by নাআমি
এরপরের দিন ভোরে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম বাদ বাকী যায়গা গুলি দেখবার জন্য। প্রথমেই গেলাম Ginger Factory তে। এই Ginger বা আদার কারখানাটি Yandina নামের এক জায়গায় অবস্থিত। কারখানার কাছাকাছিই আদার চাষ। কারখানায় ঢুকে অবাক হয়ে গেলাম আদার তৈরী বিভিন্ন খাবার দাবার দেখে। জ্যাম, কেক, কুকি , আচার....ইত্যাদি অনেক কিছু !
আদার তৈরী এত বিভিন্ন ধরনের খাবার দাবার দেখে অবাক লাগল যে আদা দিয়ে এত কিছু বানানো যায় !
তারপর গেলাম নামবুর নামের এক জায়গায়। নামবুর ( Nambour ) জায়গাটিতে বিশাল এলাকা জুড়ে হয় আঁখের চাষ। এখানে অনেক আঁখ তৈরী হয় আর এই আঁখ থেকে চিনি তৈরী হয়। খুব মজা লাগল দেখতে কিভাবে এরা আঁখ থেকে চিনি তৈরী করে। চিনি তৈরীর একটি কারখানা বা sugar mill রয়েছে। এখানে আরো আছে বিস্মিত করার মত নামবুর মিউজিয়াম ( nambour museam )।
তবে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং হচ্ছে এখানে আখবাহিত বিশেষ ধরনের ট্রেনটি। এই ট্রেনের ( sugarcane train ) স্পেশাল ব্যবস্থাটি খুব কাজের।এই ট্রেনটায় চড়ে মিল পর্যন্ত যাওয়া যায়
।
এর পরের দিন গেলাম এখানকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা নুসা বীচ, noosa beach এ, বিশেষ করে পর্যটকদের কাছে এই noosa beach এক দারুন জায়গা ! সানসাইন কোষ্টের একেবারে উত্তর দিকে সুন্দর ছিমছাম করে সাজানো জায়গার নাম "নুসা ভিল"( noosaville) শহর। এই noosa beach সার্ফিং এর জন্য বিখ্যাত। চমৎকার মনোরম এই জায়গাটিতে প্রচুর ভীড় থাকে।
এই বীচটির প্রাকৃতিক দৃশ্য পাগল করার মত, সাধারনতঃ আশেপাশের মোটেল গুলিই সবাই বুক করে রাখে ২/১ দিন এখানে কাটানোর জন্য।
noosaville থেকে একটু এগিয়ে গেলে ছোট্ট শহর Tewantin, আর তার থেকে আর একটু গেলে আর এক শহর Teewah । এই Teewah তে এক দারুন জিনিস চোখে পড়ল, ৭২ রং এর বালুর ঢিবি বা পাহাড়, যার মধ্যে কোন কোনটার উচ্চতা ২০০ মিটার ! এই রং এর কারন নাকী অক্সাইড (oxide)। এই রন্গীন বালুর পাহাড় দেখবার জন্য এখানে প্রচুর লোকের ভীড় হয়।
সারাদিন Grey hound bus এ করে ঘুরে বিকেলে আবার গেলাম সমুদ্র পাড়ে সূর্যাস্তের অপরুপ দৃশ্য দেখতে। মনটা ভরে দেখলাম, শুধু দুই চোখ দিয়ে না, মনের জানালাও খুলে রাখলাম.....বোঝাতে পারবোনা কি বিশাল সে অনুভূতি ! পেটে প্রচন্ড ক্ষুধা,তবুও সরতে ইচ্ছা করেনা এই বিশাল সৌন্দর্য্য থেকে অন্য কোথাও ! একসময় যখন পেট মোচার দিল তখন তাগিদ অনুভব করলাম যে এবার কিছু খাওয়া দরকার
! 
