Tuesday, November 15, 2011

কিছু রাজনৈতিক কল্পকাহিনী

by প্রখর রুদ্র
একজন কট্টর রাজনৈতিক দলের সমর্থকের সাথে কথা হচ্ছিল সাম্প্রতিক কালের কিছু ঘটনা নিয়ে। আমিই শুরু করেছিলাম।

দেশটা কেমন যেন লেজে গোবরে হয়ে যাচ্ছে। সরকার কেমন যেন উলটা পালটা করে ফেলছে মনে হচ্ছে।

কি বলেন? দেশের আবার কি হইলো ? আমার তো মনে হয় ভালই চলতাছে। তিনি বেশ অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করলেন।

এই যে দেখেন, জায়েদ মাশরাফ শুনছি নাকি পদত্যাগ করতে পারে।

অ এই ব্যাপার। এইগুলা ভুয়া কথা।

এটা কিন্তু বেশ জোরে শোরেই শোনা যাচ্ছে ঈদানীং। আমি একটু জোর দিয়েই বললাম।

তাহলে আপনেরে কই, আমার ওয়াইফ আমারে কয় তোমার নাক ডাকায় আবার ঘুম হয় না। আমি কই, আমারে নাক ডাকতে দেখছো নাকি শুনছো? ওয়াইফ কয় নাক ডাকা দেখবো কিভাবে, শুনছি। আমি কইলাম শোনা কথায় কান দিবানা। হা হা হা। আপনে আমার ওয়াইফ না, তবুও কই, শোনা কথায় কান দিবেন না। হা হা হা ।

আমি দমে না গিয়ে বললাম, কুহেল বাজের বেলায় ও আপনি একই কথা বলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তো সেটাই হলো।

কেন কি হইছে? আরে ভাই কুহেল বাজের ফ্যামিলি থাকে মোজাম্বিক, তাঁদের ফেলে দেশে বইস্যা থাকাটা একটু টাফ। বোঝেনই তো।

কিন্তু তাঁরে নাকি প্রধানন্ত্রীর তালতো ভাই চড় মারছিল? শোনা যায় আর কি......

ধুর ধুর ধুর...তিনি মাছি তাড়ানোর মত একটা ভংগী করলেন। এইগুলা সব বিম্পির গুলতানি। আপনার প্রগ্রেসিভ আদমী। এইগুলান পাত্তা দিবে না। আর চড় মারলেই বা কি? বড় ভাই ছোট ভাই কে চড় মারতেই পারে। আমি তো আমার তিন তিন খান বড় ভাইয়ের চড় খাইয়াই বড় হইছি। ডাইনে গেলে চড়, বায়ে গেলে চড়! তো হইছে কি?

আমি হালে পানি না পেয়ে অন্য লাইন ধরার চেষ্টা করি।

আচ্ছা এই দেখেন আবার জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানো হল। এটা কি কোন কথা হলো? এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে নাভিশ্বাস উঠে গেছে...

তিনি স্মিত হেসে বললেন, আরে ভাই জ্বালানী তেল মানেই তো হল জ্বালাইয়ে দেয়া। একটু দাম না বাড়ালে জ্বলবো কেমনে। কি যে কন!
তাঁর এই প্রশান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হলো আমার পিত্তির উপর দুই লিটার অক্টেন ঢেলে জ্বালিয়ে দেয়া হলো। আমি অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত করলাম। দম নিয়ে আবার শুরু করলাম।

এখন বলেন তাহলে চরসিংড়ির ঝিকম্যান মার্ডারের কেসটা? সারা দেশের মানুষ তো শকড রে ভাই। এতো ভাল একজন মানুষ...একবার প্লাটিনাম আর তিনবার ইউরেনিয়াম মেডাল জিতছে সেরা মেয়র হইয়া...এইভাবে দিনে দুপুরে খুন?

ভাই এইটা পরিষ্কার বিম্পির যড়যন্ত্র। আমলকীকে ধ্বংস করার যড়যন্ত্র।

কি রকম? আমি আবার এক অভিনব কাহিনীর জন্য প্রস্তুতি নেই।

থাক ভাই আপনি এগুলো বুঝবেন না। আপনি তো আর ভিতরের খবর জানেন না। এইসব আলু পটল জাতীয় পত্রিকা পড়ে যা বুঝেন বুইঝা বইসা থাকেন যান...

