by আহমেদ আরিফ,
বুঝলি দোস্ত, বছর তিনেক আগেও ঈদ মানেই ছিল অনাবিল আনন্দের পরশ, ঈদ মানেই নতুন জামায় সেন্ট মেরে সালমান খান মার্কা হেয়ার কাটিং দিয়ে তোদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো। কিন্তু পুরুষ দুই প্রকার ‘জীবিত এবং বিবাহিত’ এ বাক্যটিকে ভুল প্রমাণ করতে মানে দিল্লিকা লাড্ডু খেয়েও যে জীবিত পুরুষের মতো বাঁচা যায়, সেটি প্রমাণ করতে বিয়ে করার পর থেকেই বুঝতে পারছি যে আইনস্টাইন, নিউটনের সূত্র গবেষণা করে ভুল প্রমাণ করা সম্ভব; কিন্তু পৃথিবীর কোনো পুরুষই ১০০টা বিয়ে করেও ‘পুরুষ দুই প্রকার জীবিত এবং বিবাহিত’ বাক্যটি ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। বিয়া করে বউ পালার চেয়ে হাতি পালা অনেক ভালো। বিয়া করস নাই বাঁইচ্যা গেছস। ভুলেও বিয়া করবি না বলে রাতুল আমার পিঠ চাপড়ে দিল। বললাম, গত তিন বছর ধরে তুই যতবারই ‘দিল্লি কা লাড্ডু’ বিরোধী ওয়াজ করেছিস, ততবারই তোর কোনো না কোনো মতলব ছিল। গলাবাজি ছেড়ে মতলব বলে ফেল। রাতুল গলার স্বর নরম করে বলল, দোস্ত গরু কিনে এনে এখন নিজেই গরু বনে গেছি। গরুর পেছনেই সব শেষ। মসলা কেনার টাকাও নাই। তোর ভাবীকে বলতেই শুনিয়ে দিল একটা বলদেরও নাকি আমার চেয়ে বেশি বুদ্ধি! আমার মতো গরুকে সংসারে রাখার চেয়ে গরুর হাটে নিয়া বিক্রি করে দেয়া অনেক ভালো। দেশ থেকে একটা গরু কমবে। মানিব্যাগ পুরা ফকফকা। আমাকে হাজার দশেক টাকা দিবি দোস্ত?
রোজার ঈদের সময় যে টাকা নিছিস— সে টাকা দেয়ার খবর নাই, আবার টাকা চাচ্ছিস? আগের টাকা না দেয়া পর্যন্ত আর কোনো টাকা পাবি না। আগের ৩হাজার টাকা দিলে ১০ হাজার না ১৩ হাজার টাকা দেব, বলতেই আমাকে অবাক করে দিয়ে রাতুল রোজার ঈদে নেয়া ৩ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে বলল, রোজার ঈদে যে ৩ হাজার টাকা নিছি এই নে সেই ৩ হাজার। তুই বলছিস ফেরত দিলে ১৩ হাজার পুরা দিবি। নেতারা কথা দিয়ে ওয়াদা ভঙ্গ করতে পারে, কিন্তু তোর মতো ছেলে কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ করবে না। বললাম, রাতুল মিছা কইবি না। নেতারাও কথা রাখে। দেখলি না দৌড়ে জয়ী হলে মন্ত্রী বানাবে এমন কথা দেয়ায় ঠিকই মন্ত্রী বানিয়ে দিয়েছে; পূর্ব পুরুষের মৃত্যুতে আমজনতা চোখের পানি না ফেলায় ক্ষমতায় এলে আমজনতাকে কাঁদিয়ে ছাড়বে বলেছিল। ক্ষমতায় এসে ঠিকই কাঁদিয়ে ছাড়ছে। রাতুল বলল, ধুর সবই ষড়যন্ত্র। এমপি হয়ে মন্ত্রী হতে পারেনি তো, তাই বিরোধী দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ষড়যন্ত্র করছে! আর তুই তা সত্যি ভেবে আমাকে টাকা না দেয়ার ষড়যন্ত্র করছিস। কোনো ষড়যন্ত্রই আজ সফল হতে দেব না। অবশেষে হার মেনে রাতুলকে ১৩ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় নিয়ে বাসায় এলাম। ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িংরুমে এসে দেখি পাশের বাসার ফারিয়া আপুর সঙ্গে গল্পে মশগুল। আমাকে দেখেই আপুর আদেশ, ফারিয়ার বাবা গরু কিনতে যাবে, উনাদের তো আর কেউ নেই, তাই তোকে সঙ্গে যেতে হবে। যা তৈরি হয়ে নে, বলে আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ভেতরের রুমে চলে গেল।
