ঠ শিল্পের এক অপূর্ব নমুনা ।


৩২০০ বছরের পুরোনো এই মূর্তিটি জার্মান আর্কিওলজিষ্ট Ludwig Borjardt ১৯১২ সালের ৬ই ডিসেম্বর “এল-আমারনা”র ধংশাবশেষ থেকে উদ্ধার করেন । মূর্তিটি ২০ ইঞ্চির বেশী লম্বা নয় । এখোন পর্যন্ত আসলেই মুর্তিটি নেফারতিতির কিনা নিশ্চিত প্রমান করা যায়নি । বিভ্রান্তি রয়েছে এটি নেফারতিতির কন্যা “ইতমোসিস” এর কিনা ।

এককালের সুন্দরী শ্রেষ্ঠা আর মিশরের সর্বোচ্য ক্ষমতার অধিকারী নারীটির রহস্যময়ভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে হারিয়ে যা্ওয়ার কাহিনী আর তার দেহাবশেষ নিয়ে বিভ্রান্তি কাটেনি আজো ।

।।মমির সামনে ডঃ ফ্লেচার আর নেফারতিতির কম্প্যুটারাইজড ছবি ।।
২০০৩ সালের জুন মাসে ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নত্বাত্তিক জোয়ান ফ্লেচার দাবী করে বসলেন, তিনি নেফারতিতির “মমি” খুঁজে পেয়েছেন ।
লুক্সর এর “ভ্যালী আব কিংস” খুঁড়ে ৩৫ নম্বর সিমেট্রির মধ্যে এক কোনে “মমি নম্বর – ৬১০৭২” এর ভেতরে তিনি অন্য এক নারী ও শিশুর মমির পাশে সনাক্ত করেছেন কিংবদন্তীর নেফারতিতিকে । অনেক স্বাক্ষ্য প্রমান হাজির করেছেন । নেফারতিতির মাথার বিখ্যাত নীল রংয়ের ব্যান্ড সহ লম্বা “ফ্লাট টপ” মুকুটটি যা “ক্রাউন অব ওয়র অব আখেনাতেন” এর স্বারক চিহ্ন, পাওয়া গিয়েছিলো মমি নম্বর ৬১০৭২ এর পাশে ফ্লেচারের খনন কালের অনেক আগে, উনিশ শতকে । ফ্রেঞ্চ আর্কিওলজিষ্ট ভিক্টর লোরে উনিশ শতকের শেষের দিকে নাকি এই মমি নম্বর ৬১০৭২ খুঁজে পেয়েছিলেন কিন্তু মমিগুলির শোচনীয় অবস্থা দেখে তা উদ্ধারে আগ্রহী হননি এবং এভাবেই ফ্লেচারের আগ পর্য্যন্ত তা অজানাই থেকে গেছে । ১৮৯৮ সালে এটি খনন করা হয় প্রথম তার পরে পরেই আবার ১৯০৭ সালে তা বন্ধ করে দেয়া হয় ।
ফ্লেচার দাবী করছেন, বার্লিনের ঈজিপসিয়ান মিউজিয়ামে নেফারতিতির যে আবক্ষ (বাস্ট) মূর্তিটি দেখা যায় মাথায় বিখ্যাত “ফ্লাট টপ”মুকুট সহ, সেই মুকুটটি এই মমি নম্বর ৬১০৭২ এর কাছাকাছি জায়গা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিলো এবং এল–আমারনায় প্রাপ্ত দেয়ালচিত্রেও এর স্বাক্ষ্য আছে বলে মমিটি নেফারতিতিরই । এছাড়া বার্লিনের আবক্ষ মূর্তিটির সাথে মমিটির “মরালী গ্রীবা”, চোয়ালের গড়ন ইত্যাদির মিলও রয়েছে । ফ্লেচারের এই “কনক্লুসান” বাতিল করে দিয়েছেন ঈজিপ্টোলজিষ্টরা । তারা দাবী করছেন, যে মমিটির কথা ফ্লেচার বলছেন তা একটি ১৫ বছর বয়েসী কিশোরের এবং ফ্লেচারের থিওরীকে জোড়ালো করার মতো তেমন কোনও প্রমান উনি দেখাতে পারেননি । যা দেখিয়েছেন তা “ইন্যাডিকোয়েট” আর “সারকাম্সটেনশিয়াল এভিডেন্স” মাত্র । অবশ্য যে ডিএনএ টেষ্টের কথা বলা হয়েছে তা কতোখানি গ্রহন যোগ্য তা নিয়ে বিতর্ক আছে । বহুল ভাবে নাড়াচাড়া করা হয়েছে এমোন জিনিষ এবং অতীব লম্বা সময়কাল ধরে মাটির নীচের উষ্ণতাপমাত্রায় থাকা কোনও জিনিষের ডিএনএ টেষ্ট কতোখানি নির্ভরযোগ্য, বিতর্ক তাই নিয়ে ।অবশ্য ১৯১২ সালে প্রকাশিত এক নিবদ্ধে এ্যানাটমীর অধ্যাপক স্যার গ্রাফটন ইলিয়ট স্মিথ এই মমিটিকেই এবং এর সাথে থাকা অপর মমিটিকেও পরীক্ষা করে দুটোই যে তরুনী নারী দেহ তা উল্লেখ করেছিলেন । এও বলেছিলেন যে, খুব ভালোভাবে সংরক্ষিত এই মমিটি পরীক্ষা করে এটি যে একজন নারীর তা বোঝার জন্যে এ্যানাটমীর পন্ডিত হওয়ার দরকার নেই । এটি প্রকাশিত হয় সেই সময়, যখোন এই মমিটির আইডেন্টিটি নিয়ে তেমন উৎসাহ জন্ম হয়নি খননকারীদের মধ্যে । পরবর্তীকালে রেডিওলজিষ্ট এবং ফিজিক্যাল এ্যান্ত্রোপলজিস্টদের পরীক্ষায়ও একই তথ্য পাওয়া যায় ।এইভাবে মমিটির পরিষ্কার সেক্স আইডেন্টিটি থাকার পরেও সেক্স নির্ণয়ে ডিএনএ টেষ্ট যা “কন্টামিনেশান” এর কারনে নির্ভর যোগ্য নাও হতে পারে সেই টেষ্টের জন্যে বসে থাকা বাহুল্যমাত্র ।
ডঃ জাহি হাওয়াস, মিশরীয় “সুপ্রীম কাউন্সিল অব এ্যান্টিকুইটিস” এর প্রধান ব্যক্তি অবশ্য একবার এই তরুনী নারীর মমিটিকে মধ্যবয়সী মহিলার বলে জানিয়েছিলেন । তার মতে মমিটি সম্রাট তৃতীয় তুথমোসিস এর প্রধানা মহিষী “ম্যারীতার-হাপসেতসুত” এর । আবার হাওয়াস এক ডকুমেন্টারীতে ফ্লেচারের সাথে তাল মিলিয়ে বলেছিলেন, সিমেট্রি নম্বর -৩৫ এ যে মমিটি পাওয়া গেছে তা নেফারতিতির হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী । আবার হালের ২০১০ সালের প্রথমদিকে প্রকাশিত ডিএনএ টেষ্ট এর রিপোর্ট প্রমান করে যে এটি সম্রাট আখেনাতেন এর বোন এর যিনি আবার রহস্যময় ফারাও তুতেনখামেন এর মা “কিয়া” র ।এই রিপোর্টের সহযোগী লেখক আবার ডঃ জাহি হাওয়াস ।

