by নাআমি
আগেই বলেছি ব্রিসবেনের/অস্ট্রেলিয়ার লোকজন আমোদ-স্ফূর্তি করতে খুব পছন্দ করে। একটু ছুটি পেলেই এরা বেরিয়ে পড়ে কোথায় কোন অনুষ্ঠান হচ্ছে সেটা উপভোগ করতে....
আর এরা নিজেরাও বিভিন্ন সময়ে নানান রকম জমজমাট অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে ..যা কিনা ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে দেখার মত...

নানান ধরনের প্রানবন্ত অনুস্ঠানের মাঝে তুলে ধরে এরা এদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে, স্বাগত জানায় দেশ-বিদেশের মানুষকে তাদের সাথে অংশগ্রহন করে সারাবিশ্বে আনন্দ বিলিয়ে দিতে....
যেমন- ওয়ারানা বসন্ত উৎসব, টুম্বা পুষ্প কার্নিভাল, রক হ্যাম্পটন কাপ্রিকানা আনন্দমেলা ও টাউন্সভিল প্যাসিফিক উৎসব।
ব্রিজবেনে বছরের বিভিন্ন সময়ে নানান ধরনের মেলা অনুস্ঠিত হয়ে থাকে,
এক্কা এরকম একধরনের বাৎসরিক মেলা....(Royal Queensland Show - Brisbane Ekka.)
এই এক্কা মেলাটি প্রতি বছর একবারই অনুষ্ঠিত হয়। এটা এখানকার অনেক বড় একটি অনুস্ঠান।
যেখানেই যাই আমি ঘুরতে ঘরতে গুন গুনাই.....
Anandadhara Bohichey ...Indrani Sen
এ ধরনের অনুষ্ঠানে অন্যান্য সব কিছুর সাথে থাকে বিভিন্ন রকম খাবারের স্টলে যেখানে থাকে বিভিন্ন দেশের মজাদার খাবার....
.
এত আনন্দের মাঝ দিয়ে কখন যে সারাবেলা কেটে যায় বোঝাই যায়না...........!!
যেখানে দেখা হয় বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে, বড়-ছোট, বিশেষ করে বিভিন্ন বয়সি শিশুদের......
সারাদিন ব্যাপি মজার মজার অনুস্ঠান, খাওয়া-দাওয়া,নাচ-গান, কৌতুক ভরিয়ে রাখে এক অনাবিল আনন্দে......
বিভিন্ন রকম সাংস্কৃতিক অনুস্ঠান, এখানে ছোট-বড় সবাই খুব উপভোগ করে সেসব.....
এসব অনুস্ঠানের আয়োজন অনেক আগে থেকেই হয়ে থাকে যাতে করে মানুষ জন ঐ দিনটাতে ফ্রি থাকতে পারে,
যদিও মেলার আয়োজন ছুটির দিন গুলিতেই করা হয়ে থাকে।
মুরগীর ডিমগুলি কিভাবে প্রিসার্ভ করা হয় দেখায়.....।
নানান রকম প্রতিযোগিতা মূলক বিনোদনেরও আয়োজন করা হয়...........
যেখানে সারি সারি দর্শকের ভীড়ে অনুস্ঠান হয়ে ওঠে আনন্দ মুখর......
দোকানে দোকানে এরা বিক্রি করে বিভিন্ন রকম খেলনা আর আমোদ-স্ফূর্তির জিনিস পত্র.....।
চলে কম্পিটিশান কে কত ঘুরতে পারে, বিশেষ করে শিশুরা ! নানান রকম অনুস্ঠান,খেলা যেগুলি শিশুদেরকে মাতিয়ে রাখে অপরিসীম আনন্দে.........
স্টেজ সো গুলি হয় দেখবার মত.........ভীষণ সুন্দর!!
এদের এই ব্যাপারটা আমার কাছে ভীষণ ভাল লাগে, শিশুদের বিনোদনের জন্য এরা সদা তৎপর....যেটা আমার সবচেয়ে বেশী ভাল লাগে.....