ফারিয়াকে কিছু বলতে গিয়েও বললাম না। কারণ এই নাক কাঁদুনি মেয়েকে কিছু বললেই আপুকে বিচার দেবে। সুযোগ পেলেই বড়ত্ব ফলাতে ব্যস্ত ইভটিজিং বিরোধী আপু আমার সহজ-সরল মনের কথাকে ইভটিজিং ব্যাখ্যা দিয়ে যে জুতাপেটা করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই বাধ্য হয়েই ফারিয়ার বাবার সঙ্গে গরুর হাটে গেলাম। সঙ্গে ফারিয়ার ১২ বছরের ভাগিনা মিতুল। কোনো গরুই আংকেলের পছন্দ হয় না। গরুর শরীরের মাংস পছন্দ হয়তো, গরুর লেজ পছন্দ হয় না। লেজ পছন্দ হয় তো গরুর পা পছন্দ হয় না। আরে বাবা, গরুর শরীরে মাংস থাকলেই তো হলো, লেজ সুন্দর না পা সুন্দর, তা দিয়ে কি হবে! আংকেলকে গরুর হাটে রেখে আসার পাক্কা সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাগতে যাওয়ার আগেই আংকেলের গরু পছন্দ হলো। দাম চুকিয়ে মালিকের কাছ থেকে গরুর রশি নিয়ে এমনভাবে আমার হাতে ধরিয়ে দিল যেন আমি উনার বাপ-দাদার আমলের চাকর! গরুর বাজার থেকে শুরু করে মহল্লায় ঢোকার রাস্তার আগ পর্যন্ত শত শত পাবলিকের একটাই প্রশ্ন, দাম কত? মাথায় আসে না আরেকজনের গরুর দাম শুনে পাবলিকের কি লাভ!
মহল্লার গলি দিয়ে ঢুকছি, এমন সময় নিচতলার রোমানাকে বিপরীত দিক থেকে আসতে দেখে অন্যদিকে মুখ ফেরালাম। কিন্তু কোনো লাভ হল না, বদটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল গরু—গরুর দাম কত রে? বলতে যাব তোর ১৪ গুষ্টি গরু; তোরা গরুর বংশ; কিন্তু তার আগেই মিতুল নানাকে চিত্কার করে বলল, নানা ডাইনে যান সামনে আবুল। আংকেলের কয়েক হাত সামনে ছিল করিম চাচা। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি উনাকে আবুল বললে ক্ষেপে গিয়ে দৌড়ানি দেয়। যদি ধরতে পারে, তাহলে কিল-ঘুষি একটাও এদিক-সেদিক হয় না! অনেককেই হাসপাতালে পাঠানো করিম চাচা পেছন ফিরে বলল, আবুল বলল কে রে? রোমানা না আমাকে দেখিয়ে দেয় ভাবাও শেষ হল না, তার আগেই বদটা আমাকে দেখিয়ে দিল। দেখিয়ে দিতেই করিম চাচা লুঙ্গি কাছা দিতে শুরু করল। দৌড় দেয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই, তাই গরুর রশি ছেড়ে দিয়ে দিলাম দৌড়। সামনে করিম চাচা। পেছনে একবার এই গলি আরেকবার আরেক গলি। মহল্লার মানুষ তামাশা দেখছে। এই যেন ইত্যাদির দর্শকদের জন্য শুটিং চলছে! এই গলি সেই গলি করে করে করিম চাচাকে ফাঁকি দিয়ে সোজা ফারিয়াদের বাসায়। মিতুলের কান ধরে বললাম, ভাগ্যিস চাচা ধরতে পারেনি। পারলে হাসপাতালে ঈদ করতে হতো। তুই জেনেও কেন করিম চাচাকে আবুল বললি? মিতুলের সরল উত্তর, আমি তো করিম চাচাকে আবুল বলিনি। তুমি জান না, গাড়ির হেলপাররা রাস্তার গর্তের নাম দিয়েছে আবুল! নানা রাস্তার গর্তে পা দিতে যাচ্ছিল দেখেই বলেছি সামনে আবুল!