তাই আপনি নেফারতিতিকে খুঁজে পেতে কোনদিকে যে যাবেন এমোন একটি গোলকধাঁধার মধ্যে পড়ে আছেন ।

।। মিশরের কায়রো মিউজিয়মে নেফারতিতি । এই ছবির টুপিটি দেখে কেউ কেউ এটি "তেফনাত" এর বলে দাবী করেন ।।

শুধু এইগুলোই নয় গোলক ধাঁধা আরো আছে । নেফারতিতির উপর কোনও লিখিত সরকারী দলিল পাওয়া যায়নি তার রহস্যময় অর্ন্তধানের পরে । কারন কি ?
নেফারতিতির যে মমিটি পাওয়া গেছে বলে ফ্লেচার দাবী করছেন তাতেও চরম নিষ্ঠুরতার চিহ্ন রয়েছে । মমিটির ডান কানটি এবং একটি হাত নিখোঁজ । কুঠার জাতীয় কোনও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তা দেহচ্যুত হয়েছে ।একটি খন্ডিত হাত আবার আর এক বৃটিশ দল তাদের দ্বিতীয় অভিযানে খুঁজে পেয়েছেন পাশ্ববর্তী কফিন থেকে । এখোন এইসব তথ্য একটি পাজল (puzzle) এর মতো খাঁজে খাঁজে মেলাতে বাকী । ফ্লেচার তাই মেলাতে চাইছেন । মেলাতে চাইছেন নতুন ধর্মের প্রবর্তন করে নেফারতিতি জনগণের যে রোষানলে পড়েছিলেন এই নিষ্ঠুরতা তারই পরিনতি । এবং হয়তো নেফারতিতিকে এই নিষ্ঠুরতা দিয়েই খুন করা হয়েছে এমোন ধারনাও তার । কারন নেফারতিতির মুখেও রয়েছে আঘাতের চিহ্ন । মমি আবিষ্কারের পরবর্তী এক পরীক্ষায় এটি জানা গেছে । সম্ভবত ধারালো কোন চাকু দিয়ে এই নারকীয় কাজটি করা হয়েছে ।

এতো সব করতে গিয়ে ফ্লেচার পড়েছেন বিপদে । তাকে মিশরে প্রত্নতত্ব তল্লাশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে । নিষিদ্ধ করেছেন মিশরের “সুপ্রীম কাউন্সিল অব এ্যান্টিকুইটিস” । ডঃ জাহি হাওয়াস বলেছেন, ফ্লেচার তার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন । তিনি বলেছেন, "Dr Fletcher has broken the rules. There are more than 300 foreign expeditions currently working in Egypt, and they all follow the same guidelines. We grant concessions to any scholar affiliate to a scientific or educational institution, and it has long been accepted code of ethics that any discovery made during excavations should first be reported to the SCA. By going first to the press with what might be considered a great discovery, Dr. Fletcher broke the bond made by York University with the Egyptian authorities. And by putting out in the popular media what is considered by most scholars to be an unsound theory, Dr. Fletcher has broken the rules and therefore, at least until we have reviewed the situation with her university, she must be banned from working in Egypt.”

একেকজন বিশেষজ্ঞ বলছেন এক এক কথা । কারো কথা থেকে নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই , আসলে মমিটি কার । রহস্য আরো ঘনীভুত যখোন ধারনা করা হলো, ১৯৩৩ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে কিশোর তুতেনখামেন ফারাও পদে বহাল হলে তিনিই তার পিতা আখেনাতেন আর তার স্ত্রী নেফারতিতির গড়া সমস্ত সৌধ, মন্দির সহ যাবতীয় স্মৃতি ধ্বংশ করে ফেলেন । কারন ও আছে । কারো কারো ধারনা, নতুন ধর্ম প্রচার কালে নেফারতিতি প্রাচীন ধর্মের মন্দিরগুলো ভাঙ্গার পাশাপাশি “কিয়া” নামের আখেনাতেন এর বোন এর (মতান্তরে স্ত্রী) গড়া স্তম্ভগুলোও ভেঙ্গে ফেলেন ।আর তুতেনখামেন হলেন কিয়ার সন্তান । আর তাই নেফারতিতির মমিটি ফারাওদের সমাধিস্থলে পাওয়া যাবেনা প্রতিহিংসার কারনেই ।তাহলে নেফারতিতি কোথায় ?

।। সূর্য্যদেব "আতেন" এর পূঁজায় নেফারতিতি ।।

রহস্যময় তুতেনখামেন কি নেফারতিতির এই হারিয়ে যাওয়া নাটকের নেপথ্য রূপকার ? হতেও পারে । কারন, এমোন ধারনাও করছেন ঈজিপ্টোলজিষ্টরা যে ,নেফারতিতির পিতা “আই” যিনি তুতেনখামেনের পরে ফারাও হয়েছিলেন তার নেপথ্য হাত ছিলো তুতেনখামেনের রহস্যময় মৃত্যুতে ।

এসব কি তবে রহস্যময় অকাল মৃত্যুর কাছে পরাজিত তুতেনখামেনের অভিশাপ ? নেফারতিতি কি অভিশপ্ত ?? হতে পারে কারন তুতেনখামেন এক রহস্যের নাম …..
original post
read more

