Wednesday, February 8, 2012

মুরাকামি, দ্বিতীয় চাঁদ ও লাগাশ

by শিবব্রত বর্মন

সায়েন্স ফিকশন লেখকদের মধ্যে নিজের নবুয়তি ক্ষমতা নিয়ে বড়াই করার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
কিছুদিন আগে গার্ডিয়ান পত্রিকায় একটা বড় লেখা লিখে অশীতিপর ব্রায়ান অ্যালডিস একপ্রকার উল্লাসই প্রকাশ করেছেন। তার উল্লাসের উপলক্ষ্য সিগনাস নক্ষত্রপুঞ্জে আবিষ্কৃত একটি নতুন গ্রহ, যেটি প্রায় পৃথিবীরই মতো দেখতে। অ্যালডিস তার হেলিকনিয়া স্প্রিং (১৯৮৪) উপন্যাসে ঠিক এই জায়গাটিতেই একটি গ্রহ থাকার কথা বলেছিলেন। এমনকি গ্রহটি সম্পর্কে তিনি যে-যে বিবরণ দিয়েছিলেন, সেগুলোও নাকি নবাবিস্কৃত গ্রহটির সঙ্গে অনেকখানি মিলে যাচ্ছে। ব্রায়ান অ্যালডিসের উপন্যাসে গ্রহটির নাম হেলিকনিয়া। বিচিত্র পরিবেশ সেটির। ৫ হাজার বছরে সেটি একবার নিজের সূর্যকে ঘুরে আসে। সে কারণে গ্রহটিতে আড়াই হাজার বছর ধরে গ্রীষ্মকাল, আড়াই হাজার বছর ধরে শীত। এরকম আবহাওয়ায় গাছপালা, পশুপাখির চেহারা, স্বভাবচরিত্র কেমন হবে, তার বিস্তারিত যুক্তিপূর্ণ বিবরণ তুলে ধরেছেন অ্যালডিস। অ্যালডিসের গ্রহটির আবার দুটি সূর্য। একটি ছোট সূর্যকে ঘিরে ঘোরে হেলিকনিয়া। আর সেই ছোট সূর্যটি আবার হেলিকনিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ৫ হাজার বছরে প্রদক্ষিণ করে আরেকটি বড় নক্ষত্র।

এই বিবরণের সঙ্গে নাসার আবিষ্কৃত নতুন গ্রহটির মিল খুব বেশি দেখি না। সেখানে দুটি সূর্য নেই, বার্ষিক গতিও ৫ হাজার বছর নয়। অ্যালডিসের হেলিকনিয়ার সঙ্গে এই সত্যিকার গ্রহটির মিল একটি জায়গায় - এটির প্রাপ্তিস্থান। সেটা একটা ইত্তেফাক বটে, আর এতে চমকও জাগে। তবে লেখকদের বিশেষ করে সায়েন্স ফিকশন লেখকদের গর্ব করার বিষয়বস্তু হওয়া উচিৎ তাদের কল্পনাশক্তির জোর। ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা কোনো লেখকসুলভ গুণ বলে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়। সেটা শুধু পলিটিক্যাল কলামিস্টদের আত্মতৃপ্তির জন্যে বরাদ্দ থাকলে ভালো দেখায়।
অনেক সায়েন্স ফিকশন লেখককে পরবর্তীকালের বড় বড় আবিষ্কারের পথ প্রদর্শক হিসেবে ক্রেডিট দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সেটা নিছক বাহাবামাত্র। আর্থার সি ক্লার্ক অয়্যারলেস ওয়ার্ল্ড পত্রিকায় তার সেই বিখ্যাত প্রবন্ধটি না লিখলেও আমরা জিও-স্টেশনারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট পেতাম, সন্দেহ নেই। এমন মনে করার কোনো কারণ নেই যে, জুল ভার্নের ফ্রম আর্থ টু দ্য মুন বইয়ের সঙ্গে মানুষের চন্দ্রাভিযানের কোনো সম্পর্ক আছে। আসিমভের রোবোটবিদ্যার তিন সূত্রের কাছে এখনকার রোবোটিক্সের ঋণস্বীকার করারও কিছু নেই। প্রযুক্তিবিদরা তাদের আবিষ্কারকে বাড়তি মহিমা দেওয়ার জন্যেই পপুলার ফিকশনের মধ্যে সেগুলোর প্রতিধ্বনি খোঁজেন।