original post
বুঝলি দোস্ত, বছর তিনেক আগেও ঈদ মানেই ছিল অনাবিল আনন্দের পরশ, ঈদ মানেই নতুন জামায় সেন্ট মেরে সালমান খান মার্কা হেয়ার কাটিং দিয়ে তোদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো। কিন্তু পুরুষ দুই প্রকার ‘জীবিত এবং বিবাহিত’ এ বাক্যটিকে ভুল প্রমাণ করতে মানে দিল্লিকা লাড্ডু খেয়েও যে জীবিত পুরুষের মতো বাঁচা যায়, সেটি প্রমাণ করতে বিয়ে করার পর থেকেই বুঝতে পারছি যে আইনস্টাইন, নিউটনের সূত্র গবেষণা করে ভুল প্রমাণ করা সম্ভব; কিন্তু পৃথিবীর কোনো পুরুষই ১০০টা বিয়ে করেও ‘পুরুষ দুই প্রকার জীবিত এবং বিবাহিত’ বাক্যটি ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। বিয়া করে বউ পালার চেয়ে হাতি পালা অনেক ভালো। বিয়া করস নাই বাঁইচ্যা গেছস। ভুলেও বিয়া করবি না বলে রাতুল আমার পিঠ চাপড়ে দিল। বললাম, গত তিন বছর ধরে তুই যতবারই ‘দিল্লি কা লাড্ডু’ বিরোধী ওয়াজ করেছিস, ততবারই তোর কোনো না কোনো মতলব ছিল। গলাবাজি ছেড়ে মতলব বলে ফেল। রাতুল গলার স্বর নরম করে বলল, দোস্ত গরু কিনে এনে এখন নিজেই গরু বনে গেছি। গরুর পেছনেই সব শেষ। মসলা কেনার টাকাও নাই। তোর ভাবীকে বলতেই শুনিয়ে দিল একটা বলদেরও নাকি আমার চেয়ে বেশি বুদ্ধি! আমার মতো গরুকে সংসারে রাখার চেয়ে গরুর হাটে নিয়া বিক্রি করে দেয়া অনেক ভালো। দেশ থেকে একটা গরু কমবে। মানিব্যাগ পুরা ফকফকা। আমাকে হাজার দশেক টাকা দিবি দোস্ত?
রোজার ঈদের সময় যে টাকা নিছিস— সে টাকা দেয়ার খবর নাই, আবার টাকা চাচ্ছিস? আগের টাকা না দেয়া পর্যন্ত আর কোনো টাকা পাবি না। আগের ৩হাজার টাকা দিলে ১০ হাজার না ১৩ হাজার টাকা দেব, বলতেই আমাকে অবাক করে দিয়ে রাতুল রোজার ঈদে নেয়া ৩ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে বলল, রোজার ঈদে যে ৩ হাজার টাকা নিছি এই নে সেই ৩ হাজার। তুই বলছিস ফেরত দিলে ১৩ হাজার পুরা দিবি। নেতারা কথা দিয়ে ওয়াদা ভঙ্গ করতে পারে, কিন্তু তোর মতো ছেলে কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ করবে না। বললাম, রাতুল মিছা কইবি না। নেতারাও কথা রাখে। দেখলি না দৌড়ে জয়ী হলে মন্ত্রী বানাবে এমন কথা দেয়ায় ঠিকই মন্ত্রী বানিয়ে দিয়েছে; পূর্ব পুরুষের মৃত্যুতে আমজনতা চোখের পানি না ফেলায় ক্ষমতায় এলে আমজনতাকে কাঁদিয়ে ছাড়বে বলেছিল। ক্ষমতায় এসে ঠিকই কাঁদিয়ে ছাড়ছে। রাতুল বলল, ধুর সবই ষড়যন্ত্র। এমপি হয়ে মন্ত্রী হতে পারেনি তো, তাই বিরোধী দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ষড়যন্ত্র করছে! আর তুই তা সত্যি ভেবে আমাকে টাকা না দেয়ার ষড়যন্ত্র করছিস। কোনো ষড়যন্ত্রই আজ সফল হতে দেব না। অবশেষে হার মেনে রাতুলকে ১৩ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় নিয়ে বাসায় এলাম। ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িংরুমে এসে দেখি পাশের বাসার ফারিয়া আপুর সঙ্গে গল্পে মশগুল। আমাকে দেখেই আপুর আদেশ, ফারিয়ার বাবা গরু কিনতে যাবে, উনাদের তো আর কেউ নেই, তাই তোকে সঙ্গে যেতে হবে। যা তৈরি হয়ে নে, বলে আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ভেতরের রুমে চলে গেল।
