by স্বপ্রত্যয়
বিপ্লবের জন্মের সময়টার কথা মনে আছে দাদী জেবুন্নেসা খাতুনের। জোছনার বাধ ভাঙ্গা আলো উপচে পড়ছিল গ্রাম জুড়ে। মেঘহীন নিকষ কালো আকাশ ভেদ করে জ্বলজ্বল করে দম্ভ ছড়াচ্ছিল তারকারাজি। দাদী অনেক শখ করে রাখলেন নাম বিল্পব। ছেলে তাহেরকে বললেন, দেখিস তোর ছেলে একদিন দেশে বিপ্লব ঘটাবে। ছড়িয়ে দেবে পরিবারের নাম সারা দেশ জুড়ে। রাজা উজির নাজির এক বাক্যে সম্মান করবে ছেলেকে।
ছেলেবেলা থেকেই আদরের বড়ছেলে বিপ্লব ননীটা আর ছানাটা খেয়েই বড় হতে থাকে। ডানপিটে বিপ্লব হয়ে যায় বন্ধুমহলে একচ্ছত্র অধিপতি। বাবার প্রভাব প্রতিপত্তিও কম বাড়েনা। বাপকা বেটা সিপাইকা ঘোড়া। নিজেদের রাজার আমলে শহর কব্জা করে নেয় স্বপরিবারে। ডন নামে খ্যাতি ছড়াতে থাকে তাহের। আর তার ছেলেরা সহযোগী হয়ে এগিয়ে নিতে থাকে বাবাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে। তাহেরের আরও দুই ছেলে টিপু আর লাবু। তিন ভাইয়ে মিলে চলে রাজার অধীনে থেকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা।
টিপু - বড় ভাই, শুনছেন নাকি ঘটনা?
বিপ্লব - কি হইছে?
টিপু - কি হয়নাই তাই কন। দুইদিনের পোলা কামাল। ঐ রাজার আন্ডারে কাম করেনা! ঐ কামাল! ফাল পাড়তাছে বড্ড বেশী। বাপজানের পিছে লাগছে।
লাবু- বড় ভাই, কথা সত্য। আপনে কইলে ফালাই দেই।
বিপ্লব - কওনের কি আছে! বাপজানের দিকে যে চোখ তুইলা তাকাইব। ফালাই দিবি। আমারে জিগানোর দরকার নাই।
লাবু - তারপরও বড় ভাই! অন্য রাজার জিনিষ ওইটা। যদি আমাগো রাজা আবার বিপদে পড়ে! আপনে একটু চেক করে দেখেন। সমস্যা হইব কিনা রাজার তরফ থেকে।
বিপ্লব - তোরা কি মনে করস! আমি কি ঘুমাই থাকি! সব জানা আছে আমার। চিন্তা নাই। উপর থেকে গ্রিন সিগন্যাল আছে। ফালাই দিয়া আমারে জানাস।
কিছুদিন পরের কথা।
আসর বসেছে বিপ্লব আর তার সাঙ্গপাংগদের। টুয়েন্টি নাইন আর বাংলা মদের মাঝে শুধু হই হুল্লোড়। লাল ছিট দুইটা খাইয়া বিপ্লবের মেজাজ তুঙ্গে। খেলা বাদ দিয়া ধান্দা করতেছে উইঠা ঐ পাড়ার দিকে যাবে কিনা। এমন সময় হুরমুর করে তার ভাই লাবি আর টিপুর আগমন। বলে, বড় ভাই আব্বায় ডাকছে আপনেরে। এমারজেন্সি, চলেন।
ঘরে ফিরে তাহেরের সম্মুখীন হয় তিন ছেলে।
তাহের - তোমরা বস। জরুরী কথা আছে।
বিপ্লব - কি কথা বাপজান।
তাহের - কামালরেতো ফালাইলা। ঠিক আছে। কিন্তু কামালের মামলা নিয়া বড় বেশী নড়াচড়া হইতেছে এইটা খবর রাখো?