লেখকদের ভবিষ্যদ্বাণীর প্রসঙ্গটি তুললাম কয়েকদিন আগে পত্রিকার পাতায় একটি খবর দেখে। ওই খবরে বলা হয়েছে, আমাদের পৃথিবীর আসলে একটি নয়, দুটি চাঁদ। সবসময়ই দুটি চাঁদ ছিলো। কথাটা একটু টুইস্ট করে বলা। আসল ঘটনা হচ্ছে, ২০০৬ সালে আকাশে একটা ছোট বস্তুকণা ধরা পড়েছিল। সেটা পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরছে। বিজ্ঞানীরা প্রথমে ধরে নিয়েছিলেন, কোনো পরিত্যক্ত রকেট-ফকেট হবে। কিন্তু সম্প্রতি টের পাওয়া গেছে, ওটা আসলে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের টানে আটকে পড়া কোনো গ্রহাণু। ২০০৭ সালের জুন পর্যন্ত সেটা পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছে। তো, এরকম গ্রহাণু অহরহই ছুটে যাচ্ছে পৃথিবীর চারপাশ দিয়ে। আর পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের ফাঁদে আটকা পড়ে সেগুলো কিছুদিনের জন্যে অস্থায়ী উপগ্রহ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ফলে খোঁজ নিলে প্রায় সবসময়ই পৃথিবীর একটা সেকেন্ড মুন পাওয়া যাবে।

এটুকু খবর পড়ে আমার মধ্যে একটু মুচকি হাসি ছড়িয়ে পড়লো। কেননা মাত্র কিছুদিন আগেই বেরিয়েছে জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামির নতুন উপন্যাস ওয়ান-কিউ-এইট্টিফোর। ওই উপন্যাসের একটি চরিত্র এমন এক গুপ্ত পৃথিবীতে বসবাস করে (আমাদের এই পরিচিত পৃথিবীই) যেটির দুটি চাঁদ। মুরাকামি নিশ্চয়ই নাসার বিজ্ঞানীদের এই দ্বিচন্দ্রকথায় পুলকিত বোধ করবেন। আশাহি শিম্বন পত্রিকার কলামে উল্লাস প্রকাশ করাও বিচিত্র নয়।

তবে আমার মনে হয়, একটা বাঁকা হাসির রেখা উঁকি দিয়েই মিলিয়ে যাবে মুরাকামির ঠোঁটে। এভাবে একটা করে উৎকল্পনা বইয়ের পাতা থেকে উঠে আসতে শুরু করলে মুরাকামিকেই আঁতকে উঠতে হবে। কেননা তাহলে আকাশ থেকে মাছবৃষ্টি শুরু হয়ে যেতে পারে যে কোনো দিন (কাফকা অন দ্য শোর), বা তোকিওর রাস্তায় মার্জারশ্রেণী শুরু করে দিতে পারে মানুষের সঙ্গে কথপোকথন। মুরাকামির উপন্যাসগুলোর পাতায় পাতায় এরকম ফ্যান্টাসির ছড়াছড়ি। পশ্চিমের জানরো-রাইটিংঙে অনুরক্ত (রেইমন্ড চ্যান্ডলার অনুবাদ করেছেন জাপানি ভাষায়) মুরাকামি একাধিক উপন্যাসে সায়েন্স ফিকশনের খোলস ব্যবহার করেছেন। তবে নিজেকে “হার্ড-বয়েল্ড এসএফ রাইটার” বলতে তিনি রাজি হবেন কিনা আমার সন্দেহ আছে।

সায়েন্স ফিকশন লেখকদের কাজটা কী? বাস্তবতার কোনোরকম বিশ্লেষণ, বা প্রতীকায়ন কস্মিণকালেও নয়। ভবিষ্যদ্বাণী তো নয়ই। আমার মতে, সায়েন্স ফিকশন লেখকদের কাজ আমাদের বিদ্যমান বাস্তবতার আর কী কী প্রকারভেদ হতে পারতো তা দেখানো। আমরা এরকম না হয়ে আর কী কী রকম হতে পারতাম, এটা দেখতে পাওয়া, অনুধাবন করা কম জরুরি নয়। কেননা এটা চিন্তার স্টেরিওটাইপ থেকে বেরিয়ে আসার একটা ভালো উপায়। বাস্তবতাকে আরো গভীরভাবে অনুধাবনের পার্সেউসীয় পন্থা। আর এ পথের একমাত্র জ্বালানি নির্ভেজাল কল্পনাশক্তি।