তারপর সবাই মিলে শুরু করলাম বার্বিকিউ এর প্রস্তুতি, শুধু খাবার গুলিই নিয়ে গিয়েছিলাম, চুলাতো ওখানেই সেট করা। অনেক ভাল লাগে আমার বীচ এর পাশে বার্বিকিউ করতে, বিশাল যায়গা জুড়ে অনেক গুলি বার্বিকিউ স্পট, শুধু বেছে ভাল লাগা যায়গাটিতে বসা, যদিও স্পট খালি পাওয়া এত সহজ না, তবুও একটু অপেক্ষা করলেই চমৎকার যায়গা পাওয়া যায়.....আমরা খুঁজে গাছের নীচে একটা সুন্দর যায়গা বের করে নিলাম,
এরপর ঘাসের ওপর চাদর বিছিয়ে বসে পড়লাম সেখানে, কেও কেও ক্রিকেট নিয়ে চলে গেল একটু দূরে, কেও আবার বল নিয়ে, ক্যাসেট টা ছেড়ে দিয়ে আমরা বার্বিকিউ টেবিল এর প্রস্তুতি শুরু করলাম। খাবার শুরু করবার আগে কেও কেও সমুদ্রে নেমে কাটিয়ে দিল মুহুর্তের পর মুহুর্ত , শিশুরাও কম যায়না, সমুদ্র যেন তাদের খেলার সাথি, বল নিয়ে কাটিয়ে দিল অনেকটা সময়.....
আস্তে আস্তে বিকেল-সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমে এল । সে যেন এক আলাদা সৌন্দর্য্য ! রাতের আলোয় সাগরের পানি দেখা যাচ্ছেনা ঠিকই কিন্তু সাগরের পরশমাখা ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা চোখে মুখে আদর বুলিয়ে যেন বলছিল, থাকনাগো তুমি আমারই সাথে এমন করে সারাটাজীবন.....
বালুতে বসে বসে প্রিয় নাম গুলি লিখছিলাম আর মনে মনে গাইছিলাম সেই চিরপরিচিত প্রিয় গান গুলি...সামিনা'র
ঐ ঝিনুক ফোটা সাগর বেলায় আমার ইচ্ছে করে, আমি মন ভেজাব ঢেউ এর মেলায় তোমার হাত টি ধরে....
Oi jhinuk fota shagor belai_Samina Chowdhury
অথবা, মৌসুমি ভৌমিকের
আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউয়ে চেপে নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছ, আমি শুনেছি সেদিন তুমি নোনাবালি তীর ধরে বহুদূর বহুদূর হেঁটে এসেছো .....
Ami Shunechi Sedin Tumi : Moushumi Bhoumik

original post
এরপরের দিন ভোরে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম বাদ বাকী যায়গা গুলি দেখবার জন্য। প্রথমেই গেলাম Ginger Factory তে। এই Ginger বা আদার কারখানাটি Yandina নামের এক জায়গায় অবস্থিত। কারখানার কাছাকাছিই আদার চাষ। কারখানায় ঢুকে অবাক হয়ে গেলাম আদার তৈরী বিভিন্ন খাবার দাবার দেখে। জ্যাম, কেক, কুকি , আচার....ইত্যাদি অনেক কিছু !
আদার তৈরী এত বিভিন্ন ধরনের খাবার দাবার দেখে অবাক লাগল যে আদা দিয়ে এত কিছু বানানো যায় !
তারপর গেলাম নামবুর নামের এক জায়গায়। নামবুর ( Nambour ) জায়গাটিতে বিশাল এলাকা জুড়ে হয় আঁখের চাষ। এখানে অনেক আঁখ তৈরী হয় আর এই আঁখ থেকে চিনি তৈরী হয়। খুব মজা লাগল দেখতে কিভাবে এরা আঁখ থেকে চিনি তৈরী করে। চিনি তৈরীর একটি কারখানা বা sugar mill রয়েছে। এখানে আরো আছে বিস্মিত করার মত নামবুর মিউজিয়াম ( nambour museam )।
তবে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং হচ্ছে এখানে আখবাহিত বিশেষ ধরনের ট্রেনটি। এই ট্রেনের ( sugarcane train ) স্পেশাল ব্যবস্থাটি খুব কাজের।এই ট্রেনটায় চড়ে মিল পর্যন্ত যাওয়া যায়