বিপ্লব - জী বাপজান। নুরুল ইসলাম উকিল। ওইটারে আমি নিজে গিয়া সাবধান হইতে কইছি। কইলাম বৌ বাচ্চা আছে তোমার, তুমি এত ফাল পাইরো না। তারপরও তার লাফানি কমেনা। কি করুম আর!
তাহের - কি করবা মানে! বান্দির বাচ্চারে ধইরা লইয়া আস। আমি এক্ষণই তার লগে কথা কইতে চাই।
লাবু - বাপজান। এরে ধরলে আরও নড়াচড়া হইতে পারে কিন্তু।
তাহের - চুপ বেটা ভীতু। এই তাহেরের উপর কথা কইব এই শহরে বাপের বেটা কয়টা আছে। যা কইছি তাই কর।
তিন ভাই তৎক্ষণাৎ তাদের দলবল নিয়ে ছুটে নুরুল ইসলামের সন্ধানে। গভীর রাতে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসে নিজেদের বাসায়। বন্ধ রুমে হাত পা বেঁধে ফেলে রাখে। কিছুক্ষণ পড়ে তাহের আর তার তিন ছেলে ঢুকে ঐ রুমে।
তাহের - নুরল ভাল আছো?
নুরুল ইসলাম - আমাকে ধরে এনেছেন কেন?
তাহের - তুমি নাকি কোর্টে আমার মুখোমুখি হইবা। হাজতে পুরবা আমারে একথা বলছ। তাই জানতে তোমারে একটু তলব করলাম আরকি।
নুরুল ইসলাম - হা বলেছি। আপনি যা করছেন এই শহরে, তা কখনোই শহরবাসী মেনে নিবেনা।
তাহের - শহরবাসীর কথা কও কেরে নুরুল। কও তোমার রাজার সাঙ্গপাংগরা।
নুরুল ইসলাম - আপনি একটা কসাই। আপনার ছেলেগুলা সবাই একেকটা খুনি। আপনাদের শাস্তি অবশ্যই হবে।
বিপ্লব - কি নুরুইল্লা! আমার বাপজানরে এত বড় কথা!
প্রচণ্ড থাবড়া খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে নুরুল ইসলাম মেঝেতে। মুহূর্তেই টের পায় গলা চিরে ধারোলো ছুরির ফলা ভেদ করে যায় কন্ঠ নালী। বুক ফেটে বের হতে চায় একটি কথা। কিন্তু বের হওয়ার রাস্তা খুঁজে পায়না। চোখের কোনে দেখতে পায় রক্তের ধাঁরা বয়ে চলে খরস্রোতা নদীর মত তীব্র গতিতে। অন্ধকার হয়ে যায় সব কিছু ধীরে ধীরে।
তাহের - বিপ্লব এইটা তুই কি করলি! বাসার মধ্যে কামটা না করলেও পারতি।
বিপ্লব - বাপজান, আপনেরে নিয়া কেউ কিছু কইলে আমার দিলে সয়না।
তাহের - লাবু, টিপু তোরা এক কাম কর। এই লাশ যেন পৃথিবীর কেউ না দেখতে পায়। টূকরা টুকরা কইরা গাঙ্গের জলে ভাসায় দে।
নুরুল ইসলামের অন্তর্ধানে শোকাহত হয়ে যায় শহরবাসী। ধিক্কারের কোলাহলে সরব হয়ে ওঠে সর্ব খানে। নিজ রাজার আমলে তাহের গং রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমজনতার পক্ষে কথা বলতে সাংবাদিক ভাইয়েরা এলে গডফাদার তাহের তাদের হাত পা ভেঙ্গে নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়।