Thursday, November 17, 2011

জ্যাকি চ্যান-এশিয়ার কুংফু সুপার স্টার

by টনি

কিংবদন্তীর নায়ক কুংফুর রাজা ব্র“সলী মস্তিষ্কে অজ্ঞাত কারণে রক্তক্ষরণের ফলে ১৯৭৩ সালে মারা যান। ব্র“সলীর আগে কুংফু ছিল স্রেফ হিংস্রতায় ঠাসা মারামারি। তিনিই প্রথম এটিকে শিল্প বা কলার পর্যায়ে নিয়ে যান, কুংফু পরিণত হয় সম্পূর্ণ দৃষ্টিনন্দন একটি খেলাতে। ব্র“সলীর মৃত্যুর পরে সবাই হায় হায় করে উঠেছিল কুংফুর অপমৃত্যু হলো ভেবে। কারণ ব্র“সলীর জায়গা দখল করবার মত ব্যক্তিত্ব গোটা এশিয়াতে ছিল না। অনেক দিন কুংফু রাজার সিংহাসন ছিল খালি। তারপর গুরুর শূন্যস্থান পূরণ করবার জন্যই যেন আবির্ভাব ঘটল জ্যাকি চ্যানের, এশিয়ার নতুন সূর্য।
কুংফুর সঙ্গে কমেডি মিশিয়ে তিনি সৃষ্টি করলেন ভিন্ন ধারার একটি আঙ্গিক। ব্র“সলীর মত তিনিও কুংফুকে দৃষ্টিনন্দন করে তুললেন অসাধারণ দক্ষতা দিয়ে। জ্যাকির ছবি অ্যাকশনে ভরপুর, ভায়োলেন্স তিনি এড়িয়ে যান ইচ্ছে করেই। কারণ জ্যাকির বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি ভক্তদের বেশিরভাগই শিশু-কিশোর। কোমলমতি এই শিশু-কিশোরদের মনে হিংস্রতার বীজ রোপণ করতে চান না বলেই রক্তপাতের ব্যাপারটি জ্যাকির ছবিতে থাকে না বললেই চলে।
জ্যাকি চ্যানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তিনি কখনও এ্যাকশন দৃশ্যে ডামি ব্যবহার করেন না। আর সব ধরনের এ্যাকশন দৃশ্যে নিজেই অভিনয় করতে গিয়ে যে কতবার হাত, মুখ, নাক ভেঙেছেন তার হিসাব নেই। একবার পঞ্চাশ ফুট উচু এক বিল্ডিং থেকে ঝাপিয়ে পড়লেন আরেক বিল্ডিং-এর জানালা লক্ষ্য করে। প্রথম ‘টেক’ ঠিকই ছিল। কিন্তু স্ট্যান্টম্যান হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করা খুঁতখুঁতে জ্যাকির মনে হলো লাফানোর দৃশ্যটা তেমন নিখুঁত হয়নি। তাই দ্বিতীয়বারের মত ‘টেক’ নিতে বললেন পরিচালককে। আর তখনই ঘটে গেল ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। জানালা ভেঙে, নিচে যে সামিয়ানা রাখা ছিল, ওটা ছিড়েও তিনি আছড়ে পড়লেন কংক্রিটের মেঝের উপর। পড়েই থাকলেন, আর উঠলেন না। কিন্তু লোকে যে ঠাট্টা করে বলে জ্যাকির বেড়ালের মত নয়টা জীবন, এটা প্রমাণ করতেই যেন তিনি সেবারে মারাত্মক আহত হয়েও বেঁচে গেলেন প্রাণে।

জ্যাকির পুরো নাম জ্যাকি চ্যান কোং সাং। এশিয়ার সবচে’ জনপ্রিয় এই তারকাটির আজ সব আছে, যা চেয়েছেন তা-ই পেয়েছেন। কিন্তু তার জন্ম সোনার চামচ মুখে দিয়ে নয়। ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল হংকং-এ জ্যাকির জন্ম। এতই গরীব ছিলেন বাবা-মা যে জ্যাকির জন্মের পরে তারা ছেলের ভরণপোষণ যদি করতে না পারেন সেজন্য ডেলিভারির ডাক্তার জ্যাকির বাবা-মাকে দু’শ ডলার দিয়ে সদ্যোজাত সন্তানটিকে কিনে নিতে চেয়েছিলেন । জ্যাকির বাবা রাজিও হয়েছিলেন। কিন্তু তাদের এক পারিবারিক বন্ধু এসে বললেন, ‘তোমাদের দু’জনেরই বয়স এখন চল্লিশের ওপরে, হয়তো এটাই তোমাদের একমাত্র সন্তান। আর সন্তান না-ও হতে পারে। কাজেই ওকে বেচে না দেয়াই ভাল।’ পরে ওই বন্ধুই হাসপাতালে বিল মিটিয়ে দেন।

ছোটবেলা থেকেই ব্র“সলীর ভীষণ ভক্ত জ্যাকি চ্যান। ব্র“সলীর কোন ছবি দেখা তিনি বাদ দেননি। সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে ল্যাম্পপোস্টে লাথি মেরে নিজেকে ব্র“সলীর ভূমিকায় কল্পনা করতে খুব ভাল লাগত তার।

জ্যাকির বয়স যখন সাত, অস্ট্রেলিয়া হাউজকীপিং-এর চাকরি পান তার বাবা-মা। তারা ছেলেকে হংকং-এর বেইজিং অপেরার স্কুলের এক মার্শাল আর্টের ওস্তাদের কাছে রেখে চলে যান অস্ট্রেলিয়ায়। ওই অপেরা স্কুলে জ্যাকি প্রথম কুংফু শেখেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক য়্যু শানউয়ান তার সেরা সাত ছাত্রকে নিয়ে ‘সেভেন লিলি ফরচুনস’ নামে একটি দল গঠন করেন। এই সাত ছাত্রের মধ্যে পরবর্তীতে সবচে’ নাম করেন জ্যাকি চ্যান।

আট বছর বয়সে জ্যাকি প্রথম ছবিতে অভিনয় করেন। পরবর্তী আট বছরে ডজন খানেক ছবিতে অভিনয় করেছেন জ্যাকি। কিন্তু ওসব ছবিতে অভিনয় করে তেমন আনন্দ পাননি। তার তখন লক্ষ্য ছিল অভিনেতা নয়, স্ট্যান্টম্যান হবেন।
১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে হংকং-এর চলচ্চিত্র ভুবনে দুঃসাহসী স্ট্যান্টম্যান হিসাবে নাম ছড়িয়ে পরে জ্যাকির। তবে অভিনেতা হিসাবে প্রথম বড় ধরনের সুযোগ পান ১৯৭৬ সালে ‘নিউ ফিস্ট অভ ফিউরি’ নামে একটি কুংফু ছবিতে।
ছবিতে জ্যাকির মার্শাল আর্ট দেখে সবাই তাকে দ্বিতীয় ব্র“সলী বলে ডাকতে শুরু করে। জ্যাকির চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার অবিকল ব্র“সলীর মত। ব্র“সলীও হংকং-এ এসে প্রথম তারকা খ্যাতি লাভ করেন। জ্যাকির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। অচিরেই তিনি হয়ে ওঠেন এশিয়ার সেরা সুপারস্টার।
ব্র“সলীর স্বপ্ন ছিল হলিউডেও নাম করবেন। ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’ বিশ্বব্যাপী ব্যবসা সফল হলে হলিউডে তাকে ঘিরে উন্মাদনা দেখে যেতে পারেননি ব্র“সলী, তার আগেই মারা গেছেন তিনি। জ্যাকি চ্যান তার স্বপ্ন পুরুষের চেয়ে সৌভাগ্যবান। হলিউডকে ঘিরে তার র্টাগেট সফল হয়েছে ‘রাশ আওয়ার’ সুপারহিট হবার সুবাদে।
জ্যাকির ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’ ছবিটিও হয়েছে দর্শক নন্দিত।
যদিও আশির দশকের শুরুতে জ্যাকি কয়েকটি হলিউডি ছবিতে অভিনয় করেছেন। কিন্তু ওগুলো তেমন সাড়া জাগাতে না পারলেও হাল ছেড়ে দেননি জ্যাকি। বলেছেন, ‘শুধু ভক্তদের অগণিত চিঠিই আমাকে খারাপ সময়গুলোতেও মাটির উপরে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করেছে।’