ফারিয়াকে কিছু বলতে গিয়েও বললাম না। কারণ এই নাক কাঁদুনি মেয়েকে কিছু বললেই আপুকে বিচার দেবে। সুযোগ পেলেই বড়ত্ব ফলাতে ব্যস্ত ইভটিজিং বিরোধী আপু আমার সহজ-সরল মনের কথাকে ইভটিজিং ব্যাখ্যা দিয়ে যে জুতাপেটা করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই বাধ্য হয়েই ফারিয়ার বাবার সঙ্গে গরুর হাটে গেলাম। সঙ্গে ফারিয়ার ১২ বছরের ভাগিনা মিতুল। কোনো গরুই আংকেলের পছন্দ হয় না। গরুর শরীরের মাংস পছন্দ হয়তো, গরুর লেজ পছন্দ হয় না। লেজ পছন্দ হয় তো গরুর পা পছন্দ হয় না। আরে বাবা, গরুর শরীরে মাংস থাকলেই তো হলো, লেজ সুন্দর না পা সুন্দর, তা দিয়ে কি হবে! আংকেলকে গরুর হাটে রেখে আসার পাক্কা সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাগতে যাওয়ার আগেই আংকেলের গরু পছন্দ হলো। দাম চুকিয়ে মালিকের কাছ থেকে গরুর রশি নিয়ে এমনভাবে আমার হাতে ধরিয়ে দিল যেন আমি উনার বাপ-দাদার আমলের চাকর! গরুর বাজার থেকে শুরু করে মহল্লায় ঢোকার রাস্তার আগ পর্যন্ত শত শত পাবলিকের একটাই প্রশ্ন, দাম কত? মাথায় আসে না আরেকজনের গরুর দাম শুনে পাবলিকের কি লাভ!
মহল্লার গলি দিয়ে ঢুকছি, এমন সময় নিচতলার রোমানাকে বিপরীত দিক থেকে আসতে দেখে অন্যদিকে মুখ ফেরালাম। কিন্তু কোনো লাভ হল না, বদটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল গরু—গরুর দাম কত রে? বলতে যাব তোর ১৪ গুষ্টি গরু; তোরা গরুর বংশ; কিন্তু তার আগেই মিতুল নানাকে চিত্কার করে বলল, নানা ডাইনে যান সামনে আবুল। আংকেলের কয়েক হাত সামনে ছিল করিম চাচা। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি উনাকে আবুল বললে ক্ষেপে গিয়ে দৌড়ানি দেয়। যদি ধরতে পারে, তাহলে কিল-ঘুষি একটাও এদিক-সেদিক হয় না! অনেককেই হাসপাতালে পাঠানো করিম চাচা পেছন ফিরে বলল, আবুল বলল কে রে? রোমানা না আমাকে দেখিয়ে দেয় ভাবাও শেষ হল না, তার আগেই বদটা আমাকে দেখিয়ে দিল। দেখিয়ে দিতেই করিম চাচা লুঙ্গি কাছা দিতে শুরু করল। দৌড় দেয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই, তাই গরুর রশি ছেড়ে দিয়ে দিলাম দৌড়। সামনে করিম চাচা। পেছনে একবার এই গলি আরেকবার আরেক গলি। মহল্লার মানুষ তামাশা দেখছে। এই যেন ইত্যাদির দর্শকদের জন্য শুটিং চলছে! এই গলি সেই গলি করে করে করিম চাচাকে ফাঁকি দিয়ে সোজা ফারিয়াদের বাসায়। মিতুলের কান ধরে বললাম, ভাগ্যিস চাচা ধরতে পারেনি। পারলে হাসপাতালে ঈদ করতে হতো। তুই জেনেও কেন করিম চাচাকে আবুল বললি? মিতুলের সরল উত্তর, আমি তো করিম চাচাকে আবুল বলিনি। তুমি জান না, গাড়ির হেলপাররা রাস্তার গর্তের নাম দিয়েছে আবুল! নানা রাস্তার গর্তে পা দিতে যাচ্ছিল দেখেই বলেছি সামনে আবুল!
original post


No comments:
Post a Comment