এই অনুষ্ঠানটি দেখবার জন্য সারা বছর বড়-ছোট অনেকে গভীর প্রতিক্ষায় থাকে.....।
এখানে গেলে বাংলাদেশের মেলা গুলির কথা মনে পড়ে যায়......।
এখানে এক্কার সময় বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের মাঝে গাড়ি, ঘোড়া প্রতিযোগিতাও হয়, যা দেখবার মত।
গাড়ি, ঘোরার প্রতিযোগিতা গুলি খুব এনজয় করার মত..........।
এত মানুষ হয় কিন্তু কোন অনিয়ম-উশৃংখলতা নাই, ভীষণ রকম অরগানাইজড !!
শিশুরা এ ধরনের খেলা দেখতে ভয় পাওয়া তো দূরে থাক, দারুন ভাবে উপভোগ করে......
এ ছাড়া এখানে প্রতি বছর মহা ধুমধাম করে কয়েকদিন ব্যাপি রিভার ফেস্টিভ্যাল বা নদী উৎসব পালন করা হয় !....
ব্রিসবেন নদীর ওপরে হওয়া এ অনুস্ঠানটি ছোট--বড় সবার দারুন প্রিয় !!

ফায়ার ওয়ার্কস সহ নানান ধরনের আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা করে এরা.....
স্টোরী ব্রিজের ওপর দিয়েই প্রধানত এটা সাজানো হয় আর যেদিন সো হবার কথা সেদিন বিকেল থেকেই শুরু হয় মানুষজনের ভীড়, কে আগে সামনে গিয়ে দাড়াতে পারবে .......
ফায়ার ওয়ার্কস ছাড়াও এরা করে লেসার লাইট সো, যেগুলি দেখতে দারুন সুন্দর লাগে, বিশেষ করে বাচ্চাদের আনন্দ দেখে কে !!
রং বেরং এর আলো যেন ছিটকে আসছে চারপাশ থেকে, কিছুটা যাচ্ছা নদিতে, কিছুটা আকাশে আর কিছুটা দর্শকের মাঝে......
ব্রিজবেন রিভারের ওপর অনুষ্ঠিত এ আলোকসজ্জা অনুষ্ঠানটি দারুন রকম সুন্দর ! লাইটের বিভিন্ন রকম খেলা, ‘‘light sculptures’’ এই সো তে দেখানো হয়......।
সাউথ ব্যংকের ব্রিজবেন রিভারের ওপর অনুষ্ঠিত এই সো টি দারুন জনপ্রিয় !! অসাধারন সুন্দর এ ঝলমলে আলোর খেলা ......
ব্রিসবেন থেকে ২ ঘন্টা ড্রাইভ হচ্ছে টুম্বা....... ছোট্ট শহর এই টুম্বা, ছিমছাম......বেশ ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে......

প্রতি বছর সেপ্টেম্বারে অনুষ্ঠিত হয় এই ফ্লাওয়ার ফেস্টিভ্যালটি ( Toowoomba Flower Festival)......
টুম্বা পুষ্প কার্নিভাল এর কিছু ছবি......অপরুপ এ ফুল গুলি দেখবার সময় কোন কথা না, শুধু অনুভব করার.....
অসাধারন সুন্দর এই ফুলের মেলা, চমৎকার রং-বেরংগের সব ফুল..
ছোট্ট শহর এই টুম্বা, ছিমছাম......বেশ ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে......

আমার আম্মা ফুল খুব ভালবাসেন, ছোটকাল থেকে দেখে আসছি, যেখানে বাড়ি নিয়েছেন সেখানেই একটু যায়গা পেলেই বাগান করেছেন.....।

আমি বলতে গেলে ওনার কাছ থেকেই ফুল-ফলের বাগান করার প্রতি উৎসাহ পাই...কি অল্প যায়গায় কেমন সুন্দর করে যে বাগান করেন, অবাক লাগে !!
এখানে কিছুদিন আগে যখন ওনারা বেড়াতে এলেন, আগে থেকেই জানালেন এই ফেস্টিভ্যালে যাবেন....আমিতো অবাক, জানলো কিভাবে ?