১৯৭৮ সাল নাগাদ জ্যাকি চ্যান হয়ে ওঠেন এশিয়ার একজন পূর্ণাঙ্গ মুভি স্টার। তখন থেকে এশিয়ার প্রতিটি কুংফু তারকা জ্যাকি চ্যান হবার স্বপ্ন দেখছেন। তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মাত্র গুটিকয় তারকা পরিচিতি পেয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন জেট লী, চো উন ক্যাট, মিশেল ইয়ো প্রমুখ। জ্যাকির ‘ড্রাঙ্কেন মাস্টার’ ছবিটিকে সর্বকালের র্শীষ দশ মার্শাল আর্ট ছবির মধ্যে ধরা হয়।
জ্যাকি শুধু অভিনেতাই নন, তিনি একজন সফল চিত্র-নাট্যকার ও পরিচালকও বটেন। তবে পরিচালক হিসাবেও তিনি বড্ড খুঁতখুঁতে। আর এ জন্য হংকং-এ অন্যান্য পরিচালকদের যেখানে একটি ছবি শেষ করতে লাগে মাত্র তিন মাস, সেখানে জ্যাকি ছবি বানাতে বছর পার করে দেন। ১৯৯১ সালে তার ‘আর্মার অভ গড-২ অপারেশন কনভর’ মুক্তি পায়। ১৩ মিলিয়ন ডলারে নির্মিত ওই সময় হংকং-এর সবচে’ ব্যয়বহুল এ ছবিটি শেষ করতে জ্যাকির প্রায় দু’বছর লেগেছে। উল্লেখ্য, জ্যাকি তার বেশিরভাগ ছবি নিজেই পরিচালনা করে থাকেন।

জ্যাকির স্বপ্ন একদিন ক্রামার ভার্সাস ক্রামার কিংবা দ্য সাউন্ড অভ মিউজিক-এর মত ছবি বানাবেন। নিজেই বলেছেন, ‘আর কতকাল মারামারি করব। পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছে। এখনও মারামারি চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আগের মত এক টেকে আর পারি না।
জ্যাকি অগামীতে দুটো ছবি বানাবেন। চেঙ্গিস খাঁন ও ঐতিহাসিক চীনা কিংবদন্তী নগক ফেইকে নিয়ে। এ দুটি ছবিতেই আসল সেনাবাহিনী ব্যবহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, স্পেশাল এফেক্ট নয়। জানিয়েছেন, ‘আমি পর্দায় সত্যিকারের আর্মি এবং মরুভূমিতে সত্যিকারের ঘোড়া দেখাতে চাই।

জ্যাকি এখন টাকার বিছানায় ঘুমান। অথচ একসময় দাঁত মাজার ব্রাশ কিনবার পয়সাও তার ছিল না। সে দিনগুলোকে আজও ভোলেননি তিনি। তাই তিনি তার বেশিরভাগ সম্পদ বিলিয়ে দিচ্ছেন গরীব দুঃখীদের মাঝে। ইদানীং সমাজ সেবামূলক কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় জ্যাকিকে। এর কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, গরীব ঘরে জন্ম আমার। দশ বছর একটি অপেরা মার্শাল আর্টস স্কুলে ছিলাম। প্রতি মাসে রেড ক্রসের লোকেরা আসত কাপড়, জুতো কিংবা দুধ নিয়ে। একবার এক প্রীস্ট আমাকে কিছু দুধ দিলে আমি বললাম, ‘ধন্যবাদ’। তিনি বললেন, ‘আমাকে ধন্যবাদ দিয়ো না। তুমি যখন বড় হবে, তখন অন্যদেরকে সাহায্য করবে,’ আমি ওই মানুষটির মুখ আজও ভুলিনি।

‘পরে আমি জ্যাকি চ্যান ফাউন্ডেশন গড়ে তুলতে চাইলাম। কিন্তু কাল-পরশু করে আর কিছুতেই ফাইন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছিল না। একদিন যুগোশ্লোভিয়ায় ‘আর্মার অভ গড (১৯৮৬)’ ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে প্রায় মারা যাচ্ছিলাম। হাসপাতালে শুয়ে মনে হলো আমার অনেক কাজ এখনও বাকি রয়ে গেছে। তারপর জ্যাকি চ্যান ফাউন্ডেশনের জন্য কাজ শুরু করে দিলাম।’

জ্যাকি চ্যান হংকং-এর পো লিউং কাক চ্যারিটি থেকে দশটি এতিম বাচ্চাকে দত্তক নিয়েছেন, অনেক ক্যান্সার রোগী শিশুদের ব্যয়বহুল অপারেশনের খরচ যুগিয়ে তাদের জীবন রক্ষা করেছেন জ্যাকি। তাকে ইউনাইটেড নেশনস গুডউইল অ্যামবাসাডর করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের অ্যান্টি স্মোকিং অ্যামবাসাডরও জ্যাকি। এজন্য তিনি ধূমপানও ছেড়েছেন।

জ্যাকি বলিউড শিল্পীদের সঙ্গেও অভিনয় করেছেন। ‘মার্ডার’ খ্যাত নায়িকা মল্লিকা সেরাবতকে নিয়ে তিনি চীনা মিথলজির উপর ‘দ্য মিথ’ ছবিটি করেন। প্রথমে মল্লিকাকে তিনি নিতে চাননি, কিন্তু মল্লিকা যখন বলেন যে তিনি নিজের স্ট্যান্টগুলো নিজেই করবেন তখনই জ্যাকি রাজি হন।
বলিউডের মার্শাল আর্ট হিরো অক্ষয় কুমার জ্যাকি বলতে অজ্ঞান। তার স্বপ্ন জ্যাকির সঙ্গে ছবি করবেন। ন্যাশন্যাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে ‘সেভেন ডেডলি আর্টস’ - এ অক্ষয়ের মার্শাল আর্ট দেখে দারুণ মুগ্ধ জ্যাকি। তিনি অক্ষয়ের দুটি ছবিও দেখেছেন। মার্শাল আর্টের এই দুই অভিনেতা হংকং ট্যুরিজম বোর্ডের চেষ্টায় একত্রিত হন। জ্যাকি অক্ষয়ের প্রশংসা করে বলেন, ‘সাধারণত মার্শাল আর্ট অভিনেতাদের চেহারা সুরত ভাল হয় না। কিন্তু তুমি একদমই ব্যতিক্রম।’
এছাড়া জ্যাকি আর এক মার্শাল আর্ট হিরো জেট লীর সাথে ‘দ্য ফরবিডেন কিংডম’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাকে নিয়ে ‘জ্যাকি চ্যান এ্যাডভেঞ্চারস’ নামে একটি কার্টুন ছবিও তৈরি হয়েছে।
জ্যাকি এখনও চুটিয়ে ছবি করে চলেছেন। তবে তার ছেলে জেসির আবার গানের দিকে ঝোঁক। সে খুব ভাল গান লেখে, মিউজিক বাজায়, নাচতে পারে। আগে ছেলেকে সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখলেও আজকাল আর তার স্বাধীনতার উপরে হস্তক্ষেপ করেন না জ্যাকি।

