-আব্বু , এই নদীটার নাম কি ??
-জানি না
আব্বু , এটা কি বুড়িগঙ্গা ??
-না আব্বু , এটা মনে হয় শীতলক্ষা ।
তাহলে এই জায়গাটার নাম কি ??
বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরছি । ঘুমপাগল আমি ঘুমানোর জন্যই ট্রেনের ভাড়ার ৩ গুণ টাকা আর পুরো জীবনের নিরাপত্তা মহান ড্রাইভার সাহেবের হাতে সপে দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাবো এটাই সাধ ছিল । কিন্তু আমার সাধের বাধ ভেঙ্গে দিল এই বিচ্ছু । বসেছে আমার পাশে , তাঁর বাবার কোলে । কিন্তু যখনই ঘুমাতে যাই তখনই একটা না একটা প্রশ্ন !! ইচ্ছা করছে , কষে একটা থাপ্পড় লাগাই কিন্তু নিজেকে সংযত রাখলাম বহু কষ্টে !! ঘুমটা আর আসছে না ।
ভাবছি, আমার বাবা থাকলেও কি এমনি হতো ? আমি একটার পর একটা অবান্তর প্রশ্ন করতাম আর আমার বাবা সেগুলো উত্তর দিয়ে যেতো । জানি না , কিন্তু এটা বুঝতে পারছি আমি বাবা হলে এটা মোটেও সহ্য করতাম না !!
কিছুক্ষণ পরই আমাদের বাসের আগের একটি বাস দুর্ঘটনায় পড়ল আর সেই এলাকার পুরো সবাই লাঠি ইট নিয়ে বাকি সব বাস ধাওয়া করলো । আমি মোটামোটি নিশ্চিত আজকে কপালে খারাপই আছে । ব্যাগ হাতে নিয়ে বসে আছি কখন ভাংচুর শুরু হয় আর আমি কোনভাবে নিজের জীবন নিয়ে ভাগি ।
-আব্বু,বাসটা কি ভেঙ্গে ফেলবে ??
-না,কিছু হবে না । আল্লাহকে ডাকো ।
-আব্বু, মানুষ বাস ভাঙ্গবে কেনো ??
-ভাংবেনা দেখো ।
আরে এ তো মহা যন্ত্রণা !! এই পরিস্থিতিতে কেউ এসব প্রশ্নের উত্তর দেয় নাকি ?? মা হলে একটা কথা কিন্তু একজন বাবার পক্ষে কিভাবে সম্ভব এতো সহ্য করে কথা বলা । অনেকক্ষণ পর বাস চলা শুরু করলো আবার । পথের মাঝে এটা-সেটা, অমুক-তমুক ইত্যাদি প্রশ্ন করে ওর আব্বুকে অনেক ব্যস্ত রাখল সে ।
আমি বাকি সময়টা যখন বুঝলাম যে আজকে আর ঘুমানোর সম্ভাবনা নেই ওর কথাগুলো শুনছিলাম আর ভাবছিলাম নিজের বাবার কথা ।
সে আমার সাথেও কথা জমানোর চেষ্টা করলো কিন্তু বিফল হলো অনেক । আমি এমনিতেই ক্ষিপ্ত , ওর জন্য ঘুমাতে পারলাম না কিন্তু পরে বুঝলাম এই ব্যাপারটা আমিও উপভোগ করেছি অনেক ।
বাস থেকে নামার আগে পর্যন্ত একটা কথাই ভাবছিলাম , আমি ভেবেছিলাম বাবাদের সহ্য করার ক্ষমতা অনেক কম কিন্তু না , বাবারাও কতো স্নেহময় হয় !! নিজের বাবার কথা মনে পড়ছে খুব । বাস থেকে একে একে সবাই নেমে যাচ্ছে , আমি নামার আগে ঐ বাচ্চা আমাকে বললো , “ভালো থাকবেন আংকেল” ।
আমি পিছনে তাকাবো না কারণ আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আছে । আমার অশ্রুসিক্ত হাসিমুখ দেখে ও যদি আবার ওর বাবাকে প্রশ্ন করে বসে ,
“আব্বু, উনি হাসছেন কিন্তু চোখ দিয়ে পানি পড়ছে কেনো ??”
সেই প্রশ্নের উত্তর তোমার বাবা দিতে পারবে না জানি । যিনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন তিনি আজ এই পৃথিবীতেই নেই । তিনি আমার আব্বু । ভালো থেকো তুমি তোমার আব্বু-আম্মুকে নিয়ে ।
original post


No comments:
Post a Comment