এর পরের দিন গেলাম এখানকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা নুসা বীচ, noosa beach এ, বিশেষ করে পর্যটকদের কাছে এই noosa beach এক দারুন জায়গা ! সানসাইন কোষ্টের একেবারে উত্তর দিকে সুন্দর ছিমছাম করে সাজানো জায়গার নাম "নুসা ভিল"( noosaville) শহর। এই noosa beach সার্ফিং এর জন্য বিখ্যাত। চমৎকার মনোরম এই জায়গাটিতে প্রচুর ভীড় থাকে।
এই বীচটির প্রাকৃতিক দৃশ্য পাগল করার মত, সাধারনতঃ আশেপাশের মোটেল গুলিই সবাই বুক করে রাখে ২/১ দিন এখানে কাটানোর জন্য।
noosaville থেকে একটু এগিয়ে গেলে ছোট্ট শহর Tewantin, আর তার থেকে আর একটু গেলে আর এক শহর Teewah । এই Teewah তে এক দারুন জিনিস চোখে পড়ল, ৭২ রং এর বালুর ঢিবি বা পাহাড়, যার মধ্যে কোন কোনটার উচ্চতা ২০০ মিটার ! এই রং এর কারন নাকী অক্সাইড (oxide)। এই রন্গীন বালুর পাহাড় দেখবার জন্য এখানে প্রচুর লোকের ভীড় হয়।
সারাদিন Grey hound bus এ করে ঘুরে বিকেলে আবার গেলাম সমুদ্র পাড়ে সূর্যাস্তের অপরুপ দৃশ্য দেখতে। মনটা ভরে দেখলাম, শুধু দুই চোখ দিয়ে না, মনের জানালাও খুলে রাখলাম.....বোঝাতে পারবোনা কি বিশাল সে অনুভূতি ! পেটে প্রচন্ড ক্ষুধা,তবুও সরতে ইচ্ছা করেনা এই বিশাল সৌন্দর্য্য থেকে অন্য কোথাও ! একসময় যখন পেট মোচার দিল তখন তাগিদ অনুভব করলাম যে এবার কিছু খাওয়া দরকার
তারপর সবাই মিলে শুরু করলাম বার্বিকিউ এর প্রস্তুতি, শুধু খাবার গুলিই নিয়ে গিয়েছিলাম, চুলাতো ওখানেই সেট করা। অনেক ভাল লাগে আমার বীচ এর পাশে বার্বিকিউ করতে, বিশাল যায়গা জুড়ে অনেক গুলি বার্বিকিউ স্পট, শুধু বেছে ভাল লাগা যায়গাটিতে বসা, যদিও স্পট খালি পাওয়া এত সহজ না, তবুও একটু অপেক্ষা করলেই চমৎকার যায়গা পাওয়া যায়.....আমরা খুঁজে গাছের নীচে একটা সুন্দর যায়গা বের করে নিলাম,
এরপর ঘাসের ওপর চাদর বিছিয়ে বসে পড়লাম সেখানে, কেও কেও ক্রিকেট নিয়ে চলে গেল একটু দূরে, কেও আবার বল নিয়ে, ক্যাসেট টা ছেড়ে দিয়ে আমরা বার্বিকিউ টেবিল এর প্রস্তুতি শুরু করলাম। খাবার শুরু করবার আগে কেও কেও সমুদ্রে নেমে কাটিয়ে দিল মুহুর্তের পর মুহুর্ত , শিশুরাও কম যায়না, সমুদ্র যেন তাদের খেলার সাথি, বল নিয়ে কাটিয়ে দিল অনেকটা সময়.....
আস্তে আস্তে বিকেল-সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমে এল । সে যেন এক আলাদা সৌন্দর্য্য ! রাতের আলোয় সাগরের পানি দেখা যাচ্ছেনা ঠিকই কিন্তু সাগরের পরশমাখা ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা চোখে মুখে আদর বুলিয়ে যেন বলছিল, থাকনাগো তুমি আমারই সাথে এমন করে সারাটাজীবন.....
বালুতে বসে বসে প্রিয় নাম গুলি লিখছিলাম আর মনে মনে গাইছিলাম সেই চিরপরিচিত প্রিয় গান গুলি...সামিনা'র
ঐ ঝিনুক ফোটা সাগর বেলায় আমার ইচ্ছে করে, আমি মন ভেজাব ঢেউ এর মেলায় তোমার হাত টি ধরে....
Oi jhinuk fota shagor belai_Samina Chowdhury
অথবা, মৌসুমি ভৌমিকের
আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউয়ে চেপে নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছ, আমি শুনেছি সেদিন তুমি নোনাবালি তীর ধরে বহুদূর বহুদূর হেঁটে এসেছো .....
Ami Shunechi Sedin Tumi : Moushumi Bhoumik
original post


No comments:
Post a Comment