বই পড়ে পড়ে সব জেনে নিয়েছেন আগে থেকেই কোথায় কি আছে....আম্মা আবার ভীষন রকম বই পাগল, পড়তে খুব ভালবাসেন.....
ভাগ্যিস তখন সময়টা সেপ্টেম্বার ছিল !! চটপট করে ফেল্লাম প্রোগ্রাম...আর চলে গেলাম ছুটির এক ভোরে আব্বা-আম্মাকে নিয়ে প্রত্যাশিত টুম্বা.....

বরাবরের মতই সাথে থাকলো রবীঠাকুর, নজরুল, লালন আর আধুনিক শিল্পীদের মোহময়ী সৃষ্টি ..এরা ছাড়া যেন যে কোন ভ্রমনই আমার অসম্পূর্ণ !!
Indrani Sen - Mor Bhabonare Ki Howaye Matalo
আমাদের কিছু বন্ধু-বান্ধব থাকে ওখানে, চাকড়ি করে টুম্বা হাসপাতালে, তারা সাদর অভ্যর্থনা জানালো তাদের বাড়িতে, আমরাও দুদিনের প্রোগ্রাম করে গিয়েছিলাম......
ওদের বাসায় একটু বিশ্রাম,খাওয়া দাওয়ার পর বেড়িয়ে পড়লাম বহু প্রত্যাশিত যায়গাটি দেখতে...ওরাও আমাদের সাথে চল্ল, যদিও বহুবার তারা দেখেছে এসব..ধন্যবাদ বণ্ধু...
ওখানে গিয়ে তো আমি পাগল হয়ে গেলাম, মনে হোল এ কোন স্বর্গে এলাম !! চারিদিকে শুধু ফুল আর ফুল ! প্রচুর মানুষ কিন্তু সবাই সুশৃংখল ভাবে একটার পর একটা ফুলের সমারোহ ভোগ করছে...ইচ্ছামত ঘুরলাম, মন-প্রান ভরে সব দেখলাম .....
আম্মার পায়ে ব্যথা, সাধারনতঃ বেশিক্ষণ হাটতে পারেননা, কিন্তু আমাদের অবাক করে দিয়ে কোন কথা ছাড়াই পুরো যায়গাটা ঘুরে দেখলেন...আব্বা তো হাসতে হাসতে বলেই ফেল্লেন, "তুমি আসলে ঘোরাঘুরির ভেতরই ভাল থাক".....
অসম্ভব রকম ভাল লাগা নিয়ে বাসায় ফিরলাম....ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে বহে কিবা মৃদু বায়......
এছাড়া ক্রিসমাসের সময় এরা দারুন সুন্দর ভাবে দেশটাকে সাজায়,
এসব দেখবার জন্য এত্ত ভীর হয় যে হাটাই মুস্কিল, গাড়ি পার্ক করতে হয় অনেক দূরে.....
ব্রিজবেনে যা হয়, টানা কয়েক সপ্তাহ থাকে এভাবে সাজানো বাড়ি--ঘর, যার যেভাবে খুশী সাজায়,
এদের মধ্যে আবার কম্পিটিশান হয়, যে ১ম হয় তাকে কতৃপক্ষ থেকে ভাল পুরস্কার দেয়া হয়.......
প্রতিটা এরিয়াতে পাশাপাশি বাড়ি গুলি একেকজন একেক ভাবে সাজায় এরা......

আবার অন্য এরিয়ার বাড়ি গুলি অন্য ভাবে সাজায়........।

বাড়ির ছাদের ওপর থেকে সমস্ত বাড়ি জুড়ে নানান রকম লাইট আর ডেকোরেশন দিয়ে সাজায় এরা.......

আশপাশ দিয়ে সান্তাক্লজ ঘুরতে থাকে আর গিফ্ট দিতে থাকে......