আচ্ছা ভাই শুনিনা আপনার কাছ থেকে...

আচ্ছা ঠিক আছে তাইলে বলি, নিতান্তই আপনি কাছের মানুষ বইলা বলতেছি, এগুলো খুবই ভিতরের খবর। আমার খালাতো ভাইয়ের চাচাতো ননদের মামাতো শ্বশুরের দুলাভাই ডিবির বেশ উপরের লেভেলের লোক। উনার সাথে আলাপ হচ্ছিল। উনাদের তদন্তের পর উনারা কনফার্ম যে এটা বিএনপির কাজ।

তাই নাকি?

উনারা যখন স্পটে যান মানে ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেসন চালান তখনই ব্যাপারটা ক্লিয়ার হয়ে যায়। মার্ডারের সময় উনার প্লাটিনাম আর ইউরেনিয়ামের মেডালগুলান উনি যেইখানে বইসা ছিলেন তাঁর পাশেই ঝুলতেছিল। গুলি একটা লাগলো একটা ইউরেনিয়াম মেডালে। ভাল কইরা পরীক্ষা কইরা দেখা গেল সেইটা ফুটা হয় নাই। তখনই খটকা লাগলো। কারণ এই পর্যন্ত আমলকীর এমন কোন অপারেশন দেখি নাই, যেখানে গুলি লাগছে কিন্তু ফুটা হয় নাই।

তাতে কি? আমি এই পর্যায়ে একটু বিস্মিত।

হুমমম...এই খানেই তো ঘটনা। ফরেনসিক টেস্টে রেজাল্ট আসলো যেই বুলেট পাওয়া গেছে ওইটা হইলো .৩৮ বোরের জেনুইন জিঞ্জিরা মেইড কাসেম এন্ড কুদ্দুস ব্রান্ডের বন্দুকের। আমলকী পার্টির ক্যাডাররা কখনই দেশী ফালতু ব্র্যান্ডের জিনিস ব্যবহার করেনা। তাঁর উপরে আবার তার উপর নিজের পার্টির লোক। তাঁরে গুলি করতে গেলে ফালতু কোন গুলি একজন জেনুইন পার্টির লোক কখনই ব্যবহার করবেনা। তাঁরে দুই নম্বর গুলি দিয়ে মারার আগে নিজের কলিজায় বুলেট ঢুকাবে। তাঁরা ব্যবহার করে ইরানের মাহদিনাজাদ সালেহি ব্র্যান্ড অথবা সিরিয়ান আল-বাশারী ব্র্যান্ড। তো এইখানেই জিনিসটা দিনের আলোর মত ক্লিয়ার হইয়া গেলো যে আমলকী পার্টি এর মধ্যে নাই।

আমি আর কোন কথা খুঁজে পেলাম না। তাও ভাবলাম শেষ চেষ্টাটা করে দেখি।

এই হয়রানগঞ্জের ইলেকশানে কি হইলো এইটা? আমলকী পার্টি কি করলো এইটা?

আরে কি আজিব? উনি বেশ অবাক হলেন বা হওয়ার ভান করলেন। আমলকী ক্যান্ডিটেট পাঠাইছে , জিতছে, দ্যাটস ইট।

ভাই আপনি তো সেয়ানা পাবলিক দেখি, বুইঝাও না বুঝার ভান করতেছেন।

ও আচ্ছা, ওই তামিম সসপ্যানের চক্কর? ও আচ্ছা বোঝেন না। এই হইলো মাস্টার স্ট্রোক যাকে বলে, একেবারে চরম। সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের জন্য এক দারুন সাকসেসফুল স্ট্র্যাটেজি।

