by নাআমি
সান সাইন কোষ্ট বিশেষত এর চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীর জন্য বিখ্যাত ও প্রশংসিত।এখানে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক দৃশ্য আবার অন্যদিকে বীচ, পাহাড়ের অসীম সৌন্দর্য্য অবাক করার মত।পর্যটকদের মূল লক্ষই হচ্ছে এখানকার ঝকঝকে সমুদ্রসৈকত আর স্বচ্ছ পানির ছোট ছোট লেক গুলি।
চলতে চলতেই লেক ডিন্গিয়ে চোখে পড়ে বিখ্যাত "গ্লাস হাউস মাউন্টেইন"এর। এই "গ্লাস হাউস মাউন্টেইন" পাহাড়টির নাম ১৭৭০ সালে ক্যাপ্টেন কুক রাখেন।
glass house mountain
ইয়র্কশায়ারের প্রাচীন আমলের কাঁচের তৈরীর চুলা গুলির চেহারা মনে করে ক্যাপ্টেন জেমস কুক এই নাম রাখেন।
তবে বড় পাহাড় দুটির এ্যাবরিজিন নাম হচ্ছে টিব্রোগার্গান (Tibrogargan) এবং ক্যানোরিন ( Canowrin)। এই গ্লাস হাউস মাউন্টেইন আর ছোট ছোট লেক গুলি নিয়ে আদিবাসীদের একটা গল্প আছে এবং সে গল্প অনুযায়ী টিব্রোগার্গান হচ্ছে পাহাড়গুলির বাবা আর বারোওয়াহ (Beerwah) হচ্ছে মা। এই মায়ের অনেক গুলি সন্তান আর তারা হচ্ছে, Coonowrin, Berburrum,The Tandbudla Twins, Coochin, Ngun Ngun, Tibberoowuccum, Miketee bumulgrai, Elimb , Round এদের মধ্যে Round ছিল সবার ছোট , মোটা এবং এক পাগলা ঘোড়া।
Mt Tibrogargan
টিব্রোগার্গান খুবই আদর্শবান ও পরিবারের প্রতি সমবেদনাময়ী ছিল, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের ভীষণ ভালবাসত।
একদিন টিব্রোগার্গান যখন সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ছিল তখন পানির ঢেউ অনেক উঁচু হয়ে এগিয়ে আসতে দেখে সে তার সব ছোট ছোট বাচ্চাদের একত্র করে পশ্চিমদিকের পাহাড়ের উপরে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে যেতে বড় ছেলে Coonowrin কে ডেকে বললো তার মাকে পাহাড়ে ওঠতে সাহায্য করতে, কারন মা Beerwah গর্ভবতি। কিন্তু যেতে যেতে পেছন ফিরে তাকিয়ে বাবা টিব্রোগার্গান দেখতে পেল Coonowrin তার মাকে ফেলে একাই পাহাড়ের দিকে দৌড়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড রেগে সে তখন ছেলের দিকে ছুটে গিয়ে তাকে হাতের লাঠি দিয়ে জোড়ে আঘাত করল আর সেই আঘাতে Coonowrin এর ঘাড়ের হাড় ভেন্গে গেল।
Mt Beerwah

মা'কে সাহায্য না করার পরিনাম সে হারে হারে টের পেল, সারাটাজীবন সেই কষ্ট বয়ে বেড়ানো.....