খেয়াল করে ছাদের দিকে তাকালে দেখা যাবে সেখানেও সান্তাক্লজ মজার মজার খেলা দেখাচ্ছে.......।
এদের একটা ব্যাপার এত্ত ভাল লাগে, যখনই দেখা হয় চেনা-অচেনা যে কারও সাথে, যে কোন যায়গায়, এরা হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানায় আর কুশলাদি জিগ্গাসা করে, এদের দেখে মনে হয়, এদের জীবনে বুঝি কোন কষ্ট, কোন দুক্ষ নাই...........
রবী ঠাকুরের সাথে গেয়ে ওঠি...
Indrani Sen - Prano bhariye trisha hariye
original post
আগেই বলেছি ব্রিসবেনের/অস্ট্রেলিয়ার লোকজন আমোদ-স্ফূর্তি করতে খুব পছন্দ করে। একটু ছুটি পেলেই এরা বেরিয়ে পড়ে কোথায় কোন অনুষ্ঠান হচ্ছে সেটা উপভোগ করতে....
আর এরা নিজেরাও বিভিন্ন সময়ে নানান রকম জমজমাট অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে ..যা কিনা ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে দেখার মত...
নানান ধরনের প্রানবন্ত অনুস্ঠানের মাঝে তুলে ধরে এরা এদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে, স্বাগত জানায় দেশ-বিদেশের মানুষকে তাদের সাথে অংশগ্রহন করে সারাবিশ্বে আনন্দ বিলিয়ে দিতে....
যেমন- ওয়ারানা বসন্ত উৎসব, টুম্বা পুষ্প কার্নিভাল, রক হ্যাম্পটন কাপ্রিকানা আনন্দমেলা ও টাউন্সভিল প্যাসিফিক উৎসব।
ব্রিজবেনে বছরের বিভিন্ন সময়ে নানান ধরনের মেলা অনুস্ঠিত হয়ে থাকে,
এক্কা এরকম একধরনের বাৎসরিক মেলা....(Royal Queensland Show - Brisbane Ekka.)
এই এক্কা মেলাটি প্রতি বছর একবারই অনুষ্ঠিত হয়। এটা এখানকার অনেক বড় একটি অনুস্ঠান।
যেখানেই যাই আমি ঘুরতে ঘরতে গুন গুনাই.....
Anandadhara Bohichey ...Indrani Sen
এ ধরনের অনুষ্ঠানে অন্যান্য সব কিছুর সাথে থাকে বিভিন্ন রকম খাবারের স্টলে যেখানে থাকে বিভিন্ন দেশের মজাদার খাবার....
এত আনন্দের মাঝ দিয়ে কখন যে সারাবেলা কেটে যায় বোঝাই যায়না...........!!
যেখানে দেখা হয় বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে, বড়-ছোট, বিশেষ করে বিভিন্ন বয়সি শিশুদের......
সারাদিন ব্যাপি মজার মজার অনুস্ঠান, খাওয়া-দাওয়া,নাচ-গান, কৌতুক ভরিয়ে রাখে এক অনাবিল আনন্দে......
বিভিন্ন রকম সাংস্কৃতিক অনুস্ঠান, এখানে ছোট-বড় সবাই খুব উপভোগ করে সেসব.....
এসব অনুস্ঠানের আয়োজন অনেক আগে থেকেই হয়ে থাকে যাতে করে মানুষ জন ঐ দিনটাতে ফ্রি থাকতে পারে,
যদিও মেলার আয়োজন ছুটির দিন গুলিতেই করা হয়ে থাকে।
মুরগীর ডিমগুলি কিভাবে প্রিসার্ভ করা হয় দেখায়.....।
নানান রকম প্রতিযোগিতা মূলক বিনোদনেরও আয়োজন করা হয়...........
যেখানে সারি সারি দর্শকের ভীড়ে অনুস্ঠান হয়ে ওঠে আনন্দ মুখর......
দোকানে দোকানে এরা বিক্রি করে বিভিন্ন রকম খেলনা আর আমোদ-স্ফূর্তির জিনিস পত্র.....।
চলে কম্পিটিশান কে কত ঘুরতে পারে, বিশেষ করে শিশুরা ! নানান রকম অনুস্ঠান,খেলা যেগুলি শিশুদেরকে মাতিয়ে রাখে অপরিসীম আনন্দে.........