তাই নাকি কেমন? আমি একটু শ্লেষাত্মকভাবেই জিজ্ঞেস করলাম।

শোনের আমাদের কাছে হি জি বি আই এর পাক্কা রিপোর্ট ছিল যে তামিম সসপ্যান জিতবে। কিন্তু আমরা কখনই তা চাই নাই। আমরা তো দিনবদলের পার্টি। আমাদের নেত্রী মনে প্রানে চাইছে যে সুরভি আপা যাতে জেতে। উনি ইলেকশানের আগে প্রায়ই বলতেন আহা সুরভি মেয়েটা বড় সুইট। ও না জিতলে বড়ই কষ্ট পাবো। নেত্রীর চিন্তা দেইখা উপদেষ্টারা একটা কড়া প্ল্যান বানাইলো। মন্ত্রীরা এর বিন্দু বিসর্গ জানতো না। এইটা অবশ্য নতুন কিছু না। আজকাল সব ব্যাপারেই মন্ত্রী মিনিস্টাররা সবশেষে জানে। এতে বেশ সুবিধা হইছে। যার ফলে অভিনয় করার দরকার হয় নাই। তাঁরা এক্কেবারে প্ল্যানমত কাজ কইরা গেছে।

কি রকম?

সুরভি আপার দিকে পাবলিক সাপোর্ট ঘুড়ানোর লাইগা প্ল্যান আঁটা হইলো। ভাব দেখানো হইলো পার্টির সমর্থন সসপ্যানের দিকে। আরে বুঝেন না বাঙ্গালী তো ইমোশোনাল। এই ইমোশানটাকে কাজেই লাগাইলো আর কি। বাঙ্গালী ভাবলো আহা একটা মহিলা মানুষ একা দাঁড়াইছে, তাঁর সাথে তাঁর পার্টিও নাই, বেচারা।

আচ্ছা আচ্ছা , তা বেশ বেশ... কিন্তু তাহলে সেনাবাহিনী মোতায়েনে সমস্যা কি ছিল? এটা তো সংবিধান লঙ্ঘন?

আর এইটা তো হইলো এক্কেবারে ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে। অনেক ডিবেট হইছে এইটা নিয়া। কিন্তু ফাইনাল ডিসিশান হইলো যে সুরভি আপারে যদি জিতাইতে হয় কোন ভাবেই সেনা মোতায়েন হবে না। কারণ শুধুমাত্র সেনা মোতায়েন না হইলেই পাবলিক সেন্টিমেন্ট এক্কেবারে হান্ড্রেড পার্সেন্ট সুরভীর দিকে ঘুরবে। মনে করবে আহা এইটা হইলো সুইট সুরভিরে না জিতানোর ষড়যন্ত্র। এর ফলে যারা সুইং ভোটার বা চরম অলস ভোটার, যারা বাসায় নাপাম বোমা পড়লেও ভোট দিতে বাইরে যাইবোনা তাঁরা দলে দলে চইলা গেল সুরভি আপারে ভোট দিতে। কি মারাত্মক, চিন্তা করছেন?

কিন্তু এতে সরকারী পার্টির ইমেজের যে বিরাট একটা ক্ষতি হয়ে গেল?

আরে ভাই এইটাইতো আমগো পার্টির দিন বদলের ফিলসফি যেইটা আপনাগো মত বোদ্ধা পাবলিকেরা এখনও বুঝতে পারে নাই। আমরা যেইভাবেই হোক সৎ আর যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করব। সেইজন্য যদি পার্টির ইমেজ ধ্বংস হয় তো হোক। কুচ পরোয়া নেহি।

কথা শেষ করে একটি সন্তুষ্টি মেশানো তৃপ্তির হাসি দিয়ে তিনি আমার দিকে তাকালেন।

আর আমি নির্বাক।
original post

No comments:

affiliate program

EARN INCOME FROM YOUR WEBSITE

Turn your valuable web site traffic into income. Work online and join our free money making affiliate program. We offer the most pay-per-click rate to help maximize your cash stream.

Join our income making program absolutely free and 100% risk free.

Sign Up...

A steady income generator

Imagine running of a something that never failed to provide you with cash-flow. A earning money program so amazingly profitable that you never had to look for job ever again!Income while you sleep

CASH WHILE YOU SLEEP

Earn $1,000... $2,000... $5,000...

Turn your website visitors into cash!
You get money for every visitor that clicks on our advertizing. Our goal is to enable you to make as much as possible from your site. We pay monthly, either by check, or through PayPal.

Begin collecting steady partner commissions

Our money making program really can make you income on the same day. Start receiving steady partner revenue with almost no effort at all. This is a serious revenue opportunity, the chance for you to build a steady, reliable, long-time profitable business.

Savings Highway Dream Team Member Site Savings Highway Dream Team Member Site