জ্যাকির বয়স বাড়লেও এ নিয়ে তার দুশ্চিন্তা নেই। আর ফিল্ম থেকে কবে অবসর নেবেন, জানেন না। মৃত্যুর আগে ভাল ভাল আরও কিছু কাজ করে যেতে চান এশিয়ার সবচে’ জনপ্রিয় কুংফু তারকাটি। সে সব কাজ করতে পারলে তবেই মরে শান্তি পাবেন তিনি।
original post
read more

হায়াও মিয়াজাকির বিশ্ব

by খান মুহাম্মদ

প্রিয় এনিমেশন পরিচালক হায়াও মিয়াজাকির সিনেমা যত দেখছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি। জাপানী এনিমেশনকে এনিমে বলা হয়। তাই আমিও এখানে এনিমে ব্যবহার করছি। আসলে শুধু এনিমে সেক্টরে না, সবকিছু মিলেই জাপানে মিয়াজাকির চেয়ে মেধাবী কোন চলচ্চিত্র পরিচালক এখন নেই। ইসাও তাকাহাতার দুটো সিনেমা খুবই ভাল লেগেছে। কিছু দিক দিয়ে তাকাহাতা মিয়াজাকির সমমানের হলেও তার ওপর মিয়াজাকির প্রভাব সুস্পষ্ট। আমি এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটা সিনেমা দেখলাম, প্রত্যেকটাই সুন্দর। সবচেয়ে ভাল লেগেছে মাই নেইবর তোতোরো। মিয়াজাকির সিনেমা দেখে সেই কথার মর্ম বুঝতে পারলাম,

শিশু সাহিত্য তখনই ভাল হয় যখন তা শিশুদের জন্য লেখা হয় না। আসলে শিশু সাহিত্যের মর্মার্থ বোঝার ক্ষমতা কেবল বড়দেরই আছে। শিশুরা তা দেখে কেবল নির্মল আনন্দটাই পেতে পারে, আর কিছু না।

আর বাচ্চাদের বোঝানোর ছলে যে মানুষের অন্তরে কত ভাষা ঠেসে দেয়া যায় এটা মিয়াজাকি না দেখলে বিশ্বাস করা সম্ভব না। হলিউড ও ইউরোপের কিছু রূপকথার সিনেমা তো দেখেছি, দেখেছি লর্ড অফ দ্য রিংস বা স্পেনের প্যানস ল্যাবিরিন্থ। কিন্তু কোনকিছুই মিয়াজাকির মত স্পর্শ করতে পারেনি। স্টেরিওটাইপিং না থাকার কারণেই বোধহয় মিয়াজাকির চরিত্রগুলো এত মোহনীয় হয়ে উঠে, চরিত্রগুলোকে খুব কাছ থেকে বোধহয় এজন্যই দেখতে ইচ্ছে করে।

হায়াও মিয়াজাকি

হায়াও মিয়াজাকি

মিয়াজাকির সিনেমার প্রথম পাঠ হতে পারে থিম বোঝার মাধ্যমে। তাই তার মুখ্য থিমগুলো নিয়েই আজ আলোচনা করতে চাই।

ভাল-মন্দ

মিয়াজাকির অধিকাংশ চরিত্রই খুব গতিময়। তারা থেমে থাকে না, নিজেদের পরিবর্তন করতে জানে, কিন্তু এই পরিবর্তন কখনও প্রথাগত ভালো-মন্দের সংজ্ঞা মেনে হয় না। তার ভিলেন চরিত্রগুলোরও প্রায়শ্চিত্ত করার ক্ষমতা থাকে, তাই তাদেরকে সরাসরি অ্যান্টাগনিস্ট বলে দেয়া যায় না। যেমন প্রিন্সেস মোনোনোকি তে লেডি এবোশি গাছপালার উপর নির্ভরশীল প্রাণীদের কথা না ভেবেই কারখানার কাঁচামালের জন্য বনের পর বন উজাড় করে, কিন্তু অন্যদিকে তার আশ্রয়ে থাকা কুষ্ঠ রোগী ও পতিতারা তাকে খুব ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। মিয়াজাকির আরও কিছু সিনেমার মত এটাও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে পরিপূর্ণতা অর্জন করে। এনিমেশন সিনেমায় এমনটা বিরল। অধিকাংশ সময়ই শিশু সাহিত্যের আদলে প্রোটাগনিস্ট ও অ্যান্টাগনিস্ট সৃষ্টি করা হয় এবং শেষে গিয়ে অ্যান্টাগনিস্টের পরাজয়ের মাধ্যমে সিনেমা পরিপূর্ণতা অর্জন করে। মিয়াজাকি এটাকে পরিবর্তন যেমন করেছেন ঠিক তেমনি এর পেছনে শৈল্পিক পটভূমি দাঁড় করিয়েছেন। স্পিরিটেড অ্যাওয়ে সম্পর্কে তিনি একবার বলেছিলেন,

নায়িকা এমন এক জগতে গিয়ে পড়ে যেখানে ভাল এবং মন্দ একসাথে থাকে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে কিন্তু তাকে মন্দকে ধ্বংস করতে হয়নি, ভাল এবং মন্দ আগের মতই সহবাস করছে, নায়িকা কেবল এই পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকতে শিখেছে।

ভাল-মন্দের এই জটিল সীমারেখা সম্পর্ক প্রশ্ন করলে মিয়াজাকি বলেন, একবিংশ শতকের অত্যন্ত জটিল সমাজ ব্যবস্থায় ভালো-মন্দের প্রাচীনপন্থী সংজ্ঞা খাটে না। প্রাচীন আচার-ব্যবহার এখন আর প্রযোজ্য নয়, সেগুলো হয় বাদ দিতে হবে নয় সংশোধন করতে হবে। এই যুগের সাহিত্য বা শিল্পে অতি সাধারণ স্টেরিওটাপিং করে পার পাওয়া যায় না, এমনকি শিশু সাহিত্যেও না। মিয়াজাকি নিজেও কখনও কখনও নিরাশায় ভুগেন, কিন্তু শিশুদের কাছে তিনি সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর একটি ইতিবাচক চিত্রই তুলে ধরতে চান।

অবশ্য এক্ষেত্রেও মিয়াজাকির খানিকটা বিবর্তন হয়েছে। তার প্রথম সিনেমাগুলোতে কিছু খাঁটি ভিলেন দেখা যেতো। যেমন ক্যাসল ইন দ্য স্কাই এর মুস্কা, কোনকিছুই বোধহয় তাকে ভাল করতে পারতো না। কিন্তু পরের দিকের বেশ কিছু সিনেমাতে দেখা গেছে, কোন ভিলেনই নেই, যেমন- মাই নেইবর তোতোরো। এছাড়া তার বেশ কিছু সিনেমাতে জাপানের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সুপ্রাচীন সর্বপ্রাণবাদের (Animism) স্বাদ পাওয়া যায়। স্পিরিটেড অ্যাওয়ের থিম আগাগোড়াই সর্বপ্রাণবাদ থেকে এসেছে। মাই নেইবর তোতোরো তেও এর কিছু ছাপ রয়ে গেছে।

