by আগন্তুক
বিখ্যাত রুশ লেখক মিঃ লিও টলস্টয় তাঁর ব্যক্তিগত লাইব্রেরীতে বসে অত্যন্ত অভিনিবেশ সহকারে কি যেন লিখছিলেন। এমন সময় একজন যুবক এসে করজোড়ে নিবেদন করল।
- স্যার, আমি এক অসহায় যুবক। পড়াশুনা করেছি বটে, কিন্তু চাকরির সংস্থান হয়নি। পুঁজির অভাবে কোন কাজ-কারবারও করতে পারছি না। এখন বড় আশা নিয়ে আপনারই আশ্রয়ে থাকতে চাই। দু'বেলা শুধু ডাল-রুটি দেবেন আর দরকারমত এক-ফালি পরনের কাপড়। এর পরিবর্তে যা খেদমত করতে বলবেন তাই করতে রাজি আছি। যুবকের একথা শুনে টলস্টয় বললেনঃ
-তুমি অসহায় যুবক? পুঁজির অভাবে ব্যবসা করতে পারছো না? এই দুটি প্রশ্ন করে যুবকের দিকে তিনি অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন।
- জী হ্যাঁ, আমি সত্যি কথাই বলছি। যুবকের চেহারায় সরলতার ছাপ।
টলস্টয় যুবকের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে বললেন-
- আমার একজন ব্যবসায়ী বন্ধু আছেন। মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিরাট কারবার তার। আমি একটি সুপারিশপত্রে লিখে দিলে তিনি তোমার দু'টি চোখই বিশ হাজার রুবলে কিনে নিবেন। কি বলো, দেবো সুপারিশপত্র লিখে?
- আমার দুটি চোখ বিক্রি করে ফেলবো? কি যে বলেন স্যার! যুবকটি বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বললো। তখন টলস্টয় বললেন-
- চোখ না হয় নাই বিক্রি করলে, দুটি হাত তো বিক্রি করতে পার। এই দুটি হাতের দামও কম করে হলেও পনের হাজার রুবল হবে।
-হাত দুটি কেটে ফেললে আমি বাঁচবোই বা কি করতে?
যুবকটি তার হাত দুটির দিকে তাকাতে একথা বললো।টলস্টয় তখন বললেনঃ
- ঠিক আছে, চোখ ো হাত বিক্রির দরকার নেই। পাগুলো বিক্রি করে ফেল। আমার বন্ধু পায়ের ব্যবসাও করেন। আশা করি তিনি দশ হাজার রুবল দিয়ে তোমার পা দুটি কিনে নেবেন। তাহলেই তো তোমার পুঁজির সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
যুবকটি একথা শুনে কিছুটা ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বললোঃ
- আপনার মত একজন মহানুভব ব্যক্তির কাছে এসব কথা শুনবো তা কোন দিনই আশা করিনি।
যুবকটি তার এই মনোভাব প্রকাশ করে চলে যেতে উদ্যত হলো।
টলস্টয় বললেনঃ
- দাঁড়াও যুবক। তোমার জন্য আর একটি উত্তম প্রস্তাব আছে। তুমি যদি পুঁজির অধিকারী হতে চাও তাহলে পৃথকভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি না করে, এক লাখ রুবলে তোমার দেহটাই বিক্রি করে ফেলতে পার। আমার ব্যবসায়ী বন্ধু বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে নানা প্রকার ঔষধ তৈরি করেন। আমি মনে করি, তিনি তোমাকে এক লাখ রুবল দিতে অনায়াসে রাজি হবেন। এবার তোমার মতামতটা চট করে বলে ফেল।
- এক লাখ কেন, এক কোটি রুবলেও আমি আমার দেহ বিক্রি করব না।
যুবকটি রাগে কাঁপছিল। টলস্টয় এবার যুবকটির দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললেনঃ
- যে ব্যক্তি এক কোটি রুবলেও তার দেহ বিক্রি করতে রাজি নয়, সে কি করে বলতে পারে যে, আমি অসহায়, পুঁজির অভাবে কারবার করতে পারছি না?যুবক, তোমার এই চোখ, এই হাত আর এই পা এবং সুন্দর দেহটি এক একটি মহামূল্যবান পুঁজি। কর্তব্যনিষ্ঠা এবং ন্যায়পরায়ণতার সাথে যদি এগুলো সদ্ব্যবহার কর তাহলেই অচিরেই তোমার অসহায়ত্ব ঘুচে যাবে। এবার বুঝলে তো?