অবশ্য বিকল্প বাস্তবতা অনুমানের পেছনেই শুধু কল্পনাশক্তির প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের এই বাস্তব জগৎটাই যে আসলে কতোখানি উৎকাল্পনিক, সেটা অনুভব করার জন্যেও বেশ জোরালো কল্পনাশক্তি প্রয়োজন। খুব কম লোকই এটা অনুধাবন করতে রাজি হবে যে, আমরা ইতিমধ্যে একটি সায়েন্স ফিকশনালাইজড পৃথিবীতে বসবাস করছি, যেটির একটি চাঁদ ও একটি মাত্র সূর্য। আমাদের হাতে ধরা টিভি আর এসির রিমোট কন্ট্রোলার, থি-জি স্মার্ট ফোন আর বুকের মধ্যে বসিয়ে দেওয়া পেসমেকারের গল্প যদি -ধরা যাক-১৮৬০ সালে শোনানো হতো সুন্দরবনের দাপুটে জলসদ্যুদের পিছু ধাওয়াকারী খুলনা মহকুমার জাঁদরেল ডেপুটি কালেকটরটিকে (যিনি পরবর্তীকালে কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের লেখক হিসেবে সুপরিচিত হয়ে উঠবেন), প্রবল ধীশক্তিসম্পন্ন এই আমলাটির পক্ষেও এ-সবকিছু ‘সম্ভব’ বলে মেনে নেওয়া কঠিন হতো।

আমার কাছে অ্যালডিসের হেলিকনিয়া স্প্রিং উপন্যাসটির চেয়ে বরং তার হটহাউস উপন্যাসটি বেশি কৌতুহলদ্দীপক। হটহাউস আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহটিরই কাহিনি। পটভূমি এমন এক দূর ভবিষ্যত, যখন পৃথিবীর আহ্নিক গতি ফুরিয়ে গেছে। ঘুরতে ঘুরতে থেমে গেছে আমাদের এই গ্রহ। এখন সেটার একটা পিঠ সার্বক্ষণিক সূর্যের দিকে মুখ করা। সেখানে চিরদিবস। আরেকটা অংশে চিররাত্রি। এরকম এক বিভক্ত চরাচর পুরোটাই চলে গেছে বৃক্ষদের দখলে। জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে শুধু বৃক্ষেরই জয়জয়কার। শুধু তারাই টিকে গেছে। গুটিকয় পতঙ্গ ছাড়া বাকি সব প্রাণিপ্রজাতি বিলুপ্ত। পৃথিবীর প্রায় পুরোটা জুড়ে ছড়ানো এক অন্তহীন বৃষ্টিবন। শুধু তাই নয়, বিবর্তনের রাস্তায় ধীরে ধীরে গাছেদের মধ্যে স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ দেখা দিতে শুরু করেছে, অনেকের মধ্যে চোখ নামক একটি ইন্দ্রিয় কেবল বিকশিত হচ্ছে। পৃথিবীর যে-পাশটায় অনন্ত দিন, সেপাশটায় এক সুবিশাল বটগাছ নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছে। ঝুরি নামিয়ে নামিয়ে পৃথিবীর প্রায় অর্ধেকটা দখল করে বসে আছেন একটাই বটবৃক্ষ। তার ছায়ায় মানব প্রজাতির শেষ কয়েকটি বংশধর বিলুপ্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
কল্পনাটির মধ্যে কোথাও একটা জীবনানন্দীয় বিষন্নতা আছে।

তবে সবচেয়ে উদ্ভট আর বিচিত্র গ্রহজীবনের কল্পনা বোধ হয় বেরিয়ে এসেছে আসিমভের মাথা থেকে। গ্রহটির নাম লাগাশ। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গল্প “নাইটফল”-এর পটভূমি এই লাগাশ গ্রহ। এটির অবস্থান এমন এক নক্ষত্রপুঞ্জে, সেখানে ছয়টি সূর্য। যেকোনো সময় আকাশে দুই থেকে তিনটি সূর্য উপস্থিত। পশ্চিমে যখন একটি অস্ত যাচ্ছে, তখন মধ্যগগনে হয়তো একটি গনগন করছে, আবার তখনই হয়তো পূবাকাশে উঁকি দিচ্ছে আরেকটি। এর ফলাফল : লাগাশ গ্রহে কখনও রাত নামে না। অন্ধকার বলে কোনোকিছুর ধারণাই তাদের মধ্যে তৈরী হয়নি। নক্ষত্রখচিত রাতের আকাশ তারা কখনও দেখেনি। চিরকাল এমনটা থাকলে সমস্যা ছিল না। কিন্তু হয়েছে কি, প্রতি দু’হাজার বছর পর পর এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত আসে, যখন আকাশে একটিমাত্র সূর্যের অস্তিত্ব থাকে (বাকিগুলো উল্টোদিকে), আর তখন সেই একটিমাত্র সূর্যে গ্রহণ হয়। এর ফলাফল : খুব অল্প সময়ের জন্য রাত নেমে আসে লাগাশ গ্রহে। দু’হাজার বছরে প্রথম রাত নামা। তাও অল্প কয়েক দণ্ডের জন্য। কিন্তু এই ঘনায়মান অন্ধকার, আকাশে একে একে জেগে ওঠা নক্ষত্র, এই অপরিচিত পরিবেশ পাগল করে দেয় গ্রহের বাসিন্দাদের। তারা দিগ্বিদিক ছুটোছুটি শুরু করে আর আলোর জন্য সামনে যা কিছু পায় সবকিছুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। নিমেষে পুরো সভ্যতা আর তার পুঞ্জিভূত স্মৃতি (বইপত্র, দলিল-দস্তাবেজ) নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। লাগাশ গ্রহে সভ্যতার ইতি ঘটে, আবার শূন্য থেকে যাত্রা শুরু হয় সবকিছুর - অনন্ত দিবসের অভিজ্ঞতায় অভ্যস্ত আরেকটি সভ্যতা। এবং এই সর্বনাশের, এই বিপর্যয়ের কোনো স্মৃতি, কোনো রেকর্ড থাকে না কোথাও। ফলে লাগাশের সভ্যতা দুই হাজার বছরের একটি বৃত্তে ক্রমাগত ঘুরছে। অনন্তকাল ধরে।