পরিবেশবাদ

মিয়াজাকির সিনেমাতে অনেক সময়ই পরিবেশের প্রতি সহানুভূতি, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন এবং পৃথিবীর নাজুক রূপটি দেখা যায়। মাই নেইবর তোতোরো তে বিশাল গাছের ওপাশে পাহাড় ঘেঁষে এক অদ্ভুত বন দেখা যায় যেখানে সব ঐন্দ্রজালিক জীব-জন্তুর বাস। একটি পরিবার এই গাছের পূজা করে। প্রিন্সেস মোনোনোকি তে মিয়াজাকি একটি বিস্ময়কর বাস্তুতন্ত্র তৈরি করেছেন যেখানে সুপ্রাচীন গাছগাছালি, ফুল, নেকড়ে, দেব-দেবী, নদী সবই পাওয়া যায়। স্পিরিটেড অ্যাওয়েতে পরিবেশ সচেতনতা প্রকাশ পেয়েছে একটি “রিভার স্পিরিট” এর মাধ্যমে। এই “নদীর আত্মা” আত্মার দেশে আসে নিজেকে পরিষ্কার করতে। পরিষ্কার করতে গিয়েই বোঝা যায় মানুষ নদীকে কতটা দূষিত করে ফেলেছে। ডিভিডি কমেন্টারিতে মিয়াজাকি বলেছেন, এই দৃশ্যটা একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। নিজের বাড়ির পাশে একটি নদী পরিষ্কারে সাহায্য করেছিলেন মিয়াজাকি। সেখানকার অভিজ্ঞতা থেকেই রিভার স্পিরিটের জন্ম দিয়েছেন।

প্রিন্সেস মোনোনোকি, ক্যাসল ইন দ্য স্কাইনাউসিকা অফ দ্য ভ্যালি অফ উইন্ড- এই তিন সিনেমাতেই বাস্তুতান্ত্রিক স্বর্গ হুমকির সম্মুখীন হয়, এই নৈসর্গ্যিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে দেয়ার হুমকি দেয় সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সামরিক বাহিনী। দুই পক্ষে যুদ্ধ বাধে। প্রাকৃতিক উপায়ে জীবন ধারণ এবং সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে সংস্কৃতি ধ্বংস এই দুয়ের মধ্যে সংঘাত চলে নিরন্তর। প্রোটাগনিস্টরা এই যুদ্ধে প্রচণ্ড সক্রিয় হয়ে উঠে। এছাড়া যুদ্ধ ও সংঘাতের দৃশ্যগুলোতে ভূমি ও সম্পদের নির্বিচার ধ্বংস খুব স্পষ্টভাবে দেখানো হয়, আবহে থাকে সামরিক সঙ্গীত। এর মাধ্যমে স্থানীয় অধিবাসীদের ভীতি ও কষ্ট প্রকট হয়ে ওঠে।

দ্য নিউ ইয়র্কার সাময়িকীতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মিয়াজাকি বলেছিলেন যে, আধুনিক সভ্যতা ও সংস্কৃতির অধিকাংশই খুব হালকা ও কৃত্রিম এবং শুনতে একটু হাস্যকর শোনালেও তিনি মাঝেমাঝে ভাবেন, ভবিষ্যতে একটা অ্যাপোক্যালিপ্টিক যুগ আসবে; এই যান্ত্রিক সভ্যতা ধ্বংস হবে, সবুজ সংস্কৃতি আবার সিংহাসনে আরোহণ করবে। মিয়াজাকি সম্রাট হিরোহিতোর যুগ পার করেছেন। সে যুগে শিল্পায়নের নামে নির্বিচারে প্রকৃতি ধ্বংস করা হয়েছে, পাহাড় ও নদীর সেই কান্নাই হয়তো তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। আর সার্বিকভাবে মিয়াজাকি মনে করেন, শিশুদের বিশ্বে বড়দের হস্তক্ষেপ করা উচিত না, আরও স্পষ্ট করে বললে, শিশুদের উপর বড়দের ভিশন চাপিয়ে দেয়া উচিত না।

যুদ্ধের বিরোধিতা

নাউসিকা প্রিন্সেস মোনোনোকি এই দুই সিনেমাতেই যুদ্ধবিরোধী মনোভাব স্পষ্ট। প্রিন্সেস মোনোনোকি তে আশিতাকা মানুষের দুই গ্রুপের যুদ্ধে জড়িয়ে যায়। এই যুদ্ধের একসময় অবসান ঘটে, আশিতাকা তখন প্রকৃতির সাথে নিজেকে জড়িয়ে নেয়। এ ধরণের যুদ্ধে মিয়াজাকি সবসময়ই গ্রাফিক ডিটেইলের দিকে খুব বেশি মনোযোগ দেন। অ্যাপোক্যালিপ্টিক বিশ্বের প্রকৃত চেহারা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। নাউসিকা ও মোনোনোকি দুটোতেই অকাল প্রয়াত প্রাচীন বিশ্বের ধ্বংসাবশেষের ছড়াছড়ি দেখা যায়। ক্যাসল ইন দ্য স্কাই এ সামরিক বাহিনীর প্রকৃত চেহারা ফুটে উঠেছে সূক্ষ্ণ ডিটেইল নিয়ে: লোভী, সহিংস, মাথামোটা যারা অকারণেই ধ্বংস করতে ভালোবাসে।

মিয়াজাকির স্পিরিটেড অ্যাওয়ের ইংরেজিং ডাব্‌ড ভার্শন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। ২০০৩ সালে এটা “সেরা এনিমেশন চিত্র” হিসেবে অস্কার পায়। কিন্তু মিয়াজাকি নিজে পুরস্কার আনতে আমেরিকায় যাননি। পরবর্তীতে এর কারণ হিসেবে বলেছিলেন,

আমি এমন কোন দেশ ভ্রমণে যেতে চাইনি যারা ইরাকে বোমা হামলা করছে।

মানুষের আকাশে ওড়া

মিয়াজাকির একটি বড় জিয়নকাঠি হচ্ছে মানুষের আকাশ জয়। ওড়াকে তিনি দেখেন, মহাবিশ্বের সবচেয়ে মৌলিক যে বল, যে বাঁধা, সেই মহাকর্ষকে হার মানিয়ে মুক্ত হয়ে যাওয়া, ‘লিবারেশন ফ্রম গ্র্যাভিটি” এই বাক্য দুটো তাকে অনেকবার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ২০০২ সালে স্টুডিও জিবলি “ইমাজিনারি ফ্লাইং মেশিন” নিয়ে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা বানায় যাতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন স্বয়ং মিয়াজাকি।

ক্যাসল ইন দ্য স্কাই এ পুরো একটা উড়ন্ত শহর তৈরি করা হয়েছে। মেঘের আড়ালে সবার অলক্ষে সেই শহর উড়ে বেড়ায়, অভিকর্ষের সাথে জটিল খেলায় মেতে থাকে সর্বক্ষণ। নাউসিকা নামের মেয়েটি নিজের গ্লাইডারে করে নিপুণ দক্ষতায় উড়ে বেড়ায়, এছাড়া এই সিনেমায় এয়ারবোর্ন সশস্ত্র বাহিনী দেখা যায়, দুই পক্ষেই- প্রোটাগনিস্ট এবং অ্যান্টাগনিস্ট। মাই নেইবর তোতোরো তে তোতোরো নামের অদ্ভুত প্রাণীটি সেতসুকি ও মেই কে নিয়ে আকাশে উড়ে বেড়ায়। এক পলকে পুরো একটা গ্রাম দেখিয়ে আনে। স্পিরিটেড অ্যাওয়েতে চিহিরো ঘুরে আসে ড্রাগনরুপী হাকুর সাথে।