এরপর Coonowrin আর কোনদিন ঘাড় সোজা করে আর মাথা উঁচু করে চলতে পারেনি।এরপর যখন সমুদ্রের প্রচন্ড বেগে আসা বন্যার পানি কমে এল, পানি স্বাভাবিক সীমানায় নেমে এল তখন টিব্রোগার্গান আবার পরিবার নিয়ে পাহাড় থেকে নেমে এল। কিন্তু Coonowrin এর অন্যান্য ভাই এরা সবসময় তাকে ভান্গা ঘাড়ের জন্য ক্ষেপাতো। Coonowrin তার কৃতকর্মের জন্য বাবা, মায়ের কাছে অনেকবার ক্ষমা চেয়েও বাবাকে দিয়ে কিছু করাতে পারলোনা, কারন বাবা জানালেন যে সে তার ভান্গা ঘাড়ের জন্য কিছু করতে পারবেননা ।
Mt Coonowrin
COONOWRIN এর কষ্ট দেখে এরপর বাবা-ছেলে দুজনেই মন খারাপ করে কাঁদতে লাগলেন।
তার চোখের পানি চিবুক গড়িয়ে মাটিতে পরে এক জলধারার সৃষ্টি করে সমুদ্রে গিয়ে মিশে গেল। Coonowrin তার ভাই দের কাছে গেলে তারাও কাঁদতে লাগলো। আর Coonowrin ও তার বাবা- ভাইদের চোখের পানি গুলি দিয়েই নাকী ছোট ছোট লেক গুলির সৃষ্টি বলেই আদিবাসীদের ধারনা। ছেলের এত মন খারাপ দেখে টিব্রোগার্গান জানতে চাইলেন যে সে কেন তার কথা মান্য করলনা আর বিপদের সময় তার মা'কে সাহায্য করলোনা ।
চোখের জলে তৈরী লেক, Lake-Cooroibah
জবাবে Coonowrin বললো যে সে ভাবছিল মা অনেক বড় মানুষ আর সে নিজেই নিজেকে সাহায্য করতে পারবে আর Coonowrin জানতোনা যে তার মা গর্ভবতী। তার বাবা তার এই জবাবে খুশী হতে পারলোনা আর প্রতিগ্গা করলো যে জীবনে ছেলের মুখ দেখবেনা। সেই প্রতিগ্গা রাখতে গিয়ে টিব্রোগার্গান আজও আশেপাশে না তাকিয়ে দূর সমুদ্রের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে। আর Coonowrin এখনও ঘার বাঁকিয়ে কেঁদে চলছে চোখের পানিতে সমুদ্রের ধারা সৃষ্টি করে।
Coonowrin এবং Beerwah
আর তার মা গর্ভবতি অবস্থায় ভারী শরীর নিয়ে সমুদ্রতীরে বসে আছে। কারন একটা পর্বতকে জন্ম দিতে অনেক বেশী সময় লেগে যায়।
Mt Coonowrin ( ঘার বাঁকা)
দারুন ইন্টারেস্টিং এই গল্পটা শুনে পাহাড় গুলির দিকে নতুন করে আবার তাকিয়ে দেখলাম, মজা লাগল, হাসি পেল আদিবাসীদের এরকম অন্ধ বিশ্বাস দেখে
। এরপর গেলাম আর এক পর্যটক আকর্ষণ "সানসাইন প্ল্যানটেশন" দেখতে। প্রথমে যেতে চাইনি, ভেবেছিলাম চাষাবাদ আবার কি দেখব কিন্তু না দেখলে মিস করতাম ! কি যে সুন্দর আর প্ল্যান অনুযায়ী সাজানো সব ক্ষেত খামাড় গুলি ! বিশাল রেইন ফরেস্টের (Rain Forest) বুকে ১১২ হেক্টর জমিতে এই চাষাবাদ করা হয়েছে।
সানসাইন প্ল্যানটেশন ( আনারসের চাষ )
আরও আছে স্ট্রবেরি ফলের চাষ, কি সুন্দরভাবে বিছানো রয়েছে, দেখলেই মন ভরে যায়...
স্ট্রবেরি প্ল্যানটেসান
বিভিন্ন রকম ফল গাছ যেমন আনারস, পেঁপে, আপেল, কলা ইত্যাদি গাছ গুলি সুন্দর ও ঘনিষ্ট ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা দুপাশ খোলা ছোট ট্রেনে চড়ে Rain Forest এর মাঝ দিয়ে আস্তে আস্তে ঘুরে ঘুরে সব দেখলাম। এই যায়গার নাম Big Pineapple । পর্যটন অফিসের সামনে বিশাল বড় আকারের এক আনারস বসানো
। সবাই এখানে ছবি তোলে।
আনারস সাজানো পর্যটক অফিসের সামনে
আর আনারসটা এত বড় যে মনে হয় ওটাকে কাটলে ভেতর থেকে এখুনি টসটসে রস বেরিয়ে আসবে ।
অনেকক্ষন ধরে এই বিশাল আকৃতির আনারসটি দেখলাম, দলে দলে মানুষের ভীড়। আর পর্যটকদের অফিসের পাশে হওয়াতে সবার চোখই এটার ওপর আছে। এক আনারস নিয়েও যে এমন ডেকোরেশন করা যায় আর তার প্রচার করে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি দেখানো যায় সেটা ভেবে শুধু অবাকই হলাম......
সানাসাইণ কোষ্ট বীচ
এরপর চলে গেলাম সান সাইন কোষ্টের সমুদ্রের তীরে কিছুটা সময় কাটাতে, যদিও সমুদ্র দেখবার প্রোগ্রাম রেখেছি পরের দিনের জন্য, তবুও কাছাকাছি অন্য একটায় গেলাম....সাগরের ঢেও আর তীরবর্তী গাছ-গাছালি মিলে তৈরী করেছে এক অপরুপ মন কাড়া দৃশ্য.......