স্টেজ সো গুলি হয় দেখবার মত.........ভীষণ সুন্দর!!
এদের এই ব্যাপারটা আমার কাছে ভীষণ ভাল লাগে, শিশুদের বিনোদনের জন্য এরা সদা তৎপর....যেটা আমার সবচেয়ে বেশী ভাল লাগে.....
এই অনুষ্ঠানটি দেখবার জন্য সারা বছর বড়-ছোট অনেকে গভীর প্রতিক্ষায় থাকে.....।
এখানে গেলে বাংলাদেশের মেলা গুলির কথা মনে পড়ে যায়......।
এখানে এক্কার সময় বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের মাঝে গাড়ি, ঘোড়া প্রতিযোগিতাও হয়, যা দেখবার মত।
গাড়ি, ঘোরার প্রতিযোগিতা গুলি খুব এনজয় করার মত..........।
এত মানুষ হয় কিন্তু কোন অনিয়ম-উশৃংখলতা নাই, ভীষণ রকম অরগানাইজড !!
শিশুরা এ ধরনের খেলা দেখতে ভয় পাওয়া তো দূরে থাক, দারুন ভাবে উপভোগ করে......
এ ছাড়া এখানে প্রতি বছর মহা ধুমধাম করে কয়েকদিন ব্যাপি রিভার ফেস্টিভ্যাল বা নদী উৎসব পালন করা হয় !....
ব্রিসবেন নদীর ওপরে হওয়া এ অনুস্ঠানটি ছোট--বড় সবার দারুন প্রিয় !!
ফায়ার ওয়ার্কস সহ নানান ধরনের আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা করে এরা.....
স্টোরী ব্রিজের ওপর দিয়েই প্রধানত এটা সাজানো হয় আর যেদিন সো হবার কথা সেদিন বিকেল থেকেই শুরু হয় মানুষজনের ভীড়, কে আগে সামনে গিয়ে দাড়াতে পারবে .......
ফায়ার ওয়ার্কস ছাড়াও এরা করে লেসার লাইট সো, যেগুলি দেখতে দারুন সুন্দর লাগে, বিশেষ করে বাচ্চাদের আনন্দ দেখে কে !!
রং বেরং এর আলো যেন ছিটকে আসছে চারপাশ থেকে, কিছুটা যাচ্ছা নদিতে, কিছুটা আকাশে আর কিছুটা দর্শকের মাঝে......
ব্রিজবেন রিভারের ওপর অনুষ্ঠিত এ আলোকসজ্জা অনুষ্ঠানটি দারুন রকম সুন্দর ! লাইটের বিভিন্ন রকম খেলা, ‘‘light sculptures’’ এই সো তে দেখানো হয়......।
ব্রিসবেন থেকে ২ ঘন্টা ড্রাইভ হচ্ছে টুম্বা....... ছোট্ট শহর এই টুম্বা, ছিমছাম......বেশ ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে......
প্রতি বছর সেপ্টেম্বারে অনুষ্ঠিত হয় এই ফ্লাওয়ার ফেস্টিভ্যালটি ( Toowoomba Flower Festival)......
টুম্বা পুষ্প কার্নিভাল এর কিছু ছবি......অপরুপ এ ফুল গুলি দেখবার সময় কোন কথা না, শুধু অনুভব করার.....
অসাধারন সুন্দর এই ফুলের মেলা, চমৎকার রং-বেরংগের সব ফুল..
ছোট্ট শহর এই টুম্বা, ছিমছাম......বেশ ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে......
আমার আম্মা ফুল খুব ভালবাসেন, ছোটকাল থেকে দেখে আসছি, যেখানে বাড়ি নিয়েছেন সেখানেই একটু যায়গা পেলেই বাগান করেছেন.....।
আমি বলতে গেলে ওনার কাছ থেকেই ফুল-ফলের বাগান করার প্রতি উৎসাহ পাই...কি অল্প যায়গায় কেমন সুন্দর করে যে বাগান করেন, অবাক লাগে !!
এখানে কিছুদিন আগে যখন ওনারা বেড়াতে এলেন, আগে থেকেই জানালেন এই ফেস্টিভ্যালে যাবেন....আমিতো অবাক, জানলো কিভাবে ?