তবে মিয়াজাকির সবচেয়ে সফল সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রিন্সেস মোনোনোকি তে কোন ওড়ার দৃশ্য নেই উড়তে পারে এমন কোন চরিত্রও নেই।

রাজনীতি

মিয়াজাকি এক সময় মার্ক্সবাদী ছিলেন। তার মার্ক্সীয় চেতনার বহিঃপ্রকাশ কিছু সিনেমায় ঘটেছে। যেমন ক্যাসল ইন দ্য স্কাই এ শ্রমিক শ্রেণীকে মার্ক্সীয় ধারায় এক ধরণের আদর্শায়িত সমাজ হিসেবে দেখানো হয়। তবে নাউসিকা নিয়ে কাজ করার সময় মিয়াজাকি মার্ক্সবাদ ত্যাগ করেন। এ সম্পর্কে বলেন, “কেবল শ্রমিক বলেই তার সবকিছু ঠিক হবে এটা আর মেনে নিতে পারলাম না।” অবশ্য এখনও তার মধ্যে কিছু সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা আছে। এখনও তিনি পুঁজিবাদ, বিশ্বায়ন এবং আধুনিক জীবনের ওপর এগুলোর প্রভাবের তীব্র সমালোচনা করেন।

নারীবাদ

স্টুডিও জিবলির প্রধান তোশিও সুজুকি বলেছেন, হায়াও মিয়াজাকি নারীবাদী। নারী শ্রমিকদের প্রতি তার মনোভাব দেখেই সুজুকি এমন ধারণা পোষণ করেন। আমাদের অবশ্য এটা বুঝতে হলে স্টুডিওতে যাওয়ার দরকার নেই। সিনেমাতেই অনেক নারীবাদী থিম দেখা যায়। যেমন তার সিনেমার প্রায় সব অ্যান্টাগনিস্ট এবং প্রোটাগনিস্ট চরিত্রই নারী। মোটকথা চরিত্র যদি শক্তিশালী হয় তবে তা নারী হবেই। যেমন তার সিনেমায় আসলে কোন নায়ক নেই। নায়িকাই মুখ্য। প্রায় প্রতিটি সিনেমার কেন্দ্রে থাকে একটি মেয়ে, অবশ্যই কম বয়সী। বয়স্ক নারীদের তিনি খুব কর্কশ ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে দেখান, বয়স্ক পুরুষদের দেখান ক্লাউন ও দুর্বল হিসেবে। নায়কের বিপরীতে মাঝেমাঝে যে নায়কোচিত চরিত্র দেখা যায় সে খুব স্পর্শকাতর ও মোলায়েম হয়, সবাইকে ভালোবাসতে চায়। কিন্তু নায়ক-নায়িকার মধ্যে সম্পর্কটা হয় একেবারেই প্লেটোনিক, অনেকটা ভাই-বোনের মত। সবগুলো সিনেমার কনক্লুসিভ প্রোটাগনিস্ট চরিত্রে থাকে মেয়ে, এবং মিয়াজাকির সব নায়িকাই অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও মানবতাবোধের অধিকারী।
মিয়াজাকির নায়িকাদের সম্পর্কে জানতে হলে এই লেখাটা পড়ে দেখা যেতে পারে: Miyazaki’s Heroines by Freda Freiberg

শিশু ও শৈশব

এই থিম সম্পর্কে তো না বললেও চলে। মিয়াজাকির একটা উক্তিই বোধহয় যথেষ্ট:

শিশুদের আত্মা হচ্ছে পূর্ববর্তী প্রজন্মের ঐতিহাসিক স্মৃতির ভাণ্ডার।

সত্যিই তো। বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় মানুষ ২ লক্ষ বছরে যা অর্জন করেছে তার সবই তো সদ্য জন্ম নেয়া শিশুটির স্লেটে লেখা থাকে। শিশুরাই তো মানবতার উত্তরাধিকার।

মিয়াজাকি অনেক সিনেমাতেই শৈশব নিয়ে কাজ করেছেন। বাস্তব পৃথিবীতেই একটা কাল্পনিক জগৎ তৈরির ধারণা মিয়াজাকির সৃষ্টি না হলেও, এটা যে সবচেয়ে ভালভাবে তিনিই প্রয়োগ করতে পেরেছেন তাতে সন্দেহ নেই। মিয়াজাকির এই থিমের সাথে তাই অনায়াসেই জে এম ব্যারির তুলনা চলে। ব্যারির পিটার প্যান নাটকটি দেখার সৌভাগ্য হয়নি, তবে ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড সিনেমায় তার কিছুটা স্বাদ পেয়েছিলাম। বাস্তবের মধ্যে যে কাল্পনিক জগৎ উৎকৃষ্ট সাহিত্যে সেই জগতের সন্ধান কেবল শিশুরাই পায়। এই থিম এখন বিশ্ব ফ্যান্টাসিতে খুব জনপ্রিয়। কিন্তু এ জনপ্রিয়করণে মিয়াজাকির ভূমিকা অনন্য। শৈশব ছেড়ে উঠে আসার থিমও তিনি ব্যবহার করেছেন। সিনেমা ও সাহিত্যে এই ধারাকে বলে বিল্ডুংস্রোমান। স্পিরিটেড অ্যাওয়েতে বিল্ডুংস্রোমান এর কিছু উদাহরণ আছে।

শৈশব নিয়ে মিয়াজাকির এক ধরণের মোহ আছে। তিনি শৈশবকে দেখেন স্বর্গ হিসেবে, কারণ শৈশবে মানুষ বাবা-মা র অধীনে থাকে, আশপাশের কোন সমস্যাই তাকে স্পর্শ করে না। তবে আধুনিক বিশ্বে শিশুর জীবন নিয়ে তিনি চিন্তিত। জন্মের পরপরই যেভাবে ভার্চুয়াল জগৎ শিশুকে চেপে ধরে, তাতে ভবিষ্যতে শিশুর সাথে প্রকৃতির সম্পর্ক টুটে যায় কি-না কে জানে। মিয়াজাকির মত আমিও মনে করি, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পর্ক হচ্ছে একটি শিশুর সাথে প্রকৃতির সম্পর্ক। মিয়াজাকি তাই বর্তমানের শিশুদের নিয়েই কাজ করতে চান। চরিত্রগুলো বানান শিশুদের সাথে তার বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে।

মিয়াজাকির যে পাঁচটি সিনেমা দেখেছি

Nausicaä of the Valley of the Wind (১৯৮৪)

Nausicaä of the Valley of the Wind (১৯৮৪)