রাজা যায় রাজা আসে। আগের রাজা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে মৃত নুরুল ইসলামের রাজা আসে। এতদিন শিকেয় তুলে রাখা বিচার, দ্রুতগতিতে শেষ হয়। দোষীরা শাস্তি পায়। তাহেরের তিন ছেলে নুরুল ইসলাম আর কামাল হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। রাজার পরিবর্তনে বিপ্লব বিপদ বুঝে গাঁ ঢাকা দেয় চিরতরে।
আবারও রাজ্যের পট পরিবর্তনে বিপ্লবের রাজা আসে। নিজের রাজাকে পেয়ে তাহের নতুন করে সমীকরণ আকে। রাজার গ্রিন সিগন্যালে পলাতক বিপ্লব আত্মসমর্পণ করে। ছককষা আবেদনে রাজা তুলে নেন মৃত্যুদন্ডাদেশ।
রাজা আসবে যাবে। গডফাদারেরা হুঙ্কার ছুড়ে ধ্বংসের খেলাতে মেতে উঠবে। কোন এক নুরুল ইসলাম আবারও মারা যাবেন। কিন্তু নুরুল ইসলামদের মৃত্যুক্ষণে যে কথাটা হৃদয়ে আটকে যায়। যে প্রিয় মুখগুলোর চেহারা ভেসে ওঠে মনসপটে। সেই প্রিয় মুখ স্মরণের বানীটি কে পৌঁছে দেবে তার প্রিয় মানুষদের। কে পৌঁছবে তার ছেলেকে বলা কথাটা, "আমার সোনাবাবাটা, তোকে আমি অনেক অনেক ভালবাসিরে।"
দাদী জেবুন্নেসা থুরথুরে বুড়ী আজ। চিন্তা শক্তির ক্ষমতা লোপ পেয়েছে। কিন্তু তাও বুঝতে পারে, তার বিপ্লব আজ সত্যিই দেশে বিপ্লব ঘটিয়েছে। রাজা উজির নাজির সত্যিই তার জন্য ব্যাস্ত হয়ে উঠে পড়েছে। স্বয়ং রাজা এসে তাকে জীবন দান করলেন। কত বড় হয়েছে ছেলেটা। জেবুন্নেসা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবেন, এমন বড় হওয়ার স্বপ্নতো তিনি দেখেননি। দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আজ আর উনার কিছুই করার নাই।
original post
বিপ্লবের জন্মের সময়টার কথা মনে আছে দাদী জেবুন্নেসা খাতুনের। জোছনার বাধ ভাঙ্গা আলো উপচে পড়ছিল গ্রাম জুড়ে। মেঘহীন নিকষ কালো আকাশ ভেদ করে জ্বলজ্বল করে দম্ভ ছড়াচ্ছিল তারকারাজি। দাদী অনেক শখ করে রাখলেন নাম বিল্পব। ছেলে তাহেরকে বললেন, দেখিস তোর ছেলে একদিন দেশে বিপ্লব ঘটাবে। ছড়িয়ে দেবে পরিবারের নাম সারা দেশ জুড়ে। রাজা উজির নাজির এক বাক্যে সম্মান করবে ছেলেকে।
ছেলেবেলা থেকেই আদরের বড়ছেলে বিপ্লব ননীটা আর ছানাটা খেয়েই বড় হতে থাকে। ডানপিটে বিপ্লব হয়ে যায় বন্ধুমহলে একচ্ছত্র অধিপতি। বাবার প্রভাব প্রতিপত্তিও কম বাড়েনা। বাপকা বেটা সিপাইকা ঘোড়া। নিজেদের রাজার আমলে শহর কব্জা করে নেয় স্বপরিবারে। ডন নামে খ্যাতি ছড়াতে থাকে তাহের। আর তার ছেলেরা সহযোগী হয়ে এগিয়ে নিতে থাকে বাবাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে। তাহেরের আরও দুই ছেলে টিপু আর লাবু। তিন ভাইয়ে মিলে চলে রাজার অধীনে থেকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা।
টিপু - বড় ভাই, শুনছেন নাকি ঘটনা?
বিপ্লব - কি হইছে?