বই পড়ে পড়ে সব জেনে নিয়েছেন আগে থেকেই কোথায় কি আছে....আম্মা আবার ভীষন রকম বই পাগল, পড়তে খুব ভালবাসেন.....
ভাগ্যিস তখন সময়টা সেপ্টেম্বার ছিল !! চটপট করে ফেল্লাম প্রোগ্রাম...আর চলে গেলাম ছুটির এক ভোরে আব্বা-আম্মাকে নিয়ে প্রত্যাশিত টুম্বা.....
বরাবরের মতই সাথে থাকলো রবীঠাকুর, নজরুল, লালন আর আধুনিক শিল্পীদের মোহময়ী সৃষ্টি ..এরা ছাড়া যেন যে কোন ভ্রমনই আমার অসম্পূর্ণ !!
Indrani Sen - Mor Bhabonare Ki Howaye Matalo
আমাদের কিছু বন্ধু-বান্ধব থাকে ওখানে, চাকড়ি করে টুম্বা হাসপাতালে, তারা সাদর অভ্যর্থনা জানালো তাদের বাড়িতে, আমরাও দুদিনের প্রোগ্রাম করে গিয়েছিলাম......
ওদের বাসায় একটু বিশ্রাম,খাওয়া দাওয়ার পর বেড়িয়ে পড়লাম বহু প্রত্যাশিত যায়গাটি দেখতে...ওরাও আমাদের সাথে চল্ল, যদিও বহুবার তারা দেখেছে এসব..ধন্যবাদ বণ্ধু...
ওখানে গিয়ে তো আমি পাগল হয়ে গেলাম, মনে হোল এ কোন স্বর্গে এলাম !! চারিদিকে শুধু ফুল আর ফুল ! প্রচুর মানুষ কিন্তু সবাই সুশৃংখল ভাবে একটার পর একটা ফুলের সমারোহ ভোগ করছে...ইচ্ছামত ঘুরলাম, মন-প্রান ভরে সব দেখলাম .....
আম্মার পায়ে ব্যথা, সাধারনতঃ বেশিক্ষণ হাটতে পারেননা, কিন্তু আমাদের অবাক করে দিয়ে কোন কথা ছাড়াই পুরো যায়গাটা ঘুরে দেখলেন...আব্বা তো হাসতে হাসতে বলেই ফেল্লেন, "তুমি আসলে ঘোরাঘুরির ভেতরই ভাল থাক".....
অসম্ভব রকম ভাল লাগা নিয়ে বাসায় ফিরলাম....ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে বহে কিবা মৃদু বায়......
এছাড়া ক্রিসমাসের সময় এরা দারুন সুন্দর ভাবে দেশটাকে সাজায়,
এসব দেখবার জন্য এত্ত ভীর হয় যে হাটাই মুস্কিল, গাড়ি পার্ক করতে হয় অনেক দূরে.....
ব্রিজবেনে যা হয়, টানা কয়েক সপ্তাহ থাকে এভাবে সাজানো বাড়ি--ঘর, যার যেভাবে খুশী সাজায়,
এদের মধ্যে আবার কম্পিটিশান হয়, যে ১ম হয় তাকে কতৃপক্ষ থেকে ভাল পুরস্কার দেয়া হয়.......
প্রতিটা এরিয়াতে পাশাপাশি বাড়ি গুলি একেকজন একেক ভাবে সাজায় এরা......
আবার অন্য এরিয়ার বাড়ি গুলি অন্য ভাবে সাজায়........।
বাড়ির ছাদের ওপর থেকে সমস্ত বাড়ি জুড়ে নানান রকম লাইট আর ডেকোরেশন দিয়ে সাজায় এরা.......
আশপাশ দিয়ে সান্তাক্লজ ঘুরতে থাকে আর গিফ্ট দিতে থাকে......
খেয়াল করে ছাদের দিকে তাকালে দেখা যাবে সেখানেও সান্তাক্লজ মজার মজার খেলা দেখাচ্ছে.......।
এদের একটা ব্যাপার এত্ত ভাল লাগে, যখনই দেখা হয় চেনা-অচেনা যে কারও সাথে, যে কোন যায়গায়, এরা হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানায় আর কুশলাদি জিগ্গাসা করে, এদের দেখে মনে হয়, এদের জীবনে বুঝি কোন কষ্ট, কোন দুক্ষ নাই...........
রবী ঠাকুরের সাথে গেয়ে ওঠি...
Indrani Sen - Prano bhariye trisha hariye
original post


No comments:
Post a Comment