ঘুরতে ঘুরতে শুধু ভাবি.....
Tumi Shundor Tai, Nazrul Geeti Sung by Satinath Mukharjee
original post
সান সাইন কোষ্ট বিশেষত এর চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীর জন্য বিখ্যাত ও প্রশংসিত।এখানে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক দৃশ্য আবার অন্যদিকে বীচ, পাহাড়ের অসীম সৌন্দর্য্য অবাক করার মত।পর্যটকদের মূল লক্ষই হচ্ছে এখানকার ঝকঝকে সমুদ্রসৈকত আর স্বচ্ছ পানির ছোট ছোট লেক গুলি।
চলতে চলতেই লেক ডিন্গিয়ে চোখে পড়ে বিখ্যাত "গ্লাস হাউস মাউন্টেইন"এর। এই "গ্লাস হাউস মাউন্টেইন" পাহাড়টির নাম ১৭৭০ সালে ক্যাপ্টেন কুক রাখেন।
glass house mountain
ইয়র্কশায়ারের প্রাচীন আমলের কাঁচের তৈরীর চুলা গুলির চেহারা মনে করে ক্যাপ্টেন জেমস কুক এই নাম রাখেন।
তবে বড় পাহাড় দুটির এ্যাবরিজিন নাম হচ্ছে টিব্রোগার্গান (Tibrogargan) এবং ক্যানোরিন ( Canowrin)। এই গ্লাস হাউস মাউন্টেইন আর ছোট ছোট লেক গুলি নিয়ে আদিবাসীদের একটা গল্প আছে এবং সে গল্প অনুযায়ী টিব্রোগার্গান হচ্ছে পাহাড়গুলির বাবা আর বারোওয়াহ (Beerwah) হচ্ছে মা। এই মায়ের অনেক গুলি সন্তান আর তারা হচ্ছে, Coonowrin, Berburrum,The Tandbudla Twins, Coochin, Ngun Ngun, Tibberoowuccum, Miketee bumulgrai, Elimb , Round এদের মধ্যে Round ছিল সবার ছোট , মোটা এবং এক পাগলা ঘোড়া।
Mt Tibrogargan
টিব্রোগার্গান খুবই আদর্শবান ও পরিবারের প্রতি সমবেদনাময়ী ছিল, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের ভীষণ ভালবাসত।
একদিন টিব্রোগার্গান যখন সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ছিল তখন পানির ঢেউ অনেক উঁচু হয়ে এগিয়ে আসতে দেখে সে তার সব ছোট ছোট বাচ্চাদের একত্র করে পশ্চিমদিকের পাহাড়ের উপরে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে যেতে বড় ছেলে Coonowrin কে ডেকে বললো তার মাকে পাহাড়ে ওঠতে সাহায্য করতে, কারন মা Beerwah গর্ভবতি। কিন্তু যেতে যেতে পেছন ফিরে তাকিয়ে বাবা টিব্রোগার্গান দেখতে পেল Coonowrin তার মাকে ফেলে একাই পাহাড়ের দিকে দৌড়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড রেগে সে তখন ছেলের দিকে ছুটে গিয়ে তাকে হাতের লাঠি দিয়ে জোড়ে আঘাত করল আর সেই আঘাতে Coonowrin এর ঘাড়ের হাড় ভেন্গে গেল।
Mt Beerwah
মা'কে সাহায্য না করার পরিনাম সে হারে হারে টের পেল, সারাটাজীবন সেই কষ্ট বয়ে বেড়ানো.....