টিপু - কি হয়নাই তাই কন। দুইদিনের পোলা কামাল। ঐ রাজার আন্ডারে কাম করেনা! ঐ কামাল! ফাল পাড়তাছে বড্ড বেশী। বাপজানের পিছে লাগছে।
লাবু- বড় ভাই, কথা সত্য। আপনে কইলে ফালাই দেই।
বিপ্লব - কওনের কি আছে! বাপজানের দিকে যে চোখ তুইলা তাকাইব। ফালাই দিবি। আমারে জিগানোর দরকার নাই।
লাবু - তারপরও বড় ভাই! অন্য রাজার জিনিষ ওইটা। যদি আমাগো রাজা আবার বিপদে পড়ে! আপনে একটু চেক করে দেখেন। সমস্যা হইব কিনা রাজার তরফ থেকে।
বিপ্লব - তোরা কি মনে করস! আমি কি ঘুমাই থাকি! সব জানা আছে আমার। চিন্তা নাই। উপর থেকে গ্রিন সিগন্যাল আছে। ফালাই দিয়া আমারে জানাস।
কিছুদিন পরের কথা।
আসর বসেছে বিপ্লব আর তার সাঙ্গপাংগদের। টুয়েন্টি নাইন আর বাংলা মদের মাঝে শুধু হই হুল্লোড়। লাল ছিট দুইটা খাইয়া বিপ্লবের মেজাজ তুঙ্গে। খেলা বাদ দিয়া ধান্দা করতেছে উইঠা ঐ পাড়ার দিকে যাবে কিনা। এমন সময় হুরমুর করে তার ভাই লাবি আর টিপুর আগমন। বলে, বড় ভাই আব্বায় ডাকছে আপনেরে। এমারজেন্সি, চলেন।
ঘরে ফিরে তাহেরের সম্মুখীন হয় তিন ছেলে।
তাহের - তোমরা বস। জরুরী কথা আছে।
বিপ্লব - কি কথা বাপজান।
তাহের - কামালরেতো ফালাইলা। ঠিক আছে। কিন্তু কামালের মামলা নিয়া বড় বেশী নড়াচড়া হইতেছে এইটা খবর রাখো?
বিপ্লব - জী বাপজান। নুরুল ইসলাম উকিল। ওইটারে আমি নিজে গিয়া সাবধান হইতে কইছি। কইলাম বৌ বাচ্চা আছে তোমার, তুমি এত ফাল পাইরো না। তারপরও তার লাফানি কমেনা। কি করুম আর!
তাহের - কি করবা মানে! বান্দির বাচ্চারে ধইরা লইয়া আস। আমি এক্ষণই তার লগে কথা কইতে চাই।
লাবু - বাপজান। এরে ধরলে আরও নড়াচড়া হইতে পারে কিন্তু।
তাহের - চুপ বেটা ভীতু। এই তাহেরের উপর কথা কইব এই শহরে বাপের বেটা কয়টা আছে। যা কইছি তাই কর।
তিন ভাই তৎক্ষণাৎ তাদের দলবল নিয়ে ছুটে নুরুল ইসলামের সন্ধানে। গভীর রাতে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসে নিজেদের বাসায়। বন্ধ রুমে হাত পা বেঁধে ফেলে রাখে। কিছুক্ষণ পড়ে তাহের আর তার তিন ছেলে ঢুকে ঐ রুমে।
তাহের - নুরল ভাল আছো?
নুরুল ইসলাম - আমাকে ধরে এনেছেন কেন?
তাহের - তুমি নাকি কোর্টে আমার মুখোমুখি হইবা। হাজতে পুরবা আমারে একথা বলছ। তাই জানতে তোমারে একটু তলব করলাম আরকি।
নুরুল ইসলাম - হা বলেছি। আপনি যা করছেন এই শহরে, তা কখনোই শহরবাসী মেনে নিবেনা।
তাহের - শহরবাসীর কথা কও কেরে নুরুল। কও তোমার রাজার সাঙ্গপাংগরা।
নুরুল ইসলাম - আপনি একটা কসাই। আপনার ছেলেগুলা সবাই একেকটা খুনি। আপনাদের শাস্তি অবশ্যই হবে।
বিপ্লব - কি নুরুইল্লা! আমার বাপজানরে এত বড় কথা!