ভ্যালি অফ উইন্ড-এর রাজকন্যা নাউসিকা, তার গ্লাইডার নিয়ে এক মহান যুদ্ধে যোগ দিয়েছে- পৃথিবী রক্ষার যুদ্ধ। অনেকদিন আগে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা পৃথিবীতে আজ কীটপতঙ্গের রাজত্ব। এই কীটদেরও নাউসিকা ভালোবাসে। তাদের সাথে সন্ধি করে নতুন পৃথিবী বানাতে চায়।
Laputa: Castle in the Sky (১৯৮৬)

Laputa: Castle in the Sky (১৯৮৬)

আকাশ থেকে এক পরী নেমে আসে। পাৎসু তাকে রক্ষা করে, জানতে পারে তার নাম সেইতা, এখানে আসার কারণও জানা হয়ে যায়। সেইতার লক্ষ্যের সাথে পাৎসুর উড়ন্ত দুর্গ সন্ধানের স্বপ্ন মিলে যায়। দুজনের যাত্রাপথ হয় এক। এই রোমাঞ্চকর অভিযানই সিনেমা। পথে তারা মিলে এক অদ্ভুত পাইরেট (আকাশদস্যু!) গ্যাং এর সাথে।
My Neighbor Totoro (১৯৮৮)

My Neighbor Totoro (১৯৮৮)

সাতসুকি ও মেই দুই বোন, সাতসুকি বড়, মেই ছোট তবে দুজনই তাদের শৈশবে, সাতসুকি সবে বড় হতে শুরু করেছে। মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। বাবা তাদের নিয়ে চলে এসেছেন গ্রামের বাড়িতে। এই বাড়িতেই এক অদ্ভুত ঐন্দ্রজালিক জগতের দেখা পায় দুই বোন, যে জগৎ বড়রা দেখতে পারে না। তারা মায়ের কোলে ফিরে যাওয়ার পথ খুঁজে পায় এই অদ্ভুত বিশ্বের মধ্য দিয়েই।
Princess Mononoke (১৯৯৭)

Princess Mononoke (১৯৯৭)

দেবতা থেকে অসুর হয়ে যাওয়া এক দানবের অভিশাপে অভিশপ্ত আশিতাকা রিডেম্পশনের জন্য পথে বেরোয়। কিন্তু তার সেই রিডেম্পশন ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে মানবতার রিডেম্পশন। কারণ মানুষ মিনিটের মধ্যে এমন একটি বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে যা গড়ে উঠতে লক্ষ বছর লেগেছে। নেকড়েদের রাজকন্যা মোনোনোকির হাত ধরেই আশিতাকা খুঁজে রিডেম্পশনের পথ। অনেকের মতে এটাই মিয়াজাকির সেরা সিনেমা।
Spirited Away (২০০১)

Spirited Away (২০০১)

original post

read more

Wednesday, November 16, 2011

Dennis Ritchie (১৯৪১-২০১১) | সি প্রোগ্রাম ও প্রযুক্তিপ্রেমিদের বেদনা

by অনির্বাচিত

প্রযুক্তিপ্রেমিদের দুঃখ দিতেই মনে হয় এই অক্টোবর মাস এসেছে। গত ৫ই অক্টোবর পরলোকগমন করলেন অসংখ্য প্রযুক্তিপ্রেমির উৎসাহের ব্যক্তি স্যার স্টিভ জবস্। অসংখ্য প্রযুক্তি অনুরাগীকে শোকের ছায়ায় ফেলে রেখে তিনি এই পৃথিবী থেকে চির কালের জন্য চলে গেলেন। তার চলে যাওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরই মারা গেলেন আরেকজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী Sir Dennis Ritchie.

সম্পূর্ণ নাম Dennis MacAlistair Ritchie তার ডাক নাম হল dmr. তার এই নিক নামটি পাওয়ায় বেল ল্যাবসে কর্মরত থাকায় তার ইমেইল থেকে। ১৯৪১ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর এই মহান ব্যক্তির জন্ম। তিনি ছিলেন C programming language এর প্রণেতা, Multics এবং Unix অপারেটিং সিস্টেমের ডেভেলপার। তিনি তার জীবনের সবচেয়ে বেশি সময় পার করেছেন Bell Labs এ। তিনি ১৯৮৩ সালে Turing Award এবং ১৯৯৯ সালের ২১ই এপ্রিল National Medal of Technology 1998 পুরষ্কারের ভূষিত হন। তিনি ২০০৭ সালে অবসরের পূর্ব পর্যন্ত ছিলেন Lucent Technologies System Software Research Department এর প্রধান।

তিনি আমেরিকার নিউইয়র্কের ব্রনেক্সভিলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পদার্থ বিজ্ঞান ও গণিতের উপর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে বেল ল্যাব এন Computing Sciences Research Center তিনি তার কাজ শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Ph.D ডিগ্রি অর্জন করেন।

C এবং Unix

Dennis Ritchie কে সবচেয়ে বেশি জানা যায় C programming language এর থেকে। তিনিই হলে সি ভাষার রচনাকারি। আমেরিকার বেল ল্যাবসের কর্মরত অবস্থায় তিনি সি ভাষাটি তৈরি করেন। পরে তিনি ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম তৈরির প্রথম অবস্থায় সাহায্য-সহযোগিতা করেন।

তিনি তার জীবনে অনেক গুলো পুরষ্কার পুরষ্কিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলঃ Turing Award, IEEE Richard W. Hamming Medal, National Medal of Technology, Japan Prize ইত্যাদি

তার উদ্ধৃতি

  • “I am not now, nor have I ever been, a member of the demigodic party.
  • “Usenet is a strange place.
  • “UNIX is very simple, it just needs a genius to understand its simplicity.
  • “C is quirky, flawed, and an enormous success.”
  • “We really didn’t buy it thinking we’d have this enormous investment.

নিচের তার জীবনের কয়েকটি মুহূর্ত তুলে ধরলাম

তার মৃত্যুতে বিশ্ববাসি আরেকজন কম্পিউটার বিজ্ঞানীকে হারাল। আমরা তার মৃত্যুতে গভীর ভাবে শোকাহত।
original post
read more
affiliate program

EARN INCOME FROM YOUR WEBSITE

Turn your valuable web site traffic into income. Work online and join our free money making affiliate program. We offer the most pay-per-click rate to help maximize your cash stream.

Join our income making program absolutely free and 100% risk free.

Sign Up...

A steady income generator

Imagine running of a something that never failed to provide you with cash-flow. A earning money program so amazingly profitable that you never had to look for job ever again!Income while you sleep

CASH WHILE YOU SLEEP

Earn $1,000... $2,000... $5,000...

Turn your website visitors into cash!
You get money for every visitor that clicks on our advertizing. Our goal is to enable you to make as much as possible from your site. We pay monthly, either by check, or through PayPal.

Begin collecting steady partner commissions

Our money making program really can make you income on the same day. Start receiving steady partner revenue with almost no effort at all. This is a serious revenue opportunity, the chance for you to build a steady, reliable, long-time profitable business.

Savings Highway Dream Team Member Site Savings Highway Dream Team Member Site