এরপর Coonowrin আর কোনদিন ঘাড় সোজা করে আর মাথা উঁচু করে চলতে পারেনি।এরপর যখন সমুদ্রের প্রচন্ড বেগে আসা বন্যার পানি কমে এল, পানি স্বাভাবিক সীমানায় নেমে এল তখন টিব্রোগার্গান আবার পরিবার নিয়ে পাহাড় থেকে নেমে এল। কিন্তু Coonowrin এর অন্যান্য ভাই এরা সবসময় তাকে ভান্গা ঘাড়ের জন্য ক্ষেপাতো। Coonowrin তার কৃতকর্মের জন্য বাবা, মায়ের কাছে অনেকবার ক্ষমা চেয়েও বাবাকে দিয়ে কিছু করাতে পারলোনা, কারন বাবা জানালেন যে সে তার ভান্গা ঘাড়ের জন্য কিছু করতে পারবেননা ।
Mt Coonowrin
COONOWRIN এর কষ্ট দেখে এরপর বাবা-ছেলে দুজনেই মন খারাপ করে কাঁদতে লাগলেন।
তার চোখের পানি চিবুক গড়িয়ে মাটিতে পরে এক জলধারার সৃষ্টি করে সমুদ্রে গিয়ে মিশে গেল। Coonowrin তার ভাই দের কাছে গেলে তারাও কাঁদতে লাগলো। আর Coonowrin ও তার বাবা- ভাইদের চোখের পানি গুলি দিয়েই নাকী ছোট ছোট লেক গুলির সৃষ্টি বলেই আদিবাসীদের ধারনা। ছেলের এত মন খারাপ দেখে টিব্রোগার্গান জানতে চাইলেন যে সে কেন তার কথা মান্য করলনা আর বিপদের সময় তার মা'কে সাহায্য করলোনা ।
চোখের জলে তৈরী লেক, Lake-Cooroibah
জবাবে Coonowrin বললো যে সে ভাবছিল মা অনেক বড় মানুষ আর সে নিজেই নিজেকে সাহায্য করতে পারবে আর Coonowrin জানতোনা যে তার মা গর্ভবতী। তার বাবা তার এই জবাবে খুশী হতে পারলোনা আর প্রতিগ্গা করলো যে জীবনে ছেলের মুখ দেখবেনা। সেই প্রতিগ্গা রাখতে গিয়ে টিব্রোগার্গান আজও আশেপাশে না তাকিয়ে দূর সমুদ্রের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে। আর Coonowrin এখনও ঘার বাঁকিয়ে কেঁদে চলছে চোখের পানিতে সমুদ্রের ধারা সৃষ্টি করে।
Coonowrin এবং Beerwah
আর তার মা গর্ভবতি অবস্থায় ভারী শরীর নিয়ে সমুদ্রতীরে বসে আছে। কারন একটা পর্বতকে জন্ম দিতে অনেক বেশী সময় লেগে যায়।
Mt Coonowrin ( ঘার বাঁকা)
দারুন ইন্টারেস্টিং এই গল্পটা শুনে পাহাড় গুলির দিকে নতুন করে আবার তাকিয়ে দেখলাম, মজা লাগল, হাসি পেল আদিবাসীদের এরকম অন্ধ বিশ্বাস দেখে
সানসাইন প্ল্যানটেশন ( আনারসের চাষ )
আরও আছে স্ট্রবেরি ফলের চাষ, কি সুন্দরভাবে বিছানো রয়েছে, দেখলেই মন ভরে যায়...
স্ট্রবেরি প্ল্যানটেসান
বিভিন্ন রকম ফল গাছ যেমন আনারস, পেঁপে, আপেল, কলা ইত্যাদি গাছ গুলি সুন্দর ও ঘনিষ্ট ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা দুপাশ খোলা ছোট ট্রেনে চড়ে Rain Forest এর মাঝ দিয়ে আস্তে আস্তে ঘুরে ঘুরে সব দেখলাম। এই যায়গার নাম Big Pineapple । পর্যটন অফিসের সামনে বিশাল বড় আকারের এক আনারস বসানো
আনারস সাজানো পর্যটক অফিসের সামনে
আর আনারসটা এত বড় যে মনে হয় ওটাকে কাটলে ভেতর থেকে এখুনি টসটসে রস বেরিয়ে আসবে ।
অনেকক্ষন ধরে এই বিশাল আকৃতির আনারসটি দেখলাম, দলে দলে মানুষের ভীড়। আর পর্যটকদের অফিসের পাশে হওয়াতে সবার চোখই এটার ওপর আছে। এক আনারস নিয়েও যে এমন ডেকোরেশন করা যায় আর তার প্রচার করে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি দেখানো যায় সেটা ভেবে শুধু অবাকই হলাম......
সানাসাইণ কোষ্ট বীচ
এরপর চলে গেলাম সান সাইন কোষ্টের সমুদ্রের তীরে কিছুটা সময় কাটাতে, যদিও সমুদ্র দেখবার প্রোগ্রাম রেখেছি পরের দিনের জন্য, তবুও কাছাকাছি অন্য একটায় গেলাম....সাগরের ঢেও আর তীরবর্তী গাছ-গাছালি মিলে তৈরী করেছে এক অপরুপ মন কাড়া দৃশ্য.......
ঘুরতে ঘুরতে শুধু ভাবি.....
Tumi Shundor Tai, Nazrul Geeti Sung by Satinath Mukharjee
original post


No comments:
Post a Comment