প্রচণ্ড থাবড়া খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে নুরুল ইসলাম মেঝেতে। মুহূর্তেই টের পায় গলা চিরে ধারোলো ছুরির ফলা ভেদ করে যায় কন্ঠ নালী। বুক ফেটে বের হতে চায় একটি কথা। কিন্তু বের হওয়ার রাস্তা খুঁজে পায়না। চোখের কোনে দেখতে পায় রক্তের ধাঁরা বয়ে চলে খরস্রোতা নদীর মত তীব্র গতিতে। অন্ধকার হয়ে যায় সব কিছু ধীরে ধীরে।
তাহের - বিপ্লব এইটা তুই কি করলি! বাসার মধ্যে কামটা না করলেও পারতি।
বিপ্লব - বাপজান, আপনেরে নিয়া কেউ কিছু কইলে আমার দিলে সয়না।
তাহের - লাবু, টিপু তোরা এক কাম কর। এই লাশ যেন পৃথিবীর কেউ না দেখতে পায়। টূকরা টুকরা কইরা গাঙ্গের জলে ভাসায় দে।
নুরুল ইসলামের অন্তর্ধানে শোকাহত হয়ে যায় শহরবাসী। ধিক্কারের কোলাহলে সরব হয়ে ওঠে সর্ব খানে। নিজ রাজার আমলে তাহের গং রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমজনতার পক্ষে কথা বলতে সাংবাদিক ভাইয়েরা এলে গডফাদার তাহের তাদের হাত পা ভেঙ্গে নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়।
রাজা যায় রাজা আসে। আগের রাজা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে মৃত নুরুল ইসলামের রাজা আসে। এতদিন শিকেয় তুলে রাখা বিচার, দ্রুতগতিতে শেষ হয়। দোষীরা শাস্তি পায়। তাহেরের তিন ছেলে নুরুল ইসলাম আর কামাল হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। রাজার পরিবর্তনে বিপ্লব বিপদ বুঝে গাঁ ঢাকা দেয় চিরতরে।
আবারও রাজ্যের পট পরিবর্তনে বিপ্লবের রাজা আসে। নিজের রাজাকে পেয়ে তাহের নতুন করে সমীকরণ আকে। রাজার গ্রিন সিগন্যালে পলাতক বিপ্লব আত্মসমর্পণ করে। ছককষা আবেদনে রাজা তুলে নেন মৃত্যুদন্ডাদেশ।
রাজা আসবে যাবে। গডফাদারেরা হুঙ্কার ছুড়ে ধ্বংসের খেলাতে মেতে উঠবে। কোন এক নুরুল ইসলাম আবারও মারা যাবেন। কিন্তু নুরুল ইসলামদের মৃত্যুক্ষণে যে কথাটা হৃদয়ে আটকে যায়। যে প্রিয় মুখগুলোর চেহারা ভেসে ওঠে মনসপটে। সেই প্রিয় মুখ স্মরণের বানীটি কে পৌঁছে দেবে তার প্রিয় মানুষদের। কে পৌঁছবে তার ছেলেকে বলা কথাটা, "আমার সোনাবাবাটা, তোকে আমি অনেক অনেক ভালবাসিরে।"
দাদী জেবুন্নেসা থুরথুরে বুড়ী আজ। চিন্তা শক্তির ক্ষমতা লোপ পেয়েছে। কিন্তু তাও বুঝতে পারে, তার বিপ্লব আজ সত্যিই দেশে বিপ্লব ঘটিয়েছে। রাজা উজির নাজির সত্যিই তার জন্য ব্যাস্ত হয়ে উঠে পড়েছে। স্বয়ং রাজা এসে তাকে জীবন দান করলেন। কত বড় হয়েছে ছেলেটা। জেবুন্নেসা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবেন, এমন বড় হওয়ার স্বপ্নতো তিনি দেখেননি। দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আজ আর উনার কিছুই করার নাই।
original post


No comments:
Post a Comment