আমি এবার লাগাশ গ্রহের একটি ছোট প্যাশটিশ লিখি :
এমন একটি গ্রহের কথা কল্পনা করা যাক, যেটির ছয়টি সূর্য। গ্রহবাসীদের যৌথ স্মৃতিশক্তির স্থায়িত্ব ৫ বছর। প্রতি ৫ বছর পর পর তারা ভুলে যায়, আগের ৫ বছরের স্মৃতি। এই গ্রহে টানা দিন। এক অনন্ত দিনের রাজ্যে বসবাস। কারো কল্পনায় রাত বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। রাতের আকাশে জেগে ওঠা নক্ষত্রও দেখেনি কেউ। কিন্তু প্রতি ৫ বছরে গ্রহণজনিত কারণে অল্প সময়ের জন্য রাত নামে। প্রতিবার এই রাত নামা আর নক্ষত্রের জেগে ওঠাকে এক ভয়ঙ্কর ধ্বংসের আগমনবার্তা হিসেবে প্রচার করতে থাকে সেখানকার একটি ডুমসডে কাল্ট, যেটির আনুষ্ঠানিক নাম- সিভিল সোসাইটি। তারা একটি গণভীতি ছড়িয়ে দেয়। মানুষ এলোমেলো ছুটোছুটি করতে শুরু করে। আগুন ধরিয়ে দেয় যা কিছু দাহ্য তার মধ্যে। গ্রহণ শেষ হয়ে যায় বটে, কিন্তু ৫ বছরের স্মৃতিও মুছে গেছে।

নাহ, লাগাশের চেয়ে আমাদের দুই চন্দ্রবিশিষ্ট এই পৃথিবীর নক্ষত্রখচিত রাতই অনেক মোহনীয়।
শেষ করি হারুকি মুরাকামির একটি প্রিয় গান দিয়ে। ফ্রাংক সিনাত্রার গাওয়া এ গানটির নাম ইটস অনলি এ পেপার মুন:

It’s only a paper moon
Sailin’ over a cardboard sea
But it wouldn’t be make-believe
If you believe in me.

Yes, it’s only a canvas sky
Hanging over a muslin tree
But it wouldn’t be make-believe
If you believe in me.

Without your love
It’s a honky-tonk parade
Without your love
It’s a melody played in a penny arcade.

It’s a Barnum and Bailey world
Just as phony as it can be
But it wouldn’t be make-believe
If you believe in me.

(Link : http://www.youtube.com/watch?v=Xnc8lBhucJU)

original post

No comments:

affiliate program

EARN INCOME FROM YOUR WEBSITE

Turn your valuable web site traffic into income. Work online and join our free money making affiliate program. We offer the most pay-per-click rate to help maximize your cash stream.

Join our income making program absolutely free and 100% risk free.

Sign Up...

A steady income generator

Imagine running of a something that never failed to provide you with cash-flow. A earning money program so amazingly profitable that you never had to look for job ever again!Income while you sleep

CASH WHILE YOU SLEEP

Earn $1,000... $2,000... $5,000...

Turn your website visitors into cash!
You get money for every visitor that clicks on our advertizing. Our goal is to enable you to make as much as possible from your site. We pay monthly, either by check, or through PayPal.

Begin collecting steady partner commissions

Our money making program really can make you income on the same day. Start receiving steady partner revenue with almost no effort at all. This is a serious revenue opportunity, the chance for you to build a steady, reliable, long-time profitable business.

Savings Highway Dream Team Member Site Savings Highway Dream Team Member Site