যুবকটি অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে টলস্টয়ের চেহারার ওপর একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে ধীরে ধীরে লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে গেল। এখন তার চেহারাটি কিন্তু আর অসহায়ের মত নয়; বরং সমাজের দশজন বীরের মত, যাদের নিয়ে যেকোনো সমাজ গর্ব করতে পারে।
original post
বিখ্যাত রুশ লেখক মিঃ লিও টলস্টয় তাঁর ব্যক্তিগত লাইব্রেরীতে বসে অত্যন্ত অভিনিবেশ সহকারে কি যেন লিখছিলেন। এমন সময় একজন যুবক এসে করজোড়ে নিবেদন করল।
- স্যার, আমি এক অসহায় যুবক। পড়াশুনা করেছি বটে, কিন্তু চাকরির সংস্থান হয়নি। পুঁজির অভাবে কোন কাজ-কারবারও করতে পারছি না। এখন বড় আশা নিয়ে আপনারই আশ্রয়ে থাকতে চাই। দু'বেলা শুধু ডাল-রুটি দেবেন আর দরকারমত এক-ফালি পরনের কাপড়। এর পরিবর্তে যা খেদমত করতে বলবেন তাই করতে রাজি আছি। যুবকের একথা শুনে টলস্টয় বললেনঃ
-তুমি অসহায় যুবক? পুঁজির অভাবে ব্যবসা করতে পারছো না? এই দুটি প্রশ্ন করে যুবকের দিকে তিনি অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন।
- জী হ্যাঁ, আমি সত্যি কথাই বলছি। যুবকের চেহারায় সরলতার ছাপ।
টলস্টয় যুবকের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে বললেন-
- আমার একজন ব্যবসায়ী বন্ধু আছেন। মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিরাট কারবার তার। আমি একটি সুপারিশপত্রে লিখে দিলে তিনি তোমার দু'টি চোখই বিশ হাজার রুবলে কিনে নিবেন। কি বলো, দেবো সুপারিশপত্র লিখে?
- আমার দুটি চোখ বিক্রি করে ফেলবো? কি যে বলেন স্যার! যুবকটি বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বললো। তখন টলস্টয় বললেন-
- চোখ না হয় নাই বিক্রি করলে, দুটি হাত তো বিক্রি করতে পার। এই দুটি হাতের দামও কম করে হলেও পনের হাজার রুবল হবে।
-হাত দুটি কেটে ফেললে আমি বাঁচবোই বা কি করতে?
যুবকটি তার হাত দুটির দিকে তাকাতে একথা বললো।টলস্টয় তখন বললেনঃ
- ঠিক আছে, চোখ ো হাত বিক্রির দরকার নেই। পাগুলো বিক্রি করে ফেল। আমার বন্ধু পায়ের ব্যবসাও করেন। আশা করি তিনি দশ হাজার রুবল দিয়ে তোমার পা দুটি কিনে নেবেন। তাহলেই তো তোমার পুঁজির সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
যুবকটি একথা শুনে কিছুটা ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বললোঃ
- আপনার মত একজন মহানুভব ব্যক্তির কাছে এসব কথা শুনবো তা কোন দিনই আশা করিনি।
যুবকটি তার এই মনোভাব প্রকাশ করে চলে যেতে উদ্যত হলো।
টলস্টয় বললেনঃ
- দাঁড়াও যুবক। তোমার জন্য আর একটি উত্তম প্রস্তাব আছে। তুমি যদি পুঁজির অধিকারী হতে চাও তাহলে পৃথকভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি না করে, এক লাখ রুবলে তোমার দেহটাই বিক্রি করে ফেলতে পার। আমার ব্যবসায়ী বন্ধু বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে নানা প্রকার ঔষধ তৈরি করেন। আমি মনে করি, তিনি তোমাকে এক লাখ রুবল দিতে অনায়াসে রাজি হবেন। এবার তোমার মতামতটা চট করে বলে ফেল।
- এক লাখ কেন, এক কোটি রুবলেও আমি আমার দেহ বিক্রি করব না।
যুবকটি রাগে কাঁপছিল। টলস্টয় এবার যুবকটির দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললেনঃ
- যে ব্যক্তি এক কোটি রুবলেও তার দেহ বিক্রি করতে রাজি নয়, সে কি করে বলতে পারে যে, আমি অসহায়, পুঁজির অভাবে কারবার করতে পারছি না?যুবক, তোমার এই চোখ, এই হাত আর এই পা এবং সুন্দর দেহটি এক একটি মহামূল্যবান পুঁজি। কর্তব্যনিষ্ঠা এবং ন্যায়পরায়ণতার সাথে যদি এগুলো সদ্ব্যবহার কর তাহলেই অচিরেই তোমার অসহায়ত্ব ঘুচে যাবে। এবার বুঝলে তো?
যুবকটি অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে টলস্টয়ের চেহারার ওপর একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে ধীরে ধীরে লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে গেল। এখন তার চেহারাটি কিন্তু আর অসহায়ের মত নয়; বরং সমাজের দশজন বীরের মত, যাদের নিয়ে যেকোনো সমাজ গর্ব করতে পারে।
original post


No comments:
Post a Comment